📄 ইসলাম সম্পর্কে চরম মূর্খতা
১. ইসলাম সম্পর্কে চরম মূর্খতাঃ কোর'আন ও হাদীসের ব্যাপারে চরম মূর্খতা শির্ক বিস্তারের সর্বপ্রথম ও সর্ববৃহৎ কারণ। এ কারণেই মানুষ অতি সহজভাবেই পিতৃপুরুষ কর্তৃক প্রচলিত নীতি ও রসম-রেওয়াজের অন্ধ অনুসারী হয়ে যায় এবং এ কারনেই মানুষ ওলী-বুযুর্গদের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করতে শিখে।
উক্ত কারনেই এমন কিছু মাজারের পূজা করা হয় যেখানে কোন পীর-ফকির শায়িত নেই এবং এ কারনেই কোন পীর-ফকির যেনা-ব্যভিচার করলেও তা মুখ বুজে সহ্য করা হয়। প্রকাশ্যে মদের আড্ডা জমানোর পরও তাকে বরাবর ভক্তি করা হয়। উলঙ্গ হয়ে সবার সম্মুখে দিন-রাত ঘুরে বেড়ালেও তার বুযুর্গীর মধ্যে এতটুকুও কমতি আসেনা।
বিদ্যা-বুদ্ধির এহেন অপমৃত্যু, বিচার-বিবেচনার এ দীনতা, চরিত্রের এ অবক্ষয়-অবনতি, মানবিক আত্মমর্যাদাবোধের এ খোলা অপমান এবং আক্বীদা-বিশ্বাসের এমন অস্তিত্ব হনন কোর'আন ও হাদীসের ব্যাপারে চরম মূর্খতার ফল বৈ আর কি?
📄 চলমান জাতীয় শিক্ষা সিলেবাস
২. চলমান জাতীয় শিক্ষা সিলেবাসঃ
সবাই এ কথা এক বাক্যে স্বীকার করেন যে, কোন জাতির আক্বীদা-বিশ্বাস, মন ও মনন, শিক্ষা ও সংস্কৃতির পুনর্গঠনে একমাত্র জাতীয় শিক্ষা সিলেবাসই মৌলিক ভূমিকা রেখে থাকে। কিন্তু আপসোসের বিষয় হলো এই যে, আমাদের শিক্ষা সিলেবাস সম্পূর্ণরূপে তাওহীদ বিরোধী। তাতে মাযার পূজা ও পীর পূজার প্রতি সরাসরি উৎসাহ দেয়া হচ্ছে। পীর-ফকিরদের ব্যাপারে অনেক ধরনের বানানো কারামত শুনিয়ে মানুষকে তাদের অন্ধ ভক্ত বানানো হচ্ছে। তাতে করে সাধারণ শিক্ষিতদের মধ্যে যে মানসিকতা জন্ম নিচ্ছে তা নিম্নরূপঃ
ক. বুযুর্গদের কবরের উপর ঘর বানানো বা মাযার তৈরী করা এবং সে কবরকে উদ্দেশ্য করে উরস করা বা মেলা বসানো প্রচুর সাওয়াবের কাজ।
খ. উরস বা মেলা উপলক্ষে গান-বাদ্যের বিশেষ আয়োজন করা হলে বুযুর্গদের যথাযথ সম্মান রক্ষা ও বৃদ্ধি পায়।
গ. বুযুর্গদের মাযারের উপর ফুল ছড়িয়ে দেয়া, মাযারকে আলোকিত করা, উরস উপলক্ষে খানা বা তাবাক্লকের আয়োজন করা এবং মাযারে বসে ইবাদাত করা প্রচুর সাওয়াবের কাজ।
ঘ. বুযুর্গদের মাযারের পার্শ্বে গিয়ে দো'আ করা দো'আ কবুল হওয়ার একমাত্র বিশেষ উপায়।
ঙ. ওলীদের মাযারে গেলে মনের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়, গুনাহ্ মাফ হয় বা পরকালে নাজাত পাওয়া যায়।
চ. বুযুর্গদের মাযারে গিয়ে ফয়েয-বরকত হাসিল করা বিশেষ সাওয়াবের কাজ।
এ কারণেই এ জাতীয় সিলেবাস পড়ুয়াদের মুখ থেকে সে যত বড় শিক্ষিতই হোক না কেন আপনি কখনো তাওহীদের কথা শুনতে পাবেন না। কারণ, তারা তাওহীদের শিক্ষা গ্রহণ করেনি। বরং তারা এর বিপরীতে শির্ক ও বিদ'আতের প্রশিক্ষণ নিয়েছে।
এ কারণেই কবি ইকবাল ঠিকই বলেছেন যার মর্মার্থ নিম্নরূপঃ মাদ্রাসাওয়ালারা তাওহীদকে গলা টিপে হত্যা করেছে। অতএব আমরা আর কোথা থেকে খাঁটি তাওহীদের ডাক শুনতে পাবো?
📄 পীরদের আস্তানা বা তথাকথিত খানকা শরীফ
৩. পীরদের আস্তানা বা তথাকথিত খাল্কা শরীফঃ পীরদের আস্তানা, দরবার বা তথাকথিত খাল্কা শরীফ ইসলামের বিরুদ্ধে একটি প্রকাশ্য বিদ্রোহ। শুধু আক্বীদা-বিশ্বাসের ক্ষেত্রেই নয় বরং তারা আমলের ক্ষেত্রেও রাসূল ﷺ আনীত বিধানের সাথে বিদ্রোহ করেছে। বাস্তব কথা এইযে, খাল্কা, মাযার, দরবার বা পীরদের আস্তানায় ইসলামের যতটুকু অসম্মান হয়েছে ততটুকু অসম্মান মন্দির, গির্জা বা চার্চেও হয়নি। পীর-বুযুর্গদের কবরের উপর ঘর বা গুম্বজ তৈরী করা, কবরকে সাজ-সজ্জা বা আলোকিত করা, কবরের উপর ফুল ছড়ানো, কবরকে গোসল দেয়া, কবরের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কবরের খাদিম হয়ে তার পার্শ্বে অবস্থান করা, কবরের জন্য কোন কিছু মানত করা, কবরকে উপলক্ষ করে খানা বা শিরনি বিতরণ করা, পশু জবাই করা, কবরের জন্য রুকু'-সিজদাহ্ করা, কবরের সামনে দু' হাত বেঁধে বিনম্রভাবে দাঁড়ানো, কবরে শায়িত ব্যক্তির নিকট কোন কিছু চাওয়া, তাদের নামে চুলের বেণী রাখা বা শরীরের কোথাও সুতা বেঁধে দেয়া, তাদের নামের দোহাই দেয়া বা বিপদের সময় তাদেরকে ডাকা, মাযারের চতুষ্পার্শ্বে তাওয়াফ করা, তাওয়াফ শেষে কুরবানী করা বা মাথা মুণ্ডানো, মাযারের দেয়ালে চুমু খাওয়া, বরকতের জন্য কবরের মাটি যত্ন সহকারে সংগ্রহ করা, খালি পায়ে কবর পর্যন্ত পায়ে হেঁটে যাওয়া এবং উল্টো পায়ে ফিরে আসা ইত্যাদি ইত্যাদি তো যে কোন কবরের জন্যই অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। যা শির্ক ও বিদ'আত ছাড়া আর অন্য কিছু নয়।
কোন কোন খাক্বার খিদমতের জন্য তো ছোট বাচ্চা বা যুবতী মেয়েও ওয়াক্ফ করা হয় এবং নিঃসন্তান মহিলাদেরকে নয় রাতের জন্য খাদিমদের খিদমতে রাখা হয়। তথাকথিত যমযমের পানি পান করানো হয়। আবার কোন কোন মাযারে তো মদ, গাঁজা ও আফিমের আড্ডা জমে। কোন কোন মাযাওে তো যেনা-ব্যভিচার বা সমকামিতার মতো নিকৃষ্ট কাজও চর্চা করা হয়। আবার কোন কোন মাযারকে তো হত্যাকারী ও সন্ত্রাসীদের আশ্রয়স্থলও মনে করা হয়।
উরস উপলক্ষে পুরুষ ও মহিলাদের সহাবস্থান, নাচ-গান তো নিত্য দিনেরই ব্যাপার। পাকিস্তানের সরকারী হিসেবে যখন সেখানে প্রতি বছর ৬৩৪ টি উরস তথা প্রতি মাসে ৫৩ টি উরস সংঘটিত হয়ে থাকে তখন বাংলাদেশে প্রতি মাসে বিশ-ত্রিশটা উরস তো হয়েই থাকবে এর মধ্যে কোন সন্দেহ নেই। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছে যে, লাহোরের মুসলমানরা "মধু লাল" নামক এক ব্রাহ্মণের কবরের উপরও মাযার বানিয়েছে যার উপর শেখ হুসাইন নামক এক বুযুর্গ আশিক হয়েছিলেন। মধু লালের মৃত্যুর পর শেখ হুসাইনের ভক্তরা মধু লালকে তার আশিকের পাশেই দাফন করে দেয় এবং উভয় নামকে মিলিয়ে তাদের মাযারকে মধু লাল হুসাইনের মাযার বলে আখ্যায়িত করে।