📘 বড়দের তাহাজ্জুদ ও রাত জাগরণ 📄 শয়তান এবং জিনরা পলায়ন করে

📄 শয়তান এবং জিনরা পলায়ন করে


হযরত উবাদা বিন সামেত রা. বলেন:

إِذَا قَامَ أَحَدُكُمْ مِنَ اللَّيْلِ ، فَلْيَجْهَرْ بِقِرَاءَتِهِ ، فَإِنَّهُ يَطْرُدُ بِجَهْرِ قِرَاءَتِهِ الشَّيْطَانَ ، وَفَسَّاقَ الْجِنِّ ، وَإِنَّ الْمَلَائِكَةَ فِي الْهَوَاءِ ، وَسُكَانَ الدَّارِ يَسْتَمِعُونَ لِقِرَاءَتِهِ وَيُصَلُّونَ بِصَلَاتِهِ -

অর্থ: "যখন তোমাদের কেউ রাতে জাগ্রত হয় এবং তাহাজ্জুদ নামাযে জোরে কেরাত পড়ে, তখন এর কারণে শয়তান এবং অবাধ্য জিনরা পলায়ন করে। আর যেসব ফেরেশতা খোলা ময়দানে থাকে অথবা ঘরে অবস্থানরত নেককার জিনরা তার তেলাওয়াত শোনে এবং তার পেছনে নামায পড়ে।"

যখন সে রাত অতিক্রম করে যায়, তখন সে পরবর্তী রাতকে ওসিয়ত করে বলে: نبيه لساعته ও كونى عليه خفيفة
অর্থ: "তাকে (তাহাজ্জুদগুজারকে) নির্দিষ্ট সময়ে জাগিয়ে দিবে এবং তার সঙ্গে নরম আচরণ করবে।"

যখন তাহাজ্জুদ গুজার ব্যক্তির মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে আসে তখন কুরআন তার মাথার কাছে এসে দাঁড়ায়। মানুষ তাকে গোসল দেয়। যখন তার গোসল ও কাফনের কাজ শেষ হয় তখন কুরআন তার কাফন ও বুকের মাঝখানে এসে অবস্থান করে। যখন তাকে কবরে শোয়ানো হয় এবং মুনকার-নকীর আসে, তখন কুরআন মুনকার-নকীর এবং মৃত ব্যক্তির মাঝে আড় হয়ে দাঁড়ায়। মুনকার-নকীর কুরআনকে বলে, একটু সরে যাও, আমরা মৃত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করব। কুরআন জবাবে বলে, আমি তাকে একা ছেড়ে যেতে পারি না।

আবু আব্দুর রহমান (যিনি এই হাদীসের বর্ণনাকারী) বলেন, হযরত মুয়াবিয়া বিন হাম্মাদ আমাকে যে কিতাব পাঠিয়েছেন, তাতে লেখা ছিল: حتى ادخل الجنة ، فإن كنتما أمرتما فيه بشئ فشأنكما

অর্থ: "কুরআন তাকে জান্নাতে প্রবেশ করায়। এরপর মুনকার-নকীরকে বলে, যদি তোমাদেরকে তার ব্যাপারে আদেশ দেয়া হয়ে থাকে, তবে সেটা তোমাদের ব্যাপার।"

এরপর কুরআন মৃত ব্যক্তির প্রতি তাকায় এবং তাকে জিজ্ঞাসা করে, তুমি আমাকে চিনতে পেরেছ? লোকটি বলে, না। তখন কুরআন বলে: انا القرآن الذي كنت اسهر ليلك وأظمئ نهارك، وأمنعك شهوتك و سمعك وبصرك فسجدنى اليوم من الأخلاء خليل صدق، ومن الإخوان أخا صدق فأبشر فما عليك بعد مسئلة منكر ونكير من هم ولا حزن -

অর্থ: ১. আমি তোমার ঐ কুরআন, আমি তোমাকে রাত জাগ্রত রাখতাম। ২. দিনের বেলায় তোমাকে পিপাসিত রাখতাম। ৩. তোমার কানকে মন্দ কথা শোনার থেকে বিরত রাখতাম। ৪. আমি একমাত্র তোমাকেই আমার বন্ধু বানিয়েছি। ৫. তুমি আমার সবচেয়ে খাঁটি ভাই। ৬. এখন তুমি খুশি হয়ে যাও। ৭. মুনকার-নকীরে জিজ্ঞাসাবাদের পর তোমার আর কোনো চিন্তা- ভাবনা থাকবে না।"

মুনকার-নকীর মৃত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে চলে যায়। অতঃপর কুরআন আল্লাহর দরবারে যায়। সেখানে গিয়ে মৃত ব্যক্তির জন্য পোশাক এবং উন্নত শয্যার সুপারিশ করে। জান্নাতের শ্রেষ্ঠ নূর তার কবরে দেয়ার জন্য অনুরোধ জানায়। ফলে জান্নাতের একটি অন্যতম নূর এবং জান্নাতের উন্নত খোশবু তার কবরে পৌঁছে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।

এরপর দুনিয়ার আসমানের এক হাজার নৈকট্যশীল ফেরেশতা মৃত ব্যক্তিকে উঠায়। কুরআন শরীফ তাদের সহযোগিতা করে এবং তাদেরকে নিয়ে ঐ মৃত ব্যক্তির কাছে যায় এবং বলে:

هل استوحشت بعدى؟ فإن لم أزل بربك حتى امر لك بفরাش و دثار و نور من نور الجنة فيدخل عليه الملائكة فيحملونه و يفرشون له ذلك الفراش ويضعون الدثار تحت رجليه والياسمين عند صدره ، ثم يحملونه حتى يضعوه على شقه الأيمن ثم يصعدون عنه فيستلقى عليه فلا يزال ينظر حتى يلجوا في السماء ثم يدفع القرآن في قبلة القبر فيسمع عليه ماشاء الله

অর্থ: "আমার চলে যাবার পরে তুমি নিঃসঙ্গতা বোধ করনি তো? আমি পরওয়ারদেগারের কাছে গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে আমি তোমার জন্য বিছানা, নরম পোশাক এবং জান্নাতের একটি নূর নিয়ে এসেছি। এরপর ফেরেশতারা মৃত ব্যক্তির নিকটে আসে, তাকে ধরে উঠায়। তার জন্য বেহেশতি বিছানা বিছিয়ে দেয়। গায়ের চাদর রেখে দেয় তার পায়ের কাছে এবং ইয়াসমিন খোশবু তার বুকের উপর রেখে দেয়। এরপর তাকে উঠিয়ে ডান কাতে শোয়ায়। পরে আসমানে চলে যায়। মৃত ব্যক্তি চিৎ হয়ে শুয়ে তাদেরকে অপলক নয়নে দেখতে থাকে। এমনকি তারা আসমানের মধ্যে চলে যায়। এরপর কুরআন তার কবরের সংকীর্ণতা দূর করে দেয় এবং আল্লাহর ইচ্ছা অনুযায়ী কবর তার জন্য প্রশস্ত হয়ে যায়।"

আবু আব্দুর রহমান বলেন, আমি মুয়াবিয়া বিন হাম্মাদের কিতাবে এটাও লেখা পেয়েছি যে: فيتسع عليه مسيرة اربعمائة عام، ثم يحتمل الياسمين منا عند صدره فيضعه عند انفه فيشمه غضا كما جيء به الى ان ينفخ في الصور، ثم يأتي اهله كل يوم مرة أو مرتين فيأتيه بخبرهم فيدعو لهم بالخير والإقبال، فإن تعلم احد من ولده القرآن بشره بذلك، وإن كان عقبه سوء اتى الدار غدوة وعشية، فبكى حتى ينفخ في الصور

অর্থ: "কবর তার জন্য চারশ বছরের প্রশস্ত হয়ে যায়। এরপর তার বুকের উপর রাখা ইয়াসমিন খোশবু তার নাকে শুকিয়ে দেয়া হয়। সুতরাং মৃত ব্যক্তি কেয়ামতের দিন পর্যন্ত ঐ সুগন্ধি শুঁকতে থাকবে। এরপর সে পরিবার-পরিজনের কাছে একবার বা দুইবার আসে এবং তাদের কুশলাদি সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেয়। তাদের জন্য জান্নাতের দোয়া করে। যখন তার সন্তানদের কেউ কুরআন পড়া শিখে, তখন সে তাকে সুসংবাদ দেয়। তার কোনো সন্তান বদকার হলে তার কাছেও সকাল-সন্ধ্যা আসে এবং তার জন্য কাঁদতে থাকে। এমনটি সে কেয়ামত পর্যন্ত করতে থাকে।"

আবু ইসমাঈল আত তিরমিযী বলেন, আমি নুয়াইম বিন হাম্মাদকে বলতে শুনেছি, এ যাবত যেসব পুরস্কারের কথা বর্ণনা করা হলো, সবই হলো কুরআনের সওয়াব এবং বদলা।

📘 বড়দের তাহাজ্জুদ ও রাত জাগরণ 📄 তাহাজ্জুদ নামাযের বিকল্প নেই

📄 তাহাজ্জুদ নামাযের বিকল্প নেই


হযরত আবু বকর বিন আয়্যাশ রহ. হযরত আজলাহ হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আমি সালামা বিন কুহাইলকে তাঁর মৃত্যুর পরে স্বপ্নে দেখি। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করি, কোন আমল সবচেয়ে উত্তম বলে আপনার কাছে প্রতিভাত হয়েছে? জবাবে তিনি বলেন- قيام الليل

অর্থ: "রাত জাগরণ করে তাহাজ্জুদ নামায।"

📘 বড়দের তাহাজ্জুদ ও রাত জাগরণ 📄 রাত ছিল সালামা বিন কুহাইলের জন্য

📄 রাত ছিল সালামা বিন কুহাইলের জন্য


হযরত সালামা বিন কুহাইল রহ. এক আজব লোক ছিলেন। রাত জাগরণ ও তাহাজ্জুদ নামায ছিল তার জীবন ও প্রাণ। সারা রাত তিনি ইবাদত-বন্দেগীতে পার করতেন। এ প্রসঙ্গে হযরত খলফ বিন হাওশাব রহ. বলেন : - كان الليل كان فى يد سلمة بن كهيل

অর্থ: "রাত ছিল সালামা বিন কুহাইলেরই জন্য।"

📘 বড়দের তাহাজ্জুদ ও রাত জাগরণ 📄 তাহাজ্জুদ নামাযই মূলত ‘আনন্দভ্রমণ’

📄 তাহাজ্জুদ নামাযই মূলত ‘আনন্দভ্রমণ’


মনের প্রফুল্লতা ও প্রাণ-সজীবের জন্য আনন্দভ্রমণের জুড়ি নেই। মানুষ মনের ফূর্তি ও বিনোদনের জন্য ভ্রমণে বের হয়। আল্লাহর কুদরতের কারিশমা এবং সৃষ্টির সৌন্দর্য উপভোগ করে মানুষ তৃপ্ত হয়, প্রফুল্ল হয়। এতে তাদের জীবনে নতুন করে প্রাণের সঞ্চার হয়।

আল্লাহওয়ালাগণও আনন্দভ্রমণ করেন। তবে রাত জেগে তাহাজ্জুদ পড়ার মধ্যেই তারা জীবনের আনন্দ খুঁজে পেতেন, তৃপ্ত হতেন। এ প্রসঙ্গে হযরত ইসহাক বিন সুয়াইদ রহ. বলেন: كانوا يرون السياحة صيام النهار ও قيام الليل -

অর্থ: "বুযুর্গদের আনন্দভ্রমণ ছিল দু'টি জিনিসের মধ্যে নিহিত। ১. দিনের বেলা রোযা রাখা এবং ২. রাতে তাহাজ্জুদ নামায পড়া।"

ফায়েদা: সমাজে 'ভ্রমণ' শব্দটি বিশেষিত হয়ে গেছে আনন্দ ভ্রমণের জন্য। মানুষ এর বাইরে অন্য অর্থ বুঝে না। কিন্তু আমাদের বরেণ্য পূর্ববর্তী উলামায়ে কেরামের কাছে 'ভ্রমণ' দু'টি বিষয়ের নাম ছিল। যথা- ১. সারা বিশ্বে আল্লাহর ইবাদত ও তাঁর বাণীকে ব্যাপক প্রচার-প্রসার করা। ২. দিন-রাত আল্লাহর আনুগত্যে পার করা। অভিধানেও 'ভ্রমণের' তিনটি অর্থ লেখা হয়েছে। যথা- ১. আল্লাহর ইবাদতের জন্য জমিনে সফর করা। ২. মসজিদে অবস্থান করা। ৩. রোযা রাখা।

ফন্ট সাইজ
15px
17px