📄 তাহাজ্জুদ নামাযের বিকল্প নেই
হযরত আবু বকর বিন আয়্যাশ রহ. হযরত আজলাহ হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আমি সালামা বিন কুহাইলকে তাঁর মৃত্যুর পরে স্বপ্নে দেখি। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করি, কোন আমল সবচেয়ে উত্তম বলে আপনার কাছে প্রতিভাত হয়েছে? জবাবে তিনি বলেন- قيام الليل
অর্থ: "রাত জাগরণ করে তাহাজ্জুদ নামায।"
📄 রাত ছিল সালামা বিন কুহাইলের জন্য
হযরত সালামা বিন কুহাইল রহ. এক আজব লোক ছিলেন। রাত জাগরণ ও তাহাজ্জুদ নামায ছিল তার জীবন ও প্রাণ। সারা রাত তিনি ইবাদত-বন্দেগীতে পার করতেন। এ প্রসঙ্গে হযরত খলফ বিন হাওশাব রহ. বলেন : - كان الليل كان فى يد سلمة بن كهيل
অর্থ: "রাত ছিল সালামা বিন কুহাইলেরই জন্য।"
📄 তাহাজ্জুদ নামাযই মূলত ‘আনন্দভ্রমণ’
মনের প্রফুল্লতা ও প্রাণ-সজীবের জন্য আনন্দভ্রমণের জুড়ি নেই। মানুষ মনের ফূর্তি ও বিনোদনের জন্য ভ্রমণে বের হয়। আল্লাহর কুদরতের কারিশমা এবং সৃষ্টির সৌন্দর্য উপভোগ করে মানুষ তৃপ্ত হয়, প্রফুল্ল হয়। এতে তাদের জীবনে নতুন করে প্রাণের সঞ্চার হয়।
আল্লাহওয়ালাগণও আনন্দভ্রমণ করেন। তবে রাত জেগে তাহাজ্জুদ পড়ার মধ্যেই তারা জীবনের আনন্দ খুঁজে পেতেন, তৃপ্ত হতেন। এ প্রসঙ্গে হযরত ইসহাক বিন সুয়াইদ রহ. বলেন: كانوا يرون السياحة صيام النهار ও قيام الليل -
অর্থ: "বুযুর্গদের আনন্দভ্রমণ ছিল দু'টি জিনিসের মধ্যে নিহিত। ১. দিনের বেলা রোযা রাখা এবং ২. রাতে তাহাজ্জুদ নামায পড়া।"
ফায়েদা: সমাজে 'ভ্রমণ' শব্দটি বিশেষিত হয়ে গেছে আনন্দ ভ্রমণের জন্য। মানুষ এর বাইরে অন্য অর্থ বুঝে না। কিন্তু আমাদের বরেণ্য পূর্ববর্তী উলামায়ে কেরামের কাছে 'ভ্রমণ' দু'টি বিষয়ের নাম ছিল। যথা- ১. সারা বিশ্বে আল্লাহর ইবাদত ও তাঁর বাণীকে ব্যাপক প্রচার-প্রসার করা। ২. দিন-রাত আল্লাহর আনুগত্যে পার করা। অভিধানেও 'ভ্রমণের' তিনটি অর্থ লেখা হয়েছে। যথা- ১. আল্লাহর ইবাদতের জন্য জমিনে সফর করা। ২. মসজিদে অবস্থান করা। ৩. রোযা রাখা।
📄 তাহাজ্জুদ নামায বান্দার জন্য নূর হবে
হযরত আব্দুল্লাহ বিন আবুল হুজাইল রহ. বলেন: قيام العبد في جوف الليل الصلوة نور يسعى بين يديه يوم القيامة -
অর্থ: “মধ্যরাতে তাহাজ্জুদের জন্য বান্দার দাঁড়ানোটা কেয়ামতের দিন তার জন্য নূর হবে, যা তার সামনে ছুটোছুটি করবে।”