📘 বড় শিরক কি ও কত প্রকার > 📄 জা'হির ও বা'তিন শব্দদ্বয়ের আবিষ্কার

📄 জা'হির ও বা'তিন শব্দদ্বয়ের আবিষ্কার


ছ. জা'হির ও বা'তিনঃ
সূফীদের আক্বীদা-বিশ্বাস কোর'আন ও হাদীসের সরাসরি বিরোধী হওয়ার দরুন মানুষ যেন সেগুলো বিনা প্রশ্নে মেনে নিতে পারে সে জন্য তারা বা'তিন শব্দের আবিষ্কার করে। তারা বলেঃ কুর'আন ও হাদীসের দু' ধরনের অর্থ রয়েছে। একটি জা'হিরী। আরেকটি বা'তিনী এবং বা'তিনী অর্থই মূল ও সঠিক অর্থ। তারা এ বলে দৃষ্টান্ত দেয় যে, জা'হিরী অর্থ খোসা বা খোলসের ন্যায় এবং বা'তিনী অর্থ সার, মজ্জা ও মূল শরীরের ন্যায়। জা'হিরী অর্থ আলিমরা জানে। কিন্তু বা'তিনী অর্থ শুধু ওলী-বুযুর্গরাই জানে। অন্য কেউ নয় এবং এ বা'তিনী জ্ঞান শুধুমাত্র কাশফ, মুরাক্বাবাহ্, মুশাহাদাহ্, ইল্‌হাম অথবা বুযুর্গদের ফয়েয বা সুদৃষ্টির মাধ্যমেই অর্জিত হয়। আর এ গুলোর মাধ্যমেই তারা শরীয়তের মনমতো অপব্যাখ্যা দিয়ে থাকে। যেমনঃ তারা কোর'আন মাজীদের নিম্নোক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেঃ وَ اعْبُدْ رَبَّكَ حَتَّى يَأْتِيَكَ الْيَقِينُ অর্থাৎ তুমি তোমার প্রভুর ইবাদাত করো এক্বীন বা মা'রিফাত হাসিল হওয়া পর্যন্ত। যখন মা'রিফাত হাসিল হয়ে যাবে তথা আল্লাহ্ তা'আলাকে চিনে যাবে তখন নামায, রোযা, হজ্জ, যাকাত ও তিলাওয়াতের কোন প্রয়োজন হবেনা। অথচ মূল অর্থ এই যে, তুমি তোমার প্রভুর ইবাদাত করো মৃত্যু আসা পর্যন্ত। তেমনিভাবে তারা নিম্নোক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেঃ وَ قَضَى رَبُّكَ أَنْ لَا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ অর্থাৎ তোমরা যারই ইবাদাত করোনা কেন তা একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলার ইবাদাত হিসেবেই গণ্য করা হবে। ব্যক্তি পূজা, পীর পূজা, কবর পূজা ও মূর্তি পূজা সবই আল্লাহ্ তা'আলার ইবাদাত। প্রকাশ্যে অন্য কারোর ইবাদাত মনে হলেও তা তাঁরই ইবাদাত হিসেবে গণ্য করা হবে। অথচ মূল অর্থ এই যে, আপনার প্রভু এ বলে আদেশ করেছেন যে, তোমরা তিনি (আল্লাহ) ছাড়া অন্য কারোর ইবাদাত করবেনা।
তারা কালিমায়ে তাওহীদের অর্থ করতে গিয়ে বলে থাকে, দুনিয়াতে যা কিছু আছে সবই আল্লাহ্। তিনি ভিন্ন অন্য কিছু কল্পনাই করা যায়না।
সূফীরা কোন হালাল বস্তুকে হারাম এবং হারাম বস্তুকে হালাল করার জন্য বা'তিন শব্দ ছাড়াও আরো কিছু পরিভাষা আবাস্কিার করেছে যা নিম্নরূপঃ "অবস্থা", "জযবা", "পাগলামি", "মত্ততা", "চেতনা" ও "অবচেতনা"।
তারা আরো বলেঃ ঈমান বলতে আল্লাহ্ তা'আলার খাঁটি প্রেমকে বুঝানো হয়। আর নকল প্রেম ছাড়া খাঁটি প্রেম কখনো অর্জিত হয়না। তাই তারা নকল প্রেমের সকল উপকরণ তথা নাচ, গান, বাদ্য, সুর, তাল, মদ, গাঁজা, রূপ-সৌন্দর্য ও প্রেমের কাহিনী শুনে মত্ত হওয়াকে হালাল মনে করে।

📘 বড় শিরক কি ও কত প্রকার > 📄 এ যুগের প্রশাসকবর্গ

📄 এ যুগের প্রশাসকবর্গ


৬. এ যুগের প্রশাসকবর্গঃ
পাক-ভারতে শির্ক ও বিদ'আত প্রচলনের কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে অনেকেই এ কথা বলে থাকেন যে, ভারতবর্ষে ইসলাম পৌঁছে প্রথম হিজরী শতাব্দীর শেষ ভাগে। যখন হযরত মুহাম্মদ বিন্ ক্বাসিম (রাহিমাহুল্লাহ) ৯৩ হিজরী সনে সিন্ধু বিজয় করেন। সে সময় তিনি ও তাঁর সৈন্যরা ভারত থেকে তড়িঘড়ি চলে গিয়েছিলেন বলে কোর'আন ও হাদীস নির্ভরশীল খাঁটি ইসলাম প্রচার ও প্রসার লাভ করতে পারেনি। দ্বিতীয়তঃ ইসলামের এ দা'ওয়াত খুব সীমিত পরিসরে ছিলো বলে মুসলমানদের মধ্যে অধিকাংশই হিন্দু ও মুন্ত্রিকদের রীতি-নীতি চালু রয়েছে।
ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণানুযায়ী এ কথা সঠিক নয়। বরং হযরত 'উমর ফারূক্ব এর যুগেই সর্বপ্রথম ভারতবর্ষে ইসলাম প্রবেশ করে। হযরত 'উমর ফারুক ও হযরত 'উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) এর যুগে ইসলামী খিলাফতের অধীনে যে যে এলাকাগুলো ছিলো তন্মধ্যে শাম (বৃহত্তর সিরিয়া), মিশর, ইরাক, ইয়েমেন, তুর্কিস্তান, সমরকন্দ, বুখারা, তুরস্ক, আফ্রিকা এবং হিন্দুস্তানের মালাবার, মালদ্বীপ, চরণদ্বীপ, গুজরাত ও সিন্ধু এলাকা বিশেষভাবে উল্লেখ্য। সে যুগে ভারতে আসা সাহাবাদের সংখ্যা ২৫, তাবিয়ীর সংখ্যা ৩৭ এবং তাবে তাবিয়ীনের সংখ্যা ১৫ জন ছিলো।
অতএব বলতে হবে, প্রথম হিজরী শতাব্দীর শুরুতেই ভারতবর্ষে খাঁটি ইসলাম পৌঁছে গেছে।
তবে ঐতিহাসিক একটি নিশ্চিত সত্য এই যে, যখনই কোন ঈমানদার ব্যক্তি ক্ষমতায় আরোহণ করে তখনই ইসলামের প্রচার-প্রসার ও মর্যাদা-সম্মান বৃদ্ধি পায়। উক্ত কারণেই হযরত মুহাম্মদ বিন্ ক্বাসিমের পর সুলতান সবক্তগীন, সুলতান মাহমুদ গজনভী, সুলতান শিহাবুদ্দীন মুহাম্মদ গুরীর যুগে (৯৮৬-১১৭৫ খ্রিঃ) ভারত উপমহাদেশে ইসলাম একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়েছিলো। ঠিক এর বিপরীতেই যখন কোন মুলহিদ্ ও বেদ্বীন ব্যক্তি ক্ষমতায় আরোহণ করে তখন ইসলাম তারই কারণে লাঞ্ছিত ও পশ্চাৎপদ হতে বাধ্য। ভারত উপমহাদেশে এর উৎকৃষ্ট প্রমাণ হচ্ছে আকবরী যুগ। সে যুগে সরকারীভাবে মুসলমানদের জন্য কালিমা ঠিক করে দেয়া হলোঃ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ أَكْبَرُ خَلِيْفَةُ اللَّهِ অর্থাৎ আল্লাহ্ ছাড়া কোন মা'বুদ নেই। আকবর বাদশাহ্ আল্লাহ্'র খলীফা। সে যুগে আকবরের দরবারে তার সম্মুখে সিজদাহ্ করা হতো, নবুওয়াত, ওহী, হাশর-নশর, জান্নাত-জাহান্নাম নিয়ে ঠাট্টা করা হতো। নামায, রোযা, হজ্জ, যাকাত ও অন্যান্য বিষয়ের উপর প্রকাশ্যভাবে প্রশ্ন উত্থাপন করা হতো। সে যুগে সুদ, জুয়া, মদ ইত্যাদি হালাল করে দেয়া হয়েছিলো। শুকরকে পবিত্র পশু বলে আখ্যায়িত করা হয়েছিলো। হিন্দুদের সন্তুষ্টির জন্য গরুর গোস্তকে হারাম করে দেয়া হয়েছিলো। দেয়ালী, রাখি, দশাবতার, পূর্ণিমা, শিবরাত্রির মতো হিন্দু আচার-অনুষ্ঠানগুলো সরকারীভাবে পালন করা হতো।
বর্তমান যুগের প্রশাসকরাও ইসলামের খিদমতের নামে শির্ক ও বিদ'আত বিস্তারে বিপুল সহযোগিতা করে যাচ্ছে। পীর ফকিরদের প্রতি অঢেল ভক্তি-শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হচ্ছে। তাদের মাযারগুলো রক্ষণাবেক্ষণের ইসলাম বিধ্বংসী মুবারক দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে। শুধু এতেই ক্ষান্ত নয়। বরং দু' একটি রাজনৈতিক দল ছাড়া প্রত্যেক ছোট-বড় রাজনৈতিক দলেরই এক একজন নির্দিষ্ট পীর সাহেব রয়েছেন। যাঁরা তাদেরকে নিয়মিত বা অনিয়মিতভাবে শির্ক ও বিদ'আতের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছেন। প্রত্যেক জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে প্রতিটি দলই নিজ নিজ পীর সাহেবের দরবারে গিয়ে তাঁদের দো'আ ও বরকত হাসিল করে থাকে। আর যাঁদের নিজস্ব কোন পীর সাহেব নেই তারাও পীর ধরাকে ভালো চোখেই দেখে থাকেন। অথচ পীর ও ফকিররা বিশ্বের বুকে ইসলামের নামে এতো কঠিন কঠিন শির্ক ও বিদ'আত চালু করেছে যা অন্য কোন মানুষ কর্তৃক সম্ভব হয়নি।

📘 বড় শিরক কি ও কত প্রকার > 📄 প্রচলিত ওয়ায মাহফিল

📄 প্রচলিত ওয়ায মাহফিল


৭. প্রচলিত ওয়ায মাহফিলঃ
আমাদের দেশের সাধারণ ওয়ায মাহফিলগুলোও শির্ক এবং বিদ'আত বিস্তারে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। কারণ, কোর'আন ও হাদীস নির্ভরশীল ওয়াযের সংখ্যা খুবই কম। গণা কয়েকজন ছাড়া যে কোন ওয়ায়িয কোর'আন ও হাদীস সম্পর্কে আলোচনা না করে বরং বুযুর্গদের নামে বানানো কাহিনী বলতে খুবই পছন্দ করেন। যে গুলোর অধিকাংশই শির্ক ও বিদ'আত নির্ভরশীল। পীর সাহেবদের ওয়ায মাহফিলের তো কোন কথাই নেই। তা তো শির্ক ও বিদ'আতের বিশেষ আড্ডাই বলা চলে। তাতে শির্ক ও বিদ'আতের সরাসরি প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। তাই এক বাক্যে বলা চলে, বর্তমান যুগে কোর'আন ও হাদীস নির্ভরশীল ওয়াযের খুবই অকাল।

📘 বড় শিরক কি ও কত প্রকার > 📄 প্রচলিত তাবলীগ জামাত

📄 প্রচলিত তাবলীগ জামাত


৮. প্রচলিত তাবলীগ জামাতঃ
বর্তমান যুগের তাবলীগ জামাতও শির্ক এবং বিদ'আত বিস্তারে কম ভূমিকা রাখছেনা। বরং তা ওয়ায মাহফিল চাইতেও আরো ভয়ঙ্কর। কারণ, ওয়ায মাহফিল তো সাধারণত আলিমরাই করে থাকেন। যদিও কেউ নামধারী আলিম হোকনা কেন। কোন গণ্ড মূর্খ ওয়ায মাহফিল করতে সাহস পায়না। তবে জনাব ইলিয়াস সাহেব আবিষ্কৃত তাবলীগ জামাত মূর্খদের নসীব ভালোভাবে খুলে দিয়েছে। কারণ, যে কোন গণ্ড মূর্খ যে কোন কথা "মুরুব্বীরা বলেছেন" বলে ইসলামের নামে চালিয়ে দিতে পারে। কেউ তাতে কোন বাধা দিচ্ছেনা। মূর্খদেরকে দাওয়াতী কাম শিক্ষা দেয়ার নামে ধর্মীয় ব্যাপারে কথা বানানোর খুব শক্ত তা'লীম দেয়া হচ্ছে। অথচ রাসূল নিজ উম্মতকে সুস্পষ্টভাবেই সতর্ক করে বলেনঃ مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّداً فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ অর্থাৎ যে ব্যক্তি ইচ্ছে করে আমার উপর মিথ্যে বলেছে (আমার নামে এমন কথা বলেছে যা আমি বলিনি) সে যেন জাহান্নামে নিজের ঠিকানা বানিয়ে নেয় (সে জাহান্নামী)।
এ ছাড়া তারা "তাবলীগী নেসাব" বা "ফাযায়িলে আ'মাল" নামে যে কিতাবগুলো নিয়মিতভাবে মানুষকে পড়ে পড়ে শুনাচ্ছে সেগুলোকে শির্ক, বিদ'আত ও কেচ্ছা-কাহিনীর কিতাব বললেই চলে। এ কিতাবগুলো তাবলীগীদেরকে কেচ্ছা নির্ভরশীল একটি জামাতে পরিণত করেছে। এ ছাড়া আর অন্য কিছু নয়। যা শির্ক ও বিদ'আতে ভরপুর।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00