📄 আল্লাহ্ তা'আলা সর্ব জায়গায় অথবা সকল মু'মিনের অন্তরে অথবা সকল বস্তুর মধ্যে লুক্কায়িত রয়েছেন এমন মনে করার শির্ক
১৯. আল্লাহ্ তা'আলা সর্ব জায়গায় অথবা সকল মু'মিনের অন্তরে অথবা সকল বস্তুর মধ্যে লুক্কায়িত রয়েছেন এমন মনে করার শিরকঃ
আল্লাহ্ তা'আলা সর্ব জায়গায় রয়েছেন অথবা সকল মু'মিনের অন্তরে অথবা সকল বস্তুর মধ্যে লুক্কায়িত রয়েছেন বলে ধারণা করা এটাই প্রমাণ করে যে, আল্লাহ্ তা'আলা একের অধিক। আর এটিই হচ্ছে আল্লাহ্ তা'আলার একত্ববাদে অস্বীকৃতি তথা তাঁর একক সত্তায় শিরক।
মূলতঃ আল্লাহ্ তা'আলা (নিজ সত্তা নিয়ে) সব কিছুর উপরে বিশেষভাবে 'আরশে 'আজীমের উপর যেভাবে থাকার ওভাবেই রয়েছেন। অন্য কোথাও নয়। তিনি 'আরশে 'আজীমের উপর থেকেই সর্বস্থানের সবকিছু দেখেন, জানেন ও শুনেন।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ أَأَمِنْتُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ أَنْ يَخْسِفَ بِكُمُ الْأَرْضَ ، فَإِذَا هِيَ تَمُوْرُ ، أَمْ أَمِنْتُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ أَنْ يُرْسِلَ عَلَيْكُمْ حَاصِباً ، فَسَتَعْلَمُوْنَ كَيْفَ نَذِيرِ অর্থাৎ তোমরা কি এ ব্যাপারে নিশ্চিন্ত যে, আকাশের উপর যিনি রয়েছেন তিনি তোমাদেরকে সহ ভূমি ধ্বসিয়ে দিবেননা? অতঃপর ভূমি আকস্মিকভাবে থরথর করে কাঁপতে কাঁপতে ধ্বংস হয়ে যাবে। তোমরা কি এ ব্যাপারে নিশ্চিন্ত যে, আকাশের উপর যিনি রয়েছেন তিনি তোমাদের উপর কঙ্করবর্ষী ঝড়-ঝঞ্ঝা প্রেরণ করবেননা? তখন তোমরা অবশ্যই বুঝতে পারবে কেমন ছিলো আমার সতর্কবাণী।
আল্লাহ্ তা'আলা আরো বলেনঃ تَعْرُجُ الْمَلَائِكَةُ وَالرُّوْحُ إِلَيْهِ অর্থাৎ ফিরিশতা ও জিব্রীল আল্লাহ্ তা'আলার দিকে ঊর্ধ্বগামী হবে। তিনি আরো বলেনঃ إِلَيْهِ يَصْعَدُ الْكَلِمُ الطَّيِّبُ অর্থাৎ তাঁর দিকেই পবিত্র বাণীসমূহ আরোহণ করে। আল্লাহ্ তা'আলা 'ঈসা -কে উদ্দেশ্য করে বলেনঃ إِنِّي مُتَوَفِّيْكَ وَ رَافِعُكَ إِلَيَّ অর্থাৎ নিশ্চয়ই আমি আপনাকে নিরাপদভাবে আমার দিকে উত্তোলন করবো। আল্লাহ্ তা'আলা আরো বলেনঃ إِنَّ رَبَّكُمُ اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ، ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ অর্থাৎ নিশ্চয়ই তোমাদের প্রভু আল্লাহ্ তা'আলা। যিনি আকাশ ও পৃথিবীকে সৃষ্টি করেছেন ছয় দিনে। অতঃপর তিনি নিজ 'আরশে 'আজীমের উপর অবস্থান করেন। তিনি আরো বলেনঃ اللَّهُ الَّذِي رَفَعَ السَّمَاوَاتِ بِغَيْرِ عَمَدٍ تَرَوْنَهَا ، ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ অর্থাৎ তিনিই আল্লাহ্ যিনি আকাশমণ্ডলীকে স্থাপন করেছেন স্তম্ভ বিহীন। যা তোমরা দেখতে পাচ্ছো। অতঃপর তিনি নিজ 'আরশে 'আজীমের উপর অবস্থান করেন। তিনি আরো বলেনঃ الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى অর্থাৎ দয়াময় প্রভু 'আরশে 'আজীমের উপর অবস্থান করেন।
তিনি আরো বলেনঃ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَ الْأَرْضَ وَ مَا بَيْنَهُمَا فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ، ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ ، الرَّحْمَنُ فَاسْأَلْ بِهِ خَبِيراً অর্থাৎ যিনি (আল্লাহ) আকাশ ও পৃথিবী এবং এতদুভয়ের মাঝে যা কিছু রয়েছে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তিনি নিজ 'আরশে 'আজীমের উপর অবস্থান করেন। তিনি দয়াময়। অতএব তাঁর সম্পর্কে বিজ্ঞ ব্যক্তিকেই জিজ্ঞাসা করে দেখো।
তিনি আরো বলেনঃ اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَ مَا بَيْنَهُمَا فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ، ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ অর্থাৎ তিনিই আল্লাহ্ যিনি আকাশ ও পৃথিবী এবং এতদুভয়ের মাঝে যা কিছু রয়েছে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তিনি নিজ 'আরশে 'আজীমের উপর অবস্থান করেন।
তিনি আরো বলেনঃ هُوَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَ الأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ، ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ অর্থাৎ তিনিই (আল্লাহ্) আকাশ ও পৃথিবীকে সৃষ্টি করেছেন ছয় দিনে। অতঃপর তিনি নিজ 'আরশে 'আজীমের উপর অবস্থান করেন।
এ 'আরশে 'আজীম থেকে নেমেই আল্লাহ্ তা'আলা প্রতি রাত্রের শেষ তৃতীয়াংশে দুনিয়ার আকাশে এসে সকল মানুষকে তাঁর নিকট প্রার্থনা করার জন্য আহ্বান করে থাকেন। তবে এমন নয় যে, তিনি প্রথম আকাশে নেমে আসলে তিনি 'আরশের নীচে চলে আসেন। তখন তিনি 'আরশের উপর থাকেননা। বরং তিনি কিভাবে নিম্নাকাশে আসেন তা তিনিই ভালো জানেন। আমাদের তা জানা নেই।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল ইরশাদ করেনঃ يَنْزِلُ رَبُّنَا تَبَارَكَ وَتَعَالَى كُلَّ لَيْلَةٍ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا حِيْنَ يَبْقَى ثُلُثُ اللَّيْلِ الآخرُ يَقُوْلُ: مَنْ يَدْعُوْنِي فَأَسْتَجِيْبَ لَهُ ، مَنْ يَسْأَلُنِي فَأُعْطِيَهُ ، مَنْ يَسْتَغْفِرُنِي فَأَغْفِرَ لَهُ অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা প্রতি রাত্রের শেষ তৃতীয়াংশে দুনিয়ার আকাশে এসে বলতে থাকেনঃ তোমরা কে আছো আমাকে ডাকবে আমি তার ডাকে সাড়া দেবো। তোমরা কে আছো আমার কাছে কিছু চাবে আমি তাকে তা দান করবো। তোমরা কে আছো আমার কাছে ক্ষমা চাবে আমি তাকে ক্ষমা করে দেবো।
হযরত মু'আবিয়া বিন্ 'হাকাম থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ كَانَتْ لِي جَارِيَةٌ تَرْعَى غَنَماً لِيْ قِبَلَ أَحُدٍ وَ الْجَوَّانِيَّةِ فَاطَّلَعْتُ ذَاتَ يَوْمٍ فَإِذَا الذِّئْبُ قَدْ ذَهَبَ بِشَاةٍ مِنْ غَنَمِهَا ، وَ أَنَا رَجُلٌ مِنْ بَنِي آدَمَ ، آسَفُ كَمَا يَأْسَفُوْنَ، لَكِنِّي صَكَكْتُهَا صَكَةً ، فَأَتَيْتُ رَسُوْلَ اللهِ ، فَعَظْمَ ذَلِكَ عَلَيَّ ، قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ! أَفَلَا أَعْتِقُهَا؟ قَالَ: انْتِنِي بِهَا ، فَأَتَيْتُهُ بِهَا ، فَقَالَ لَهَا : أَيْنَ اللَّهُ ؟ قَالَتْ: فِي السَّمَاءِ ، قَالَ: مَنْ أَنَا؟ قَالَتْ: أَنْتَ رَسُوْلُ اللَّهِ ، قَالَ : أَعْتَقْهَا ، فَإِنَّهَا مُؤْمِنَةٌ অর্থাৎ আমার একটি দাসী ছিলো। উহুদ ও জাওয়ানিয়া এলাকাদ্বয়ের আশপাশে ছাগল চরাতো। একদা আমি দেখতে পেলাম, ছাগলপালের একটি ছাগল নেই। নেকড়ে তা খেয়ে ফেলেছে। আর আমি একজন মানুষ। কোন কিছু বিনষ্ট হলে অন্যের ন্যায় আমিও ব্যথিত হই। তাই আমি দাসীর উপর রাগান্বিত হয়ে তাকে একটি থাপ্পড় মেরে দিলাম। অতঃপর তা রাসূল এর নিকট বর্ণনা করলে তিনি ব্যাপারটিকে মারাত্মক ভাবলেন। আমি বললামঃ হে আল্লাহ্'র রাসূল! আমি কি ওকে স্বাধীন করে দেবো? তিনি বললেনঃ ওকে আমার নিকট নিয়ে এসো। অতঃপর আমি ওকে তাঁর নিকট নিয়ে আসলাম। তিনি ওকে বললেনঃ আল্লাহ্ তা'আলা কোথায়? সে বললোঃ আকাশে। তিনি বললেনঃ আমি কে? সে বললোঃ আপনি আল্লাহ্'র রাসূল। রাসূল বললেনঃ ওকে স্বাধীন করে দাও। কারণ, সে ঈমানদার।
রাসূল দাসীটিকে আল্লাহ্ তা'আলা কোথায় আছেন প্রশ্নের উত্তরে তিনি আকাশে আছেন বলার পর তাকে ঈমানদার বলে সার্টিফিকেট দিয়েছেন। অতএব আমাদের ভাবা দরকার। আমরাও কি সে বিশ্বাসে বিশ্বাসী। আমারা রাসূল এর পক্ষ থেকে ঈমানের সার্টিফিকেট পাচ্ছি কিনা। রাসূল আরো বলেনঃ أَلَا تَأْمَنُوْنِي وَ أَنَا أَمِينُ مَنْ فِي السَّمَاءِ অর্থাৎ তোমরা কি আমাকে বিশ্বাস করোনা? অথচ আকাশে যিনি আছেন তিনি আমাকে বিশ্বাস করেন।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল ইরশাদ করেনঃ وَ الَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا مِنْ رَجُلٍ يَدْعُوْ امْرَأَتَهُ إِلَى فِرَاشِهَا ، فَتَأْبَى عَلَيْهِ ، إِلَّا كَانَ الَّذِي فِي السَّمَاءِ سَاخِطًا عَلَيْهَا حَتَّى يَرْضَى عَنْهَا অর্থাৎ ও সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার জীবন! কোন পুরুষ নিজ স্ত্রীকে (সহবাসের জন্য) বিছানার দিকে ডাকলে সে যদি তার ডাকে সাড়া না দেয় তাহলে যে সত্তা আকাশে আছেন তিনি ওর উপর অসন্তুষ্ট হন যতক্ষণনা তার স্বামী তার উপর সন্তুষ্ট হয়।
হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল ইরশাদ করেনঃ ارْحَمُوْا مَنْ فِي الْأَرْضِ يَرْحَمْكُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ অর্থাৎ তোমারা বিশ্ববাসীর উপর দয়া করো তাহলে আকাশে যিনি রয়েছেন তিনি তোমাদের উপর দয়া করবেন।
হযরত যায়নাব বিন্ত জাহ্শ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) রাসূল এর অন্যন্য স্ত্রীদের উপর গর্ব করে বলতেনঃ زَوَّجَكُنَّ أَهَالِيْكُنَّ ، وَ زَوَّجَنِيَ اللَّهُ تَعَالَى مِنْ فَوْقِ سَبْعِ سَمَاوَاتِ অর্থাৎ তোমাদেরকে তোমাদের পরিবারবর্গ বিবাহ্ দিয়েছে। আর আমাকে স্বয়ং আল্লাহ্ তা'আলা সপ্তাকাশের উপর থেকে বিবাহ্ দিয়েছেন।
মি'রাজের হাদীস তো সবারই জানা। এ ছাড়া কয়েক ডজন হাদীসও একই বক্তব্য উপস্থাপন করছে। এমনকি সাহাবায়ে কিরাম এবং তাবিয়ীনদেরও এ ব্যাপারে ঐকমত্য রয়েছে।
পরবর্তী আলিমদের মধ্য থেকে হযরত ইমাম আবু হানীফা, ইবনু জুরাইজ, আওযায়ী, মুক্বাতিল, সুষ্ঠুয়ান সাওরী, ইমাম মালিক, লাইস্ বিন্ সা'দ, সালাম বিন্ আবী মুত্বী', হাম্মাদ বিন্ সালামাহ্, আব্দুল আযীয বিন্ আল-মা'জিশূন, হাম্মাদ বিন যায়েদ, ইবনু আবী লাইলা, জা'ফর সাদিক, সালাম বস্ত্রী, ক্বাযী শরীক, মুহাম্মাদ বিন্ ইস্'হাক্ব, মিস্'আর বিন্ কিদাম, জারীর আয-যাব্বী, আব্দুল্লাহ্ বিন্ আল-মুবারাক, ফুযাইল বিন্ 'ইয়ায, হুশাইম বিন্ বাশীর, নূহ আল-জা'মি', আব্বাদ বিন্ আল-'আওয়াম, ক্বাযী আবু ইউসুফ, 'আব্দুল্লাহ্ বিন্ ইদ্রীস, মুহাম্মাদ বিন্ হাসান, বুকাইর বিন জা'ফর, বিশ্ব বিন্ 'উমর, ইয়া'হয়া আল-ক্বাত্ত্বান, মানূর বিন্ 'আম্মার, আবু নু'আইম আল-বাল্বী, আবু মু'আয আল-বাল্বী, সুইয়ান বিন্ 'উয়াইনাহ্, আবু বকর বিন্ 'আইয়াশ, 'আলী বিন্ 'আসিম, ইয়াযীদ বিন্ হা'রূন, সা'য়ীদ বিন্ 'আ'মির আয-যাবা'য়ী, ওয়াকী' বিন্ আল-জারাহ্, 'আব্দুর রহমান বিন্ মাহ্দী, ওয়াহাব বিন্ জারীর, আস্মা'য়ী, খালীল বিন্ আহমাদ, ফারা', খুরাইবী, 'আব্দুল্লাহ্ বিন্ আবী জা'ফর আর-রাযী, নাযার বিন্ মু'হাম্মাদ আল-মারওয়াযী, ইমাম শাফি'য়ী, ক্বা'নাবী, 'আফ্ফান, 'আ'সিম বিন্ 'আলী, 'হুমাইদী, ইয়াহুয়া বিন্ ইয়াহুয়া নীসাবুরী, হিশাম বিন্ 'উবাইদুল্লাহ্ আর-রাযী, 'আব্দুল মালিক বিন্ আল-মা'জিশূন, মু'হাম্মাদ বিন্ মুস'আব আল-'আ'বিদ, সুনাইদ বিন্ দাউদ আল-মিস্সীসী, নু'আইম বিন্ 'হাম্মাদ আল-খুযা'য়ী, বিশ্ব আল-'হাফী, আবু 'উবাইদ আল-ক্বা'সিম বিন্ সাল্লা'ম, আহ্মাদ বিন্ নাস্ত্র আল-খুযা'য়ী, মাক্কী বিন্ ইব্রা'হীম, কুতাইবাহ্ বিন্ সা'ঈদ, আবু মু'আম্মার আল-ক্বাত্বী'য়ী, ইয়াহয়া বিন্ মু'ঈন, 'আলী বিন্ আল-মাদীনী, ইমাম আহমাদ বিন্ 'হাম্বাল, ইস্'হাক্ব বিন্ রা'হুয়াহ্, আবু 'আব্দিল্লাহ্ ইবনুল আ'রাবী, আবু জা'ফর আন-নুফাইলী, 'ঈশী, হিশা'ম বিন্ 'আম্মার, যুনুন আল-মাস্ত্রী, আবু সাউর, মুযানী, যুহুলী, ইমাম বুখারী, আবু যুর'আহ্ আর-রাযী, আবু হা'তিম আর-রাযী, ইয়াহুয়া বিন্ মু'আয আর-রাযী, আহ্মাদ বিন্ সিনান, মুহাম্মাদ বিন্ আস্লাম তুসী, আব্দুল ওয়াহ্হাব আল-ওয়ারাক্ব, 'হাবুব আল-কিৰ্মানী, 'উস্মান বিন্ সা'ঈদ আদ-দা'রামী, আবু মুহাম্মাদ আদ-দা'রামী, আহমাদ বিন্ ফুরা'ত আর-রাযী, আবু ইস্হাক্ব আল-জুযেজানী, ইমাম মুসলিম, ক্বাযী সা'লিহ্ বিন্ ইমাম আহমাদ, হা'ফিয আবু আব্দুর রহমান বিন্ ইমাম আহমাদ, হাম্বাল বিন্ ইস্হাক্ব, আবু উমাইয়াহ্ আত্ব-ত্বারসূসী, বাক্বী বিন্ মিখলাদ, ক্বাযী ইস্মা'ঈল, হা'ফিয ইয়া'কুব আল-ফাসাওয়ী, হা'ফিয ইবনু আবী খাইসামাহ্, আবু যুর'আ আদ-দামেস্ট্রী, ইবনু নাসার আল- মারওয়াযী, ইবনু কুতাইবাহ্, ইবনু আবী 'আসিম, আবু 'ঈসা আত- তিরমিযী, ইবনু মা'জাহ্, ইবনু আবী শাইবাহ্, সাহল আত-তুস্তারী, আবু মুসলিম আল-কাজী, যাকারিয়া' আস-সা'জী, মুহাম্মাদ বিন্ জারীর, বুশান্জী, ইবনু খুযাইমাহ্, ইবনু সুরাইজ, আবু বকর বিন্ আবী দাউদ, 'আমর বিন্ 'উম্মান আল-মাক্কী, সা'লাব, আবু জা'ফর আত-তিরমিযী, আবুল 'আব্বাস আস-সিরা'জ, হা'ফিয আবু 'আওয়ানাহ্, ইবনু সা'ঈদ, ইমাম ত্বা'হাবী, নিষ্ক্রাওয়াইহ্, আবুল 'হাসান আল-আশ'আরী, 'আলী বিন্ 'ঈসা আশ-শিব্ল্লী, আবু আহমাদ আল-'আস্সাল, আবু বকর আয্যাবা'য়ী, আবুল ক্বাসিম আত্ব-ত্বাবারানী, ইমাম আবু বকর আল- আ'জুরী, হা'ফিয আবুস্ শাইখ, আবু বকর আল-ইসমা'ঈলী, আযহারী, আবু বকর বিন্ শা'যা'ন, আবুল 'হাসান বিন্ মাহ্দী, ইবনু সুষ্ঠুয়ান, ইবনু বাত্বত্বাহ্, আদ-দারাকুত্বনী, ইবনু মান্দাহ্, ইবনু আবী যায়েদ, খাত্বত্বাবী, ইবনু ফুরাক, ইবনুল বা'ক্বিল্লানী, আবু আহমাদ আল-ক্বাস্সাব, আবু নু'আইম আল-আস্বাহানী, মু'আম্মার বিন্ যিয়া'দ, আবুল-ক্বা'সিম আল- লা'লাকা'য়ী, ইয়াহয়া বিন্ 'আম্মার, আল-ক্বা'দির বিল্লাহ্, আবু 'উমর আত্বত্বালমাক্বী, আবু 'উম্মান আস-সা'বুনী, মুক্তী সুলাইম, আবু নাস্ত্র আসিজ্যী, আবু 'আম্র আদ-দা'নী, ইবনু আব্দিল বার, ক্বাযী আবু ইয়া'লা, বায়হাক্বী, আবু বকর আল-খাত্বীব, মুক্তী নাস্ত্র আল-মাক্বদিসী, ইমামুল 'হারামাইন আল-জুওয়াইনী, সা'দ আয-যানজানী, শাইখুল ইসলাম আব্দুল্লাহ্ আল-আন্সারী, ইমাম আল-ক্বায়রাওয়ানী, ইবনু আবী কিয়াহ্ আত-তাইমী, ইমাম আল-বাগাওয়ী, আবুল 'হাসান আল-কাৰ্জী, আবুল ক্বাসিম আত-তাইমী, ইবনু মাউহিব, আবু বকর ইবনুল-'আরাবী, আব্দুল্ ক্বাদির আল-জীলি, শাইখ আবুল বায়ান, ইমাম কুরতুবী এবং আরো অন্যান্যরাও এ মত পোষণ করেন।
মানুষের বিবেকও উক্ত মত সমর্থন করে। কারণ, এ কথা সবারই জানা যে, আল্লাহ্ তা'আলা কোন কিছু সৃষ্টি করার পূর্বে তিনি একাই ছিলেন। তখন আর কোন কিছুই ছিলোনা। অতঃপর আল্লাহ্ তা'আলা সব কিছুই সৃষ্টি করলেন।
এখন আমরা বলবোঃ আল্লাহ্ তা'আলা কি সকল বস্তু নিজ সত্তার ভিতরেই তৈরি করেছেন। না বাইরে। প্রথম কথা কোনভাবেই ঠিক নয়। কারণ, তখন বলতে হবেঃ আল্লাহ্ তা'আলার ভিতরেই মানুষ, জিন ও শয়তান রয়েছে। এ ধারণা কুফরি বৈ কি? তাহলে এ কথাই প্রমাণিত হলো যে, আল্লাহ্ তা'আলা সকল কিছু নিজ সত্তার বাইরেই তৈরি করেছেন। তখন আরেকটি প্রশ্ন জাগে এই যে, তিনি সব কিছু তৈরি করে তাতে পুনরায় ঢুকেছেন না ঢুকেননি? প্রথম কথা একেবারেই ঠিক নয়। কারণ, তখন বলতে হবেঃ আল্লাহ্ তা'আলা ময়লাস্থানেও রয়েছেন। আর তা আল্লাহ্ তা'আলার শানে বেয়াদবি তথা কুফরি বৈ কি? তাহলে আমরা এখন এ কথায় নিশ্চিত হতে পারি যে, আল্লাহ্ তা'আলা সব কিছু সৃষ্টি করে তিনি সব কিছুর উপরেই রয়েছেন।
📄 একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়াও অন্য কোন নবী-ওলী অথবা অন্য কোন পীর-বুযুর্গ সব কিছু শুনতে বা দেখতে পান এমন মনে করার শির্ক
২০. একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়াও অন্য কোন নবী- ওলী অথবা অন্য কোন পীর-বুযুর্গ সব কিছু শুনতে বা দেখতে পান এমন মনে করার শিকঃ
একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলাই সব কিছু দেখতে বা শুনতে পান। তা যতই ক্ষুদ্র বা সূক্ষ্ম হোকনা কেন এবং যতই তা অদৃশ্য বা অস্পষ্ট হোকনা কেন। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ وَ مَا تَكُوْنُ فِي شَأْنٍ ، وَ مَا تَتْلُوْا مِنْهُ مِنْ قُرْآنٍ ، وَ لَا تَعْمَلُوْنَ مِنْ عَمَلٍ إِلَّا كُنَّا عَلَيْكُمْ شُهُوداً إِذْ تُفِيضُوْنَ فِيْهِ ، وَ مَا يَعْزُبُ عَنْ رَّبِّكَ مِنْ مِّثْقَالَ ذَرَّةٍ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَ لَا أَصْغَرَ مِنْ ذَلِكَ وَ لَا أَكْبَرَ إِلَّا فِي كِتَابٍ مُّبِيْنٍ অর্থাৎ হে রাসূল! তুমি যে কোন অবস্থায়ই থাকোনা কেন অথবা কোর'আন মাজীদের যে কোন আয়াতই পড়োনা কেন এমনকি তোমরা (নবী ও তাঁর সকল উম্মত) কোন্ কাজ কোন্ সময় করো তা সবই আমি জানি। আকাশ ও পৃথিবীতে একটি ছোট লাল পিপীলিকা (অণু) সমপরিমাণ অথবা তার থেকেও ক্ষুদ্র বা বড় যে পরিমাপেরই হোকনা কেন কোন বস্তুই তোমার প্রভুর অগোচরে নয়। বরং তা সুস্পষ্ট কিতাব তথা লাওহে মাহফুযে লিপিবদ্ধ রয়েছে।
আল্লাহ্ তা'আলা আরো বলেনঃ وَ قَالَ الَّذِيْنَ كَفَرُوا لَا تَأْتِيْنَا السَّاعَةُ ، قُلْ بَلَى وَ رَبِّي لَتَأْتِيَنَّكُمْ ، عَالِمِ الْغَيْبِ، لَا يَعْزُبُ عَنْهُ مِثْقَالُ ذَرَّةٍ فِي السَّمَاوَاتِ وَ لَا فِي الْأَرْضِ وَ لَا أَصْغَرُ مِنْ ذَلِكَ وَ لَا أَكْبَرُ إِلَّا فِي كِتَابٍ مُّبِينِ অর্থাৎ কাফিররা বলেঃ আমাদের উপর কিয়ামত আসবেনা। হে নবী! আপনি ওদেরকে বলে দিনঃ আমার প্রভুর কসম খেয়ে বলছিঃ কিয়ামত অবশ্যই আসবে। তিনি অদৃশ্য সম্পর্কে সম্যক অবগত। আকাশ ও পৃথিবীতে একটি ছোট পিপীলিকা সমপরিমাণ অথবা তার থেকেও ক্ষুদ্র বা বড় যে পরিমাপেরই হোকনা কেন কোন বস্তুই তাঁর অগোচরে নয়। বরং তা সুস্পষ্ট কিতাব তথা লাওহে মাহফুযে লিপিবদ্ধ রয়েছে। তিনি আরো বলেনঃ إِنَّ اللَّهَ لَا يَخْفَى عَلَيْهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَ لَا فِي السَّمَاءِ অর্থাৎ নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা'আলার নিকট আকাশ ও পৃথিবীর কোন বস্তুই লুক্কায়িত নয়। তিনি আরো বলেনঃ إِنَّهُ يَعْلَمُ الْجَهْرَ وَ مَا يَخْفَى অর্থাৎ নিশ্চয়ই তিনি প্রকাশ্য ও গুপ্ত সকল বিষয়ই জানেন। হযরত আবু মূসা থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ فِي سَفَرٍ ، فَجَعَلَ النَّاسُ يَجْهَرُوْنَ بِالتَّكْبِيرِ ، فَقَالَ النَّبِيُّ : أَيُّهَا النَّاسُ ارْبَعُوا عَلَى أَنْفُسِكُمْ ، إِنَّكُمْ لَيْسَ تَدْعُوْنَ أَصَمَّ وَ لَا غَائِباً ، إِنَّكُمْ تَدْعُوْنَ سَمِيعاً قَرِيباً ، وَ هُوَ مَعَكُمْ অর্থাৎ আমরা একদা নবী এর সাথে সফরে ছিলাম। পথিমধ্যে কিছু লোক উচ্চৈঃস্বরে তাকবীর পড়ছিলো। তখন রাসূল তাদেরকে বললেনঃ হে মানুষরা! নিজের উপর দয়া করো। নিম্নস্বরে তাকবীর বলো। কারণ, তোমরা এমন কাউকে ডাকছোনা যে বধির ও অনুপস্থিত তথা তোমাদের থেকে অনেক দূরে। বরং তোমরা ডাকছো এমন এক সত্তাকে যিনি তোমাদের নিকটেই এবং তিনি সব কিছুই শুনতে পাচ্ছেন। তিনি তোমাদের সাথেই রয়েছেন।
অনেক কোর'আন ও হাদীসে অপরিপক্ক ব্যক্তি উক্ত হাদীস শুনে খুব খুশি হয়ে থাকবেন। কারণ, তাদের ধারণা, আল্লাহ্ তা'আলা নিজ সত্তা সহ সর্বস্থানেই রয়েছেন। মূলতঃ তাদের এতে খুশি হওয়ার কোন কারণ নেই। কারণ, আল্লাহ্ তা'আলা এ সকল মূর্খদের সম্পর্কে সর্বদা অবগত রয়েছেন বলে তিনি বহু পূর্বেই কারোর সাথে তাঁর থাকার সত্যিকারার্থ নিজ কোর'আন মাজীদের মধ্যে সুন্দরভাবে বাতলিয়ে দিয়েছেন।
আল্লাহ্ তা'আলা হযরত মূসা ও হারুন (আলাইহিমাস্ সালাম) সম্পর্কে বলেনঃ قَالَ لَا تَخَافَا ، إِنَّنِي مَعَكُمَا أَسْمَعُ وَ أَرَى অর্থাৎ তিনি (আল্লাহ্ তা'আলা) বলেনঃ তোমরা ভয় পেয়োনা। আমিতো তোমাদের সঙ্গেই আছি। আমি তোমাদের সকল কথা শুনছি ও তোমাদের সকল কাজ অবলোকন করছি।
📄 একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়াও অন্য কোন গাওস, কুতুব, ওয়াতাদ, আব্দালের এ বিশ্ব পরিচালনায় অথবা উহার কোন কর্মকাণ্ডে হাত আছে এমন মনে করার শির্ক
২১. একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়াও অন্য কোন গাওস, কুতুব, ওয়াতাদ, আব্দালের এ বিশ্ব পরিচালনায় অথবা উহার কোন কর্মকাণ্ডে হাত আছে এমন মনে করার শিকঃ যেমনঃ বৃষ্টি দেয়া, তুফান বন্ধ করা ইত্যাদি ইত্যাদি।
বস্তুতঃ দুনিয়ার সকল বিষয়ের সার্বিক নিয়ন্ত্রণ একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলার হাতেই ন্যস্ত। অন্য কারোর হাতে নয়।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ اللَّهُ الَّذِي رَفَعَ السَّمَاوَاتِ بِغَيْرِ عَمَدٍ تَرَوْنَهَا ، ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ وَسَخَّرَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ ، كُلٌّ يَجْرِي لأَجَلٍ مُّسَمًّى ، يُدَبِّرُ الْأَمْرَ ، يُفَصِّلُ الْآيَاتِ، لَعَلَّكُمْ بِلِقَاءِ رَبِّكُمْ تُوْقِنُوْنَ অর্থাৎ তিনিই আল্লাহ্ যিনি আকাশমণ্ডলীকে স্থাপন করেছেন স্তম্ভ বিহীন। যা তোমরা দেখতে পাচ্ছো। অতঃপর তিনি নিজ 'আরশে 'আজীমের উপর সমাসীন হন এবং তিনিই চন্দ্র ও সূর্যকে নিয়মানুবর্তী করেন। ওদের প্রত্যেকেই নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত (নিজ কক্ষপথে) আবর্তন করবে। তিনিই দুনিয়ার সকল বিষয় নিয়ন্ত্রণ করেন এবং নিদর্শনসমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করেন। যাতে তোমরা পরকালে নিজ প্রভুর সাথে সাক্ষাতে নিশ্চিত হতে পারো। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ إِنَّ رَبَّكُمُ اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَ الأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ، ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ يُدَبِّرُ الْأَمْرَ অর্থাৎ নিশ্চয়ই তোমাদের প্রভু আল্লাহ্ তা'আলা। যিনি আকাশ ও পৃথিবীকে সৃষ্টি করেছেন ছয় দিনে। অতঃপর তিনি নিজ 'আরশে 'আজীমের উপর সমাসীন হন এবং তিনিই দুনিয়ার সকল বিষয় নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন। তিনি আরো বলেনঃ قُلْ مَنْ يَرْزُقُكُمْ مِّنَ السَّمَاءِ وَ الْأَرْضِ ، أَمَّنْ يَمْلِكُ السَّمْعَ وَ الْأَبْصَارَ ، وَمَنْ يُخْرِجُ الْحَيَّ مِنَ الْمَيِّتِ ، وَ يُخْرِجُ الْمَيِّتَ مِنَ الْحَيِّ ، وَ مَنْ يُدَبِّرُ الْأَمْرَ ، فَسَيَقُولُوْنَ اللَّهُ ، فَقُلْ أَفَلَا تَتَّقُوْنَ অর্থাৎ হে নবী! আপনি মক্কার কাফিরদেরকে বলুনঃ তিনি কে? যিনি আকাশ ও জমিন হতে তোমাদেরকে রিযিক দিয়ে থাকেন। তিনি কে? যিনি কর্ণ ও চক্ষুসমূহের মালিক। তিনি কে? যিনি প্রাণীকে প্রাণহীন থেকে এবং প্রাণহীনকে প্রাণী থেকে বের করেন। আর তিনি কে? যিনি দুনিয়ার সকল বিষয় নিয়ন্ত্রণ করেন। তখন তারা অবশ্যই বলবেঃ তিনি হচ্ছেন আল্লাহ্ তা'আলা। সুতরাং আপনি তাদেরকে বলুনঃ তারপরও তোমরা কেন তাঁকে ভয় পাচ্ছোনা এবং শিক থেকে নিবৃত্ত হচ্ছোনা?
তিনি আরো বলেনঃ يُدَبِّرُ الْأَمْرَ مِنَ السَّمَاءِ إِلَى الْأَرْضِ ثُمَّ يَعْرُجُ إِلَيْهِ فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ أَلْفَ سَنَةٍ مِّمَّا تَعُدُّونَ অর্থাৎ তিনিই (আল্লাহ্ তা'আলা) আকাশ হতে পৃথিবী পর্যন্ত সকল বিষয় পরিচালনা করেন। অতঃপর একদিন সব কিছুই তাঁর সমীপে সমুখিত হবে। যে দিন হবে তোমাদের দুনিয়ার হিসেবে হাজার বছরের সমান। হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল ইরশাদ করেনঃ قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: يُؤْذِيْنِي ابْنُ آدَمَ ، يَسُبُّ الدَّهْرَ وَ أَنَا الدَّهْرُ ، بِيَدِي الْأَمْرُ ، أُقَلْبُ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ মানুষ আমাকে কষ্ট দেয়। তারা যুগকে গালি দেয়। অথচ আমিই যুগ নিয়ন্ত্রক। সকল বিষয়ের নিয়ন্ত্রণ আমার হাতেই। আমার আদেশেই রাত-দিন সংঘটিত হয়।
📄 একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়াও অন্য কোন ব্যক্তি বা দল কোন জাতির জন্য জীবন বিধান রচনা করতে পারে এমন মনে করার শির্ক
২২. একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়াও অন্য কোন ব্যক্তি বা দল কোন জাতি বা সম্প্রদায়ের জন্য জীবন বিধান রচনা করতে পারে এমন মনে করার শিকঃ
একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলাই মানব জাতির সার্বিক জীবন ব্যবস্থা রচনা করার অধিকার রাখেন। এ কাজের যোগ্য তিনি ভিন্ন অন্য কেউ নয়।
আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ ও সম্পূর্ণ নিজ ইচ্ছায় কারোর জন্য কোন জীবন বিধান রচনা করে যাননি। বরং তিনি তাঁর জীবদ্দশায় যাই বলেছেন তা ওহীর মাধ্যমেই বলেছেন। স্বাধীনভাবে তিনি কিছুই বলে যাননি। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ وَ مَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى ، إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى অর্থাৎ তিনি (রাসূল ﷺ) মনগড়া কোন কথা বলেননা। বরং তিনি যাই বলেন তা ওহীর মাধ্যমেই বলেন। যা তাঁর নিকট প্রেরিত হয়। আল্লাহ্ তা'আলা বিধান রচনার কর্তৃত্ব কার সে সম্পর্কে বলেনঃ إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ ، أَمَرَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ ، ذَلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ ، وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُوْنَ অর্থাৎ বিধান দেয়ার অধিকার একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলারই। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন যে, তোমরা শুধুমাত্র তাঁরই ইবাদাত করবে। আর কারোর নয়। এটিই হলো সরল ও সঠিক ধর্মমত। এরপরও অধিকাংশ মানুষ এ ব্যাপারে কিছুই অবগত নয়।
আল্লাহ্ তা'আলা কোর'আন মাজীদের মধ্যে তাঁরই প্রেরিত রাসূল ﷺ কে উদ্দেশ্য করে বলেনঃ ۞ يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ لِمَ تُحَرِّمُ مَا أَحَلَّ اللَّهُ لَكَ تَبْتَغِي مَرْضَاتَ أَزْوَاجِكَ وَاللَّهُ غَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ ۞ অর্থাৎ হে নবী! আল্লাহ্ তা'আলা আপনার জন্য যা হালাল করেছেন আপনি কেন তা নিজের জন্য হারাম করতে যাচ্ছেন। আপনি নিজ স্ত্রীদের সন্তুষ্টি কামনা করছেন। তবে আল্লাহ্ তা'আলা পরম ক্ষমাশীল ও অত্যন্ত দয়ালু। হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ আমাদের প্রিয় নবী হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম কে একদা বললেনঃ ۞ يَا جِبْرِيلُ! مَا يَمْنَعُكَ أَنْ تَزُورَنَا أَكْثَرَ مِمَّا تَزُورُنَا؟ فَنَزَلَتْ: ۞ ۞ وَ مَا تَنَزَّلُ إِلَّا بِأَمْرِ رَبِّكَ لَهُ مَا بَيْنَ أَيْدِينَا وَ مَا خَلْفَنَا وَ مَا بَيْنَ ذَلِكَ وَ مَا كَانَ رَبُّكَ نَسِيًّا ۞ قَالَ: كَانَ هَذَا الْجَوَابُ لِمُحَمَّدٍ ﷺ অর্থাৎ হে জিবরীল! তোমার অসুবিধে কোথায়? তুমি কেন বেশি বেশি আমার সাথে সাক্ষাৎ করছোনা? তখনই উক্ত আয়াত নাযিল হয় যার অর্থঃ আমি আপনার প্রভুর আদেশ ছাড়া আপনার নিকট কোনভাবেই আসতে পারিনা। আমাদের সম্মুখ, পশ্চাৎ এবং এ দু’য়ের অন্তর্বর্তী যা কিছু আছে তা সবই আল্লাহ্’র। আপনার প্রভু কখনো ভুলবার নন। বর্ণনাকারী বলেনঃ এ হচ্ছে জিবরীল আলাইহিস সালাম এর পক্ষ থেকে মুহাম্মাদ ﷺ কে দেয়া উত্তর। যখন জিবরীল আলাইহিস সালাম অথবা মুহাম্মাদ ﷺ আল্লাহ্ তা'আলার অনুমতি ছাড়া বিধান রচনা করার কোন অধিকার রাখেন না তখন অন্য কেউ বিধান রচনা করার ধৃষ্টতা দেখানো কতটা সমীচীন?