📄 ঘুমের মধ্যে আজাবের আশঙ্কা
হযরত জাফর রহ. বলেন, আমি হযরত মালেক রহ.-কে বলতে শুনেছি :
لو استطعت الا انام لم انم مخافة ان يتزل العذاب وانا نائم
অর্থ: “না ঘুমানোর শক্তি যদি আমার থাকত, তবে আমি কখনও এই আশঙ্কায় ঘুমুতাম না যে, হয়ত আমার ঘুমন্ত অবস্থায় আজাব এসে পড়বে।”
📄 কুরআনের বিস্ময় ঘুমুতে দেয় না
হযরত আলা বিন আব্দুল জব্বার রহ. বলেন, হযরত আসলাম বিন আব্দুল মালিক রহ. বলেন:
صحب رجلا شهرين فلم يره نائما ليلا ولا نهارا فقال : مالى لا اراك تنام؟ قال : ان عجائب القرآن أطرن نومى ما اخرج من اعجوبة الا وقعت في غيرها
অর্থ: “আমি এক লোকের সান্নিধ্যে দুই মাস ছিলাম। আমি তাকে দিনে-রাতে কখনও ঘুমুতে দেখিনি। পরিশেষে একদিন আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, আমি আপনাকে কখনও শুতে দেখি না- ব্যাপার কী বলুন তো? জবাবে তিনি বলেন, কুরআনের বিস্ময়সমূহ আমার ঘুম উড়িয়ে নিয়ে গেছে। কুরআনের একটি বিস্ময় শেষ হতে না হতেই আরেকটি বিস্ময় আমার সামনে চলে আসে। (এসব বিস্ময়কর বিষয়ে গভীরভাবে নিবিষ্ট থাকায় আমি ঘুম পড়ার সুযোগ পাই না।)"
📄 জিহাদের সফরে ইবাদত
হযরত জাফর বিন সুলাইমান রহ. বলেন, আমাদেরকে আবু গালিব একটি ঘটনা বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন:
صحبنا شيخ فى بعض المغازى ও كان يحى الليل كان على ظهر دابته أو على الارض وكان إذا نظر إلى الفجر قد سطع ضوءه نادى يا اخوتاه عند بلوغ الماء يفرحون الواردون يتعجل الرواح هنالك تنقطع كل همة
অর্থ: “এক জিহাদের সফরে এক বুযুর্গের সান্নিধ্যে থাকার সুযোগ হয় আমার। রাত এলেই তিনি ইবাদতে মশগুল হয়ে যেতেন। চাই জমিনে থাকুন বা বাহনের উপর। ইবাদত করতে করতে যখন তিনি দেখতেন যে, ভোরের আলো ছড়িয়ে পড়েছে, তখন উচ্চস্বরে এভাবে আওয়াজ দিতেন- আমার ভাইগণ! যখন পানির ঝর্নার কাছে (হাউজে কাউসারের নিকট) মানুষ পৌঁছবে, তখন সকলে দ্রুত পানি পান করে খুশি হয়ে যাবে এবং সেখানে সমস্ত দুঃখের অবসান ঘটবে।”
📄 বিভিন্ন ইবাদতে রাত যাপন
হযরত কাসেম বিন রাশেদ শায়বানী রহ. একটি ঘটনা বর্ণনা করেন। তিনি বলেন:
كان زمعة نازلا عندنا بالحصيب وكان له اهل ও بنات ও كان يقوم فيصلى ليلا طويلا فا اذا كان السحر نادى بأعلى صوته : يا ايها الركب المعرسون كل هذا الليل ترقدون الا تقوم فترحلون، قال : فيتواثبون فتسمع من ها هنا باكيا ও من هاهনা قارئا ও من هاهনা متوضئا فاذا طلع الفجر نادى باعلى صوته : عند الصباح يحمد القوم السرى
অর্থ: “যামআ রহ. মুহাসসাব উপত্যকায় আমাদের কাছে অবস্থান করেন। তিনি স্বীয় পরিবার-পরিজনসহ ছিলেন। রাতে তিনি তাহাজ্জুদ পড়তে দাঁড়ালে দীর্ঘক্ষণ নামায পড়তে থাকেন। সাহরীর সময়ে এক ঘোষক ঘোষণা দেয়: হে ঘুমন্ত আরোহীগণ! এভাবেই কি পুরো রাত ঘুমিয়ে কাটাবে? এই ঘোষণা শুনে মানুষ লাফিয়ে লাফিয়ে উঠতে থাকে (নামাযের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য)। সুতরাং (অল্প সময়ের ব্যবধানে এই অবস্থা সৃষ্টি হয় যে,) কোথাও হতে আহাজারি ও কান্নার আওয়াজ শোনা যাচ্ছিল। কোথাও হতে দোয়ারতদের দোয়ার আওয়াজ ভেসে আসছিল। কোথাও হতে তেলাওয়াতের আওয়াজ গুঞ্জরিত হচ্ছিল। কোথাও ওজুকারীদের ওজুর শব্দের প্রতিধ্বনি হচ্ছিল। এরপর যখন সুবহে সাদিক হয় তখন এক ঘোষক উচ্চ আওয়াজে ঘোষণা দেয়: একাকী ও নিরিবিলি ইবাদতকারীদের ইবাদত মানুষের জন্য প্রশংসার যোগ্য।”