📘 বড় শিরক কি ও কত প্রকার > 📄 আল্লাহ্'র শাস্তির ভয়

📄 আল্লাহ্'র শাস্তির ভয়


গ. আল্লাহ্ তা'আলার আযাবের ভয়ঃ মু'মিন বলতেই তাকে অবশ্যই আল্লাহ্ তা'আলার কঠিন আযাবের ভয় পেতে হবে। এ জাতীয় ভয় কারোর মধ্যে না থাকলে কখনোই তার পক্ষে কোন গুনাহ্'র কাজ থেকে বাঁচা সম্ভবপর নয়। এ জাতীয় ভয় ইহসানের অন্তর্ভুক্ত। কোর'আন ও হাদীস এ জাতীয় ভয় প্রদর্শনে পরিপূর্ণ। তবে শুধু ভয় প্রদর্শনই নয় বরং পাশাপাশি এর উপকারিতাও বর্ণনা করা হয়েছে।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ ذَلِكَ لِمَنْ خَافَ مَقَامِي وَ خَافَ وَعِيْدِ অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলার জমিনে অধিষ্ঠিত হওয়ার একমাত্র অধিকার ওদের যারা কিয়ামতের দিন আমার সামনে উপস্থিতির ভয় পায় এবং আমার কঠিন শাস্তিরও।
তিনি আরো বলেনঃ وَ لِمَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِ جَنَّتَانِ অর্থাৎ যে ব্যক্তি কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তা'আলার সামনে উপস্থিতির ভয় পায় তার জন্যই রয়েছে দু'টি জান্নাত।
তিনি আরো বলেনঃ قَالُوْا إِنَّا كُنَّا قَبْلُ فِي أَهْلَنَا مُشْفِقِيْنَ অর্থাৎ জান্নাতীরা তখন বলবেঃ আমরা ইতিপূর্বে দুনিয়াতেও পরিবার- পরিজনের সাথে থাকাবস্থায় আল্লাহ্ তা'আলার ভয়ে শংকিত ছিলাম। আল্লাহ্ তা'আলা তার নেককার বান্দাহদের গুণাবলী বর্ণনা করতে গিয়ে বলেনঃ يُؤْفُوْنَ بِالنَّذْرِ وَيَخَافُوْنَ يَوْمًا كَانَ شَرُّهُ مُسْتَطِيْراً অর্থাৎ তারা মানত পুরো করে এবং সে দিনকে (কিয়ামতের দিন) ভয় পায় যে দিনের ভয়াবহতা হবে খুবই ব্যাপক।
একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলার ভয়ে আক্রান্ত ব্যক্তিরাই সাধারণত দ্রুত কল্যাণমুখী হয়ে থাকে। অন্যরা নয়। আর শুধুমাত্র গুনাহ্'র কারণেই যে আল্লাহ্ তা'আলার আযাবকে ভয় করতে হবে তাও কিন্তু সর্বশেষ কথা নয়। বরং সত্যিকার মুসলমানের কাজ হলো, প্রচুর নেক আমল করেও তা আল্লাহ্ তা'আলার দরবারে কবুল ও মকবুল না হওয়ার আশঙ্কা করা।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ إِنَّ الَّذِيْنَ هُمْ مِنْ خَشْيَةِ رَبِّهِمْ مُشْفِقُوْنَ ، وَ الَّذِيْنَ هُمْ بِآيَاتِ رَبِّهِمْ يُؤْمِنُوْنَ ، وَ الَّذِيْنَ هُمْ بِرَبِّهِمْ لَا يُشْرِكُوْنَ ، وَ الَّذِيْنَ يُؤْتَوْنَ مَا آتَوْا وَ قُلُوبُهُمْ وَجِلَةٌ أَنَّهُمْ إِلَى رَبِّهِمْ رَاجِعُوْنَ ، أُوْلَائِكَ يُسَارِعُوْنَ فِي الْخَيْرَاتِ وَ هُمْ لَهَا سَابِقُوْنَ অর্থাৎ নিঃসন্দেহে যারা নিজ প্রভুর ভয়ে সন্ত্রস্ত, যারা নিজ প্রভুর নিদর্শনাবলীতে বিশ্বাসী, যারা নিজ প্রভুর সাথে কাউকে শরীক করেনা এবং যারা নিজ প্রভুর নিকট প্রত্যাবর্তন করবে বলে যা দান করার তা দান করে ভীত-কম্পিত হৃদয়ে শুধু তারাই কেবল দ্রুত সম্পাদন করে থাকে পুণ্যকর্ম সমূহ এবং তারাই উহার প্রতি সত্যিকার অগ্রগামী। হযরত 'আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেনঃ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهُ عَنْ هَذه الآية: وَ الَّذِينَ يُؤْتَوْنَ مَا آتَوْا وَقُلُوبُهُمْ وَجِلَةٌ ) قَالَتْ عَائِشَةُ: أَهُمُ الَّذِيْنَ يَشْرَبُوْنَ الْخَمْرَ وَيَسْرِقُوْنَ؟ قَالَ: لَا يَا بِنْتَ الصِّدِّيقِ! وَلَكِنَّهُمُ الَّذِيْنَ يَصُوْمُوْنَ، وَ يُصَلُّوْنَ، وَ يَتَصَدَّقُوْنَ؛ وَهُمْ يَخَافُوْنَ أَنْ لَا يُقْبَلَ مِنْهُمْ অর্থাৎ আমি রাসূলকে উক্ত আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে, এরা কি মদ্যপায়ী চোর তস্কর? নতুবা তারা আল্লাহ্ তা'আলার রাস্তায় দান করেও ভয় পাবে কেন? তিনি বললেনঃ না, এমন নয় হে সিদ্দীকের মেয়ে! বরং এরা রোযা রাখে, নামায পড়ে এবং সাদাকা করে। এর পরও তা আল্লাহ্ তা'আলার দরবারে কবুল হচ্ছে কিনা সে ব্যাপারে শঙ্কিত।

📘 বড় শিরক কি ও কত প্রকার > 📄 স্বাভাবিক ভয়

📄 স্বাভাবিক ভয়


ঘ. স্বাভাবিক ভয়ঃ
স্বাভাবিক ভয় বলতে সহজাত ভয়কে বুঝানো হয়। যেমনঃ শত্রু, সিংহ ইত্যাদি দেখে ভয় পাওয়া। এ ভীতি দোষনীয় নয়। আল্লাহ্ তা'আলা হযরত মূসা সম্পর্কে বলেনঃ فَخَرَجَ مِنْهَا خَائِفًا يَتَرَقَّبُ অর্থাৎ ভীত সতর্কাবস্থায় সে (মুসা আলাইহিস সালাম) মিসর থেকে বেরিয়ে পড়লো। তবে আল্লাহভীতি হতে হবে আশা ও ভালোবাসা মিশ্রিত। যাতে অতি ভয় কাউকে আল্লাহ্ তা'আলার রহমত থেকে সম্পূর্ণরূপে নিরাশ এবং অতি আশা কাউকে আল্লাহ্ তা'আলার পাকড়াও থেকে সম্পূর্ণরূপে নিরাপদ ভাবতে উৎসাহিত না করে।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ وَ مَنْ يَقْنَطُ مِنْ رَّحْمَةِ رَبِّهِ إِلَّا الضَّالُوْنَ অর্থাৎ একমাত্র পথভ্রষ্টরাই নিজ প্রভুর করুণা থেকে নিরাশ হয়ে থাকে। তিনি আরো বলেনঃ وَ لَا تَيْأَسُوا مِنْ رَّوْحِ اللَّهِ ، إِنَّهُ لَا يَيْأَسُ مِنْ رَوْحِ اللَّهِ إِلَّا الْقَوْمُ الْكَافِرُوْنَ অর্থাৎ তোমরা আল্লাহ্ তা'আলার করুণা থেকে কখনোই নিরাশ হয়ো না। কারণ, একমাত্র কাফিররাই আল্লাহ্ তা'আলার করুণা থেকে নিরাশ হয়ে থাকে।
তিনি আরো বলেনঃ أَفَأَمِنُوْا مَكْرَ اللَّهِ فَلَا يَأْمَنُ مَكْرَ اللَّهِ إِلَّا الْقَوْمُ الْخَاسِرُوْنَ অর্থাৎ তারা কি নিজেদেরকে আল্লাহ্ তা'আলার সূক্ষ্ম পাকড়াও থেকে নিরাপদ মনে করে? বস্তুতঃ একমাত্র ক্ষতিগ্রস্তরাই আল্লাহ্ তা'আলার পাকড়াও থেকে নিঃশঙ্ক হতে পারে।
হযরত ইসমাঈল বিন রাফি' (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ مِنَ الْأَمْنِ مِنْ مَكْرِ اللَّهِ إِقَامَةُ الْعَبْدِ عَلَى الذَّنْبِ يَتَمَنَّى عَلَى اللَّهِ الْمَغْفِرَةَ অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলার সূক্ষ্ম পাকড়াও থেকে নির্ভয় হওয়ার মানে এও যে, বান্দাহ্ গুনাহ্ করতে থাকবে এবং আল্লাহ্ তা'আলার নিকট ক্ষমার আশা করবে।
হযরত হাসান (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ مَنْ وُسْعَ عَلَيْهِ فَلَمْ يَرَ أَنَّهُ يُمْكَرُ بِهِ فَلَا رَأْيَ لَهُ ، وَ مَنْ قُتِرَ عَلَيْهِ فَلَمْ يَرَ أَنَّهُ يُنْظَرُ لَهُ فَلَا رَأْيَ لَهُ অর্থাৎ যাকে আল্লাহ্ তা'আলা অঢেল সম্পদ ও সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য দিয়েছেন অতঃপর সে বুঝতে পারেনি যে, তা দিয়ে তাকে সূক্ষ্ম পরীক্ষার সম্মুখীন করা হচ্ছে তাহলে বাস্তবার্থে সে চরম বোকা। আর যাকে আল্লাহ্ তা'আলা আর্থিক সংকটে ফেলেছেন অতঃপর সে বুঝতে পারেনি যে, সকল ধরনের সুখ ও স্বাচ্ছন্দ্য পরবর্তী সময়ের প্রয়োজনের তাগিদে তারই জন্য এবং তারই কল্যাণে সংরক্ষণ করা হচ্ছে তাহলে সেও চরম বোকা।
আশা ও ভয়ের সংমিশ্রণকেই ঈমান বলা হয়। নবী ও রাসূলদের ঈমান এ পর্যায়েরই ছিল।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ إِنَّهُمْ كَانُوا يُسَارِعُوْنَ فِي الْخَيْرَاتِ وَيَدْعُونَنَا رَغَبًا وَّ رَهَباً وَ كَانُوا لَنَا خَاشِعِينَ অর্থাৎ তারা (নবী ও রাসূলরা) সৎকর্মে দৌড়ে আসতো এবং আমাকে ডাকতো আশা ও ভয়ের মাঝে। তেমনিভাবে তারা ছিলো আমার নিকট সুবিনীত।
তিনি আরো বলেনঃ أُوْلَائِكَ الَّذِيْنَ يَدْعُوْنَ يَبْتَغُوْنَ إِلَى رَبِّهِمُ الْوَسِيْلَةَ أَيُّهُمْ أَقْرَبُ وَ يَرْجُوْنَ رَحْمَتَهُ وَ يَخَافُوْنَ عَذَابَهُ إِنَّ عَذَابَ رَبِّكَ كَانَ مَحْذُوْراً অর্থাৎ তারা যাদেরকে ডাকে তারাই তো নিজ প্রতিপালকের নৈকট্য লাভের উপায় অনুসন্ধান করে বেড়ায়। এ প্রতিযোগিতায় যে, কে কতটুকু আল্লাহ্ তা'আলার নৈকট্য লাভ করতে পারে এবং তারা আল্লাহ্ তা'আলার দয়া কামনা করে ও তাঁর শাস্তিকে ভয় পায়। আপনার প্রতিপালকের শান্তি সত্যিই ভয়াবহ।
আশা ও ভয়ের সংমিশ্রণ সত্যিকারার্থে যে কোন আল্লাহ্'র বান্দাহকে পুণ্য কর্ম সম্পাদন, গুনাহ্ থেকে পরিত্রাণ ও তাওবা করণে বিপুল সহায়তা করে থাকে। কারণ, যে কোন পুণ্য কর্ম সম্পাদন একমাত্র সাওয়াবের আশায় এবং যে কোন পাপ থেকে পরিত্রাণ একমাত্র শাস্তির ভয়েই সম্ভব। শুধু ভয় বা নৈরাশ্য মানুষকে নেক কাজ থেকে নিরুৎসাহী এবং শুধু নির্ভয়তা বা নিরাপত্তাবোধ মানুষকে গুনাহ্ করতে সুদূর অনুপ্রাণিত করে।
উক্ত দৃষ্টিকোণ থেকেই আলিমরা বলে থাকেনঃ مَنْ عَبَدَ اللَّهَ بِالْحُبِّ وَحْدَهُ فَهُوَ صُوْفِيٌّ ، وَ مَنْ عَبَدَهُ بِالْخَوْفِ وَحْدَهُ فَهُوَ حَرُورِيٌّ ، وَ مَنْ عَبَدَهُ بِالرَّجَاءِ وَحْدَهُ فَهُوَ مُرْجِيٌّ ، وَ مَنْ عَبَدَهُ بِالْحُبِّ وَالْخَوْفِ وَ الرَّجَاءِ فَهُوَ مُؤْمِنٌ অর্থাৎ যে ব্যক্তি শুধু আল্লাহ্ তা'আলার ভালোবাসায় তাঁর ইবাদাত করে সে সূফী। যে ব্যক্তি শুধু আল্লাহ্ তা'আলার ভয়ে তাঁর ইবাদাত করে সে হারুরী বা খারিজী। যে ব্যক্তি নিরেট আশায় আল্লাহ্ তা'আলার ইবাদাত করে সে মুরজি। আর যে ব্যক্তি আশা, ভয় ও ভালোবাসার সংমিশ্রণে আল্লাহ্ তা'আলার ইবাদাত করে সেই সত্যিকার মু'মিন।

📘 বড় শিরক কি ও কত প্রকার > 📄 আল্লাহ্ তা'আলাকে ভয় পাওয়ার উপায়

📄 আল্লাহ্ তা'আলাকে ভয় পাওয়ার উপায়


আল্লাহ্ তা'আলাকে ভয় পাওয়ার উপায়ঃ তিনটি জিনিসের মাধ্যমে মানুষের অন্তরে আল্লাহ্ তা'আলার সত্যিকার ভয় সৃষ্টি হয়ে থাকে। সে জিনিসগুলো নিম্নরূপঃ
১. পাপ ও পাপের অপকার সম্পর্কে অবগত হওয়া।
২. পাপের শাস্তি অনিবার্য বলে বিশ্বাস করা।
৩. পাপের পর তাওবা করা সম্ভবপর নাও হতে পারে তা বিশ্বাস করা।
কারোর মধ্যে এ তিনটি বস্তুর সম্মিলন ঘটলে সে কোন গুনাহ্'র আগপর একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলাকেই ভয় করতে শিখবে।
মানুষ যতই গুনাহ্ করুক না কেন তবুও সে কখনো আল্লাহ্ তা'আলার রহমত হতে নিরাশ হতে পারে না।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِيْنَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنْفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِنْ رَّحْمَةِ اللَّهِ ، إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعاً ، إِنَّهُ هُوَ الْغَفُوْرُ الرَّحِيمُ ، وَ أَنِيْبُوْا إِلَى رَبِّكُمْ وَ أَسْلِمُوا لَهُ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَأْتِيَكُمُ الْعَذَابُ ثُمَّ لَا تُنْصَرُوْنَ অর্থাৎ আপনি আমার বান্দাহদেরকে এ বাণী পৌঁছিয়ে দিন যে, হে আমার বান্দাহ্রা! তোমরা যারা গুনাহ্'র মাধ্যমে নিজেদের প্রতি অধিক অত্যাচার-অবিচার করেছো আল্লাহ্ তা'আলার অনুগ্রহ থেকে কখনো নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা'আলা তোমাদের সকল গুনাহ্ ক্ষমা করে দিবেন। নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। তোমরা নিজ প্রতিপালক অভিমুখী হও এবং তাঁর নিকট আত্মসমর্পণ করো শান্তির সম্মুখীন হওয়ার বহু পূর্বে। জেনে রাখো, এরপর কিন্তু তোমাদেরকে আর সাহায্য করা হবে না।
হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাসউদ বলেনঃ أَكْبَرُ الْكَبَائِر : الإِشْرَاكُ بِالله وَالأَمْنُ مِنْ مَكْرِ اللَّهِ وَالْقُنُوْطُ مِنْ رَّحْمَةِ اللَّهِ وَالْيَأْسُ مِنْ رَّوْحِ اللَّهِ অর্থাৎ সর্ববৃহৎ পাপ হচ্ছে, আল্লাহ্ তা'আলার সাথে কাউকে শরীক করা, তাঁর শাস্তি থেকে নিজকে নিরাপদ ভাবা এবং তাঁর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া। তবে সঠিক নিয়ম হচ্ছে, সুস্থতার সময় আল্লাহ্ তা'আলাকে ভয় পাওয়া এবং অসুস্থতা বা মৃত্যুর সময় আল্লাহ্ তা'আলার রহমতের আশা করা।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00