📘 বড়দের তাহাজ্জুদ ও রাত জাগরণ 📄 শেষ রাতে কবরস্থানে গিয়ে নামায আদায়

📄 শেষ রাতে কবরস্থানে গিয়ে নামায আদায়


হযরত ঈসা বিন উহমর নাহবী বলেন, আমর বিন উতবা বিন ফারকদ রহ.-এর অবস্থা এই ছিল যে, তিনি রাতের এক তৃতীয়াংশ চলে গেলে ঘর থেকে বের হতেন। স্বীয় ঘোড়ায় আরোহণ করে কবরস্থানে চলে যেতেন এবং কবরবাসীদের সম্বোধন করে বলতেন:

يا اهل القبور طويت الصحف ও رفعت الاقلام لا يستعتبون من سيئة ولا يستزيدون فى حسنة ثم يبكى ثم ينزل عن فرسه فيصف بين قدميه فيصلى حتى يصبح فاذا طلع الفجر ركب فرسه حتى يأتي مسجد حيه فيصلى مع القوم كأن لم يكن في شيء مما كان فيه

অর্থ: "হে কবরবাসী! আমলনামা গুটিয়ে ফেলা হয়েছে। কলম বন্ধ করা হয়েছে। ফলে তোমাদের জন্য তওবা ও গুনাহ মাফের সুযোগ আর নেই। আর না তোমরা নিজেদের কোনো আমল বৃদ্ধি করতে পার। এ কথা বলে তিনি খুব কাঁদতেন এবং ঘোড়া হতে জমিনে নেমে নামাযে দাঁড়িয়ে যেতেন। ভোর পর্যন্ত নামাযে মশগুল থাকতেন। সুবহে সাদিক হলে এলাকার মসজিদে ফিরে আসতেন এবং অন্যান্য লোকদের সঙ্গে জামাতের সাথে নামাযে এভাবে শরীক হতেন, যেন পূর্বে আর কিছুই হয়নি।"

📘 বড়দের তাহাজ্জুদ ও রাত জাগরণ 📄 এক পায়ে দাঁড়িয়ে সারা রাত তাহাজ্জুদ আদায়

📄 এক পায়ে দাঁড়িয়ে সারা রাত তাহাজ্জুদ আদায়


হাফস বিন গিয়াছ বর্ণনা করেন যে, মুহাম্মাদ বিন ইসহাক ঘটনা বর্ণনা করেছেন:

قدم علينا عبد الرحمن بن الاسود بن يزيد حاجا فاعتلت احدى قدميه فقام يصلى حتى أصبح على قدم قال : وصلى الفجر بوضوء العشاء -

অর্থ: "আব্দুর রহমান বিন আসওয়াদ হজ করতে আমাদের সঙ্গে হিজাযে যান। তাঁর এক পা ছিল অবশ। রাতে তিনি তাহাজ্জুদ পড়তে দাঁড়ান। এক পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়িয়েই সারা রাত নামায পড়েন। এভাবে তিনি ইশার ওজু দ্বারা ফজরের নামায পড়েন।"

📘 বড়দের তাহাজ্জুদ ও রাত জাগরণ 📄 শেষ রাত পর্যন্ত তাহাজ্জুদ পড়া

📄 শেষ রাত পর্যন্ত তাহাজ্জুদ পড়া


হুমায়দি বলেন, হযরত সুফিয়ান ছাওরী রহ. ঘটনা বর্ণনা করেছেন:

كان قيس بن مسلم يصلى حتى السحر ثم يجلس فيهيج البكاء ساعة بعد ساعة ويقول : لامر ما خلقنا، لأمر ما خلقنا، لئن لم نأت الاخرة بخير لنهلكن

অর্থ: "কায়েস বিন মুসলিম শেষ রাত পর্যন্ত তাহাজ্জুদ নামাযে মশগুল থাকতেন। এরপর ক্ষণে ক্ষণে কান্না-কাটি ও রুনাজারির আওয়াজ ভেসে আসত। তিনি এভাবে বলতেন, কেন আমাকে সৃষ্টি করা হলো, কেন আমাকে সৃষ্টি করা হলো। কেয়ামতের আগমন যদি কল্যাণের সঙ্গে না হয়, তবে আমরা ধ্বংস হয়ে যাব।"

📘 বড়দের তাহাজ্জুদ ও রাত জাগরণ 📄 দুই বুযুর্গের কান্না

📄 দুই বুযুর্গের কান্না


হযরত সুফিয়ান ছাওরী রহ. ঘটনা বর্ণনা করেছেন। ঘটনার বিবরণ হলো, কায়েস বিন মুসলিম রহ. এক রাতে অপর বুযুর্গ মুহাম্মাদ বিন জাহাদা রহ.-এর সঙ্গে সাক্ষাত করতে মনস্থ করেন। কায়েস ইশার নামায পড়ে মুহাম্মাদের মসজিদে যান। সেখানে গিয়ে দেখেন, মুহাম্মাদ নামায পড়ছেন। কায়েস নামায শেষ হওয়ার অপেক্ষায় বসে থাকেন। এদিকে মুহাম্মাদ অনবরত নামায পড়তেই থাকেন। নামায পড়তে পড়তেই সুবহে সাদিক হয়ে যায়। কায়েস বিন মুসলিম এলাকার মসজিদের ইমাম হওয়ায় তিনি নামায পড়ানোর জন্য স্বীয় মসজিদে চলে আসেন। মোটকথা, সে রাতে দু'জনের সাক্ষাত হয় না এবং মুহাম্মাদ রহ. কায়েসের আগমনের কথা জানতে পারেন না।

মুহাম্মাদের মসজিদের কতিপয় নামাযী মুহাম্মাদকে জানায় যে, আপনার ভাই কায়েস বিন মুসলিম গত রাতে আপনার সঙ্গে সাক্ষাত করার জন্য এসেছিলেন কিন্তু আপনি তার প্রতি ভ্রুক্ষেপই করেননি। তিনি বলেন, আমি তো তাঁর আগমন সম্বন্ধে জানি না। যাই হোক, সকালে তিনি কায়েস বিন মুসলিমের বাড়িতে যান। কায়েস তাকে আসতে দেখে দাঁড়িয়ে কোলাকুলি করেন। এরপর দুই বুযুর্গ পাশাপাশি বসেন এবং আখেরাতের চিন্তায় ও দ্বীনী আলোচনায় মশগুল হয়ে কাঁদতে থাকেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px