📄 আমল ছুটে যাওয়ায় শয্যাগ্রহণ না করার কসম
তলক বিন মুয়াবিয়া ঘটনার বিবরণদাতা। তিনি বলেন, হিন্দ বিন আউফ নামে একজন বুযুর্গ ছিলেন। তিনি একবার সফর থেকে ফিরে এলে তার স্ত্রী তার জন্য শয্যা প্রস্তুত করে দেন। বুযুর্গ শয্যা গ্রহণ করেন। বুযুর্গের নিয়মিত অভ্যাস ছিল যে, তিনি রাতের কোনো এক অংশে উঠে তাহাজ্জুদ নামায পড়তেন। কিন্তু ঐ রাতে সফরের ক্লান্তিহেতু গভীর ঘুমে হারিয়ে যান। এতে তার নিয়মিত তাহাজ্জুদের আমল ছুটে যায়। তিনি জাগ্রত হয়ে আমল ছুটে যাওয়ার কারণে এত দুঃখ ভারাক্রান্ত হন যে, এক পর্যায়ে কসম খেয়ে বলেন: لا ينام على فراش أبدا অর্থ: "জীবনে আর কখনো তিনি শয্যায় ঘুমাবেন না।"
📄 তাহাজ্জুদ ছুটে যাওয়ায় শাস্তি
প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস হযরত মুহাম্মাদ বিন মুনকাদির রহ. এক সাহাবীর একটি ঘটনা বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন:
ان تميما الدارى نام ليلة لم يتهجد فيها حتى أصبح فقام سنة لم ينم -
অর্থ: "হযরত তামীমে দারী রা. এক রাতে ঘুমিয়ে পড়েন; তাহাজ্জুদ নামায পড়তে পারেন না। সকাল হয়ে যায়। এ কারণে তিনি নফসকে এত শাস্তি দেন যে, সামনে এক বছর পর্যন্ত তিনি রাতে ঘুমান না; বরং পুরো রাত তাহাজ্জুদ ও ইবাদতে কাটিয়ে দেন।"
📄 যেমন পুত্র তেমন মাতা
আবু বকর হুজালী আব্দুন নূর নামীয় বসরার এক লোক থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, বনূ তামীমের এক লোক ইবাদত-বন্দেগীর পথ ধরেন। তার সাধারণ রীতি ছিল, তিনি নামায দ্বারা রাত জীবন্ত রাখতেন।
একবার তার মা তাকে বলেন: يا بني لو نمت من الليل شيئا : অর্থ: "বৎস! তুমি রাতের কিছুক্ষণ ঘুমালে ভাল হত!"
জবাবে তার ছেলে বলেন:
মা شئت يا أمه ان شئت نمت اليوم ولم انم غدا في الآخرة ও إن شئت لم أنم اليوم لعلى ادرك اليوم غدا في الآخرة مع المستر يحين من عسر الحساب
অর্থ: "আম্মাজান! দুই কথার কোনটি আপনি গ্রহণ করতে চান? হয়ত আমি দুনিয়ার জীবন শুয়ে কাটাব আর আখেরাতে আমার শান্তির ঘুম নসীব হবে না অথবা দুনিয়ার জীবনে আমি নির্ঘুম রাত কাটাব আর কাল কেয়ামতে হয়ত এর উসিলায় হিসাব-কিতাবের কঠোরতা হতে মুক্তি পাব এবং সেদিন যারা আরাম লাভ করবে আমিও তাদের মধ্যে গণ্য হব- আপনি কোনটি চান?"
জবাবে মা বলেন, বৎস! আল্লাহর কসম! আমি শুধু তোমার শান্তি ও আরাম চাই। দুনিয়ার শান্তির তুলনায় তোমার আখেরাতের শান্তি আমার কাছে বেশি প্রিয়। এই আমার শেষ কথা। এখন তুমি যা ভাল মনে কর, করতে পার।
পুত্র! শোন। শুধু এভাবে করলেই হবে না। তোমাকে হলফ করতে হবে যে, আমি আমার সারা জীবনের রাতগুলো তাহাজ্জুদ নামাযসহ অন্যান্য ইবাদত-বন্দেগী করে কাটাব। হতে পারে, এতে তুমি কাল কেয়ামতের কঠোরতা হতে নিষ্কৃতি লাভ করবে। এমনটি না করলে, আমি জানি না যে, তোমার নাজাত হবে কিনা।
মায়ের এই কথা শুনে লোকটি এত জোরে চিৎকার করে ওঠে যে, তৎক্ষণাৎ ইন্তেকাল হয়ে যায় এবং পুত্র মায়ের হাতে কাটা কলা গাছের মত আছড়ে পড়ে। পরে বনু তামীমের বিশিষ্ট লোকজন মায়ের কাছে সন্তানের মৃত্যতে সমবেদনা জানাতে এলে মা বলতে থাকেন: ও ابنياه قتيل يوم القيامة ও ابنياه قতিল يوم الآخرة -
অর্থ: "হায় পুত্র! কেয়ামত আসার আগেই, কেয়ামত না আসতেই ....?"
বর্ণনাকারী বলেন, এই মায়ের ব্যাপারে মানুষের ধারণা ছিল উচ্চাঙ্গের। মানুষ বলাবলি করত- إنها كانت أفضل من ابنها অর্থ: "এই মাতা পুত্রের চেয়ে বেশি ভাল ছিল।"
📄 এক গুমনাম বুযুর্গের রাত জাগরণ
সলত বিন হাকীম রহ. বলেন, আমাকে আবু আসেম ইবাদানী রহ. একটি সুন্দর ঘটনা শুনিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি জীবনের প্রথম দিকে ইবাদান এলাকায় বসবাস করতাম। সেখানে বনূ সাদের এক বুযুর্গ প্রায় আসতেন। তখন মূর্তি পূজার মহা ধুমধাম ছিল। সেই সময়েও এই বুযুর্গের অভ্যাস ছিল, তিনি রাত-দিন নামাযে লিপ্ত থাকতেন। এতে তাকে মোটেও ক্লান্ত দেখাত না। রাতভর নামায শেষে যখন সাহরীর সময় হত তখন তিনি গায়ে চাদর জড়িয়ে সমুদ্র উপকূলের দিকে যেতেন এবং সেখানে গিয়ে মন খুলে কাঁদতেন। যখন কারো আসার পদশব্দ পেতেন কান্নাকাটি বন্ধ করে দিতেন।
আবু আসেম ইবাদানী বলেন, এক রাতে আমিও সমুদ্র উপকূলে যাই। একটি আওয়াজে আমার কদম থমকে যায়। আমি শুনতে পাই যে, ঐ বুযুর্গ কাঁদছেন এবং কেঁদে কেঁদে এভাবে বলছেন:
الا يا عين ও يحك اسعديني بطول الدمع فى ظلم الليالي لعلك في القيامة ان تفوزى بخير الدهر في تلك العلالي -
অর্থ: "হে চোখ! তোমার জন্য আফসোস! রাতের আঁধারে বেশি বেশি অশ্রু প্রবাহিত করে তুমি দোজাহানের সফলতা অর্জন করে নাও। হতে পারে এ উসিলায় তুমি কেয়ামতের দিন চিরস্থায়ী জীবনের কল্যাণ অর্জন করে সফল হয়ে যাবে।"
আবু আসেম বলেন, যখন ঐ বুযুর্গ আমার পদশব্দ শুনতে পান তখন তিনি নিরব হয়ে যান। এরপর আমি তাকে ঐ অবস্থায় রেখে ফিরে আসি।