📘 বড় শিরক কি ও কত প্রকার > 📄 আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়াও অন্য কেউ কারোর অন্তরে কোন ধরনের পরিবর্তন ঘটাতে পারে এমন মনে করার শির্ক

📄 আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়াও অন্য কেউ কারোর অন্তরে কোন ধরনের পরিবর্তন ঘটাতে পারে এমন মনে করার শির্ক


২৯. একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়াও অন্য কেউ কারোর অন্তরে কোন ধরনের পরিবর্তন ঘটাতে পারে এমন মনে করার শিকঃ
একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলাই যে কারোর অন্তরে যে কোন ধরনের পরিবর্তন ঘটাতে পারে। অন্য কেউ নয়।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اسْتَجِيبُوا لِلَّهِ وَ لِلرَّسُوْلِ إِذَا دَعَاكُمْ لِمَا يُحْيِيكُمْ ، وَاعْلَمُوْا أَنَّ اللَّهَ يَحُولُ بَيْنَ الْمَرْءِ وَ قَلْبِهِ وَ أَنَّهُ إِلَيْهِ تُحْشَرُوْنَ অর্থাৎ হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ্ তা'আলা ও তদীয় রাসূল এর হুকুম পালন করো যখন তিনি তোমাদেরকে কোন বিধানের প্রতি আহ্বান করেন যা তোমাদের মধ্যে সত্যিকারের নব জীবন সঞ্চার করবে। জেনে রাখো, নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা'আলা মানুষ ও তার অন্তরের মাঝে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে থাকেন (অর্থাৎ তাঁর হাতেই মানুষের অন্তর। তাঁর যাই ইচ্ছা তাই করেন) এবং পরিশেষে তাঁর কাছেই সবাইকে সমবেত হতে হবে।
হযরত শাহ্র বিন্ 'হাউশাব থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ قُلْتُ لأُمِّ سَلَمَةَ: يَا أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ! مَا كَانَ أَكْثَرُ دُعَاءِ رَسُوْلِ اللَّهِ إِذَا كَانَ عِنْدَكَ؟ قَالَتْ: كَانَ أَكْثَرُ دُعَائِهِ: يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوْبِ ثَبِّتْ قَلْبِي عَلَى دينك ، قَالَتْ: فَقُلْتُ: يَا رَسُوْلَ الله مَا أَكْثَرَ دُعَاءَكَ : يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوْبِ ثَبِّتْ قَلْبِي عَلَى دِينِكَ ؟! قَالَ: يَا أُمَّ سَلَمَةَ إِنَّهُ لَيْسَ آدَمِيٌّ ؛ إِلَّا وَ قَلْبُهُ بَيْنَ أَصْبُعَيْنِ مِنْ أَصَابِعِ اللَّهِ؛ فَمَنْ شَاءَ أَقَامَ ، وَ مَنْ شَاءَ أَزَاغَ ، فَتَلَا مُعَادٌ: ﴿ رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا ) অর্থাৎ আমি হযরত উম্মে সালামাহ্ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) কে বললামঃ হে উম্মুল মু'মিনীন! আপনার নিকট থাকাবস্থায় রাসূল অধিকাংশ সময় কি দো'আ করতেন? তিনি বললেনঃ অধিকাংশ সময় রাসূল বলতেনঃ হে অন্তর নিয়ন্ত্রণ ও পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে আপনি ইসলামের উপর অটল অবিচল রাখুন। হযরত উম্মে সালামাহ্ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বললেনঃ আমি বললামঃ হে আল্লাহ্'র রাসূল! আপনাকে দেখছি আপনি অধিকাংশ সময় উপরোক্ত দো'আ করেন। মূলতঃ এর রহস্য কি? রাসূল বললেনঃ হে উম্মে সালামাহ্! প্রতিটি মানুষের অন্তর আল্লাহ্ তা'আলার দু'টি আঙ্গুলের মধ্যে অবস্থিত। ইচ্ছে করলে তিনি কারোর অন্তর সঠিক পথে পরিচালিত করেন। আর ইচ্ছে করলে তিনি কারোর অন্তর বক্র পথে পরিচালিত করেন। বর্ণনাকারী মু'আয বলেনঃ এ জন্যই আল্লাহ্ তা'আলা আমাদেরকে সর্বদা তাঁর নিকট নিম্নোক্ত দো'আ করতে আদেশ করেন যার অর্থঃ হে আমার প্রভু! আপনি আমাদেরকে হিদায়াত দিয়েছেন। অতএব আমাদের অন্তরকে আর বক্র পথে পরিচালিত করবেন না।

📘 বড় শিরক কি ও কত প্রকার > 📄 আল্লাহ্ তা'আলার ইচ্ছা ছাড়াও অন্য কারোর ইচ্ছা স্বকীয়ভাবে প্রতিফলিত হতে পারে এমন মনে করার শির্ক

📄 আল্লাহ্ তা'আলার ইচ্ছা ছাড়াও অন্য কারোর ইচ্ছা স্বকীয়ভাবে প্রতিফলিত হতে পারে এমন মনে করার শির্ক


৩০. একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলার ইচ্ছা ছাড়াও অন্য কারোর ইচ্ছা স্বকীয়ভাবে প্রতিফলিত হতে পারে এমন মনে করার শিকঃ
একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলার ইচ্ছাই স্বকীয়ভাবে প্রতিফলিত হতে পারে। অন্য কারোর ইচ্ছা নয়। সে যে পর্যায়েরই হোক না কেন। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ إِنَّمَا أَمْرُهُ إِذَا أَرَادَ شَيْئًا أَنْ يَقُولَ لَهُ كُنْ فَيَكُوْنُ অর্থাৎ নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা'আলা যখন কোন কিছু করতে ইচ্ছে করেন তখন তিনি শুধু এতটুকুই বলেনঃ হয়ে যাও, তখন তা হয়ে যায়। হযরত 'আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'আব্বাস্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ قَالَ رَجُلٌ لِلنَّبِيِّ : مَا شَاءَ اللهُ وَ شِئْتَ ، فَقَالَ: أَجَعَلْتَنِي لِلَّهِ نِدًّا؟ بَلْ مَا شَاءَ اللهُ وَحْدهُ অর্থাৎ জনৈক ব্যক্তি নবী কে উদ্দেশ্য করে বললেনঃ আল্লাহ্ তা'আলা এবং আপনি চেয়েছেন বলে কাজটি হয়েছে। নতুবা হতো না। তখন নবী বললেনঃ তুমি কি আমাকে আল্লাহ্ তা'আলার শরীক বানাচ্ছো? এমন কথা কখনো বলবে না। বরং বলবেঃ একমাত্র আল্লাহ্‌ তা'আলাই চেয়েছেন বলে কাজটি হয়েছে। নতুবা হতো না।

📘 বড় শিরক কি ও কত প্রকার > 📄 আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়াও কেউ কাউকে সন্তান-সন্ততি দিতে পারে এমন মনে করার শির্ক

📄 আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়াও কেউ কাউকে সন্তান-সন্ততি দিতে পারে এমন মনে করার শির্ক


৩১. একমাত্র আল্লাহ্‌ তা'আলা ছাড়া অন্য কেউ কাউকে সন্তান-সন্ততি দিতে পারে এমন মনে করার শিরকঃ একমাত্র আল্লাহ্‌ তা'আলাই যাকে চান তাকে সন্তান-সন্ততি দিয়ে থাকেন। তিনি ভিন্ন অন্য কেউ কাউকে ইচ্ছে করলেই সন্তান-সন্ততি দিতে পারেন না। আল্লাহ্‌ তা'আলা বলেনঃ لِلَّهِ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۚ يَخْلُقُ مَا يَشَاءُ ۚ يَهَبُ لِمَنْ يَشَاءُ إِنَاثًا وَيَهَبُ لِمَنْ يَشَاءُ الذُّكُورَ (49) أَوْ يُزَوِّجُهُمْ ذُكْرَانًا وَإِنَاثًا ۖ وَيَجْعَلُ مَنْ يَشَاءُ عَقِيمًا ۚ إِنَّهُ عَلِيمٌ قَدِيرٌ অর্থাৎ আকাশ ও পৃথিবীর সর্বভৌমত্ব একমাত্র আল্লাহ্‌ তা'আলারই। তিনি যা চান তাই সৃষ্টি করেন। তিনি যাকে ইচ্ছে কন্যা সন্তান দান করেন এবং যাকে ইচ্ছে পুত্র সন্তান। আর যাকে ইচ্ছে পুত্র ও কন্যা উভয়টাই দান করেন এবং যাকে ইচ্ছে বন্ধ্যা করে রাখেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বজ্ঞ ও সর্বশক্তিমান। হযরত ইমাম ইবনু শিহাব যুহরী (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ وَلَمَّا تُوُفِّيَتْ رُقَيَّةُ زَوْجَةُ عُثْمَانَ زَوَّجَهُ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ أُمَّ كُلْثُومٍ ، فَتُوُفِّيَتْ عِنْدَهُ ، وَ لَمْ تَلِدْ شَيْئًا ، وَ قَالَ لَهُ النَّبِيُّ ﷺ : لَوْ كَانَ لِي عَشْرٌ لَزَوَّجْتُكَهُنَّ অর্থাৎ হযরত ‘উসমান রা. এর স্ত্রী এবং রাসূল ﷺ এর মেয়ে হযরত রুক্বাইয়াহ্ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) যখন ইন্তিকাল করেন তখন রাসূল ﷺ তাঁর আর এক মেয়ে হযরত উম্মে কুলসুম (রাযিয়াল্লাহু আনহা) কে হযরত ‘উসমান রা. এর নিকট বিবাহ দেন। অতঃপর হযরত উম্মে কুলসুম (রাযিয়াল্লাহু আনহা) ও ইন্তিকাল করেন। তবে তাঁর কোন সন্তান হয়নি। এরপর নবী হযরত 'উসমান কে উদ্দেশ্য করে বলেনঃ যদি আমার দশটি মেয়েও থাকতো এবং পর পর সবাই ইন্তিকাল করতো তাহলেও আমি একটির পর আর একটি মেয়ে তোমার নিকট বিবাহ দিতাম।
হযরত উম্মে কুলসুম (রাযিয়াল্লাহু আনহা) এর কোন সন্তান হয়নি এমতাবস্থায় তিনি ইন্তিকাল করেন। যদি আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়া কেউ কাউকে সন্তান দিতে পারতো তা হলে নবী অবশ্যই তাঁর মেয়েকে সন্তান দিতেন। কারণ, তিনি হযরত 'উসমান কে খুব বেশি ভালোবাসতেন। তাঁর ভালোবাসার চিহ্ন এটাও যে তিনি তার আনন্দ দেখবেন। আর এ কথা সবারই জানা যে, যে কোন ব্যক্তি (সে পাগলই হোক না কেন) তার ঘরে নব সন্তান আসলে সে অত্যধিক খুশি হয়। উপরন্তু নবীর মেয়ের ঘরের সন্তান।
অপর দিকে নবী হযরত 'উসমান কে বেশি ভালোবাসার দরুন তাকে উদ্দেশ্য করে আপসোস করে এ কথা বললেন যে, যদি আমার দশটি মেয়েও থাকতো এবং পর পর সবাই ইন্তিকাল করতো তা হলেও আমি একটির পর আর একটি মেয়ে তোমার নিকট বিবাহ দিতাম। এ কথা এটাই প্রমাণ করে যে, সন্তান দেয়া আল্লাহ্ তা'আলার হাতে। তাঁর হাতে এর কিছুই নেই। নতুবা তিনি আরো কয়েকটি মেয়ে সন্তান জন্ম দিয়ে পর পর হযরত 'উসমান এর নিকট বিবাহ দিতেন।

📘 বড় শিরক কি ও কত প্রকার > 📄 আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়াও কেউ কাউকে সুস্থতা দিতে পারে এমন মনে করার শির্ক

📄 আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়াও কেউ কাউকে সুস্থতা দিতে পারে এমন মনে করার শির্ক


৩২. একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়াও কেউ কাউকে সুস্থতা দিতে পারে এমন মনে করার শিক: একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলাই কাউকে সুস্থতা দিতে পারেন। অন্য কেউ নয়। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ الَّذِي خَلَقَنِي فَهُوَ يَهْدِيْنِ ، وَ الَّذِي هُوَ يُطْعِمُنِي ، وَ يَسْقِيْنِ ، وَ إِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِيْنِ ، وَ الَّذِي يُمِيْتُنِي ، ثُمَّ يُحْيِيْنِ ، وَ الَّذِي أَطْمَعُ أَنْ يَغْفِرَ لِي خَطِيئَتِي يَوْمَ الدِّينِ অর্থাৎ তিনিই (আল্লাহ্ তা'আলা) আমাকে সৃষ্টি করেছেন। অতএব তিনিই আমাকে সঠিক পথ দেখাবেন। তিনিই আমাকে খাওয়ান ও পান করান এবং আমি যখন অসুস্থ হয়ে পড়ি তখন তিনিই আমাকে সুস্থতা দান করেন। তিনিই আমাকে মৃত্যু দিবেন এবং পুনরুজ্জীবিত করবেন। আশা করি তিনিই কিয়ামতের দিন আমার অপরাধ সমূহ ক্ষমা করবেন।
হযরত 'আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ নবী তাঁর স্ত্রীদের কেউ অসুস্থ হলে ব্যথার জায়গায় ডান হাত রেখে নিম্নোক্ত দো'আ পড়তেন। أَذْهِبِ الْبَأْسَ رَبَّ النَّاسِ ، وَ اشْفِ أَنْتَ الشَّافِيِّ ، لَا شِفَاءَ إِلَّا شِفَاؤُكَ ، شَفَاءً لا يُغَادِرُ سَقَماً অর্থাৎ হে মানব প্রভু! রোগটি দূর করুন এবং পূর্ণ সুস্থতা দান করুন। যার পর আর কোন রোগ থাকবেনা। কারণ, আপনিই সুস্থতা দানকারী এবং সুস্থতা একমাত্র আপনিই দিয়ে থাকেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00