📄 আশা ও বাসনার শির্ক
৪. আশা বা বাসনার শিরকঃ আশা বা বাসনার শির্ক বলতে মানুষের অসাধ্য এমন কোন বস্তু একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলা ব্যতীত অন্য কারোর নিকট কামনা করাকে বুঝানো হয়। যেমনঃ কবরে শায়িত পীর-বুযুর্গের নিকট স্বামী বা সন্তান কামনা করা। এ জাতীয় বাসনা গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদাত যা আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়া অন্য কারোর জন্য ব্যয় করা জঘন্যতম শিরক।
তবে কোন পুণ্যকর্ম সম্পাদন না করে আল্লাহ্ তা'আলার রহমত ও জান্নাতের আশা করাও কিন্তু অমূলক।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوْا وَالَّذِينَ هَاجَرُوا وَجَاهَدُوا فِي سَبِيْلِ اللَّهِ ، أَوْلَائِكَ يَرْجُوْنَ رَحْمَةَ اللَّهِ ، وَ اللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ অর্থাৎ নিশ্চয়ই যারা আল্লাহ্ তা'আলার উপর ঈমান এনেছে এবং যারা হিজরত ও আল্লাহ্'র পথে জিহাদ করেছে সত্যিকারার্থে তারাই একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলার অনুগ্রহের প্রত্যাশী। তিনি ক্ষমাশীল ও করুণাময়। হযরত 'আলী বলেনঃ لَا يَرْجُوْ عَبْدٌ إِلَّا رَبَّهُ অর্থাৎ বান্দাহ্'র নিশ্চিত কর্তব্য হলো এইযে, সে একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলার নিকটই কোন কিছু কামনা করবে। অন্য কারোর নিকট নয়।
📄 রুকু, সিজদাহ্, বিনম্রভাবে দাঁড়ানো বা নামাযের শির্ক
৫. রুকু, সিজদাহ্, বিনম্রভাবে দাঁড়ানো বা নামাযের শিকঃ রুকু, সিজদাহ্, সাওয়াবের আশায় কোন ব্যক্তি বা বস্তুর সামনে বিনম্রভাবে দাঁড়ানো বা নামাযের শির্ক বলতে একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়া অন্য কারোর জন্য এ সকল গুরুত্বপূর্ণ ইবাদাতগুলো ব্যয় করাকে বুঝানো হয়। এ ইবাদাতগুলো একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলার জন্যই করতে হয়। অন্য কারোর জন্য নয়। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا ارْكَعُوْا وَ اسْجُدُوا وَاعْبُدُوا رَبَّكُمْ وَ افْعَلُوا الْخَيْرَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ অর্থাৎ হে ঈমানদারগণ! তোমারা রুকু, সিজদাহ্, তোমাদের প্রভুর ইবাদাত এবং সৎকর্ম সম্পাদন করো। যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো। আল্লাহ্ তা'আলা আরো বলেনঃ لَا تَسْجُدُوا لِلشَّمْسِ وَ لَا لِلْقَمَرِ وَ اسْجُدُوا لِلَّهِ الَّذِي خَلَقَهُنَّ، إِنْ كُنتُمْ إِيَّاهُ تَعْبُدُوْنَ অর্থাৎ তোমরা সিজদাহ্ করোনা সূর্য বা চন্দ্রকে। বরং সিজদাহ্ করো সে আল্লাহ্ তা'আলাকে যিনি সৃষ্টি করেছেন ওগুলোকে। যদি তোমরা একমাত্র তাঁরই ইবাদাত করতে চাও।
হযরত কাইস্ বিন্ সা'দ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ আমি ইয়েমেনের "'হীরা" নামক এলাকায় গিয়ে দেখতে পেলাম, সে এলাকার লোকেরা নিজ प्रशासককে সিজদা করে। তখন আমি মনে মনে ভাবলাম, এ জাতীয় সিজদাহ্'র উপযুক্ত একমাত্র রাসূলই হতে পারে। অন্য কেউ নয়। তাই আমি মদীনায় এসে রাসূল কে ঘটনাটি এবং আমার মনের ভাবটুকু জানালে তিনি বললেনঃ لَا تَفْعَلُوا، لَوْ كُنْتُ آمِرًا أَحَدًا أَنْ يَسْجُدَ لأَحَد لَأَمَرْتُ النِّسَاءَ أَنْ يَسْجُدْنَ لأَزْوَاجِهِنَّ ؛ لِمَا جَعَلَ اللَّهُ لَهُمْ عَلَيْهِنَّ مِنَ الْحَقِّ অর্থাৎ বলো! তুমি আমার ইন্তিকালের পর আমার কবরের পাশ দিয়ে গেলে আমার কবরটিকে সিজদাহ্ করবে কি? আমি বললামঃ না, তিনি বললেনঃ তাহলে এখনও করোনা। আমি যদি কাউকে কারোর জন্য সিজদাহ্ করতে আদেশ করতাম তাহলে মহিলাদেরকে নিজ স্বামীদের জন্য সিজদাহ্ করতে আদেশ করতাম। কারণ, আল্লাহ্ তা'আলা পুরুষদেরকে নিজ স্ত্রীদের উপর প্রচুর অধিকার দিয়েছেন।
আল্লাহ্ তা'আলা নামায ও সুদীর্ঘ বিনম্রভাবে দাঁড়িয়ে থাকা সম্পর্কে বলেনঃ حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَ الصَّلَاةِ الْوُسْطَى وَ قُوْمُوْا لِلَّهِ قَانِتِينَ অর্থাৎ তোমরা নামায সমূহ বিশেষভাবে মধ্যবর্তী নামায ('আসর) সময় মতো আদায় করো এবং বিনীতভাবে একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলার উদ্দেশ্যেই দাঁড়াও। অন্য কারোর উদ্দেশ্যে নয়।
হযরত মু'আবিয়াহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ আমি রাসূল কে বলতে শুনেছিঃ مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَتَمَثَّلَ لَهُ الرِّجَالُ قِيَامًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ অর্থাৎ যে ব্যক্তি এ ব্যাপারে সন্তুষ্ট যে, মানুষ তার জন্য মূর্তির ন্যায় দাঁড়িয়ে থাকুক তাহলে সে যেন নিজ বাসস্থান জাহান্নামে বানিয়ে নেয়।
আল্লাহ্ তা'আলা আরো বলেনঃ قُلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ ، لَا شَرِيكَ لَهُ وَ بِذَلِكَ أُمِرْتُ وَ أَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ অর্থাৎ আপনি বলে দিনঃ আমার নামায, আমার কুরবানি, আমার জীবন ও মরণকালের সকল নেক আমল সারা জাহানের প্রভু একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলারই জন্য। তাঁর কোন শরীক নেই, আমি এরই জন্যে আদিষ্ট হয়েছি এবং আমিই আমার উম্মতের সর্বপ্রথম মুসলমান।
তিনি আরো বলেনঃ فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَ الْحَرْ অর্থাৎ অতএব তোমার প্রভুর জন্য নামায পড়ো এবং কুরবানী করো।
📄 তাওয়াফের শির্ক
৬. তাওয়াফের শিকঃ তাওয়াফের শির্ক বলতে একমাত্র কা'বা শরীফ ব্যতীত অন্য কোন বস্তুর তাওয়াফ করাকে বুঝানো হয়।
সাওয়াবের আশায় কোন বস্তুর চতুষ্পার্শ্বে তাওয়াফ করা গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদাত যা আল্লাহ্ তা'আলার মর্জি ছাড়া অন্য কারোর জন্য ব্যয় করা জঘন্যতম শির্ক। অতএব তা শরীয়ত সমর্থিত হতে হবে। ইচ্ছে করলেই কোন মাজার তাওয়াফ করা যাবেনা। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ وَ لْيَطَّوَّفُوْا بِالْبَيْتِ الْعَتِيقِ অর্থাৎ তারা যেন প্রাচীন গৃহ (কা'বা শরীফ) তাওয়াফ করে। তিনি আরো বলেনঃ وَ عَهِدْنَا إِلَى إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ أَنْ طَهِّرا بَيْتِيَ لِلطَّائِفِينَ وَ الْعَاكِفِينَ وَالرُّكَّعِ السُّجُودِ অর্থাৎ আমি ইব্রাহীম ও ইসমাঈল (আলাইহিমাস্ সালাম) থেকে এ বলে অঙ্গীকার নিয়েছি যে, তোমরা আমার ঘরকে তাওয়াফকারী, ই'তিকাফকারী এবং রুকু ও সিজদাহকারীদের জন্যে সর্বদা পবিত্র রাখো। হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল ইরশাদ করেনঃ لَا تَقُوْمُ السَّاعَةُ حَتَّى تَضْطَرِبَ أَلَيَاتُ نِسَاءِ دَوْسٍ حَوْلَ ذِي الْخَلَصَةِ অর্থাৎ কিয়ামত সংঘটিত হবেনা যতক্ষণ না দাউস্ গোত্রের মহিলারা পাছা নাচিয়ে যুখালাসা নামক মূর্তির তাওয়াফ করবে।
📄 তাওবার শির্ক
৭. তাওবার শিক্কঃ
তাওবার শিক্ক বলতে আল্লাহ্ তা'আলা ব্যতীত অন্য কারোর নিকট তাওবা করাকে বুঝানো হয়।
কোন অপকর্ম বা গুনাহ্ থেকে খাঁটি তাওবা করা গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদাত যা আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়া অন্য কারোর জন্য ব্যয় করা জঘন্যতম শিক।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعاً أَيُّهَ الْمُؤْمِنُوْنَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ অর্থাৎ হে ঈমানদারগণ! তোমরা সবাই আল্লাহ্ তা'আলার নিকটই তাওবা করো। যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।
সকল গুনাহ্ ক্ষমা করার মালিক একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলা। অন্য কেউ নয়। সুতরাং একমাত্র তাঁর কাছেই কায়মনোবাক্যে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। অন্য কারোর নিকট নয়।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ وَ مَنْ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا اللَّهُ অর্থাৎ একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলাই গুনাহ্ মাফ করতে পারেন।