📄 আশ্রয়ের শির্ক
৩. আশ্রয়ের শিকঃ আশ্রয়ের শির্ক বলতে যে কোন অনিষ্টকর বস্তু বা ব্যক্তির অনিষ্ট থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আল্লাহ্ তা'আলা ব্যতীত অন্য কারোর শরণাপন্ন হওয়াকেই বুঝানো হয়।
আল্লাহ্ তা'আলার নিকট এ জাতীয় কোন আশ্রয় কামনা করা গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদাত যা তিনি ছাড়া অন্য কারোর জন্য ব্যয় করা জঘন্যতম শিরক। তবে যে আশ্রয় মানব সাধ্যাধীন তা সক্ষম যে কারোর নিকট চাওয়া যেতে পারে। তবুও এ ব্যাপারে কারোর উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হওয়া ছোট শিরকের অন্তর্ভুক্ত।
শয়তানের অনিষ্ট থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর নিকটই আশ্রয় চাওয়ার নির্দেশ দেন।
তিনি বলেনঃ وَ إِمَّا يَنْزَغَنَّكَ مِنَ الشَّيْطَانِ نَزْغٌ فَاسْتَعِذْ بِاللَّهِ ، إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ অর্থাৎ যদি শয়তান তোমাকে কুমন্ত্রণা দিয়ে প্ররোচিত করতে চায় তাহলে তুমি একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলারই আশ্রয় চাবে। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা সর্বজ্ঞ।
তিনি আরো বলেনঃ وَ قُلْ رَّبِّ أَعُوْذُبِكَ مِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ ، وَ أَعُوْذُبِكَ رَبِّ أَنْ يَحْضُرُوْنَ অর্থাৎ আর আপনি বলুনঃ হে আমার প্রভু! আমি শয়তানের প্ররোচনা হতে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি এবং আপনার নিকটই আশ্রয় প্রার্থনা করি তাদের উপস্থিতি হতে।
মানব শত্রুর অনিষ্ট থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্যও একমাত্র তাঁরই নিকট আশ্রয় প্রার্থনার জন্য আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর নবীকে নির্দেশ দেন।
তিনি বলেনঃ فَاسْتَعِذْ بِاللَّهِ ، إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ অর্থাৎ অতএব আপনি (ওদের শত্রুতা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য) একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলারই শরণাপন্ন হোন। তিনিই তো সর্বশ্রোতা সর্বদ্রষ্টা। আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর প্রিয় নবীকে আরো ব্যাপকভাবে তাঁর আশ্রয় চাওয়া শিক্ষা দিতে গিয়ে বলেনঃ قُلْ أَعُوْذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ، مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ، وَ مِنْ شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ، وَ مِنْ شَرِّ النَّفَّاثَاتِ فِي الْعُقَدِ، وَ مِنْ شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ অর্থাৎ আপনি বলুনঃ আমি আশ্রয় চাচ্ছি প্রভাতের প্রভুর তাঁর সকল সৃষ্টি, অন্ধকারাচ্ছন্ন রাত, গ্রন্থিতে ফুৎকারকারিনী নারী এবং হিংসুকের হিংসার অনিষ্ট থেকে।
তিনি আরো বলেনঃ قُلْ أَعُوْذُ بِرَبِّ النَّاسِ، مَلِكِ النَّاسِ، إِلَهِ النَّاسِ، مِنْ شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ، الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ، مِنَ الْجِنَّةِ وَ النَّاسِ অর্থাৎ আপনি বলুনঃ আমি আশ্রয় চাচ্ছি মানবের প্রভু, মালিক ও উপাস্যের আত্মগোপনকারী কুমন্ত্রণাদাতার অনিষ্ট থেকে। যে কুমন্ত্রণা দেয় মানব অন্তরে। চাই সে জিন হোক অথবা মানুষ।
আল্লাহ্ তা'আলা ব্যতীত অন্য কারোর আশ্রয় চাইলে তাতে তারা তাদের অনিষ্ট কখনো বন্ধ করেনা বরং তারা আরো হঠকারী, অনিষ্টকারী ও গুনাহগার হয় এবং আশ্রয় অনুসন্ধানীরা আরো বিপথগামী ও পথভ্রান্ত হয়।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ وَ أَنَّهُ كَانَ رِجَالٌ مِّنَ الإِنْسِ يَعُوْذُوْنَ بِرِجَالٍ مِّنَ الْجِنِّ فَزَادُوْهُمْ رَهَقاً অর্থাৎ আর কিছু সংখ্যক মানুষ কতক জিনের আশ্রয় প্রার্থনা করতো। তাতে করে তারা জিনদের আত্মম্ভরিতা আরো বাড়িয়ে দেয়।
জিনদের আশ্রয় কামনাকারী মুদ্রিক বা জাহান্নামী হলেও তারা আল্লাহ্ তা'আলার ইচ্ছায় মানুষের কিছুনা কিছু উপকার করতে অবশ্যই সক্ষম। সুতরাং তাদের থেকে উপকার পাওয়া যাচ্ছে বলে তাদের আশ্রয় কামনা করা কখনোই জায়েয হবেনা। শরীয়তের দৃষ্টিতে কোন বস্তু বা ব্যক্তি কর্তৃক উপকৃত হওয়া তা জায়েয বা হালাল হওয়া প্রমাণ করেনা। এমনও অনেক বস্তু বা কর্ম রয়েছে যা হারাম বা না জায়েয হওয়া সত্ত্বেও তা কর্তৃক মানুষ কিছুনা কিছু উপকৃত হয়ে থাকে। যেমনঃ ব্যভিচার, সুদ, ঘুষ ইত্যাদি।
উল্লেখ্য যে, কোর'আন ও হাদীসে অজ্ঞ বা অপরিপক্ব পীর ফকিররা যে কোন সমস্যার সমাধানে সাধারণত জিনদের আশ্রয় গ্রহণ করে থাকে। মানুষরা যে জিন জাতি কর্তৃক কখনো কখনো উপকৃত হতে পারে তা আল্লাহ্ তা'আলা কোর'আন মাজীদের মধ্যে সুন্দরভাবে বর্ণনা করেন। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ وَ يَوْمَ يَحْشُرُهُمْ جَمِيعاً يَا مَعْشَرَ الْجِنِّ قَدِ اسْتَكْثَرْتُمْ مِنَ الإِنْسِ ، وَقَالَ أَوْلِيَاؤُهُمْ مِّنَ الإِنْسِ رَبَّنَا اسْتَمْتَعَ بَعْضُنَا بِبَعْضٍ وَ بَلَغْنَا أَجَلَنَا الَّذِي أَجَلْتَ لَنَا ، قَالَ النَّارُ مَثْوَاكُمْ خَالِدِينَ فِيهَا إِلَّا مَا شَاءَ اللَّهُ ، إِنَّ رَبَّكَ حَكِيمٌ عَلِيْمٌ অর্থাৎ হে মোহাম্মাদ! স্মরণ করুন সে দিনকে যে দিন আল্লাহ্ তা'আলা কাফির ও জিন শয়তানদেরকে একত্রিত করে বলবেনঃ হে জিন সম্প্রদায়! তোমরা বহু মানুষকে গুমরাহ্ করেছো। তখন তাদের কাফির অনুসারীরা বলবেঃ হে আমাদের প্রভু! আমরা একে অপরের মাধ্যমে প্রচুর লাভবান হয়েছি। এভাবেই আমরা আমাদের নির্ধারিত জীবন অতিবাহিত করেছি। আল্লাহ্ তা'আলা বলবেনঃ জাহান্নামই হচ্ছে তোমাদের বাসস্থান। সেখানে তোমরা চিরকাল থাকবে। তবে আল্লাহ্ তা'আলা যাকে মুক্তি দিতে চাইবেন সেই একমাত্র মুক্তি পাবে। অন্যরা নয়। নিশ্চয়ই তোমাদের প্রভু সুকৌশলী এবং অত্যন্ত প্রজ্ঞাময়।
আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ বিশেষ প্রয়োজনে সকলকে একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলার আশ্রয় চাওয়া শিখিয়েছেন। অন্য কারোর নয়।
হযরত খাওলা বিন্তে হাকীম (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল ইরশাদ করেনঃ مَنْ نَزَلَ مَنْزِلاً ثُمَّ قَالَ: أَعُوْذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ ، لَمْ يَضُرَّهُ شَيْءٌ حَتَّى يَرْتَحِلَ مِنْ مَنْزِلِهِ ذَلِكَ অর্থাৎ যে ব্যক্তি কোন জায়গায় অবস্থান করে বলবেঃ আল্লাহ্ তা'আলার পরিপূর্ণ বাণীর আশ্রয় চাচ্ছি তাঁর সকল সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে। তাহলে উক্ত স্থান ত্যাগ করা পর্যন্ত কোন বস্তু বা ব্যক্তি তার এতটুকুও ক্ষতি করতে পারবেনা।
📄 আশা ও বাসনার শির্ক
৪. আশা বা বাসনার শিরকঃ আশা বা বাসনার শির্ক বলতে মানুষের অসাধ্য এমন কোন বস্তু একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলা ব্যতীত অন্য কারোর নিকট কামনা করাকে বুঝানো হয়। যেমনঃ কবরে শায়িত পীর-বুযুর্গের নিকট স্বামী বা সন্তান কামনা করা। এ জাতীয় বাসনা গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদাত যা আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়া অন্য কারোর জন্য ব্যয় করা জঘন্যতম শিরক।
তবে কোন পুণ্যকর্ম সম্পাদন না করে আল্লাহ্ তা'আলার রহমত ও জান্নাতের আশা করাও কিন্তু অমূলক।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوْا وَالَّذِينَ هَاجَرُوا وَجَاهَدُوا فِي سَبِيْلِ اللَّهِ ، أَوْلَائِكَ يَرْجُوْنَ رَحْمَةَ اللَّهِ ، وَ اللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ অর্থাৎ নিশ্চয়ই যারা আল্লাহ্ তা'আলার উপর ঈমান এনেছে এবং যারা হিজরত ও আল্লাহ্'র পথে জিহাদ করেছে সত্যিকারার্থে তারাই একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলার অনুগ্রহের প্রত্যাশী। তিনি ক্ষমাশীল ও করুণাময়। হযরত 'আলী বলেনঃ لَا يَرْجُوْ عَبْدٌ إِلَّا رَبَّهُ অর্থাৎ বান্দাহ্'র নিশ্চিত কর্তব্য হলো এইযে, সে একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলার নিকটই কোন কিছু কামনা করবে। অন্য কারোর নিকট নয়।
📄 রুকু, সিজদাহ্, বিনম্রভাবে দাঁড়ানো বা নামাযের শির্ক
৫. রুকু, সিজদাহ্, বিনম্রভাবে দাঁড়ানো বা নামাযের শিকঃ রুকু, সিজদাহ্, সাওয়াবের আশায় কোন ব্যক্তি বা বস্তুর সামনে বিনম্রভাবে দাঁড়ানো বা নামাযের শির্ক বলতে একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়া অন্য কারোর জন্য এ সকল গুরুত্বপূর্ণ ইবাদাতগুলো ব্যয় করাকে বুঝানো হয়। এ ইবাদাতগুলো একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলার জন্যই করতে হয়। অন্য কারোর জন্য নয়। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا ارْكَعُوْا وَ اسْجُدُوا وَاعْبُدُوا رَبَّكُمْ وَ افْعَلُوا الْخَيْرَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ অর্থাৎ হে ঈমানদারগণ! তোমারা রুকু, সিজদাহ্, তোমাদের প্রভুর ইবাদাত এবং সৎকর্ম সম্পাদন করো। যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো। আল্লাহ্ তা'আলা আরো বলেনঃ لَا تَسْجُدُوا لِلشَّمْسِ وَ لَا لِلْقَمَرِ وَ اسْجُدُوا لِلَّهِ الَّذِي خَلَقَهُنَّ، إِنْ كُنتُمْ إِيَّاهُ تَعْبُدُوْنَ অর্থাৎ তোমরা সিজদাহ্ করোনা সূর্য বা চন্দ্রকে। বরং সিজদাহ্ করো সে আল্লাহ্ তা'আলাকে যিনি সৃষ্টি করেছেন ওগুলোকে। যদি তোমরা একমাত্র তাঁরই ইবাদাত করতে চাও।
হযরত কাইস্ বিন্ সা'দ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ আমি ইয়েমেনের "'হীরা" নামক এলাকায় গিয়ে দেখতে পেলাম, সে এলাকার লোকেরা নিজ प्रशासককে সিজদা করে। তখন আমি মনে মনে ভাবলাম, এ জাতীয় সিজদাহ্'র উপযুক্ত একমাত্র রাসূলই হতে পারে। অন্য কেউ নয়। তাই আমি মদীনায় এসে রাসূল কে ঘটনাটি এবং আমার মনের ভাবটুকু জানালে তিনি বললেনঃ لَا تَفْعَلُوا، لَوْ كُنْتُ آمِرًا أَحَدًا أَنْ يَسْجُدَ لأَحَد لَأَمَرْتُ النِّسَاءَ أَنْ يَسْجُدْنَ لأَزْوَاجِهِنَّ ؛ لِمَا جَعَلَ اللَّهُ لَهُمْ عَلَيْهِنَّ مِنَ الْحَقِّ অর্থাৎ বলো! তুমি আমার ইন্তিকালের পর আমার কবরের পাশ দিয়ে গেলে আমার কবরটিকে সিজদাহ্ করবে কি? আমি বললামঃ না, তিনি বললেনঃ তাহলে এখনও করোনা। আমি যদি কাউকে কারোর জন্য সিজদাহ্ করতে আদেশ করতাম তাহলে মহিলাদেরকে নিজ স্বামীদের জন্য সিজদাহ্ করতে আদেশ করতাম। কারণ, আল্লাহ্ তা'আলা পুরুষদেরকে নিজ স্ত্রীদের উপর প্রচুর অধিকার দিয়েছেন।
আল্লাহ্ তা'আলা নামায ও সুদীর্ঘ বিনম্রভাবে দাঁড়িয়ে থাকা সম্পর্কে বলেনঃ حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَ الصَّلَاةِ الْوُسْطَى وَ قُوْمُوْا لِلَّهِ قَانِتِينَ অর্থাৎ তোমরা নামায সমূহ বিশেষভাবে মধ্যবর্তী নামায ('আসর) সময় মতো আদায় করো এবং বিনীতভাবে একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলার উদ্দেশ্যেই দাঁড়াও। অন্য কারোর উদ্দেশ্যে নয়।
হযরত মু'আবিয়াহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ আমি রাসূল কে বলতে শুনেছিঃ مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَتَمَثَّلَ لَهُ الرِّجَالُ قِيَامًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ অর্থাৎ যে ব্যক্তি এ ব্যাপারে সন্তুষ্ট যে, মানুষ তার জন্য মূর্তির ন্যায় দাঁড়িয়ে থাকুক তাহলে সে যেন নিজ বাসস্থান জাহান্নামে বানিয়ে নেয়।
আল্লাহ্ তা'আলা আরো বলেনঃ قُلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ ، لَا شَرِيكَ لَهُ وَ بِذَلِكَ أُمِرْتُ وَ أَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ অর্থাৎ আপনি বলে দিনঃ আমার নামায, আমার কুরবানি, আমার জীবন ও মরণকালের সকল নেক আমল সারা জাহানের প্রভু একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলারই জন্য। তাঁর কোন শরীক নেই, আমি এরই জন্যে আদিষ্ট হয়েছি এবং আমিই আমার উম্মতের সর্বপ্রথম মুসলমান।
তিনি আরো বলেনঃ فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَ الْحَرْ অর্থাৎ অতএব তোমার প্রভুর জন্য নামায পড়ো এবং কুরবানী করো।
📄 তাওয়াফের শির্ক
৬. তাওয়াফের শিকঃ তাওয়াফের শির্ক বলতে একমাত্র কা'বা শরীফ ব্যতীত অন্য কোন বস্তুর তাওয়াফ করাকে বুঝানো হয়।
সাওয়াবের আশায় কোন বস্তুর চতুষ্পার্শ্বে তাওয়াফ করা গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদাত যা আল্লাহ্ তা'আলার মর্জি ছাড়া অন্য কারোর জন্য ব্যয় করা জঘন্যতম শির্ক। অতএব তা শরীয়ত সমর্থিত হতে হবে। ইচ্ছে করলেই কোন মাজার তাওয়াফ করা যাবেনা। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ وَ لْيَطَّوَّفُوْا بِالْبَيْتِ الْعَتِيقِ অর্থাৎ তারা যেন প্রাচীন গৃহ (কা'বা শরীফ) তাওয়াফ করে। তিনি আরো বলেনঃ وَ عَهِدْنَا إِلَى إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ أَنْ طَهِّرا بَيْتِيَ لِلطَّائِفِينَ وَ الْعَاكِفِينَ وَالرُّكَّعِ السُّجُودِ অর্থাৎ আমি ইব্রাহীম ও ইসমাঈল (আলাইহিমাস্ সালাম) থেকে এ বলে অঙ্গীকার নিয়েছি যে, তোমরা আমার ঘরকে তাওয়াফকারী, ই'তিকাফকারী এবং রুকু ও সিজদাহকারীদের জন্যে সর্বদা পবিত্র রাখো। হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল ইরশাদ করেনঃ لَا تَقُوْمُ السَّاعَةُ حَتَّى تَضْطَرِبَ أَلَيَاتُ نِسَاءِ دَوْسٍ حَوْلَ ذِي الْخَلَصَةِ অর্থাৎ কিয়ামত সংঘটিত হবেনা যতক্ষণ না দাউস্ গোত্রের মহিলারা পাছা নাচিয়ে যুখালাসা নামক মূর্তির তাওয়াফ করবে।