📘 বড় শিরক কি ও কত প্রকার > 📄 কোর'আন ও হাদীসের ক্ষেত্রে

📄 কোর'আন ও হাদীসের ক্ষেত্রে


খ. কোর'আন ও হাদীসঃ কোর'আন ও হাদীস সম্পর্কে সূফীদের ধারণাঃ সূফী 'আফীফুদ্দীন তিলমাসানী বলেনঃ "কোর'আন মাজীদের মধ্যে তাওহীদ কোথায়? তা তো শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শির্ক দিয়েই পরিপূর্ণ। যে ব্যক্তি সরাসরি কোর'আনকে অনুসরণ করবে সে কখনো তাওহীদের উচ্চ শিখরে পৌঁছুতে পারবেনা"। জনাব বায়েযীদ বোস্তামী বলেনঃ "তোমরা (শরীয়তপন্থীরা) নিজেদের জ্ঞান মৃত ব্যক্তিদের থেকে (মুহাদ্দিসীনদের থেকে) সংগ্রহ করে থাকো। আর আমরা নিজেদের জ্ঞান সরাসরি আল্লাহ্ তা'আলা থেকে সংগ্রহ করি যিনি চিরঞ্জীব। আমরা বলিঃ আমার অন্তর আমার প্রভু থেকে বর্ণনা করেছে। আর তোমরা বলোঃ অমুক বর্ণনাকারী আমার নিকট বর্ণনা করেছে। যদি প্রশ্ন করা হয়, ওই বর্ণনাকারী কোথায়? উত্তর দেয়া হয়, সে মৃত্যু বরণ করেছে। যদি বলা হয়ঃ সে বর্ণনাকারী কার থেকে বর্ণনা করেছে এবং সে কোথায়? বলা হবেঃ সেও মৃত্যু বরণ করেছে।

📘 বড় শিরক কি ও কত প্রকার > 📄 ইবলিস ও ফির'আউনের ক্ষেত্রে

📄 ইবলিস ও ফির'আউনের ক্ষেত্রে


গ. ইবলিস ও ফির'আউনঃ অভিশপ্ত ইবলিস সম্পর্কে সূফীদের ধারণা হচ্ছে এই যে, সে আল্লাহ্ তা'আলার কামিল বান্দাহ্। সর্ব শ্রেষ্ঠ আল্লাহ্'র সৃষ্টি। খাঁটি তাওহীদ পন্থী। কারণ, সে একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়া আর কাউকে সিজদাহ্ করেনি। আল্লাহ্ তা'আলা তার সকল গুনাহ্ ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং তাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়েছেন।
ফির'আউন সম্পর্কে তাদের ধারণা হচ্ছে এই যে, সে একজন শ্রেষ্ঠ তাওহীদ পন্থী। কারণ, সে ঠিকই বলেছেঃ "আনা রাব্বুকুমুল-আ'লা” (আমিই তো তোমাদের সুমহান প্রভু)। মূলতঃ সেই তো হাক্বীক্বতে পৌঁছেছে। কারণ, সব কিছুই তো স্বয়ং আল্লাহ্। তাই সে খাঁটি ঈমানদার এবং জান্নাতী।

📘 বড় শিরক কি ও কত প্রকার > 📄 ইবাদাত ও মুজাহাদাহ্'র ক্ষেত্রে

📄 ইবাদাত ও মুজাহাদাহ্'র ক্ষেত্রে


ঘ. ইবাদাত ও মুজাহাদাহ্ঃ
সূফীদের পরিভাষায় নামায বলতে আল্লাহ্ তা'আলার সাথে আন্তরিক সাক্ষাতকেই বুঝানো হয়। আবার কারো কারোর নিকট পীরের প্রতিচ্ছবি কাল্পনিকভাবে নামাযীর চোখের সামনে উপস্থিত না হলে সে নামায পরিপূর্ণই হয় না। রোযা বলতে হৃদয়ে গায়রুল্লাহ্'র চিন্তা (একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়া দুনিয়াতে অন্য কিছু আছে বলে মনে করা) না আসাকেই বুঝানো হয় এবং হজ্জ বলতে নিজ পীর সাহেবের সাথে বিশেষভাবে সাক্ষাৎ করাকেই বুঝানো হয়। ইত্যাদি ইত্যাদি। তারা প্রচলিত নামায, রোযা, হজ্জ ও যাকাতকে সাধারণ লোকের ইবাদাত বলে আখ্যায়িত করে। যা বিশেষ ও অতি বিশেষ লোকদের জন্য প্রযোজ্য নয়। বরং তাদের জন্য রয়েছে বিশেষ যিকির, নিতান্ত একা জীবন যাপন, নির্দিষ্ট খাবার, নির্দিষ্ট পোষাক ও নির্দিষ্ট বৈঠক।
ইসলামে ইবাদাতের উদ্দেশ্য ব্যক্তি বা সমাজ শুদ্ধি হয়ে থাকলেও সূফীদের ইবাদাতের উদ্দেশ্য হচ্ছে আল্লাহ্ তা'আলার সাথে অন্তরের বিশেষ বন্ধন সৃষ্টি যার দরুন তাঁর থেকেই সরাসরি কিছু শিখা যায় এবং তাঁর মধ্যে বিলীন হওয়া যায়। তাঁর রাসূল থেকে গায়েবের জ্ঞান সংগ্রহ করা যায়। এমনকি আল্লাহ্ তা'আলার একান্ত চরিত্র ও বৈশিষ্ট্যে বৈশিষ্ট্য মণ্ডিত হওয়া যায়। তা হলে সূফী সাহেবও কোন কিছুকে হতে বললে তা হয়ে যাবে। মানুসের গুপ্ত রহস্যও তিনি বলতে পারবেন। এমনকি আকাশ ও জমিনের সব কিছুই তিনি সচক্ষে দেখতে পাবেন।
এ ছাড়াও সূফীরা ইবাদাত ও মুজাহাদাহ্'র ক্ষেত্রে এমন কিছু পন্থা আবিষ্কার করেছে যা কুর'আন ও হাদীসের সম্পূর্ণ বিরোধী। নিম্নে উহার কিছু দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করা হলোঃ
১. বলা হয়ঃ হযরত আব্দুল কাদির জিলানী পনেরো বছর যাবৎ এক পায়ে দাঁড়িয়ে 'ইশা থেকে ফজর পর্যন্ত এক খতম কোর'আন মাজীদ তিলাওয়াত করেছেন।
একদা তিনি নিজেই বলেনঃ আমি পঁচিশ বছর যাবৎ ইরাকের জঙ্গলে একা একা ঘুরে বেড়িয়েছি। এমনকি আমি এক বছর পর্যন্ত তো শুধু ঘাস ও মানুষের পরিত্যক্ত বস্তু খেয়েই জীবন যাপন করেছি। পুরো বছর একটুও পানি পান করিনি। তবে এর পরের বছর পানিও পান করতাম। তৃতীয় বছর তো শুধু পানি পান করেই জীবন যাপন করেছি। চতুর্থ বছর না কিছু খেয়েছি না কিছু পান করেছি না শুয়েছি।
২. হযরত বায়েযীদ বোস্তামী তিন বছর যাবৎ সিরিয়ার জঙ্গলে রিয়াযাত (সূফীবাদের প্রশিক্ষণ) ও মুজাহাদাহ্ করেছেন। একদা তিনি হজ্জে রওয়ানা করলেন। যাত্রাপথে তিনি প্রতি কদমে কদমে দু' রাক'আত দু' রাক'আত নামায আদায় করেছেন। এতে করে তিনি বারো বছরে মক্কা পৌঁছেন।
৩. হযরত মু'ঈনুদ্দীন চিন্তী আজমীরি বেশি বেশি মুজাহাদাহ্ করতেন। তিনি সত্তর বছর যাবৎ পুরো রাত এতটুকুও ঘুমাননি।
৪. হযরত ফরীদুদ্দীন গাঞ্জে শুক্র চল্লিশ দিন যাবৎ কুয়ায় বসে চিল্লা পালন করেছেন।
৫. হযরত জুনাইদ বাগ্দাদী ত্রিশ বছর যাবৎ 'ইশার নামায পড়ার পর এক পায়ে দাঁড়িয়ে আল্লাহ্ আল্লাহ্ করেছেন।
৬. খাজা মুহাম্মাদ চিন্তী নিজ ঘরে এক গভীর কুয়া খনন করেছেন। তাতে তিনি উল্টোভাবে ঝুলে থেকে আল্লাহ্'র স্মরণে ব্যস্ত থাকতেন।
৭. হযরত মোল্লা শাহ্ কাদেরী বলতেনঃ পুরো জীবন আমার স্বপ্নদোষ বা সহবাসের গোসলের কোন প্রয়োজন দেখা দেয়নি। কারণ, এ গুলোর সম্পর্ক বিবাহ্ ও ঘুমের সঙ্গে। আর আমি না বিবাহ্ করেছি না কখনো ঘুমিয়েছি। রাসূল এর আদর্শের সঙ্গে উক্ত আদর্শের কোন মিল নেই। বরং তা রাসূল প্রদর্শিত আদর্শের সম্পূর্ণ বিপরীত।
হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ দَخَلَ عَلَيَّ رَسُولُ اللهِ ﷺ فَقَالَ: أَلَمْ أَخْبَرْ أَنَّكَ تَقُوْمُ اللَّيْلَ وَ تَصُوْمُ النَّهَارَ؟ قُلْتُ: بَلَى ، قَالَ : فَلَا تَفْعَلْ ، قُمْ وَ نَمْ ، وَ صُمْ وَ أَفْطِرْ ، فَإِنَّ لِجَسَدِكَ عَلَيْكَ حَقًّا، وَ إِنَّ لِعَيْنِكَ عَلَيْكَ حَقًّا ، وَ إِنَّ لِزَوْرِكَ عَلَيْكَ حَقًّا، وَ إِنَّ لِزَوْجِكَ عَلَيْكَ حَقًّا، وَ إِنَّكَ عَسَى أَنْ يَطُولَ بكَ عُمُرٌ ، وَ إِنَّ مِنْ حَسْبُكَ أَنْ تَصُوْمَ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ ، فَإِنَّ بِكُلِّ حَسَنَةٍ عَشْرَ أَمْثَالِهَا ، فَذَلِكَ الدَّهْرُ كُلُّهُ ، قَالَ: فَشَدَّدْتُ فَشَدَّدَ عَلَيَّ ، فَقُلْتُ: فَإِنِّي أَطِيقُ غَيْرَ ذَلِكَ، قَالَ: فَصُمْ مِنْ كُلِّ جُمُعَةٍ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ، قَالَ : فَشَدَّدْتُ فَشَدِّدَ عَلَيَّ، فَقُلْتُ: أَطِيقُ غَيْرَ ذَلِكَ ، قَالَ: فَصُمْ صَوْمَ نَبِيِّ اللَّهِ دَاوُدَ ، قُلْتُ: وَ مَا صَوْمُ نَبِيِّ اللَّهِ دَاوُدَ؟ قَالَ: نِصْفُ الدَّهْرِ، وَ فِي رِوَايَةٍ: قُلْتُ: فَإِنِّي أَطِيقُ أَفْضَلَ مِنْ ذَلِكَ ، قَالَ: لَا أَفْضَلَ مِنْ ذَلِكَ ، قَالَ عَبْدُ اللَّهِ : لَأَنْ أَكُونَ قَبِلْتُ الثَّلَاثَةَ الأَيَّامَ الَّتِي قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَهْلِي وَمَالِي অর্থাৎ রাসূল আমার নিকট এসে বললেনঃ আমাকে সংবাদ দেয়া হয়েছে তুমি পুরো রাত নামায পড়ো এবং প্রতিদিন রোযা রাখো। এ সংবাদ কি সঠিক নয়? আমি বললামঃ অবশ্যই। তিনি বললেনঃ তাহলে তুমি আর এমন করোনা। তুমি রাত্রে নামাযও পড়বে এবং ঘুমুবে। রোযা রাখবে এবং কখনো কখনো আবার রাখবেনা। কারণ, তোমার উপর তোমার শরীরেরও অধিকার আছে। তেমনিভাবে চোখ, মেহমান এবং স্ত্রীরও। হয়তোবা তুমি বেশি দিন বেঁচে থাকবে। তাই তোমার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, তুমি প্রতি মাসে তিনটি রোযা রাখবে। কারণ, তুমি একটি নেকি করলে দশটি নেকির সাওয়াব পাবে। এ হিসেবে প্রতি মাসে তিনটি রোযা রাখলে পুরো বছর রোযা রাখার সাওয়াব পাবে। হযরত আব্দুল্লাহ্ বলেনঃ আমি কঠোরতা দেখিয়েছি। তাই আমার উপর কঠিন করা হয়েছে। আমি বললামঃ আমি এর চাইতেও বেশি পারি। তিনি বললেনঃ তাহলে প্রতি সপ্তাহে তিনটি রোযা রাখবে। হযরত আব্দুল্লাহ্ বলেনঃ আমি কঠোরতা দেখিয়েছি। তাই আমার উপর কঠিন করা হয়েছে। আমি বললামঃ আমি এর চাইতেও বেশি পারি। তিনি বললেনঃ তাহলে আল্লাহ্'র নবী দাউদ এর ন্যায় রোযা রাখবে। আমি বললামঃ দাউদ এর রোযা কেমন? তিনি বললেনঃ অর্ধ বছর। অর্থাৎ একদিন পর একদিন। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, আমি এর চাইতেও ভালো পারি। তিনি বললেনঃ এর চাইতে আর ভালো হয়না। শেষ জীবনে হযরত আব্দুল্লাহ্ বলেনঃ এখন তিন দিন মেনে নেয়াই আমার নিকট বেশি পছন্দনীয় যা রাসূল বলেছিলেন আমার পরিবার, ধন-সম্পদ চাইতেও।
অন্য বর্ণনায় তিনি বলেনঃ রাসূল আমাকে বলেছেনঃ وَاقْرَأَ الْقُرْآنَ فِي كُلِّ شَهْرٍ ، قَالَ: قُلْتُ: يَا نَبِيَّ اللَّهِ! إِنِّي أُطِيقُ أَفْضَلَ مِنْ ذَلِكَ، قَالَ: فَاقْرَأَهُ فِي كُلِّ عِشْرِيْنَ ، قَالَ: قُلْتُ: يَا نَبِيَّ اللَّهِ! إِنِّي أُطِيقُ أَفْضَلَ مِنْ ذَلِكَ، قَالَ: فَاقْرَأْهُ فِي كُلِّ عَشْرٍ ، قَالَ: قُلْتُ: يَا نَبِيَّ اللَّهِ! إِنِّي أُطِيقُ أَفْضَلَ مِنْ ذَلِكَ ، قَالَ: فَاقْرَأْهُ فِي كُلِّ سَبْعِ وَ لَا تَزِدْ عَلَى ذَلِكَ وَ فِي رِوَايَةِ: قَالَ: إِنِّي أَقْوَى مِنْ ذَلِكَ ، قَالَ: اقْرَأْهُ فِي ثَلَاثٍ أَوْ قَالَ: لَمْ يَفْقَهُ مَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ فِي أَقَلَّ مِنْ ثَلَاثَ অর্থাৎ তুমি প্রতি মাসে কোর'আন মাজীদ এক খতম দিবে। হযরত আব্দুল্লাহ্ বলেনঃ আমি বললামঃ হে আল্লাহ্'র নবী! আমি আরো ভালো পারি। তিনি বললেনঃ তাহলে প্রতি বিশ দিনে এক খতম দিবে। আমি বললামঃ হে আল্লাহ্'র নবী! আমি আরো ভালো পারি। তিনি বললেনঃ তাহলে প্রতি দশ দিনে এক খতম দিবে। আমি বললামঃ হে আল্লাহ্'র নবী! আমি আরো ভালো পারি। তিনি বললেনঃ তাহলে প্রতি সপ্তাহে এক খতম দিবে। কিন্তু এর চাইতে আর বেশি পড়বেনা। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেনঃ আমি এর চাইতেও বেশি পড়তে সক্ষম। তখন রাসূল বললেনঃ তাহলে তুমি তিন দিনে এক খতম দিবে। ওব্যক্তি কোর'আন কিছুই বুঝেনি যে তিন দিনের কমে কোর'আন খতম করেছে।
একদা হযরত সাল্মান তাঁর আন্সারী ভাই হযরত আবুদ্দারদা' এর সাক্ষাতে তাঁর বাড়ি গেলেন। দেখলেন, উন্মুদ্দারদা' (রাযিয়াল্লাহু আনহা) ময়লা কাপড় পরিহিতা। তখন তিনি তাঁকে বললেনঃ তুমি এমন কাপড়ে কেন? তোমার তো স্বামী আছে। তিনি বললেনঃ তোমার ভাই আবুদ্দারদা'র দুনিয়ার ভোগ-বিলাসের প্রতি কোন ভ্রূক্ষেপ নেই। ইতিমধ্যে আবুদ্দারদা' ঘরে ফিরে সাল্মান এর জন্য খানা প্রস্তুত করে বললেনঃ তুমি খাও। আমি এখন খাবোনা। কারণ, আমি রোযাদার। সাল্মান বললেনঃ আমি খাবোনা যতক্ষণ পর্যন্ত তুমি না খাবে। অতএব আবুদ্দারদা' খানা খেলেন। যখন রাত্র হয়ে গেল তখন আবুদ্দারদা' নফল নামায পড়তে গেলেন। এমন সময় হযরত সাল্মান বললেনঃ ঘুমাও। তখন আবুদ্দারদা' ঘুমিয়ে গেলেন। অতঃপর আবারো হযরত আবুদ্দারদা' নফল নামায পড়তে গেলেন। এমন সময় হযরত সাল্মান বললেনঃ ঘুমাও। তবে রাত্রের শেষ ভাগে হযরত সাল্মান হযরত আবুদ্দারদা' কে বললেনঃ এখন উঠতে পারো। অতএব উভয়ে উঠে নামায পড়লেন। অতঃপর হযরত সাল্মান হযরত আবুদ্দারদা' কে উদ্দেশ্য করে বললেনঃ নিশ্চয়ই তোমার উপর তোমার প্রভুর অধিকার আছে। তেমনিভাবে তোমার এবং তোমার পরিবারেরও। অতএব প্রত্যেক অধিকার পাওনাদারকে তার অধিকার অবশ্যই দিতে হবে। ভোর বেলায় হযরত আবুদ্দারদা' নবীকে উক্ত ঘটনা জানালে তিনি বলেনঃ صَدَقَ سَلْمَانُ অর্থাৎ সাল্মান সত্যই বলেছে।
হযরত আনাস্ বলেনঃ একদা তিন ব্যক্তি নবী এর স্ত্রীদের নিকট এসে তাঁর ইবাদাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তাদেরকে সে সম্পর্কে জানিয়ে দেয়া হলো। তারা তা সামান্য মনে করলো এবং বললোঃ নবী এর সাথে আমাদের কোন তুলনাই হয়না। তাঁর আগ-পর সকল গুনাহ্ ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে। অতঃপর তাদের এক জন বললোঃ আমি কিন্তু যত দিন বেঁচে থাকবো সর্বদা পুরো রাত নফল নামায আদায় করবো। দ্বিতীয় জন বললোঃ আমি কিন্তু পুরো জীবন রোযা রাখবো। কখনো রোযা ছাড়বোনা। তৃতীয় জন বললোঃ আমি আদৌ বিবাহ করবোনা এমনকি কখনো মহিলাদের সংস্পর্শেও যাবোনা। রাসূল কে এ সম্পর্কে জানানো হলে তিনি বলেনঃ أَنْتُمُ الَّذِينَ قُلْتُمْ كَذَا وَكَذَا؟ أَمَا وَ اللَّهِ إِنِّي لَأَحْشَاكُمْ لِلَّهِ وَ أَتْقَاكُمْ لَهُ، لَكِنِّي أَصُوْمُ وَ أَفْطِرُ، وَ أَصَلِّي وَ أَرْقُدُ، وَ أَتَزَوَّجُ النِّسَاءَ، فَمَنْ رَغِبَ عَنْ سُنَّتِي فَلَيْسَ مِنِّي অর্থাৎ তোমরাই কি এমন এমন বলেছো? জেনে রাখো, আল্লাহ্'র কসম! নিশ্চয়ই আমি তোমাদের চাইতেও অনেক অনেক বেশি আল্লাহ্ তা'আলাকে ভয় করি। তবুও আমি কখনো কখনো রোযা রাখি। আবার কখনো রাখিনা। রাত্রে নফল নামাযও পড়ি। আবার ঘুমও যাই। বিবাহও করি। অতএব যে ব্যক্তি আমার আদর্শ বিমুখ হলো সে আমার উম্মত নয়।

📘 বড় শিরক কি ও কত প্রকার > 📄 পুণ্য ও শাস্তির ক্ষেত্রে

📄 পুণ্য ও শাস্তির ক্ষেত্রে


ঙ. পুণ্য ও শান্তিঃ ""হলুল" ও "ওয়াহদাতুল্ উজ্জদ" এর দর্শন অনুযায়ী মানুষতো কিছুই নয়। বরং তার মধ্যে আল্লাহ্ তা'আলাই অবস্থান করছেন বলে (না'উযু বিল্লাহ) সে যাই করুক না কেন তা একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলার ইচ্ছায়ই করে থাকে। মানুষের না কোন ইচ্ছা আছে না অভিরুচি। যার দরুন সূফীবাদীদের নিকট ভালো-খারাপ, হালাল-হারাম, আনুগত্য-নাফরমানি, পুণ্য ও শাস্তি বলতে কিছুই নেই। তাই তো তাদের মধ্যে রয়েছে বহু যিন্দীক্ব ও প্রচুর সমকামী। বরং তাদের কেউ কেউ তো প্রকাশ্য দিবালোকে গাধার সাথেও সঙ্গমে লিপ্ত হয়েছে। আবার কেউ কেউ তো মনে করেন, তাঁদের আর শরীয়ত মানতে হবে না। আল্লাহ্ তা'আলা তাঁদের জন্য সব কিছুই হালাল করে দিয়েছেন। এ কারণেই অধিকাংশ সূফীগণ জান্নাত ও জাহান্নাম নিয়ে ঠাট্টা-উপহাস করেছেন। বরং তাঁরা জান্নাত কামনা করাকে একজন সূফীর জন্য মারাত্মক অপরাধ মনে করেন। তাঁদের চাওয়া-পাওয়া হচ্ছে, ফানা ফিল্লাহ্, গায়েব জানা ও বিশ্ব নিয়ন্ত্রণ এবং এটাই তাঁদের বানানো জান্নাত। তেমনিভাবে জাহান্নামকে ভয় পাওয়াও একজন সূফীর জন্য মারাত্মক অপরাধ। কারণ, তা গোলামের অভ্যাস; স্বাধীন লোকের নয়। বরং তাঁদের কেউ কেউ তো দাম্ভিকতা দেখিয়ে এমনো বলেছেন যে, আমি যদি চাই জাহান্নামের জ্বলন্ত আগুনকে মুখের সামান্য থুতু দিয়েই নিভিয়ে দিতে পারি। আরেক কুতুব বলেনঃ আমি যদি আল্লাহ্ তা'আলাকে লজ্জা না করতাম তা হলে মুখের সামান্য থুতু দিয়েই জাহান্নামকে জান্নাত বানিয়ে দিতাম।
হযরত নিযামুদ্দীন আওলিয়া তাঁর সংকলিত বাণী "ফাওয়ায়িদুল্ ফুওয়াদ" কিতাবে বলেনঃ "কিয়ামতের দিন হযরত মা'রূফ কার্খীকে জান্নাতে যাওয়ার জন্য আদেশ করা হবে। কিন্তু তিনি তখন বলবেনঃ আমি জান্নাতে যাবো না। আপনার জান্নাতের জন্য আমি ইবাদাত করিনি। অতএব ফিরিস্তাদেরকে আদেশ করা হবে, একে নূরের শিকলে মজবুত করে বেঁধে টেনে হেঁচড়ে জান্নাতে নিয়ে যাও”।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00