📄 ইবাদাত ও মুজাহাদাহ্'র ক্ষেত্রে
ঘ. ইবাদাত ও মুজাহাদাহ্ঃ
সূফীদের পরিভাষায় নামায বলতে আল্লাহ্ তা'আলার সাথে আন্তরিক সাক্ষাতকেই বুঝানো হয়। আবার কারো কারোর নিকট পীরের প্রতিচ্ছবি কাল্পনিকভাবে নামাযীর চোখের সামনে উপস্থিত না হলে সে নামায পরিপূর্ণই হয় না। রোযা বলতে হৃদয়ে গায়রুল্লাহ্'র চিন্তা (একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়া দুনিয়াতে অন্য কিছু আছে বলে মনে করা) না আসাকেই বুঝানো হয় এবং হজ্জ বলতে নিজ পীর সাহেবের সাথে বিশেষভাবে সাক্ষাৎ করাকেই বুঝানো হয়। ইত্যাদি ইত্যাদি। তারা প্রচলিত নামায, রোযা, হজ্জ ও যাকাতকে সাধারণ লোকের ইবাদাত বলে আখ্যায়িত করে। যা বিশেষ ও অতি বিশেষ লোকদের জন্য প্রযোজ্য নয়। বরং তাদের জন্য রয়েছে বিশেষ যিকির, নিতান্ত একা জীবন যাপন, নির্দিষ্ট খাবার, নির্দিষ্ট পোষাক ও নির্দিষ্ট বৈঠক।
ইসলামে ইবাদাতের উদ্দেশ্য ব্যক্তি বা সমাজ শুদ্ধি হয়ে থাকলেও সূফীদের ইবাদাতের উদ্দেশ্য হচ্ছে আল্লাহ্ তা'আলার সাথে অন্তরের বিশেষ বন্ধন সৃষ্টি যার দরুন তাঁর থেকেই সরাসরি কিছু শিখা যায় এবং তাঁর মধ্যে বিলীন হওয়া যায়। তাঁর রাসূল থেকে গায়েবের জ্ঞান সংগ্রহ করা যায়। এমনকি আল্লাহ্ তা'আলার একান্ত চরিত্র ও বৈশিষ্ট্যে বৈশিষ্ট্য মণ্ডিত হওয়া যায়। তা হলে সূফী সাহেবও কোন কিছুকে হতে বললে তা হয়ে যাবে। মানুসের গুপ্ত রহস্যও তিনি বলতে পারবেন। এমনকি আকাশ ও জমিনের সব কিছুই তিনি সচক্ষে দেখতে পাবেন।
এ ছাড়াও সূফীরা ইবাদাত ও মুজাহাদাহ্'র ক্ষেত্রে এমন কিছু পন্থা আবিষ্কার করেছে যা কুর'আন ও হাদীসের সম্পূর্ণ বিরোধী। নিম্নে উহার কিছু দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করা হলোঃ
১. বলা হয়ঃ হযরত আব্দুল কাদির জিলানী পনেরো বছর যাবৎ এক পায়ে দাঁড়িয়ে 'ইশা থেকে ফজর পর্যন্ত এক খতম কোর'আন মাজীদ তিলাওয়াত করেছেন।
একদা তিনি নিজেই বলেনঃ আমি পঁচিশ বছর যাবৎ ইরাকের জঙ্গলে একা একা ঘুরে বেড়িয়েছি। এমনকি আমি এক বছর পর্যন্ত তো শুধু ঘাস ও মানুষের পরিত্যক্ত বস্তু খেয়েই জীবন যাপন করেছি। পুরো বছর একটুও পানি পান করিনি। তবে এর পরের বছর পানিও পান করতাম। তৃতীয় বছর তো শুধু পানি পান করেই জীবন যাপন করেছি। চতুর্থ বছর না কিছু খেয়েছি না কিছু পান করেছি না শুয়েছি।
২. হযরত বায়েযীদ বোস্তামী তিন বছর যাবৎ সিরিয়ার জঙ্গলে রিয়াযাত (সূফীবাদের প্রশিক্ষণ) ও মুজাহাদাহ্ করেছেন। একদা তিনি হজ্জে রওয়ানা করলেন। যাত্রাপথে তিনি প্রতি কদমে কদমে দু' রাক'আত দু' রাক'আত নামায আদায় করেছেন। এতে করে তিনি বারো বছরে মক্কা পৌঁছেন।
৩. হযরত মু'ঈনুদ্দীন চিন্তী আজমীরি বেশি বেশি মুজাহাদাহ্ করতেন। তিনি সত্তর বছর যাবৎ পুরো রাত এতটুকুও ঘুমাননি।
৪. হযরত ফরীদুদ্দীন গাঞ্জে শুক্র চল্লিশ দিন যাবৎ কুয়ায় বসে চিল্লা পালন করেছেন।
৫. হযরত জুনাইদ বাগ্দাদী ত্রিশ বছর যাবৎ 'ইশার নামায পড়ার পর এক পায়ে দাঁড়িয়ে আল্লাহ্ আল্লাহ্ করেছেন।
৬. খাজা মুহাম্মাদ চিন্তী নিজ ঘরে এক গভীর কুয়া খনন করেছেন। তাতে তিনি উল্টোভাবে ঝুলে থেকে আল্লাহ্'র স্মরণে ব্যস্ত থাকতেন।
৭. হযরত মোল্লা শাহ্ কাদেরী বলতেনঃ পুরো জীবন আমার স্বপ্নদোষ বা সহবাসের গোসলের কোন প্রয়োজন দেখা দেয়নি। কারণ, এ গুলোর সম্পর্ক বিবাহ্ ও ঘুমের সঙ্গে। আর আমি না বিবাহ্ করেছি না কখনো ঘুমিয়েছি। রাসূল এর আদর্শের সঙ্গে উক্ত আদর্শের কোন মিল নেই। বরং তা রাসূল প্রদর্শিত আদর্শের সম্পূর্ণ বিপরীত।
হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ দَخَلَ عَلَيَّ رَسُولُ اللهِ ﷺ فَقَالَ: أَلَمْ أَخْبَرْ أَنَّكَ تَقُوْمُ اللَّيْلَ وَ تَصُوْمُ النَّهَارَ؟ قُلْتُ: بَلَى ، قَالَ : فَلَا تَفْعَلْ ، قُمْ وَ نَمْ ، وَ صُمْ وَ أَفْطِرْ ، فَإِنَّ لِجَسَدِكَ عَلَيْكَ حَقًّا، وَ إِنَّ لِعَيْنِكَ عَلَيْكَ حَقًّا ، وَ إِنَّ لِزَوْرِكَ عَلَيْكَ حَقًّا، وَ إِنَّ لِزَوْجِكَ عَلَيْكَ حَقًّا، وَ إِنَّكَ عَسَى أَنْ يَطُولَ بكَ عُمُرٌ ، وَ إِنَّ مِنْ حَسْبُكَ أَنْ تَصُوْمَ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ ، فَإِنَّ بِكُلِّ حَسَنَةٍ عَشْرَ أَمْثَالِهَا ، فَذَلِكَ الدَّهْرُ كُلُّهُ ، قَالَ: فَشَدَّدْتُ فَشَدَّدَ عَلَيَّ ، فَقُلْتُ: فَإِنِّي أَطِيقُ غَيْرَ ذَلِكَ، قَالَ: فَصُمْ مِنْ كُلِّ جُمُعَةٍ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ، قَالَ : فَشَدَّدْتُ فَشَدِّدَ عَلَيَّ، فَقُلْتُ: أَطِيقُ غَيْرَ ذَلِكَ ، قَالَ: فَصُمْ صَوْمَ نَبِيِّ اللَّهِ دَاوُدَ ، قُلْتُ: وَ مَا صَوْمُ نَبِيِّ اللَّهِ دَاوُدَ؟ قَالَ: نِصْفُ الدَّهْرِ، وَ فِي رِوَايَةٍ: قُلْتُ: فَإِنِّي أَطِيقُ أَفْضَلَ مِنْ ذَلِكَ ، قَالَ: لَا أَفْضَلَ مِنْ ذَلِكَ ، قَالَ عَبْدُ اللَّهِ : لَأَنْ أَكُونَ قَبِلْتُ الثَّلَاثَةَ الأَيَّامَ الَّتِي قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَهْلِي وَمَالِي অর্থাৎ রাসূল আমার নিকট এসে বললেনঃ আমাকে সংবাদ দেয়া হয়েছে তুমি পুরো রাত নামায পড়ো এবং প্রতিদিন রোযা রাখো। এ সংবাদ কি সঠিক নয়? আমি বললামঃ অবশ্যই। তিনি বললেনঃ তাহলে তুমি আর এমন করোনা। তুমি রাত্রে নামাযও পড়বে এবং ঘুমুবে। রোযা রাখবে এবং কখনো কখনো আবার রাখবেনা। কারণ, তোমার উপর তোমার শরীরেরও অধিকার আছে। তেমনিভাবে চোখ, মেহমান এবং স্ত্রীরও। হয়তোবা তুমি বেশি দিন বেঁচে থাকবে। তাই তোমার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, তুমি প্রতি মাসে তিনটি রোযা রাখবে। কারণ, তুমি একটি নেকি করলে দশটি নেকির সাওয়াব পাবে। এ হিসেবে প্রতি মাসে তিনটি রোযা রাখলে পুরো বছর রোযা রাখার সাওয়াব পাবে। হযরত আব্দুল্লাহ্ বলেনঃ আমি কঠোরতা দেখিয়েছি। তাই আমার উপর কঠিন করা হয়েছে। আমি বললামঃ আমি এর চাইতেও বেশি পারি। তিনি বললেনঃ তাহলে প্রতি সপ্তাহে তিনটি রোযা রাখবে। হযরত আব্দুল্লাহ্ বলেনঃ আমি কঠোরতা দেখিয়েছি। তাই আমার উপর কঠিন করা হয়েছে। আমি বললামঃ আমি এর চাইতেও বেশি পারি। তিনি বললেনঃ তাহলে আল্লাহ্'র নবী দাউদ এর ন্যায় রোযা রাখবে। আমি বললামঃ দাউদ এর রোযা কেমন? তিনি বললেনঃ অর্ধ বছর। অর্থাৎ একদিন পর একদিন। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, আমি এর চাইতেও ভালো পারি। তিনি বললেনঃ এর চাইতে আর ভালো হয়না। শেষ জীবনে হযরত আব্দুল্লাহ্ বলেনঃ এখন তিন দিন মেনে নেয়াই আমার নিকট বেশি পছন্দনীয় যা রাসূল বলেছিলেন আমার পরিবার, ধন-সম্পদ চাইতেও।
অন্য বর্ণনায় তিনি বলেনঃ রাসূল আমাকে বলেছেনঃ وَاقْرَأَ الْقُرْآنَ فِي كُلِّ شَهْرٍ ، قَالَ: قُلْتُ: يَا نَبِيَّ اللَّهِ! إِنِّي أُطِيقُ أَفْضَلَ مِنْ ذَلِكَ، قَالَ: فَاقْرَأَهُ فِي كُلِّ عِشْرِيْنَ ، قَالَ: قُلْتُ: يَا نَبِيَّ اللَّهِ! إِنِّي أُطِيقُ أَفْضَلَ مِنْ ذَلِكَ، قَالَ: فَاقْرَأْهُ فِي كُلِّ عَشْرٍ ، قَالَ: قُلْتُ: يَا نَبِيَّ اللَّهِ! إِنِّي أُطِيقُ أَفْضَلَ مِنْ ذَلِكَ ، قَالَ: فَاقْرَأْهُ فِي كُلِّ سَبْعِ وَ لَا تَزِدْ عَلَى ذَلِكَ وَ فِي رِوَايَةِ: قَالَ: إِنِّي أَقْوَى مِنْ ذَلِكَ ، قَالَ: اقْرَأْهُ فِي ثَلَاثٍ أَوْ قَالَ: لَمْ يَفْقَهُ مَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ فِي أَقَلَّ مِنْ ثَلَاثَ অর্থাৎ তুমি প্রতি মাসে কোর'আন মাজীদ এক খতম দিবে। হযরত আব্দুল্লাহ্ বলেনঃ আমি বললামঃ হে আল্লাহ্'র নবী! আমি আরো ভালো পারি। তিনি বললেনঃ তাহলে প্রতি বিশ দিনে এক খতম দিবে। আমি বললামঃ হে আল্লাহ্'র নবী! আমি আরো ভালো পারি। তিনি বললেনঃ তাহলে প্রতি দশ দিনে এক খতম দিবে। আমি বললামঃ হে আল্লাহ্'র নবী! আমি আরো ভালো পারি। তিনি বললেনঃ তাহলে প্রতি সপ্তাহে এক খতম দিবে। কিন্তু এর চাইতে আর বেশি পড়বেনা। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেনঃ আমি এর চাইতেও বেশি পড়তে সক্ষম। তখন রাসূল বললেনঃ তাহলে তুমি তিন দিনে এক খতম দিবে। ওব্যক্তি কোর'আন কিছুই বুঝেনি যে তিন দিনের কমে কোর'আন খতম করেছে।
একদা হযরত সাল্মান তাঁর আন্সারী ভাই হযরত আবুদ্দারদা' এর সাক্ষাতে তাঁর বাড়ি গেলেন। দেখলেন, উন্মুদ্দারদা' (রাযিয়াল্লাহু আনহা) ময়লা কাপড় পরিহিতা। তখন তিনি তাঁকে বললেনঃ তুমি এমন কাপড়ে কেন? তোমার তো স্বামী আছে। তিনি বললেনঃ তোমার ভাই আবুদ্দারদা'র দুনিয়ার ভোগ-বিলাসের প্রতি কোন ভ্রূক্ষেপ নেই। ইতিমধ্যে আবুদ্দারদা' ঘরে ফিরে সাল্মান এর জন্য খানা প্রস্তুত করে বললেনঃ তুমি খাও। আমি এখন খাবোনা। কারণ, আমি রোযাদার। সাল্মান বললেনঃ আমি খাবোনা যতক্ষণ পর্যন্ত তুমি না খাবে। অতএব আবুদ্দারদা' খানা খেলেন। যখন রাত্র হয়ে গেল তখন আবুদ্দারদা' নফল নামায পড়তে গেলেন। এমন সময় হযরত সাল্মান বললেনঃ ঘুমাও। তখন আবুদ্দারদা' ঘুমিয়ে গেলেন। অতঃপর আবারো হযরত আবুদ্দারদা' নফল নামায পড়তে গেলেন। এমন সময় হযরত সাল্মান বললেনঃ ঘুমাও। তবে রাত্রের শেষ ভাগে হযরত সাল্মান হযরত আবুদ্দারদা' কে বললেনঃ এখন উঠতে পারো। অতএব উভয়ে উঠে নামায পড়লেন। অতঃপর হযরত সাল্মান হযরত আবুদ্দারদা' কে উদ্দেশ্য করে বললেনঃ নিশ্চয়ই তোমার উপর তোমার প্রভুর অধিকার আছে। তেমনিভাবে তোমার এবং তোমার পরিবারেরও। অতএব প্রত্যেক অধিকার পাওনাদারকে তার অধিকার অবশ্যই দিতে হবে। ভোর বেলায় হযরত আবুদ্দারদা' নবীকে উক্ত ঘটনা জানালে তিনি বলেনঃ صَدَقَ سَلْمَانُ অর্থাৎ সাল্মান সত্যই বলেছে।
হযরত আনাস্ বলেনঃ একদা তিন ব্যক্তি নবী এর স্ত্রীদের নিকট এসে তাঁর ইবাদাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তাদেরকে সে সম্পর্কে জানিয়ে দেয়া হলো। তারা তা সামান্য মনে করলো এবং বললোঃ নবী এর সাথে আমাদের কোন তুলনাই হয়না। তাঁর আগ-পর সকল গুনাহ্ ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে। অতঃপর তাদের এক জন বললোঃ আমি কিন্তু যত দিন বেঁচে থাকবো সর্বদা পুরো রাত নফল নামায আদায় করবো। দ্বিতীয় জন বললোঃ আমি কিন্তু পুরো জীবন রোযা রাখবো। কখনো রোযা ছাড়বোনা। তৃতীয় জন বললোঃ আমি আদৌ বিবাহ করবোনা এমনকি কখনো মহিলাদের সংস্পর্শেও যাবোনা। রাসূল কে এ সম্পর্কে জানানো হলে তিনি বলেনঃ أَنْتُمُ الَّذِينَ قُلْتُمْ كَذَا وَكَذَا؟ أَمَا وَ اللَّهِ إِنِّي لَأَحْشَاكُمْ لِلَّهِ وَ أَتْقَاكُمْ لَهُ، لَكِنِّي أَصُوْمُ وَ أَفْطِرُ، وَ أَصَلِّي وَ أَرْقُدُ، وَ أَتَزَوَّجُ النِّسَاءَ، فَمَنْ رَغِبَ عَنْ سُنَّتِي فَلَيْسَ مِنِّي অর্থাৎ তোমরাই কি এমন এমন বলেছো? জেনে রাখো, আল্লাহ্'র কসম! নিশ্চয়ই আমি তোমাদের চাইতেও অনেক অনেক বেশি আল্লাহ্ তা'আলাকে ভয় করি। তবুও আমি কখনো কখনো রোযা রাখি। আবার কখনো রাখিনা। রাত্রে নফল নামাযও পড়ি। আবার ঘুমও যাই। বিবাহও করি। অতএব যে ব্যক্তি আমার আদর্শ বিমুখ হলো সে আমার উম্মত নয়।
📄 পুণ্য ও শাস্তির ক্ষেত্রে
ঙ. পুণ্য ও শান্তিঃ ""হলুল" ও "ওয়াহদাতুল্ উজ্জদ" এর দর্শন অনুযায়ী মানুষতো কিছুই নয়। বরং তার মধ্যে আল্লাহ্ তা'আলাই অবস্থান করছেন বলে (না'উযু বিল্লাহ) সে যাই করুক না কেন তা একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলার ইচ্ছায়ই করে থাকে। মানুষের না কোন ইচ্ছা আছে না অভিরুচি। যার দরুন সূফীবাদীদের নিকট ভালো-খারাপ, হালাল-হারাম, আনুগত্য-নাফরমানি, পুণ্য ও শাস্তি বলতে কিছুই নেই। তাই তো তাদের মধ্যে রয়েছে বহু যিন্দীক্ব ও প্রচুর সমকামী। বরং তাদের কেউ কেউ তো প্রকাশ্য দিবালোকে গাধার সাথেও সঙ্গমে লিপ্ত হয়েছে। আবার কেউ কেউ তো মনে করেন, তাঁদের আর শরীয়ত মানতে হবে না। আল্লাহ্ তা'আলা তাঁদের জন্য সব কিছুই হালাল করে দিয়েছেন। এ কারণেই অধিকাংশ সূফীগণ জান্নাত ও জাহান্নাম নিয়ে ঠাট্টা-উপহাস করেছেন। বরং তাঁরা জান্নাত কামনা করাকে একজন সূফীর জন্য মারাত্মক অপরাধ মনে করেন। তাঁদের চাওয়া-পাওয়া হচ্ছে, ফানা ফিল্লাহ্, গায়েব জানা ও বিশ্ব নিয়ন্ত্রণ এবং এটাই তাঁদের বানানো জান্নাত। তেমনিভাবে জাহান্নামকে ভয় পাওয়াও একজন সূফীর জন্য মারাত্মক অপরাধ। কারণ, তা গোলামের অভ্যাস; স্বাধীন লোকের নয়। বরং তাঁদের কেউ কেউ তো দাম্ভিকতা দেখিয়ে এমনো বলেছেন যে, আমি যদি চাই জাহান্নামের জ্বলন্ত আগুনকে মুখের সামান্য থুতু দিয়েই নিভিয়ে দিতে পারি। আরেক কুতুব বলেনঃ আমি যদি আল্লাহ্ তা'আলাকে লজ্জা না করতাম তা হলে মুখের সামান্য থুতু দিয়েই জাহান্নামকে জান্নাত বানিয়ে দিতাম।
হযরত নিযামুদ্দীন আওলিয়া তাঁর সংকলিত বাণী "ফাওয়ায়িদুল্ ফুওয়াদ" কিতাবে বলেনঃ "কিয়ামতের দিন হযরত মা'রূফ কার্খীকে জান্নাতে যাওয়ার জন্য আদেশ করা হবে। কিন্তু তিনি তখন বলবেনঃ আমি জান্নাতে যাবো না। আপনার জান্নাতের জন্য আমি ইবাদাত করিনি। অতএব ফিরিস্তাদেরকে আদেশ করা হবে, একে নূরের শিকলে মজবুত করে বেঁধে টেনে হেঁচড়ে জান্নাতে নিয়ে যাও”।
📄 কারামাতের ক্ষেত্রে
চ. কারামাতঃ সূফীগণ "হলুল" ও "ওয়াহদাতুল্ উজুদে" বিশ্বাস করার দরুন তাঁরা মনে করেন যে, আল্লাহ্ তা'আলা এককভাবে যা করতে পারেন তাঁরাও তা করতে পারেন। তাই তো মনে করা হয়, তাঁরা বিশ্ব পরিচালনা করেন। গাউসের নিকট রয়েছে সব কিছুর চাবিকাঠি। চার জন কুতুব গাউসেরই আদেশে বিশ্বের চার কোণ ধরে রেখেছেন। সাত জন আবদাল গাউসেরই আদেশে বিশ্বের সাতটি মহাদেশ পরিচালনা করেন। আর নজীবগণ নিয়ন্ত্রণ করেন বিশ্বের প্রতিটি শহর। প্রত্যেক শহরে একজন করে নজীব রয়েছেন। হেরা গুহায় তাঁরা প্রতি রাত্রে একত্রিত হন এবং সৃষ্টিকুলের ভাগ্য নিয়ে খুব নিবিড়ভাবে তাঁরা চিন্তা করেন। তাঁরা জীবিতকে মারতে পারেন এবং মৃতকে জীবিত করতে পারেন। বাতাসে উড়তে পারেন এবং মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারেন; অথচ কোর'আন ও হাদীসের দৃষ্টিতে এ সবগুলো একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলাই করতে বা করাতে পারেন। অন্য কেউ নয়।
নিম্নে সূফীদের কিছু বানানো কাহিনী উল্লেখ করা হলোঃ
১. একদা হযরত আব্দুল কাদের জিলানী মুরগীর তরকারি খেয়ে হাড়গুলো পাশে রেখেছেন। অতঃপর হাড়গুলোর উপর হাত রেখে বললেনঃ আল্লাহ্'র আদেশে দাঁড়িয়ে যাও। ততক্ষণাতই মুরগীটি জীবিত হয়ে গেলো।
২. একদা হযরত আব্দুল কাদের জিলানী জনৈক গায়কের কবরে গিয়ে তাকে উদ্দেশ্য করে বলেনঃ আমার আদেশে দাঁড়িয়ে যাও। তখন কবর ফেটে লোকটি গাইতে গাইতে কবর থেকে বের হয়ে আসলো।
৩. হযরত খাজা আবু ইসহাক্ব চিন্তী যখনই সফর করতে চাইতেন তখনই দু' শত মানুষকে সাথে নিয়ে চোখ বন্ধ করলেই সাথে সাথে গন্তব্যস্থানে পৌঁছে যেতেন।
৪. সাইয়েদ মাওদূদ চিন্তী ৯৭ বছর বয়সে মৃত্যু বরণ করেন। তাঁর প্রথম জানাযা মৃত বুযুর্গরা পড়েছেন। দ্বিতীয় জানাযা সাধারণ লোকেরা। অতঃপর জানাযাটি একা একা উড়তে থাকে। এ কারামত দেখে অগণিত মানুষ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে।
৫. খাজা 'উসস্মান হারুনী দু' রাক'আত তাহিয়্যাতুল্ ওযু নামায পড়ে একটি ছোট বাচ্চাকে কোলে নিয়ে অগ্নিকুণ্ডে ঢুকে পড়লেন। উভয়ে দু' ঘণ্টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন। আগুন তাদের একটি পশমও জ্বালাতে পারেনি। তা দেখে অনেক অগ্নিপূজক মুসলমান হয়ে যায়।
৬. জনৈকা মহিলা কাঁদতে কাঁদতে খাজা ফরীদুদ্দীন গাঞ্জে শুক্রের নিকট এসে বললোঃ রাষ্ট্রপতি আমার বেকসুর ছেলেকে ফাঁসি দিয়েছে। এ কথা শুনে তিনি নিজ সাথীদেরকে নিয়ে ওখানে পৌঁছে বললেনঃ হে আল্লাহ্! যদি ছেলেটি বেকসুর হয়ে থাকে তাহলে আপনি তাকে জীবিত করে দিন। এ কথা বলার সাথে সাথেই ছেলেটি জীবিত হয়ে তাঁর সাথেই রওয়ানা করলো। তা দেখে এক হাজার হিন্দু মুসলমান হয়ে যায়।
৭. জনৈক ব্যক্তি হযরত আব্দুল কাদির জিলানীর দরবারে একজন ছেলে সন্তান ছেয়েছিলো। অতএব তিনি তাঁর জন্য দো'আ করেন। ঘটনাক্রমে লোকটির মেয়ে সন্তান জন্ম নেয়। অতএব তিনি লোকটিকে বললেনঃ তাকে ঘরে নিয়ে যাও এবং কুদরতের খেলা দেখো। যখন লোকটি ঘরে ফিরলো তখন মেয়েটি ছেলে হয়ে গেলো।
৮. হযরত আব্দুল কাদির জিলানী মদীনা যিয়ারত শেষে খালি পায়ে বাগদাদ ফিরছিলেন। পথিমধ্যে তাঁর সাথে জনৈক চোরের সাক্ষাৎ হয়। লোকটি চুরি ছাড়তে চাচ্ছিলো। অতএব লোকটি গাউসে আ'জমকে চিনতে পেরে তাঁর পায়ে পড়ে বলতে শুরু করলোঃ হে আব্দুল কাদির! আমাকে বাঁচান। তিনি তার এ অবস্থা দেখে তার উপর দয়ার্দ্র হয়ে তার ইস্লাহের জন্য আল্লাহ্ তা'আলার দরবারে দো'আ করলেন। গায়েব থেকে আওয়াজ আসলো, তুমি চোরকে হিদায়াত করতে যাচ্ছো। তা হলে তুমি তাকে কুতুব বানিয়ে দাও। অতএব চোরটি তাঁর এক দৃষ্টিতেই কুতুব হয়ে গেলো।
৯. মিয়া ইসমাঈল লাহোরী ফজরের নামাযের পর সালাম ফেরানোর সময় ডান দিকে দয়ার দৃষ্টি নিক্ষেপ করলে সঙ্গে সঙ্গে ডান দিকের সকল মুসল্লী কোর'আন মাজীদের হাফিজ হয়ে যায় এবং বাম দিকের সকল মুসল্লী কোর'আন শরীফ দেখে দেখে পড়তে পারে।
১০. খাজা আলাউদ্দীন সাবের কালীরিকে খাজা ফরীদুদ্দীন গাঞ্জে শুক্র "কালীর" পাঠিয়েছেন। এক দিন খাজা সাহেব ইমামের নামাযের জায়গায় বসে গেলেন। লোকেরা তাতে বাধা প্রদান করলে তিনি বললেনঃ কুতুবের মর্যাদা কাজীর চাইতেও বেশি। অতঃপর সবাই তাঁকে জোর করে সেখান থেকে উঠিয়ে দিলে তিনি মসজিদে নামায পড়ার জন্য কোন জায়গা পাননি। তখন তিনি মসজিদকে উদ্দেশ্য করে বললেনঃ সবাই সিজদাহ্ করছে। সুতরাং তুমিও সিজদাহ্ করো। সাথে সাথে মসজিদটি ছাদ ও দেয়াল সহ ভেঙ্গে পড়লো এবং সবাই মরে গেলো।
১১. একদা কা'বা শরীফের প্রতিটি পাথর হযরত শায়েখ ইব্রাহীম মাথূলীর চতুর্দিকে তাওয়াফ করে পুনরায় নিজ জায়গায় ফিরে আসে।
১২. হযরত ইব্রাহীম আল-আ'যাব সম্পর্কে বলা হয়, আগুনকে বেশি ভয় পায় এমন লোককে তিনি বলতেনঃ আগুনে ঢুকে পড়ো। এ কথা বলেই তিনি আগুনে প্রবেশ করে সেখানে দীর্ঘক্ষণ থাকতেন; অথচ তাঁর জামা-কাপড় এতটুকুও পুড়তো না এবং তাঁর কোন ক্ষতিও হতো না। এমনিভাবে তিনি নির্ভয়ে সিংহের পিঠে চড়ে এ দিক ও দিক ঘুরে বেড়াতেন।
১৩. হযরত ইব্রাহীম আল-মাজ্যব সম্পর্কে বলা হয়, তিনি কখনো কোন জিনিসের প্রয়োজন অনুভব করলেই তা পূরণ হয়ে যেতো। তাঁর জামাগুলো গলা কাটা থাকতো। গলাটি সঙ্কীর্ণ হলে সকল মানুষই খুব কষ্টে জীবন যাপন করতো। আর গলাটি প্রশস্ত হলে সকল মানুষই খুব আরাম অনুভব করতো।
১৪. হযরত ইব্রাহীম 'উম্বাইফীর সম্পর্কে বলা হয়, তিনি সাধারণত শহরের বাইরে গিয়ে নিচু ও গভীর জায়গায় ঘুমুতেন। বাঘের পিঠে চড়ে তিনি শহরে ঢুকতেন। পানির উপর দিয়ে তিনি হাঁটতেন। তাঁর নৌকার কোন প্রয়োজন ছিলো না।
১৫. হযরত ইব্রাহীম মাবুলী সম্পর্কে আরো বলা হয়, তিনি যখন কোন বাগানে ঢুকতেন তখন সেখানকার সকল গাছ ও উদ্ভিদগুলো নিজেদের সকল গুণাগুণ তাঁকে ডেকে ডেকে বলতো।
১৬. হযরত ইব্রাহীম মাবুলী সম্পর্কে আরো বলা হয়, তিনি কখনো মিসরে জোহরের নামায পড়তেন না। একদা জনৈক মুফতী সাহেব তাঁকে তিরস্কার করেন। অতঃপর তিনি ফিলিস্তিন সফর করে দেখেন, ইব্রাহীম মাথূলী রামাল্লাহ্'র সাদা মসজিদে জেহরের নামায আদায় করছেন। মসজিদের ইমাম সাহেবকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেনঃ এ তো
১৭. শায়েখ ইব্রাহীম 'উরয়ান সম্পর্কে বলা হয়, যখন তিনি কোন শহরে ঢুকতেন তখন সেখানকার ছোট-বড়ো সবাইকে তিনি তাদের নাম ধরে ডাকতেন। যেন তিনি এখনকার দীর্ঘ দিনের বাসিন্দা। অতঃপর তিনি মিম্বরে উঠে উলঙ্গ অবস্থায় খুতবা দিতেন।
১৮. হযরত শায়েখ আবু 'আলী সম্পর্কে বলা হয়, তিনি ছিলেন বহু রূপী। কখনো তাঁকে সৈন্য রূপে দেখা যেতো। আবার কখনো নেকড়ে বাঘ রূপে। কখনো হাতী রূপে। আবার কখনো ছোট ছেলের রূপে। তিনি মানুষকে মুষ্ঠি ভরে মাটি দিলে তা স্বর্ণ বা রুপা হয়ে যেতো।
১৯. হযরত ইউসুফ আজমী সম্পর্কে বলা হয়, একদা হঠাৎ তাঁর চোখ একটি কুকুরের উপর পড়ে গেলে সকল কুকুর তার পিছু নেয়। কুকুরটি হাঁটলে সেগুলোও হাঁটে। আর কুকুরটি থেমে গেলে সেগুলোও থেমে যায়। মানুষ এ ব্যাপারটি তাঁকে জানালে তিনি কুকুরটির নিকট খবর পাঠিয়ে বললেনঃ তুমি ধ্বংস হয়ে যাও। তখন সকল কুকুর কুকুরটিকে কামড়াতে শুরু করলো। অন্য দিন আরেকটি কুকুরের উপর তাঁর হঠাৎ দৃষ্টি পড়লে সকল কুকুর আবার তার পিছু নেয়। তখন মানুষ কুকুরটির নিকট গেলে তাদের সকল প্রয়োজন সমাধা হয়ে যেতো। কুকুরটি একদা রোগাক্রান্ত হলে সকল কুকুর একত্রিত হয়ে কাঁদতে শুরু করলো। তারা কুকুরটির জন্য আপসোস করতে লাগলো। একদা কুকুরটি মরে গেলে সকল কুকুর চিৎকার দিয়ে কাঁদতে লাগলো। আল্লাহ্ তা'আলার ইলহামে কিছু মানুষ কুকুরটিকে দাপন করে দিলো। কুকুরগুলো যতোদিন বেঁচে ছিলো তারা উক্ত কুকুরটির যিয়ারত করতো।
২০. হযরত আবুল খায়ের মাগরিবী সম্পর্কে বলা হয়, তিনি একদা মদীনায় গেলেন। তিনি পাঁচ দিন যাবত কিছুই খাননি। নবী, হযরত আবু বকর ও 'উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) কে সালাম দিয়ে তিনি রাসূল কে আবদার করে বললেনঃ হে আল্লাহ্'র রাসূল! আমি আজ রাত আপনারই মেহমান। এ কথা বলে তিনি মিম্বরের পেছনে শুয়ে পড়লেন। স্বপ্নে দেখেন স্বয়ং রাসূল হযরত আবু বকর, 'উমর ও 'আলীকে নিয়ে তাঁর সামনেই উপস্থিত। হযরত আলী তাঁকে মৃদু ধাক্কা দিয়ে বললেনঃ উঠো, রাসূল এসেছেন। অতঃপর তিনি দাঁড়িয়ে রাসূল এর দু' চোখের মাঝে চুমু খেলেন। রাসূল তাঁকে একটি রুটি দিলেন। যার অর্ধেক তিনি স্বপ্নে খেয়েছেন। আর বাকি অর্ধেক ঘুম থেকে উঠে নিজের হাতেই দেখতে পেলেন।
২১. বায়েযীদ বোস্তামী সম্পর্কে বলা হয়, তিনি এক বছর যাবত ঘুমাননি এবং পানিও পান করেননি।
২২. শায়েখ মুহাম্মাদ আহমাদ ফারগালী সম্পর্কে শুনা যায়, একদা একটি কুমির মুখাইমির নাক্বীবের মেয়েকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। তখন সে কাঁদতে কাঁদতে তাঁর নিকট আসলে তিনি বললেনঃ যেখান থেকে তোমার মেয়েটিকে কুমির ছিনিয়ে নিলো সেখানে গিয়ে উচ্চ স্বরে ডাক দিয়ে বলবেঃ হে কুমির! ফারগালীর সাথে কথা বলে যাও। তখন কুমিরটি সাগর থেকে উঠে সোজা ফারগালীর বাড়িতে চলে আসলো। আর মানুষ তা দেখে এদিক ওদিক ছুটোছুটি করছিলো। তখন তিনি কামারকে বললেনঃ এর দাঁতগুলো উপড়ে ফেলো। তখন সে তাই করলো। অতঃপর তিনি কুমিরকে মেয়েটি উগলে দিতে বললেন। কিছুক্ষণের মধ্যে মেয়েটি জীবিতাবস্থায় কুমিরের পেট থেকে বের হয়ে আসলো। তখন তিনি কুমিরটিকে এ মর্মে অঙ্গিকার করালেন যে, যতোদিন সে বেঁচে থাকবে কাউকে আর এ এলাকা থেকে ছিনিয়ে নিবে না। তখন কুমিরটি কাঁদতে কাঁদতে সাগরের দিকে নেমে গেলো।
২৩. শায়েখ আব্দুর রহীম ক্বান্নাভী সম্পর্কে বলা হয়, একদা তাঁর বৈঠকে আকাশ থেকে একটি মূর্তি নেমে আসলো। কেউ চিনলো না মূর্তিটি কি? ক্বান্নাভী সাহেব কিছুক্ষণ পর্যন্ত তাঁর মাথাটি নিচু করে রাখলেন। অতঃপর মূর্তিটি উঠে গেলো। লোকেরা এ ব্যাপারে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেনঃ একজন ফিরিস্তা দোষ করে বসলো। তাই সে আমার নিকট সুপারিশ কামনা করলো। আমি সুপারিশ করলে আল্লাহ্ তা'আলা তা কবুল করেন। অতঃপর ফিরিস্তাটি চলে গেলো।
২৪. সাইয়েদ আহমাদ স্বাইয়াদী সম্পর্কে বলা হয়, তিনি যখনই নদীর পাড়ে যেতেন তখন নদীর মাছগুলো তাঁর পায়ে লুটিয়ে পড়তো। কোন মরুভূমি দিয়ে তিনি চলতে থাকলে সকল পশু তাঁর পায়ে গড়াগড়ি করতো। এমনকি তাঁর স্বাভাবিক চলার পথেও রাস্তার দু' পার্শ্বে পশুরা তাঁর সম্মানে দাঁড়িয়ে যেতো।
তাঁর সম্পর্কে আরো বলা হয়, তিনি একটি সিজদায় পূর্ণ একটি বছর কাটিয়ে দিলো। একটি বারের জন্যও তিনি সিজদাহ্ থেকে মাথাটি উঠাননি। যার দরুন তাঁর পিঠে গাস জন্মে গেলো।
২৫. সাইয়েদ বাদাভী সম্পর্কে বলা হয়, তিনি আল্লাহ্ তা'আলার নিকট তিনটি দো'আ করেন। যার মধ্যে দু'টি দো'আ আল্লাহ্ তা'আলা কবুল করেছেন। আরেকটি দো'আ কবুল করেননি। তিনি আল্লাহ্ তা'আলার নিকট এ মর্মে দো'আ করেছেন যে, কেউ যদি তাঁর কবর যিয়ারত করে তা হলে আল্লাহ্ তা'আলা যেন তার ব্যাপারে তাঁর পক্ষ থেকে যে কোন সুপারিশ কবুল করেন। আল্লাহ্ তা'আলা তা কবুল করলেন। তিনি আল্লাহ্ তা'আলার নিকট এ মর্মেও দো'আ করেছেন যে, কেউ যদি তাঁর কবর যিয়ারত করে তা হলে আল্লাহ্ তা'আলা যেন তাকে একটি হজ্জ ও একটি 'উমরাহ'র পূর্ণ সাওয়াব দেন। আল্লাহ্ তা'আলা তাও কবুল করলেন। তিনি আল্লাহ্ তা'আলার নিকট এ মর্মেও দো'আ করেছেন যে, আল্লাহ্ তা'আলা যেন তাঁকে জাহান্নামে প্রবেশ করান। আল্লাহ্ তা'আলা কিন্তু তা কবুল করলেন না। লোকেরা এ সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেনঃ আমি যদি জাহান্নামে ঢুকে গড়াগড়ি করি তা হলে জাহান্নাম সবুজ বাগানে পরিণত হবে। আর আল্লাহ্ তা'আলার তো এ অধিকার অবশ্যই রয়েছে যে, তিনি কাফিরদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করে তাদের যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা করবেন। আরো জানার জন্য দেখতে পারেন, (আত-ত্বাবাক্বাতুল-কুবরা'/শা'রানী)