📘 বড় শিরক কি ও কত প্রকার > 📄 আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়াও কেউ কাউকে সন্তান-সন্ততি দিতে পারে এমন মনে করার শির্ক

📄 আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়াও কেউ কাউকে সন্তান-সন্ততি দিতে পারে এমন মনে করার শির্ক


৩১. একমাত্র আল্লাহ্‌ তা'আলা ছাড়া অন্য কেউ কাউকে সন্তান-সন্ততি দিতে পারে এমন মনে করার শিরকঃ একমাত্র আল্লাহ্‌ তা'আলাই যাকে চান তাকে সন্তান-সন্ততি দিয়ে থাকেন। তিনি ভিন্ন অন্য কেউ কাউকে ইচ্ছে করলেই সন্তান-সন্ততি দিতে পারেন না। আল্লাহ্‌ তা'আলা বলেনঃ لِلَّهِ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۚ يَخْلُقُ مَا يَشَاءُ ۚ يَهَبُ لِمَنْ يَشَاءُ إِنَاثًا وَيَهَبُ لِمَنْ يَشَاءُ الذُّكُورَ (49) أَوْ يُزَوِّجُهُمْ ذُكْرَانًا وَإِنَاثًا ۖ وَيَجْعَلُ مَنْ يَشَاءُ عَقِيمًا ۚ إِنَّهُ عَلِيمٌ قَدِيرٌ অর্থাৎ আকাশ ও পৃথিবীর সর্বভৌমত্ব একমাত্র আল্লাহ্‌ তা'আলারই। তিনি যা চান তাই সৃষ্টি করেন। তিনি যাকে ইচ্ছে কন্যা সন্তান দান করেন এবং যাকে ইচ্ছে পুত্র সন্তান। আর যাকে ইচ্ছে পুত্র ও কন্যা উভয়টাই দান করেন এবং যাকে ইচ্ছে বন্ধ্যা করে রাখেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বজ্ঞ ও সর্বশক্তিমান। হযরত ইমাম ইবনু শিহাব যুহরী (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ وَلَمَّا تُوُفِّيَتْ رُقَيَّةُ زَوْجَةُ عُثْمَانَ زَوَّجَهُ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ أُمَّ كُلْثُومٍ ، فَتُوُفِّيَتْ عِنْدَهُ ، وَ لَمْ تَلِدْ شَيْئًا ، وَ قَالَ لَهُ النَّبِيُّ ﷺ : لَوْ كَانَ لِي عَشْرٌ لَزَوَّجْتُكَهُنَّ অর্থাৎ হযরত ‘উসমান রা. এর স্ত্রী এবং রাসূল ﷺ এর মেয়ে হযরত রুক্বাইয়াহ্ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) যখন ইন্তিকাল করেন তখন রাসূল ﷺ তাঁর আর এক মেয়ে হযরত উম্মে কুলসুম (রাযিয়াল্লাহু আনহা) কে হযরত ‘উসমান রা. এর নিকট বিবাহ দেন। অতঃপর হযরত উম্মে কুলসুম (রাযিয়াল্লাহু আনহা) ও ইন্তিকাল করেন। তবে তাঁর কোন সন্তান হয়নি। এরপর নবী হযরত 'উসমান কে উদ্দেশ্য করে বলেনঃ যদি আমার দশটি মেয়েও থাকতো এবং পর পর সবাই ইন্তিকাল করতো তাহলেও আমি একটির পর আর একটি মেয়ে তোমার নিকট বিবাহ দিতাম।
হযরত উম্মে কুলসুম (রাযিয়াল্লাহু আনহা) এর কোন সন্তান হয়নি এমতাবস্থায় তিনি ইন্তিকাল করেন। যদি আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়া কেউ কাউকে সন্তান দিতে পারতো তা হলে নবী অবশ্যই তাঁর মেয়েকে সন্তান দিতেন। কারণ, তিনি হযরত 'উসমান কে খুব বেশি ভালোবাসতেন। তাঁর ভালোবাসার চিহ্ন এটাও যে তিনি তার আনন্দ দেখবেন। আর এ কথা সবারই জানা যে, যে কোন ব্যক্তি (সে পাগলই হোক না কেন) তার ঘরে নব সন্তান আসলে সে অত্যধিক খুশি হয়। উপরন্তু নবীর মেয়ের ঘরের সন্তান।
অপর দিকে নবী হযরত 'উসমান কে বেশি ভালোবাসার দরুন তাকে উদ্দেশ্য করে আপসোস করে এ কথা বললেন যে, যদি আমার দশটি মেয়েও থাকতো এবং পর পর সবাই ইন্তিকাল করতো তা হলেও আমি একটির পর আর একটি মেয়ে তোমার নিকট বিবাহ দিতাম। এ কথা এটাই প্রমাণ করে যে, সন্তান দেয়া আল্লাহ্ তা'আলার হাতে। তাঁর হাতে এর কিছুই নেই। নতুবা তিনি আরো কয়েকটি মেয়ে সন্তান জন্ম দিয়ে পর পর হযরত 'উসমান এর নিকট বিবাহ দিতেন।

📘 বড় শিরক কি ও কত প্রকার > 📄 আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়াও কেউ কাউকে সুস্থতা দিতে পারে এমন মনে করার শির্ক

📄 আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়াও কেউ কাউকে সুস্থতা দিতে পারে এমন মনে করার শির্ক


৩২. একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়াও কেউ কাউকে সুস্থতা দিতে পারে এমন মনে করার শিক: একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলাই কাউকে সুস্থতা দিতে পারেন। অন্য কেউ নয়। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ الَّذِي خَلَقَنِي فَهُوَ يَهْدِيْنِ ، وَ الَّذِي هُوَ يُطْعِمُنِي ، وَ يَسْقِيْنِ ، وَ إِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِيْنِ ، وَ الَّذِي يُمِيْتُنِي ، ثُمَّ يُحْيِيْنِ ، وَ الَّذِي أَطْمَعُ أَنْ يَغْفِرَ لِي خَطِيئَتِي يَوْمَ الدِّينِ অর্থাৎ তিনিই (আল্লাহ্ তা'আলা) আমাকে সৃষ্টি করেছেন। অতএব তিনিই আমাকে সঠিক পথ দেখাবেন। তিনিই আমাকে খাওয়ান ও পান করান এবং আমি যখন অসুস্থ হয়ে পড়ি তখন তিনিই আমাকে সুস্থতা দান করেন। তিনিই আমাকে মৃত্যু দিবেন এবং পুনরুজ্জীবিত করবেন। আশা করি তিনিই কিয়ামতের দিন আমার অপরাধ সমূহ ক্ষমা করবেন।
হযরত 'আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ নবী তাঁর স্ত্রীদের কেউ অসুস্থ হলে ব্যথার জায়গায় ডান হাত রেখে নিম্নোক্ত দো'আ পড়তেন। أَذْهِبِ الْبَأْسَ رَبَّ النَّاسِ ، وَ اشْفِ أَنْتَ الشَّافِيِّ ، لَا شِفَاءَ إِلَّا شِفَاؤُكَ ، شَفَاءً لا يُغَادِرُ سَقَماً অর্থাৎ হে মানব প্রভু! রোগটি দূর করুন এবং পূর্ণ সুস্থতা দান করুন। যার পর আর কোন রোগ থাকবেনা। কারণ, আপনিই সুস্থতা দানকারী এবং সুস্থতা একমাত্র আপনিই দিয়ে থাকেন।

📘 বড় শিরক কি ও কত প্রকার > 📄 একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলার তাওফীক ছাড়াও কেউ ইচ্ছে করলেই কোন ভালো কাজ করতে ও কোন খারাপ কাজ থেকে বেঁচে থাকতে পারে এমন মনে করার শির্ক

📄 একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলার তাওফীক ছাড়াও কেউ ইচ্ছে করলেই কোন ভালো কাজ করতে ও কোন খারাপ কাজ থেকে বেঁচে থাকতে পারে এমন মনে করার শির্ক


৩৩. একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলার তাওফীক ছাড়াও কেউ ইচ্ছে করলেই কোন ভালো কাজ করতে বা কোন খারাপ কাজ থেকে বেঁচে থাকতে পারে এমন মনে করার শিকঃ একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলাই ইচ্ছে করলে কাউকে কোন ভালো কাজ করার অথবা কোন খারাপ কাজ থেকে বেঁচে থাকার তাওফীক দিয়ে থাকেন। তিনি ভিন্ন অন্য কেউ ইচ্ছে করলেই তা করতে পারে না। আল্লাহ্ তা'আলা হযরত শু'আইব সম্পর্কে বলেনঃ إِنْ أُرِيدُ إِلَّا الإِصْلَاحَ مَا اسْتَطَعْتُ ، وَ مَا تَوْفِيقِي إِلَّا بِاللَّهِ ، عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْهِ أُنِيْبُ অর্থাৎ আমি শুধু তোমাদেরকে সংশোধন করতে চাই যত টুকু আমার সাধ্য। আমি যা করেছি অথবা সামনে যা করবো তা একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলা আমাকে তাওফীক বা সুযোগ দিয়েছেন বলেই হয়েছে বা হবে। তাঁর উপরই আমার সার্বিক নির্ভরতা এবং তাঁর নিকটই আমাকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। হযরত মু'আয থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল আমার হাত ধরে বললেনঃ يَا مُعَادُ! وَ اللَّهِ إِنِّي لأُحبُّكَ ، وَ اللهُ إِنِّي لَأُحِبُّكَ ، فَقَالَ: أُوْصِيْكَ يَا مُعَاذُ لَا تَدَعَنَّ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلَاةِ ، تَقُوْلُ : اللَّهُمَّ أَعِنِّي عَلَى ذِكْرِكَ وَ شُكْرِكَ وَ حُسْنِ عبادتك অর্থাৎ হে মু'আয! আল্লাহ্'র কসম! আমি তোমাকে নিশ্চয়ই ভালোবাসি। আল্লাহ্'র কসম! আমি তোমাকে নিশ্চয়ই ভালোবাসি। হে মু'আয! আমি তোমাকে ওয়াসীয়ত করছি যে, তুমি প্রতি বেলা নামায শেষে নিম্নোক্ত দো'আ করতে ভুলবে না। যার অর্থঃ হে আল্লাহ্! আপনি আমাকে আপনার যিকির, শুকর ও উত্তম ইবাদাত করার তাওফীক দান করুন।

📘 বড় শিরক কি ও কত প্রকার > 📄 আল্লাহ্ তা'আলার ইচ্ছা ছাড়াও কেউ নিজ ইচ্ছায় কারোর কোন লাভ বা ক্ষতি করতে পারে এমন মনে করার শির্ক

📄 আল্লাহ্ তা'আলার ইচ্ছা ছাড়াও কেউ নিজ ইচ্ছায় কারোর কোন লাভ বা ক্ষতি করতে পারে এমন মনে করার শির্ক


৩৪. একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলার ইচ্ছা ছাড়াও কেউ নিজ ইচ্ছায় কারোর কোন লাভ বা ক্ষতি করতে পারে এমন মনে করার শিকঃ
একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলা ইচ্ছা করলেই কেউ কারোর কোন লাভ বা ক্ষতি করতে পারে। নতুবা নয়। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ قُلْ فَمَنْ يَمْلِكُ لَكُمْ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا ، إِنْ أَرَادَ بِكُمْ ضَرًّا أَوْ أَرَادَ بِكُمْ نَفْعًا ، بَلْ كَانَ اللَّهُ بِمَا تَعْمَلُوْنَ خَبِيْراً অর্থাৎ আপনি ওদেরকে বলে দিনঃ আল্লাহ্ তা'আলা যদি তোমাদের কারোর কোন ক্ষতি অথবা লাভ করতে চান তাহলে কেউ কি তাঁকে উক্ত ইচ্ছা থেকে বিরত রাখতে পারবে? বস্তুতঃ আল্লাহ্ তা'আলা তোমাদের কর্ম সম্পর্কে সম্যক অবগত।
হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'আব্বাস্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ একদা রাসূল আমাকে কিছু মূল্যবান বাণী শুনিয়েছেন যার কিয়দাংশ নিম্নরূপঃ إِذَا سَأَلْتَ فَاسْأَلِ اللَّهُ ، وَ إِذَا اسْتَعَنْتَ فَاسْتَعِنْ بِاللَّهِ ، وَ اعْلَمْ أَنَّ الْأُمَّةَ لَوِ اجْتَمَعَتْ عَلَى أَنْ يَنْفَعُوْكَ بِشَيْءٍ لَمْ يَنْفَعُوْكَ إِلَّا بِشَيْءٍ قَدْ كَتَبَهُ اللَّهُ لَكَ ، وَ لَوِ اجْتَمَعُوا عَلَى أَنْ يَضُرُّوكَ بِشَيْءٍ لَمْ يَضُرُّوكَ إِلَّا بِشَيْءٍ قَدْ كَتَبَهُ اللَّهُ عَلَيْكَ ، رفعَتِ الْأَقْلَامُ وَ جَفْتِ الصُّحُفُ অর্থাৎ কিছু চাইলে তা একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলার নিকটই চাবে। কোন সহযোগিতার প্রয়োজন হলে তা একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলার নিকটই কামনা করবে। জেনে রেখো, পুরো বিশ্ববাসী একত্রিত হয়েও যদি তোমার কোন কল্যাণ করতে চায় তাহলে তারা ততটুকুই কল্যাণ করতে পারবে যা তোমার জন্য বরাদ্দ রয়েছে। আর তারা সকল একত্রিত হয়েও যদি তোমার কোন ক্ষতি করতে চায় তাহলে তারা ততটুকুই ক্ষতি করতে পারবে যা তোমার জন্য বরাদ্দ রয়েছে। তাক্বদীর লেখার কলম উঠিয়ে নেয়া হয়েছে এবং তাক্বদীর লেখা বালাম শুকিয়ে গেছে। অর্থাৎ লেখা শেষ। আর নতুন করে লেখা হবে না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00