📘 বড় শিরক কি ও কত প্রকার > 📄 কবর পূজার শির্ক

📄 কবর পূজার শির্ক


১৭. কবর পূজার শিরকঃ কবর পূজার শির্ক বলতে কবরে শায়িত কোন ওলী বা বুযুর্গের জন্য যে কোন ধরনের ইবাদাত সম্পাদন বা ব্যয় করাকে বুঝানো হয়। বর্তমান যুগের মাযারকে শিরকের কুঞ্জ বা আড্ডা বলা যেতে পারে। এমন কোন শির্ক নেই যা কোন না কোন মাযারকে কেন্দ্র করে অনুশীলিত হচ্ছে না। আহ্বান, ফরিয়াদ, আশ্রয়, আশা, রুকু, সিজদাহ্, বিনম্রভাবে কবরের সামনে দাঁড়ানো, তাওয়াফ, তাওবা, জবাই, মানত, আনুগত্য, ভয়, ভালোবাসা, তাওয়াক্কুল, সুপারিশ ও হিদায়াত কামনা করার মত বড় বড় শিক যে কোন কবরের পার্শ্বে নির্বিঘ্নে চর্চা করা হচ্ছে।
এ সবের মূলে সর্বদা একটি কারণই কাজ করে চলছে। আর তা হলোঃ ওলী-বুযুর্গদের ব্যাপারে অমূলক বাড়াবাড়ি। এ জাতীয় বাড়াবাড়ির কারণে যেমনিভাবে ধ্বংস হয়েছে হযরত নূহ এর উম্মতরা তেমনিভাবে ধ্বংস হয়েছে ইহুদী ও খ্রিষ্টানরা।
এ কারনেই আল্লাহ্ তা'আলা ওদেরকে ধর্মীয় ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করতে পরিষ্কারভাবে নিষেধ করে দিয়েছেন। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ قُلْ يَا أَهْلَ الْكِتَابِ لَا تَغْلُوا فِي دِينِكُمْ غَيْرَ الْحَقِّ وَ لَا تَتَّبِعُوْا أَهْوَاءَ قَوْمٍ قَدْ ضَلُّوا مِنْ قَبْلُ وَ أَضَلُّوْا كَثِيرًا وَ ضَلُّوْا عَنْ سَوَاءِ السَّبِيلِ অর্থাৎ আপনি বলে দিনঃ হে ইহুদী ও খ্রিষ্টানরা! তোমরা ধর্মীয় ব্যাপারে অমূলক সীমালংঘন করোনা এবং ওসব লোকদের ভিত্তিহীন কল্পনার অনুসারী হয়ো না যারা অতীতে নিজেরাও পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং আরো বহু লোককে পথভ্রষ্ট করেছে। বস্তুতঃ তারা সরল পথ থেকে বহু দূরে সরে গিয়েছে। হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ আব্বাস্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি আল্লাহ্ তা'আলার বাণীঃ وَ قَالُوْا لَا تَذَرُنَّ الهَتَكُمْ وَ لَا تَذَرُنَّ وَدًّا وَّ لَا سُوَاعًاً ، وَ لَا يَغُوْثَ وَ يَعُوْقَ وَنَسْرًا অর্থাৎ তারা বলেছেঃ তোমরা কখনো পরিত্যাগ করোনা তোমাদের দেব-দেবীকে; পরিত্যাগ করোনা ওয়াদ্দ, সুওয়া', ইয়াগুস্, ইয়াউক্ ও নাসকে।
উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় তিনি বলেনঃ صَارَتِ الْأَوْثَانُ الَّتِي كَانَتْ فِي قَوْمِ نُوْحٍ فِي الْعَرَبِ بَعْدُ ، أَمَّا وَدٌ: كَانَتْ لِكَلْبِ بِدَوْمَةِ الْجَنْدَلِ ، وَ أَمَّا سُوَاعٌ : كَانَتْ لِهَذَيْلٍ ، وَأَمَّا يَغُوْتُ: فَكَانَتْ لِمُرَادِ ، ثُمَّ لِبَنِي غُطَيْفَ بِالْجَوْفِ عِنْدَ سَبَا ، وَ أَمَّا يَعُوْقُ: فَكَانَتْ لِهَمْدَانَ ، وَأَمَّا نسر: فَكَانَتْ لِحِمْيَرَ لَآلِ ذِي الْكَلَاعِ أَسْمَاءُ رِجَالٍ صَالِحِيْنَ مِنْ قَوْمِ نُوْحٍ ، فَلَمَّا هَلَكُوْا أَوْحَى الشَّيْطَانُ إِلَى قَوْمِهِمْ أَنِ انْصِبُوا إِلَى مَجَالِسِهِمْ الَّتِي كَانُوا يَجْلِسُوْنَ أَنْصَابَاً وَ سَمُوْهَا بِأَسْمَائِهِمْ ، فَفَعَلُوا ، فَلَمْ تُعْبَدْ ، حَتَّى إِذَا هَلَكَ أُوْلَائِكَ وَ تَنَسَّخَ الْعِلْمُ عُبِدَتْ অর্থাৎ যে মূর্তিগুলোর প্রচলন নূহ্ এর সম্প্রদায়ে ছিলো তা এখন আরবদের নিকট। দাউমাতুল্ জান্দাল্ এলাকায় কাল্ব সম্প্রদায় ওয়াদ্দকে পূজা করতো। হুযাইল্ সম্প্রদায় সুওয়া'কে। মুরাদ্ সম্প্রদায় ইয়াগুস্কে। সাবাদের নিকটবর্তী এলাকা জাউফের "বানী গোত্বাইফ" গোত্ররাও ইয়াগুসেরই পূজা করতো। হাম্দান সম্প্রদায় ইয়াউকে। জুল্ কালা' এর বংশধর হিময়ার সম্প্রদায় নাস্ত্রকে। এ সবগুলো ছিল নূহ্ এর সম্প্রদায়ের ওলী-বুযুর্গদের নাম। যখন তারা মৃত্যুবরণ করলো তখন শয়তান তাদের সম্প্রদায়কে এ মর্মে বুদ্ধি দিলো যে, তোমরা ওদের বৈঠকখানায় ওদের প্রতিমূর্তি বানিয়ে সম্মানের সাথে বসিয়ে দাও। অতঃপর তারা তাই করলো। কিন্তু তখনো ওদের পূজা শুরু হয়নি। তবে এ প্রজন্ম যখন নিঃশেষ হয়ে গেলো এবং ধর্মীয় জ্ঞানের বিলুপ্তি ঘটলো তখনই এ প্রতিমূর্তিগুলোর পূজা শুরু হলো।
শুধু বুযুর্গদের ব্যাপারেই বাড়াবাড়ি নয় বরং রাসূল নিজ ব্যাপারেও কোন বাড়াবাড়ি করতে উম্মতদেরকে সুদৃঢ় কণ্ঠে নিষেধ করেছেন।
হযরত 'উমর থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ আমি নবী কে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেনঃ لَا تُطْرُوْنِي كَمَا أَطْرَتِ النَّصَارَى ابْنَ مَرْيَمَ ، فَإِنَّمَا أَنَا عَبْدُهُ ، فَقُوْلُوْا: عَبْدُ اللَّهِ وَ رَسُولُهُ অর্থাৎ তোমরা আমার প্রশংসা করতে গিয়ে কখনো বাড়াবাড়ি করোনা যেমনিভাবে বাড়াবাড়ি করেছে খ্রিষ্টানরা 'ঈসা বিন্ মায়াম্ এর ব্যাপারে। আমি কেবল আল্লাহ্ তা'আলার বান্দাহ্। সুতরাং তোমরা আমার সম্পর্কে বলবেঃ তিনি আল্লাহ্ তা'আলার বান্দাহ্ এবং তদীয় রাসূল।
রাসূলকে অমূলক বেশি সম্মান দিতে যাওয়ার কারণেই বহু শিরকের উদ্ভাবন হয়। এ অমূলক সম্মান হেতুই যে কোন সমস্যায় তাঁকে আহ্বান করা হয়, তাঁর নিকট ফরিয়াদ করা হয়, তাঁর জন্য মানত মানা হয়, তাঁর কবরের চতুষ্পার্শ্বে তাওয়াফ করা হয় এবং তিনি গায়েব জানেন ও তাঁর হাতে সর্বময় ক্ষমতা রয়েছে বলে বিশ্বাস করা হয়।
সত্যিকারার্থে এটি সম্মান নয় বরং তা কুফরী বৈ কি? মূলতঃ রাসূল কে তিন ভাবে সম্মান করা যায়। তা নিম্নরূপঃ
ক. অন্তর দিয়ে সম্মান করা। আর তা হচ্ছে মুহাম্মাদকে আল্লাহ্ তা'আলার বান্দাহ্ ও তদীয় রাসূল হিসেবে বিশ্বাস করার আওতাধীন এবং তা কেবল রাসূল এর ভালোবাসাকে নিজ সত্তা, মাতা, পিতা, সন্তান ও সকল মানুষের ভালোবাসার উপর প্রাধান্য দেয়ার মাধ্যমেই সংঘটিত হয়ে থাকে।
তবে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এই যে, বাহ্যিক এমন দু'টি কর্ম রয়েছে যা কারোর অন্তরে সত্যিকারার্থে রাসূল এর জন্য এ জাতীয় ভালোবাসা বিদ্যমান রয়েছে কি না তা প্রমাণ করে। কর্ম দু'টি নিম্নরূপঃ
১. খাঁটি তাওহীদে বিশ্বাসী হওয়া। কারণ, রাসূল সার্বিকভাবে শিকের সকল পথ, মত ও মাধ্যম বন্ধ করে দিয়েছেন। সুতরাং রাসূল এর সম্মান কখনো শিকের মাধ্যমে হতে পারে না।
২. সর্ব ক্ষেত্রে তাঁরই অনুসরণ করা। অতএব সর্ব বিষয়ে তাঁর কথাই গ্রহণযোগ্য হবে। অন্য কারোর কথা নয়। যেমনিভাবে সকল ইবাদাত একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলার জন্যই হতে হয় তেমনিভাবে সকল প্রকারের অনুসরণ একমাত্র তাঁরই রাসূলের জন্য হতে হবে।
খ. মুখ দিয়ে সম্মান করা। আর তা কোন রকম বাড়াবাড়ি ছাড়া রাসূল এর যথোপযুক্ত প্রশংসা করার মাধ্যমেই সংঘটিত হয়ে থাকে।
গ. অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দিয়ে সম্মান করা। আর তা রাসূল এর সমূহ আনুগত্য বাস্তব কর্মে পরিণত করার মাধ্যমেই সংঘটিত হয়ে থাকে।
মোটকথা, রাসূল এর কার্যত সম্মান তাঁর বিশুদ্ধ বাণীর প্রতি অকৃত্রিম বিশ্বাস স্থাপন করা, তাঁর আদেশ-নিষেধ মান্য করা, তাঁরই জন্যে কাউকে ভালোবাসা বা কারোর সাথে শত্রুতা পোষণ করা, যে কোন ব্যাপারে তাঁরই ফায়সালাকে সন্তুষ্ট চিত্তে মেনে নেয়ার মাধ্যমেই সুসংঘটিত হয়ে থাকে।
অমূলক বাড়াবাড়ি শরীয়তের দৃষ্টিতে মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। চাই তা ইবাদাতের ক্ষেত্রেই হোক বা আক্বীদা-বিশ্বাসের ক্ষেত্রে।
হযরত 'আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'আব্বাস্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল ইরশাদ করেনঃ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِيَّاكُمْ وَالْعُلُوَّ فِي الدِّينِ ، فَإِنَّهُ أَهْلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ الْغُلُوُّ فِي الدِّيْنِ অর্থাৎ হে মানুষ সকল! তোমরা ধর্মীয় ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করো না। কারণ, তোমাদের পূর্বেকার সকল উম্মাত শুধু এ কারণেই ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। হযরত 'আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস্'উদ (রাযিয়াল্লাহু আন্‌হুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল ইরশাদ করেনঃ هَلَكَ الْمُتَنَطِّعُوْنَ ، هَلَكَ الْمُتَنَطِّعُوْنَ ، هَلَكَ الْمُتَنَطِّعُوْنَ অর্থাৎ সীমা লঙ্ঘনকারীরা ধ্বংস হোক! রাসূল এ বাক্যটি তিন বার উচ্চারণ করেন।
ওলী-বুযুর্গদের ব্যাপারে বেশি বাড়াবাড়ি করার কারণেই প্রথমে তাদের কবরের উপর ঘর বা মসজিদ তৈরি করা হয়। অতঃপর সে কবরের জন্য সিজদা করা হয়, মানত করা হয় এমনকি উহাকে নামায ও দো'আ কবুল হওয়ার বিশেষ স্থান হিসেবে গণ্য করা হয়, তাতে শায়িত ব্যক্তির নামে কসম খাওয়া হয়, তার নিকট ফরিয়াদ করা হয়, তাকে আল্লাহ্ তা'আলার চাইতেও বেশি ভয় করা হয়, তার নিকট যে কোন সমস্যার সমাধান চাওয়া হয়, তার নিকট অতি বিনয়ের সঙ্গে এমনভাবে কান্নাকাটি করা হয় যা আল্লাহ্ তা'আলার ঘর মসজিদেও করা হয় না এমনকি পরিশেষে তা খাদিম নামের কিছু সংখ্যক মানুষের আড্ডা হয়ে যায়। ইত্যাদি ইত্যাদি। অথচ আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ কবরের উপর মসজিদ নির্মাণকারীকে আল্লাহ্ তা'আলার সর্ব নিকৃষ্ট সৃষ্টি হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
হযরত 'আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ হযরত উম্মে হাবীবাহ্ ও হযরত উম্মে সালামাহ্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) ইথিওপিয়ায় একটি গির্জা দেখেছিলো যাতে অনেকগুলো ছবি টাঙ্গানো রয়েছে। তারা তা রাসূলকে জানালে তিনি বলেনঃ إِنْ أُوْلَائِكَ إِذَا كَانَ فِيهِمُ الرَّجُلُ الصَّالِحُ فَمَاتَ ، بَنَوْا عَلَى قَبْرِهِ مَسْجِداً ، وَصَوَّرُوْا فِيْهِ تِلْكَ الصُّوَرَ ، فَأُوْلَاتِكَ شِرَارُ الْخَلْقِ عِنْدَ اللَّهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ অর্থাৎ নিশ্চয়ই ওরা তাদের মধ্যে কোন ওলী-বুযুর্গ ইন্তিকাল করলে তারা ওর কবরের উপর মসজিদ বানিয়ে নেয় এবং এ জাতীয় ছবি সমূহ টাঙ্গিয়ে রাখে। ওরা কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তা'আলার নিকট সর্ব নিকৃষ্ট সৃষ্টি হিসেবে সাব্যস্ত হবে।
হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাসউদ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল ইরশাদ করেনঃ إِنَّ مِنْ شِرَارِ النَّاسِ مَنْ تُدْرِكُهُمُ السَّاعَةُ وَ هُمْ أَحْيَاءُ ، وَ الَّذِيْنَ يَتَّخِذُوْنَ الْقُبُورَ مَسَاجِدَ অর্থাৎ সর্ব নিকৃষ্ট মানুষ ওরা যারা জীবিত থাকতেই কিয়ামত এসে গেলো এবং ওরা যারা কবরের উপর মসজিদ নির্মাণ করলো। নবী কবরের উপর মসজিদ নির্মাণকারী ইহুদী ও খ্রিষ্টানদেরকে লা'নত (অভিশাপ) দিয়েছেন।
হযরত 'আয়েশা ও ইবনে 'আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তাঁরা বলেনঃ لَمَّا نُزِلَ بِرَسُوْلِ اللهِ ، طَفِقَ يَطْرَحُ خَمِيْصَةً عَلَى وَجْهِهِ ، فَإِذَا اغْتَمَّ كَشَفَهَا عَنْ وَجْهِهِ ، فَقَالَ وَ هُوَ كَذَلِكَ : لَعْنَةُ اللَّهِ عَلَى الْيَهُوْدِ وَ النَّصَارَى ، اتَّخَذُوا قُبُوْرَ أَنْبِيَائِهِمْ مَسَاجِدَ ، يُحَذِّرُ مَا صَنَعُوْا অর্থাৎ যখন রাসূল মৃত্যু শয্যায় তখন তিনি চাদর দিয়ে নিজ মুখমণ্ডল ঢেকে ফেললেন। অতঃপর যখন তাঁর শ্বাস বন্ধ হয়ে যাচ্ছিলো তখন তিনি চেহারা খুলে বললেনঃ ইহুদী ও খ্রিষ্টানদের উপর আল্লাহ্ তা'আলার লা'নত; তারা নবীদের কবরকে মসজিদ বানিয়ে নিলো। এ কথা বলে নবী নিজ উম্মতকে সে কাজ না করতে সতর্ক করে দিলেন।
নবী কবরের উপর মসজিদ বানানোর ব্যাপারে শুধু লা'নত ও নিন্দা করেই ক্ষান্ত হননি বরং তিনি তা করতে সুস্পষ্টভাবে নিষেধও করেছেন।
হ হযরত জুন্দাব থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ আমি নবী কে এ কথা বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেনঃ أَلَا وَ إِنَّ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ كَانُوْا يَتَّخِذُوْنَ قُبُوْرَ أَنْبِيَائِهِمْ وَ صَالِحِيْهِمْ مَسَاجِدَ ، أَلَا فَلَا تَتَّخِذُوا الْقُبُوْرَ مَسَاجِدَ ، إِنِّي أَنْهَاكُمْ عَنْ ذَلِكَ অর্থাৎ তোমাদের পূর্বেকার লোকেরা নিজ নবী ও ওলী-বুযুর্গদের কবরকে মসজিদ বানিয়ে নিতো। সাবধান! তোমরা কবরকে মসজিদ বানিওনা। আমি তোমাদেরকে এ ব্যাপারে কঠোরভাবে নিষেধ করছি।
শুধু কবরের উপর মসজিদ বানানোই নয় বরং রাসূল কবরের উপর বসতে বা উহার দিকে ফিরে নামায পড়তেও নিষেধ করেছেন।
হযরত আবু মারসা থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল ইরশাদ করেনঃ لَا تَجْلِسُوْا عَلَى الْقُبُوْرِ وَ لَا تُصَلُّوْا إِلَيْهَا অর্থাৎ তোমরা কবরের উপর বসোনা এবং উহার দিকে ফিরে নামাযও পড়ো না।
হযরত আনাস্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ نَهَى النَّبِيُّ عَنِ الصَّلَاةِ بَيْنَ الْقُبُوْرِ অর্থাৎ নবী কবরস্থানে নামায পড়তে নিষেধ করেছেন।
রাসূল শুধু কবরের উপর ঘর বানাতে নিষেধ করেই ক্ষান্ত হননি বরং তিনি কবরকে পাকা করতে এবং কবরের সাথে যে কোন বস্তু সংযোজন করতেও কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন।
হযরত জাবির থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ نَهَى رَسُوْلُ اللَّهُ أَنْ يُجَصَّصَ الْقَبْرُ ، وَ أَنْ يُقْعَدَ عَلَيْهِ ، وَ أَنْ يُبْنَى عَلَيْهِ أَوْ يُزَادَ عَلَيْهِ অর্থাৎ রাসূল কবর পাকা করতে, উহার উপর বসতে, ঘর বানাতে এমনকি উহার সাথে কোন জিনিস সংযোজন করতেও নিষেধ করেছেন।
কবরের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসা যাতে মানুষের অন্তরে গেঁথে না যায় এবং রাসূলে আক্রাম এর কবর এলাকা যাতে মেলা বা ঈদগাহে রূপান্তরিত না হয় সে জন্য রাসূল তাঁর কবরের নিকট গিয়ে তাঁকে সালাম করার আদেশ দেননি। বরং তিনি এর বিপরীতে তাঁর কবরের নিকট গিয়ে তাঁকে সালাম করার প্রতি নিজ উম্মতদেরকে অনুৎসাহিত করেছেন। সুতরাং যে কোন মুসলমান যে কোন স্থান হতে তাঁর নিকট সালাত ও সালাম পাঠাতে পারে। অতএব তাঁর কবরের নিকট গিয়ে তাঁকে সালাম দেয়ার মধ্যে কোন বিশেষত্ব নেই।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল ইরশাদ করেনঃ لا تَجْعَلُوا بُيُوتَكُمْ قُبُوْراً ، وَلَا تَجْعَلُوْا قَبْرِي عِيْداً ، وَصَلُّوْا عَلَيَّ ، فَإِنَّ صَلَاتَكُمْ تَبْلُغْنِي حَيْثُ كُنتُمْ অর্থাৎ তোমরা নিজেদের ঘর গুলোকে কবর বানিও না। বরং তোমরা তাতে নফল নামায, কোর'আন তিলাওয়াত ও দো'আ ইত্যাদি করিও এবং আমার কবরকে মেলা বানিও না। তাতে বার বার নির্দিষ্ট সময়ে আসার অভ্যাস করো না। বরং তোমরা সর্বদা আমার উপর সালাত ও সালাম পাঠিও। কারণ, তোমাদের সালাত ও সালাম আমার নিকট অবশ্যই পৌঁছুবে। তোমরা যেখানেই থাকো না কেন।
হযরত আউস্ বিন্ আউস্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল ইরশাদ করেনঃ إِنَّ مِنْ أَفْضَلِ أَيَّامِكُمْ يَوْمَ الْجُمُعَةِ ؛ فِيْهِ خُلِقَ آدَمُ ، وَ فِيهِ قُبِضَ ، وَفِيهِ النَّفْحَةُ، وَ فِيهِ الصَّعْقَةُ ، فَأَكْثَرُوا عَلَيَّ مِنَ الصَّلاةِ فِيْهِ ، فَإِنَّ صَلَاتَكُمْ مَعْرُوْضَةٌ عَلَيَّ ، قَالُوا : يَا رَسُولَ اللَّهِ! وَ كَيْفَ تُعْرَضُ صَلَاتُنَا عَلَيْكَ وَ قَدْ أَرِمْتَ؟! قَالَ: إِنَّ اللَّهُ عَزَّ وَ جَلَّ حَرَّمَ عَلَى الْأَرْضِ أَجْسَادَ الْأَنْبِيَاءِ অর্থাৎ সর্বোৎকৃষ্ট দিন জুমার দিন। এ দিন আদম -কে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং এ দিনই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এ দিন শিঙ্গায় ফুঁ দেয়া হবে এবং এ দিনই সব কিছু ধ্বংস হয়ে যাবে। অতএব তোমরা এ দিন আমার নিকট বেশি বেশি সালাত ও সালাম পাঠিও। কারণ, নিশ্চয়ই তোমাদের সালাত ও সালাম আমার নিকট পৌঁছিয়ে দেয়া হবে। সাহাবারা বললেনঃ কিভাবে আপনার নিকট আমাদের সালাত ও সালাম পৌঁছিয়ে দেয়া হবে? অথচ আপনি তখন মাটি হয়ে নিঃশেষ হয়ে যাবেন। রাসূল বললেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা'আলা মাটির উপর নবীদের শরীর হারাম করে দিয়েছেন।
এ যদি হয় রাসূল এর কবরের অবস্থা। যেখানে যিয়ারাতের উদ্দেশ্যে বার বার যাওয়ার অভ্যাস করা যাবে না। যাতে করে তা মেলাক্ষেত্রে রূপান্তরিত না হয়ে যায়। তাহলে নিয়মিতভাবে প্রতি বছর ওলী-বুযুর্গদের কবরের উপর উরস ও দো'আভোজ উদ্যাপন কিভাবে জায়িয হতে পারে? যা সরাসরি মেলা হওয়ার মধ্যে কোন সন্দেহ নেই এবং যাতে ঈদের চাইতেও অনেক বেশি খুশি প্রকাশ করা হয়। অতএব কোন্ যুক্তিতে উরস মাহফিল অভিমুখে মানতের গরু ছাগল নিয়ে মাযারভক্তদের শোভাযাত্রা বড় শির্ক না হয়ে তা জায়িয বরং সাওয়াবের কাজ হতে পারে? অথচ রাসূল তিনটি মসজিদ ছাড়া অন্য কোথাও সাওয়াবের নিয়্যাতে ভ্রমণ করা হারাম করে দিয়েছেন।
হযরত আবু সাঈদ খুদ্রী থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল ইরশাদ করেনঃ لَا تُشَدُّ الرِّجَالُ إِلَّا إِلَى ثَلَاثَةِ مَسَاجِدَ : مَسْجِدِ الْحَرَامِ ، وَ مَسْجِدِ الْأَقْصَى ، ومسجدي অর্থাৎ তিনটি মসজিদ ব্যতীত অন্য কোথাও সাওয়াবের নিয়্যাতে সফর করা যাবে না। সে মসজিদগুলো হলোঃ হারাম (মক্কা) শরীফ, মসজিদে আক্সা এবং মসজিদে নববী।
হযরত বাস্ত্রা বিন্ আবী বাস্ত্রা গিফারী থেকে বর্ণিত তিনি হযরত আবু হুরাইরাহ্ কে তুর পাহাড় থেকে আসতে দেখে বললেনঃ لَوْ أَدْرَكْتُكَ قَبْلَ أَنْ تَخْرُجَ إِلَيْهِ لَمَا خَرَجْتَ ، سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُوْلُ: لَا تُعْمَلُ الْمَطِيُّ إِلَّا إِلَى ثَلَاثَةِ مَسَاجِدَ : الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ ، وَمَسْجِدِي هَذَا ، وَالْمَسْجِدِ الْأَقْصَى অর্থাৎ আমি আপনাকে তুর পাহাড়ের দিকে যাওয়ার পূর্বে দেখতে পেলে অবশ্যই সে দিকে যেতে দিতাম না। কারণ, আমি রাসূলকে বলতে শুনেছিঃ সাওয়াবের নিয়্যাতে তিনটি মসজিদ ছাড়া অন্য কোথাও সফর করা যাবেনা। সে মসজিদগুলো হলোঃ মসজিদে হারাম, মসজিদে নববী ও মসজিদে আক্সা।
মোটকথা, ওলী-বুযুর্গদের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করা সমূহ ধ্বংসের মূল। সুতরাং যে কোন ধরণের বাড়াবাড়ি ওদের ব্যাপারে শরীয়তের দৃষ্টিতে অগ্রহণযোগ্য।
নবী-ওলীদের নিদর্শন সমূহ অনুসন্ধান করে তা নিয়ে ব্যস্ত হওয়াও তাদের ব্যাপারে বাড়াবাড়ির শামিল। সুতরাং তাও শরীয়তের দৃষ্টিতে অগ্রহণযোগ্য। হযরত নাফি' (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ كَانَ النَّاسُ يَأْتُوْنَ الشَّجَرَةَ الَّتِي يُقَالُ لَهَا شَجَرَةُ الرِّضْوَانَ فَيُصَلُّوْنَ عِنْدَهَا ، قَالَ: فَبَلَغَ ذَلِكَ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ لَهُ فَأَوْعَدَهُمْ فِيْهَا وَ أَمَرَ بِهَا فَقُطِعَتْ অর্থাৎ রাসূল এর মৃত্যুর পর রিওয়ান বৃক্ষের (যে গাছের নীচে রাসূল সাহাবাদেরকে ষষ্ঠ হিজরী সনে মক্কার কাফিরদের সঙ্গে যুদ্ধের বায়'আত করেন) নীচে এসে অনেকেই নামায পড়া শুরু করলো। তা শুনে হযরত 'উমর এ কঠোর ভাষায় উহার নিন্দা করলেন এবং উক্ত গাছটি কেটে ফেললেন। হযরত মা'রুর বিন্ সুওয়াইদ্ (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ একদা আমি 'উমর এর সাথে মক্কার পথে ফজরের নামায আদায় করলাম। অতঃপর তিনি দেখলেন অনেকেই এদিক ওদিক ছুটোছুটি করছে। তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ এরা কোথায় যাচ্ছে। উত্তরে বলা হলোঃ রাসূল যেখানে নামায পড়েছেন ওখানে নামায পড়ার জন্যে। তখন তিনি বললেনঃ إِنَّمَا هَلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ بِمِثْلِ هَذَا ، كَانُوا يَتَتَبَّعُوْنَ آثَارَ أَنْبِيَائِهِمْ وَ يَتَّخِذُونَهَا كَنَائِسَ وَ بِيَعاً ، فَمَنْ أَدْرَكَتْهُ الصَّلَاةُ فِي هَذِهِ الْمَسَاجِدِ فَلْيُصَلِّ ، وَ مَنْ لَا فَلْيَمْضِ وَ لَا يَتَعَمَّدْهَا অর্থাৎ তোমাদের পূর্বেকার লোকেরা এ কারণেই ধ্বংস হয়ে গিয়েছিলো। তারা নিজ নবীদের নিদর্শন সমূহ খুঁজে বেড়াতো এবং উহার উপর গির্জা বা ইবাদাতখানা বানিয়ে নিতো। অতএব এ মসজিদগুলোতে থাকাবস্থায় নামাযের সময় হলে তোমরা তাতে নামায পড়ে নিবে। নতুবা তা অতিক্রম করে যাবে। বিশেষ সাওয়াবের নিয়‍্যাতে তাতে নামায পড়তে আসবে না। হযরত আবুল 'আলিয়াহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ لَمَّا فَتَحْنَا تُسْتَرَ وَجَدْنَا فِي بَيْتِ مَالِ الْهُرْمُزَانِ سَرِيْراً عَلَيْهِ رَجُلٌ مَيِّتَ عِنْدَ رَأْسِهِ مُصْحَفٌ ، فَأَخَذْنَا الْمُصْحَفَ فَحَمَلْنَاهُ إِلَى عُمَرَ ، فَدَعَا لَهُ كَعْباً فَنَسَحَهُ بِالْعَرَبِيَّةِ ، فَأَنَا أَوَّلُ رَجُلِ قَرَأَهُ مِنَ الْعَرَبِ ، قَرَأْتُهُ مِثْلَ مَا أَقْرَأُ الْقُرْآنَ ، قَالَ الرَّاوِي لِأَبِي الْعَالِيَةِ : فَمَا كَانَ فِيْهِ؟ قَالَ: سِيْرَتُكُمْ وَ أُمُوْرُكُمْ وَ لُحُوْنُ كَلَامِكُمْ وَمَا هُوَ كَائِنٌ بَعْدُ ، قَالَ الرَّاوِيُّ: فَمَا صَنَعْتُمْ بِالرَّجُلِ؟ قَالَ: حَفَرْنَا لَهُ بِالنَّهَارِ ثَلَاثَةَ عَشَرَ قَبْراً مُتَفَرِّقَةٌ ، فَلَمَّا كَانَ بِاللَّيْلِ دَفَنَاهُ وَ سَوَّيْنَا الْقُبُورَ كُلَّهَا لِنُعَمِّيَهُ عَلَى النَّاسِ لَا يَنْبُشُونَهُ ، قَالَ : وَ مَا يَرْجُوْنَ مِنْهُ؟ قَالَ: كَانَتِ السَّمَاءُ إِذَا حُبِسَتْ عَنْهُمْ بَرَزُوا بِسَرِيْرِهِ فَيُمْطَرُوْنَ ، قَالَ: مَنْ كُنْتُمْ تَظُنُّوْنَ الرَّجُلَ؟ قَالَ: رَجُلٌ يُقَالُ لَهُ دَانِيَالُ ، قَالَ: مُنْذُ كَمْ وَجَدْتُمُوهُ قَدْ مَاتَ؟ قَالَ: مُنْذُ ثَلَاثَ مِئَةٍ سَنَةٍ ، قَالَ: مَا كَانَ تَغَيَّرَ مِنْهُ شَيْءٌ؟ قَالَ : لا ، إِلَّا شُعَيْرَاتٌ مِنْ قَفَاهُ ، إِنْ لُحُوْمَ الْأَنْبِيَاءِ لَا تُبْلِيْهَا الْأَرْضُ অর্থাৎ যখন আমরা তুস্তার্ জয় করলাম তখন আমরা হুরুমুষের খাজাঞ্চিখানায় একটি খাট পেলাম। তাতে একটি মৃত মানুষ শায়িত এবং তার মাথার পার্শ্বে একখানা কেতাব রাখা আছে। আমরা কেতাবখানা 'উমর এর নিকট নিয়ে আসলে তিনি কা'ব কে ডেকে তা আরবী করে নেন। আরবদের মধ্যে আমিই সর্বপ্রথম তা পড়লাম। যেভাবে আমরা কোর'আন মাজীদ পড়ি সেভাবেই পড়লাম। বর্ণনাকারী বলেনঃ আমি আবুল 'আলিয়াকে জিজ্ঞাসা করলামঃ তাতে কি লেখা ছিলো? তিনি বললেনঃ তোমাদের জীবন যাপন, কর্মকাণ্ড, কথার ধ্বনি ও ভবিষ্যতে যা ঘটবে সে সম্পর্কেই আলোচনা ছিলো। বর্ণনাকারী বললোঃ সে মৃত লোকটাকে আপনারা কি করলেন? তিনি বললেনঃ আমরা দিনের বেলায় বিক্ষিপ্তভাবে তার জন্য তেরোটি কবর খনন করলাম। রাত্র হলে আমরা তাকে কোন একটিতে দাফন করে কবরগুলো সমান করে দেই। যাতে কেউ বুঝতে না পারে তাকে কোথায় দাফন করা হলো। যাতে তারা পুনরায় তাকে কবর থেকে উঠিয়ে না ফেলতে পারে। বর্ণনাকারী বললোঃ তারা সে ব্যক্তি থেকে কি আশা করতো? তিনি বললেনঃ (তাদের ধারণা) যখন তাদের এলাকায় কখনো অনাবৃষ্টি দেখা দিতো তখন তারা তাকে খাট সহ বাইরে নিয়ে আসতো এবং তখনই বৃষ্টি হতো। বর্ণনাকারী বললোঃ আপনাদের ধারণা মতে সে কে হতে পারে? তিনি বললেনঃ লোক মুখে শুনা যায়, তিনি ছিলেন দানিয়াল নবী। বর্ণনাকারী বললোঃ কতদিন থেকে আপনারা তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পেলেন? তিনি বললেনঃ তিন শত বছর থেকে। বর্ণনাকারী বললোঃ তাঁর শরীরের কোন অংশের পরিবর্তন হয়নি কি? তিনি বললেনঃ না। তবে শুধু ঘাড়ের কয়েকটি চুলের সামান্যটুকু পরিবর্তন দেখা গেলো। কারণ, মাটি নবীদের শরীর খেতে পারে না।
কোন কবরকে পূজা করা হলে শরীয়তের পরিভাষায় তা মূর্তিপূজা হিসেবে গণ্য করা হয়। এ কারণেই রাসূল তাঁর কবরকে ভবিষ্যতে কেউ যেন মূর্তি বানিয়ে না নেয় সে জন্য আল্লাহ্ তা'আলার নিকট করুণ কণ্ঠে ফরিয়াদ করেন।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ নবী কারীম আল্লাহ্ তা'আলার নিকট এ দো'আ প্রার্থনা করেনঃ اللَّهُمَّ لَا تَجْعَلْ قَبْرِي وَثَنَا يُعْبَدُ ، لَعَنَ اللهُ قَوْمًا اتَّخَذُوْا قُبُوْرَ أَنْبِيَائِهِمْ مَسَاجِدَ অর্থাৎ হে আল্লাহ্! আপনি আমার কবরকে মূর্তি বানাবেন না। ভবিষ্যতে যার পূজা করা হবে। আল্লাহ্ তা'আলার লা'নত এমন সম্প্রদায়ের উপর যারা নবীদের কবরকে মসজিদ বানিয়ে নিলো।
বর্তমান যুগের কবর পূজারী ও মাযারের খাদিমদের সাথে ইব্রাহীম ও মূসা (আলাইহিমাস্ সালাম) এর যুগের মূর্তি পূজারীদের কতইনা সুন্দর মিল রয়েছে। হযরত ইব্রাহীম তাঁর যুগের মূর্তি পূজারীদেরকে বললেনঃ مَا هَذِهِ التَّمَاثِيْلُ الَّتِي أَنْتُمْ لَهَا عَاكِفُوْنَ অর্থাৎ এ মূর্তিগুলো কি যে; তোমরা তাদের নিকট পূজার জন্য নিয়মিত অবস্থান করছো। হযরত মূসা এর যুগের মূর্তি পূজারীদের সম্পর্কে আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ وَ جَاوَزْنَا بِبَنِي إِسْرَائِيلَ الْبَحْرَ فَأَتَوْا عَلَى قَوْمٍ يَعْكُفُوْنَ عَلَى أَصْنَامٍ لَّهُمْ অর্থাৎ আমি বনী ইস্রাঈলকে সমুদ্র পার করে দিলে তাদের সঙ্গে মূর্তির নিকট নিয়মিত অবস্থানকারী এক দল পূজারীর সাথে সাক্ষাৎ হয়।
কবর পূজারীদের অনেকেরই ধারণা এই যে, যারা একবার আল্লাহ্ তা'আলা ও তদীয় রাসূল এর উপর ঈমান এনেছে তাদের মধ্যে কখনো কোন শিরক পাওয়া যেতে পারে না। মুশরিক শুধু রাসূল এর যুগেই ছিল। যারা তাঁর ইসলাম প্রচারে সর্বদা বাধা প্রদান করতো। অন্যদিকে যে ব্যক্তি একবার আল্লাহ্ তা'আলা ও তদীয় রাসূল এর উপর ঈমান এনেছে সে কি করে মুশরিক হতে পারে? তা কখনোই সম্ভব নয়।
তাদের এ ধারণা সম্পূর্ণরূপেই ভুল প্রমাণিত। কারণ, রাসূল হাদীসের মধ্যে এর সম্পূর্ণ বিপরীত মত পোষণ করেছেন। শুধু এতটুকুতেই তিনি ক্ষান্ত হননি বরং তিনি এ উম্মতের মধ্যে মূর্তি পূজাও যে চালু হবে তা সত্যিকারভাবে ভবিষ্যদ্বাণী করে গেছেন।
হযরত সাউবান থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল ইরশাদ করেনঃ لَا تَقُوْمُ السَّاعَةُ حَتَّى تَلْحَقَ قَبَائِلُ مِنْ أُمَّتِي بِالْمُشْرِكِيْنَ وَ حَتَّى تَعْبُدَ قَبَائِلُ مِنْ أُمَّتِي الْأَوْثَانَ অর্থাৎ কিয়ামত কায়েম হবেনা যতক্ষণনা আমার উম্মতের কয়েকটি গোত্র মুশরিকদের সাথে একাত্মতা ঘোষণা এবং মূর্তি পূজা শুরু করবে।
শুধু এতটুকুতেই ক্ষান্ত নয় বরং রাসূল এর উম্মতরা ছোট-বড় প্রতিটি কাজে ইহুদী, খ্রিষ্টান ও অগ্নিপূজকদের হুবহু অনুসারী হবে।
হযরত আবু সাঈদ খুদ্রী থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ নবী ইরশাদ করেনঃ لَتَتَّبِعُنَّ سَنَنَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ شِبْرًا بِشِبْرٍ ، وَذِرَاعًا بِذِرَاعٍ ، حَتَّى لَوْ سَلَكُوْا جُحْرَ ضَبِّ لَسَلَكْتُمُوهُ ، قُلْنَا : يَا رَسُوْلَ اللهُ الْيَهُودَ وَ النَّصَارَى؟ قَالَ: فَمَنْ ؟! অর্থাৎ তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের অনুসারী হবে। হাত হাত বিঘত বিঘত তথা হুবহু অবিকলভাবে। এমনকি তারা যদি কোন গুইসাপ গর্তে ঢুকে পড়ে তাহলে তোমরাও তাতে ঢুকে পড়বে। আমরা (সাহাবারা) বললামঃ হে আল্লাহ্'র রাসূল! তারা কি ইহুদী ও খ্রিষ্টান? তিনি বললেনঃ তারা নয় তো আর কারা?
এরই পাশাপাশি কোর'আন ও হাদীসে অপরিপক্ক কিছু আলিম সমাজ, রাজা-বাদশাহ, আমীর-উমারা বিপুল সংখ্যক জনসাধারণকে পথভ্রষ্ট করার কাজে ব্যস্ত রয়েছে। তারা এতটুকুও আল্লাহ তা'আলাকে ভয় পাচ্ছে না। এদেরই সম্পর্কে রাসূল ﷺ বহু পূর্বে সত্য ভবিষ্যদ্বাণী করে গেছেন। হযরত সাউবান রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল ﷺ ইরশাদ করেনঃ وَإِنَّمَا أَخَافُ عَلَى أُمَّتِي الْأَئِمَّةَ الْمُضَلِّينَ অর্থাৎ নিশ্চয়ই আমি আমার উম্মতের ব্যাপারে পথভ্রষ্টকারী ইমাম বা নেতাদের ভয় পাচ্ছি। যারা প্রতিনিয়ত জনসাধারণকে গোমরাহ করবে। এতদসত্ত্বেও একটি দল কিয়ামত পর্যন্ত সর্বদা ও সর্বাবস্থায় সত্যের উপর অটল ও অবিচল থাকবে। কারো অসহযোগিতা বা অসঙ্গতিশীলতা তাদের কোনোরূপ ক্ষতি করতে পারবে না।
হযরত সাউবান, মু'আবিয়া ও মুগীরা বিন শো'বা রা. থেকে বর্ণিত তাঁরা বলেনঃ রাসূল ﷺ ইরশাদ করেনঃ لَا تَزَالُ طَائِفَةٌ مِّنْ أُمَّتِي ظَاهِرِينَ عَلَى الْحَقِّ مَنْصُورِينَ، لَا يَضُرُّهُمْ مَّنْ خَذَلَهُمْ وَ لَا مَنْ خَالَفَهُمْ حَتَّى يَأْتِيَهُمْ أَمْرُ اللَّهِ وَ هُمْ عَلَى ذَلِكَ অর্থাৎ সর্বদা আমার একদল উম্মত সত্যবিজয়ী এবং সাহায্যপ্রাপ্ত হবে। কারোর অসহযোগিতা বা বিরোধিতা তাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না। কিয়ামত আসা পর্যন্ত তারা এ অবস্থায় থাকবে।

📘 বড় শিরক কি ও কত প্রকার > 📄 একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলার ঘর মসজিদ ছাড়াও অন্য কোন মাযারের খাদিম হওয়া যায় এমন মনে করার শির্ক

📄 একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলার ঘর মসজিদ ছাড়াও অন্য কোন মাযারের খাদিম হওয়া যায় এমন মনে করার শির্ক


১৮. একমাত্র আল্লাহ তা'আলার ঘর মসজিদ ছাড়াও অন্য কোন মাজার বা কবরে অবস্থান তথা সেখানকার খাদিম হওয়া যায় এমন মনে করার শিরকঃ
আল্লাহ্ তা'আলা কোর'আন মাজীদের মধ্যে সাওয়াবের নিয়্যাতে একমাত্র তাঁর ঘর মসজিদে অবস্থান তথা ই'তিকাফ করার অনুমতি দিয়েছেন। অন্য কোথাও নয়।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ وَ عَهِدْنَا إِلَى إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ أَنْ طَهِّرا بَيْتِيَ لِلطَّائِفِينَ وَالْعَاكِفِينَ وَالرُّكَّعِ السُّجُودِ অর্থাৎ আমি ইব্রাহীম ও ইসমাঈল (আলাইহিমাস্ সালাম) থেকে এ বলে অঙ্গীকার নিয়েছি যে, তোমরা আমার ঘরকে তাওয়াফকারী, ই'তিকাফকারী এবং রুকু ও সিজদাহকারীদের জন্যে পবিত্র রাখো।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল ইরশাদ করেনঃ لأَنْ يَجْلِسَ أَحَدُكُمْ عَلَى جَمْرَةٍ فَتَحْرِقَ ثِيَابَهُ ، فَتَخْلُصَ إِلَى جِلْدِهِ خَيْرٌ لَهُ مِنْ أَنْ يَجْلِسَ عَلَى قَبْرٍ অর্থাৎ তোমাদের কারোর জন্য জ্বলন্ত কয়লার উপর বসা খুবই উত্তম কোন কবরের উপর বসার চাইতে। যদিও জ্বলন্ত কয়লার উপর বসলে তার কাপড় জ্বলে শেষ পর্যন্ত তার শরীরের চামড়াও জ্বলে যাবে তবুও।
কবরের খাদিমরা সরাসরি কবরের উপর না বসে থাকলেও কবরের উপর বসার ন্যায়ই। কারণ, কবরের পাশেই তাদের অবস্থান এবং কবরকে নিয়েই তাদের সকল ব্যস্থতা। সুতরাং উক্ত হাদীস তাদের ব্যাপারে প্রযোজ্য হওয়া একেবারেই অবাঞ্ছিত নয়।

📘 বড় শিরক কি ও কত প্রকার > 📄 আল্লাহ্ তা'আলা সর্ব জায়গায় অথবা সকল মু'মিনের অন্তরে অথবা সকল বস্তুর মধ্যে লুক্কায়িত রয়েছেন এমন মনে করার শির্ক

📄 আল্লাহ্ তা'আলা সর্ব জায়গায় অথবা সকল মু'মিনের অন্তরে অথবা সকল বস্তুর মধ্যে লুক্কায়িত রয়েছেন এমন মনে করার শির্ক


১৯. আল্লাহ্ তা'আলা সর্ব জায়গায় অথবা সকল মু'মিনের অন্তরে অথবা সকল বস্তুর মধ্যে লুক্কায়িত রয়েছেন এমন মনে করার শিরকঃ
আল্লাহ্ তা'আলা সর্ব জায়গায় রয়েছেন অথবা সকল মু'মিনের অন্তরে অথবা সকল বস্তুর মধ্যে লুক্কায়িত রয়েছেন বলে ধারণা করা এটাই প্রমাণ করে যে, আল্লাহ্ তা'আলা একের অধিক। আর এটিই হচ্ছে আল্লাহ্ তা'আলার একত্ববাদে অস্বীকৃতি তথা তাঁর একক সত্তায় শিরক।
মূলতঃ আল্লাহ্ তা'আলা (নিজ সত্তা নিয়ে) সব কিছুর উপরে বিশেষভাবে 'আরশে 'আজীমের উপর যেভাবে থাকার ওভাবেই রয়েছেন। অন্য কোথাও নয়। তিনি 'আরশে 'আজীমের উপর থেকেই সর্বস্থানের সবকিছু দেখেন, জানেন ও শুনেন।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ أَأَمِنْتُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ أَنْ يَخْسِفَ بِكُمُ الْأَرْضَ ، فَإِذَا هِيَ تَمُوْرُ ، أَمْ أَمِنْتُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ أَنْ يُرْسِلَ عَلَيْكُمْ حَاصِباً ، فَسَتَعْلَمُوْنَ كَيْفَ نَذِيرِ অর্থাৎ তোমরা কি এ ব্যাপারে নিশ্চিন্ত যে, আকাশের উপর যিনি রয়েছেন তিনি তোমাদেরকে সহ ভূমি ধ্বসিয়ে দিবেননা? অতঃপর ভূমি আকস্মিকভাবে থরথর করে কাঁপতে কাঁপতে ধ্বংস হয়ে যাবে। তোমরা কি এ ব্যাপারে নিশ্চিন্ত যে, আকাশের উপর যিনি রয়েছেন তিনি তোমাদের উপর কঙ্করবর্ষী ঝড়-ঝঞ্ঝা প্রেরণ করবেননা? তখন তোমরা অবশ্যই বুঝতে পারবে কেমন ছিলো আমার সতর্কবাণী।
আল্লাহ্ তা'আলা আরো বলেনঃ تَعْرُجُ الْمَلَائِكَةُ وَالرُّوْحُ إِلَيْهِ অর্থাৎ ফিরিশতা ও জিব্রীল আল্লাহ্ তা'আলার দিকে ঊর্ধ্বগামী হবে। তিনি আরো বলেনঃ إِلَيْهِ يَصْعَدُ الْكَلِمُ الطَّيِّبُ অর্থাৎ তাঁর দিকেই পবিত্র বাণীসমূহ আরোহণ করে। আল্লাহ্ তা'আলা 'ঈসা -কে উদ্দেশ্য করে বলেনঃ إِنِّي مُتَوَفِّيْكَ وَ رَافِعُكَ إِلَيَّ অর্থাৎ নিশ্চয়ই আমি আপনাকে নিরাপদভাবে আমার দিকে উত্তোলন করবো। আল্লাহ্ তা'আলা আরো বলেনঃ إِنَّ رَبَّكُمُ اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ، ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ অর্থাৎ নিশ্চয়ই তোমাদের প্রভু আল্লাহ্ তা'আলা। যিনি আকাশ ও পৃথিবীকে সৃষ্টি করেছেন ছয় দিনে। অতঃপর তিনি নিজ 'আরশে 'আজীমের উপর অবস্থান করেন। তিনি আরো বলেনঃ اللَّهُ الَّذِي رَفَعَ السَّمَاوَاتِ بِغَيْرِ عَمَدٍ تَرَوْنَهَا ، ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ অর্থাৎ তিনিই আল্লাহ্ যিনি আকাশমণ্ডলীকে স্থাপন করেছেন স্তম্ভ বিহীন। যা তোমরা দেখতে পাচ্ছো। অতঃপর তিনি নিজ 'আরশে 'আজীমের উপর অবস্থান করেন। তিনি আরো বলেনঃ الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى অর্থাৎ দয়াময় প্রভু 'আরশে 'আজীমের উপর অবস্থান করেন।
তিনি আরো বলেনঃ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَ الْأَرْضَ وَ مَا بَيْنَهُمَا فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ، ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ ، الرَّحْمَنُ فَاسْأَلْ بِهِ خَبِيراً অর্থাৎ যিনি (আল্লাহ) আকাশ ও পৃথিবী এবং এতদুভয়ের মাঝে যা কিছু রয়েছে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তিনি নিজ 'আরশে 'আজীমের উপর অবস্থান করেন। তিনি দয়াময়। অতএব তাঁর সম্পর্কে বিজ্ঞ ব্যক্তিকেই জিজ্ঞাসা করে দেখো।
তিনি আরো বলেনঃ اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَ مَا بَيْنَهُمَا فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ، ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ অর্থাৎ তিনিই আল্লাহ্ যিনি আকাশ ও পৃথিবী এবং এতদুভয়ের মাঝে যা কিছু রয়েছে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তিনি নিজ 'আরশে 'আজীমের উপর অবস্থান করেন।
তিনি আরো বলেনঃ هُوَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَ الأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ، ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ অর্থাৎ তিনিই (আল্লাহ্) আকাশ ও পৃথিবীকে সৃষ্টি করেছেন ছয় দিনে। অতঃপর তিনি নিজ 'আরশে 'আজীমের উপর অবস্থান করেন।
এ 'আরশে 'আজীম থেকে নেমেই আল্লাহ্ তা'আলা প্রতি রাত্রের শেষ তৃতীয়াংশে দুনিয়ার আকাশে এসে সকল মানুষকে তাঁর নিকট প্রার্থনা করার জন্য আহ্বান করে থাকেন। তবে এমন নয় যে, তিনি প্রথম আকাশে নেমে আসলে তিনি 'আরশের নীচে চলে আসেন। তখন তিনি 'আরশের উপর থাকেননা। বরং তিনি কিভাবে নিম্নাকাশে আসেন তা তিনিই ভালো জানেন। আমাদের তা জানা নেই।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল ইরশাদ করেনঃ يَنْزِلُ رَبُّنَا تَبَارَكَ وَتَعَالَى كُلَّ لَيْلَةٍ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا حِيْنَ يَبْقَى ثُلُثُ اللَّيْلِ الآخرُ يَقُوْلُ: مَنْ يَدْعُوْنِي فَأَسْتَجِيْبَ لَهُ ، مَنْ يَسْأَلُنِي فَأُعْطِيَهُ ، مَنْ يَسْتَغْفِرُنِي فَأَغْفِرَ لَهُ অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা প্রতি রাত্রের শেষ তৃতীয়াংশে দুনিয়ার আকাশে এসে বলতে থাকেনঃ তোমরা কে আছো আমাকে ডাকবে আমি তার ডাকে সাড়া দেবো। তোমরা কে আছো আমার কাছে কিছু চাবে আমি তাকে তা দান করবো। তোমরা কে আছো আমার কাছে ক্ষমা চাবে আমি তাকে ক্ষমা করে দেবো।
হযরত মু'আবিয়া বিন্ 'হাকাম থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ كَانَتْ لِي جَارِيَةٌ تَرْعَى غَنَماً لِيْ قِبَلَ أَحُدٍ وَ الْجَوَّانِيَّةِ فَاطَّلَعْتُ ذَاتَ يَوْمٍ فَإِذَا الذِّئْبُ قَدْ ذَهَبَ بِشَاةٍ مِنْ غَنَمِهَا ، وَ أَنَا رَجُلٌ مِنْ بَنِي آدَمَ ، آسَفُ كَمَا يَأْسَفُوْنَ، لَكِنِّي صَكَكْتُهَا صَكَةً ، فَأَتَيْتُ رَسُوْلَ اللهِ ، فَعَظْمَ ذَلِكَ عَلَيَّ ، قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ! أَفَلَا أَعْتِقُهَا؟ قَالَ: انْتِنِي بِهَا ، فَأَتَيْتُهُ بِهَا ، فَقَالَ لَهَا : أَيْنَ اللَّهُ ؟ قَالَتْ: فِي السَّمَاءِ ، قَالَ: مَنْ أَنَا؟ قَالَتْ: أَنْتَ رَسُوْلُ اللَّهِ ، قَالَ : أَعْتَقْهَا ، فَإِنَّهَا مُؤْمِنَةٌ অর্থাৎ আমার একটি দাসী ছিলো। উহুদ ও জাওয়ানিয়া এলাকাদ্বয়ের আশপাশে ছাগল চরাতো। একদা আমি দেখতে পেলাম, ছাগলপালের একটি ছাগল নেই। নেকড়ে তা খেয়ে ফেলেছে। আর আমি একজন মানুষ। কোন কিছু বিনষ্ট হলে অন্যের ন্যায় আমিও ব্যথিত হই। তাই আমি দাসীর উপর রাগান্বিত হয়ে তাকে একটি থাপ্পড় মেরে দিলাম। অতঃপর তা রাসূল এর নিকট বর্ণনা করলে তিনি ব্যাপারটিকে মারাত্মক ভাবলেন। আমি বললামঃ হে আল্লাহ্'র রাসূল! আমি কি ওকে স্বাধীন করে দেবো? তিনি বললেনঃ ওকে আমার নিকট নিয়ে এসো। অতঃপর আমি ওকে তাঁর নিকট নিয়ে আসলাম। তিনি ওকে বললেনঃ আল্লাহ্ তা'আলা কোথায়? সে বললোঃ আকাশে। তিনি বললেনঃ আমি কে? সে বললোঃ আপনি আল্লাহ্'র রাসূল। রাসূল বললেনঃ ওকে স্বাধীন করে দাও। কারণ, সে ঈমানদার।
রাসূল দাসীটিকে আল্লাহ্ তা'আলা কোথায় আছেন প্রশ্নের উত্তরে তিনি আকাশে আছেন বলার পর তাকে ঈমানদার বলে সার্টিফিকেট দিয়েছেন। অতএব আমাদের ভাবা দরকার। আমরাও কি সে বিশ্বাসে বিশ্বাসী। আমারা রাসূল এর পক্ষ থেকে ঈমানের সার্টিফিকেট পাচ্ছি কিনা। রাসূল আরো বলেনঃ أَلَا تَأْمَنُوْنِي وَ أَنَا أَمِينُ مَنْ فِي السَّمَاءِ অর্থাৎ তোমরা কি আমাকে বিশ্বাস করোনা? অথচ আকাশে যিনি আছেন তিনি আমাকে বিশ্বাস করেন।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল ইরশাদ করেনঃ وَ الَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا مِنْ رَجُلٍ يَدْعُوْ امْرَأَتَهُ إِلَى فِرَاشِهَا ، فَتَأْبَى عَلَيْهِ ، إِلَّا كَانَ الَّذِي فِي السَّمَاءِ سَاخِطًا عَلَيْهَا حَتَّى يَرْضَى عَنْهَا অর্থাৎ ও সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার জীবন! কোন পুরুষ নিজ স্ত্রীকে (সহবাসের জন্য) বিছানার দিকে ডাকলে সে যদি তার ডাকে সাড়া না দেয় তাহলে যে সত্তা আকাশে আছেন তিনি ওর উপর অসন্তুষ্ট হন যতক্ষণনা তার স্বামী তার উপর সন্তুষ্ট হয়।
হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল ইরশাদ করেনঃ ارْحَمُوْا مَنْ فِي الْأَرْضِ يَرْحَمْكُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ অর্থাৎ তোমারা বিশ্ববাসীর উপর দয়া করো তাহলে আকাশে যিনি রয়েছেন তিনি তোমাদের উপর দয়া করবেন।
হযরত যায়নাব বিন্ত জাহ্শ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) রাসূল এর অন্যন্য স্ত্রীদের উপর গর্ব করে বলতেনঃ زَوَّجَكُنَّ أَهَالِيْكُنَّ ، وَ زَوَّجَنِيَ اللَّهُ تَعَالَى مِنْ فَوْقِ سَبْعِ سَمَاوَاتِ অর্থাৎ তোমাদেরকে তোমাদের পরিবারবর্গ বিবাহ্ দিয়েছে। আর আমাকে স্বয়ং আল্লাহ্ তা'আলা সপ্তাকাশের উপর থেকে বিবাহ্ দিয়েছেন।
মি'রাজের হাদীস তো সবারই জানা। এ ছাড়া কয়েক ডজন হাদীসও একই বক্তব্য উপস্থাপন করছে। এমনকি সাহাবায়ে কিরাম এবং তাবিয়ীনদেরও এ ব্যাপারে ঐকমত্য রয়েছে।
পরবর্তী আলিমদের মধ্য থেকে হযরত ইমাম আবু হানীফা, ইবনু জুরাইজ, আওযায়ী, মুক্বাতিল, সুষ্ঠুয়ান সাওরী, ইমাম মালিক, লাইস্ বিন্ সা'দ, সালাম বিন্ আবী মুত্বী', হাম্মাদ বিন্ সালামাহ্, আব্দুল আযীয বিন্ আল-মা'জিশূন, হাম্মাদ বিন যায়েদ, ইবনু আবী লাইলা, জা'ফর সাদিক, সালাম বস্ত্রী, ক্বাযী শরীক, মুহাম্মাদ বিন্ ইস্'হাক্ব, মিস্'আর বিন্ কিদাম, জারীর আয-যাব্বী, আব্দুল্লাহ্ বিন্ আল-মুবারাক, ফুযাইল বিন্ 'ইয়ায, হুশাইম বিন্ বাশীর, নূহ আল-জা'মি', আব্বাদ বিন্ আল-'আওয়াম, ক্বাযী আবু ইউসুফ, 'আব্দুল্লাহ্ বিন্ ইদ্রীস, মুহাম্মাদ বিন্ হাসান, বুকাইর বিন জা'ফর, বিশ্ব বিন্ 'উমর, ইয়া'হয়া আল-ক্বাত্ত্বান, মানূর বিন্ 'আম্মার, আবু নু'আইম আল-বাল্বী, আবু মু'আয আল-বাল্বী, সুইয়ান বিন্ 'উয়াইনাহ্, আবু বকর বিন্ 'আইয়াশ, 'আলী বিন্ 'আসিম, ইয়াযীদ বিন্ হা'রূন, সা'য়ীদ বিন্ 'আ'মির আয-যাবা'য়ী, ওয়াকী' বিন্ আল-জারাহ্, 'আব্দুর রহমান বিন্ মাহ্দী, ওয়াহাব বিন্ জারীর, আস্মা'য়ী, খালীল বিন্ আহমাদ, ফারা', খুরাইবী, 'আব্দুল্লাহ্ বিন্ আবী জা'ফর আর-রাযী, নাযার বিন্ মু'হাম্মাদ আল-মারওয়াযী, ইমাম শাফি'য়ী, ক্বা'নাবী, 'আফ্ফান, 'আ'সিম বিন্ 'আলী, 'হুমাইদী, ইয়াহুয়া বিন্ ইয়াহুয়া নীসাবুরী, হিশাম বিন্ 'উবাইদুল্লাহ্ আর-রাযী, 'আব্দুল মালিক বিন্ আল-মা'জিশূন, মু'হাম্মাদ বিন্ মুস'আব আল-'আ'বিদ, সুনাইদ বিন্ দাউদ আল-মিস্সীসী, নু'আইম বিন্ 'হাম্মাদ আল-খুযা'য়ী, বিশ্ব আল-'হাফী, আবু 'উবাইদ আল-ক্বা'সিম বিন্ সাল্লা'ম, আহ্মাদ বিন্ নাস্ত্র আল-খুযা'য়ী, মাক্কী বিন্ ইব্রা'হীম, কুতাইবাহ্ বিন্ সা'ঈদ, আবু মু'আম্মার আল-ক্বাত্বী'য়ী, ইয়াহয়া বিন্ মু'ঈন, 'আলী বিন্ আল-মাদীনী, ইমাম আহমাদ বিন্ 'হাম্বাল, ইস্'হাক্ব বিন্ রা'হুয়াহ্, আবু 'আব্দিল্লাহ্ ইবনুল আ'রাবী, আবু জা'ফর আন-নুফাইলী, 'ঈশী, হিশা'ম বিন্ 'আম্মার, যুনুন আল-মাস্ত্রী, আবু সাউর, মুযানী, যুহুলী, ইমাম বুখারী, আবু যুর'আহ্ আর-রাযী, আবু হা'তিম আর-রাযী, ইয়াহুয়া বিন্ মু'আয আর-রাযী, আহ্মাদ বিন্ সিনান, মুহাম্মাদ বিন্ আস্লাম তুসী, আব্দুল ওয়াহ্হাব আল-ওয়ারাক্ব, 'হাবুব আল-কিৰ্মানী, 'উস্মান বিন্ সা'ঈদ আদ-দা'রামী, আবু মুহাম্মাদ আদ-দা'রামী, আহমাদ বিন্ ফুরা'ত আর-রাযী, আবু ইস্হাক্ব আল-জুযেজানী, ইমাম মুসলিম, ক্বাযী সা'লিহ্ বিন্ ইমাম আহমাদ, হা'ফিয আবু আব্দুর রহমান বিন্ ইমাম আহমাদ, হাম্বাল বিন্ ইস্হাক্ব, আবু উমাইয়াহ্ আত্ব-ত্বারসূসী, বাক্বী বিন্ মিখলাদ, ক্বাযী ইস্মা'ঈল, হা'ফিয ইয়া'কুব আল-ফাসাওয়ী, হা'ফিয ইবনু আবী খাইসামাহ্, আবু যুর'আ আদ-দামেস্ট্রী, ইবনু নাসার আল- মারওয়াযী, ইবনু কুতাইবাহ্, ইবনু আবী 'আসিম, আবু 'ঈসা আত- তিরমিযী, ইবনু মা'জাহ্, ইবনু আবী শাইবাহ্, সাহল আত-তুস্তারী, আবু মুসলিম আল-কাজী, যাকারিয়া' আস-সা'জী, মুহাম্মাদ বিন্ জারীর, বুশান্জী, ইবনু খুযাইমাহ্, ইবনু সুরাইজ, আবু বকর বিন্ আবী দাউদ, 'আমর বিন্ 'উম্মান আল-মাক্কী, সা'লাব, আবু জা'ফর আত-তিরমিযী, আবুল 'আব্বাস আস-সিরা'জ, হা'ফিয আবু 'আওয়ানাহ্, ইবনু সা'ঈদ, ইমাম ত্বা'হাবী, নিষ্ক্রাওয়াইহ্, আবুল 'হাসান আল-আশ'আরী, 'আলী বিন্ 'ঈসা আশ-শিব্‌ল্লী, আবু আহমাদ আল-'আস্সাল, আবু বকর আয্যাবা'য়ী, আবুল ক্বাসিম আত্ব-ত্বাবারানী, ইমাম আবু বকর আল- আ'জুরী, হা'ফিয আবুস্ শাইখ, আবু বকর আল-ইসমা'ঈলী, আযহারী, আবু বকর বিন্ শা'যা'ন, আবুল 'হাসান বিন্ মাহ্দী, ইবনু সুষ্ঠুয়ান, ইবনু বাত্বত্বাহ্, আদ-দারাকুত্বনী, ইবনু মান্দাহ্, ইবনু আবী যায়েদ, খাত্বত্বাবী, ইবনু ফুরাক, ইবনুল বা'ক্বিল্লানী, আবু আহমাদ আল-ক্বাস্সাব, আবু নু'আইম আল-আস্বাহানী, মু'আম্মার বিন্ যিয়া'দ, আবুল-ক্বা'সিম আল- লা'লাকা'য়ী, ইয়াহয়া বিন্ 'আম্মার, আল-ক্বা'দির বিল্লাহ্, আবু 'উমর আত্বত্বালমাক্বী, আবু 'উম্মান আস-সা'বুনী, মুক্তী সুলাইম, আবু নাস্ত্র আসিজ্যী, আবু 'আম্র আদ-দা'নী, ইবনু আব্দিল বার, ক্বাযী আবু ইয়া'লা, বায়হাক্বী, আবু বকর আল-খাত্বীব, মুক্তী নাস্ত্র আল-মাক্বদিসী, ইমামুল 'হারামাইন আল-জুওয়াইনী, সা'দ আয-যানজানী, শাইখুল ইসলাম আব্দুল্লাহ্ আল-আন্সারী, ইমাম আল-ক্বায়রাওয়ানী, ইবনু আবী কিয়াহ্ আত-তাইমী, ইমাম আল-বাগাওয়ী, আবুল 'হাসান আল-কাৰ্জী, আবুল ক্বাসিম আত-তাইমী, ইবনু মাউহিব, আবু বকর ইবনুল-'আরাবী, আব্দুল্ ক্বাদির আল-জীলি, শাইখ আবুল বায়ান, ইমাম কুরতুবী এবং আরো অন্যান্যরাও এ মত পোষণ করেন।
মানুষের বিবেকও উক্ত মত সমর্থন করে। কারণ, এ কথা সবারই জানা যে, আল্লাহ্ তা'আলা কোন কিছু সৃষ্টি করার পূর্বে তিনি একাই ছিলেন। তখন আর কোন কিছুই ছিলোনা। অতঃপর আল্লাহ্ তা'আলা সব কিছুই সৃষ্টি করলেন।
এখন আমরা বলবোঃ আল্লাহ্ তা'আলা কি সকল বস্তু নিজ সত্তার ভিতরেই তৈরি করেছেন। না বাইরে। প্রথম কথা কোনভাবেই ঠিক নয়। কারণ, তখন বলতে হবেঃ আল্লাহ্ তা'আলার ভিতরেই মানুষ, জিন ও শয়তান রয়েছে। এ ধারণা কুফরি বৈ কি? তাহলে এ কথাই প্রমাণিত হলো যে, আল্লাহ্ তা'আলা সকল কিছু নিজ সত্তার বাইরেই তৈরি করেছেন। তখন আরেকটি প্রশ্ন জাগে এই যে, তিনি সব কিছু তৈরি করে তাতে পুনরায় ঢুকেছেন না ঢুকেননি? প্রথম কথা একেবারেই ঠিক নয়। কারণ, তখন বলতে হবেঃ আল্লাহ্ তা'আলা ময়লাস্থানেও রয়েছেন। আর তা আল্লাহ্ তা'আলার শানে বেয়াদবি তথা কুফরি বৈ কি? তাহলে আমরা এখন এ কথায় নিশ্চিত হতে পারি যে, আল্লাহ্ তা'আলা সব কিছু সৃষ্টি করে তিনি সব কিছুর উপরেই রয়েছেন।

📘 বড় শিরক কি ও কত প্রকার > 📄 একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়াও অন্য কোন নবী-ওলী অথবা অন্য কোন পীর-বুযুর্গ সব কিছু শুনতে বা দেখতে পান এমন মনে করার শির্ক

📄 একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়াও অন্য কোন নবী-ওলী অথবা অন্য কোন পীর-বুযুর্গ সব কিছু শুনতে বা দেখতে পান এমন মনে করার শির্ক


২০. একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়াও অন্য কোন নবী- ওলী অথবা অন্য কোন পীর-বুযুর্গ সব কিছু শুনতে বা দেখতে পান এমন মনে করার শিকঃ
একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলাই সব কিছু দেখতে বা শুনতে পান। তা যতই ক্ষুদ্র বা সূক্ষ্ম হোকনা কেন এবং যতই তা অদৃশ্য বা অস্পষ্ট হোকনা কেন। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ وَ مَا تَكُوْنُ فِي شَأْنٍ ، وَ مَا تَتْلُوْا مِنْهُ مِنْ قُرْآنٍ ، وَ لَا تَعْمَلُوْنَ مِنْ عَمَلٍ إِلَّا كُنَّا عَلَيْكُمْ شُهُوداً إِذْ تُفِيضُوْنَ فِيْهِ ، وَ مَا يَعْزُبُ عَنْ رَّبِّكَ مِنْ مِّثْقَالَ ذَرَّةٍ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَ لَا أَصْغَرَ مِنْ ذَلِكَ وَ لَا أَكْبَرَ إِلَّا فِي كِتَابٍ مُّبِيْنٍ অর্থাৎ হে রাসূল! তুমি যে কোন অবস্থায়ই থাকোনা কেন অথবা কোর'আন মাজীদের যে কোন আয়াতই পড়োনা কেন এমনকি তোমরা (নবী ও তাঁর সকল উম্মত) কোন্ কাজ কোন্ সময় করো তা সবই আমি জানি। আকাশ ও পৃথিবীতে একটি ছোট লাল পিপীলিকা (অণু) সমপরিমাণ অথবা তার থেকেও ক্ষুদ্র বা বড় যে পরিমাপেরই হোকনা কেন কোন বস্তুই তোমার প্রভুর অগোচরে নয়। বরং তা সুস্পষ্ট কিতাব তথা লাওহে মাহফুযে লিপিবদ্ধ রয়েছে।
আল্লাহ্ তা'আলা আরো বলেনঃ وَ قَالَ الَّذِيْنَ كَفَرُوا لَا تَأْتِيْنَا السَّاعَةُ ، قُلْ بَلَى وَ رَبِّي لَتَأْتِيَنَّكُمْ ، عَالِمِ الْغَيْبِ، لَا يَعْزُبُ عَنْهُ مِثْقَالُ ذَرَّةٍ فِي السَّمَاوَاتِ وَ لَا فِي الْأَرْضِ وَ لَا أَصْغَرُ مِنْ ذَلِكَ وَ لَا أَكْبَرُ إِلَّا فِي كِتَابٍ مُّبِينِ অর্থাৎ কাফিররা বলেঃ আমাদের উপর কিয়ামত আসবেনা। হে নবী! আপনি ওদেরকে বলে দিনঃ আমার প্রভুর কসম খেয়ে বলছিঃ কিয়ামত অবশ্যই আসবে। তিনি অদৃশ্য সম্পর্কে সম্যক অবগত। আকাশ ও পৃথিবীতে একটি ছোট পিপীলিকা সমপরিমাণ অথবা তার থেকেও ক্ষুদ্র বা বড় যে পরিমাপেরই হোকনা কেন কোন বস্তুই তাঁর অগোচরে নয়। বরং তা সুস্পষ্ট কিতাব তথা লাওহে মাহফুযে লিপিবদ্ধ রয়েছে। তিনি আরো বলেনঃ إِنَّ اللَّهَ لَا يَخْفَى عَلَيْهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَ لَا فِي السَّمَاءِ অর্থাৎ নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা'আলার নিকট আকাশ ও পৃথিবীর কোন বস্তুই লুক্কায়িত নয়। তিনি আরো বলেনঃ إِنَّهُ يَعْلَمُ الْجَهْرَ وَ مَا يَخْفَى অর্থাৎ নিশ্চয়ই তিনি প্রকাশ্য ও গুপ্ত সকল বিষয়ই জানেন। হযরত আবু মূসা থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ فِي سَفَرٍ ، فَجَعَلَ النَّاسُ يَجْهَرُوْنَ بِالتَّكْبِيرِ ، فَقَالَ النَّبِيُّ : أَيُّهَا النَّاسُ ارْبَعُوا عَلَى أَنْفُسِكُمْ ، إِنَّكُمْ لَيْسَ تَدْعُوْنَ أَصَمَّ وَ لَا غَائِباً ، إِنَّكُمْ تَدْعُوْنَ سَمِيعاً قَرِيباً ، وَ هُوَ مَعَكُمْ অর্থাৎ আমরা একদা নবী এর সাথে সফরে ছিলাম। পথিমধ্যে কিছু লোক উচ্চৈঃস্বরে তাকবীর পড়ছিলো। তখন রাসূল তাদেরকে বললেনঃ হে মানুষরা! নিজের উপর দয়া করো। নিম্নস্বরে তাকবীর বলো। কারণ, তোমরা এমন কাউকে ডাকছোনা যে বধির ও অনুপস্থিত তথা তোমাদের থেকে অনেক দূরে। বরং তোমরা ডাকছো এমন এক সত্তাকে যিনি তোমাদের নিকটেই এবং তিনি সব কিছুই শুনতে পাচ্ছেন। তিনি তোমাদের সাথেই রয়েছেন।
অনেক কোর'আন ও হাদীসে অপরিপক্ক ব্যক্তি উক্ত হাদীস শুনে খুব খুশি হয়ে থাকবেন। কারণ, তাদের ধারণা, আল্লাহ্ তা'আলা নিজ সত্তা সহ সর্বস্থানেই রয়েছেন। মূলতঃ তাদের এতে খুশি হওয়ার কোন কারণ নেই। কারণ, আল্লাহ্ তা'আলা এ সকল মূর্খদের সম্পর্কে সর্বদা অবগত রয়েছেন বলে তিনি বহু পূর্বেই কারোর সাথে তাঁর থাকার সত্যিকারার্থ নিজ কোর'আন মাজীদের মধ্যে সুন্দরভাবে বাতলিয়ে দিয়েছেন।
আল্লাহ্ তা'আলা হযরত মূসা ও হারুন (আলাইহিমাস্ সালাম) সম্পর্কে বলেনঃ قَالَ لَا تَخَافَا ، إِنَّنِي مَعَكُمَا أَسْمَعُ وَ أَرَى অর্থাৎ তিনি (আল্লাহ্ তা'আলা) বলেনঃ তোমরা ভয় পেয়োনা। আমিতো তোমাদের সঙ্গেই আছি। আমি তোমাদের সকল কথা শুনছি ও তোমাদের সকল কাজ অবলোকন করছি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00