📄 রাতে উঠা নেককারদের রীতি
শেষ রাতে তাহাজ্জুদ নামাযের জন্য উঠা পুণ্যবান ও নেককারদের রীতি। রাত নিদ্রার জন্যে হলেও নেককারগণ পুরো রাত ঘুমে বিভোর থাকেন না। তারা শেষ রাতে উঠে পড়েন এবং তাহাজ্জুদ নামাযসহ অন্যান্য ইবাদতে আত্মনিয়োগ করেন। এ প্রসঙ্গে হযরত বেলাল রা. থেকে একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
عَلَيْكُمْ بِقِيَامِ اللَّيْلِ فَإِنَّه دَأْبُ الصَّالِحِيْنَ قَبْلَكُمْ وَإِنْ قِيَامَ اللَّيْلِ قُرْبَةٌ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى، وَمَنْهَاةٌ عَنِ الْإِثْمِ وَتَكْفِيرٌ لِلسَّيِّئَاتِ وَمَطْرَدَةٌ لِلدَّاءِ عَنِ الْحَسَدِ -
অর্থ: শেষ রাতে উঠা তোমাদের জন্য জরুরি। কারণ তা- ১. তোমাদের পূর্ববর্তী নেককারদের রীতি বা অভ্যাস। ২. আল্লাহর নৈকট্য লাভের অন্যতম উপায়। ৩. গুনাহের বড় প্রতিবন্ধক। ৪. কৃত পাপের কাফফারা বা ক্ষতিপূরণ এবং ৫. শারীরিক অসুস্থতা প্রতিরোধকারী।
টিকাঃ
৩৫. তিরমিযী, আসসুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী।
📄 তাহাজ্জুদ আল্লাহর নৈকট্য লাভের বড় উপায়
হযরত আবু উমামা বাহেলী রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
عَلَيْكُمْ بِقِيَامِ اللَّيْلِ ، فَإِنَّهُ دَأْبُ الصَّالِحِينَ قَبْلَكُمْ ، وَهُوَ قُرْبَةٌ لَكُمْ إِلَى رَبِّكُمْ ، وَمَكْفَرَةٌ لِلسَّيِّئَاتِ ، وَمَنْهَاةٌ عَنِ الإِثْمِ
অর্থ: "রাত জাগরণ তথা তাহাজ্জুদ পড়া তোমাদের উপর অবশ্য কর্তব্য। কারণ-
১. ইহা তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের রীতি-অভ্যাস।
২. তোমাদের প্রভুর কাছে তোমাদের নৈকট্য দানকারী।
৩. পাপরাশিকে মোচনকারী এবং
৪. গুনাহ হতে বাধা প্রদানকারী।"
📄 তাহাজ্জুদগুজার বান্দা সর্বশ্রেষ্ঠ
হযরত ইবনে আব্বাস রা. হতে এক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
অর্থ: "আমার উম্মতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ তারা- ১. যারা কুরআনের ধারক-বাহক এবং ২. রাত জাগরণকারী তথা তাহাজ্জুদগুজার।"
📄 রাতে উঠা বাদ না দেয়া চায়
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আবু মূসা রহ. বলেন, হযরত আয়েশা রা. আমাকে বলেন:
عَلَيْكُمْ بِقِيَامِ اللَّيْلِ فَان رسول الله كَانَ لا يَدَعُهُ ، فَانْ مَرِضَ قَرَا وَهُوَ قاعد .
অর্থ: "রাতে উঠা তথা ইবাদত করা কখনো বাদ দিবে না। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বদা রাতে উঠতেন। তবে তিনি অসুস্থতা বোধ করলে বসে পড়ে তাহাজ্জুদ পড়তেন।"
হাদীসের ব্যাখ্যা
এ হাদীসে রাতে উঠার প্রতি উদ্বুদ্ধ এবং তাহাজ্জুদ নামায আদায় করার প্রতি গুরুত্বারোপ বর্ণিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র অভ্যাসেরও বিবরণ দেয়া হয়েছে যে, যদিও নবীজী নিষ্পাপ ও ক্ষমাপ্রাপ্ত ছিলেন কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি তাহাজ্জুদ বাদ দিতেন না। এতে আমাদের প্রতি এই সবক ও শিক্ষা রয়েছে যে, আমরা যেহেতু আল্লাহর রহমতের বেশি মুখাপেক্ষী, তাই আমাদের কর্তব্য হলো, তাহাজ্জুদ নামাযের প্রতি অধিক গুরুত্বারোপ করা।