📘 বড় শিরক কি ও কত প্রকার > 📄 আল্লাহ্ তা'আলার ইচ্ছা ছাড়াও কেউ নিজ ইচ্ছায় কারোর কোন লাভ বা ক্ষতি করতে পারে এমন মনে করার শির্ক

📄 আল্লাহ্ তা'আলার ইচ্ছা ছাড়াও কেউ নিজ ইচ্ছায় কারোর কোন লাভ বা ক্ষতি করতে পারে এমন মনে করার শির্ক


৩৪. একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলার ইচ্ছা ছাড়াও কেউ নিজ ইচ্ছায় কারোর কোন লাভ বা ক্ষতি করতে পারে এমন মনে করার শিকঃ
একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলা ইচ্ছা করলেই কেউ কারোর কোন লাভ বা ক্ষতি করতে পারে। নতুবা নয়। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ قُلْ فَمَنْ يَمْلِكُ لَكُمْ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا ، إِنْ أَرَادَ بِكُمْ ضَرًّا أَوْ أَرَادَ بِكُمْ نَفْعًا ، بَلْ كَانَ اللَّهُ بِمَا تَعْمَلُوْنَ خَبِيْراً অর্থাৎ আপনি ওদেরকে বলে দিনঃ আল্লাহ্ তা'আলা যদি তোমাদের কারোর কোন ক্ষতি অথবা লাভ করতে চান তাহলে কেউ কি তাঁকে উক্ত ইচ্ছা থেকে বিরত রাখতে পারবে? বস্তুতঃ আল্লাহ্ তা'আলা তোমাদের কর্ম সম্পর্কে সম্যক অবগত।
হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'আব্বাস্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ একদা রাসূল আমাকে কিছু মূল্যবান বাণী শুনিয়েছেন যার কিয়দাংশ নিম্নরূপঃ إِذَا سَأَلْتَ فَاسْأَلِ اللَّهُ ، وَ إِذَا اسْتَعَنْتَ فَاسْتَعِنْ بِاللَّهِ ، وَ اعْلَمْ أَنَّ الْأُمَّةَ لَوِ اجْتَمَعَتْ عَلَى أَنْ يَنْفَعُوْكَ بِشَيْءٍ لَمْ يَنْفَعُوْكَ إِلَّا بِشَيْءٍ قَدْ كَتَبَهُ اللَّهُ لَكَ ، وَ لَوِ اجْتَمَعُوا عَلَى أَنْ يَضُرُّوكَ بِشَيْءٍ لَمْ يَضُرُّوكَ إِلَّا بِشَيْءٍ قَدْ كَتَبَهُ اللَّهُ عَلَيْكَ ، رفعَتِ الْأَقْلَامُ وَ جَفْتِ الصُّحُفُ অর্থাৎ কিছু চাইলে তা একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলার নিকটই চাবে। কোন সহযোগিতার প্রয়োজন হলে তা একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলার নিকটই কামনা করবে। জেনে রেখো, পুরো বিশ্ববাসী একত্রিত হয়েও যদি তোমার কোন কল্যাণ করতে চায় তাহলে তারা ততটুকুই কল্যাণ করতে পারবে যা তোমার জন্য বরাদ্দ রয়েছে। আর তারা সকল একত্রিত হয়েও যদি তোমার কোন ক্ষতি করতে চায় তাহলে তারা ততটুকুই ক্ষতি করতে পারবে যা তোমার জন্য বরাদ্দ রয়েছে। তাক্বদীর লেখার কলম উঠিয়ে নেয়া হয়েছে এবং তাক্বদীর লেখা বালাম শুকিয়ে গেছে। অর্থাৎ লেখা শেষ। আর নতুন করে লেখা হবে না।

📘 বড় শিরক কি ও কত প্রকার > 📄 আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়াও কেউ কাউকে জীবন বা মৃত্যু দিতে পারে এমন মনে করার শির্ক

📄 আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়াও কেউ কাউকে জীবন বা মৃত্যু দিতে পারে এমন মনে করার শির্ক


৩৫. একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়াও কেউ কাউকে জীবন বা মৃত্যু দিতে পারে এমন মনে করার শিকঃ
একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলাই ইচ্ছে করলে কাউকে জীবন বা মৃত্যু দিতে পারে। অন্য কেউ নয়।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ هُوَ الَّذِي يُحْيِي وَيُمِيْتُ ، فَإِذَا قَضَى أَمْراً فَإِنَّمَا يَقُوْلُ لَهُ كُنْ فَيَكُوْنُ অর্থাৎ তিনিই জীবন ও মৃত্যু দান করেন। যখন তিনি কিছু করতে চান তখন তিনি বলেনঃ হয়ে যাও, তখন তা হয়ে যায়।
হযরত জাবির থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ بِذَاتِ الرِّقَاعِ ، فَإِذَا أَتَيْنَا عَلَى شَجَرَةٍ ظَلِيْلَةٍ تَرَكْنَاهَا لِلنَّبِيِّ ، فَجَاءَ رَجُلٌ مِنَ الْمُشْرِكِينَ وَ سَيْفُ النَّبِيِّ المُعَلَّقٌ بِالشَّجَرَةِ ، فَاخْتَرَطَهُ ، فَقَالَ: تَخَافُنِي؟ قَالَ: لَا ، قَالَ: فَمَنْ يَمْنَعُكَ مِنِّي؟ قَالَ: اللَّهُ ، وَ لَمْ يُعَاقِبُهُ رَسُوْلُ الله অর্থাৎ আমরা "যাতুর রিক্বা” যুদ্ধে নবী এর সাথে ছিলাম। পথিমধ্যে যখন আমরা একটি ছায়া বিশিষ্ট গাছের নিকট পৌঁছুলাম তখন আমরা তা নবী এর জন্য ছেড়ে দিলাম। যাতে তিনি উহার নীচে বিশ্রাম নিতে পারেন। নবী বিশ্রাম নিচ্ছিলেন এমতাবস্থায় জনৈক মুশরিক নবী এর নিকট আসলো এবং গাছে ঝুলন্ত তাঁর তলোয়ার খানি খাপ থেকে বের করে তাঁকে বললোঃ তুমি কি আমাকে ভয় পাচ্ছো না? নবী বললেনঃ না। মুন্ত্রিকটি বললোঃ তাহলে এখন আমার হাত থেকে তোমাকে কে বাঁচাবে? নবী বললেনঃ আল্লাহ্ তা'আলা আমাকে বাঁচাবেন এবং রাসূল তাকে একটুও শাস্তি দেননি।

📘 বড় শিরক কি ও কত প্রকার > 📄 আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়াও কোন নবী বা ওলী সর্বদা জীবিত রয়েছেন এমন মনে করার শির্ক

📄 আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়াও কোন নবী বা ওলী সর্বদা জীবিত রয়েছেন এমন মনে করার শির্ক


৩৬. একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়াও অন্য কোন নবী- ওলী অথবা অন্য কোন গাউস-কুতুব সর্বদা জীবিত রয়েছেন এমন মনে করার শিকঃ একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়া অন্য কেউ চিরঞ্জীব নয়। চাই সে যে কেউই হোক না কেন।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ كُلُّ مَنْ عَلَيْهَا فَانٍ ، وَ يَبْقَى وَجْهُ رَبِّكَ ذُو الْجَلَالِ وَ الْإِكْرَامِ অর্থাৎ ভূ পৃষ্ঠে যা কিছুই রয়েছে তা সবই নম্বর। যা একদা ধ্বংস হয়ে যাবে। শুধু থাকবে আপনার প্রতিপালক। যিনি মহিমাময় মহানুভব। আল্লাহ্ তা'আলা আরো বলেনঃ كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ অর্থাৎ সকল জীবকে একদা মৃত্যুর আস্বাদ গ্রহণ করতেই হবে। কেউই সর্বদা বেঁচে থাকবে না। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ ও এ মৃত্যু থেকে রেহাই পাননি। তিনিও একদা মৃত্যু বরণ করেছেন। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ إِنَّكَ مَيِّتٌ ، وَ إِنَّهُمْ مَيِّتُونَ অর্থাৎ নিশ্চয়ই আপনি মরণশীল এবং নিশ্চয়ই তারাও মরণশীল। কেউই এ দুনিয়াতে চিরদিন থাকবে না।
আল্লাহ্ তা'আলা আরো বলেনঃ وَ مَا جَعَلْنَا لِبَشَرٍ مِّنْ قَبْلِكَ الْخُلْدَ ، أَفَإِنْ مِّتَّ فَهُمُ الْخَالِدُوْنَ অর্থাৎ আমি আপনার পূর্বের কাউকেই (কোন মানুষকেই) অনন্ত জীবন দেইনি। সুতরাং আপনি যদি মৃত্যু বরণ করেন তাহলে তারাকি চির জীবন এ দুনিয়াতে থাকতে পারবে বলে আশা করে? সবাইকেই একদা মরতে হবে। কেউই চিরঞ্জীব নয়।
তিনি আরো বলেনঃ وَ مَا مُحَمَّدٌ إِلَّا رَسُولٌ ، قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِهِ الرُّسُلُ ، أَفَإِنْ مَّاتَ أَوْ قُتِلَ انْقَلَبْتُمْ عَلَى أَعْقَابِكُمْ ، وَ مَنْ يَنْقَلِبْ عَلَى عَقِبَيْهِ فَلَنْ يَضُرَّ اللَّهُ شَيْئًا ، وَ سَيَجْزِي اللهُ الشَّاكِرِينَ অর্থাৎ মুহাম্মাদ ﷺ একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলার রাসূল। এ ছাড়া তিনি অন্য কিছু নন। তাঁর পূর্বেও বহু রাসূল মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করে এ দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন। সুতরাং তিনি যদি মৃত্যু বরণ করেন অথবা তাঁকে হত্যা করা হয় তাহলে তোমরা কি পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাবে তথা কাফির হয়ে যাবে? জেনে রাখো, তোমাদের কেউ কাফির হয়ে গেলে সে আল্লাহ্ তা'আলার এতটুকুও ক্ষতি করতে পারবেনা। অচিরেই আল্লাহ্ তা'আলা কৃতজ্ঞদেরকে পুরস্কৃত করবেন।
হযরত 'আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ مَاتَ رَسُوْلُ اللَّهِ ﷺ ، وَ أَبُو بَكْرٍ بِالسُّنْحِ ، فَقَامَ عُمَرُ يَقُولُ: وَاللَّهِ مَا مَاتَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ ، قَالَتْ: وَ قَالَ عُمَرُ : وَ اللَّهِ مَا كَانَ يَقَعُ فِي نَفْسِي إِلَّا ذَاكَ ، وَلَيَبْعَثَنَّهُ اللَّهُ فَلَيَقْطَعَنَّ أَيْدِيَ رِجَالٍ وَ أَرْجُلَهُمْ ، فَجَاءَ أَبُو بَكْرٍ ، فَكَشَفَ عَنْ رَسُوْلِ اللَّهِ ﷺ فَقَبْلَهُ ، قَالَ: بِأَبِي أَنْتَ وَ أُمِّي طِبْتَ حَيًّا وَ مَيْتًا، وَ الَّذِي نَفْسِي بيَدِهِ لَا يُذِيقُكَ اللهُ الْمَوْتَتَيْنِ أَبَداً، وَ فِي رِوَايَةِ : أَمَّا الْمَوْتَةُ الَّتِي كُتِبَتْ عَلَيْكَ فَقَدْ مُتَهَا ، ثُمَّ خَرَجَ فَقَالَ: أَيُّهَا الْحَالِفُ عَلَى رِسْلِكَ ، فَلَمَّا تَكَلَّمَ أَبُوْ بَكْرٍ جَلَسَ عُمَرُ ، فَحَمدَ اللَّهَ وَ أَثْنَى عَلَيْهِ وَقَالَ: أَلاَ مَنْ كَانَ يَعْبُدُ مُحَمَّداً ﷺ فَإِنَّ مُحَمَّداً قَدْ مَاتَ، وَ مَنْ كَانَ يَعْبُدُ اللَّهُ فَإِنَّ اللَّهَ حَيٌّ لَا يَمُوْتُ، وَ قَرَأَ آيَةَ الزُّمَرِ وَ آيَةَ آلِ عِمْرَانَ، وَ قَالَ ابْنُ عَبَّاسِ : وَ اللَّهِ لَكَأَنَّ النَّاسَ لَمْ يَعْلَمُوْا أَنَّ اللَّهَ أَنْزَلَ هَذِهِ الآية - آية آلِ عِمْرَانَ - حَتَّى تَلَاهَا أَبُو بَكْرٍ ، فَتَلَقَّاهَا مِنْهُ النَّاسُ كُلُّهُمْ ، فَمَا أَسْمَعُ بَشَراً مِنَ النَّاسِ إِلَّا يَتْلُوْهَا অর্থাৎ রাসূল ﷺ মৃত্যু বরণ করেছেন। অথচ হযরত আবু বকর রাঃ সেখানে উপস্থিত নেই। তিনি ছিলেন "সুন্হ" নামক এলাকায়। ইতিমধ্যে হযরত 'উমর রাঃ দাঁড়িয়ে বললেনঃ আল্লাহ্ তা'আলার কসম! রাসূল ﷺ মৃত্যু বরণ করেননি। হযরত 'আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেনঃ হযরত 'উমর রাঃ বলেছেনঃ আল্লাহ্ তা'আলার কসম! তখন আমার এতটুকুই বুঝে আসছিলো। আমি ধারণা করতাম, তিনি ঘুমিয়ে আছেন এবং অবশ্যই তিনি ঘুম থেকে উঠে সবার হাত-পা কেটে দিবেন। ইতিমধ্যে হযরত আবু বকর রাঃ এসে রাসূল ﷺ এর চেহারা উন্মোচন করে তাতে একটি চুমো দিলেন এবং বললেনঃ আমার পিতা-মাতা আপনার উপর কুরবান হোক! আপনি জীবিত ও মৃত উভয় অবস্থায়ই পূত-পবিত্র। সে সত্তার কসম যার হাতে আমার জীবন! আপনাকে আল্লাহ্ তা'আলা দু' বার মৃত্যু দিবেন না। শুধু সে মৃত্যুই। আপনি বরণ করেছেন যা আপনার জন্য বরাদ্দ ছিলো। অতঃপর হযরত আবু বকর রাসূল এর নিকট থেকে বের হয়ে বললেনঃ হে কসমকারী! তুমি একটু শান্ত হও। আবু বকর যখন কথা শুরু করলেন তখন ‘উমর বসে গেলেন। আবু বকর আল্লাহ্ তা'আলার প্রশংসা করে বললেনঃ তোমরা জেনে রাখো, যে ব্যক্তি মুহাম্মাদ এর ইবাদাত করতো তার জানা উচিৎ তিনি আর এখন জীবিত নেই। মৃত্যু বরণ করেছেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ্ তা'আলার ইবাদাত করতো তার কোন অসুবিধে নেই। তিনি নিশ্চয়ই জীবিত। তিনি কখনো মৃত্যু বরণ করবেন না। অতঃপর আবু বকর যুমার ও আ'লু 'ইম্মানের উপরোক্ত আয়াতদ্বয় তিলাওয়াত করেন। হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'আব্বাস্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেনঃ আল্লাহ্ তা'আলার কসম! পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে নেমে গিয়েছিলো যে, কেউ বুঝতে পারেনি আল্লাহ্ তা'আলা উক্ত আয়াত ইতিপূর্বে নাযিল করেছেন। অতএব আবু বকর তা তিলাওয়াত করার পরপরই সবাই তা গ্রহণ করে নেয় এবং তিলাওয়াত করতে শুরু করে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00