📄 দাঁড়ানো লাঠিটা কোথায়?
আবুল আহওয়াস বলেন, মানসূর বিন মু'তামিরের এক প্রতিবেশির একটি বাদী ছিল। মানসূরের মৃত্যুর পরে বাঁদী তার মনিবকে জিজ্ঞাসা করে :
يا أبة! اين الخشبة التي كانت في سطح منصور ؟
অর্থ: "আব্বাজান! মানসূরের ছাদে যে লাঠিটি দাঁড়া করানো থাকত তা কোথায় গেল?"
জবাবে মনিব বলেন: يا بنية! ذالك منصور كان يقوم الليل -
অর্থ: "বেটি! ওটা লাঠি ছিল না; বরং মানসূর নিজে ছিলেন। তিনি এভাবে দাঁড়িয়ে রাতে ইবাদতে মশগুল থাকতেন।"
📄 তিন ইবাদতে রাত পার
আতা বিন জাবালা রহ. একজন বিশিষ্ট বুযুর্গ ছিলেন। তিনি বলেন, মানসূরের মৃত্যুর পরে মানুষ তার মায়ের কাছে জানতে চায় যে, মানসূরের বিশেষ আমল কী ছিল? জবাবে তার মাতা বলেন:
كان ثلث الليل يقرأ، ومثله يبكى، وثلثه يدعو -
অর্থ: "রাতের একভাগে তিনি কুরআন তেলাওয়াত করতেন। আরেক ভাগে কান্না-কাটি করতেন। আর অপর এক ভাগে দোয়া করতেন। (এভাবে তিন ইবাদতে রাত পার করতেন।)"
📄 রাতের আঁধারে অস্থিরচিত্তে ক্রন্দন
মুহাম্মাদ বিন জাফর বলেন, আব্দুল্লাহ বিন ইদরিস আমাকে বলেছেন:
ما رأيت الليل على أحد من الناس أخلف منه على أبي حيان التيمي، صحبناه مرة إلى مكة فكان إذا أظلم الليل فكأنه هذا الزنابير إذا هيجت من عشها -
অর্থ: "আমি রাতের আঁধারকে আবু হায়্যান তায়মী অপেক্ষা আর কারো ক্ষেত্রে অধিক হালকা পাইনি। একবার আমরা তার সঙ্গে ছিলাম। আমরা দেখি যে, যখন রাতের আঁধার ছড়িয়ে পড়ে তখন তিনি ইবাদত-বন্দেগী ও কান্না-কাটিতে বেশি অস্থির হয়ে পড়েন। যেমন হাতল টানলে তা হতে শো শো আওয়াজ হয়, তেমনি তার ফোঁপানি শোনা যেত।"
📄 মৌমাছির মত ভোঁ ভোঁ আওয়াজ বের হওয়া
আব্দুল্লাহ বিন গালেব রহ. বলেন, আমি রবী বিন সাবীহ রহ.-এর খেদমত করতাম। যখন তিনি তাহাজ্জুদ নামাযের জন্য জাগ্রত হতেন, তখন আমি তার ওজুর পানি এনে দিতাম। তখন ঘরের কোণ হতে তাহাজ্জুদ গুজার এবং রাত জাগরণকারীদের দোয়ার এমন আওয়াজ নির্গত হত, যেমন মৌমাছির চাকে আঘাত করার পর মৌমাছি শব্দ করে বের হয়। তিনি আরও বলেন, রবী যখন থেকে ইবাদতকে নিজের শহর বানিয়ে নিয়েছিলেন, তখন থেকে তিনি খুব কমই সেখান থেকে বের হতেন। তাঁর রাতের ইবাদত-বন্দেগী খুবই দীর্ঘ হত।"