📄 শেষ রাত পর্যন্ত তাহাজ্জুদ পড়া
হুমায়দি বলেন, হযরত সুফিয়ান ছাওরী রহ. ঘটনা বর্ণনা করেছেন:
كان قيس بن مسلم يصلى حتى السحر ثم يجلس فيهيج البكاء ساعة بعد ساعة ويقول : لامر ما خلقنا، لأمر ما خلقنا، لئن لم نأت الاخرة بخير لنهلكن
অর্থ: "কায়েস বিন মুসলিম শেষ রাত পর্যন্ত তাহাজ্জুদ নামাযে মশগুল থাকতেন। এরপর ক্ষণে ক্ষণে কান্না-কাটি ও রুনাজারির আওয়াজ ভেসে আসত। তিনি এভাবে বলতেন, কেন আমাকে সৃষ্টি করা হলো, কেন আমাকে সৃষ্টি করা হলো। কেয়ামতের আগমন যদি কল্যাণের সঙ্গে না হয়, তবে আমরা ধ্বংস হয়ে যাব।"
📄 দুই বুযুর্গের কান্না
হযরত সুফিয়ান ছাওরী রহ. ঘটনা বর্ণনা করেছেন। ঘটনার বিবরণ হলো, কায়েস বিন মুসলিম রহ. এক রাতে অপর বুযুর্গ মুহাম্মাদ বিন জাহাদা রহ.-এর সঙ্গে সাক্ষাত করতে মনস্থ করেন। কায়েস ইশার নামায পড়ে মুহাম্মাদের মসজিদে যান। সেখানে গিয়ে দেখেন, মুহাম্মাদ নামায পড়ছেন। কায়েস নামায শেষ হওয়ার অপেক্ষায় বসে থাকেন। এদিকে মুহাম্মাদ অনবরত নামায পড়তেই থাকেন। নামায পড়তে পড়তেই সুবহে সাদিক হয়ে যায়। কায়েস বিন মুসলিম এলাকার মসজিদের ইমাম হওয়ায় তিনি নামায পড়ানোর জন্য স্বীয় মসজিদে চলে আসেন। মোটকথা, সে রাতে দু'জনের সাক্ষাত হয় না এবং মুহাম্মাদ রহ. কায়েসের আগমনের কথা জানতে পারেন না।
মুহাম্মাদের মসজিদের কতিপয় নামাযী মুহাম্মাদকে জানায় যে, আপনার ভাই কায়েস বিন মুসলিম গত রাতে আপনার সঙ্গে সাক্ষাত করার জন্য এসেছিলেন কিন্তু আপনি তার প্রতি ভ্রুক্ষেপই করেননি। তিনি বলেন, আমি তো তাঁর আগমন সম্বন্ধে জানি না। যাই হোক, সকালে তিনি কায়েস বিন মুসলিমের বাড়িতে যান। কায়েস তাকে আসতে দেখে দাঁড়িয়ে কোলাকুলি করেন। এরপর দুই বুযুর্গ পাশাপাশি বসেন এবং আখেরাতের চিন্তায় ও দ্বীনী আলোচনায় মশগুল হয়ে কাঁদতে থাকেন।
📄 লাঠিতে ভর দিয়ে তাহাজ্জুদ আদায়
আব্দুর রহমান বিন ইয়াযিদ রহ. বলেন, আমার পিতা ইয়াযিদ জবয়ী যখন রাতে তাহাজ্জুদের জন্য দাঁড়াতেন তখন দীর্ঘক্ষণ যাবত দণ্ডায়মান থাকতেন। তাঁর নিজস্ব ইবাদতখানায় একটি কাঠের লাঠি ছিল, তিনি তাতে কখনো কখনো ভর দিতেন। কখনো এমন হত যে, গভীর ঘুমের কারণে পড়ে যেতেন এবং বলতেন:
لا احب ان أعمد للنوم اجهد الا انام فان غلبني كان اعذر لنفسي عندى -
অর্থ: "আমি দ্বিতীয়বার আরও ঘুমুতে চাই না। বরং আমি চেষ্টা করি আর না ঘুমানোর। কিন্তু তারপরেও যদি আমার গভীর নিদ্রা এসে যায়, তবে তা আমার জন্য একটি ওজর বৈ নয়।"
📄 হযরত রাবিয়া আদাবির রাতভর নামায
আব্দা বিনতে আবী শাওয়াল একজন নেককার মহিলা ছিলেন। তিনি বলেন, হযরত রাবিয়া আদাবি রহ.-এর রীতি এই ছিল যে, তিনি রাতভর নফল নামায পড়তেন। সুবহে সাদিকের সময় স্বীয় জায়নামাযে বসেই ভোর পর্যন্ত হাল্কা ঘুমিয়ে নিতেন। চোখ খুলতেই দ্রুত উঠে পড়তেন এবং তিনি নিজেকে সম্বোধন করে এভাবে বলতেন:
يا نفس ! كم تنامين والى كم لا تقومين اوشك ان تنامى نومة لا تقومين منها الا بصرخة يوم النشور
অর্থ: "মন রে! তোর বারটা বাজুক! তুই আর কতকাল ঘুমিয়ে থাকবি! কবে জাগ্রত হবি? সেই সময় অতি নিকটবর্তী, যখন তুমি এমন ঘুমুবে যে, তারপরে আর জাগ্রত হবে না কেয়ামত পর্যন্ত।" আব্দা বলেন, মৃত্যু পর্যন্ত হযরত রাবেয়া আদাবির এই আমল এবং এভাবে বলা অব্যাহত ছিল।