📄 জান্নাতের হকদার কে?
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম রা. বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বপ্রথম মদীনায় এলেন, তখন লোকেরা তাকে জানায় যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাশরীফ এনেছেন। এ খবর শুনে আমিও জনতার ভিড়ের মাঝে মিশে নবীজীর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য এগিয়ে যাই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেহারার প্রতি আমার দৃষ্টিপাত হতেই আমি বুঝে ফেলি যে, এ চেহারা কোনো মিথ্যাবাদীর চেহারা হতে পারে না অর্থাৎ নবীজী সত্য নবী। সে সময়ে নবীজী জনতার উদ্দেশে কিছু কথা বলেন। সর্বপ্রথম যে কথাটি আমি নবীজীর মুখ থেকে শুনি, তাহলো:
يَا أَيُّهَا النَّاسُ أَفْشُوا السَّلامَ ، وَأَطْعِمُوا الطَّعَامَ ، وَصِلُوا الأَرْحَامَ ، وَصَلُّوا وَالنَّاسُ نِيَامٌ ، تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ بِسَلَامٍ -
অর্থ: "হে লোক সমাজ! (তোমরা ৪টি কাজ করবে)। যথা- (১) সালামের প্রচার-প্রসার করবে। (২) মানুষকে খাদ্য খাওয়াবে। (৩) আত্মীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখবে এবং (৪) মানুষ যখন ঘুমে বিভোর থাকে অর্থাৎ শেষ রাতে (তাহাজ্জুদ) নামায পড়বে। তাহলে তোমরা নিরাপদে জান্নাতে প্রবেশ করবে।"
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম রা. ইহুদীদের একজন বড় আলেম ছিলেন। নবীজীর নবুওয়াত লাভকালে তিনি মদীনায় ছিলেন। যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরত করে মদীনায় আসেন, তখন তিনিও নবীজীর খেদমতে আসেন এবং পরে মুসলমান হয়ে মর্যাদাবান সাহাবায়ে কেরামের অন্যতম হন।
এ হাদীসে সে সময়ে নামায পড়াকে জান্নাতে প্রবেশের উপায় বলা হয়েছে যখন মানুষ ঘুমের জগতে হারিয়ে যায়। আর সে সময় হলো শেষ রাত। অতএব এ হাদীসেও শেষ রাতে উঠে তাহাজ্জুদ পড়ার প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। শুধু গুরুত্বারোপই নয়; বরং এর পরকালীন লাভও বর্ণিত হয়েছে যে, যে নিয়মিত শেষ রাতে উঠে নামায পড়বে, তা তার জন্য সহজে জান্নাতে যাবার অন্যতম উসিলা হবে।
📄 অন্যতম জান্নাতী আমল
হযরত আবু হুরায়রা রা. বলেন, আমি নিবেদন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! যখন আমি আপনার চেহারা মুবারক দেখি, তখন আমার মন ঠাণ্ডা হয়ে যায়, আমার চোখ শীতল হয়ে যায়। আমাকে এমন আমলের সন্ধান দিন, যা পালন করলে আমি জান্নাতী হতে পারব। জবাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
أَفْشُوا السَّلامَ ، وَأَطْعِمُوا الطَّعَامَ ، وَصِلُوا الأَرْحَامَ ، وَصَلُّوا وَالنَّاسُ ৪৩ نِيَامٌ ، تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ بِسَلام -
১. তুমি (ক্ষুধার্তকে) খানা খাওয়াবে। ২. সালামের ব্যাপক প্রচার-প্রসার করবে এবং ৩. যখন মানুষ ঘুমিয়ে পড়ে তখন উঠে তাহাজ্জুদ পড়বে- তাহলে তুমি নিরাপদে জান্নাতে প্রবেশ করবে।"
📄 গভীর রাতে নামায আদায়
হযরত আব্দুল্লাহ বিন আমর রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
يَا أَيُّهَا النَّاسُ أَفْسُوا السَّلامَ ، وَأَطْعِمُوا الطَّعَامَ ، وَصِلُوا الأَرْحَامَ ، وَصَلُّوا وَالنَّاسُ نِيَامٌ ، تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ بِسَلامٍ -
অর্থ: "১. তোমরা (ক্ষুধার্তকে) খাদ্য খাওয়াবে। ২. সালামের ব্যাপক প্রচার-প্রসার করবে। ৩. মানুষ যখন ঘুমে বিভোর থাকে অর্থাৎ গভীর রাতে নামায পড়বে। তাহলে তোমরা সহজে ও নিরাপদে জান্নাতে প্রবেশ করবে।"
📄 কেয়ামতের দিন তোমাদের পাথেয় কী হবে?
হযরত সিররী বিন মুখল্লাদ রা. বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আবু যর রা.-কে বলেন:
یا ابا ذر! لو أردت سفرا لأعددت له عدته، فكيف بسفر طريق يوم القيامة؟ ألا أنبئك يا أبا ذر بما ينفعك ذلك اليوم؟ قَالَ : بلى بأبي و أمي قَالَ : صم يوما شديدا حره يوم النشور، وصل ركعتين في ظلمة الليل لوحشة القبور، وحج حجة لعظام الأمور، وتصدق بصدقة على مسكين أو كلمة حق تقولها أو كلمة سوء تسكت عنها -
অর্থ: "হে আবু যর! তুমি কোথাও সফরের ইচ্ছা করলে বিরাট প্রস্তুতি নাও, তো কেয়ামতের সফরের কী প্রস্তুতি নিবে? হে আবু যর! আমি কি তোমাকে বলব না যে, সেদিন কোন জিনিস তোমাকে বেশি উপকার দিবে? তিনি জবাবে বলেন, আমার পিতা-মাতা আপনার উপর কুরবান হোক। অবশ্যই আপনি তা বলে দিন। তখন নবীজী বলেন:
অর্থ: "১. কেয়ামতের দিনের জন্য কঠিন গরমের দিন রোযা রাখ। ২. কবরের এককীত্ব ঘুচাবার জন্য রাতের অন্ধকারে দু'রাকাত নামায পড়। ৩. বড় বড় কাজের জন্য ফরজ হজ আদায় কর। ৪. গরীব-মিসকীনকে সদকা দাও। ৫. অথবা কোনো সত্য কথা বলে দাও। ৬. অথবা কোনো মন্দ কথা হতে নিজের জবানকে নীরব রাখ।"