📘 বড় শিরক কি ও কত প্রকার > 📄 রুকু, সিজদাহ্, বিনম্রভাবে দাঁড়ানো বা নামাযের শির্ক

📄 রুকু, সিজদাহ্, বিনম্রভাবে দাঁড়ানো বা নামাযের শির্ক


৫. রুকু, সিজদাহ্, বিনম্রভাবে দাঁড়ানো বা নামাযের শিকঃ রুকু, সিজদাহ্, সাওয়াবের আশায় কোন ব্যক্তি বা বস্তুর সামনে বিনম্রভাবে দাঁড়ানো বা নামাযের শির্ক বলতে একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়া অন্য কারোর জন্য এ সকল গুরুত্বপূর্ণ ইবাদাতগুলো ব্যয় করাকে বুঝানো হয়। এ ইবাদাতগুলো একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলার জন্যই করতে হয়। অন্য কারোর জন্য নয়। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا ارْكَعُوْا وَ اسْجُدُوا وَاعْبُدُوا رَبَّكُمْ وَ افْعَلُوا الْخَيْرَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ অর্থাৎ হে ঈমানদারগণ! তোমারা রুকু, সিজদাহ্, তোমাদের প্রভুর ইবাদাত এবং সৎকর্ম সম্পাদন করো। যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো। আল্লাহ্ তা'আলা আরো বলেনঃ لَا تَسْجُدُوا لِلشَّمْسِ وَ لَا لِلْقَمَرِ وَ اسْجُدُوا لِلَّهِ الَّذِي خَلَقَهُنَّ، إِنْ كُنتُمْ إِيَّاهُ تَعْبُدُوْنَ অর্থাৎ তোমরা সিজদাহ্ করোনা সূর্য বা চন্দ্রকে। বরং সিজদাহ্ করো সে আল্লাহ্ তা'আলাকে যিনি সৃষ্টি করেছেন ওগুলোকে। যদি তোমরা একমাত্র তাঁরই ইবাদাত করতে চাও।
হযরত কাইস্ বিন্ সা'দ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ আমি ইয়েমেনের "'হীরা" নামক এলাকায় গিয়ে দেখতে পেলাম, সে এলাকার লোকেরা নিজ प्रशासককে সিজদা করে। তখন আমি মনে মনে ভাবলাম, এ জাতীয় সিজদাহ্'র উপযুক্ত একমাত্র রাসূলই হতে পারে। অন্য কেউ নয়। তাই আমি মদীনায় এসে রাসূল কে ঘটনাটি এবং আমার মনের ভাবটুকু জানালে তিনি বললেনঃ لَا تَفْعَلُوا، لَوْ كُنْتُ آمِرًا أَحَدًا أَنْ يَسْجُدَ لأَحَد لَأَمَرْتُ النِّسَاءَ أَنْ يَسْجُدْنَ لأَزْوَاجِهِنَّ ؛ لِمَا جَعَلَ اللَّهُ لَهُمْ عَلَيْهِنَّ مِنَ الْحَقِّ অর্থাৎ বলো! তুমি আমার ইন্তিকালের পর আমার কবরের পাশ দিয়ে গেলে আমার কবরটিকে সিজদাহ্ করবে কি? আমি বললামঃ না, তিনি বললেনঃ তাহলে এখনও করোনা। আমি যদি কাউকে কারোর জন্য সিজদাহ্ করতে আদেশ করতাম তাহলে মহিলাদেরকে নিজ স্বামীদের জন্য সিজদাহ্ করতে আদেশ করতাম। কারণ, আল্লাহ্ তা'আলা পুরুষদেরকে নিজ স্ত্রীদের উপর প্রচুর অধিকার দিয়েছেন।
আল্লাহ্ তা'আলা নামায ও সুদীর্ঘ বিনম্রভাবে দাঁড়িয়ে থাকা সম্পর্কে বলেনঃ حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَ الصَّلَاةِ الْوُسْطَى وَ قُوْمُوْا لِلَّهِ قَانِتِينَ অর্থাৎ তোমরা নামায সমূহ বিশেষভাবে মধ্যবর্তী নামায ('আসর) সময় মতো আদায় করো এবং বিনীতভাবে একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলার উদ্দেশ্যেই দাঁড়াও। অন্য কারোর উদ্দেশ্যে নয়।
হযরত মু'আবিয়াহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ আমি রাসূল কে বলতে শুনেছিঃ مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَتَمَثَّلَ لَهُ الرِّجَالُ قِيَامًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ অর্থাৎ যে ব্যক্তি এ ব্যাপারে সন্তুষ্ট যে, মানুষ তার জন্য মূর্তির ন্যায় দাঁড়িয়ে থাকুক তাহলে সে যেন নিজ বাসস্থান জাহান্নামে বানিয়ে নেয়।
আল্লাহ্ তা'আলা আরো বলেনঃ قُلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ ، لَا شَرِيكَ لَهُ وَ بِذَلِكَ أُمِرْتُ وَ أَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ অর্থাৎ আপনি বলে দিনঃ আমার নামায, আমার কুরবানি, আমার জীবন ও মরণকালের সকল নেক আমল সারা জাহানের প্রভু একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলারই জন্য। তাঁর কোন শরীক নেই, আমি এরই জন্যে আদিষ্ট হয়েছি এবং আমিই আমার উম্মতের সর্বপ্রথম মুসলমান।
তিনি আরো বলেনঃ فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَ الْحَرْ অর্থাৎ অতএব তোমার প্রভুর জন্য নামায পড়ো এবং কুরবানী করো।

📘 বড় শিরক কি ও কত প্রকার > 📄 তাওয়াফের শির্ক

📄 তাওয়াফের শির্ক


৬. তাওয়াফের শিকঃ তাওয়াফের শির্ক বলতে একমাত্র কা'বা শরীফ ব্যতীত অন্য কোন বস্তুর তাওয়াফ করাকে বুঝানো হয়।
সাওয়াবের আশায় কোন বস্তুর চতুষ্পার্শ্বে তাওয়াফ করা গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদাত যা আল্লাহ্ তা'আলার মর্জি ছাড়া অন্য কারোর জন্য ব্যয় করা জঘন্যতম শির্ক। অতএব তা শরীয়ত সমর্থিত হতে হবে। ইচ্ছে করলেই কোন মাজার তাওয়াফ করা যাবেনা। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ وَ لْيَطَّوَّفُوْا بِالْبَيْتِ الْعَتِيقِ অর্থাৎ তারা যেন প্রাচীন গৃহ (কা'বা শরীফ) তাওয়াফ করে। তিনি আরো বলেনঃ وَ عَهِدْنَا إِلَى إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ أَنْ طَهِّرا بَيْتِيَ لِلطَّائِفِينَ وَ الْعَاكِفِينَ وَالرُّكَّعِ السُّجُودِ অর্থাৎ আমি ইব্রাহীম ও ইসমাঈল (আলাইহিমাস্ সালাম) থেকে এ বলে অঙ্গীকার নিয়েছি যে, তোমরা আমার ঘরকে তাওয়াফকারী, ই'তিকাফকারী এবং রুকু ও সিজদাহকারীদের জন্যে সর্বদা পবিত্র রাখো। হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল ইরশাদ করেনঃ لَا تَقُوْمُ السَّاعَةُ حَتَّى تَضْطَرِبَ أَلَيَاتُ نِسَاءِ دَوْسٍ حَوْلَ ذِي الْخَلَصَةِ অর্থাৎ কিয়ামত সংঘটিত হবেনা যতক্ষণ না দাউস্ গোত্রের মহিলারা পাছা নাচিয়ে যুখালাসা নামক মূর্তির তাওয়াফ করবে।

📘 বড় শিরক কি ও কত প্রকার > 📄 তাওবার শির্ক

📄 তাওবার শির্ক


৭. তাওবার শিক্কঃ
তাওবার শিক্ক বলতে আল্লাহ্ তা'আলা ব্যতীত অন্য কারোর নিকট তাওবা করাকে বুঝানো হয়।
কোন অপকর্ম বা গুনাহ্ থেকে খাঁটি তাওবা করা গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদাত যা আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়া অন্য কারোর জন্য ব্যয় করা জঘন্যতম শিক।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعاً أَيُّهَ الْمُؤْمِنُوْنَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ অর্থাৎ হে ঈমানদারগণ! তোমরা সবাই আল্লাহ্ তা'আলার নিকটই তাওবা করো। যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।
সকল গুনাহ্ ক্ষমা করার মালিক একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলা। অন্য কেউ নয়। সুতরাং একমাত্র তাঁর কাছেই কায়মনোবাক্যে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। অন্য কারোর নিকট নয়।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ وَ مَنْ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا اللَّهُ অর্থাৎ একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলাই গুনাহ্ মাফ করতে পারেন।

📘 বড় শিরক কি ও কত প্রকার > 📄 জবাইয়ের শির্ক

📄 জবাইয়ের শির্ক


৮. জবাইয়ের শিরকঃ
জবাইয়ের শির্ক বলতে একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলা ব্যতীত অন্য কারোর নৈকট্য লাভের জন্য যে কোন পশু জবাই করাকে বুঝানো হয়। চাই তা আল্লাহ্ তা'আলা'র নামেই জবাই করা হোক বা অন্য কারোর নামে। চাই তা নবী, ওলী, বুযুর্গ বা জিনের নামেই হোক বা অন্য কারোর নামে।
সাওয়াবের আশায় কোন পশু জবাই করা গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদাত যা আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়া অন্য কারোর জন্য ব্যয় করা জঘন্যতম শিক। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ قُلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ ، لَا شَرِيكَ لَهُ وَ بِذَلِكَ أُمِرْتُ وَ أَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ অর্থাৎ আপনি বলে দিনঃ আমার নামায, আমার কুরবানি, আমার জীবন ও মরণকালের সকল নেক আমল সারা জাহানের প্রভু একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলার জন্য। তাঁর কোন শরীক নেই, আমি এরই জন্যে আদিষ্ট হয়েছি এবং আমিই আমার উম্মতের সর্বপ্রথম মুসলমান। আল্লাহ্ তা'আলা আরো বলেনঃ فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَ الْحَرْ অর্থাৎ সুতরাং আপনার প্রতিপালকের জন্য নামায পড়ুন ও কুরবানি করুন। হযরত 'আলী থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল ইরশাদ করেনঃ لَعَنَ اللَّهُ لِمَنْ ذَبَحَ لِغَيْرِ اللَّهِ অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা লা'নত (নিজ রহমত হতে বঞ্চিত) করেন সে ব্যক্তিকে যে তিনি ব্যতীত অন্য কারোর জন্য পশু জবেহ্ করে। হযরত সালমান ফার্সী থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ دَخَلَ الْجَنَّةَ رَجُلٌ فِي ذُبَابِ وَ دَخَلَ النَّارَ رَجُلٌ فِي ذُبَابٍ، قَالُوا: وَكَيْفَ ذَلِكَ؟ قَالَ: مَرَّ رَجُلَانِ عَلَى قَوْمٍ لَهُمْ صَنَمٌ لَا يُجَاوِزُهُ أَحَدٌ حَتَّى يُقَرِّبَ لَهُ شَيْئًا، فَقَالُوْا لأَحَدِهِمَا: قَرِّبْ، قَالَ: مَا عِنْدِي شَيْءٌ، قَالُوا: قَرِّبْ وَ لَوْ ذُبَاباً ، فَقَرَّبَ ذُبَاباً فَخَلُّوْا سَبِيْلَهُ فَدَخَلَ النَّارَ، وَقَالُوْا للآخر : قَرِّبْ، قَالَ: مَا كُنْتُ لأُقَرِّبَ لأَحَد شَيْئًا دُوْنَ اللَّهُ عَزَّ وَ جَلَّ فَضَرَبُوا عُنُقَهُ، فَدَخَلَ الْجَنَّةَ অর্থাৎ জনৈক ব্যক্তি জান্নাতে গিয়েছে একটি মাছির জন্যে। আর অন্য জন জাহান্নামে। শ্রোতারা বললোঃ তা কিভাবে? তিনি বললেনঃ একদা দু' ব্যক্তি কোন এক সম্প্রদায়ের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলো। তাদের ছিলো একটি মূর্তি। যাকে কিছু না দিয়ে তথা দিয়ে অতিক্রম করা ছিলো যে কোন ব্যক্তির জন্য দুষ্কর। অতএব তারা এদের একজনকে বললোঃ মূর্তির জন্য কিছু পেশ করো। সে বললোঃ আমার কাছে দেয়ার মতো কিছুই নেই। তারা বললোঃ একটি মাছি হলেও পেশ করো। অতএব সে একটি মাছি পেশ করলে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। তাতে করে শির্ক করার দরুন সে জাহান্নামী হয়ে গেলো। তেমনিভাবে তারা অন্য জনকে বললোঃ মূর্তির জন্য কিছু পেশ করো। সে বললোঃ আমি আল্লাহ্ তা'আলা ব্যতীত অন্য কারোর জন্য কোন নজরানা পেশ করতে পারবোনা। তাতে করে তারা ওকে হত্যা করলো এবং সে জান্নাতী হলো। এ জাতীয় কুরবানির গোস্ত খাওয়া সম্পূর্ণরূপে হারাম।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ إِنَّمَا حَرَّمَ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةَ وَ الدَّمَ وَ لَحْمَ الْخِنْزِيرِ وَ مَا أُهِلَّ بِهِ لِغَيْرِ اللَّهِ অর্থাৎ নিশ্চয়ই তিনি তোমাদের উপর হারাম করে দিয়েছেন মৃত পশু, প্রবাহিত রক্ত ও শূকরের গোস্ত এবং যা আল্লাহ্ তা'আলা ব্যতীত অন্য কারোর নামে জবেহ্ করা হয়েছে।
আল্লাহ্ তা'আলা আরো বলেনঃ وَ لَا تَأْكُلُوْا مِمَّا لَمْ يُذْكَرِ اسْمُ اللهُ عَلَيْهِ وَإِنَّهُ لَفِسْقٌ ، وَ إِنَّ الشَّيَاطِينَ لَيُوْحُوْنَ إِلَى أَوْلِيَائِهِمْ لِيُجَادِلُوكُمْ ، وَ إِنْ أَطَعْتُمُوْهُمْ إِنَّكُمْ لَمُشْرِكُوْنَ অর্থাৎ যে পশু আল্লাহ্ তা'আলার নামে জবাই করা হয়নি (বরং তা জবাই করা হয়েছে অন্য কারোর নামে অথবা এমনিতেই মরে গেছে) তা হতে তোমরা এতটুকুও খেয়োনা। কারণ, তা আল্লাহ্ তা'আলার অবাধ্যতার শামিল। শয়তানরা নিশ্চয়ই তাদের অনুগতদের পরামর্শ দিয়ে থাকে তোমাদের সঙ্গে বিতর্কে লিপ্ত হওয়ার জন্যে। তোমরা তাদের আনুগত্য করলে নিঃসন্দেহে মুশরিক হয়ে যাবে।
যেখানে বিদআত বা শিকের চর্চা হয় যেমনঃ বর্তমান যুগের মাযার সমূহ সেখানে কোন পশু জবাই করা এমনকি তা একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলার নাম উচ্চারণ করে জবাই করা হলেও তা করা বৈধ নয়। বরং তা মারাত্মক একটি গুনাহ্'র কাজ।
হযরত সাবিত বিন যাহ্হাক থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ نَذَرَ رَجُلٌ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ الله أَنْ يَنْحَرَ إِبلا بُوَانَةَ فَأَتَى النَّبِيَّ ﷺ فَقَالَ: إِنِّي نَذَرْتُ أَنْ أَنْحَرَ إِبلا بُوَانَةَ ، فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ : هَلْ كَانَ فِيْهَا وَثَنْ مِنْ أَوْثَانِ الْجَاهِلِيَّةِ يُعْبَدُ؟ قَالُوا : لَا ، قَالَ : هَلْ كَانَ فِيْهَا عِيدٌ مِنْ أَعْيَادِهِمْ؟ قَالُوا: لَا ، قَالَ: أَوْفِ بِنَدْرِكَ ، فَإِنَّهُ لَا وَفَاءَ لِنَدْرِ فِي مَعْصِيَةِ اللَّهِ ، وَ لَا فِيْمَا لَا يَمْلِكُ ابْنُ آدَمَ অর্থাৎ জনৈক ব্যক্তি রাসূল ﷺ এর যুগে বুওয়ানা নামক স্থানে একটি উট কুরবানি করবে বলে মানত করেছে। রাসূল ﷺ কে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেনঃ ওখানে কোন মূর্তি পূজা করা হতো কি? সাহাবারা বললেনঃ না। তিনি বললেনঃ সেখানে কোন মেলা জমতো কি? সাহাবারা বললেনঃ না। রাসূল ﷺ মানতকারীকে বললেনঃ তুমি মানত পুরা করে নাও। কারণ, আল্লাহ্ তা'আলার অবাধ্যতা বা মানুষের মালিকানা বহির্ভূত বস্তুর মানত পুরা করতে হয়না।
তবে এ সকল স্থানে কেউ অজ্ঞতাবশতঃ কোন কিছু মানত করে থাকলে মানত পুরা না করে শুধুমাত্র কসমের কাফ্ফারা আদায় করবে।
হযরত 'আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল ﷺ ইরশাদ করেনঃ مَنْ نَذَرَ أَنْ يُطِيعَ اللَّهُ فَلْيُطِعْهُ ، وَ مَنْ نَذَرَ أَنْ يَعْصِيَ اللَّهُ فَلَا يَعْصِهِ অর্থাৎ যে ব্যক্তি আল্লাহ্ তা'আলার আনুগত্য (ইবাদাত) করবে বলে মানত করেছে সে যেন তাঁর আনুগত্য করে তথা মানত পুরা করে নেয়। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ্ তা'আলার অবাধ্যতা তথা গুনাহ্'র কাজ করবে বলে মানত করেছে সে যেন তাঁর অবাধ্য না হয় তথা মানত পুরা না করে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00