📄 হযরত রাবিয়া আদাবির রাতভর নামায
আব্দা বিনতে আবী শাওয়াল একজন নেককার মহিলা ছিলেন। তিনি বলেন, হযরত রাবিয়া আদাবি রহ.-এর রীতি এই ছিল যে, তিনি রাতভর নফল নামায পড়তেন। সুবহে সাদিকের সময় স্বীয় জায়নামাযে বসেই ভোর পর্যন্ত হাল্কা ঘুমিয়ে নিতেন। চোখ খুলতেই দ্রুত উঠে পড়তেন এবং তিনি নিজেকে সম্বোধন করে এভাবে বলতেন:
يا نفس ! كم تنامين والى كم لا تقومين اوشك ان تنامى نومة لا تقومين منها الا بصرخة يوم النشور
অর্থ: "মন রে! তোর বারটা বাজুক! তুই আর কতকাল ঘুমিয়ে থাকবি! কবে জাগ্রত হবি? সেই সময় অতি নিকটবর্তী, যখন তুমি এমন ঘুমুবে যে, তারপরে আর জাগ্রত হবে না কেয়ামত পর্যন্ত।" আব্দা বলেন, মৃত্যু পর্যন্ত হযরত রাবেয়া আদাবির এই আমল এবং এভাবে বলা অব্যাহত ছিল।
📄 অচিরেই চিরদিনের জন্য ঘুমিয়ে পড়ব
আবু সাঈদ মূসা বিন হিলাল বলেন, আমাদের সঙ্গে উঠা-বসা করতেন এক লোক। তিনি হাসসান বিন আবু সীনানের স্ত্রীর গোলামও ছিলেন। তিনি বলেন, আমাকে আমার মালিকা তথা হাসসানের স্ত্রী বলেছেন যে, হাসসানের সারা জীবনের আমল এমন ছিল:
كان يجيء فيدخل معى فى فراشى قالت : ثم يخادعنى كما تخادع المرأة صبيها فاذا علم انى قد نمت سل نفسه فخرج ثم يقوم فيصلي، فقلت له : يا ابا عبد الله ! كم تعذب نفسك؟ ارنف بنفسك، فقال لى : اسكتى ও يحك فأوشك ان ارقد رقدة لا اقوم منها -
অর্থ: "রাত হলে আমার সঙ্গেই শয্যা গ্রহণ করতেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই এভাবে ধোঁকা দিয়ে আমার পাশ থেকে উঠে যেতেন, যেভাবে মা বাচ্চাকে ধোঁকা দিয়ে উঠে যায়। যখন তিনি নিশ্চিত হতেন যে, আমি ঘুমিয়ে পড়েছি, তখন তিনি অতি সন্তর্পণে শয্যা ত্যাগ করে এসে নামাযে দাঁড়িয়ে যেতেন। আমি কখনও তাকে বলতাম, আবু আব্দুল্লাহ! আপনি নিজেকে আর কত কষ্ট দিবেন? এবার নিজের প্রতি একটু রহম করুন। তখন তিনি বলতেন, চুপ করো, জানা নাই, হয়ত শীঘ্রই আমি এমন ঘুমে হারিয়ে যাব যে, আর কখনো জাগ্রত হব না।"
📄 ঈমানদারদের জন্য কবরের দীর্ঘ ঘুমই যথেষ্ট
শিহাব বিন আব্বাদ বলেন, সুয়াইদ বিন আমর কালবী আমাকে এক মহিলার ঘটনা বর্ণনা করে শুনিয়েছেন যে, একজন জনৈকা আবেদা মহিলা ছিল, তিনি রাতে সামান্য একটু ঘুমুতেন মাত্র। এ ব্যাপারে তাঁকে অভিযুক্ত করা হলে, তিনি একটি মূল্যবান মন্তব্য করেন। তিনি বলেন: كفي بطول الرقدة فى القبور للمؤمنين رقادا -
অর্থ: "মু'মিনদের জন্য কবরের দীর্ঘ ঘুমই যথেষ্ট।"
📄 রাতের অন্ধকারের সঙ্গে কেয়ামতের কতই না অপূর্ব মিল
আবু সালেমা নামী বন্ সাদুসের এক লোক বলেন, আমাদের এলাকায় এক বৃদ্ধা ছিলেন। আমরা তাকে না পেলেও আমাদের বড়রা তাকে পেয়েছেন। তার নাম ছিল মুনীরা। তার চিরায়ত নিয়ম ছিল, রাত হলেই তিনি এভাবে বলতেন: قد جاء الهول قد جاءت الظلمة قد جاء الخوف، ও ما اشبه هذا بيوم القيامة ، قال : ثم تقوم فلا تزال تصلى حتى تصبح -
অর্থ: "রাত এসে গেছে। অন্ধকার ছেয়ে গেছে। এই অন্ধকারের সঙ্গে কেয়ামতের দিনের বড়ই মিল রয়েছে। এরপর তিনি দাঁড়িয়ে যেতেন এবং ভোর পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে নামাযে মশগুল থাকতেন।"