📘 বড় শিরক কি ও কত প্রকার > 📄 একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়াও অন্য কোন নবী-ওলী অথবা অন্য কোন পীর-বুযুর্গ সব কিছু শুনতে বা দেখতে পান এমন মনে করার শির্ক

📄 একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়াও অন্য কোন নবী-ওলী অথবা অন্য কোন পীর-বুযুর্গ সব কিছু শুনতে বা দেখতে পান এমন মনে করার শির্ক


২০. একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়াও অন্য কোন নবী- ওলী অথবা অন্য কোন পীর-বুযুর্গ সব কিছু শুনতে বা দেখতে পান এমন মনে করার শিকঃ
একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলাই সব কিছু দেখতে বা শুনতে পান। তা যতই ক্ষুদ্র বা সূক্ষ্ম হোকনা কেন এবং যতই তা অদৃশ্য বা অস্পষ্ট হোকনা কেন। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ وَ مَا تَكُوْنُ فِي شَأْنٍ ، وَ مَا تَتْلُوْا مِنْهُ مِنْ قُرْآنٍ ، وَ لَا تَعْمَلُوْنَ مِنْ عَمَلٍ إِلَّا كُنَّا عَلَيْكُمْ شُهُوداً إِذْ تُفِيضُوْنَ فِيْهِ ، وَ مَا يَعْزُبُ عَنْ رَّبِّكَ مِنْ مِّثْقَالَ ذَرَّةٍ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَ لَا أَصْغَرَ مِنْ ذَلِكَ وَ لَا أَكْبَرَ إِلَّا فِي كِتَابٍ مُّبِيْنٍ অর্থাৎ হে রাসূল! তুমি যে কোন অবস্থায়ই থাকোনা কেন অথবা কোর'আন মাজীদের যে কোন আয়াতই পড়োনা কেন এমনকি তোমরা (নবী ও তাঁর সকল উম্মত) কোন্ কাজ কোন্ সময় করো তা সবই আমি জানি। আকাশ ও পৃথিবীতে একটি ছোট লাল পিপীলিকা (অণু) সমপরিমাণ অথবা তার থেকেও ক্ষুদ্র বা বড় যে পরিমাপেরই হোকনা কেন কোন বস্তুই তোমার প্রভুর অগোচরে নয়। বরং তা সুস্পষ্ট কিতাব তথা লাওহে মাহফুযে লিপিবদ্ধ রয়েছে।
আল্লাহ্ তা'আলা আরো বলেনঃ وَ قَالَ الَّذِيْنَ كَفَرُوا لَا تَأْتِيْنَا السَّاعَةُ ، قُلْ بَلَى وَ رَبِّي لَتَأْتِيَنَّكُمْ ، عَالِمِ الْغَيْبِ، لَا يَعْزُبُ عَنْهُ مِثْقَالُ ذَرَّةٍ فِي السَّمَاوَاتِ وَ لَا فِي الْأَرْضِ وَ لَا أَصْغَرُ مِنْ ذَلِكَ وَ لَا أَكْبَرُ إِلَّا فِي كِتَابٍ مُّبِينِ অর্থাৎ কাফিররা বলেঃ আমাদের উপর কিয়ামত আসবেনা। হে নবী! আপনি ওদেরকে বলে দিনঃ আমার প্রভুর কসম খেয়ে বলছিঃ কিয়ামত অবশ্যই আসবে। তিনি অদৃশ্য সম্পর্কে সম্যক অবগত। আকাশ ও পৃথিবীতে একটি ছোট পিপীলিকা সমপরিমাণ অথবা তার থেকেও ক্ষুদ্র বা বড় যে পরিমাপেরই হোকনা কেন কোন বস্তুই তাঁর অগোচরে নয়। বরং তা সুস্পষ্ট কিতাব তথা লাওহে মাহফুযে লিপিবদ্ধ রয়েছে। তিনি আরো বলেনঃ إِنَّ اللَّهَ لَا يَخْفَى عَلَيْهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَ لَا فِي السَّمَاءِ অর্থাৎ নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা'আলার নিকট আকাশ ও পৃথিবীর কোন বস্তুই লুক্কায়িত নয়। তিনি আরো বলেনঃ إِنَّهُ يَعْلَمُ الْجَهْرَ وَ مَا يَخْفَى অর্থাৎ নিশ্চয়ই তিনি প্রকাশ্য ও গুপ্ত সকল বিষয়ই জানেন। হযরত আবু মূসা থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ فِي سَفَرٍ ، فَجَعَلَ النَّاسُ يَجْهَرُوْنَ بِالتَّكْبِيرِ ، فَقَالَ النَّبِيُّ : أَيُّهَا النَّاسُ ارْبَعُوا عَلَى أَنْفُسِكُمْ ، إِنَّكُمْ لَيْسَ تَدْعُوْنَ أَصَمَّ وَ لَا غَائِباً ، إِنَّكُمْ تَدْعُوْنَ سَمِيعاً قَرِيباً ، وَ هُوَ مَعَكُمْ অর্থাৎ আমরা একদা নবী এর সাথে সফরে ছিলাম। পথিমধ্যে কিছু লোক উচ্চৈঃস্বরে তাকবীর পড়ছিলো। তখন রাসূল তাদেরকে বললেনঃ হে মানুষরা! নিজের উপর দয়া করো। নিম্নস্বরে তাকবীর বলো। কারণ, তোমরা এমন কাউকে ডাকছোনা যে বধির ও অনুপস্থিত তথা তোমাদের থেকে অনেক দূরে। বরং তোমরা ডাকছো এমন এক সত্তাকে যিনি তোমাদের নিকটেই এবং তিনি সব কিছুই শুনতে পাচ্ছেন। তিনি তোমাদের সাথেই রয়েছেন।
অনেক কোর'আন ও হাদীসে অপরিপক্ক ব্যক্তি উক্ত হাদীস শুনে খুব খুশি হয়ে থাকবেন। কারণ, তাদের ধারণা, আল্লাহ্ তা'আলা নিজ সত্তা সহ সর্বস্থানেই রয়েছেন। মূলতঃ তাদের এতে খুশি হওয়ার কোন কারণ নেই। কারণ, আল্লাহ্ তা'আলা এ সকল মূর্খদের সম্পর্কে সর্বদা অবগত রয়েছেন বলে তিনি বহু পূর্বেই কারোর সাথে তাঁর থাকার সত্যিকারার্থ নিজ কোর'আন মাজীদের মধ্যে সুন্দরভাবে বাতলিয়ে দিয়েছেন।
আল্লাহ্ তা'আলা হযরত মূসা ও হারুন (আলাইহিমাস্ সালাম) সম্পর্কে বলেনঃ قَالَ لَا تَخَافَا ، إِنَّنِي مَعَكُمَا أَسْمَعُ وَ أَرَى অর্থাৎ তিনি (আল্লাহ্ তা'আলা) বলেনঃ তোমরা ভয় পেয়োনা। আমিতো তোমাদের সঙ্গেই আছি। আমি তোমাদের সকল কথা শুনছি ও তোমাদের সকল কাজ অবলোকন করছি।

📘 বড় শিরক কি ও কত প্রকার > 📄 একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়াও অন্য কোন গাওস, কুতুব, ওয়াতাদ, আব্দালের এ বিশ্ব পরিচালনায় অথবা উহার কোন কর্মকাণ্ডে হাত আছে এমন মনে করার শির্ক

📄 একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়াও অন্য কোন গাওস, কুতুব, ওয়াতাদ, আব্দালের এ বিশ্ব পরিচালনায় অথবা উহার কোন কর্মকাণ্ডে হাত আছে এমন মনে করার শির্ক


২১. একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়াও অন্য কোন গাওস, কুতুব, ওয়াতাদ, আব্দালের এ বিশ্ব পরিচালনায় অথবা উহার কোন কর্মকাণ্ডে হাত আছে এমন মনে করার শিকঃ যেমনঃ বৃষ্টি দেয়া, তুফান বন্ধ করা ইত্যাদি ইত্যাদি।
বস্তুতঃ দুনিয়ার সকল বিষয়ের সার্বিক নিয়ন্ত্রণ একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলার হাতেই ন্যস্ত। অন্য কারোর হাতে নয়।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ اللَّهُ الَّذِي رَفَعَ السَّمَاوَاتِ بِغَيْرِ عَمَدٍ تَرَوْنَهَا ، ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ وَسَخَّرَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ ، كُلٌّ يَجْرِي لأَجَلٍ مُّسَمًّى ، يُدَبِّرُ الْأَمْرَ ، يُفَصِّلُ الْآيَاتِ، لَعَلَّكُمْ بِلِقَاءِ رَبِّكُمْ تُوْقِنُوْنَ অর্থাৎ তিনিই আল্লাহ্ যিনি আকাশমণ্ডলীকে স্থাপন করেছেন স্তম্ভ বিহীন। যা তোমরা দেখতে পাচ্ছো। অতঃপর তিনি নিজ 'আরশে 'আজীমের উপর সমাসীন হন এবং তিনিই চন্দ্র ও সূর্যকে নিয়মানুবর্তী করেন। ওদের প্রত্যেকেই নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত (নিজ কক্ষপথে) আবর্তন করবে। তিনিই দুনিয়ার সকল বিষয় নিয়ন্ত্রণ করেন এবং নিদর্শনসমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করেন। যাতে তোমরা পরকালে নিজ প্রভুর সাথে সাক্ষাতে নিশ্চিত হতে পারো। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ إِنَّ رَبَّكُمُ اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَ الأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ، ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ يُدَبِّرُ الْأَمْرَ অর্থাৎ নিশ্চয়ই তোমাদের প্রভু আল্লাহ্ তা'আলা। যিনি আকাশ ও পৃথিবীকে সৃষ্টি করেছেন ছয় দিনে। অতঃপর তিনি নিজ 'আরশে 'আজীমের উপর সমাসীন হন এবং তিনিই দুনিয়ার সকল বিষয় নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন। তিনি আরো বলেনঃ قُلْ مَنْ يَرْزُقُكُمْ مِّنَ السَّمَاءِ وَ الْأَرْضِ ، أَمَّنْ يَمْلِكُ السَّمْعَ وَ الْأَبْصَارَ ، وَمَنْ يُخْرِجُ الْحَيَّ مِنَ الْمَيِّتِ ، وَ يُخْرِجُ الْمَيِّتَ مِنَ الْحَيِّ ، وَ مَنْ يُدَبِّرُ الْأَمْرَ ، فَسَيَقُولُوْنَ اللَّهُ ، فَقُلْ أَفَلَا تَتَّقُوْنَ অর্থাৎ হে নবী! আপনি মক্কার কাফিরদেরকে বলুনঃ তিনি কে? যিনি আকাশ ও জমিন হতে তোমাদেরকে রিযিক দিয়ে থাকেন। তিনি কে? যিনি কর্ণ ও চক্ষুসমূহের মালিক। তিনি কে? যিনি প্রাণীকে প্রাণহীন থেকে এবং প্রাণহীনকে প্রাণী থেকে বের করেন। আর তিনি কে? যিনি দুনিয়ার সকল বিষয় নিয়ন্ত্রণ করেন। তখন তারা অবশ্যই বলবেঃ তিনি হচ্ছেন আল্লাহ্ তা'আলা। সুতরাং আপনি তাদেরকে বলুনঃ তারপরও তোমরা কেন তাঁকে ভয় পাচ্ছোনা এবং শিক থেকে নিবৃত্ত হচ্ছোনা?
তিনি আরো বলেনঃ يُدَبِّرُ الْأَمْرَ مِنَ السَّمَاءِ إِلَى الْأَرْضِ ثُمَّ يَعْرُجُ إِلَيْهِ فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ أَلْفَ سَنَةٍ مِّمَّا تَعُدُّونَ অর্থাৎ তিনিই (আল্লাহ্ তা'আলা) আকাশ হতে পৃথিবী পর্যন্ত সকল বিষয় পরিচালনা করেন। অতঃপর একদিন সব কিছুই তাঁর সমীপে সমুখিত হবে। যে দিন হবে তোমাদের দুনিয়ার হিসেবে হাজার বছরের সমান। হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল ইরশাদ করেনঃ قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: يُؤْذِيْنِي ابْنُ آدَمَ ، يَسُبُّ الدَّهْرَ وَ أَنَا الدَّهْرُ ، بِيَدِي الْأَمْرُ ، أُقَلْبُ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ মানুষ আমাকে কষ্ট দেয়। তারা যুগকে গালি দেয়। অথচ আমিই যুগ নিয়ন্ত্রক। সকল বিষয়ের নিয়ন্ত্রণ আমার হাতেই। আমার আদেশেই রাত-দিন সংঘটিত হয়।

📘 বড় শিরক কি ও কত প্রকার > 📄 একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়াও অন্য কোন ব্যক্তি বা দল কোন জাতির জন্য জীবন বিধান রচনা করতে পারে এমন মনে করার শির্ক

📄 একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়াও অন্য কোন ব্যক্তি বা দল কোন জাতির জন্য জীবন বিধান রচনা করতে পারে এমন মনে করার শির্ক


২২. একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়াও অন্য কোন ব্যক্তি বা দল কোন জাতি বা সম্প্রদায়ের জন্য জীবন বিধান রচনা করতে পারে এমন মনে করার শিকঃ
একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলাই মানব জাতির সার্বিক জীবন ব্যবস্থা রচনা করার অধিকার রাখেন। এ কাজের যোগ্য তিনি ভিন্ন অন্য কেউ নয়।
আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ ও সম্পূর্ণ নিজ ইচ্ছায় কারোর জন্য কোন জীবন বিধান রচনা করে যাননি। বরং তিনি তাঁর জীবদ্দশায় যাই বলেছেন তা ওহীর মাধ্যমেই বলেছেন। স্বাধীনভাবে তিনি কিছুই বলে যাননি। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ وَ مَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى ، إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى অর্থাৎ তিনি (রাসূল ﷺ) মনগড়া কোন কথা বলেননা। বরং তিনি যাই বলেন তা ওহীর মাধ্যমেই বলেন। যা তাঁর নিকট প্রেরিত হয়। আল্লাহ্ তা'আলা বিধান রচনার কর্তৃত্ব কার সে সম্পর্কে বলেনঃ إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ ، أَمَرَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ ، ذَلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ ، وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُوْنَ অর্থাৎ বিধান দেয়ার অধিকার একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলারই। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন যে, তোমরা শুধুমাত্র তাঁরই ইবাদাত করবে। আর কারোর নয়। এটিই হলো সরল ও সঠিক ধর্মমত। এরপরও অধিকাংশ মানুষ এ ব্যাপারে কিছুই অবগত নয়।
আল্লাহ্ তা'আলা কোর'আন মাজীদের মধ্যে তাঁরই প্রেরিত রাসূল ﷺ কে উদ্দেশ্য করে বলেনঃ ۞ يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ لِمَ تُحَرِّمُ مَا أَحَلَّ اللَّهُ لَكَ تَبْتَغِي مَرْضَاتَ أَزْوَاجِكَ وَاللَّهُ غَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ ۞ অর্থাৎ হে নবী! আল্লাহ্ তা'আলা আপনার জন্য যা হালাল করেছেন আপনি কেন তা নিজের জন্য হারাম করতে যাচ্ছেন। আপনি নিজ স্ত্রীদের সন্তুষ্টি কামনা করছেন। তবে আল্লাহ্ তা'আলা পরম ক্ষমাশীল ও অত্যন্ত দয়ালু। হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ আমাদের প্রিয় নবী হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম কে একদা বললেনঃ ۞ يَا جِبْرِيلُ! مَا يَمْنَعُكَ أَنْ تَزُورَنَا أَكْثَرَ مِمَّا تَزُورُنَا؟ فَنَزَلَتْ: ۞ ۞ وَ مَا تَنَزَّلُ إِلَّا بِأَمْرِ رَبِّكَ لَهُ مَا بَيْنَ أَيْدِينَا وَ مَا خَلْفَنَا وَ مَا بَيْنَ ذَلِكَ وَ مَا كَانَ رَبُّكَ نَسِيًّا ۞ قَالَ: كَانَ هَذَا الْجَوَابُ لِمُحَمَّدٍ ﷺ অর্থাৎ হে জিবরীল! তোমার অসুবিধে কোথায়? তুমি কেন বেশি বেশি আমার সাথে সাক্ষাৎ করছোনা? তখনই উক্ত আয়াত নাযিল হয় যার অর্থঃ আমি আপনার প্রভুর আদেশ ছাড়া আপনার নিকট কোনভাবেই আসতে পারিনা। আমাদের সম্মুখ, পশ্চাৎ এবং এ দু’য়ের অন্তর্বর্তী যা কিছু আছে তা সবই আল্লাহ্‌’র। আপনার প্রভু কখনো ভুলবার নন। বর্ণনাকারী বলেনঃ এ হচ্ছে জিবরীল আলাইহিস সালাম এর পক্ষ থেকে মুহাম্মাদ ﷺ কে দেয়া উত্তর। যখন জিবরীল আলাইহিস সালাম অথবা মুহাম্মাদ ﷺ আল্লাহ্ তা'আলার অনুমতি ছাড়া বিধান রচনা করার কোন অধিকার রাখেন না তখন অন্য কেউ বিধান রচনা করার ধৃষ্টতা দেখানো কতটা সমীচীন?

📘 বড় শিরক কি ও কত প্রকার > 📄 একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়াও অন্য কেউ কাউকে ধনী বা গরিব বানাতে পারে এমন মনে করার শির্ক

📄 একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়াও অন্য কেউ কাউকে ধনী বা গরিব বানাতে পারে এমন মনে করার শির্ক


২৩. একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়াও অন্য কেউ কাউকে ধনী বা গরিব বানাতে পারে এমন মনে করার শিকঃ একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলাই বিশ্বের সকল কিছুর মালিক। অতএব তিনি ইচ্ছা করলেই কেউ ধনী বা গরিব হতে পারে। অন্য কারোর ইচ্ছায় কেউ ধনী বা গরিব হয় না।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ لِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَ مَا فِي الْأَرْضِ অর্থাৎ আকাশে ও জমিনে যা কিছুই রয়েছে তা একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলারই। তিনি আরো বলেনঃ هُوَ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ ، الْمَلِكُ الْقُدُّوسُ .... অর্থাৎ তিনিই আল্লাহ্, যিনি ছাড়া অন্য কোন সত্য মা'বুদ নেই। তিনিই সব কিছুর মালিক এবং তিনিই পবিত্র। আল্লাহ্ তা'আলা যাকে ইচ্ছা ধনী বানান। আর যাকে ইচ্ছা গরিব বানান। এতে তিনি ভিন্ন অন্য কারোর সামান্যটুকুও হাত নেই।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ اللهُ يَبْسُطُ الرِّزْقَ لِمَنْ يَشَاءُ وَيَقْدِرُ অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা যার জন্য ইচ্ছা করেন তার জীবনোপকরণ বর্ধিত করেন এবং তেমনিভাবে সংকুচিতও।
তিনি আরো বলেনঃ إِنَّ رَبَّكَ يَبْسُطُ الرِّزْقَ لِمَنْ يَشَاءُ وَيَقْدِرُ অর্থাৎ নিশ্চয়ই আপনার প্রভু যার জন্য ইচ্ছা করেন তার জীবনোপকরণ বর্ধিত করেন এবং তেমনিভাবে সংকুচিতও। তিনি আরো বলেনঃ قُلْ إِنَّ رَبِّي يَبْسُطُ الرِّزْقَ لِمَنْ يَشَاءُ وَيَقْدِرُ ، وَ لَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُوْنَ অর্থাৎ (হে নবী) আপনি বলে দিনঃ নিশ্চয়ই আমার প্রভু যার জন্য ইচ্ছা করেন তার জীবনোপকরণ বর্ধিত করেন এবং তেমনিভাবে সংকুচিতও। তবুও অধিকাংশ লোক এ সম্পর্কে অবগত নয়। তিনি আরো বলেনঃ وَ لَا تَقْتُلُوْا أَوْلَادَكُمْ خَشْيَةَ إِمْلَاقٍ ، نَحْنُ نَرْزُقُهُمْ وَ إِيَّاكُمْ ، إِنَّ قَتْلَهُمْ كَانَ خِطْاً كَبِيْرًا অর্থাৎ তোমরা নিজ সন্তানদেরকে দরিদ্রতার ভয়ে হত্যা করোনা। একমাত্র আমিই ওদেরকে এবং তোমাদেরকে রিযিক দিয়ে থাকি। নিশ্চয়ই ওদেরকে হত্যা করা মহাপাপ।
হযরত আবু যর থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ নবী ইরশাদ করেনঃ يَا عِبَادِي كُلُّكُمْ جَائِعٌ إِلَّا مَنْ أَطْعَمْتُهُ فَاسْتَطْعِمُونِي أَطْعِمْكُمْ ، يَا عِبَادِي! كُلُّكُمْ عَارٍ إِلَّا مَنْ كَسَوْتُهُ فَاسْتَكْسُوْنِي أَكْسُكُمْ অর্থাৎ (আল্লাহ্ তা'আলা নিজ বান্দাহদেরকে বলেন) হে আমার বান্দারা! তোমরা সবাই ক্ষুধার্ত। শুধু সেই আহারকারী যাকে আমি আহার দেবো। অতএব তোমরা আমার নিকট আহার চাও। আমি তোমাদেরকে আহার দেবো। হে আমার বান্দাহ্রা! তোমরা সবাই বিবস্ত্র। শুধু সেই আবৃত যাকে আমি আবরণ দেবো। অতএব তোমরা আমার নিকট আবরণ চাও। আমি তোমাদেরকে আবরণ দেবো।
যতই দান করা হোক তাতে আল্লাহ্ তা'আলার ধন ভাঙার এতটুকুও খালি হবে না। এর বিপরীতে মানুষ যতই দান করবে ততই তার ধন ভাঙার খালি হতে থাকবে।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ নবী ইরশাদ করেনঃ قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَ جَلَّ : أَنْفِقْ أُنْفِقْ عَلَيْكَ ، وَ قَالَ: يَدُ اللَّهِ مَلَأَى لَا تَغِيْضُهَا نَفَقَةٌ ، سَحَّاءُ اللَّيْلَ وَ النَّهَارَ ، وَ قَالَ: أَرَأَيْتُمْ مَا أَنْفَقَ مُنْذُ خَلَقَ السَّمَاءَ وَ الْأَرْضَ ، فَإِنَّهُ لَمْ يَغِضُ مَا فِي يَدِهِ অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ (হে বান্দাহ্!) তুমি অন্যের উপর ব্যয় করো। আমি তোমার উপর ব্যয় করবো। রাসূল বলেনঃ আল্লাহ্'র হাত সর্বদা ভর্তি। প্রচুর ব্যয়েও তা খালি হয়ে যায়না। তিনি রাত ও দিন সকলকে দিচ্ছেন আর দিচ্ছেন। তাঁর দানে কোন বিরতি নেই। রাসূল আরো বলেনঃ তোমরা কি দেখছোনা যে, আল্লাহ্ তা'আলা আকাশ ও জমিন সৃষ্টির শুরু থেকে আজ পর্যন্ত শুধু দিচ্ছেন আর দিচ্ছেন। কিন্তু তাঁর হাতে যা রয়েছে তা কখনোই শেষ হচ্ছেনা।
আল্লাহ্'র রাসূল বা অন্য কোন পীর-বুযুর্গ কাউকে ধনী বা গরীব করতে পারেন না।
আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর রাসূলকে উদ্দেশ্য করে বলেনঃ قُلْ لَا أَقُوْلُ لَكُمْ عِنْدِي خَزَائِنُ اللَّهِ ، وَ لَا أَعْلَمُ الْغَيْبَ অর্থাৎ (হে নবী!) আপনি ওদেরকে বলে দিনঃ আমি তোমাদেরকে এ কথা বলছিনা যে, আমার নিকট আল্লাহ্'র ধন ভাণ্ডার রয়েছে। যাকে ইচ্ছা তাকে আমি ধনী বানিয়ে দেবো। আর এমনো বলছিনা যে, আমি গায়েব জানি তথা অদৃশ্য জগতের কোন খবর রাখি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00