📄 জবাইয়ের শির্ক
৮. জবাইয়ের শিরকঃ
জবাইয়ের শির্ক বলতে একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলা ব্যতীত অন্য কারোর নৈকট্য লাভের জন্য যে কোন পশু জবাই করাকে বুঝানো হয়। চাই তা আল্লাহ্ তা'আলা'র নামেই জবাই করা হোক বা অন্য কারোর নামে। চাই তা নবী, ওলী, বুযুর্গ বা জিনের নামেই হোক বা অন্য কারোর নামে।
সাওয়াবের আশায় কোন পশু জবাই করা গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদাত যা আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়া অন্য কারোর জন্য ব্যয় করা জঘন্যতম শিক। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ قُلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ ، لَا شَرِيكَ لَهُ وَ بِذَلِكَ أُمِرْتُ وَ أَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ অর্থাৎ আপনি বলে দিনঃ আমার নামায, আমার কুরবানি, আমার জীবন ও মরণকালের সকল নেক আমল সারা জাহানের প্রভু একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলার জন্য। তাঁর কোন শরীক নেই, আমি এরই জন্যে আদিষ্ট হয়েছি এবং আমিই আমার উম্মতের সর্বপ্রথম মুসলমান। আল্লাহ্ তা'আলা আরো বলেনঃ فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَ الْحَرْ অর্থাৎ সুতরাং আপনার প্রতিপালকের জন্য নামায পড়ুন ও কুরবানি করুন। হযরত 'আলী থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল ইরশাদ করেনঃ لَعَنَ اللَّهُ لِمَنْ ذَبَحَ لِغَيْرِ اللَّهِ অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা লা'নত (নিজ রহমত হতে বঞ্চিত) করেন সে ব্যক্তিকে যে তিনি ব্যতীত অন্য কারোর জন্য পশু জবেহ্ করে। হযরত সালমান ফার্সী থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ دَخَلَ الْجَنَّةَ رَجُلٌ فِي ذُبَابِ وَ دَخَلَ النَّارَ رَجُلٌ فِي ذُبَابٍ، قَالُوا: وَكَيْفَ ذَلِكَ؟ قَالَ: مَرَّ رَجُلَانِ عَلَى قَوْمٍ لَهُمْ صَنَمٌ لَا يُجَاوِزُهُ أَحَدٌ حَتَّى يُقَرِّبَ لَهُ شَيْئًا، فَقَالُوْا لأَحَدِهِمَا: قَرِّبْ، قَالَ: مَا عِنْدِي شَيْءٌ، قَالُوا: قَرِّبْ وَ لَوْ ذُبَاباً ، فَقَرَّبَ ذُبَاباً فَخَلُّوْا سَبِيْلَهُ فَدَخَلَ النَّارَ، وَقَالُوْا للآخر : قَرِّبْ، قَالَ: مَا كُنْتُ لأُقَرِّبَ لأَحَد شَيْئًا دُوْنَ اللَّهُ عَزَّ وَ جَلَّ فَضَرَبُوا عُنُقَهُ، فَدَخَلَ الْجَنَّةَ অর্থাৎ জনৈক ব্যক্তি জান্নাতে গিয়েছে একটি মাছির জন্যে। আর অন্য জন জাহান্নামে। শ্রোতারা বললোঃ তা কিভাবে? তিনি বললেনঃ একদা দু' ব্যক্তি কোন এক সম্প্রদায়ের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলো। তাদের ছিলো একটি মূর্তি। যাকে কিছু না দিয়ে তথা দিয়ে অতিক্রম করা ছিলো যে কোন ব্যক্তির জন্য দুষ্কর। অতএব তারা এদের একজনকে বললোঃ মূর্তির জন্য কিছু পেশ করো। সে বললোঃ আমার কাছে দেয়ার মতো কিছুই নেই। তারা বললোঃ একটি মাছি হলেও পেশ করো। অতএব সে একটি মাছি পেশ করলে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। তাতে করে শির্ক করার দরুন সে জাহান্নামী হয়ে গেলো। তেমনিভাবে তারা অন্য জনকে বললোঃ মূর্তির জন্য কিছু পেশ করো। সে বললোঃ আমি আল্লাহ্ তা'আলা ব্যতীত অন্য কারোর জন্য কোন নজরানা পেশ করতে পারবোনা। তাতে করে তারা ওকে হত্যা করলো এবং সে জান্নাতী হলো। এ জাতীয় কুরবানির গোস্ত খাওয়া সম্পূর্ণরূপে হারাম।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ إِنَّمَا حَرَّمَ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةَ وَ الدَّمَ وَ لَحْمَ الْخِنْزِيرِ وَ مَا أُهِلَّ بِهِ لِغَيْرِ اللَّهِ অর্থাৎ নিশ্চয়ই তিনি তোমাদের উপর হারাম করে দিয়েছেন মৃত পশু, প্রবাহিত রক্ত ও শূকরের গোস্ত এবং যা আল্লাহ্ তা'আলা ব্যতীত অন্য কারোর নামে জবেহ্ করা হয়েছে।
আল্লাহ্ তা'আলা আরো বলেনঃ وَ لَا تَأْكُلُوْا مِمَّا لَمْ يُذْكَرِ اسْمُ اللهُ عَلَيْهِ وَإِنَّهُ لَفِسْقٌ ، وَ إِنَّ الشَّيَاطِينَ لَيُوْحُوْنَ إِلَى أَوْلِيَائِهِمْ لِيُجَادِلُوكُمْ ، وَ إِنْ أَطَعْتُمُوْهُمْ إِنَّكُمْ لَمُشْرِكُوْنَ অর্থাৎ যে পশু আল্লাহ্ তা'আলার নামে জবাই করা হয়নি (বরং তা জবাই করা হয়েছে অন্য কারোর নামে অথবা এমনিতেই মরে গেছে) তা হতে তোমরা এতটুকুও খেয়োনা। কারণ, তা আল্লাহ্ তা'আলার অবাধ্যতার শামিল। শয়তানরা নিশ্চয়ই তাদের অনুগতদের পরামর্শ দিয়ে থাকে তোমাদের সঙ্গে বিতর্কে লিপ্ত হওয়ার জন্যে। তোমরা তাদের আনুগত্য করলে নিঃসন্দেহে মুশরিক হয়ে যাবে।
যেখানে বিদআত বা শিকের চর্চা হয় যেমনঃ বর্তমান যুগের মাযার সমূহ সেখানে কোন পশু জবাই করা এমনকি তা একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলার নাম উচ্চারণ করে জবাই করা হলেও তা করা বৈধ নয়। বরং তা মারাত্মক একটি গুনাহ্'র কাজ।
হযরত সাবিত বিন যাহ্হাক থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ نَذَرَ رَجُلٌ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ الله أَنْ يَنْحَرَ إِبلا بُوَانَةَ فَأَتَى النَّبِيَّ ﷺ فَقَالَ: إِنِّي نَذَرْتُ أَنْ أَنْحَرَ إِبلا بُوَانَةَ ، فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ : هَلْ كَانَ فِيْهَا وَثَنْ مِنْ أَوْثَانِ الْجَاهِلِيَّةِ يُعْبَدُ؟ قَالُوا : لَا ، قَالَ : هَلْ كَانَ فِيْهَا عِيدٌ مِنْ أَعْيَادِهِمْ؟ قَالُوا: لَا ، قَالَ: أَوْفِ بِنَدْرِكَ ، فَإِنَّهُ لَا وَفَاءَ لِنَدْرِ فِي مَعْصِيَةِ اللَّهِ ، وَ لَا فِيْمَا لَا يَمْلِكُ ابْنُ آدَمَ অর্থাৎ জনৈক ব্যক্তি রাসূল ﷺ এর যুগে বুওয়ানা নামক স্থানে একটি উট কুরবানি করবে বলে মানত করেছে। রাসূল ﷺ কে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেনঃ ওখানে কোন মূর্তি পূজা করা হতো কি? সাহাবারা বললেনঃ না। তিনি বললেনঃ সেখানে কোন মেলা জমতো কি? সাহাবারা বললেনঃ না। রাসূল ﷺ মানতকারীকে বললেনঃ তুমি মানত পুরা করে নাও। কারণ, আল্লাহ্ তা'আলার অবাধ্যতা বা মানুষের মালিকানা বহির্ভূত বস্তুর মানত পুরা করতে হয়না।
তবে এ সকল স্থানে কেউ অজ্ঞতাবশতঃ কোন কিছু মানত করে থাকলে মানত পুরা না করে শুধুমাত্র কসমের কাফ্ফারা আদায় করবে।
হযরত 'আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল ﷺ ইরশাদ করেনঃ مَنْ نَذَرَ أَنْ يُطِيعَ اللَّهُ فَلْيُطِعْهُ ، وَ مَنْ نَذَرَ أَنْ يَعْصِيَ اللَّهُ فَلَا يَعْصِهِ অর্থাৎ যে ব্যক্তি আল্লাহ্ তা'আলার আনুগত্য (ইবাদাত) করবে বলে মানত করেছে সে যেন তাঁর আনুগত্য করে তথা মানত পুরা করে নেয়। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ্ তা'আলার অবাধ্যতা তথা গুনাহ্'র কাজ করবে বলে মানত করেছে সে যেন তাঁর অবাধ্য না হয় তথা মানত পুরা না করে।
📄 মানতের শির্ক
৯. মানতের শিকঃ
মানতের শির্ক বলতে একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়া অন্য কারোর জন্য কোন কিছু মানত করাকে বুঝানো হয়।
যে কোন উদ্দেশ্য সফলের জন্য কোন কিছু মানত করা গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদাত। যা আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়া অন্য কারোর জন্য ব্যয় করা জঘন্যতম শির্ক।
আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর নেক বান্দাহদের গুণ-বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে গিয়ে বলেনঃ يُوفُونَ بِالنَّذْرِ অর্থাৎ তাদের বৈশিষ্ট্য হলোঃ তারা তাদের মানত পূরা করে।
আল্লাহ্ তা'আলা আরো বলেনঃ وَلْيُوفُوا نُذُورَهُمْ অর্থাৎ তারা যেন তাদের মানত পুরা করে নেয়।
আল্লাহ্ তা'আলা আরো বলেনঃ وَ مَا أَنْفَقْتُمْ مِنْ نَفَقَةِ أَوْ نَذَرْتُمْ مِنْ نَذْرٍ فَإِنَّ اللَّهَ يَعْلَمُهُ অর্থাৎ তোমরা যা ব্যয় করো বা মানত করো তা অবশ্যই আল্লাহ্ তা'আলা জানেন।
উক্ত আয়াত সমূহের প্রথম আয়াতে আল্লাহ্ তা'আলা মানত পুরা করার কারণে তাঁর নেক বান্দাহদের প্রশংসা করেছেন। আর কারোর প্রশংসা শুধুমাত্র আবশ্যকীয় বা পছন্দনীয় কাজ সম্পাদন অথবা নিষিদ্ধ কাজ বর্জনের কারণেই হয়ে থাকে। দ্বিতীয় আয়াতে মানত পুরা করার আদেশ দেয়া হয়েছে। আর আল্লাহ্ তা'আলা বা তদীয় রাসূল এর আদেশ মান্য করার নামই তো হচ্ছে ইবাদাত। তৃতীয় আয়াতে আল্লাহ্ তা'আলা মানত সম্পর্কে অবগত আছেন এবং উহার প্রতিদান দিবেন বলে ওয়াদা করেছেন। ইহা যে কোন মানত ইবাদাত হওয়াই প্রমাণ করে। আর এ কথা সবারই জানা যে, ইবাদাত বলতেই তা একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলার জন্যই হতে হবে। অন্য কারোর জন্য নয়। অন্য কারোর জন্য সামান্যটুকু ইবাদাত ব্যয় করার নামই তো শির্ক। অতএব কারোর জন্য কোন কিছু মানত করা সত্যিই শির্ক। এ ছাড়া অন্য কিছু নয়।
বর্তমান যুগে যারা ওলী-বুযুর্গদের কবরের জন্য নিয়ত বা মানত করে যাচ্ছে তাদের ও মক্কার মুশরিকদের মধ্যে সামান্যটুকুও ব্যবধান নেই।
আল্লাহ্ তা'আলা মক্কার মুশরিকদের সম্পর্কে বলেনঃ وَ جَعَلُوْا لِلَّهِ مِمَّا ذَرَأَ مِنَ الْحَرْثِ وَ الْأَنْعَامِ نَصِيبًا فَقَالُوْا هَذَا لِلَّهِ بِزَعْمِهِمْ وَهَذَا لِشُرَكَائِنَا ، فَمَا كَانَ لِشُرَكَائِهِمْ فَلَا يَصِلُ إِلَى اللَّهِ وَ مَا كَانَ لِلَّهِ فَهُوَ يَصِلُ إِلَى شُرَكَائِهِمْ ، سَاءَ مَا يَحْكُمُوْنَ অর্থাৎ মুদ্রিকরা আল্লাহ্ তা'আলার দেয়া শস্য ও পশু সম্পদের একাংশ তাঁর জন্যই নির্ধারিত করছে এবং তাদের ধারণানুযায়ী বলছেঃ এ অংশ আল্লাহ্ তা'আলার জন্য আর এ অংশ আমাদের শরীকদের। তবে তাদের শরীকদের অংশ কখনো আল্লাহ্ তা'আলার নিকট পৌঁছেনা। পক্ষান্তরে আল্লাহ্ তা'আলার অংশ তাদের শরীকদের নিকট পৌঁছে যায়। এদের ফায়সালা কতইনা নিকৃষ্ট।
মূলতঃ মানত দু' প্রকারঃ কোন উদ্দেশ্য হাসিলের শর্ত ছাড়াই এমনিতেই আল্লাহ্ তা'আলার জন্য কোন ইবাদাত মানত করা। আর অন্যটি হচ্ছে কোন উদ্দেশ্য হাসিলের শর্তে আল্লাহ্ তা'আলার জন্য কোন কিছু মানত করা। এ দু'য়ের মধ্যে প্রথমটিই প্রশংসনীয়। আর এ ধরনের মানত পুরা করাই নেককারদের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য। দ্বিতীয়টি নয়। বরং তা খুবই নিন্দনীয়। তাই তো রাসূল এ জাতীয় মানত করতে নিষেধ করেছেন। তবে এরপরও কেউ এ ধরনের মানত করে ফেললে সে তা পুরা করতে অবশ্যই বাধ্য। হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল ইরশাদ করেনঃ لَا تَنْذُرُوْا، فَإِنَّ النَّذْرَ لَا يُغْنِي مِنَ الْقَدْرِ شَيْئًا، وَ إِنَّمَا يُسْتَخْرَجُ بِهِ مِنَ الْبَخِيْلِ অর্থাৎ তোমরা মানত করো না। কারণ, মানত কারোর ভাগ্যলিপিকে এতটুকুও পরিবর্তন করতে পারে না। বরং মানতের মাধ্যমে কৃপণের পকেট থেকে কিছু বের করে নেয়া হয়। (যা সে এমনিতেই আদায় করতো না।) হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে আরো বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল ইরশাদ করেনঃ قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: لَا يَأْتِي النَّذْرُ عَلَى ابْنِ آدَمَ بِشَيْءٍ لَمْ أَقَدِّرْهُ عَلَيْهِ ، وَ لَكِنَّهُ شَيْءٌ أَسْتَخْرِجُ بِهِ مِنَ الْبَخِيْلِ ، يُؤْتِينِي عَلَيْهِ مَا لَا يُؤْتِيْنِي عَلَى الْبَحْلِ অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ মানতের মাধ্যমে আদম সন্তান এমন কিছু অর্জন করতে পারে না যা আমি তার জন্য ইতিপূর্বে বরাদ্দ করিনি। তবে মানতের মাধ্যমে কৃপণের পকেট থেকে কিছু বের করে আনা হয়। কারণ, সে মানতের মাধ্যমেই আমাকে এমন কিছু দেয় যা সে কার্পণ্যের কারণে ইতিপূর্বে আমাকে দেয়নি।
হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'আব্বাস্ (রাযিয়াল্লাহু আন্হুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ নবী ইরশাদ করেনঃ النَّذْرُ نَذْرَانِ : فَمَا كَانَ لِله فَكَفَّارَتُهُ الْوَفَاءُ، وَ مَا كَانَ لِلشَّيْطَانِ فَلَا وَفَاءَ فِيْهِ، وَ عَلَيْهِ كَفَّارَةُ يَمِينِ অর্থাৎ মানত দু' প্রকার। তার মধ্যে যা হবে একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলারই জন্য তার কাফ্ফারা হবে শুধু তা পুরা করা। আর যা হবে শয়তানের জন্য তথা শরীয়ত বিরোধী তা কখনোই পুরা করতে হবে না। তবে সে জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে কসমের কাফ্ফ্ফারা দিতে হবে।
📄 আনুগত্যের শির্ক
১০. আনুগত্যের শিকঃ আনুগত্যের শির্ক বলতে বিনা ভাবনায় তথা শরীয়তের গ্রহণযোগ্য কোন প্রমাণ ছাড়াই হালাল, হারাম, জায়েয, নাজায়েযের ব্যাপারে আলেম, বুযুর্গ বা উপরস্থ কারোর সিদ্ধান্ত অন্ধভাবে সন্তুষ্টচিত্তে মেনে নেয়াকে বুঝানো হয়। এ জাতীয় আনুগত্য গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদাত যা আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়া অন্য কারোর জন্য ব্যয় করা জঘন্যতম শিক। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَاباً مِّنْ دُوْنِ اللَّهِ وَ الْمَسِيحَ ابْنَ مَرْيَمَ وَ مَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا إِلَهَا وَّاحِداً ، لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ سُبْحَانَهُ عَمَّا يُشْرِكُوْنَ অর্থাৎ তারা আল্লাহ্ তা'আলাকে ছেড়ে নিজেদের আলিম, ধর্ম যাজক ও মারইয়ামের পুত্র মাসীহ্ (ঈসা) -কে প্রভু বানিয়ে নিয়েছে। অথচ তাদেরকে শুধু এতটুকুই আদেশ দেয়া হয়েছে যে, তারা একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলারই ইবাদাত করবে। তিনি ব্যতীত সত্যিকার কোন মা'বুদ নেই। তিনি তাদের শির্ক হতে একেবারেই পূতপবিত্র। হযরত 'আদি' বিন্ হাতিম থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ أَتَيْتُ النَّبِيَّ وَ فِي عُنُقِي صَلِيْبٌ مِنْ ذَهَبٍ فَقَالَ : يَا عَدِيُّ اطْرَحْ عَنْكَ هَذَا الْوَثَنَ ، وَ سَمِعْتُهُ يَقْرَأُ فِي سُوْرَة بَرَاءَة: اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِّنْ دُوْنِ اللَّهِ ) قَالَ: أَمَا إِنَّهُمْ لَمْ يَكُونُوا يَعْبُدُونَهُمْ وَ لَكِنَّهُمْ كَانُوْا إِذَا أَحَلَّوْا لَهُمْ شَيْئًا اسْتَحَلُّوهُ وَ إِذَا حَرَّمُوْا عَلَيْهِمْ شَيْئًا حَرَّمُوْهُ অর্থাৎ আমি নবী -এর দরবারে গলায় স্বর্ণের ক্রুশ ঝুলিয়ে উপস্থিত হলে তিনি আমাকে ডেকে বলেনঃ হে 'আদি'! এ মূর্তিটি (ক্রুশ) গলা থেকে ফেলে দাও। তখন আমি তাঁকে উক্ত আয়াতটি পড়তে শুনেছি। হযরত 'আদি' বলেনঃ মূলতঃ খ্রিষ্টানরা কখনো তাদের আলিমদের উপাসনা করতো না। তবে তারা হালাল ও হারামের ব্যাপারে বিনা প্রমাণে আলিমদের সিদ্ধান্ত মেনে নিতো। আর এটিই হচ্ছে আলিমদেরকে প্রভু মানার অর্থ তথা আনুগত্যের শির্ক। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ وَلَا تَأْكُلُوا مِمَّا لَمْ يُذْكَرِ اسْمُ اللَّهِ عَلَيْهِ وَ إِنَّهُ لَفِسْقٌ وَ إِنَّ الشَّيَاطِينَ لَيُوْحُوْنَ إِلَى أَوْلِيَائِهِمْ لِيُجَادِلُوكُمْ وَ إِنْ أَطَعْتُمُوْهُمْ إِنَّكُمْ لَمُشْرِكُوْنَ অর্থাৎ যে পশু একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলার নামে জবাই করা হয়নি (বরং তা জবাই করা হয়েছে অন্য কারোর নামে অথবা এমনিতেই মরে গেছে) তা হতে তোমরা এতটুকুও খেয়োনা। কারণ, তা আল্লাহ্ তা'আলার অবাধ্যতার শামিল। শয়তানরা নিশ্চয়ই তাদের অনুগতদের কুমন্ত্রণা দিয়ে থাকে তোমাদের সঙ্গে বিতর্কে লিপ্ত হওয়ার জন্যে। যদি তোমরা তাদের আনুগত্য করো তাহলে তোমরা নিশ্চিতভাবে মুশরিক হয়ে যাবে।
ইসলাম বিরোধী কালা কানুনের আলোকে রাষ্ট্রপ্রধান বা প্রশাসকদের বিচার-মীমাংসা সন্তুষ্টচিত্তে মেনে নেয়া এ শিকের অন্তর্ভুক্ত। যেমনঃ সুদ, ঘুষ, ব্যভিচার বা মদ জাতীয় হারাম বস্তুকে হালাল করার নীতি। পুরুষ ও মহিলাদের মধ্যে ওয়ারিসি সম্পত্তির সমবন্টন বা পর্দাহীনতার নীতি। বহুবিবাহের মতো হালাল বস্তুকে হারাম করার নীতি। এ সকল ব্যাপারে প্রশাসকদের অকুণ্ঠ আনুগত্য সম্পূর্ণরূপে হারাম ও একান্ত শির্ক। কারণ, মানব জীবনের প্রতিটি শাখায় তথা যে কোন সমস্যায় কোর'আন ও হাদীসের সঠিক সিদ্ধান্ত সন্তুষ্টচিত্তে মেনে নেয়াই সকল মোসলমানের একান্ত কর্তব্য। আর এটিই হচ্ছে আল্লাহ্ তা'আলার গোলামী ও একত্ববাদের একান্ত দাবি। কেননা, আইন রচনার সার্বিক অধিকার একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলারই। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ أَلَا لَهُ الْخَلْقُ وَ الْأَمْرُ অর্থাৎ জেনে রাখো, সকল সৃষ্টি তাঁরই এবং হুকুমের অধিকারীও একমাত্র তিনি। তিনিই হুকুম দাতা এবং তার হুকুমই একান্তভাবে প্রযোজ্য। আল্লাহ্ তা'আলা আরো বলেনঃ وَ مَا اخْتَلَفْتُمْ فِيْهِ مِنْ شَيْءٍ فَحُكْمُهُ إِلَى اللَّهِ অর্থাৎ তোমরা যে কোন বিষয়েই মতভেদ করোনা কেন উহার মীমাংসা একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলাই দিবেন। তিনি আরো বলেনঃ فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللهِ وَ الرَّسُوْلِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُوْنَ بِاللَّهِ وَ الْيَوْمِ الآخر ، ذَلِكَ خَيْرٌ وَ أَحْسَنُ تَأْوِيلاً অর্থাৎ তোমাদের মধ্যে কোন বিষয়ে মতবিরোধ দেখা দিলে উহার মীমাংসার জন্য একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলা ও তদীয় রাসূলের দিকেই প্রত্যাবর্তন করো। যদি তোমরা একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলা ও পরকালের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাসী হয়ে থাকো। এটিই হচ্ছে তোমাদের জন্য কল্যাণকর ও শ্রেষ্ঠতর পরিসমাপ্তি।
উক্ত আলোচনা থেকে এ কথা সুস্পষ্টভাবে অনুধাবিত হয় যে, আল্লাহ্ তা'আলার আইনানুযায়ী বিচারকার্য পরিচালনা করা শুধু ইনসাফ প্রতিষ্ঠার জন্যই নয় বরং তা গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদাত এবং তা সত্যিকারার্থে আল্লাহ্ তা'আলার অধিকার বাস্তবায়ন ও নিজ আক্বীদা-বিশ্বাস সুরক্ষণের শামিল।
পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি মানব রচিত বিধি-বিধানের আলোকে সকল বিচার-ফায়সালা সন্তুষ্টচিত্তে মেনে নিচ্ছে পরোক্ষভাবে সে যেন এ বিধান রচয়িতাদেরকে আল্লাহ্ তা'আলার অংশীদার হিসেবে গ্রহণ করছে। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ أَمْ لَهُمْ شُرَكَاءُ شَرَعُوْا لَهُمْ مِنَ الدِّيْنِ مَا لَمْ يَأْذَنْ بِهِ اللَّهُ অর্থাৎ তাদের কি এমন কোন (আল্লাহ্'র অংশীদার) দেবতাও রয়েছে যারা আল্লাহ্ তা'আলার অনুমোদন ছাড়া তাদের জন্য বিধি-বিধান রচনা করে। তিনি আরো বলেনঃ وَ إِنْ أَطَعْتُمُوهُمْ إِنَّكُمْ لَمُشْرِكُوْنَ অর্থাৎ তোমরা যদি তাদের আনুগত্য করো তাহলে তোমরা নিশ্চিতভাবে মুশরিক হয়ে যাবে।
আল্লাহ্ তা'আলা কোর'আন মাজীদের মধ্যে মানব রচিত আইন গ্রহণকারীদেরকে ঈমানশূন্য তথা কাফির বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِيْنَ يَزْعُمُوْنَ أَنَّهُمْ آمَنُوْا بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ وَ مَا أُنْزِلَ مِنْ قَبْلِكَ يُرِيدُوْنَ أَنْ يَتَحَاكَمُوْا إِلَى الطَّاغُوتِ وَ قَدْ أُمِرُوا أَنْ يَكْفُرُوا بِهِ ، وَ يُرِيدُ الشَّيْطَانُ أَنْ يُضِلَّهُمْ ضَلَالًا بَعِيداً ، ... فَلَا وَ رَبِّكَ لَا يُؤْمِنُوْنَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجاً مِّمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا অর্থাৎ আপনি কি ওদের ব্যাপারে অবগত নন? যারা আপনার প্রতি অবতীর্ণ কিতাব ও পূর্ববর্তী কিতাব সমূহের উপর ঈমান এনেছে বলে ধারণা পোষণ করছে। অথচ তারা তাগুতের (আল্লাহ্ বিরোধী যে কোন শক্তি) ফায়সালা কামনা করে। বস্তুতঃ তাদেরকে ওদের বিরুদ্ধাচরণের আদেশ দেয়া হয়েছে। শয়তান চায় ওদেরকে চরমভাবে বিভ্রান্ত করতে। ... অতএব আপনার প্রতিপালকের কসম! তারা কখনো ঈমানদার হতে পারেনা যতক্ষণ না তারা আপনাকে নিজেদের আভ্যন্তরীণ বিরোধের বিচারক বানিয়ে নেয় এবং আপনার সকল ফায়সালা নিঃসঙ্কোচে তথা সন্তুষ্টচিত্তে মেনে নেয়।
অতএব যারা নিয়ত মানব রচিত বিধি-বিধান বাস্তবায়নের আহ্বান করছে পরোক্ষভাবে তারা বিধি-বিধান রচনা ও আনুগত্যের ক্ষেত্রে অন্যকে আল্লাহ্ তা'আলার অংশীদার বানাচ্ছে। আর যারা আল্লাহ্ তা'আলার বিধান ছাড়া অন্য বিধানের আলোকে বিচারকার্য পরিচালনা করছে তারা নিশ্চিতভাবেই কাফির। চাই তারা উক্ত বিধানকে আল্লাহ্ তা'আলার বিধান চাইতে উত্তম, সম পর্যায়ের বা আল্লাহ্ তা'আলার বিধান এর পাশাপাশি এটাও চলবে বলে ধারণা করুকনা কেন। কারণ, আল্লাহ্ তা'আলা কোর'আন মাজীদের উক্ত আয়াতে বলেছেনঃ তারা ঈমান আছে বলে ধারণা পোষণ করে। বাস্তবে তারা ঈমানদার নয়। দ্বিতীয়তঃ তারা তাগূতকে বিচারক মানে অথচ তার বিরুদ্ধাচরণ ঈমানের অঙ্গ।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ فَمَنْ يَكْفُرْ بِالطَّاغُوتِ وَ يُؤْمِنْ بِاللهِ فَقَدِ اسْتَمْسَكَ بِالْعُرْوَةِ الْوُثْقَى অর্থাৎ অতএব যে ব্যক্তি তাগূতকে অবিশ্বাস এবং আল্লাহ্ তা'আলাকে বিশ্বাস করে সেই প্রকৃতপক্ষে মজবুত রশি আঁকড়ে ধরলো। অর্থাৎ ঈমানদার হলো।
আল্লাহ্ তা'আলা কোর'আন মাজীদের মধ্যে তাঁর বিধান বিমুখতাকে মুনাফিকের আচরণ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেনঃ وَ إِذَا قِيلَ لَهُمْ تَعَالَوْا إِلَى مَا أَنْزَلَ اللَّهُ وَ إِلَى الرَّسُوْلِ رَأَيْتَ الْمُنَافِقِيْنَ يَصُدُّوْنَ عَنْكَ صُدُوداً অর্থাৎ যখন তাদেরকে আল্লাহ্ তা'আলার বিধান ও রাসূল এর প্রতি আহ্বান করা হয় তখন আপনি মুনাফিকদেরকে আপনার প্রতি বিমুখ হতে দেখবেন।
আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর বিধান ছাড়া অন্য বিধানকে জাহিলী (বর্বর) যুগের বিধান বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেনঃ أَفَحُكْمَ الْجَاهِلِيَّة يَبْغُوْنَ وَ مَنْ أَحْسَنُ مِنَ اللَّهِ حُكْمًا لِقَوْمٍ يُوْقِنُوْنَ অর্থাৎ তারা কি জাহিলী যুগের বিধান চাচ্ছে? দৃঢ় বিশ্বাসীদের জন্য আল্লাহ্ তা'আলার বিধান চাইতে সুন্দর বিধান আর কে দিতে পারে? ইবনে কাসীর (রাহিমাহুল্লাহু) উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেনঃ يُنْكِرُ تَعَالَى عَلَى مَنْ خَرَجَ عَنْ حُكْمِ اللهِ تَعَالَى الْمُشْتَمِلِ عَلَى كُلِّ خَيْرِ النَّاهِي عَنْ كُلِّ شَرٍّ ، وَ عَدَلَ إِلَى مَا سِوَاهُ مِنَ الْآرَاءِ وَ الْأَهْوَاءِ وَ الْإِصْطَلَاحَاتِ الَّتِي وَضَعَهَا الرِّجَالُ بِلَا مُسْتَنَدِ مِنْ شَرِيعَةِ اللهِ كَمَا كَانَ أَهْلُ الْجَاهِلِيَّةِ يَحْكُمُوْنَ بِهِ مِنَ الْجَهَالَاتِ وَ الضَّلَالَاتِ ، وَ كَمَا تَحْكُمُ بِه التَّتَارُ مِنَ السَّيَاسَاتِ الْمَأْخُوذ عَنْ جَنْكِيْرْحَانَ الَّذِي وَضَعَ لَهُمُ الْيَاسِقَ وَ هُوَ عِبَارَةٌ عَنْ كِتَابِ أَحْكَامٍ اقْتَبَسَهَا مِنْ شَرَائِعَ شَتَّى مِنَ الْيَهُودِيَّةِ وَ النَّصْرَانِيَّةِ وَ الْمِلَّةِ الإِسْلَامِيَّةِ ، وَ فِيْهَا كَثِيرٌ مِّنَ الْأَحْكَامِ أَخَذَهَا عَنْ مُجَرَّدِ نَظْرِهِ وَ هَوَاهُ ، فَصَارَتْ فِي بَنِيْهِ شَرْعاً يُقَدِّمُوْنَهَا عَلَى الْحُكْمِ بِالْكِتَابِ وَ السُّنَّةِ ، فَمَنْ فَعَلَ ذَلِكَ فَهُوَ كَافِرٌ يَجِبُ قِتَالُهُ حَتَّى يَرْجِعَ إِلَى حُكْمِ اللَّهِ وَ رَسُوْلِهِ ، فَلَا يُحْكُمُ بِسِوَاهُ فِي قَلِيْلٍ أَوْ كَثِيرٍ অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা উক্ত আয়াতে সে ব্যক্তিকে দোষারোপ করছেন যে ব্যক্তি সার্বিক কল্যাণময় আল্লাহ্ তা'আলার বিধান ছেড়ে মানব রচিত বিধি- বিধানের পেছনে পড়েছে। যেমনিভাবে জাহিলী যুগের লোকেরা ভ্রষ্টতা ও মূর্খতার মাধ্যমে এবং তাতারা চেঙ্গিজ খান রচিত "ইয়াসিক” নামক সংবিধানের মাধ্যমে বিচারকার্য পরিচালনা করতো। যা ছিলো ইহুদী, খ্রিষ্টান ও ইসলাম ধর্মের সংবিধান সমূহ থেকে বিশেষভাবে চয়িত। তাতে চেঙ্গিজ খানের ব্যক্তিগত মতামতও ছিল। ধীরে ধীরে তার সন্তানরা এ সংবিধানকে জীবন বিধান হিসেবে মেনে নিয়েছে। যার গুরুত্ব তাদের নিকট কোর'আন ও হাদীসের চাইতেও বেশি। যে এমন করলো সে কাফির হয়ে গেলো। তার সাথে যুদ্ধ করা সবার উপর ওয়াজিব যতক্ষণনা সে আল্লাহ্ তা'আলা ও তদীয় রাসূল এর বিধানের দিকে ফিরে আসে। বর্তমান যুগে অধিকাংশ রাষ্ট্রে মানব রচিত যে সংবিধান চলছে তা অনেকাংশে তাতারদের সংবিধানেরই সমতুল্য।
যে কোন মুক্তি সাহেবের ফতোয়া কোর'আন ও হাদীসের বিপরীত জেনেও নিজের মন মতো হওয়ার দরুন তা মেনে নেয়া এ শিরকের অন্তর্ভুক্ত। সঠিক নিয়ম হচ্ছে, কোন গবেষকের কথা কোর'আন ও হাদীসের সঠিক প্রমাণভিত্তিক হলে তা মেনে নেয়া। নতুবা নয়।
ইমামগণ এ ব্যাপারে একমত যে, রাসূল ছাড়া সবার কথাই গ্রাহ্য বা অগ্রাহ্য হতে পারে। এ জন্য তাঁরা সবাইকে কোর'আন ও হাদীসের সঠিক প্রমাণ ছাড়া কারোর কথা অন্ধভাবে মেনে নিতে নিষেধ করেছেন।
হযরত ইমাম আবু হানীফা (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ حَرَامٌ عَلَى مَنْ لَمْ يَعْرِفْ دَلِيْلِي أَنْ يُفْتِيَ بِكَلَامِي অর্থাৎ যে ব্যক্তি (কোর'আন ও হাদীসের) দলীল সম্পর্কে অবগত নয় (যে কোর'আন ও হাদীসের উপর ভিত্তি করে আমি ফতোয়া দিয়েছি) তার জন্য আমার কথানুযায়ী ফতোয়া দেয়া হারাম।
তিনি আরো বলেনঃ إِذَا رَأَيْتُمْ كَلَامَنَا يُخَالِفُ ظَاهِرَ الْكِتَابِ وَ السُّنَّةِ فَاعْمَلُوْا بِالْكِتَابِ وَ السُّنَّةِ ، وَاضْرِبُوا بِكَلَامِنَا الْحَائِطَ অর্থাৎ যখন তোমরা দেখবে আমার কথা কোর'আন ও হাদীসের প্রকাশ্য বিরোধী তখন তোমরা কোর'আন ও হাদীসের উপর আমল করবে এবং আমার কথা দেয়ালে ছুড়ে মারবে।
জনৈক ব্যক্তি "দানিয়াল" (কেউ কেউ তাঁকে নবী মনে করেন) এর কিতাব নিয়ে কুফায় প্রবেশ করলে হযরত ইমাম আবু হানীফা (রাহিমাহুল্লাহ) তাকে হত্যা করতে চেয়েছেন এবং তিনি তাকে উদ্দেশ্য করে বলেনঃ أكتابٌ سَوَى الْقُرْآنِ وَ الْحَدِيْثِ অর্থাৎ কোর'আন ও হাদীস ছাড়া অন্য কিতাব গ্রহণযোগ্য হতে পারে কি? তিনি আরো বলেনঃ إِذَا جَاءَ الْحَدِيثُ عَنْ رَسُولِ اللهِ ﷺ فَعَلَى الرَّأْسِ وَ الْعَيْنِ ، وَ إِذَا جَاءَ عَنِ الصَّحَابَةِ فَعَلَى الرَّأْسِ وَ الْعَيْنِ ، وَ إِذَا جَاءَ عَنِ التَّابِعِينَ فَهُمْ رِجَالٌ وَ نَحْنُ رِجَالٌ অর্থাৎ রাসূল ও সাহাবাদের বাণী সদা শিরোধার্য। তবে তাবেয়ীনদের বাণী তেমন নয়। কারণ, তারাও পুরুষ আমরাও পুরুষ। অর্থাৎ আমরা সবাই একই পর্যায়ের। সুতরাং প্রত্যেকেরই গবেষণার অধিকার রয়েছে।
হযরত ইমাম আবু হানীফা (রাহিমাহুল্লাহ) সম্পর্কে আরো বলা হয়ঃ سُئِلَ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى : إِذَا قُلْتَ قَوْلاً وَ كِتَابُ اللَّهِ يُخَالِفُهُ؟ قَالَ: اتْرُكُوْا قَوْلِي لكتاب الله، قِيلَ: إِذَا كَانَ قَوْلُ الرَّسُوْلِ يُخَالِفُهُ؟ قَالَ: اتْرُكُوا قَوْلِي لِخَيْرِ الرَّسُولِ ، قِيلَ: إِذَا كَانَ قَوْلُ الصَّحَابَةِ يُخَالِفُهُ؟ قَالَ: اتْرُكُوْا قَوْلِي لِقَوْلِ الصَّحابة অর্থাৎ হযরত ইমাম আবু হানীফা (রাহিমাহুল্লাহ) কে জিজ্ঞাসা করা হলোঃ আপনার ফতোয়া যদি কোর'আনের বিপরীত বলে সাব্যস্ত হয় তখন আমাদের কি করতে হবে? তিনি বললেনঃ আমার ফতোয়া ছেড়ে দিয়ে তখন কোর'আনকে মানবে। বলা হলোঃ আপনার ফতোয়া যদি হাদীসের বিপরীত সাব্যস্ত হয়? তিনি বললেনঃ আমার ফতোয়া ছেড়ে দিয়ে তখন হাদীসকে মানবে। বলা হলোঃ আপনার ফতোয়া যদি সাহাবাদের বাণীর বিপরীত সাব্যস্ত হয়? তিনি বললেনঃ আমার ফতোয়া ছেড়ে দিয়ে তখন সাহাবাদের বাণী অনুসরণ করবে।
হযরত ইমাম আবু হানীফা (রাহিমাহুল্লাহ) আরো বলেনঃ لَا تُقَدِّمْنِي وَ لَا تُقَلَّدَنْ مَالِكًا وَ لَا غَيْرَهُ، وَ خُذِ الْأَحْكَامَ مِنْ حَيْثُ أَخَذُوا مِنَ الكتاب و السنة অর্থাৎ তুমি আমি আবু হানীফা এবং মালিক এমনকি অন্য যে কারোর অন্ধ অনুসরণ করোনা। বরং তারা যেভাবে হুকুম-আহকাম সরাসরি কোর'আন ও হাদীস থেকে সংগ্রহ করেছে তোমরাও সেভাবে সংগ্রহ করো।
হযরত ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ كُلُّنَا رَادٌّ وَ مَرْدُوْدٌ عَلَيْهِ إِلَّا صَاحِبَ هَذَا الْقَبْرِ অর্থাৎ আমাদের সকলের মত গ্রাহ্য বা অগ্রাহ্য হতে পারে তবে রাসূল এর মত অনুরূপ নয়। বরং তা সদা গ্রাহ্য। কারণ, তা ওহি তথা ঐশী বাণী।
তিনি আরো বলেনঃ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ ، أُخْطِئُ وَ أَصِيْبُ ، فَانْظُرُوا فِي رَأْبِي ، فَكُلُّ مَا وَافَقَ الْكِتَابَ وَالسُّنَّةَ فَخُذُوهُ ، وَكُلُّ مَا لَمْ يُوَافِقْ فَاتْرُكُوْهُ অর্থাৎ আমি মানুষ। সুতরাং আমার কথা কখনো শুদ্ধ হবে। আবার কখনো অশুদ্ধ হবে। তাই তোমরা আমার কথায় গবেষণা করে যা কোর'আন ও হাদীসের অনুরূপ পাবে তাই মেনে নিবে। অন্যথায় তা প্রত্যাখ্যান করবে। হযরত ইমাম শাফি'য়ী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ مَثَلُ الَّذِي يَطْلُبُ الْعِلْمَ بِلاَ حُجَّةٍ كَمَثَلِ حَاطِبِ لَيْلٍ يَحْمِلُ حُزْمَةَ حَطَبٍ، وَفِيْهِ أَفْعَى تَلْدَغُهُ وَ هُوَ لَا يَدْرِي অর্থাৎ যে ব্যক্তি কোর'আন ও হাদীসের কোন প্রমাণ ছাড়া জ্ঞানার্জন করে সে ওব্যক্তির ন্যায় যে রাত্রি বেলায় কাঠ কেটে বোঝা বেঁধে বাড়ি রওয়ানা করলো অথচ তাতে সাপ রয়েছে যা তাকে দংশন করছে। কিন্তু তার তাতে কোন খবরই নেই। হযরত ইমাম আবু হানীফা এবং শাফি'য়ী (রাহيمাহুমাল্লাহ) আরো বলেনঃ إِذَا صَحَ الْحَدِيثُ فَهُوَ مَذْهَبِي ، إِذَا رَأَيْتُمْ كَلَامِي يُخَالِفُ الْحَدِيثَ فَاعْمَلُوا بالحديث وَ اضْرِبُوا بِكَلَامِيَ الْحَائِطَ অর্থাৎ কোন হাদীস বিশুদ্ধ প্রমাণিত হলে তা আমার মাযহাব বলে মনে করবে। জেনে রাখো, আমার কোন সিদ্ধান্ত হাদীসের বিপরীত প্রমাণিত হলে তখন হাদীস অনুযায়ী আমল করবে এবং আমার কথা দেয়ালে ছুঁড়ে মারবে। হযরত ইমাম শাফি'য়ী (রাহিমাহুল্লাহ) আরো বলেনঃ إِذَا قُلْتُ قَوْلاً وَ كَانَ النَّبِيُّ قَالَ خِلَافَ قَوْلِيْ فَمَا يَصِحُ مِنْ حَدِيْثِ النَّبِيُّ أَوْلَى ، فَلَا تُقَلِّدُوْنِي অর্থাৎ আমি যদি এমন কোন কথা বলে থাকি যা নবী এর কথার বিপরীত তখন নবী এর বিশুদ্ধ হাদীস অনুসরণ করাই সর্বোত্তম। অতএব তখন আমার অন্ধ অনুসরণ করবে না। তিনি আরো বলেনঃ أَجْمَعَ الْعُلَمَاءُ عَلَى أَنْ مَنِ اسْتَبَانَتْ لَهُ سُنَّةُ رَسُولِ اللَّهِ لَمْ يَكُنْ لَهُ أَنْ يَدَعَهَا لِقَوْل أَحَد অর্থাৎ সকল আলিমগণ এ ব্যাপারে একমত যে, রাসূল এর হাদীস যখন কারোর নিকট সুস্পষ্ট হয়ে যায় তখন অন্য কারোর কথার কারণে তা প্রত্যাখ্যান করার কোন অধিকার সে ব্যক্তির আর থাকে না। হযরত ইমাম আহমাদ্ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ لَا تُقَلِّدْنِي وَ لَا تُقَلَّدَنْ مَالِكاً ، وَ لَا الشَّافِعِيُّ ، وَ لَا الْأَوْزَاعِيُّ ، وَ لَا الثَّوْرِيُّ ، وَ خُذْ مِنْ حَيْثُ أَخَذُوا অর্থাৎ তুমি আমি আহ্মাদ্, ইমাম মালিক, শাফি'য়ী, আওযা'য়ী, সাওরী এমনকি কারোর অন্ধ অনুসরণ করো না। বরং তুমি ওখান থেকেই জ্ঞান আহরণ করো যেখান থেকে জ্ঞান আহরণ করেছেন এ সকল ইমামরা। তিনি আরো বলেনঃ لَيْسَ لِأَحَدٍ مَعَ اللَّهِ وَ رَسُوْلِهِ كَلَامٌ অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা ও তদীয় রাসূল এর কথার পাশাপাশি আর কারোর কথা বলার কোন অধিকার থাকেনা।
তিনি আরো বলেনঃ لَا تُقَلِّدْ دِينَكَ أَحَداً مِنْ هَؤُلَاءِ ، مَا جَاءَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ وَ أَصْحَابِهِ فَخُذْ بِهِ ، ثُمَّ التَّابِعِينَ بَعْدُ ، الرَّجُلُ فِيْهِ مُخَيَّرٌ অর্থাৎ তোমার গুরুত্বপূর্ণ ধর্মকে এদের (ইমামদের) কারোর হাতে সোপর্দ করোনা। বরং তুমি রাসূল ও তাঁর সাহাবাদের কথানুযায়ী চলবে। তবে তাবি'য়ীনদের কথা মানার ব্যাপারে তুমি সম্পূর্ণরূপে স্বাধীন।
তিনি আরো বলেনঃ عَجِبْتُ لِقَوْمٍ عَرَفُوْا الإِسْنَادَ وَ صِحْتَهُ يَذْهَبُوْنَ إِلَى رَأْيِ سُفْيَانَ وَ اللَّهُ تَعَالَى يَقُولُ: فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُوْنَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ অর্থাৎ আশ্চর্য হয় ওদের জন্য যারা হাদীসের বর্ণনধারার বিশুদ্ধতা সম্পর্কে সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত। এতসত্ত্বেও তারা তা না মেনে সুফইয়ান (সাওরী) (রাহিমাহুল্লাহ) এর একান্ত ব্যক্তিগত মতামত গ্রহণ করে। অথচ আল্লাহ্ তা'আলা ইরশাদ করেনঃ রাসূল এর আদেশ অমান্যকারীদের এ মর্মে সতর্ক থাকা উচিত যে, তাদের উপর নেমে আসবে বিপর্যয় বা আপতিত হবে কঠিন শাস্তি।
হযরত ইমাম আহমাদ্ (রাহিমাহুল্লাহ) উক্ত আয়াত সম্পর্কে বলেনঃ وَ مَا الْفِتْنَةُ إِلَّا الشَّرْكُ ، لَعَلَّهُ إِذَا رَدَّ بَعْضَ قَوْلِهِ أَنْ يَقَعَ فِي قَلْبِهِ شَيْءٌ مِّنَ الزَّيْغِ فَيَزِيْعُ قَلْبُهُ فَيُهْلِكُهُ অর্থাৎ উক্ত আয়াতে ফিৎনাহ্ বলতে শিককেই বুঝানো হয়েছে। সম্ভবত এটাই বুঝানো হচ্ছে যে, যখন কোন ব্যক্তি রাসূল ﷺ এর কোন কথা প্রত্যাখ্যান করে তখন তার অন্তরে কিছুটা বক্রতা সৃষ্টি হয়। এমনকি ধীরে ধীরে তার অন্তর সম্পূর্ণরূপে বক্র হয়ে যায়। এতেই তার ধ্বংস অনিবার্য। তিনি উক্ত আয়াতের দ্বিতীয় ব্যাখ্যায় আরো বলেনঃ أَتَدْرِي مَا الْفِتْنَةُ الْفِتْنَةُ الْكُفْرُ ، قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: وَ الْفِتْنَةُ أَكْبَرُ مِنَ الْقَتْلِ অর্থাৎ তুমি জানো কি? উক্ত আয়াতে ফিৎনাহ্ বলতে কি বুঝানো হয়েছে। তিনি বলেনঃ উক্ত আয়াতে ফিৎনাহ্ বলতে কুফরীকে বুঝানো হয়েছে। আল্লাহ্ তা'আলা অন্য আয়াতে বলেনঃ ফিৎনাহ্ (কুফরী) হত্যা অপেক্ষা গুরুতর। হযরত ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) ওদের প্রতি কটাক্ষ করেছেন যারা হাদীসকে বিশুদ্ধ জেনেও সুইয়ান (সাওরী) (রাহিমাহুল্লাহ) বা অন্যান্য ইমামগণের অন্ধ অনুসরণ করে।
তারা কখনো কখনো এ বলে হাদীস মানতে অক্ষমতা প্রকাশ করে যে, হাদীস মানা না মানা গবেষণা সংক্রান্ত ব্যাপার। আর গবেষণার দরোজা বহু পূর্বেই বন্ধ হয়ে গেছে অথবা আমার ইমাম আমার চাইতে এ সম্পর্কে ভাল জানেন। তিনি জেনে শুনেই এ হাদীস গ্রহণ করেননি। সুতরাং এ ব্যাপারে ভাবনা বা গবেষণার কোন প্রয়োজন নেই অথবা গবেষণার দরোজা এখনো বন্ধ হয়নি। তবে গবেষণার জন্য এমন অনেকগুলো শর্ত রয়েছে যা এ যুগে কারোরই মধ্যে পাওয়া যাচ্ছেনা। যেমনঃ গবেষক কোর'আন ও হাদীসে বিশেষজ্ঞ হওয়া এবং উহার নাসিখ (রহিতকারী) মালূখ (রহিত) সম্পর্কে সম্পূর্ণরূপে অবগত হওয়া; হাদীসের শুদ্ধাশুদ্ধ জানা; শব্দ ও বাক্যের ইঙ্গিত, অভিব্যক্তি ও বাচনভঙ্গি সম্পর্কে সুপত্তি হওয়া; আরবী ভাষা, নাহু (ব্যাকরণ), উসূল (ফিকাহ্ শাস্ত্রের মৌলিক প্রমাণ সংক্রান্ত জ্ঞান) ইত্যাদি ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে পরিপূর্ণ জ্ঞান রাখা। আরো এমন অনেকগুলো শর্ত বলা হয় যা যা আবু বকর ও 'উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) এর মধ্যে পাওয়া যাওয়াও হয়তো বা অসম্ভব।
উক্ত শর্তসমূহ সঠিক বলে মেনে নিলেও তা শুধু হযরত ইমাম আবু হানীফা, মালিক, শাফি'য়ী ও আহমাদ (রাহিমাহুমুল্লাহু) এর মতো প্রথম পর্যায়ের বা মহা গবেষকদের ক্ষেত্রে মেনে নেয়া যেতে পারে। কিন্তু ওগুলোকে সরাসরি কোর'আন ও হাদীস মোতাবেক আমল করা জায়েয হওয়ার ব্যাপারে শর্ত হিসেবে মেনে নেয়া হলে তা হবে সত্যিকারার্থে আল্লাহ্ তা'আলা, তদীয় রাসূল ও ইমামগণের উপর মারাত্মক অপবাদ। বরং একজন মু'মিন হিসেবে প্রতিটি ব্যক্তির উপর ফরয এই যে, যখনই কোর'আনের কোন আয়াত অথবা রাসূল এর বিশুদ্ধ কোন হাদীস তার কর্ণকুহরে পৌঁছুবে এবং সে তা হৃদয়ঙ্গম করতে সক্ষম হবে তখনই সে তা নিঃসঙ্কোচে মেনে নিবে। তা যে কোন বিষয়েই হোকনা কেন এবং উহার বিপরীতে যে কেউই মত ব্যক্ত করুকনা কেন। ইহাই মহামহিম আল্লাহ্ তা'আলা এবং তদীয় রাসূল মুহাম্মাদ এর একান্ত নির্দেশ এবং সকল আলিম এ ব্যাপারে একমত।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ اَتَّبِعُوْا مَا أُنْزِلَ إِلَيْكُمْ مِّنْ رَّبِّكُمْ وَ لَا تَتَّبِعُوْا مِنْ دُونِهِ أَوْلِيَاءَ قَلِيْلًا مَّا تَذَكَّرُوْنَ অর্থাৎ তোমরা নিজ প্রভুর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ বিধানের অনুসরণ করো। তিনি ব্যতীত অন্য কাউকে অনুসরণীয় বন্ধু বা অভিভাবকরূপে গ্রহণ করো। না। তবে তোমরা খুব কমই উপদেশ গ্রহণ করে থাকো।
সকল হিদায়াত একমাত্র রাসূল এর আনুগত্যে। অন্য কারোর আনুগত্যে নয়। সে যত বড়ই হোকনা কেন।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ وَإِنْ تُطِيعُوهُ تَهْتَدُوا ۖ وَمَا عَلَى الرَّسُولِ إِلَّا الْبَلَاغُ الْمُبِينُ ﴿ অর্থাৎ যদি তোমরা তাঁর (আল্লাহ) রাসূলের আনুগত্য করো তাহলে তোমরা সত্যিকারার্থে হিদায়াতপ্রাপ্ত হবে। রাসূলের কর্তব্যই তো হচ্ছে সকলের নিকট আল্লাহ্ তা'আলার সুস্পষ্ট বাণী পৌঁছে দেয়া।
উক্ত আয়াতে আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর রাসূলের আনুগত্যে হিদায়াত রয়েছে বলে সাক্ষ্য দিয়েছেন। কিন্তু মাযহাবীরা তাতে হিদায়াত দেখতে পাচ্ছে না। বরং তাদের অধিকাংশের ধারণা, রাসূল এর হাদীস সরাসরি অবলম্বনে সমূহ গোমরাহির নিশ্চিত সম্ভাবনা এবং একান্তভাবে মাযহাব অনুসরণে সার্বিক কল্যাণ নিহিত রয়েছে। তাইতো তারা নির্দিষ্ট কোন মাযহাব পরিত্যাগ করাকে মারাত্মক অপরাধ ও চরম গোমরাহির কারণ বলে আখ্যায়িত করে থাকে।
হযরত ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) এর উপরোল্লিখিত বাণীতে এ কথাও সুস্পষ্ট যে, কারোর নিকট রাসূল এর সুস্পষ্ট বাণী পৌঁছা পর্যন্ত ততক্ষণ কোন ইমামের অন্ধ অনুসরণ (তাক্বলীদ) সত্যিকারার্থে দোষনীয় নয়। বরং দোষনীয় হচ্ছে কারোর নিকট রাসূল এর সুস্পষ্ট বাণী পৌঁছার পরও পূর্ব ভুল সিদ্ধান্তের উপর অটল ও অবিচল থাকা। দোষনীয় হচ্ছে ফিকাহ্'র কিতাব সমূহ জীবন চালনার জন্যে সম্পূর্ণরূপে যথেষ্ট মনে করে কোর'আন ও হাদীসের প্রতি ভ্রূক্ষেপ না করা।
অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, কোর'আন ও হাদীস অধ্যয়ন করা হলেও তা একমাত্র বরকত হাসিল অথবা মাযহাবী অপতৎপরতা দৃঢ়তর করা তথা কোর'আন ও হাদীসের অপব্যাখ্যা দেয়ার উদ্দেশ্যেই হয়ে থাকে। একান্ত শিক্ষা গ্রহণের উদ্দেশ্যে নয়। শুধুমাত্র চাকুরির জন্যে। শরীয়ত শেখার জন্যে নয়। তাদের সর্বপ্রথম এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া উচিৎ যে, নিম্নোক্ত আয়াতগুলোর অন্তর্ভুক্ত তারাইতো নয়? না অন্য কেউ।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ وَ قَدْ آتَيْنَاكَ مِنْ لَّدُنَا ذِكْراً ، مَنْ أَعْرَضَ عَنْهُ فَإِنَّهُ يَحْمِلُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وِزْراً ، خَالِدِينَ فِيهِ وَ سَاءَ لَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ حَمْلاً অর্থাৎ আমি আমার পক্ষ থেকে আপনাকে কোর'আন মাজীদ দিয়েছি উপদেশ স্বরূপ। যে ব্যক্তি তা হতে বিমুখ হবে সে কিয়ামতের দিন গুনাহ্'র মহা বোঝা বহন করবে। এমনকি সে স্থায়ী শাস্তির সম্মুখীনও হবে এবং এ বোঝা তার জন্য দুঃখ ও বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
আল্লাহ্ তা'আলা আরো বলেনঃ وَ مَنْ أَعْرَضَ عَنْ ذِكْرِي فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنكاً وَ نَحْشُرُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَعْمَى ، قَالَ رَبِّ لِمَ حَشَرْتَنِي أَعْمَى وَ قَدْ كُنْتُ بَصِيْراً ، قَالَ كَذَلِكَ أَتَتْكَ آيَاتُنَا فَنَسِيْتَهَا وَكَذَلِكَ الْيَوْمَ تُنْسَى ، وَكَذَلِكَ نَجْزِي مَنْ أَسْرَفَ وَ لَمْ يُؤْمِنْ بِآيَاتِ رَبِّهِ وَلَعَذَابُ الْآخِرَةِ أَشَدُّ وَ أَبْقَى অর্থাৎ যে ব্যক্তি আমার স্মরণে বিমুখ তার জীবন-যাপন হবে কঠিন ও সংকুচিত এবং কিয়ামতের দিন আমি তাকে উঠাবো অন্ধ রূপে। তখন সে বলবেঃ হে আমার প্রভু! আপনি আমাকে কেন অন্ধ করে উঠালেন? আমি তো ছিলাম চক্ষুষ্মান। তখন আল্লাহ্ তা'আলা বলবেনঃ এ ভাবেই। কারণ, দুনিয়াতে তোমার নিকট আমার সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী এসেছিলো তখন তুমি তা ভুলে গিয়েছিলে। সে ভাবেই আজ তোমাকে ভুলে যাওয়া হলো। এ ভাবেই আমি হঠকারী ও প্রভুর নিদর্শনে অবিশ্বাসীকে শাস্তি দিয়ে থাকি। নিশ্চয়ই পরকালের শাস্তি কঠিন ও চিরস্থায়ী।
হযরত 'আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'আব্বাস্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) এ জাতীয় লোকদের সম্পর্কেই বলেনঃ يُوْشِكُ أَنْ تَنْزِلَ عَلَيْكُمْ حِجَارَةً مِّنَ السَّمَاءِ أَقُوْلُ: قَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ! وَ تَقُوْلُوْنَ: قَالَ أَبُو بَكْرٍ وَ عُمَرُ অর্থাৎ অচিরেই তোমাদের উপর আকাশ থেকে পাথর বর্ষিত হবে। আমি বলছিঃ রাসূল বলেছেন। অথচ তোমরা বলছোঃ আবু বক্স বলেছেন, 'উমর বলেছেন।
শায়েখ আব্দুর রহমান বিন্ হাসান (রাহিমাহুল্লাহ) প্রতিটি মুসলমানের সঠিক কর্তব্য সম্পর্কে বলেনঃ الْوَاجِبُ عَلَى كُلِّ مُكَلَّفَ إِذَا بَلَغَهُ الدَّلِيلُ مِنْ كِتَابِ اللَّهِ وَسُنَّةِ رَسُوْلِهِ وَ فَهِمَ مَعْنَى ذَلِكَ أَنْ يَنْتَهِيَ إِلَيْهِ وَ يَعْمَلَ بِهِ ، وَ إِنْ خَالَفَهُ مَنْ خَالَفَهُ অর্থাৎ প্রতিটি ব্যক্তির কর্তব্য এই যে, যখন তার নিকট কোর'আন ও হাদীসের সঠিক প্রমাণ পৌঁছুবে এবং সে তা বুঝতে সক্ষম হবে তখন সে আর সামনে পা বাড়াবেনা বরং তা নিঃসঙ্কোচে মেনে নিবে। এর বিরোধিতায় যে কোন ব্যক্তিই মত পোষণ করুকনা কেন।
তিনি আরো বলেনঃ يَجِبُ عَلَى مَنْ نَصَحَ نَفْسَهُ إِذَا قَرَأَ كُتُبَ الْعُلَمَاءِ وَ نَظَرَ فِيْهَا وَ عَرَفَ أَقْوَالَهُمْ أَنْ يَعْرِضَهَا عَلَى مَا فِي الْكِتَابِ وَ السُّنَّةِ ؛ فَإِنَّ كُلَّ مُجْتَهِدٍ مِنَ الْعُلَمَاءِ وَ مَنْ تَبِعَهُ وَ الْتَسَبَ إِلَيْهِ يَذْكُرُ دَلِيْلَهُ ، وَ الْحَقُّ فِي الْمَسْأَلَةِ وَاحِدٌ ، وَ الْأَئِمَّةُ مُثَابُوْنَ عَلَى اجْتِهَادِهِمْ ، فَالْمُنْصِفُ يَجْعَلُ النَّظْرَ فِي كَلَامِهِمْ وَ تَأَمُّلَهُ طَرِيقاً إِلَى مَعْرِفَةِ الْمَسَائِلِ وَ اسْتِحْضَارِهَا ، وَ تَمْيِيزِ الصَّوَابِ مِنَ الْخَطَأَ بِالْأَدِلَّةِ الَّتِي يَذْكُرُهَا الْمُسْتَدِلُّوْنَ ، وَ يَعْرِفُ بِذَلِكَ مَنْ هُوَ أَسْعَدُ بِالدَّلِيْلِ مِنَ الْعُلَمَاءِ فَيَتَّبِعُهُ অর্থাৎ প্রত্যেক নিজ হিতাকাঙ্ক্ষী ব্যক্তির কর্তব্য এই যে, যখন সে কিতাব পড়ে কোন আলিমের মতামত জানবে তখন তা কোর'আন ও হাদীসের কষ্টিপাথরে যাচাই করে নিবে। কারণ, যে কোন গবেষক বা তার অনুসারীরা যখনই কোন মাআলা উল্লেখ করেন সাথে সাথে তার প্রমাণও উল্লেখ করে থাকেন। সুতরাং আমাদের সক্ষমদের কর্তব্য, প্রতিটি মাআলার সঠিক দৃষ্টিকোণ জেনে নেয়া। কারণ, যে কোন মাআলার সঠিক দৃষ্টিকোণ সবেমাত্র একটি। দু'টো বা ততোধিক নয়। তবে ইমামগণ সর্বাবস্থায় গবেষণার সাওয়াবের অধিকারী হবেন। চাই তিনি সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হোন বা নাই হোন। অতএব, ইনসাফ অন্বেষী ব্যক্তি সে, যে গবেষকদের মতামতে গভীর দৃষ্টি আরোপ করে কোর'আন ও হাদীস সম্মত সঠিক মত জেনে নিবে এবং জানবে কোন্ আলিমের মত নিখুঁত প্রমাণভিত্তিক তাহলে সে তা মেনে নিবে। এভাবেই ক্ষণকালের মধ্যে তার নিকট পরীক্ষিত এক ধর্মীয় জ্ঞানভাণ্ডার সঞ্চিত হবে।
হযরত আব্দুর রহমান বিন হাসান (রাহিমাহুল্লাহ) আল্লাহ্'র বাণীঃ وَ إِنْ أَطَعْتُمُوْهُمْ إِنَّكُمْ لَمُشْرِكُوْنَ অর্থাৎ তোমরা যদি তাদের আনুগত্য করো তাহলে তোমরা নিশ্চিতভাবে মুশরিক হয়ে যাবে।
উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় তিনি বলেনঃ وَ هَذَا وَقَعَ فِيْهِ كَثِيرٌ مِّنَ النَّاسِ مَعَ مَنْ قَلْدُوهُمْ لِعَدَمِ اعْتِبَارِهِمِ الدَّلِيْلَ إِذَا خَالَفَ الْمُقَلَّدَ، وَ هُوَ مِنْ هَذَا الشِّرْكِ، وَ مِنْهُمْ مَنْ يَعْلُوْ فِي ذَلِكَ وَ يَعْتَقِدُ أَنَّ الأخذ بِالدَّلِيلِ وَ الْحَالُ هَذِهِ يُكْرَهُ أَوْ يَحْرُمُ فَعَظُمَتِ الْفِتْنَةُ! وَ يَقُوْلُ: هُوَ أَعْلَمُ منا بالأدلة অর্থাৎ এ জাতীয় শিকে মাযহাব অনুসারীদের অনেকেই লিপ্ত। কারণ, তারা নিজ ইমামের মত পরিপন্থী কোন প্রমাণ গ্রহণ করেনা যতই তা বিশুদ্ধ প্রমাণিত হোকনা কেন। তাদের কট্টরপন্থীরাতো এমনও বিশ্বাস করে যে, ইমাম সাহেবের মত পরিপন্থী কোন প্রমাণ গ্রহণ করা মাকরূহ বা হারাম। এমতাবস্থায় বিপর্যয় আরো ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। তারা এমনও বলে থাকে যে, ইমাম সাহেব দলীল সম্পর্কে আমাদের চাইতে কম অবগত ছিলেন না।
শায়েখ মোহাম্মদ বিন্ আব্দুল ওয়াহ্হাব (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ الْمَسْأَلَةُ الْخَامِسَةُ : تَغَيُّرُ الأَحْوَالِ إِلَى هَذِهِ الْغَايَةِ ، حَتَّى صَارَ عِنْدَ الْأَكْثَرِ عِبَادَةُ الرُّهْبَانِ هِيَ أَفْضَلُ الأَعْمَالِ ، وَ تُسَمَّى الْوِلايَةَ ، وَ عِبَادَةُ الْأَحْبَارِ هِيَ الْعِلْمُ وَالْفِقْهُ ، ثُمَّ تَغَيَّرَتِ الْحَالُ إِلَى أَنْ عُبِدَ مِنْ دُوْنِ اللَّهِ مَنْ لَيْسَ مِنَ الصَّالِحِيْنَ ، وَعُبِدَ بِالْمَعْنَى الثَّانِي مَنْ هُوَ مِنَ الْجَاهِلِينَ অর্থাৎ পঞ্চম মাআলা এই যে, অবস্থার পরিবর্তন এতটুকু পর্যন্ত পৌঁছেছে যে, অনেকেই বুযুর্গদের উপাসনাকে উৎকৃষ্ট আমল বলে মনে করছে। এমনকি উহাকে বিলায়াত (বুযুর্গী) বলতে এতটুকুও সঙ্কোচ করছেনা। অনুরূপভাবে আলিমদের উপাসনাকে ইল্ম তথা ফিক্ বলা হচ্ছে। ধীরে ধীরে অবস্থার এতখানি অবনতি ঘটেছে যে, বুযুর্গ নামধারী ভণ্ডদের এবং আলিম নামধারী মূর্খদের পূজা শুরু হয়েছে।
অতএব মৃত ব্যক্তিদের ওয়াসীলা গ্রহণ, যে কোন সমস্যার সমাধান কল্পে তাদেরকে আহ্বান, সূফীদের পথ ও মত অনুসরণ, জন্মোৎসব উদ্যাপন এ জাতীয় সকল ভ্রষ্টতা, বিদ'আত ও কুসংস্কারের ক্ষেত্রে ভ্রষ্ট আলিমদের অনুসরণ তাদেরকে প্রভু মানার শামিল। ভ্রষ্ট আলিমরা ইসলাম ধর্মে এমন কিছু কর্মকাণ্ড আবিষ্কার করেছে যার লেশমাত্রও কোর'আন বা হাদীসে খুঁজে পাওয়া যায়না। পরিশেষে ব্যাপারটি এমন পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে যে, বিদ'আতকে ধর্ম পালনের মূল মানদণ্ড বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। যা পালন না করলে সে ব্যক্তিকে ধর্ম ত্যাগী বা আলিম-বুযুর্গদের চরম শত্রু ভাবা হচ্ছে।
গবেষক ইমামদের ভুল গবেষণা মানা যদি নাজায়েয হয়ে থাকে অথচ তারা অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য একটি সাওয়াব পাচ্ছেন তাহলে আক্বীদার বিষয়ে (যাতে গবেষণার সামান্যটুকুও অবকাশ নেই) ভ্রষ্ট আলিমদের অনুসরণ কিভাবে জায়েয হতে পারে। মূলতঃ ব্যাপারটি এমন যেমনটি আল্লাহ্ তা'আলা কোর'আন মাজীদের মধ্যে সুন্দরভাবে বর্ণনা করেছেন।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ وَ لَقَدْ ضَرَبْنَا لِلنَّاسِ فِي هَذَا الْقُرْآنِ مِنْ كُلِّ مَثَلٍ ، وَ لَئِنْ جِئْتَهُمْ بِآيَةٍ لَيَقُولَنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا إِنْ أَنْتُمْ إِلَّا مُبْطِلُوْنَ ، كَذَلِكَ يَطْبَعُ اللَّهُ عَلَى قُلُوْبِ الَّذِينَ لَا يَعْلَمُوْنَ ، فَاصْبِرْ إِنَّ وَعْدَ اللَّهِ حَقٌّ وَ لَا يَسْتَخِفَّنَّكَ الَّذِينَ لَا يُوْقِنُوْنَ অর্থাৎ আমি মানুষকে বুঝানোর জন্যে এ কোর'আন মাজীদে সর্ব প্রকারের দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছি। আপনি যদি তাদের সম্মুখে কোন নিদর্শন উপস্থিত করেন তখন কাফিররা নিশ্চয়ই বলবেঃ তোমরা অবশ্যই মিথ্যাশ্রয়ী। এভাবেই আল্লাহ্ তা'আলা মূর্খদের অন্তরে মোহর মেরে দেন। অতএব আপনি ধৈর্যধারণ করুন। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা'আলার প্রতিশ্রুতি সত্য। তবে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকুন যে, অবিশ্বাসীরা যেন আপনাকে বিচলিত করতে না পারে।
সর্ব বিষয়ে আলিমদের কট্টর অন্ধ অনুসারীদের পাশাপাশি আরেকটি দল রয়েছে যারা সবার উপর গবেষণা ওয়াজিব বলে মনে করে। যদিও সে গণ্ডমূর্খ হোকনা কেন। তারা ফিক্সের কিতাব পড়া হারাম মনে করে। তারা চায় মূর্খরাও যেন কোর'আন ও হাদীস থেকে মাআলা বের করে নেয়। এটি চরম কট্টরতা বৈ কি? ভয়ঙ্করতার বিবেচনায় এরাও প্রথমোক্তদের চাইতে কম নয়।
অতএব, এ ক্ষেত্রে মধ্যম পন্থা অনুসরণ করাই সর্বোত্তম। অর্থাৎ আমরা গবেষকদের অন্ধ অনুসরণও করবোনা আবার তাদের কোর'আন-হাদীস সম্মত জ্ঞানগর্ব আলোচনাও প্রত্যাখ্যান করবোনা। বরং আমরা তাদের গবেষণা গভীরভাবে অধ্যয়ন করে কোর'আন ও হাদীস বুঝার সঠিক পথ খুঁজে পেতে পারি।
📄 সুপারিশের শির্ক
১৪. সুপারিশের শিরকঃ
সুপারিশের শির্ক বলতে আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়া অন্য কারোর নিকট পরকালের সার্বিক মুক্তির জন্য গ্রহণযোগ্য কোন সুপারিশ কামনা করাকে বুঝানো হয়।
এ জাতীয় সুপারিশের অনুমতি বা মঞ্জুরির চাবিকাঠি একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলার হাতে। অতএব তিনি ছাড়া অন্য কারোর নিকট তা কামনা করা মারাত্মক শির্ক।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ قُلْ لِلَّهِ الشَّفَاعَةُ جَمِيعاً অর্থাৎ (হে নবী!) আপনি বলে দিনঃ যাবতীয় সুপারিশ একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলারই জন্য তথা তাঁরই ইখতিয়ারে। অন্য কারোর ইখতিয়ারে নয়।
আল্লাহ্ তা'আলা আরো বলেনঃ مَا لَكُمْ مِّنْ دُونِهِ مِنْ وَلِيٍّ وَ لَا شَفِيعٍ ، أَفَلَا تَتَذَكَّرُوْنَ অর্থাৎ তিনি ছাড়া তোমাদের জন্য কোন অভিভাবকও নেই এবং সুপারিশকারীও। তবুও কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না?
তিনি আরো বলেনঃ لَيْسَ لَهُمْ مِّنْ دُوْنِهِ وَلِيٌّ وَ لَا شَفِيعٌ لَعَلَّهُمْ يَتَّقُوْنَ অর্থাৎ তিনি ছাড়া তাদের না কোন সাহায্যকারী থাকবে না কোন সুপারিশকারী। এতে করে হয়তোবা তারা আল্লাহ্ তা'আলাকে ভয় করবে। কিয়ামতের দিন কেউ কারোর জন্য সুপারিশ করতে চাইলে তাকে সর্বপ্রথম আল্লাহ্ তা'আলার অনুমতি নিতে হবে। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ অর্থাৎ কে আছে এমন যে আল্লাহ্ তা'আলার অনুমতি ছাড়া তাঁর নিকট কারোর জন্য সুপারিশ করতে পারে? আল্লাহ্ তা'আলা আরো বলেনঃ مَا مِنْ شَفِيعٍ إِلَّا مِنْ بَعْدِ إِذْنِهِ অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলার অনুমতি ছাড়া সে দিন কোন সুপারিশকারী থাকবে না।
সুপারিশ তো দূরের কথা সে দিন তাঁর অনুমতি ব্যতিরেকে কেউ কোন কথাই বলার অধিকার রাখবে না। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ يَوْمَ يَأْتِ لَا تَكَلَّمُ نَفْسٌ إِلَّا بِإِذْنِهِ অর্থাৎ সে দিন কোন ব্যক্তি তাঁর (আল্লাহ্ তা'আলার) অনুমতি ছাড়া কথাও বলতে পারবে না। আল্লাহ্ তা'আলা আরো বলেনঃ لَا يَتَكَلَّمُوْنَ إِلَّا مَنْ أَذِنَ لَهُ الرَّحْمَنُ অর্থাৎ সে দিন দয়াময় প্রভুর অনুমতি ছাড়া কেউ কোন কথা বলতে পারবেনা। সে দিন কেউ আল্লাহ্ তা'আলার পক্ষ থেকে সুপারিশ করার অনুমতি পেলেও সে নিজ ইচ্ছানুযায়ী যে কোন ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করতে পারবেনা। বরং সে এমন ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করতে পারবে যার উপর আল্লাহ্ তা'আলা সন্তুষ্ট। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ وَ لَا يَشْفَعُوْنَ إِلَّا لِمَنِ ارْتَضَى অর্থাৎ ফিরিস্তাগণ শুধু ওদের জন্যই সুপারিশ করবে যাদের প্রতি আল্লাহ্ তা'আলা সন্তুষ্ট। আল্লাহ্ তা'আলা আরো বলেনঃ وَ كَمْ مِّنْ مَّلَكَ فِي السَّمَاوَاتِ لَا تُغْنِي شَفَاعَتُهُمْ شَيْئًا إِلَّا مِنْ بَعْدِ أَنْ يَأْذَنَ اللَّهُ لِمَنْ يَشَاءُ وَ يَرْضَى অর্থাৎ আকাশে অনেক ফিরিস্তা এমন রয়েছে যাদের সুপারিশ কোন কাজে আসবে না যতক্ষণনা আল্লাহ্ তা'আলা সুপারিশের অনুমতি দিবেন যাকে ইচ্ছা তাকে এবং যার প্রতি সন্তুষ্ট তার জন্য। আল্লাহ্ তা'আলা আরো বলেনঃ يَوْمَئِذٍ لَا تَنْفَعُ الشَّفَاعَةُ إِلَّا مَنْ أَذِنَ لَهُ الرَّحْمَنُ وَ رَضِيَ لَهُ قَوْلاً অর্থাৎ সে দিন কোন সুপারিশ ফলপ্রসূ হবে না। তবে শুধু ওর সুপারিশই ফলপ্রসূ হবে যাকে দয়াময় প্রভু সুপারিশের অনুমতি দিবেন এবং যার জন্য আল্লাহ্ তা'আলা সুপারিশ করা পছন্দ করবেন।
এমনকি আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ ﷺ ও সে দিন আল্লাহ্ তা'আলার নিকট সুপারিশের অনুমতি চাবেন। অতঃপর তাঁকে সুপারিশের অনুমতি দেয়া হবে এবং সাথে সাথে তাঁর জন্য সুপারিশের গণ্ডিও ঠিক করে দেয়া হবে। অতএব আল্লাহ্ তা'আলার অনুমতি ছাড়া এবং তাঁর নির্ধারিত গণ্ডির বাইরে সে দিন তিনিও কারোর জন্য সুপারিশ করতে পারবেন না।
হযরত আনাস্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ নবী ইরশাদ করেনঃ فَيَأْتُوْنِي فَأَنْطَلِقُ حَتَّى أَسْتَأْذِنَ عَلَى رَبِّي فَيُؤْذَنَ لِي ، فَإِذَا رَأَيْتُ رَبِّي وَقَعْتُ ساجداً ، فَيَدَعُنِي مَا شَاءَ اللهُ ، ثُمَّ يُقَالُ: ارْفَعْ رَأْسَكَ وَ سَلْ تُعْطَهُ ، وَقُلْ يُسْمَعْ، وَ اشْفَعْ تُشَفَعْ فَأَرْفَعُ رَأْسِي فَأَحْمَدُهُ بِتَحْمِيدِ يُعَلِّمُنِيهِ ، ثُمَّ أَشْفَعُ ، فَيُحَدُّ لِي حَدًّا ، فَأُدْخِلُهُمُ الْجَنَّةَ ، ثُمَّ أَعُوْدُ إِلَيْهِ ، فَإِذَا رَأَيْتُ رَبِّي وَقَعْتُ سَاجِداً مِثْلَهُ ، ثُمَّ أَشْفَعُ فَيُحَدُّ لِي حَداً فَأُدْخِلُهُمُ الْجَنَّةَ وَ هَكَذَا الثَّالِثَةُ ، ثُمَّ أَعُوْدُ الرَّابِعَةَ فَأَقُولُ: مَا بَقِيَ فِي النَّارِ إِلَّا مَنْ حَبَسَهُ الْقُرْآنُ وَ وَجَبَ عَلَيْهِ الْخُلُوْدُ অর্থাৎ জান্নাতীদেরকে জান্নাতে ঢুকার পূর্বে দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখা হবে। তখন তারা নবীদের সুপারিশ কামনা করলে কেউ তাতে রাজি হবেননা। পরিশেষে তারা রাসূল এর নিকট আসবে। রাসূল বলেনঃ তখন আমি আমার প্রভুর নিকট অনুমতি চাইলে আমাকে অনুমতি দেয়া হবে। প্রভুকে দেখেই আমি সিজদাহে পড়ে যাবো। তিনি আমাকে যতক্ষণ ইচ্ছা সিজদাহ্রত অবস্থায় রাখবেন। অতঃপর আমাকে বলা হবে, মাথা উঠাও। তুমি যা চাও তা দেয়া হবে। যা বলো শুনা হবে। যা সুপারিশ করো তা গ্রহণ করা হবে। অতঃপর আমি মাথা উঠাবো। তখন আমি প্রভুর প্রশংসা করবো যা তখন তিনি আমাকে শিখিয়ে দেবেন। এরপর আমি সুপারিশ করবো। তখন আমার সুপারিশের গণ্ডি ঠিক করে দেয়া হবে। তখন আমি শুধু তাদেরকেই জান্নাতে প্রবেশ করাবো। পুনরায় আমি তাঁর নিকট ফিরে আসবো এবং আমি তাঁকে দেখা মাত্রই সিজদাহে পড়ে যাবো। অতঃপর আমি সুপারিশ করলে আমার সুপারিশের গণ্ডি ঠিক করে দেয়া হবে। তখন আমি শুধু তাদেরকেই জান্নাতে প্রবেশ করাবো। এভাবে তৃতীয়বার। চতুর্থবার আমি ফিরে এসে বলবো, এখন শুধু জাহান্নামে ওব্যক্তিই রয়েছে যাকে কুর'আন মাজীদ আটকে রেখেছে। অর্থাৎ যাদের জন্য চিরতরে জাহান্নামে থাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে বিশেষভাবে জানার বিষয় এইযে, আল্লাহ্ তা'আলা শুধুমাত্র খাঁটি তাওহীদপন্থীদের জন্যই সুপারিশের অনুমতি দিবেন। অন্য কারোর জন্য নয়। আল্লাহ্ তা'আলা মুশরিকদের সম্পর্কে বলেনঃ فَمَا تَنْفَعُهُمْ شَفَاعَةُ الشَّافِعِيْنَ অর্থাৎ ফলে সুপারিশকারীদের সুপারিশ তাদের কোন কাজে আসবে না। হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ আমি রাসূল কে বললামঃ হে আল্লাহ্'র রাসূল! কিয়ামতের দিন আপনার সুপারিশ পাওয়ার ভাগ্য কার হবে? তিনি বললেনঃ لَقَدْ ظَنَنْتُ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ أَنْ لَا يَسْأَلَنِي عَنْ هَذَا الْحَدِيْثِ أَحَدٌ أَوَّلَ مِنْكَ لِمَا رَأَيْتُ مِنْ حِرْصِكَ عَلَى الْحَدِيْثِ، أَسْعَدُ النَّاسِ بِشَفَاعَتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَنْ قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ خَالِصاً مِّنْ قَلْبِهِ أَوْ نَفْسِهِ অর্থাৎ হে আবু হুরাইরাহ্! পূর্ব থেকেই তোমার সম্পর্কে আমার এ ধারণা ছিল যে, তোমার আগে এ সম্পর্কে আর কেউ প্রশ্ন করবে না। কারণ, আমি তোমাকে সর্বদা হাদীসলোভী দেখছি। কিয়ামতের দিন আমার সুপারিশ পাওয়ার ভাগ্য ওব্যক্তির হবে যে খাঁটি অন্তঃকরণে আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়া কোন মা'বুদ নেই বলে স্বীকার করবে।
হযরত 'আউফ্ বিন্ মালিক আব্জা'য়ী থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল ইরশাদ করেনঃ أَتَانِي آتَ مِنْ عِنْدِ رَبِّي ، فَخَيَّرَنِي بَيْنَ أَنْ يُدْخِلَ نِصْفَ أُمَّتِي الْجَنَّةَ وَبَيْنَ الشَّفَاعَةِ ، فَاخْتَرْتُ الشَّفَاعَةَ ، وَ هِيَ لِمَنْ مَاتَ لَا يُشْرِكْ بِاللَّهِ شَيْئًا অর্থাৎ হযরত জিব্রীল আমার প্রভুর প্রতিনিধি হিসেবে আমাকে দু'টি ব্যাপারের যে কোন একটি গ্রহণের স্বাধীনতা দিলেন। আল্লাহ্ তা'আলা আমার আধা উম্মাতকে জান্নাতে দিবেন নাকি আমি এর পরিবর্তে আমার সকল উম্মাতের জন্য সুপারিশ করবো। অতঃপর আমি সুপারিশের ব্যাপারটিই গ্রহণ করলাম। আর এ সুপারিশটুকু এমন সকল ব্যক্তির ভাগ্যে জুটবে যারা শিকমুক্ত অবস্থায় ইন্তিকাল করবে।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে আরো বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল ইরশাদ করেনঃ لِكُلِّ نَبِيٍّ دَعْوَةٌ مُسْتَجَابَةٌ ، فَتَعَجَّلَ كُلُّ نَبِيٍّ دَعْوَتَهُ ، وَ إِنِّي احْتَبَأْتُ دَعْوَتِيْ شَفَاعَةً لأُمَّتِي يَوْمَ الْقِيَامَةَ ، فَهِيَ نَائِلَةٌ إِنْ شَاءَ اللَّهُ مَنْ مَاتَ مِنْ أُمَّتِي لَا يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا অর্থাৎ প্রত্যেক নবীর জন্য একটি কবুল দো'আ বরাদ্দ রয়েছে এবং প্রত্যেক নবী তা দ্রুত (দুনিয়াতেই) করে ফেলেছেন। তবে আমি আমার দো'আটি কিয়ামতের দিন আমার উম্মতের জন্য সুপারিশ হিসেবে সংরক্ষণ করেছি। আল্লাহ্ চানতো তা এমন সকল ব্যক্তির ভাগ্যে জুটবে যারা শিকমুক্ত অবস্থায় ইন্তিকাল করবে।
উক্ত হাদীসদ্বয় এটিই প্রমাণ করে যে, পরকালে তাওহীদপন্থীদের জন্য রাসূল এর সুপারিশ দো'আ বা আবেদন জাতীয় হবে। দুনিয়ার সুপারিশকারীদের সুপারিশের অনুরূপ নয়। দুনিয়ার কোন সুপারিশকারী সাধারণত এমন ব্যক্তির নিকট সুপারিশ করে থাকে যে ব্যক্তি সুপারিশকারীর নিকট কোন ধরণের অনুগ্রহভোগী অথবা তার উপর সুপারিশকারীর কোন কর্তৃত্ব রয়েছে। আর আল্লাহ্ তা'আলার উপর কারোর কোন অনুগ্রহ বা কর্তৃত্ব নেই।
মূলতঃ আল্লাহ্ তা'আলা ফিরিস্তা, নবী বা ওলীগণকে সুপারিশের অনুমতি দিয়ে তাঁদেরকে সম্মানিত করবেন। ব্যাপারটা এমন যে, আল্লাহ্ তা'আলা নিজ অনুগ্রহে কিছু গুনাহগারকে ক্ষমা করে তাদেরকে জান্নাত দিতে চান। কিন্তু তিনি তাদেরকে সরাসরি জান্নাতে না পাঠিয়ে তাদেরকে ক্ষমা করা ও জান্নাতে পাঠানোর ব্যাপারে নিজ ফিরিস্তা, নবী বা ওলীগণকে সুপারিশের অনুমতি দিয়ে তাঁদেরকে সম্মানিত করবেন। সুতরাং সুপারিশকারীরা সুপারিশের মাধ্যমে আল্লাহ্ তা'আলার নিশ্চিত ফায়সালার সামান্যটুকুও পরিবর্তন করতে পারবেনা।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ وَ لَا يُشْرِكُ فِي حُكْمِهِ أَحَداً অর্থাৎ তিনি নিজ ফায়সালায় কাউকে শরীক করেন না।
আল্লাহ্ তা'আলা আরো বলেনঃ وَ اللَّهُ يَحْكُمُ لَا مُعَقِّبَ لِحُكْمِهِ ، وَ هُوَ سَرِيعُ الْحِسَابِ অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা এককভাবে ফায়সালা করেন। তাঁর ফায়সালা দ্বিতীয়বার পর্যালোচনা করার অধিকার কারোর থাকে না। তিনি দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।
তিনি আরো বলেনঃ قُلْ فَمَنْ يَمْلِكُ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا إِنْ أَرَادَ أَنْ يُهْلِكَ الْمَسِيحَ ابْنَ مَرْيَمَ وَ أُمَّهُ وَ مَنْ فِي الْأَرْضِ جَمِيعاً অর্থাৎ (হে মুহাম্মাদ!) আপনি ওদেরকে বলে দিনঃ আল্লাহ্ তা'আলা যদি ঈসা ও তাঁর মা এবং দুনিয়ার সবাইকে ধ্বংস করে দিতে চান তাহলে কে আছে এমন যে তাঁদেরকে আল্লাহ্ তা'আলার হাত থেকে রক্ষা করতে পারে?