📄 প্রচলিত ওয়ায মাহফিল
৭. প্রচলিত ওয়ায মাহফিলঃ
আমাদের দেশের সাধারণ ওয়ায মাহফিলগুলোও শির্ক এবং বিদ'আত বিস্তারে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। কারণ, কোর'আন ও হাদীস নির্ভরশীল ওয়াযের সংখ্যা খুবই কম। গণা কয়েকজন ছাড়া যে কোন ওয়ায়িয কোর'আন ও হাদীস সম্পর্কে আলোচনা না করে বরং বুযুর্গদের নামে বানানো কাহিনী বলতে খুবই পছন্দ করেন। যে গুলোর অধিকাংশই শির্ক ও বিদ'আত নির্ভরশীল। পীর সাহেবদের ওয়ায মাহফিলের তো কোন কথাই নেই। তা তো শির্ক ও বিদ'আতের বিশেষ আড্ডাই বলা চলে। তাতে শির্ক ও বিদ'আতের সরাসরি প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। তাই এক বাক্যে বলা চলে, বর্তমান যুগে কোর'আন ও হাদীস নির্ভরশীল ওয়াযের খুবই অকাল।
📄 প্রচলিত তাবলীগ জামাত
৮. প্রচলিত তাবলীগ জামাতঃ
বর্তমান যুগের তাবলীগ জামাতও শির্ক এবং বিদ'আত বিস্তারে কম ভূমিকা রাখছেনা। বরং তা ওয়ায মাহফিল চাইতেও আরো ভয়ঙ্কর। কারণ, ওয়ায মাহফিল তো সাধারণত আলিমরাই করে থাকেন। যদিও কেউ নামধারী আলিম হোকনা কেন। কোন গণ্ড মূর্খ ওয়ায মাহফিল করতে সাহস পায়না। তবে জনাব ইলিয়াস সাহেব আবিষ্কৃত তাবলীগ জামাত মূর্খদের নসীব ভালোভাবে খুলে দিয়েছে। কারণ, যে কোন গণ্ড মূর্খ যে কোন কথা "মুরুব্বীরা বলেছেন" বলে ইসলামের নামে চালিয়ে দিতে পারে। কেউ তাতে কোন বাধা দিচ্ছেনা। মূর্খদেরকে দাওয়াতী কাম শিক্ষা দেয়ার নামে ধর্মীয় ব্যাপারে কথা বানানোর খুব শক্ত তা'লীম দেয়া হচ্ছে। অথচ রাসূল নিজ উম্মতকে সুস্পষ্টভাবেই সতর্ক করে বলেনঃ مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّداً فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ অর্থাৎ যে ব্যক্তি ইচ্ছে করে আমার উপর মিথ্যে বলেছে (আমার নামে এমন কথা বলেছে যা আমি বলিনি) সে যেন জাহান্নামে নিজের ঠিকানা বানিয়ে নেয় (সে জাহান্নামী)।
এ ছাড়া তারা "তাবলীগী নেসাব" বা "ফাযায়িলে আ'মাল" নামে যে কিতাবগুলো নিয়মিতভাবে মানুষকে পড়ে পড়ে শুনাচ্ছে সেগুলোকে শির্ক, বিদ'আত ও কেচ্ছা-কাহিনীর কিতাব বললেই চলে। এ কিতাবগুলো তাবলীগীদেরকে কেচ্ছা নির্ভরশীল একটি জামাতে পরিণত করেছে। এ ছাড়া আর অন্য কিছু নয়। যা শির্ক ও বিদ'আতে ভরপুর।
📄 শির্ক প্রকারভেদ
শির্কের প্রকারভেদঃ শির্ক দু' প্রকারঃ বড় শির্ক ও ছোট শির্ক। প্রকারদ্বয়ের বিস্তারিত বিবরণ নিম্নে দেয়া হলোঃ
• বড় শিকঃ উক্ত শিক্ এতে লিপ্ত যে কোন ব্যক্তিকে সাথে সাথেই ইসলামের গণ্ডী থেকে বের করে দেয়। আল্লাহ্ তা'আলা তাওবা ছাড়া এ ধরনের শির্ক কখনো ক্ষমা করবেননা।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَ يَغْفِرُ مَا دُوْنَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ অর্থাৎ নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর সাথে কাউকে শরীক করার অপরাধ কখনোই ক্ষমা করেননা। তবে তিনি এ ছাড়া অন্যান্য সকল গুনাহ্ যাকে ইচ্ছে ক্ষমা করে দেন।
এ ধরনের শিকে লিপ্ত ব্যক্তির জন্য জান্নাত হারাম। জাহান্নামই হবে তার চিরস্থায়ী ঠিকানা।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ إِنَّهُ مَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ وَمَأْوَاهُ النَّارُ، وَ مَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنْصَارِ অর্থাৎ নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি আল্লাহ্ তা'আলার সাথে কাউকে শরীক করে আল্লাহ্ তা'আলা তার উপর জান্নাতকে হারাম করে দেন এবং জাহান্নামকে করেন তার ঠিকানা। এরূপ অত্যাচারীদের জন্য তখন আর কোন সাহায্যকারী থাকবেনা।