📄 তলহা ও যুবায়দ-এর রাত জাগরণ
হযরত হুমায়দী রহ. প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ও ফকীহ হযরত সুফিয়ান বিন উয়ায়না রহ. থেকে ঘটনা বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন:
في ذالك الزمان ان أطول اهل الكوفة تمجد ا طلحة ও زبيد ও عبد الجبار بن وائل - قال الحميدي : فقلت : فمنصور ؟ قال : نعم انما كان الليل عنده مطية من المطايا متى شئت اصبته قد ارتحله
অর্থ: “সে যুগে কুফাবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ তাহাজ্জুদ ও রাত জাগরণের দিক দিয়ে হযরত তলহা রহ., হযরত যুবাইদ রহ., আব্দুল জব্বার রহ. এবং ওয়ালেল রহ. শ্রেষ্ঠত্ব রাখতেন। হুমায়দী বলেন, আমি সুফিয়ান বিন উয়ায়না রহ.-কে জিজ্ঞাসা করলাম, তাহলে মানসুর? তিনি জবাবে বলেন, হ্যাঁ, তার অবস্থা এমন ছিল যে, তার কাছে রাত ছিল বাহনসমূহের মধ্য হতে একটি বাহন। যখন তিনি তা হাসিল করতে চাইতেন, তা নিয়ে সফর করতেন।”
📄 তাহাজ্জুদের কারণে চেহারা শীর্ণ হওয়া
মুনজির আবু আব্দুল্লাহ কুফী বলেন, মুহাম্মাদ বিন সুওকা রহ. আমাকে বলেছেন:
لو أريت طلحة ও زبيدا لعلمت ان وجههما قد اخلقهما سهر الليالي وطول القيام، كنا والله ممن لا يتوسد القرآن
অর্থ: “যদি আপনি তলহা এবং যুবায়দকে দেখতেন, তাহলে জানতে পারতেন যে, তাদের চেহারা অতিরিক্ত রাত জাগরণ ও তাহাজ্জুদের কারণে জীর্ণ-শীর্ণ হয়ে গেছে। আল্লাহর কসম! উভয়ের অবস্থা এমন ছিল যে, সারা রাত তারা শয্যা গ্রহণ করতেন না।”
📄 একটি বিস্ময়কর ঘটনা
সুলায়মান বিন আইউব রহ. কতিপয় মাশায়েখের সূত্রে একটি বিস্ময়কর ঘটনা বর্ণনা করেছেন। ঘটনাটি হলো:
قام زبيد الإيام ذات ليلة للتهجد فعمد الى مطهرة له قد كان يتوضأ منها فغمس يديه فى المطهرة فوجد الماء باردا شديدا كاد ان يجمد من شدة برده فذكر الزمهرير و يده فى المطهرة فلم يخرجها منها حتى اصبح فجاءت الجارية وهو على تلك الحال فقالت : ما شأنك يا سيدى لم تصل الليلة كما كنت تصلى وانت ههنا قاعد على هذه الحال؟ قال : و يحك إنى ادخلت يديه في هذه المطهرة فاشتد على برد الماء فذكرت به الزمهرير، فو الله ما شعرت بشدة برده حتى وقفت على، انظرى ان لا تحدثي بها احدا ما دمت حيا قال : فما علم بذلك احد حتى مات رحمه الله
অর্থ: "যুবায়দ আল ইযামী রহ. এক রাতে তাহাজ্জুদ পড়তে উঠেন। যে পাত্রের পানি দিয়ে ওজু করেন, সে পাত্রে হাত বাড়ান। পাত্রের মধ্যে হাত দিলে পানি ছিল ভীষণ ঠাণ্ডা। প্রচণ্ড ঠাণ্ডার কারণে তার হাত অবশ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। এতে তার জাহান্নামের একটি স্তর 'যামহারীর' এর কথা মনে পড়ে। তিনি হাত পাত্রের মধ্যেই ঢুকিয়ে রাখেন, বের করেন না। এ অবস্থায় ভোর হয়ে যায়। ভোরে বাদী এসে তাকে ঐ অবস্থায় দেখে জিজ্ঞাসা করে, মনিব! আপনি নিয়ম মাফিক আজ রাতে তাহাজ্জুদ পড়েননি কেন? এখানে এভাবে বসে রয়েছেন?
জবাবে তিনি বলেন, আফসোস তোমার জন্য। আমি রাতে ওজু করতে পাত্রের মধ্যে হাত দিয়েছিলাম। কিন্তু পানির তীব্র ঠাণ্ডার কারণে আমার যামহারীরের কথা মনে পড়ে যায়। আল্লাহর কসম! এরপর পানির ঠাণ্ডা এবং তার তীব্রতার অনুভূতি আমার থাকে না। এরপর তুমি এসে আমাকে দেখলে। খবরদার! সারা জীবনে এ ঘটনা কাউকে জানাবে না। বর্ণনাকারী বলেন, তার মৃত্যু পর্যন্ত এ ঘটনা কেউ জানে না। মৃত্যুর পর মানুষ তা জানতে পারে।"
📄 মৃত্যুর চিন্তায় দিন-রাত নামাযে লিপ্ত
ইবনে ফুযাইল রহ. তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন:
كانت معاذة العدوية إذا جاء الليل تقول : هذه ليلتي التي اموت فيها ، فما تنام حتى تصبح، فاذا جاء النهار قالت : هذا يومى الذي اموت فيه فما تنام حتى تمسى، وإذا جاء البرد لبست الثياب الرقاق حتى يمنعها البرد من النوم -
অর্থ: "মুআজা আদাবিয়া (যিনি বড় আবেদা এবং যাহেদা মহিলা ছিলেন)-এর নিয়মিত আমল এই ছিল যে, রাত হলে তিনি বলতেন, আজকের রাত আমার মৃত্যুর রাত। এরপর তিনি ইবাদতে মশগুল হয়ে যেতেন। সকাল হওয়া পর্যন্ত ঘুমুতেন না। এমনিভাবে যখন দিন হত, তখন বলতেন, আজকের দিন আমার মৃত্যুর দিন। এরপর সারা দিন ইবাদত করে কাটাতেন, ঘুমুতেন না। সন্ধ্যা পর্যন্ত এমন করতেন। শীতকাল এলে হাল্কা-পাতলা পোশাক পরতেন, যাতে তীব্র শীতের কারণে ঘুম না আসে।"