📄 একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়াও অন্য কোন ব্যক্তি বা দল কোন জাতির জন্য জীবন বিধান রচনা করতে পারে এমন মনে করার শির্ক
২২. একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়াও অন্য কোন ব্যক্তি বা দল কোন জাতি বা সম্প্রদায়ের জন্য জীবন বিধান রচনা করতে পারে এমন মনে করার শিকঃ
একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলাই মানব জাতির সার্বিক জীবন ব্যবস্থা রচনা করার অধিকার রাখেন। এ কাজের যোগ্য তিনি ভিন্ন অন্য কেউ নয়।
আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ ও সম্পূর্ণ নিজ ইচ্ছায় কারোর জন্য কোন জীবন বিধান রচনা করে যাননি। বরং তিনি তাঁর জীবদ্দশায় যাই বলেছেন তা ওহীর মাধ্যমেই বলেছেন। স্বাধীনভাবে তিনি কিছুই বলে যাননি। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ وَ مَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى ، إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى অর্থাৎ তিনি (রাসূল ﷺ) মনগড়া কোন কথা বলেননা। বরং তিনি যাই বলেন তা ওহীর মাধ্যমেই বলেন। যা তাঁর নিকট প্রেরিত হয়। আল্লাহ্ তা'আলা বিধান রচনার কর্তৃত্ব কার সে সম্পর্কে বলেনঃ إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ ، أَمَرَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ ، ذَلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ ، وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُوْنَ অর্থাৎ বিধান দেয়ার অধিকার একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলারই। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন যে, তোমরা শুধুমাত্র তাঁরই ইবাদাত করবে। আর কারোর নয়। এটিই হলো সরল ও সঠিক ধর্মমত। এরপরও অধিকাংশ মানুষ এ ব্যাপারে কিছুই অবগত নয়।
আল্লাহ্ তা'আলা কোর'আন মাজীদের মধ্যে তাঁরই প্রেরিত রাসূল ﷺ কে উদ্দেশ্য করে বলেনঃ ۞ يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ لِمَ تُحَرِّمُ مَا أَحَلَّ اللَّهُ لَكَ تَبْتَغِي مَرْضَاتَ أَزْوَاجِكَ وَاللَّهُ غَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ ۞ অর্থাৎ হে নবী! আল্লাহ্ তা'আলা আপনার জন্য যা হালাল করেছেন আপনি কেন তা নিজের জন্য হারাম করতে যাচ্ছেন। আপনি নিজ স্ত্রীদের সন্তুষ্টি কামনা করছেন। তবে আল্লাহ্ তা'আলা পরম ক্ষমাশীল ও অত্যন্ত দয়ালু। হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ আমাদের প্রিয় নবী হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম কে একদা বললেনঃ ۞ يَا جِبْرِيلُ! مَا يَمْنَعُكَ أَنْ تَزُورَنَا أَكْثَرَ مِمَّا تَزُورُنَا؟ فَنَزَلَتْ: ۞ ۞ وَ مَا تَنَزَّلُ إِلَّا بِأَمْرِ رَبِّكَ لَهُ مَا بَيْنَ أَيْدِينَا وَ مَا خَلْفَنَا وَ مَا بَيْنَ ذَلِكَ وَ مَا كَانَ رَبُّكَ نَسِيًّا ۞ قَالَ: كَانَ هَذَا الْجَوَابُ لِمُحَمَّدٍ ﷺ অর্থাৎ হে জিবরীল! তোমার অসুবিধে কোথায়? তুমি কেন বেশি বেশি আমার সাথে সাক্ষাৎ করছোনা? তখনই উক্ত আয়াত নাযিল হয় যার অর্থঃ আমি আপনার প্রভুর আদেশ ছাড়া আপনার নিকট কোনভাবেই আসতে পারিনা। আমাদের সম্মুখ, পশ্চাৎ এবং এ দু’য়ের অন্তর্বর্তী যা কিছু আছে তা সবই আল্লাহ্’র। আপনার প্রভু কখনো ভুলবার নন। বর্ণনাকারী বলেনঃ এ হচ্ছে জিবরীল আলাইহিস সালাম এর পক্ষ থেকে মুহাম্মাদ ﷺ কে দেয়া উত্তর। যখন জিবরীল আলাইহিস সালাম অথবা মুহাম্মাদ ﷺ আল্লাহ্ তা'আলার অনুমতি ছাড়া বিধান রচনা করার কোন অধিকার রাখেন না তখন অন্য কেউ বিধান রচনা করার ধৃষ্টতা দেখানো কতটা সমীচীন?
📄 একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়াও অন্য কেউ কাউকে ধনী বা গরিব বানাতে পারে এমন মনে করার শির্ক
২৩. একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়াও অন্য কেউ কাউকে ধনী বা গরিব বানাতে পারে এমন মনে করার শিকঃ একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলাই বিশ্বের সকল কিছুর মালিক। অতএব তিনি ইচ্ছা করলেই কেউ ধনী বা গরিব হতে পারে। অন্য কারোর ইচ্ছায় কেউ ধনী বা গরিব হয় না।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ لِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَ مَا فِي الْأَرْضِ অর্থাৎ আকাশে ও জমিনে যা কিছুই রয়েছে তা একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলারই। তিনি আরো বলেনঃ هُوَ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ ، الْمَلِكُ الْقُدُّوسُ .... অর্থাৎ তিনিই আল্লাহ্, যিনি ছাড়া অন্য কোন সত্য মা'বুদ নেই। তিনিই সব কিছুর মালিক এবং তিনিই পবিত্র। আল্লাহ্ তা'আলা যাকে ইচ্ছা ধনী বানান। আর যাকে ইচ্ছা গরিব বানান। এতে তিনি ভিন্ন অন্য কারোর সামান্যটুকুও হাত নেই।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ اللهُ يَبْسُطُ الرِّزْقَ لِمَنْ يَشَاءُ وَيَقْدِرُ অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা যার জন্য ইচ্ছা করেন তার জীবনোপকরণ বর্ধিত করেন এবং তেমনিভাবে সংকুচিতও।
তিনি আরো বলেনঃ إِنَّ رَبَّكَ يَبْسُطُ الرِّزْقَ لِمَنْ يَشَاءُ وَيَقْدِرُ অর্থাৎ নিশ্চয়ই আপনার প্রভু যার জন্য ইচ্ছা করেন তার জীবনোপকরণ বর্ধিত করেন এবং তেমনিভাবে সংকুচিতও। তিনি আরো বলেনঃ قُلْ إِنَّ رَبِّي يَبْسُطُ الرِّزْقَ لِمَنْ يَشَاءُ وَيَقْدِرُ ، وَ لَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُوْنَ অর্থাৎ (হে নবী) আপনি বলে দিনঃ নিশ্চয়ই আমার প্রভু যার জন্য ইচ্ছা করেন তার জীবনোপকরণ বর্ধিত করেন এবং তেমনিভাবে সংকুচিতও। তবুও অধিকাংশ লোক এ সম্পর্কে অবগত নয়। তিনি আরো বলেনঃ وَ لَا تَقْتُلُوْا أَوْلَادَكُمْ خَشْيَةَ إِمْلَاقٍ ، نَحْنُ نَرْزُقُهُمْ وَ إِيَّاكُمْ ، إِنَّ قَتْلَهُمْ كَانَ خِطْاً كَبِيْرًا অর্থাৎ তোমরা নিজ সন্তানদেরকে দরিদ্রতার ভয়ে হত্যা করোনা। একমাত্র আমিই ওদেরকে এবং তোমাদেরকে রিযিক দিয়ে থাকি। নিশ্চয়ই ওদেরকে হত্যা করা মহাপাপ।
হযরত আবু যর থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ নবী ইরশাদ করেনঃ يَا عِبَادِي كُلُّكُمْ جَائِعٌ إِلَّا مَنْ أَطْعَمْتُهُ فَاسْتَطْعِمُونِي أَطْعِمْكُمْ ، يَا عِبَادِي! كُلُّكُمْ عَارٍ إِلَّا مَنْ كَسَوْتُهُ فَاسْتَكْسُوْنِي أَكْسُكُمْ অর্থাৎ (আল্লাহ্ তা'আলা নিজ বান্দাহদেরকে বলেন) হে আমার বান্দারা! তোমরা সবাই ক্ষুধার্ত। শুধু সেই আহারকারী যাকে আমি আহার দেবো। অতএব তোমরা আমার নিকট আহার চাও। আমি তোমাদেরকে আহার দেবো। হে আমার বান্দাহ্রা! তোমরা সবাই বিবস্ত্র। শুধু সেই আবৃত যাকে আমি আবরণ দেবো। অতএব তোমরা আমার নিকট আবরণ চাও। আমি তোমাদেরকে আবরণ দেবো।
যতই দান করা হোক তাতে আল্লাহ্ তা'আলার ধন ভাঙার এতটুকুও খালি হবে না। এর বিপরীতে মানুষ যতই দান করবে ততই তার ধন ভাঙার খালি হতে থাকবে।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ নবী ইরশাদ করেনঃ قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَ جَلَّ : أَنْفِقْ أُنْفِقْ عَلَيْكَ ، وَ قَالَ: يَدُ اللَّهِ مَلَأَى لَا تَغِيْضُهَا نَفَقَةٌ ، سَحَّاءُ اللَّيْلَ وَ النَّهَارَ ، وَ قَالَ: أَرَأَيْتُمْ مَا أَنْفَقَ مُنْذُ خَلَقَ السَّمَاءَ وَ الْأَرْضَ ، فَإِنَّهُ لَمْ يَغِضُ مَا فِي يَدِهِ অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ (হে বান্দাহ্!) তুমি অন্যের উপর ব্যয় করো। আমি তোমার উপর ব্যয় করবো। রাসূল বলেনঃ আল্লাহ্'র হাত সর্বদা ভর্তি। প্রচুর ব্যয়েও তা খালি হয়ে যায়না। তিনি রাত ও দিন সকলকে দিচ্ছেন আর দিচ্ছেন। তাঁর দানে কোন বিরতি নেই। রাসূল আরো বলেনঃ তোমরা কি দেখছোনা যে, আল্লাহ্ তা'আলা আকাশ ও জমিন সৃষ্টির শুরু থেকে আজ পর্যন্ত শুধু দিচ্ছেন আর দিচ্ছেন। কিন্তু তাঁর হাতে যা রয়েছে তা কখনোই শেষ হচ্ছেনা।
আল্লাহ্'র রাসূল বা অন্য কোন পীর-বুযুর্গ কাউকে ধনী বা গরীব করতে পারেন না।
আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর রাসূলকে উদ্দেশ্য করে বলেনঃ قُلْ لَا أَقُوْلُ لَكُمْ عِنْدِي خَزَائِنُ اللَّهِ ، وَ لَا أَعْلَمُ الْغَيْبَ অর্থাৎ (হে নবী!) আপনি ওদেরকে বলে দিনঃ আমি তোমাদেরকে এ কথা বলছিনা যে, আমার নিকট আল্লাহ্'র ধন ভাণ্ডার রয়েছে। যাকে ইচ্ছা তাকে আমি ধনী বানিয়ে দেবো। আর এমনো বলছিনা যে, আমি গায়েব জানি তথা অদৃশ্য জগতের কোন খবর রাখি।
📄 কিয়ামতের দিন কোন নবী-ওলী অথবা কোন পীর-বুযুর্গ কাউকে আল্লাহ্ তা'আলার কঠিন আযাব থেকে রক্ষা করতে পারবে এমন মনে করার শির্ক
২৪. কিয়ামতের দিন কোন নবী-ওলী অথবা কোন পীর-বুযুর্গ কাউকে আল্লাহ্ তা'আলার কঠিন আযাব থেকে রক্ষা করতে পারবে এমন মনে করার শিক্কঃ
কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তা'আলা যাকে চান শাস্তি দিবেন। কোন নবী বা ওলী তাকে আল্লাহ্ তা'আলার হাত থেকে কোনভাবেই রক্ষা করতে পারবে না।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ ضَرَبَ اللَّهُ مَثَلاً لِلَّذِينَ كَفَرُوا امْرَأَةَ نُوحٍ وَ امْرَأَةَ لُوْطٍ ، كَانَتَا تَحْتَ عَبْدَيْنِ مِنْ عِبَادِنَا صَالِحَيْنِ ، فَخَانَتَاهُمَا فَلَمْ يُغْنِيَا عَنْهُمَا مِنَ اللَّهِ شَيْئًا ، وَقِيلَ ادْخُلَا النَّارَ مَعَ الدَّاخِلِينَ অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা কাফিরদের জন্য নূহ্ ও লুত্ এর স্ত্রীদ্বয়ের দৃষ্টান্ত পেশ করেন। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ তারা ছিলো আমার বান্দাহ্রদের দু' নেককার বান্দাহ্'র অধীন। কিন্তু তারা তাদের স্বামীদের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করে। ফলে নূহ্ ও লূত্ তাদেরকে আল্লাহ্'র শাস্তি থেকে কোনভাবেই রক্ষা করতে পারলোনা। বরং তাদেরকে বলা হলোঃ জাহান্নামে প্রবেশকারীদের সাথে তোমরাও তাতে প্রবেশ করো।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ حِيْنَ أَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: وَ أَنْذِرْ عَشِيْرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ ) قَالَ: يَا مَعْشَرَ قُرَيْشٍ! اشْتَرُوا أَنْفُسَكُمْ ، لَا أُغْنِي عَنْكُمْ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا ، يَا بَنِي عَبْدِ مَنَافِ! لَا أُغْنِي عَنْكُمْ مِنَ اللهِ شَيْئاً ، يَا عَبَّاسَ بْنَ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ لَا أُغْنِي عَنْكَ مِنَ اللَّهِ شَيْئاً ، وَ يَا صَفِيَّةُ عَمَّةَ رَسُوْلِ اللهِ! لَا أُغْنِي عَنْكَ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا ، وَيَا فَاطِمَةُ بِنْتَ مُحَمَّدٍ سَلِيْنِي مَا شِئْتِ مِنْ مَالِي ، لَا أُغْنِي عَنْكَ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا অর্থাৎ যখন আল্লাহ্ তা'আলা নিম্নোক্ত কোর'আনের আয়াত নাযিল করেন যার অর্থঃ আপনার নিকটাত্মীয়দেরকে (আখিরাতের ব্যাপারে) সতর্ক করে দিন। তখন রাসূল দাঁড়িয়ে বললেনঃ হে কুরাইশ্ বংশ! তোমরা নিজেদেরকে বাঁচাও। আমি তোমাদের জন্য কিছুই করতে পারবোনা। হে আবদে মুনাফের সন্তানরা! আমি তোমাদের জন্য কিছুই করতে পারবোনা। হে 'আব্বাস্ বিন্ 'আব্দুল মুত্তালিব! আমি আপনার জন্য কিছুই করতে পারবোনা। হে সাফিয়্যাহ্! (রাসূল এর ফুফু) আমি আপনার জন্য কিছুই করতে পারবোনা। হে ফাতিমাহ্! (রাসূল এর ছোট মেয়ে) তুমি আমার সম্পদ থেকে যা চাও চাইতে পারো। কিন্তু আমি আখিরাতে তোমার জন্য কিছুই করতে পারবো না।
এমনকি আল্লাহ্ তা'আলার রাসূল হযরত মুহাম্মাদ আল্লাহ্ তা'আলার সর্বপ্রিয় বান্দাহ্ হওয়া সত্ত্বেও তাঁর সঙ্গে আল্লাহ্ তা'আলা পরকালে কি ব্যবহার করবেন তা নিয়ে তিনি সর্বদা শঙ্কিত ছিলেন।
হযরত উম্মুল্ 'আলা' আন্সারী (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ اقْتُسِمَ الْمُهَاجِرُوْنَ قُرْعَةً ، فَطَارَ لَنَا عُثْمَانُ بْنُ مَظْعُوْنِ ، فَأَنْزَلْنَاهُ فِي أَبْيَاتِنَا ، فَوَجِعَ وَجَعَهُ الَّذِي تُوُفِّيَ فِيْهِ ، فَلَمَّا تُوُفِّيَ وَ غُسَلَ وَ كُفْنَ فِي أَثْوَابِهِ ، دَخَلَ رَسُوْلُ اللَّهِ : فَقُلْتُ : رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْكَ أَبَا السَّائِبِ فَشَهَادَتِي عَلَيْكَ لَقَدْ أَكْرَمَكَ اللهُ ، فَقَالَ النَّبِيُّ : وَ مَا يُدْرِيكَ أَنَّ اللَّهَ قَدْ أَكْرَمَهُ؟ فَقُلْتُ: بِأَبِي أَنْتَ يَا رَسُولَ اللَّهِ! فَمَنْ يُكْرِمُهُ اللهُ؟ فَقَالَ : أَمَّا هُوَ فَقَدْ جَاءَهُ الْيَقِينُ ، وَاللَّهِ إِنِّي لأَرْجُوْ لَهُ الْخَيْرَ ، وَ اللَّهِ مَا أَدْرِي وَأَنَا رَسُوْلُ اللَّهِ مَا يُفْعَلُ بِي وَ لَا بِكُمْ ، قَالَتْ: فَوَ اللَّهُ لَا أُزَكِّيْ أَحَداً بَعْدَهُ أَبَداً অর্থাৎ মুহাজিরদেরকে লটারির মাধ্যমে বন্টন করা হয়েছিলো। আর আমাদের বন্টনে এসেছিলো হযরত 'উসমান বিন্ মা'ঊন। অতএব আমরা তাকে আমাদের ঘরে নিয়ে আসলাম। একদা তার এমন ব্যথা শুরু হলো যে, তাতেই তার মৃত্যু হয়ে গেলো। মৃত্যুর পর তাকে গোসল ও কাফন দেয়া হলে রাসূল আমাদের ঘরে আসলেন। তখন আমি মৃতকে উদ্দেশ্য করে বললামঃ হে আবুস্ সা-য়িব! তোমার উপর আল্লাহ্'র রহমত বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা'আলা তোমাকে সম্মানিত করেছেন। তখন রাসূল আমাকে উদ্দেশ্য করে বললেনঃ তোমাকে কে জানালো যে, আল্লাহ্ তা'আলা তাকে নিশ্চিতভাবে সম্মানিত করেছেন। আমি বললামঃ হে আল্লাহ্'র রাসূল! আমার পিতা আপনার উপর কুরবান হোক! আল্লাহ্ তা'আলা একে সম্মানিত না করলে তিনি আর কাকে সম্মানিত করবেন? রাসূল বললেনঃ এর মৃত্যু হয়েছে। সুতরাং আল্লাহ্'র কসম! আমি নিশ্চয়ই তার কল্যাণই কামনা করবো। তুমি জেনে রেখো, আমি আল্লাহ্ তা'আলার কসম খেয়ে বলছিঃ আমি জানিনা অথচ আমি আল্লাহ্ তা'আলার একান্ত রাসূল আমি ও তোমাদের সঙ্গে আল্লাহ্ তা'আলা কিয়ামতের দিন কেমন আচরণ করবেন। বর্ণনাকারী হযরত উম্মুল্ 'আলা' আন্সারী বললেনঃ তখনই আমি পণ করলাম যে, আল্লাহ্'র কসম! এরপর আমি কখনো কারো সম্পর্কে সাফাই গাইবোনা।
📄 কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তা'আলার একান্ত ইচ্ছা ছাড়াও অন্য কোন নবী বা ওলী তাঁর হাত থেকে কাউকে ক্ষমা করিয়ে নিতে পারবেন এমন মনে করার শির্ক
২৫. কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তা'আলার একান্ত ইচ্ছা ছাড়াও অন্য কোন নবী বা ওলী তাঁর হাত থেকে কাউকে ক্ষমা করিয়ে নিতে পারবে এমন মনে করার শিকঃ
কোন ব্যক্তি সে আল্লাহ্ তা'আলার যতই নিকটতম বান্দাহ্ হোক না কেন আল্লাহ্ তা'আলার একান্ত ইচ্ছা ছাড়া কাউকে তাঁর হাত থেকে ক্ষমা করিয়ে নিতে পারে না।
আল্লাহ্ তা'আলা রাসূল কে উদ্দেশ্য করে বলেনঃ اسْتَغْفِرْ لَهُمْ أَوْ لَا تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ ، إِنْ تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ سَبْعِينَ مَرَّةً فَلَنْ يَغْفِرَ اللَّهُ لَهُمْ ، ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ كَفَرُوا بِاللَّهِ وَ رَسُوْلِهِ ، وَ اللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْفَاسِقِيْنَ অর্থাৎ (হে নবী!) আপনি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন বা নাই করুন উভয়ই সমান। আপনি যদি তাদের জন্য সত্তর বারও ক্ষমা প্রার্থনা করেন তবুও আল্লাহ্ তা'আলা তাদেরকে ক্ষমা করবেননা। তা এ কারণে যে, তারা আল্লাহ্ তা'আলা ও তদীয় রাসূলের সাথে কুফরি করেছে। আর আল্লাহ্ তা'আলা এরূপ অবাধ্য লোকদেরকে কখনো সঠিক পথ দেখাননা।
একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলাই বান্দাহ্'র সকল অপরাধ ক্ষমাকারী। তিনি ইচ্ছে করলেই কেউ ক্ষমা পেতে পারে। অতএব একান্তভাবে তাঁর নিকটই ক্ষমা চাইতে হবে। অন্য কারোর কাছে নয়।
হযরত আবু যর থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ নবী ইরশাদ করেনঃ يَا عِبَادِي إِنَّكُمْ تُخْطِئُوْنَ بِاللَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَ أَنَا أَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعاً فَاسْتَغْفِرُونِي أَغْفِرْ لَكُمْ অর্থাৎ (আল্লাহ্ তা'আলা নিজ বান্দাদেরকে বলেন) হে আমার বান্দারা! তোমরা সবাই রাতদিন গুনাহ্ করছো। আর আমিই সকল গুনাহ্ ক্ষমাকারী। অতএব তোমরা আমার নিকট ক্ষমা চাও। আমি তোমাদেরকে ক্ষমা করে দেবো।