📄 মৌমাছির মত ভোঁ ভোঁ আওয়াজ বের হওয়া
আব্দুল্লাহ বিন গালেব রহ. বলেন, আমি রবী বিন সাবীহ রহ.-এর খেদমত করতাম। যখন তিনি তাহাজ্জুদ নামাযের জন্য জাগ্রত হতেন, তখন আমি তার ওজুর পানি এনে দিতাম। তখন ঘরের কোণ হতে তাহাজ্জুদ গুজার এবং রাত জাগরণকারীদের দোয়ার এমন আওয়াজ নির্গত হত, যেমন মৌমাছির চাকে আঘাত করার পর মৌমাছি শব্দ করে বের হয়। তিনি আরও বলেন, রবী যখন থেকে ইবাদতকে নিজের শহর বানিয়ে নিয়েছিলেন, তখন থেকে তিনি খুব কমই সেখান থেকে বের হতেন। তাঁর রাতের ইবাদত-বন্দেগী খুবই দীর্ঘ হত।"
📄 মৃত্যু পর্যন্ত শয্যা গ্রহণ না করার অঙ্গিকার
মুহাম্মাদ বিন আবু মানসূর ঘটনা বর্ণনা করেন:
كان من صفوان بن سليم اعطى الله عهدا لا أضع جنبي على فراشي حتى ألحق بربي
অর্থ: "সফওয়ান বিন সুলাইম আল্লাহর সঙ্গে এভাবে ওয়াদা করেন যে, আমি আমার প্রতিপালকের সঙ্গে সাক্ষাত তথা মৃত্যু পর্যন্ত বিছানায় পার্শ্বদেশ রাখব না।"
বর্ণনাকারী বলেন, আমি জানতে পেরেছি যে, এই ওয়াদার পর সফওয়ান চল্লিশ বছর বেঁচেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ এ সময়ের মাঝে কখনও শয্যা গ্রহণ করে ওয়াদা ভঙ্গ করেননি। যখন তার ইন্তেকালের ক্ষণ ঘনিয়ে আসে, তখন তাকে বলা হলো- رحمك الله الا تضطجع অর্থ: "আল্লাহর করুণা হোক আপনার প্রতি, আপনি কি এ মুহূর্তেও শয্যা গ্রহণ করবেন না?"
জবাবে তিনি বলেন- মা وفيت لله بالعهد إذا অর্থ: "তবে তো আমি আল্লাহর সঙ্গে ওয়াদা পূরণকারী হব না!" বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তাকে হেলান দিয়ে বসিয়ে দেয়া হয় আর এ অবস্থাতেই তার প্রাণ দেহ থেকে নির্গত হয়ে যায়।
إنه ثقبت جبهته من كثرة السجود অর্থ: "অধিক সেজদার কারণে সফওয়ানের কপাল ফেটে গিয়েছিল।"
📄 আমল ছুটে যাওয়ায় শয্যাগ্রহণ না করার কসম
তলক বিন মুয়াবিয়া ঘটনার বিবরণদাতা। তিনি বলেন, হিন্দ বিন আউফ নামে একজন বুযুর্গ ছিলেন। তিনি একবার সফর থেকে ফিরে এলে তার স্ত্রী তার জন্য শয্যা প্রস্তুত করে দেন। বুযুর্গ শয্যা গ্রহণ করেন। বুযুর্গের নিয়মিত অভ্যাস ছিল যে, তিনি রাতের কোনো এক অংশে উঠে তাহাজ্জুদ নামায পড়তেন। কিন্তু ঐ রাতে সফরের ক্লান্তিহেতু গভীর ঘুমে হারিয়ে যান। এতে তার নিয়মিত তাহাজ্জুদের আমল ছুটে যায়। তিনি জাগ্রত হয়ে আমল ছুটে যাওয়ার কারণে এত দুঃখ ভারাক্রান্ত হন যে, এক পর্যায়ে কসম খেয়ে বলেন: لا ينام على فراش أبدا অর্থ: "জীবনে আর কখনো তিনি শয্যায় ঘুমাবেন না।"
📄 তাহাজ্জুদ ছুটে যাওয়ায় শাস্তি
প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস হযরত মুহাম্মাদ বিন মুনকাদির রহ. এক সাহাবীর একটি ঘটনা বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন:
ان تميما الدارى نام ليلة لم يتهجد فيها حتى أصبح فقام سنة لم ينم -
অর্থ: "হযরত তামীমে দারী রা. এক রাতে ঘুমিয়ে পড়েন; তাহাজ্জুদ নামায পড়তে পারেন না। সকাল হয়ে যায়। এ কারণে তিনি নফসকে এত শাস্তি দেন যে, সামনে এক বছর পর্যন্ত তিনি রাতে ঘুমান না; বরং পুরো রাত তাহাজ্জুদ ও ইবাদতে কাটিয়ে দেন।"