📘 বড় শিরক কি ও কত প্রকার > 📄 একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়াও অন্য কেউ কাউকে ধনী বা গরিব বানাতে পারে এমন মনে করার শির্ক

📄 একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়াও অন্য কেউ কাউকে ধনী বা গরিব বানাতে পারে এমন মনে করার শির্ক


২৩. একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়াও অন্য কেউ কাউকে ধনী বা গরিব বানাতে পারে এমন মনে করার শিকঃ একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলাই বিশ্বের সকল কিছুর মালিক। অতএব তিনি ইচ্ছা করলেই কেউ ধনী বা গরিব হতে পারে। অন্য কারোর ইচ্ছায় কেউ ধনী বা গরিব হয় না।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ لِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَ مَا فِي الْأَرْضِ অর্থাৎ আকাশে ও জমিনে যা কিছুই রয়েছে তা একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলারই। তিনি আরো বলেনঃ هُوَ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ ، الْمَلِكُ الْقُدُّوسُ .... অর্থাৎ তিনিই আল্লাহ্, যিনি ছাড়া অন্য কোন সত্য মা'বুদ নেই। তিনিই সব কিছুর মালিক এবং তিনিই পবিত্র। আল্লাহ্ তা'আলা যাকে ইচ্ছা ধনী বানান। আর যাকে ইচ্ছা গরিব বানান। এতে তিনি ভিন্ন অন্য কারোর সামান্যটুকুও হাত নেই।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ اللهُ يَبْسُطُ الرِّزْقَ لِمَنْ يَشَاءُ وَيَقْدِرُ অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা যার জন্য ইচ্ছা করেন তার জীবনোপকরণ বর্ধিত করেন এবং তেমনিভাবে সংকুচিতও।
তিনি আরো বলেনঃ إِنَّ رَبَّكَ يَبْسُطُ الرِّزْقَ لِمَنْ يَشَاءُ وَيَقْدِرُ অর্থাৎ নিশ্চয়ই আপনার প্রভু যার জন্য ইচ্ছা করেন তার জীবনোপকরণ বর্ধিত করেন এবং তেমনিভাবে সংকুচিতও। তিনি আরো বলেনঃ قُلْ إِنَّ رَبِّي يَبْسُطُ الرِّزْقَ لِمَنْ يَشَاءُ وَيَقْدِرُ ، وَ لَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُوْنَ অর্থাৎ (হে নবী) আপনি বলে দিনঃ নিশ্চয়ই আমার প্রভু যার জন্য ইচ্ছা করেন তার জীবনোপকরণ বর্ধিত করেন এবং তেমনিভাবে সংকুচিতও। তবুও অধিকাংশ লোক এ সম্পর্কে অবগত নয়। তিনি আরো বলেনঃ وَ لَا تَقْتُلُوْا أَوْلَادَكُمْ خَشْيَةَ إِمْلَاقٍ ، نَحْنُ نَرْزُقُهُمْ وَ إِيَّاكُمْ ، إِنَّ قَتْلَهُمْ كَانَ خِطْاً كَبِيْرًا অর্থাৎ তোমরা নিজ সন্তানদেরকে দরিদ্রতার ভয়ে হত্যা করোনা। একমাত্র আমিই ওদেরকে এবং তোমাদেরকে রিযিক দিয়ে থাকি। নিশ্চয়ই ওদেরকে হত্যা করা মহাপাপ।
হযরত আবু যর থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ নবী ইরশাদ করেনঃ يَا عِبَادِي كُلُّكُمْ جَائِعٌ إِلَّا مَنْ أَطْعَمْتُهُ فَاسْتَطْعِمُونِي أَطْعِمْكُمْ ، يَا عِبَادِي! كُلُّكُمْ عَارٍ إِلَّا مَنْ كَسَوْتُهُ فَاسْتَكْسُوْنِي أَكْسُكُمْ অর্থাৎ (আল্লাহ্ তা'আলা নিজ বান্দাহদেরকে বলেন) হে আমার বান্দারা! তোমরা সবাই ক্ষুধার্ত। শুধু সেই আহারকারী যাকে আমি আহার দেবো। অতএব তোমরা আমার নিকট আহার চাও। আমি তোমাদেরকে আহার দেবো। হে আমার বান্দাহ্রা! তোমরা সবাই বিবস্ত্র। শুধু সেই আবৃত যাকে আমি আবরণ দেবো। অতএব তোমরা আমার নিকট আবরণ চাও। আমি তোমাদেরকে আবরণ দেবো।
যতই দান করা হোক তাতে আল্লাহ্ তা'আলার ধন ভাঙার এতটুকুও খালি হবে না। এর বিপরীতে মানুষ যতই দান করবে ততই তার ধন ভাঙার খালি হতে থাকবে।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ নবী ইরশাদ করেনঃ قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَ جَلَّ : أَنْفِقْ أُنْفِقْ عَلَيْكَ ، وَ قَالَ: يَدُ اللَّهِ مَلَأَى لَا تَغِيْضُهَا نَفَقَةٌ ، سَحَّاءُ اللَّيْلَ وَ النَّهَارَ ، وَ قَالَ: أَرَأَيْتُمْ مَا أَنْفَقَ مُنْذُ خَلَقَ السَّمَاءَ وَ الْأَرْضَ ، فَإِنَّهُ لَمْ يَغِضُ مَا فِي يَدِهِ অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ (হে বান্দাহ্!) তুমি অন্যের উপর ব্যয় করো। আমি তোমার উপর ব্যয় করবো। রাসূল বলেনঃ আল্লাহ্'র হাত সর্বদা ভর্তি। প্রচুর ব্যয়েও তা খালি হয়ে যায়না। তিনি রাত ও দিন সকলকে দিচ্ছেন আর দিচ্ছেন। তাঁর দানে কোন বিরতি নেই। রাসূল আরো বলেনঃ তোমরা কি দেখছোনা যে, আল্লাহ্ তা'আলা আকাশ ও জমিন সৃষ্টির শুরু থেকে আজ পর্যন্ত শুধু দিচ্ছেন আর দিচ্ছেন। কিন্তু তাঁর হাতে যা রয়েছে তা কখনোই শেষ হচ্ছেনা।
আল্লাহ্'র রাসূল বা অন্য কোন পীর-বুযুর্গ কাউকে ধনী বা গরীব করতে পারেন না।
আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর রাসূলকে উদ্দেশ্য করে বলেনঃ قُلْ لَا أَقُوْلُ لَكُمْ عِنْدِي خَزَائِنُ اللَّهِ ، وَ لَا أَعْلَمُ الْغَيْبَ অর্থাৎ (হে নবী!) আপনি ওদেরকে বলে দিনঃ আমি তোমাদেরকে এ কথা বলছিনা যে, আমার নিকট আল্লাহ্'র ধন ভাণ্ডার রয়েছে। যাকে ইচ্ছা তাকে আমি ধনী বানিয়ে দেবো। আর এমনো বলছিনা যে, আমি গায়েব জানি তথা অদৃশ্য জগতের কোন খবর রাখি।

📘 বড় শিরক কি ও কত প্রকার > 📄 কিয়ামতের দিন কোন নবী-ওলী অথবা কোন পীর-বুযুর্গ কাউকে আল্লাহ্ তা'আলার কঠিন আযাব থেকে রক্ষা করতে পারবে এমন মনে করার শির্ক

📄 কিয়ামতের দিন কোন নবী-ওলী অথবা কোন পীর-বুযুর্গ কাউকে আল্লাহ্ তা'আলার কঠিন আযাব থেকে রক্ষা করতে পারবে এমন মনে করার শির্ক


২৪. কিয়ামতের দিন কোন নবী-ওলী অথবা কোন পীর-বুযুর্গ কাউকে আল্লাহ্ তা'আলার কঠিন আযাব থেকে রক্ষা করতে পারবে এমন মনে করার শিক্কঃ
কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তা'আলা যাকে চান শাস্তি দিবেন। কোন নবী বা ওলী তাকে আল্লাহ্ তা'আলার হাত থেকে কোনভাবেই রক্ষা করতে পারবে না।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ ضَرَبَ اللَّهُ مَثَلاً لِلَّذِينَ كَفَرُوا امْرَأَةَ نُوحٍ وَ امْرَأَةَ لُوْطٍ ، كَانَتَا تَحْتَ عَبْدَيْنِ مِنْ عِبَادِنَا صَالِحَيْنِ ، فَخَانَتَاهُمَا فَلَمْ يُغْنِيَا عَنْهُمَا مِنَ اللَّهِ شَيْئًا ، وَقِيلَ ادْخُلَا النَّارَ مَعَ الدَّاخِلِينَ অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা কাফিরদের জন্য নূহ্ ও লুত্ এর স্ত্রীদ্বয়ের দৃষ্টান্ত পেশ করেন। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ তারা ছিলো আমার বান্দাহ্রদের দু' নেককার বান্দাহ্'র অধীন। কিন্তু তারা তাদের স্বামীদের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করে। ফলে নূহ্ ও লূত্ তাদেরকে আল্লাহ্'র শাস্তি থেকে কোনভাবেই রক্ষা করতে পারলোনা। বরং তাদেরকে বলা হলোঃ জাহান্নামে প্রবেশকারীদের সাথে তোমরাও তাতে প্রবেশ করো।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ حِيْنَ أَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: وَ أَنْذِرْ عَشِيْرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ ) قَالَ: يَا مَعْشَرَ قُرَيْشٍ! اشْتَرُوا أَنْفُسَكُمْ ، لَا أُغْنِي عَنْكُمْ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا ، يَا بَنِي عَبْدِ مَنَافِ! لَا أُغْنِي عَنْكُمْ مِنَ اللهِ شَيْئاً ، يَا عَبَّاسَ بْنَ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ لَا أُغْنِي عَنْكَ مِنَ اللَّهِ شَيْئاً ، وَ يَا صَفِيَّةُ عَمَّةَ رَسُوْلِ اللهِ! لَا أُغْنِي عَنْكَ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا ، وَيَا فَاطِمَةُ بِنْتَ مُحَمَّدٍ سَلِيْنِي مَا شِئْتِ مِنْ مَالِي ، لَا أُغْنِي عَنْكَ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا অর্থাৎ যখন আল্লাহ্ তা'আলা নিম্নোক্ত কোর'আনের আয়াত নাযিল করেন যার অর্থঃ আপনার নিকটাত্মীয়দেরকে (আখিরাতের ব্যাপারে) সতর্ক করে দিন। তখন রাসূল দাঁড়িয়ে বললেনঃ হে কুরাইশ্ বংশ! তোমরা নিজেদেরকে বাঁচাও। আমি তোমাদের জন্য কিছুই করতে পারবোনা। হে আবদে মুনাফের সন্তানরা! আমি তোমাদের জন্য কিছুই করতে পারবোনা। হে 'আব্বাস্ বিন্ 'আব্দুল মুত্তালিব! আমি আপনার জন্য কিছুই করতে পারবোনা। হে সাফিয়্যাহ্! (রাসূল এর ফুফু) আমি আপনার জন্য কিছুই করতে পারবোনা। হে ফাতিমাহ্! (রাসূল এর ছোট মেয়ে) তুমি আমার সম্পদ থেকে যা চাও চাইতে পারো। কিন্তু আমি আখিরাতে তোমার জন্য কিছুই করতে পারবো না।
এমনকি আল্লাহ্ তা'আলার রাসূল হযরত মুহাম্মাদ আল্লাহ্ তা'আলার সর্বপ্রিয় বান্দাহ্ হওয়া সত্ত্বেও তাঁর সঙ্গে আল্লাহ্ তা'আলা পরকালে কি ব্যবহার করবেন তা নিয়ে তিনি সর্বদা শঙ্কিত ছিলেন।
হযরত উম্মুল্ 'আলা' আন্সারী (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ اقْتُسِمَ الْمُهَاجِرُوْنَ قُرْعَةً ، فَطَارَ لَنَا عُثْمَانُ بْنُ مَظْعُوْنِ ، فَأَنْزَلْنَاهُ فِي أَبْيَاتِنَا ، فَوَجِعَ وَجَعَهُ الَّذِي تُوُفِّيَ فِيْهِ ، فَلَمَّا تُوُفِّيَ وَ غُسَلَ وَ كُفْنَ فِي أَثْوَابِهِ ، دَخَلَ رَسُوْلُ اللَّهِ : فَقُلْتُ : رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْكَ أَبَا السَّائِبِ فَشَهَادَتِي عَلَيْكَ لَقَدْ أَكْرَمَكَ اللهُ ، فَقَالَ النَّبِيُّ : وَ مَا يُدْرِيكَ أَنَّ اللَّهَ قَدْ أَكْرَمَهُ؟ فَقُلْتُ: بِأَبِي أَنْتَ يَا رَسُولَ اللَّهِ! فَمَنْ يُكْرِمُهُ اللهُ؟ فَقَالَ : أَمَّا هُوَ فَقَدْ جَاءَهُ الْيَقِينُ ، وَاللَّهِ إِنِّي لأَرْجُوْ لَهُ الْخَيْرَ ، وَ اللَّهِ مَا أَدْرِي وَأَنَا رَسُوْلُ اللَّهِ مَا يُفْعَلُ بِي وَ لَا بِكُمْ ، قَالَتْ: فَوَ اللَّهُ لَا أُزَكِّيْ أَحَداً بَعْدَهُ أَبَداً অর্থাৎ মুহাজিরদেরকে লটারির মাধ্যমে বন্টন করা হয়েছিলো। আর আমাদের বন্টনে এসেছিলো হযরত 'উসমান বিন্ মা'ঊন। অতএব আমরা তাকে আমাদের ঘরে নিয়ে আসলাম। একদা তার এমন ব্যথা শুরু হলো যে, তাতেই তার মৃত্যু হয়ে গেলো। মৃত্যুর পর তাকে গোসল ও কাফন দেয়া হলে রাসূল আমাদের ঘরে আসলেন। তখন আমি মৃতকে উদ্দেশ্য করে বললামঃ হে আবুস্ সা-য়িব! তোমার উপর আল্লাহ্'র রহমত বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা'আলা তোমাকে সম্মানিত করেছেন। তখন রাসূল আমাকে উদ্দেশ্য করে বললেনঃ তোমাকে কে জানালো যে, আল্লাহ্ তা'আলা তাকে নিশ্চিতভাবে সম্মানিত করেছেন। আমি বললামঃ হে আল্লাহ্'র রাসূল! আমার পিতা আপনার উপর কুরবান হোক! আল্লাহ্ তা'আলা একে সম্মানিত না করলে তিনি আর কাকে সম্মানিত করবেন? রাসূল বললেনঃ এর মৃত্যু হয়েছে। সুতরাং আল্লাহ্'র কসম! আমি নিশ্চয়ই তার কল্যাণই কামনা করবো। তুমি জেনে রেখো, আমি আল্লাহ্ তা'আলার কসম খেয়ে বলছিঃ আমি জানিনা অথচ আমি আল্লাহ্ তা'আলার একান্ত রাসূল আমি ও তোমাদের সঙ্গে আল্লাহ্ তা'আলা কিয়ামতের দিন কেমন আচরণ করবেন। বর্ণনাকারী হযরত উম্মুল্ 'আলা' আন্সারী বললেনঃ তখনই আমি পণ করলাম যে, আল্লাহ্'র কসম! এরপর আমি কখনো কারো সম্পর্কে সাফাই গাইবোনা।

📘 বড় শিরক কি ও কত প্রকার > 📄 কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তা'আলার একান্ত ইচ্ছা ছাড়াও অন্য কোন নবী বা ওলী তাঁর হাত থেকে কাউকে ক্ষমা করিয়ে নিতে পারবেন এমন মনে করার শির্ক

📄 কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তা'আলার একান্ত ইচ্ছা ছাড়াও অন্য কোন নবী বা ওলী তাঁর হাত থেকে কাউকে ক্ষমা করিয়ে নিতে পারবেন এমন মনে করার শির্ক


২৫. কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তা'আলার একান্ত ইচ্ছা ছাড়াও অন্য কোন নবী বা ওলী তাঁর হাত থেকে কাউকে ক্ষমা করিয়ে নিতে পারবে এমন মনে করার শিকঃ
কোন ব্যক্তি সে আল্লাহ্ তা'আলার যতই নিকটতম বান্দাহ্ হোক না কেন আল্লাহ্ তা'আলার একান্ত ইচ্ছা ছাড়া কাউকে তাঁর হাত থেকে ক্ষমা করিয়ে নিতে পারে না।
আল্লাহ্ তা'আলা রাসূল কে উদ্দেশ্য করে বলেনঃ اسْتَغْفِرْ لَهُمْ أَوْ لَا تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ ، إِنْ تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ سَبْعِينَ مَرَّةً فَلَنْ يَغْفِرَ اللَّهُ لَهُمْ ، ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ كَفَرُوا بِاللَّهِ وَ رَسُوْلِهِ ، وَ اللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْفَاسِقِيْنَ অর্থাৎ (হে নবী!) আপনি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন বা নাই করুন উভয়ই সমান। আপনি যদি তাদের জন্য সত্তর বারও ক্ষমা প্রার্থনা করেন তবুও আল্লাহ্ তা'আলা তাদেরকে ক্ষমা করবেননা। তা এ কারণে যে, তারা আল্লাহ্ তা'আলা ও তদীয় রাসূলের সাথে কুফরি করেছে। আর আল্লাহ্ তা'আলা এরূপ অবাধ্য লোকদেরকে কখনো সঠিক পথ দেখাননা।
একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলাই বান্দাহ্'র সকল অপরাধ ক্ষমাকারী। তিনি ইচ্ছে করলেই কেউ ক্ষমা পেতে পারে। অতএব একান্তভাবে তাঁর নিকটই ক্ষমা চাইতে হবে। অন্য কারোর কাছে নয়।
হযরত আবু যর থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ নবী ইরশাদ করেনঃ يَا عِبَادِي إِنَّكُمْ تُخْطِئُوْنَ بِاللَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَ أَنَا أَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعاً فَاسْتَغْفِرُونِي أَغْفِرْ لَكُمْ অর্থাৎ (আল্লাহ্ তা'আলা নিজ বান্দাদেরকে বলেন) হে আমার বান্দারা! তোমরা সবাই রাতদিন গুনাহ্ করছো। আর আমিই সকল গুনাহ্ ক্ষমাকারী। অতএব তোমরা আমার নিকট ক্ষমা চাও। আমি তোমাদেরকে ক্ষমা করে দেবো।

📘 বড় শিরক কি ও কত প্রকার > 📄 একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়াও অন্য কোন নবী-ওলী অথবা অন্য কোন পীর-বুযুর্গ গায়েব জানেন এমন মনে করার শির্ক

📄 একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়াও অন্য কোন নবী-ওলী অথবা অন্য কোন পীর-বুযুর্গ গায়েব জানেন এমন মনে করার শির্ক


২৬. একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়াও অন্য কোন নবী-ওলী অথবা অন্য কোন পীর-বুযুর্গ গায়েব জানেন এমন মনে করার শির্কঃ
গায়েব বলতে মানব জাতির বাহ্য বা অবাহ্যেন্দ্রিয়ের আড়ালের কোন বস্তুকে বুঝানো হয়। অর্থাৎ যা কোন ধরনের মানবেন্দ্রিয় বা মানব তৈরী প্রযুক্তি কর্তৃক উপলব্ধ বা জ্ঞাত হওয়া সম্ভবপর নয় তাই গায়েব।
একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলাই গায়েব জানেন। তিনি ভিন্ন অন্য কেউ এতটুকুও গায়েব জানে না।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ قُلْ لَا يَعْلَمُ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَ الأَرْضِ الْغَيْبَ إِلَّا اللَّهُ ، وَ مَا يَشْعُرُوْنَ أَيَّانَ يُبْعَثُونَ অর্থাৎ (হে নবী) আপনি বলে দিনঃ আকাশ ও পৃথিবীতে একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়া অন্য কেউ গায়েব জানেনা এবং তারা এও জানে না যে তারা কখন পুনরুত্থিত হবে।
আল্লাহ্ তা'আলা আরো বলেনঃ وَ عِنْدَهُ مَفَاتِحُ الْغَيْبِ لَا يَعْلَمُهَا إِلَّا هُوَ ، وَ يَعْلَمُ مَا فِي الْبَرِّ وَ الْبَحْرِ ، وَ مَا تَسْقُطُ مِنْ وَرَقَةٍ إِلَّا يَعْلَمُهَا ، وَ لَا حَبَّةٍ فِي ظُلُمَاتِ الْأَرْضِ ، وَ لَا رَطْبٍ وَلَا يابس إِلَّا فِي كِتَابٍ مُّبِينِ অর্থাৎ গায়েবের চাবিকাঠি একমাত্র তাঁরই হাতে। তিনি ছাড়া অন্য কেউ গায়েব জানেনা। জল ও স্থলের সব কিছুই তিনি জানেন। কোথাও কোন বৃক্ষ থেকে একটি পাতা ঝরলেও তিনি তা জানেন। এমনকি ভূগর্ভের দানা বা বীজ এবং সকল শুষ্ক ও তরতাজা বস্তুও তাঁর অবগতির বাইরে নয়। বরং সব কিছুই তাঁর সুস্পষ্ট কিতাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে।
তিনি আরো বলেনঃ إِنَّ اللَّهَ عِنْدَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ ، وَيُنَزِّلُ الْغَيْثَ ، وَ يَعْلَمُ مَا فِي الْأَرْحَامِ ، وَ مَا تَدْرِي نَفْسٌ مَا ذَا تَكْسِبُ غَداً ، وَ مَا تَدْرِي نَفْسٌ بِأَيِّ أَرْضِ تَمُوْتُ ، إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ অর্থাৎ নিশ্চয়ই কিয়ামতের জ্ঞান একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলার নিকটই রয়েছে। তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন। তিনিই একমাত্র জানেন গর্ভবতী মহিলার জরায়ুতে কি জন্ম নিতে যাচ্ছে। কেউ জানেনা আগামীকাল সে কি অর্জন করবে। কেউ জানেনা কোথায় তার মৃত্যু ঘটবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা'আলা সর্বজ্ঞ ও সর্ব বিষয়ে অবগত।
তবে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ হাদীসের মধ্যে আমাদেরকে গায়েব সম্পর্কে যে সংবাদগুলো দিয়েছেন তা আল্লাহ্ তা'আলা ওহীর মাধ্যমে তাঁকে জানিয়ে দিয়েছেন। অতএব তিনি নিজ পক্ষ থেকে গায়েবের কোন সংবাদ দেননি এবং কখনো তিনি গায়েব জানতেন না।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ قُلْ لَا أَقُولُ لَكُمْ عِنْدِي خَزَائِنُ اللَّهِ ، وَ لَا أَعْلَمُ الْغَيْبَ অর্থাৎ (হে নবী!) আপনি তাদেরকে বলে দিনঃ আমি তোমাদেরকে এ কথা বলছিনা যে, আমার নিকট আল্লাহ্'র ধন ভাণ্ডার রয়েছে। যাকে ইচ্ছা তাকে আমি ধনী বানিয়ে দেবো। আর এমনো বলছি না যে, আমি গায়েব জানি তথা অদৃশ্য জগতের কোন খবর রাখি।
আল্লাহ্ তা'আলা আরো বলেনঃ قُلْ لَا أَمْلِكُ لِنَفْسِي نَفْعاً وَ لَا ضَرًّا إِلَّا مَا شَاءَ اللَّهُ ، وَ لَوْ كُنْتُ أَعْلَمُ الْغَيْبَ لاسْتَكْثَرْتُ مِنَ الْخَيْرِ ، وَ مَا مَسَّنِيَ السُّوْءُ ، إِنْ أَنَا إِلَّا نَذِيرٌ وَبَشِيرٌ لِّقَوْمٍ يُؤْمِنُوْنَ অর্থাৎ (হে নবী!) আপনি বলে দিনঃ আমার ভালো-মন্দ, লাভ-ক্ষতি, মঙ্গল-অমঙ্গল ইত্যাদির ব্যাপারে আমার কোন হাত নেই। বরং আল্লাহ্ তা'আলা যাই ইচ্ছে করেন তাই ঘটে থাকে। আমি যদি গায়েব জানতাম তাহলে আমি প্রভূত কল্যাণ লাভ করতে পারতাম এবং কোন অমঙ্গল ও অকল্যাণ কখনো আমাকে স্পর্শ করতে পারতো না। আমি অন্য কিছু নই। বরং আমি শুধু মু'মিন সম্প্রদায়ের জন্য ভয় প্রদর্শনকারী ও সুসংবাদবাহী।
তিনি আরো বলেনঃ وَ كَذَلِكَ أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ رُوْحاً مِّنْ أَمْرِنَا ، مَا كُنْتَ تَدْرِي مَا الْكِتَابُ وَ لَا الإِيْمَانُ وَ لَكِنْ جَعَلْنَاهُ نُوْراً نَّهْدِي بِهِ مَنْ تَشَاءُ مِنْ عِبَادِنَا ، وَ إِنَّكَ لَتَهْدِي إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ অর্থাৎ এভাবেই আমি আপনার নিকট আমার প্রত্যাদেশ রূহ তথা কোর'আন পাঠিয়েছি। ইতিপূর্বে আপনি কখনোই জানতেন না কোর'আন কি এবং ঈমান কি? মূলতঃ আমি কোর'আন মাজীদকে নূর হিসেবে অবতীর্ণ করেছি। যা কর্তৃক আমার বান্দাহ্রদের যাকে ইচ্ছে হিদায়াত দিয়ে থাকি। আর আপনিতো নিশ্চয়ই মানুষকে সঠিক পথ দেখিয়ে থাকেন।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ একদা রাসূল ঘর থেকে বের হলে জনৈক ব্যক্তি (জিব্রীল) তাঁকে জিজ্ঞাসা করলো, কিয়ামত কখন হবে? তখন তিনি উত্তরে বললেনঃ مَا الْمَسْؤُولُ عَنْهَا بِأَعْلَمَ مِنَ السَّائِلِ ، وَ لَكِنْ سَأُحَدِّثُكَ عَنْ أَشْرَاطِهَا ، إِذَا وَلَدَتِ الْأَمَةُ رَبَّهَا فَذَاكَ مِنْ أَشْرَاطِهَا ، وَ إِذَا كَانَتِ الْعُرَاةُ الْحُفَاةُ رُؤُوسَ النَّاسِ فَذَاكَ مِنْ أَشْرَاطِهَا ، وَ إِذَا تَطَاوَلَ رِعَاءُ الْبَهْمِ فِي الْبُنْيَانِ فَذَاكَ مِنْ أَشْرَاطِهَا অর্থাৎ যাকে কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে তিনি কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসাকারী চাইতে বেশি জানেন না। তবে আমি আপনাকে উহার আলামত সম্পর্কে কিছু জ্ঞান দিতে পারি। যখন কোন দাসী তার প্রভুকে জন্ম দিবে তখন এটি কিয়ামতের একটি আলামত এবং যখন উলঙ্গ ও খালি পা ব্যক্তিরা মানুষের নেতৃস্থানীয় হবে তখন এটি কিয়ামতের আরেকটি আলামত। আর যখন পশু রাখালরা বিরাট বিরাট অট্টালিকা বানাতে প্রতিযোগিতা করবে তখন এটি কিয়ামতের আরেকটি আলামত।
রাসূল যদি সত্যিই গায়েব জানতেন তাহলে তিনি বিলাল কে সাথে নিয়ে তায়েফে গিয়ে পাথর খেয়ে রক্তাক্ত হতেন না। কারণ, রাসূল গায়েব জেনে থাকলে তিনি প্রথম থেকেই জানতেন তারা তাঁকে সংবর্ধনা জানাবে। না পাথর নিক্ষেপে রক্তাক্ত করবে।
রাসূল যদি গায়েব জানতেন তাহলে তিনি ক্বাবা শরীফের সামনে সিজদাহ্রত থাকাবস্থায় তাঁর পিঠে কাফিররা উটের ফুল চাপিয়ে দিতে পারতো না।
রাসূল যদি গায়েব জানতেন তাহলে হা'ত্বিব্‌ বিন্ আবু বাল্লা'আহ্ যখন জনৈকা মহিলাকে মক্কার কাফিরদের নিকট এ সংবাদ লিখে পাঠালেন যে, রাসূল অচিরেই তোমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে আসছেন। অতএব তোমরা নিজেদেরকে রক্ষা করার জন্য অতিসত্বর প্রস্তুতি নিয়ে নাও। তখন রাসূল কে ওহীর মারফত তা জেনে অনেক দূর থেকে সে মহিলাকে ধরে আনার জন্য সাহাবাদেরকে পাঠাতে হতোনা। কারণ, তিনি গায়েব জেনে থাকলে প্রথম থেকেই এ ব্যাপারে জানতেন।
রাসূল যদি গায়েব জানতেন তাহলে যখন তাঁর দাসী মারিয়াকে ব্যভিচারের অপবাদ দেয়া হলো তখন তিনি হযরত 'আলী কে ব্যভিচারী গোলামকে হত্যা করার জন্য বহু দূর পাঠাতেন না। অথচ তার কোন লিঙ্গই ছিলনা। যাতে ব্যভিচার সংঘটিত হতে পারে।
রাসূল যদি গায়েব জানতেন তাহলে যখন মক্কার কাফিররা হযরত 'উসমান কে হত্যা করে দিয়েছে বলে গুজব ছড়ালো তখন তিনি ঐতিহাসিক 'হুদাইবিয়াহ্ এলাকায় মক্কার কাফিরদের থেকে 'উসমান হত্যার প্রতিশোধ নেয়ার জন্য সাহাবাদের থেকে দ্রুত বায়'আত গ্রহণ করতেন না। যা ইতিহাসের ভাষায় "বায়'আতুর্ রিযওয়ান" নামে পরিচিত।
রাসূল যদি গায়েব জানতেন তাহলে তাঁকে খায়বারে গিয়ে ইহুদী মহিলার বিষাক্ত ছাগলের গোস্ত খেয়ে দীর্ঘ দিন বিষক্রিয়ায় ভুগতে হতোনা।
রাসূল যদি গায়েব জানতেন তাহলে মুনাফিকরা যখন হযরত 'আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) কে ব্যভিচারের অপবাদ দিয়েছিলো তখন তিনি হযরত 'আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) কে এ ব্যাপারে সন্দেহ করে তাঁর সাথে সম্পূর্ণরূপে কথাবার্তা বন্ধ দিয়ে তাঁকে তাঁর বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দিতেন না। ইত্যাদি ইত্যাদি।
রাসূল যখন গায়েব জানেন না তখন তিনি ছাড়া অন্য কোন পীর বা বুযুর্গ গায়েব জানেন বলে বিশ্বাস করা সত্যিই বোকামি বৈ কি?
কাল্ফ ও গায়েবের জ্ঞানের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। সূফীদের নিকটে কারোর কাশফ হয় বা কেউ কাশফ ওয়ালা মানে, তার অলক্ষ্যে কিছুই নেই। সকল লুক্কায়িত বা দূরের বস্তুও সে খোলা চোখে দেখতে পায়। দুনিয়া-আখিরাত, জান্নাত-জাহান্নাম, ‘আর্শ-কুরসী, লাওহ্-ক্বলম সব কিছুই সে নির্দ্বিধায় দেখতে পায়। এমনকি মানব অন্তরের লুক্কায়িত কথাও সে জানে।
বরং কাশফের ব্যাপারটি গায়েবের জ্ঞানের চাইতেও আরো মারাত্মক। কারণ, গায়েবের জ্ঞানের সাথে খোলা চোখে দেখার কোন শর্ত নেই। কিন্তু কাশফের মানে, খোলা চোখে দেখা।
অতএব যখন একমাত্র আল্লাহ্ তা’আলা ছাড়া গায়েবের জ্ঞান আর কারোর নেই তখন কাশফও একমাত্র আল্লাহ্ তা’আলারই হবে। আর কারোর নয়। যদিও কাশফ শব্দের অস্তিত্ব উক্ত অর্থে কোর’আন ও হাদীসের কোথাও পাওয়া যায় না। বরং তা সূফীদের নব আবিষ্কার।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00