📄 আল্লাহ্ তা'আলাকে ভালোবাসার নিদর্শন সমূহ
আল্লাহ্ তা'আলাকে ভালোবাসার নিদর্শন সমূহঃ কারোর মধ্যে আল্লাহ্ তা'আলার ভালোবাসা বিদ্যমান আছে কিনা তা বুঝার কয়েকটি নিদর্শন বা উপায় রয়েছে। সেগুলো নিম্নরূপঃ
ক. আল্লাহ্ তা'আলার ইচ্ছাকে নিজ ইচ্ছার উপর প্রধান্য দেয়া।
খ. সকল বিষয়ে রাসূল ﷺ আনীত বিধি-বিধান মেনে চলা। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ قُلْ إِن كُنتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ অর্থাৎ (হে নবী!) আপনি বলে দিনঃ যদি তোমরা আল্লাহ্ তা'আলাকে সত্যিকারার্থে ভালোবেসে থাকো তাহলে তোমরা আমার অনুসরণ করো। তখনই আল্লাহ্ তা'আলা তোমাদেরকে ভালোবাসবেন এবং তোমাদের অপরাধসমূহ ক্ষমা করে দিবেন। আল্লাহ্ তা'আলা সত্যিই ক্ষমাশীল ও দয়ালু।
গ. সকল ঈমানদারের প্রতি দয়াবান ও অনুগ্রহশীল হওয়া। আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর রাসূল ﷺ কে উদ্দেশ্য করে বলেনঃ وَاخْفِضْ جَنَاحَكَ لِمَنِ اتَّبَعَكَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ অর্থাৎ যে সকল মু'মিন আপনাকে অনুসরণ করে তাদের প্রতি আপনি বিনয়ী হোন।
আল্লাহ্ তা'আলা সাহাবাদের গুণ-বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে গিয়ে বলেনঃ مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهِ ، وَ الَّذِينَ مَعَهُ أَشِدَّاءُ عَلَى الْكُفَّارِ ، رُحَمَاءُ بَيْنَهُمْ অর্থাৎ মুহাম্মাদ আল্লাহ্ তা'আলার মনোনীত রাসূল। আর তাঁর সহচরগণ কাফিরদের প্রতি খুবই কঠোর। তবে তারা নিজেদের মধ্যে পরস্পর পরস্পরের প্রতি অত্যন্ত দয়াবান।
ঘ. কাফিরদের প্রতি কঠোর হওয়া। আল্লাহ্ তা'আলা নবী কে উদ্দেশ্য করে বলেনঃ يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ جَاهِدِ الْكُفَّارَ وَ الْمُنَافِقِينَ ، وَ اغْلُظْ عَلَيْهِمْ অর্থাৎ হে নবী! আপনি কাফির ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করুন এবং তাদের প্রতি খুব কঠোর হোন।
৬. আল্লাহ্ তা'আলার মনোনীত দ্বীনকে দুনিয়ার বুকে প্রতিষ্ঠা করার জন্যে মুখ, হাত, জান ও মালের মাধ্যমে তথা সার্বিকভাবে আল্লাহ্'র রাস্তায় জিহাদ করা।
চ. আল্লাহ্ তা'আলার মনোনীত দ্বীনকে প্রতিষ্ঠা করার ক্ষেত্রে কারোর গাল-মন্দ তথা তিরস্কারকে পরোয়া না করা। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوْا مَنْ يَرْتَدَّ مِنْكُمْ عَنْ دِينِهِ فَسَوْفَ يَأْتِي اللَّهُ بِقَوْمٍ يُحِبُّهُمْ وَيُحِبُّونَهُ أَذِلَّةٍ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ أَعِزَّةِ عَلَى الْكَافِرِينَ يُجَاهِدُوْنَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَ لَا يَخَافُوْنَ لَوْمَةَ لائِمٍ অর্থাৎ হে ঈমানদারগণ! তোমাদের কেউ স্বীয় ধর্ম ত্যাগ করলে (তাতে ইসলামের কোন ক্ষতি হবেনা।) কারণ, আল্লাহ্ তা'আলা সত্বরই তাদের স্থলে এমন এক সম্প্রদায় সৃষ্টি করবেন যাদেরকে তিনি ভালোবাসবেন এবং তারাও তাঁকে ভালোবাসবে। তারা মুসলমানদের প্রতি দয়াশীল ও কাফিরদের প্রতি কঠোর হবে। আল্লাহ্ তা'আলার পথে জিহাদ করবে এবং কোন নিন্দুকের নিন্দার পরোয়া করবে না।
📄 আল্লাহ্ তা'আলাকে ভালোবাসার উপায়
আল্লাহ্ তা'আলাকে ভালোবাসার উপায়ঃ যে যে কাজ করলে কারোর অন্তরে আল্লাহ্ তা'আলার ভালোবাসা বদ্ধমূল হয়ে যায় তা নিম্নরূপঃ
১. অর্থ বুঝে মনোযোগ সহকারে কোর'আন মাজীদ তিলাওয়াত করা।
২. বেশি বেশি নফল নামায আদায় করা।
৩. অন্তরে, কথায় ও কাজে সর্বদা আল্লাহ্ তা'আলাকে স্মরণ করা।
৪. নিজের পছন্দ ও আল্লাহ্ তা'আলার পছন্দ পারস্পরিক সাংঘর্ষিক হলে আল্লাহ্ তা'আলার পছন্দকে নিজের পছন্দের উপর সর্বাধিক প্রাধান্য দেয়া।
৫. আল্লাহ্ তা'আলার নাম ও গুণাবলীর মাহাত্ম্য, তাৎপর্য ও সুফল নিয়ে গবেষণা করা।
৬. প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য তথা আল্লাহ্ তা'আলার সকল নিয়ামত নিয়ে সর্বদা ভাবতে থাকা।
৭. আল্লাহ্ তা'আলার প্রতি সর্বদা বিনয়ী ও মুখাপেক্ষী থাকা।
৮. রাত্রের শেষ তৃতীয়াংশে তাহাজ্জুদের নামায, কোর'আন তিলাওয়াত ও তাওবা-ইস্তিগফার করা।
৯. নেক্কার ও আল্লাহপ্রেমীদের সাথে উঠাবসা করা।
১০. আল্লাহ্ তা'আলা থেকে দূরে সরিয়ে দেয় এমন সকল কর্মকাণ্ড থেকে সর্বদা বিরত থাকা।
📄 আল্লাহ্ তা'আলার ভালোবাসা অর্জনের উপায়
আল্লাহ্ তা'আলার ভালোবাসা পাওয়ার উপায়ঃ
আল্লাহ্ তা'আলার ভালোবাসা পেতে হলে পারস্পরিক যে কোন সম্পর্ক একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলার জন্যই হতে হবে। অন্য কোন উদ্দেশ্যে নয়। হযরত মু'আয বিন জাবাল থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল ইরশাদ করেনঃ وَجَبَتْ مَحَبَّتِي لِلْمُتَحَابِّيْنَ فِيَّ ، وَ لِلْمُتَجَالِسِيْنَ فِيَّ ، وَ لِلْمُتَزَاوِرِينَ فِيَّ ، وَلِلْمُتَبَادَلِيْنَ فِيَّ অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ আমার কর্তব্য ওদেরকে ভালোবাসা যারা আমার জন্য অন্যকে ভালোবাসে, আমার জন্য অন্যের সাথে উঠে-বসে, আমার জন্য অন্যের সাথে সাক্ষাৎ করে এবং আমারই জন্য কাউকে দান করে। হযরত মু'আয বিন্ আনাস্ জুহানী থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল ইরশাদ করেনঃ مَنْ أَعْطَى لِلَّهِ ، وَ مَنَعَ لِلَّهِ ، وَ أَحَبَّ لِلَّهِ ، وَ أَبْغَضَ لِلَّهِ وَ أَنْكَحَ لِلَّهِ ، فَقَدِ اسْتَكْمَلَ إِيْمَانُهُ অর্থাৎ যে ব্যক্তি আল্লাহ্ তা'আলার জন্যই কাউকে কোন কিছু দিলো এবং একমাত্র তাঁরই জন্য কাউকে কোন কিছু থেকে বঞ্চিত করলো। তাঁর জন্যই কাউকে ভালোবাসলো এবং একমাত্র তাঁরই জন্য কারোর সঙ্গে শত্রুতা পোষণ করলো। তাঁরই জন্য নিজ অধীনস্থ কোন মেয়েকে কারোর নিকট বিবাহ্ দিলো তাহলে তার ঈমান তখনই সত্যিকারার্থে পরিপূর্ণ হলো।
আল্লাহ্ তা'আলাকে ভালোবাসার পাশাপাশি তদীয় রাসূল কেও ভালোবাসতে হবে। কারণ, এতদুভয়ের ভালোবাসা অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। রাসূল কে ভালোবাসা সত্যিকার ঈমানদারের পরিচয়। আর রাসূলকে ভালোবাসা মানে সর্ব কাজে তাঁর আনীত বিধানকে অনুসরণ করা। হযরত আনাস্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ নবী ইরশাদ করেনঃ ثَلَاثَ مَنْ كُنَّ فِيْهِ وَجَدَ بهِنَّ حَلَاوَةَ الإِيْمَانِ : أَنْ يَكُوْنَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِمَّا سِوَاهُمَا ، وَ أَنْ يُحِبُّ الْمَرْءَ لَا يُحِبُّهُ إِلَّا لِلَّهِ ، وَ أَنْ يُكْرَهَ أَنْ يَعُوْدَ فِي الْكُفْرِ كَمَا يَكْرَهُ أَنْ يُقْذَفَ فِي النَّارِ অর্থাৎ তিনটি বস্তু কারোর মধ্যে বিদ্যমান থাকলে সে সত্যিকারার্থে ঈমানের মজা পাবে। আল্লাহ্ তা'আলা ও তদীয় রাসূল তার নিকট অন্যান্যের চাইতে বেশি প্রিয় হলে, কাউকে একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলার জন্যই ভালোবাসলে এবং দ্বিতীয়বার কাফির হয়ে যাওয়া তার নিকট সে রকম অপছন্দনীয় হলে যে রকম জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হওয়া তার নিকট একেবারেই অপছন্দনীয়। রাসূল আরো বলেনঃ لا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى أَكُوْنَ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنْ وَّالِدِهِ وَ وَلَدِهِ وَ النَّاسِ أَجْمَعِيْنَ অর্থাৎ তোমাদের কেউ ঈমানদার হতে পারবেনা যতক্ষণ আমি তার নিকট নিজ পিতা ও সন্তান এমনকি দুনিয়ার সকল মানুষ হতে সর্বাধিক প্রিয় না হই। আল্লাহ্ তা'আলাকে ভালোবাসা দু' ধরনেরঃ
১. যা ফরয বা বাধ্যতামূলক। আর তা হচ্ছেঃ আল্লাহ্ তা'আলা যে কাজগুলো মানুষের জন্য ফরয বা বাধ্যতামূলক করে দিয়েছেন সেগুলোকে ভালোবাসা এবং তিনি যে কাজগুলোকে হারাম করে দিয়েছেন সেগুলোকে অপছন্দ করা। তদীয় রাসূল কে ভালোবাসা যিনি তাঁর পক্ষ থেকে সকল আদেশ-নিষেধ তাঁর বান্দাহদের নিকট পৌঁছিয়ে দিয়েছেন। তাঁর আনীত সকল বিধি-বিধানকে সন্তুষ্টচিত্তে গ্রহণ করা। সকল নবী-রাসূল ও মু'মিনদেরকে ভালোবাসা এবং সকল কাফির ও ফাজির (নিঃশঙ্ক পাপী) কে অপছন্দ করা।
২. যা উপরস্থ বা আল্লাহ্ তা'আলার অতি নিকটবর্তীদের পর্যায়। আর তা হচ্ছেঃ আল্লাহ্ তা'আলার পছন্দনীয় সকল নফল কাজগুলোকে ভালোবাসা এবং তাঁর অপছন্দনীয় সকল মাকরূহ কাজগুলোকে অপছন্দ করা। এমনকি তাঁর সকল ধরনের কঠিন ফায়সালাগুলোকেও সন্তুষ্টচিত্তে মেনে নেয়া।
যেমন কেউ কাউকে ভালোবাসলে সে যে বস্তু বা ব্যক্তিকে ভালোবাসে তাকেও সে বস্তু বা ব্যক্তিকে ভালোবাসতে হয়। তেমনিভাবে সে যে বস্তু বা ব্যক্তিকে অপছন্দ করে তাকেও সে বস্তু বা ব্যক্তিকে অপছন্দ করতে হয়। নতুবা তার ভালোবাসা মিথ্যা বলে প্রমাণিত হবে। ঠিক একইভাবে কেউ আল্লাহ্ তা'আলাকে সত্যিকারার্থে ভালোবাসলে তিনি যে বস্তু বা ব্যক্তিকে ভালোবাসেন অথবা অপছন্দ করেন তাকেও সে বস্তু বা ব্যক্তিকে ভালোবাসতে বা অপছন্দ করতে হবে। নতুবা তার আল্লাহ্ তা'আলাকে ভালোবাসার দাবি মিথ্যা বলে প্রমাণিত হবে। এ কারণেই আল্লাহ্ তা'আলা কোর'আন মাজীদের মধ্যে এবং তদীয় রাসূল হাদীসের মধ্যে আল্লাহ্ তা'আলার বন্ধু-শত্রু, পছন্দ-অপছন্দ সবকিছুই বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ إِنَّمَا وَلِيُّكُمُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَ الَّذِينَ آمَنُوا الَّذِيْنَ يُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَهُمْ رَاكِعُوْنَ অর্থাৎ তোমাদের বন্ধুতো আল্লাহ্ তা'আলা, তদীয় রাসূল ও মু'মিনরা। যারা নামায প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত দেয় এবং সর্বদা আল্লাহ্ তা'আলার সামনে বিনয়ী থাকে।
তিনি আরো বলেনঃ وَالْمُؤْمِنُوْنَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ অর্থাৎ মু'মিন পুরুষ ও মহিলা একে অপরের বন্ধু।
তিনি আরো বলেনঃ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا عَدُوِّي وَعَدُوَّكُمْ أَوْلِيَاءَ تُلْقُوْنَ إِلَيْهِمْ بِالْمَوَدَّةِ، وَقَدْ كَفَرُوا بِمَا جَاءَكُمْ مِنَ الْحَقِّ ، يُخْرِجُوْنَ الرَّسُوْلَ وَ إِيَّاكُمْ أَنْ تُؤْمِنُوا بِاللَّهِ رَبِّكُمْ ، إِنْ كُنْتُمْ خَرَجْتُمْ جِهَادًا فِي سَبِيْلِي وَ ابْتِغَاءَ مَرْضَاتِي تُسِرُّوْنَ إِلَيْهِمْ بِالْمَوَدَّةِ ، وَ أَنَا أَعْلَمُ بِمَا أَخْفَيْتُمْ وَ مَا أَعْلَنْتُمْ ، وَ مَنْ يَفْعَلْهُ مِنْكُمْ فَقَدْ ضَلَّ سَوَاءِ السَّبِيلِ অর্থাৎ হে ঈমানদারগণ! তোমরা আমার ও তোমাদের শত্রুকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। তোমরা কি তাদের সাথে বন্ধুত্ব করছো অথচ তারা তোমাদের নিকট যে সত্য এসেছে তা অস্বীকার করছে। রাসূল এবং তোমাদেরকে (মক্কা থেকে) বের করে দিয়েছে। এ কারণে যে তোমরা তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ্ তা'আলার উপর ঈমান এনেছো। যদি তোমরা আমার পথে জিহাদ এবং আমার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য বের হয়ে থাকো তবে কেন তোমরা তাদের সাথে গোপনে বন্ধুত্ব করছো? আমি তোমাদের গোপন ও প্রকাশ্য সব কিছুই জানি। তোমাদের যে কেউই উক্ত কাজ করে সে অবশ্যই সঠিক পথ হতে বিচ্যুত।
তিনি আরো বলেনঃ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا الْكَافِرِيْنَ أَوْلِيَاءَ مِنْ دُوْنِ الْمُؤْمِنِينَ ، أَتُرِيدُوْنَ أَنْ تَجْعَلُوْا لِلَّهِ عَلَيْكُمْ سُلْطَانًا مُّبِينًا অর্থাৎ হে ঈমানদারগণ! তোমরা মু'মিনদেরকে ছেড়ে কাফিরদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। তোমরা কি আল্লাহ্ তা'আলাকে তোমাদের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট প্রমাণ দিতে চাও? তিনি আরো বলেনঃ لَا يَتَّخِذِ الْمُؤْمِنُوْنَ الْكَافِرِينَ أَوْلِيَاءَ مِنْ دُوْنِ الْمُؤْمِنِينَ ، وَ مَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ فَلَيْسَ مِنَ اللَّهِ فِي شَيْءٍ ، إِلَّا أَنْ تَتَّقُوْا مِنْهُمْ تُقَاةً ، وَ يُحَذِّرُكُمُ اللَّهُ نَفْسَهُ ، وَ إِلَى اللهِ الْمَصِيرُ অর্থাৎ মু'মিনরা যেন মু'মিনদেরকে ছেড়ে কাফিরদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করে। যে ব্যক্তি এমন করবে আল্লাহ্ তা'আলার সাথে তার কোন সম্পর্কই থাকবে না। তবে তা যদি ভয়ের কারণে আত্মরক্ষামূলক হয়ে থাকে তাহলে তাতে কোন অসুবিধে নেই। আল্লাহ্ তা'আলা তোমাদেরকে নিজের ভয় দেখাচ্ছেন। তাঁর নিকটই সবাইকে ফিরে যেতে হবে। আল্লাহ্ তা'আলা আরো বলেনঃ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوْا لَا تَتَّخِذُوا الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى أُولِيَاءَ ، بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ ، وَ مَنْ يَتَوَلَّهُمْ مِّنْكُمْ فَإِنَّهُ مِنْهُمْ ، إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ অর্থাৎ হে ঈমানদারগণ! তোমরা ইহুদী ও খ্রিস্টানদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করোনা। তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্য থেকে যে ব্যক্তি ইহুদী ও খ্রীস্টানদের সাথে বন্ধুত্ব করবে নিশ্চয়ই সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত, নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তাআলা অত্যাচারী সম্প্রদায়কে সুপথ দেখান না। তিনি আরো বলেনঃ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوْا آبَاءَكُمْ وَ إِخْوَانَكُمْ أَوْلِيَاءَ إِنِ اسْتَحَبُّوا الْكُفْرَ عَلَى الإِيْمَانِ ، وَ مَنْ يَتَوَلَّهُمْ مِّنْكُمْ فَأَوْلَائِكَ هُمُ الظَّالِمُوْنَ অর্থাৎ হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদের পিতৃ ও ভ্রাতাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করোনা যদি তারা ঈমানের মুকাবিলায় কুফ্রকে পছন্দ করে। তোমাদের মধ্য থেকে যারা ওদের সাথে বন্ধুত্ব রাখবে তারা অবশ্যই বড় যালিম। তিনি আরো বলেনঃ لَا تَجِدُ قَوْمًا يُؤْمِنُوْنَ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ يُوَادُّوْنَ مَنْ حَادَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ ، وَلَوْ كَانُوْا أَبَاءَهُمْ أَوْ أَبْنَاءَهُمْ أَوْ إِخْوَانَهُمْ أَوْ عَشِيْرَتَهُمْ ، أُوْلَائِكَ كَتَبَ فِي قُلُوْبِهِمِ الإِيْمَانَ وَ أَيَّدَهُمْ بِرُوْحٍ مِّنْهُ ، وَ يُدْخِلُهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ ، أُوْلَائِكَ حِزْبُ اللَّهُ ، أَلَا إِنَّ حِزْبَ اللَّهُ هُمُ الْمُفْلِحُوْنَ অর্থাৎ আপনি আল্লাহ্ তা'আলা ও পরকালে বিশ্বাসী এমন কোন সম্প্রদায় পাবেন না যে তারা আল্লাহ্ তা'আলা ও তদীয় রাসূল এর বিধান লঙ্ঘনকারীদের ভালোবাসবে। যদিও তারা তাদের পিতা, পুত্র, ভ্রাতা বা জ্ঞাতি-গোষ্ঠী হোকনা কেন। এদের অন্তরেই আল্লাহ্ তা'আলা ঈমানকে সুদৃঢ় করেছেন এবং নিজ সহযোগিতায় তাদেরকে শক্তিশালী করেছেন। পরকালে তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। যার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হবে হরেক রকমের নদ-নদী। তারা সেখানে সর্বদা থাকবে। আল্লাহ্ তা'আলা তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট। এরাই আল্লাহ্'র দলভুক্ত। আর জেনে রাখো, আল্লাহ্'র দলই সর্বদা নিশ্চিত সফলকাম। কাফিরদের সাথে বন্ধুত্ব করা ইহুদীদের চরিত্র। মুসলমানদের চরিত্র নয়। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ تَرَى كَثِيراً مِّنْهُمْ يَتَوَلَّوْنَ الَّذِينَ كَفَرُوا ، لَبِئْسَ مَا قَدَّمَتْ لَهُمْ أَنْفُسُهُمْ أَنْ سَخِطَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ وَ فِي الْعَذَابِ هُمْ خَالِدُوْنَ অর্থাৎ আপনি ইহুদীদের অনেককে দেখবেন যে, তারা কাফিরদের সাথে বন্ধুত্ব করছে। তাদের এ বন্ধুত্ব কতই না নিকৃষ্ট। কারণ, আল্লাহ্ তা'আলা তাদের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়েছেন। ফলে, তারা চিরকাল আযাবে থাকবে। কাফিরদের সাথে বন্ধুত্ব দুনিয়ার সকল অঘটনের মূল। তাতে মুসলমানদের বিন্দু মাত্রও কোন ফায়দা নেই। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ وَ الَّذِيْنَ كَفَرُوا بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ ، إِلَّا تَفْعَلُوْهُ تَكُنْ فِتْنَةٌ فِي الْأَرْضِ وَفَسَادٌ كَبِيرٌ অর্থাৎ যারা কাফির তারা একে অপরের বন্ধু। তোমরা যদি উপরোক্ত বিধান কার্যকর না করো তথা মুসলমানদের সাথে বন্ধুত্ব না করে কাফিরদের সাথে বন্ধুত্ব করো তাহলে দুনিয়াতে শুরু হবে কঠিন ফিৎনা ও মহাবিপর্যয়। কাফিরদের সাথে যতই বন্ধুত্ব করা হোকনা কেন তারা তাতে কখনোই সন্তুষ্ট হবে না যতক্ষণ না মুসলমানরা তাদের ন্যায় কাফির হয়ে যায়। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ وَ لَنْ تَرْضَى عَنْكَ الْيَهُودُ وَ لاَ النَّصَارَى حَتَّى تَتَّبِعَ مِلَّتَهُمْ অর্থাৎ ইহুদী ও খ্রিস্টানরা আপনার প্রতি কখনো সন্তুষ্ট হবেনা যতক্ষণ না আপনি তাদের ধর্ম অনুসরণ করেন। আল্লাহ্ তা'আলা আরো বলেনঃ وَ دُّوا لَوْ تَكْفُرُوْنَ كَمَا كَفَرُوْا فَتَكُوْنُوْنَ سَوَاءٌ فَلَا تَتَّخِذُوا مِنْهُمْ أَوْلِيَاءَ অর্থাৎ তাদের মনে চায়, তোমরাও যেন তাদের মতো কাফির হয়ে যাও। তা হলে তোমরা সবাই একই রকম হয়ে যাবে। অতএব তোমরা তাদেরকে কখনো বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না।
তিনি আরো বলেনঃ وَ لَا يَزَالُوْنَ يُقَاتِلُوْنَكُمْ حَتَّى يَرُدُّوْكُمْ عَنْ دِينِكُمْ إِنَّ اسْتَطَاعُوْا অর্থাৎ কাফিররা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করতেই থাকবে যতক্ষণ না তারা তোমাদেরকে তোমাদের ধর্ম থেকে ফেরাতে পারে যদি তাদের পক্ষে তা করা সম্ভবপর হয়।
কাফিরদের প্রতি যে কোন ধরনের দুর্বলতা জাহান্নামে যাওয়ার কারণ। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ وَ لَا تَرْكَنُوا إِلَى الَّذِينَ ظَلَمُوْا فَتَمَسَّكُمُ النَّارُ ، وَ مَا لَكُمْ مِّنْ دُوْنِ اللَّهِ مِنْ أَوْلِيَاءَ ثُمَّ لَا تُنْصَرُوْنَ অর্থাৎ তোমরা যালিমদের প্রতি ঝুঁকে পড়ো না। অন্যথায় তোমাদেরকে জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে। তখন আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়া তোমাদের কেউ সহায় হবেনা। অতএব তোমাদেরকে তখন কোন সাহায্যই করা হবে না। কাফিরদের প্রতি ঝুঁকে পড়া অনেক ধরনেরই হয়ে থাকে যার কিয়দংশ নিম্নরূপঃ
১. তাদের সাথে সাধারণ বন্ধুত্ব করা।
২. তাদের সাথে বিশেষ বন্ধুত্ব করা।
৩. তাদের প্রতি সামান্যটুকুও দুর্বলতা দেখানো। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ وَ لَوْ لَا أَنْ تَبْتَنَاكَ لَقَدْ كِدْتَ تَرْكَنُ إِلَيْهِمْ شَيْئًا قَلِيْلًا ، إِذَا لَأَذَقْنَاكُمْ ضِعْفَ الْحَيَاةِ وَ ضِعْفَ الْمَمَاتِ ، ثُمَّ لَا تَجِدُ لَكَ عَلَيْنَا نَصِيراً অর্থাৎ আমি আপনাকে অবিচল না রাখলে আপনি তাদের প্রতি প্রায় কিছুটা ঝুঁকেই পড়ছিলেন। আপনি তাদের প্রতি কিছুটা ঝুঁকে পড়লে আমি অবশ্যই আপনাকে ইহকাল ও পরকালে দ্বিগুণ শাস্তি আস্বাদন করাতাম। তখন আপনি আমার বিপক্ষে কোন সাহায্যকারী পেতেন না।
৪. তাদের প্রতি যে কোন ধরনের নমনীয়তা দেখানো। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ وَدُّوا لَوْ تُدْهِنُ فَيُدْهِنُوْنَ অর্থাৎ তারাতো চায়, আপনি তাদের প্রতি একটু নমনীয় হোন তাহলে তারাও আপনার প্রতি নমনীয় হবে।
৫. যে কোন ব্যাপারে তাদের আনুগত্য করা।
وَ لَا تُطِعْ مَنْ أَغْفَلْنَا قَلْبَهُ عَنْ ذِكْرِنَا ، وَ اتَّبَعَ هَوَاهُ ، وَ كَانَ أَمْرُهُ فُرُطًاً অর্থাৎ যার অন্তরকে আমি আমার স্মরণে অমনযোগী করে দিয়েছি এবং যে তার খেয়াল-খুশির অনুসরণ করে ও কার্যকলাপে সীমাতিক্রম করে আপনি কখনো তার আনুগত্য করবেন না। আল্লাহ্ তা'আলা আরো বলেনঃ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ تُطِيعُوا الَّذِينَ كَفَرُوا يَرُدُّوكُمْ عَلَى أَعْقَابِكُمْ فَتَنْقَلِبُوا خَاسِرِينَ অর্থাৎ হে ঈমানদারগণ! তোমরা যদি কাফিরদের আনুগত্য করো তাহলে তারা তোমাদেরকে মুরতাদ বানিয়ে ছাড়বে। অতঃপর তোমরা খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
৬. তাদেরকে কাছে বসানো।
৭. কোন কাজে তাদের পরামর্শ নেয়া।
৮. তাদেরকে মুসলমানদের যে কোন গুরুত্বপূর্ণ কাজে খাটানো।
৯. তাদেরকে মুসলমানদের ভেদজ্ঞাতা তথা প্রাইভেট সেক্রেটারী বানানো।
১০. তাদের সাথে উঠা-বসা, বন্ধুসুলভ সাক্ষাৎ করা ইত্যাদি।
১১. তাদেরকে দেখে খুশি প্রকাশ করা বা তাদের সাথে হাস্যোজ্জল মুখে সাক্ষাৎ করা।
১২. তাদেরকে যে কোন ধরনের সম্মান করা।
১৩. তাদেরকে আমানতদার মনে করা।
১৪. তাদেরকে যে কোন কাজে সহযোগিতা করা।
১৫. তাদেরকে যে কোন দুনিয়াবি কাজে নসীহত করা।
১৬. তাদের মতামত অনুসরণ করা।
১৭. তাদের সাথে চলাফেরা করা।
১৮. তাদের যে কোন কাজে সন্তুষ্ট থাকা।
১৯. তাদের সাথে যে কোন ধরনের সাদৃশ্য বজায় রাখা।
২০. তাদেরকে যে কোন সম্মানসূচক শব্দে সম্বোধন করা।
২১. তাদের সাথে বা তাদের এলাকায় বসবাস করা। হযরত সামুরাহ্ বিন্ জুন্দুব থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল ইরশাদ করেনঃ مَنْ جَامَعَ الْمُشْرِكَ وَ سَكَنَ مَعَهُ فَإِنَّهُ مِثْلُهُ অর্থাৎ যে ব্যক্তি কোন মুশরিকের সাথে উঠেবসে এবং তার সাথে বসবাস করে সে তার মতোই মুশরিক বলে গণ্য। হযরত জারীর বিন্ 'আব্দুল্লাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল ইরশাদ করেনঃ أَنَا بَرِيءٌ مِنْ كُلِّ مُسْلِمٍ يُقِيمُ بَيْنَ أَظْهُرِ الْمُشْرِكِينَ অর্থাৎ যে সকল মুসলমান মুশরিকদের মাঝে বসবাস করে আমার সাথে তাদের কোন সম্পর্ক নেই।
২২. তাদেরকে সালাম দেয়া। রাসূল ইরশাদ করেনঃ لَا تَبْدَؤُوْا الْيَهُودَ وَ لَا النَّصَارَى بِالسَّلَامِ ، فَإِذَا لَقِيتُمْ أَحَدَهُمْ فِي طَرِيقِ فَاضْطَرُّوهُ إِلَى أَضْيقه অর্থাৎ তোমরা ইহুদী ও খ্রিস্টানদেরকে সালাম দিবেনা। বরং তোমারা তাদের কাউকে বড় রাস্তায় পেলে তাকে সংকীর্ণ পথে চলতে বাধ্য করবে। আল্লাহ্ তা'আলা উক্ত ব্যাপারে হযরত ইব্রাহীম এর আদর্শ অনুসরণ করার জন্য মুসলিম সম্প্রদায়কে আহ্বান করেছেনঃ আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ قَدْ كَانَتْ لَكُمْ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ فِي إِبْرَاهِيمَ وَ الَّذِينَ مَعَهُ إِذْ قَالُوا لِقَوْمِهِمْ إِنَّا بُرَآؤُا مِنْكُمْ وَ مِمَّا تَعْبُدُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللَّهِ كَفَرْنَا بِكُمْ وَ بَدَا بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةُ وَ الْبَغْضَاءُ أَبَداً حَتَّى تُؤْمِنُوا بِاللَّهِ وَحْدَهُ অর্থাৎ তোমাদের জন্য ইব্রাহীম ও তাঁর অনুসারীদের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ; তারা তাদের সম্প্রদায়কে বলেছিলঃ তোমরা এবং আল্লাহ্'র পরিবর্তে তোমরা যে মূর্তি সমূহের ইবাদাত করছো তা হতে আমরা সম্পূর্ণরূপে মুক্ত পবিত্র। তোমাদেরকে আমরা অস্বীকার করছি এবং আজ হতে চিরকালের জন্য আমাদের ও তোমাদের মাঝে বলবৎ থাকবে শত্রুতা ও বিদ্বেষ যতক্ষণ না তোমরা এক আল্লাহ্'র প্রতি ঈমান আনো। রাসূল কে ভালোবাসাও দু' ধরনেরঃ
১. যা ফরয বা বাধ্যতামূলক। আর তা হচ্ছেঃ তাঁর আনীত সকল বিধি- বিধানকে সন্তুষ্টচিত্তে মেনে নেয়া। আল্লাহ্ তা'আলাকে পাওয়ার জন্যে একমাত্র তাঁরই পথকে অনুসরণ করা। তাঁর সকল বাণীকে সত্য মনে করা, তাঁর সকল আদেশ-নিষেধ মেনে চলা এবং তাঁর আনীত দ্বীনকে দুনিয়ার বুকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্যে যথাসাধ্য চেষ্টা চালানো। তাঁর আদর্শ বিরোধীদের সাথে প্রয়োজন ও সাধ্যানুযায়ী যুদ্ধ করা।
২. যা প্রশংসনীয় ও রাসূলপ্রেমীদের কাজ। আর তা হচ্ছেঃ চাল-চলন, আচার-ব্যবহার, খাওয়া-দাওয়া, পোশাক-পরিচ্ছদ, নফল-মুস্তাহাব ইত্যাদি তথা তাঁর সকল শিষ্টাচার ও উন্নত চরিত্রের ব্যাপারে তাঁর সার্বিক অনুসরণ। তাঁর জীবনী নিয়ে গবেষণা করা। তাঁর নাম শুনলে হৃদয় ভক্তিতে পরিপূর্ণ হয়ে যাওয়া। তাঁর উপর বেশি বেশি দরূদ পাঠ করা। তাঁর বাণী শুনতে ভালো লাগা। তাঁর বাণীকে অন্য সকলের বাণীর উপর প্রাধান্য দেয়া। দুনিয়ার ব্যাপারে স্বল্পতে তুষ্টি এবং আখিরাতের প্রতি অধিক অনুরাগী হওয়া।
পক্ষান্তরে যারা রাসূল এর ব্যাপারে বাড়াবাড়ি বশতঃ মিলাদুন্নাবী পালনের মতো বিদ'আত এবং কঠিন মুহূর্তে সাহায্য-সহযোগিতার জন্য রাসূলকে আহ্বানের মতো শির্ক করে তারা মুখে রাসুলপ্রেমের ঠুক্কো দাবিদার হলেও প্রকৃতপক্ষে তারা চরম মিথ্যাবাদী। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ وَ يَقُولُونَ آمَنَّا بِاللَّهِ وَ بِالرَّسُولِ وَأَطَعْنَا ثُمَّ يَتَوَلَّى فَرِيقٌ مِنْهُمْ مِنْ بَعْدِ ذَلِكَ وَمَا أُولَئِكَ بِالْمُؤْمِنِينَ অর্থাৎ তাদের উক্তিঃ আমরা আল্লাহ্ তা'আলা ও তদীয় রাসূলের উপর ঈমান এনেছি এবং তাদের আনুগত্য স্বীকার করেছি। অথচ তাদের একদল কিছুক্ষণ পর এ প্রতিজ্ঞা থেকে সরে দাঁড়ায়। বস্তুতঃ এরা মু'মিন নয়। কারণ, রাসূল এ কাজগুলো করতে নিষেধ করেছেন অথচ তারা তাই করছে।
ঈমানের সত্যিকার মজা একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলা ও তদীয় রাসূল কে ভালোবাসার মধ্যেই নিহিত।
হযরত আনাস থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ নবী ইরশাদ করেনঃ ثَلَاثَ مَنْ كُنَّ فِيْهِ وَجَدَ بِهِنَّ حَلَاوَةَ الإِيْمَانِ: أَنْ يَكُوْنَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِمَّا سِوَاهُمَا ، وَ أَنْ يُحِبَّ الْمَرْءَ لَا يُحِبُّهُ إِلَّا اللَّهِ ، وَ أَنْ يُكْرَهَ أَنْ يَعُوْدَ فِي الْكُفْرِ كَمَا يَكْرَهُ أَنْ يُقْذَفَ فِي النَّارِ অর্থাৎ তিনটি জিনিস যার মধ্যে থাকবে সে সত্যিকারার্থে ঈমানের মজা পাবে। যার নিকট আল্লাহ্ তা'আলা ও তদীয় রাসূল সর্বাধিক প্রিয় হবে। যে ব্যক্তি কাউকে একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলার জন্যই ভালোবাসবে। যে ব্যক্তি মুরতাদ্ হওয়া অপছন্দ করবে যেমনিভাবে অপছন্দ করে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হওয়া।