📄 সফওয়ান বিন সুলাইমের অবস্থা
মুহাম্মাদ বিন হুসাইন রহ. বলেন, আমাকে আব্দুল্লাহ বিন উসমান রহ. বর্ণনা করেছেন যে, আমি আবু আব্দুর রহমান মুকরীকে হযরত সফওয়ান বিন সুলাইম রহ.-এর সম্পর্কে আলোচনা করতে শুনেছি যে, তিনি বলেন: ان صفوان بن سليم لم يكن يوسد بالليل ও ساد ولا كان يضع جنبه على فراش بالليل إنما كان يصلى فاذا غلبته عيناه احتبى قاعدا -
অর্থ: "সফওয়ান বিন সুলাইম রাতে শয্যা গ্রহণ করতেন না। বিছানায় হেলানও দিতেন না। সারা রাত নামাযে লিপ্ত থাকতেন। চোখে ঘুম এলে দোজানু হয়ে বসে পড়তেন।"
📄 রাতকে তিন ভাগ করা
যারীর ইবনে হুরমা ইবনে শুবরিমা হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: كان زبيد الإيامى يجعل الليل ثلاثة اثلاث بينه ও بين إبنيه ও كان ربما نادى احدهما فيقول : قم الى جزئك فيكسل فيتم جزءه ও بما کسل الآخر
অর্থ: "যুবায়দ ইয়ামী (যিনি বড় আবেদ এবং যাহেদ বুযুর্গ ছিলেন) পুরো রাতকে তিন ভাগে ভাগ করে রেখেছিলেন। একাংশে নিজে ইবাদত করতেন। আরেক অংশ পুত্রের জন্য নির্দিষ্ট করে রেখেছিলেন যে, সে ঐ অংশে ইবাদত করবে। তৃতীয়াংশ স্বীয় কন্যার জন্য নির্দিষ্ট করে রেখেছিলেন। (উদ্দেশ্য এই ছিল যে, সারা রাতের কখনো যেন ঘর ইবাদতমুক্ত না থাকে; বরং কেউ না কেউ ইবাদত করে।) কখনো এমন হত যে, তিনি নিজের অংশে ইবাদত করে পুত্রের অংশ এলে তাকে ডাকতেন। কিন্তু পুত্র অলসতাবশত না উঠলে তিনি নিজেই সে অংশে ইবাদত করতেন। এমনিভাবে কখনো কন্যার অংশে কন্যাকে ডাকলে সে অলসতা দেখালে তিনি নিজেই সে অংশে ইবাদত করতেন। (এভাবে দেখা যেত, তিনি একাই সারা রাত ইবাদত করতেন। কিন্তু এটা সহ্য করতেন না যে, বাড়ির সকলে শুয়ে থাকবে এবং কেউ ইবাদতে লিপ্ত থাকবে না।"
📄 নামাযের মাধ্যমে ক্ষমা লাভ
হযরত ইয়াহইয়া ইবনে কাছীর রহ. বলেন: رأيت زبيرا الإيامي في المنام فقلت : الى ما صرت يا ابا عبد الرحمن؟ قال : ارى رحمة الله ، قلت فاى عملك وجدت افضل؟ قال : الصلوة، ও حب على بن ابي طالب
অর্থ: "আমি যুবায়দ ইয়ামীকে স্বপ্নে দেখে জিজ্ঞাসা করলাম, হে আবু আব্দুর রহমান! আপনার সঙ্গে কেমন আচরণ করা হয়েছে? জবাবে তিনি বলেন, আল্লাহর রহমত আমাকে ঢেকে নিয়েছে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, আপনার আমলসমূহের মধ্যে কোন আমলটিকে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ পেয়েছেন? জবাবে তিনি বলেন, নামায ও হযরত আলী রা.-এর প্রতি মহব্বত।
এ আছর প্রমাণ করে যে, নামায কেমন সফলতার পাথেয়, তেমনি সাহাবায়ে কেরামের মহব্বত পোষণও নাজাতের কারণ। তবে মনে রাখতে হবে যে, প্রত্যেক সাহাবীকে মহব্বত করতে হবে কুরআন-হাদীসের ভাষ্য মোতাবেক। যার যতটুকু ফযিলত রয়েছে তাকে ঠিক ঐ পর্যায়ে রেখে মহব্বত করতে হবে। মহব্বতের নামে মনগড়া কিছু করা যাবে না। তখন এটা আর মহব্বত হবে না; বরং তাঁর প্রতি জুলুম হবে।"
📄 দিন-রাত শয়ন না করা
সাঈদ বিন আমর আল কিন্দী রহ. বলেন, আমাকে হযরত আবছার রহ, ঘটনা বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন:
كان محمد بن النضر عندى مختفيا فكان لا ينام ليلا ولا نهارا، قال فقلت له لو قلت فقد جاء فى القائلة : قيلوا فان الشيطان لا تقيل فجعل لا يرد على فألححت عليه فقال : انى لأنفس عليها بالنوم وقال غيره : اني لأكره أن اعطى نفسى سؤلها في النوم -
অর্থ: "মুহাম্মদ বিন নজর রহ. আমার নিকট অবস্থানরত ছিলেন। তাঁর অভ্যাস ছিল, তিনি দিনে-রাতে কখনও ঘুমুতেন না। তার এই কঠোর মেহনত দেখে আমি তাকে বলি যে, আপনি কিছুক্ষণ দিবানিদ্রা যান। বলা হয়েছে: দিবানিদ্রা যাও, কেননা শয়তান দিবানিদ্রা যায় না। আমার এ কথার কোনো জবাব তিনি দিতেন না। আমি এ ব্যাপারে তাকে চাপাচাপি করলে তিনি বলেন, আমি ঘুমের ব্যাপারে নফসের প্রতি কঠোরতা করি। কোনো কোনো বুযুর্গ বলেন, আমি এটা পছন্দ করি না যে, ঘুমের ব্যাপারে চোখের দাবী মেনে নিব। অর্থাৎ চোখ তো ঘুমাতে চাইবেই কিন্তু আমি তার চাহিদা পূরণ করা পছন্দ করি না।"