📘 বড়দের তাহাজ্জুদ ও রাত জাগরণ 📄 তাহাজ্জুদগুজার বান্দা সর্বশ্রেষ্ঠ

📄 তাহাজ্জুদগুজার বান্দা সর্বশ্রেষ্ঠ


হযরত ইবনে আব্বাস রা. হতে এক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
অর্থ: "আমার উম্মতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ তারা- ১. যারা কুরআনের ধারক-বাহক এবং ২. রাত জাগরণকারী তথা তাহাজ্জুদগুজার।"

📘 বড়দের তাহাজ্জুদ ও রাত জাগরণ 📄 রাতে উঠা বাদ না দেয়া চায়

📄 রাতে উঠা বাদ না দেয়া চায়


হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আবু মূসা রহ. বলেন, হযরত আয়েশা রা. আমাকে বলেন:

عَلَيْكُمْ بِقِيَامِ اللَّيْلِ فَان رسول الله كَانَ لا يَدَعُهُ ، فَانْ مَرِضَ قَرَا وَهُوَ قاعد .

অর্থ: "রাতে উঠা তথা ইবাদত করা কখনো বাদ দিবে না। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বদা রাতে উঠতেন। তবে তিনি অসুস্থতা বোধ করলে বসে পড়ে তাহাজ্জুদ পড়তেন।"

হাদীসের ব্যাখ্যা
এ হাদীসে রাতে উঠার প্রতি উদ্বুদ্ধ এবং তাহাজ্জুদ নামায আদায় করার প্রতি গুরুত্বারোপ বর্ণিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র অভ্যাসেরও বিবরণ দেয়া হয়েছে যে, যদিও নবীজী নিষ্পাপ ও ক্ষমাপ্রাপ্ত ছিলেন কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি তাহাজ্জুদ বাদ দিতেন না। এতে আমাদের প্রতি এই সবক ও শিক্ষা রয়েছে যে, আমরা যেহেতু আল্লাহর রহমতের বেশি মুখাপেক্ষী, তাই আমাদের কর্তব্য হলো, তাহাজ্জুদ নামাযের প্রতি অধিক গুরুত্বারোপ করা।

📘 বড়দের তাহাজ্জুদ ও রাত জাগরণ 📄 অলসতা হলেও তাহাজ্জুদ পড়া

📄 অলসতা হলেও তাহাজ্জুদ পড়া


হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আবু মূসা রহ. বলেন, আমাকে হযরত আয়েশা রা. বলেন:

لا تَدَعْ قِيَامَ اللَّيْلِ ، فَإِنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ لا يَدَعُهُ ، وَكَانَ إِذَا مَرِضَ أَوْ قَالَتْ كَسِلَ صَلَّى قَاعِدًا

অর্থ: "তুমি তাহাজ্জুদ পড়া বাদ দিবে না। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনও তাহাজ্জুদ পড়া ছাড়তেন না। তবে তিনি ক্লান্তি বা অলসতা বোধ করলে তাহাজ্জুদ নামায বসে পড়তেন।"

📘 বড়দের তাহাজ্জুদ ও রাত জাগরণ 📄 জান্নাতের হকদার কে?

📄 জান্নাতের হকদার কে?


হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম রা. বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বপ্রথম মদীনায় এলেন, তখন লোকেরা তাকে জানায় যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাশরীফ এনেছেন। এ খবর শুনে আমিও জনতার ভিড়ের মাঝে মিশে নবীজীর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য এগিয়ে যাই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেহারার প্রতি আমার দৃষ্টিপাত হতেই আমি বুঝে ফেলি যে, এ চেহারা কোনো মিথ্যাবাদীর চেহারা হতে পারে না অর্থাৎ নবীজী সত্য নবী। সে সময়ে নবীজী জনতার উদ্দেশে কিছু কথা বলেন। সর্বপ্রথম যে কথাটি আমি নবীজীর মুখ থেকে শুনি, তাহলো:

يَا أَيُّهَا النَّاسُ أَفْشُوا السَّلامَ ، وَأَطْعِمُوا الطَّعَامَ ، وَصِلُوا الأَرْحَامَ ، وَصَلُّوا وَالنَّاسُ نِيَامٌ ، تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ بِسَلَامٍ -

অর্থ: "হে লোক সমাজ! (তোমরা ৪টি কাজ করবে)। যথা- (১) সালামের প্রচার-প্রসার করবে। (২) মানুষকে খাদ্য খাওয়াবে। (৩) আত্মীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখবে এবং (৪) মানুষ যখন ঘুমে বিভোর থাকে অর্থাৎ শেষ রাতে (তাহাজ্জুদ) নামায পড়বে। তাহলে তোমরা নিরাপদে জান্নাতে প্রবেশ করবে।"

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম রা. ইহুদীদের একজন বড় আলেম ছিলেন। নবীজীর নবুওয়াত লাভকালে তিনি মদীনায় ছিলেন। যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরত করে মদীনায় আসেন, তখন তিনিও নবীজীর খেদমতে আসেন এবং পরে মুসলমান হয়ে মর্যাদাবান সাহাবায়ে কেরামের অন্যতম হন।

এ হাদীসে সে সময়ে নামায পড়াকে জান্নাতে প্রবেশের উপায় বলা হয়েছে যখন মানুষ ঘুমের জগতে হারিয়ে যায়। আর সে সময় হলো শেষ রাত। অতএব এ হাদীসেও শেষ রাতে উঠে তাহাজ্জুদ পড়ার প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। শুধু গুরুত্বারোপই নয়; বরং এর পরকালীন লাভও বর্ণিত হয়েছে যে, যে নিয়মিত শেষ রাতে উঠে নামায পড়বে, তা তার জন্য সহজে জান্নাতে যাবার অন্যতম উসিলা হবে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية