📄 একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়াও অন্য কোন নবী বা ওলী মানব অন্তরের কোন লুক্কায়িত কথা জানতে পারে এমন মনে করার শির্ক
২৭. একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়াও অন্য কোন নবী বা ওলী মানব অন্তরের কোন লুক্কায়িত কথা জানতে পারে এমন মনে করার শিরকঃ
একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলাই মানব অন্তরের লুক্কায়িত কথা জানতে পারেন। তিনি ছাড়া অন্য কেউ তা জানতে কখনোই সক্ষম নয়। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ وَأَسِرُّوا قَوْلَكُمْ أَوِ اجْهَرُوا بِهِ إِنَّهُ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ أَلَا يَعْلَمُ مَنْ خَلَقَ وَهُوَ اللَّطِيفُ الْخَبِيرُ অর্থাৎ তোমরা তোমাদের কথা যতই গোপনে বলো অথবা প্রকাশ্যে আল্লাহ্ তা'আলা তা সবই শুনেন। এমনকি তিনি অন্তরে লুক্কায়িত বস্তুও জানেন। যিনি সকল বস্তু সৃষ্টি করেছেন তিনি কি সকল কিছু জানবেন না? না কি অন্য কেউ জানবেন। তিনিই সূক্ষ্মদর্শী এবং সকল বিষয়ে অবগত।
হযরত আনাস্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ إِنَّ رِعْلاً وَ ذَكْوَانَ وَ عُصَيَّةَ وَ بَنِي لَحْيَانَ اسْتَمَدُّوا رَسُولَ اللَّهِ عَلَى عَدُوٌّ ، فَأَمَدَّهُمْ بِسَبْعِينَ مِنَ الأَنْصَارِ ، كُنَّا نُسَمِّيهِمْ الْقُرَّاءَ فِي زَمَانِهِمْ ، كَانُوْا يَحْتَطِبُوْنَ بِالنَّهَارِ وَ يُصَلُّوْنَ بِاللَّيْلِ ، حَتَّى كَانُوا بِبَتْرِ مَعُوْنَةَ قَتَلُوْهُمْ وَ غَدَرُوا بِهِمْ ، فَبَلَغَ النَّبِيَّ فَقَنَتَ شَهْراً ، يَدْعُوْ فِي الصُّبْحِ عَلَى أَحْيَاءِ مِنْ أَحْيَاءِ الْعَرَبِ ، عَلَى رِعْلٍ وَ ذَكْوَانَ وَ عُصَيَّةَ وَ بَنِي لَحْيَانَ অর্থাৎ রি'ল, যাকওয়ান, 'উসাইয়াহ্ ও বানী লাহ্'ইয়ান নামক চারটি সম্প্রদায় রাসূল এর নিকট শত্রুর বিপক্ষে সাহায্য চাইলে রাসূল তাদেরকে সত্তর জন আন্সারী দিয়ে সহযোগিতা করলেন। আমরা তাদেরকে সে যুগের ক্বারী সাহেবান বলে ডাকতাম। তারা দিনে লাকড়ি কাটতো আর রাত্রিতে বেশি বেশি নফল নামায পড়তো। যখন তারা মা'উনা কূপের নিকট পৌঁছালো তখন তারা উক্ত সাহাবাদেরকে হত্যা করে দিলো। নবী এর নিকট সংবাদটি পৌঁছালে তিনি এক মাস যাবৎ ফজরের নামাযে কুনূত পড়ে তাদেরকে বদ্ দো'আ করেন।
যদি রাসূল তাদের মনের লুক্কায়িত কথা জানতেন তাহলে প্রথম থেকেই তিনি তাদেরকে সাহাবা দিয়ে সহযোগিতা করতেন না। কারণ, তখন তিনি তাদের মনের শয়তানির কথা অবশ্যই জানতেন।
📄 একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়াও কেউ কাউকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দিতে পারে এমন মনে করার শির্ক
২৮. একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়াও কেউ কাউকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দিতে পারে এমন মনে করার শিকঃ
কাউকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দেয়ার মালিক একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলা। অন্য কেউ নয়। তিনি ইচ্ছে করলেই কেউ কোন না কোন রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি হতে পারে। নতুবা নয়।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ قُلِ اللَّهُمَّ مَالَكَ الْمُلْكِ تُؤْتِي الْمُلْكَ مَنْ تَشَاءُ وَ تَنْزِعُ الْمُلْكَ مِمَّنْ تَشَاءُ ، وَ تُعِزُّ مَنْ تَشَاءُ وَتُذِلُّ مَنْ تَشَاءُ ، بِيَدِكَ الْخَيْرُ ، إِنَّكَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ অর্থাৎ হে নবী! আপনি বলুনঃ হে আল্লাহ্! আপনি হচ্ছেন রাজাধিরাজ। আপনি যাকে ইচ্ছা রাজত্ব দেন এবং যার নিকট থেকে ইচ্ছা রাজত্ব ছিনিয়ে নেন। আপনি যাকে ইচ্ছা সম্মান দেন এবং যাকে ইচ্ছা লাঞ্ছিত করেন। আপনারই হাতে সকল কল্যাণ। নিশ্চয়ই আপনি সকল বিষয়ে ক্ষমতাবান।
📄 আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়াও অন্য কেউ কারোর অন্তরে কোন ধরনের পরিবর্তন ঘটাতে পারে এমন মনে করার শির্ক
২৯. একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়াও অন্য কেউ কারোর অন্তরে কোন ধরনের পরিবর্তন ঘটাতে পারে এমন মনে করার শিকঃ
একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলাই যে কারোর অন্তরে যে কোন ধরনের পরিবর্তন ঘটাতে পারে। অন্য কেউ নয়।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اسْتَجِيبُوا لِلَّهِ وَ لِلرَّسُوْلِ إِذَا دَعَاكُمْ لِمَا يُحْيِيكُمْ ، وَاعْلَمُوْا أَنَّ اللَّهَ يَحُولُ بَيْنَ الْمَرْءِ وَ قَلْبِهِ وَ أَنَّهُ إِلَيْهِ تُحْشَرُوْنَ অর্থাৎ হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ্ তা'আলা ও তদীয় রাসূল এর হুকুম পালন করো যখন তিনি তোমাদেরকে কোন বিধানের প্রতি আহ্বান করেন যা তোমাদের মধ্যে সত্যিকারের নব জীবন সঞ্চার করবে। জেনে রাখো, নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা'আলা মানুষ ও তার অন্তরের মাঝে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে থাকেন (অর্থাৎ তাঁর হাতেই মানুষের অন্তর। তাঁর যাই ইচ্ছা তাই করেন) এবং পরিশেষে তাঁর কাছেই সবাইকে সমবেত হতে হবে।
হযরত শাহ্র বিন্ 'হাউশাব থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ قُلْتُ لأُمِّ سَلَمَةَ: يَا أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ! مَا كَانَ أَكْثَرُ دُعَاءِ رَسُوْلِ اللَّهِ إِذَا كَانَ عِنْدَكَ؟ قَالَتْ: كَانَ أَكْثَرُ دُعَائِهِ: يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوْبِ ثَبِّتْ قَلْبِي عَلَى دينك ، قَالَتْ: فَقُلْتُ: يَا رَسُوْلَ الله مَا أَكْثَرَ دُعَاءَكَ : يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوْبِ ثَبِّتْ قَلْبِي عَلَى دِينِكَ ؟! قَالَ: يَا أُمَّ سَلَمَةَ إِنَّهُ لَيْسَ آدَمِيٌّ ؛ إِلَّا وَ قَلْبُهُ بَيْنَ أَصْبُعَيْنِ مِنْ أَصَابِعِ اللَّهِ؛ فَمَنْ شَاءَ أَقَامَ ، وَ مَنْ شَاءَ أَزَاغَ ، فَتَلَا مُعَادٌ: ﴿ رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا ) অর্থাৎ আমি হযরত উম্মে সালামাহ্ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) কে বললামঃ হে উম্মুল মু'মিনীন! আপনার নিকট থাকাবস্থায় রাসূল অধিকাংশ সময় কি দো'আ করতেন? তিনি বললেনঃ অধিকাংশ সময় রাসূল বলতেনঃ হে অন্তর নিয়ন্ত্রণ ও পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে আপনি ইসলামের উপর অটল অবিচল রাখুন। হযরত উম্মে সালামাহ্ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বললেনঃ আমি বললামঃ হে আল্লাহ্'র রাসূল! আপনাকে দেখছি আপনি অধিকাংশ সময় উপরোক্ত দো'আ করেন। মূলতঃ এর রহস্য কি? রাসূল বললেনঃ হে উম্মে সালামাহ্! প্রতিটি মানুষের অন্তর আল্লাহ্ তা'আলার দু'টি আঙ্গুলের মধ্যে অবস্থিত। ইচ্ছে করলে তিনি কারোর অন্তর সঠিক পথে পরিচালিত করেন। আর ইচ্ছে করলে তিনি কারোর অন্তর বক্র পথে পরিচালিত করেন। বর্ণনাকারী মু'আয বলেনঃ এ জন্যই আল্লাহ্ তা'আলা আমাদেরকে সর্বদা তাঁর নিকট নিম্নোক্ত দো'আ করতে আদেশ করেন যার অর্থঃ হে আমার প্রভু! আপনি আমাদেরকে হিদায়াত দিয়েছেন। অতএব আমাদের অন্তরকে আর বক্র পথে পরিচালিত করবেন না।
📄 আল্লাহ্ তা'আলার ইচ্ছা ছাড়াও অন্য কারোর ইচ্ছা স্বকীয়ভাবে প্রতিফলিত হতে পারে এমন মনে করার শির্ক
৩০. একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলার ইচ্ছা ছাড়াও অন্য কারোর ইচ্ছা স্বকীয়ভাবে প্রতিফলিত হতে পারে এমন মনে করার শিকঃ
একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলার ইচ্ছাই স্বকীয়ভাবে প্রতিফলিত হতে পারে। অন্য কারোর ইচ্ছা নয়। সে যে পর্যায়েরই হোক না কেন। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ إِنَّمَا أَمْرُهُ إِذَا أَرَادَ شَيْئًا أَنْ يَقُولَ لَهُ كُنْ فَيَكُوْنُ অর্থাৎ নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা'আলা যখন কোন কিছু করতে ইচ্ছে করেন তখন তিনি শুধু এতটুকুই বলেনঃ হয়ে যাও, তখন তা হয়ে যায়। হযরত 'আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'আব্বাস্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ قَالَ رَجُلٌ لِلنَّبِيِّ : مَا شَاءَ اللهُ وَ شِئْتَ ، فَقَالَ: أَجَعَلْتَنِي لِلَّهِ نِدًّا؟ بَلْ مَا شَاءَ اللهُ وَحْدهُ অর্থাৎ জনৈক ব্যক্তি নবী কে উদ্দেশ্য করে বললেনঃ আল্লাহ্ তা'আলা এবং আপনি চেয়েছেন বলে কাজটি হয়েছে। নতুবা হতো না। তখন নবী বললেনঃ তুমি কি আমাকে আল্লাহ্ তা'আলার শরীক বানাচ্ছো? এমন কথা কখনো বলবে না। বরং বলবেঃ একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলাই চেয়েছেন বলে কাজটি হয়েছে। নতুবা হতো না।