📘 বন্ধন পারিবারিক জীবনে আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য > 📄 মা-বাবার সাথে

📄 মা-বাবার সাথে


وَ قَضَى رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا إِمَّا يَبْلُغَنَّ عِنْدَكَ الْكِبَرَ أَحَدُهُمَا أَوْ كِلْهُمَا فَلَا تَقُل لَّهُمَا أُفٍ وَلَا تَنْهَرْهُمَا وَقُلْ لَّهُمَا قَوْلًا كَرِيمًا- وَاخْفِضْ لَهُمَا جَنَاحَ الذُّلِّ مِنَ الرَّحْمَةِ وَ قُلْ رَّبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيْنِي صَغِيرًا.

'তোমার পালনকর্তা আদেশ করেছেন যে, তাঁকে ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করো না এবং পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করো। তাদের মধ্যে কেউ অথবা উভয়েই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়; তবে তাদেরকে "উফ” শব্দটিও বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না; বরং তাদেরকে শিষ্টাচারপূর্ণ কথা বলো। তাদের সামনে ভালোবাসার সাথে, নম্রভাবে মাথা নত করে দাও এবং বলো, হে পালনকর্তা, তাদের উভয়ের প্রতি রহম করো, যেমন তারা আমাকে শৈশবকালে লালন-পালন করেছেন।'

এটি সূরা আল-ইসরার ২৩ ও ২৪ নাম্বার আয়াত। এই আয়াতের আলোকে আমি মা-বাবার সাথে সন্তানের আচার-আচরণ কেমন হওয়া উচিত, সেটা নিয়ে কথা বলব।

আল্লাহ আয়াতটার শুরু করলেন এই বলে- وَقَضَى رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ

যার অর্থ হলো, তোমাদের রব আদেশ করছেন, তোমরা তাঁকে ছাড়া আর কারও ইবাদাত করবে না। আয়াতের প্রথম অংশ আমাদের ওপর আল্লাহর অধিকারের ব্যাপারে দাবি জানাচ্ছে। আর দ্বিতীয় অংশে বলা হয়েছে- وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا

'তুমি অবশ্যই তোমার পিতা-মাতার সাথে সর্বোত্তম আচরণ করবে।' ভাষাগত ব্যাকরণে না গিয়ে বলা যায় যে, 'ইহসানা' শব্দটি দ্বারা এখানে জোরালো উপদেশ দেওয়া হয়েছে। আপনি তাদের সাথে যথাসম্ভব ভালো ব্যবহার করবেন। আয়াতের বাকি অংশ শুধুই মা-বাবার সঙ্গে আচরণের ব্যাপারে। প্রথমে আল্লাহ বলছেন, 'তুমি তাদের সাথে সুন্দর আচরণ করবে', এরপর তিনি বলেন- إِمَّا يَبْلُغَنَّ عِنْدَكَ الْكِبَرَ.

'তারা যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়' أَحَدُهُمَا أَوْ كِلَهُمَا .

'...তাদের মধ্যে একজন অথবা উভয়েই...' فَلَا تَقُل لَّهُمَا أُفٍّ.

'...তাদেরকে “উফ” শব্দটিও বলো না' আমি এ ব্যাপারটায় একটু পরেই ফিরে আসব। وَلَا تَنْهَرْهُمَا.

'... আর তাদেরকে ধমক দিয়ো না বা দূরে ঠেলে দিও না...' وَقُلْ لَّهُمَا قَوْلًا كَرِيمًا.

'আর তাদের সাথে শিষ্টাচারপূর্ণ কথা বলো।'

একটার পর আরেকটা, তারপর আরেকটা। এভাবে একের পর এক শুধুই পিতা-মাতাকে নিয়ে বলা হয়েছে। মাত্র একবার আল্লাহর সম্পর্কে বলা হয়েছে, আর বাকি সব অংশ পিতা-মাতার ব্যাপারে কথা বলছে। চিন্তা করে দেখুন, এ বিষয়টি কত গুরুত্বপূর্ণ!

এ আয়াতের সুন্দর দিক হচ্ছে, শুরুতে আল্লাহ নিজেকে উল্লেখ করেছেন। এরপর মা-বাবার ব্যাপারটা। আপনি যদি আল্লাহর একজন ভালো বান্দা হতে না পারেন, তাহলে মা-বাবার সাথেও আপনার আচার-আচরণ ভালো হবে না।

প্রথম অংশটি যথার্থভাবে পালন না করলে দ্বিতীয় অংশে এসেও আপনি ব্যর্থ হবেন। মা-বাবার সাথে আপনাদের কারও আচার-আচরণ খারাপ হওয়ার অর্থ আপনি আসলে এখনও আল্লাহর ভালো বান্দা হতে পারেননি। আপনার প্রথম করণীয় কাজটি এখনও করেননি। পরেরটা করা আপনার জন্য সহজ হয়ে যেত, যদি আপনি তার আগেরটা করতেন। এটি হলো প্রথম পয়েন্ট।

দ্বিতীয় পয়েন্ট হলো, সর্বোত্তম হওয়া বলতে আসলে কী বোঝায়? এখানে বলা হচ্ছে, 'ওয়াবিল-ওয়ালিদাইনি...' এখানে 'ওয়া ইহসানান বিল ওয়ালিদাইনি' বলা হয়নি। তাহলে এটার ভিন্ন অর্থ হতো। 'ওয়াবিল ওয়ালিদাইনি ইহসানান'-এর মানে হচ্ছে, 'বিশেষভাবে' আপনার পিতা-মাতার কথা বলা হচ্ছে। অন্যদের সাপেক্ষে যখনই মাতা-পিতার ব্যাপার চলে আসে, আপনি তাদের কাছে সর্বোত্তম হবেন। অন্য কথায়, নিজের বসের কাছে ভালো হওয়া খুবই সহজ। কেননা, আপনি তার সাথে ঝামেলায় জড়ালে নিজেই বিপদে পড়বেন। আপনার প্রফেসরের সাথে ভালো আচরণ করা স্বাভাবিক। কারণ, তিনি আপনাকে পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দিতে পারেন। একইভাবে আপনার বন্ধুদের কাছেও, কেননা আপনি তাদের হারাতে চান না। কিন্তু যখনই আপনার মাতা-পিতার কথা আসে, তখন আপনি অনেকটা রিলাক্সড! ও, মা-বাবা? ওনারা তো সারা জীবন আমারই। তাই আল্লাহ বলছেন, নাহ। ব্যাপারটা এত হালকা না। আল্লাহ তায়ালার অধিকারের পরেই পিতা-মাতার অধিকারের ব্যাপারটা আলোচনা করার বিশেষ একটা গুরুত্ব আছে।

ধরুন, আপনি ফোনে বন্ধুর সাথে কথা বলছেন, আর আপনার মা আপনাকে ডাক দিলো। আপনি তখনই তার ডাকে সাড়া দিয়ে চলে যাবেন। ব্যাস! এখানে আর কোনো 'কিন্তু' নেই। আপনি ভিডিও গেমস খেলছেন আর আপনার মা বললেন, 'নাস্তা রেডি!' আপনি বলবেন না, 'দাঁড়াও না! বললাম তো আসছি! একটু বসে থাকো!' এগুলো চলবে না। সাথেই সাথেই সেটাকে রেখে দিন। চলে যান। আমি আপনার বাসায় থাকলে আপনার টিভিটাই ভেঙে ফেলতাম। বলতাম 'যান, আপনার মায়ের কথা শুনে আসুন।' এটা আমাদের দ্বীনের একটি প্রাথমিক দায়িত্ব।

এরপর আল্লাহ বলেন, 'তাদের একজন বা দুজনই যখন বার্ধক্যে উপনীত হোন' তখন বিষয়টা আরও গুরুতর। কেননা, যখন আমাদের মাতা-পিতার বয়স বাড়তে থাকে, তার সাথে সাথে তাদের প্রয়োজনও বাড়তে থাকে।

অন্যদিকে তাদের বয়স বাড়ছে আর আপনি স্বাধীন হচ্ছেন। প্রাপ্তবয়স্ক হচ্ছেন। আপনি তখন ভাবেন, নিজের সিদ্ধান্তগুলো নিজেই নেবেন। এখন আপনার নিজের একটা জীবন আছে। তারা এখনও আপনাকে বাচ্চা হিসেবে দেখছে, তারা আপনাকে বুঝতে পারে না- এ রকম নানা অভিযোগ আপনার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। আপনি আপনার বন্ধুদের কাছে এগুলো বলে বেড়ান।

কিন্তু আল্লাহ বলছেন যে, 'বিশেষভাবে' যখন তারা বৃদ্ধ হয়ে পড়ে, 'বিশেষভাবে' যখন তারা অযৌক্তিক হয়ে যায়, 'বিশেষভাবে' যখন তারা আর আপনার অবস্থা বুঝতে পারে না, আপনার ওপর নানা দাবি-দাওয়া চাপাতে থাকে, তখনই সময় তাদের কাছে সর্বোত্তম হওয়ার। আর যে আল্লাহর ভালো বান্দা নয়, তার কাছে এটা মোটেও সহজ হবে না। এগুলো তাদের জন্য না; বরং আল্লাহর জন্য করতে হবে। এটা হলো দ্বিতীয় দিক।

তারপর তিনি বলেন, 'ওয়ালা তানহার হুমা'। 'তাদেরকে ধমক দিও না কিংবা দূরে সরিয়ে দিও না'। ভিক্ষুকদের ব্যাপারে ঠিক একই আদেশ নবি ﷺ-কে দেওয়া হয়েছিল। ওয়া আম্মাসসা-ইলা ফালা তানহার। একই রকম শব্দ তাই না? 'ভিক্ষুকদের ধমক দিও না, তাদের দূরে ঠেলে দিও না।'

মা-বাবাকে পাশ কাটিয়ে চলে যাবেন না। আপনার মা আপনার সাথে কথা বলছে, আর আপনি হুট করে চলে যান অথবা আপনি কথা বলার সময় তার দিকে তাকানও না। আপনার লজ্জা হওয়া উচিত। মায়ের সাথে কীভাবে আপনি এমনটা করতে পারেন? আপনার জন্য তিনি কতই-না কষ্টের মধ্যে দিয়ে গেছেন। আর আপনি তার সব কষ্টের কথা ভুলে গিয়ে বলতে থাকেন 'আরে বুড়িটা সারাক্ষণ চেঁচামেচি করে, বকবক করে...'

কী চরম অকৃতজ্ঞতা! শুধু আপনার মায়ের প্রতি না, প্রথমে আল্লাহর ওপর, তারপর আপনার মায়ের ওপর। আপনি কি ভুলে গেছেন, আপনি তার গর্ভের মধ্যে ছিলেন? যে কারণে একটু পরপরই তার বমি হতো। ভেতর থেকে আপনি তার পাঁজরে লাথি মারতেন। আর পেট থেকে বের হওয়ার সময়

আপনি তাকে প্রায় মেরেই ফেলেছিলেন। কত ব্যথা-বেদনার মধ্য দিয়ে তিনি আপনাকে লালন-পালন করেছেন। রাতে কখনো কখনো ঘুমোতে পর্যন্ত যাননি।

অথচ এখন সব দিব্যি ভুলে গেছেন। আর তাই এমন আচরণ করছেন। আপনার মনে নেই বলে আপনি তাদের সাথে যাচ্ছেতাইভাবে কথা বলেন।

'ওয়া কুল লাহুমা কওলান কারিমা, অর্থাৎ 'তাদের উভয়ের সাথে সম্মানের সাথে, শিষ্টাচারপূর্ণ কথা বলো।'

আপনাদের অনেকেরই মুখ দিয়ে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের মতো বাজে শব্দ, খারাপ ভাষা বের হতে থাকে। আপনি এগুলো বলার সময় একটুও চিন্তা করেন না। মাতা-পিতার সাথে কথা বলার সময় আপনার অবশ্যই এদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আর এমনিতেও এসব ভাষা ব্যবহার করা উচিত নয়। বিশেষ করে মাতা-পিতার সাথে তো তা কোনোভাবেই না।

এরপরে আরও একটি আয়াত মাতা-পিতাকে কেন্দ্র করে নাজিল হয়েছে। যেখানে বলা হচ্ছে- وَاخْفِضْ لَهُمَا جَنَاحَ الذُّلِّ مِنَ الرَّحْمَةِ.

'তাদের দুজনের জন্য তোমার কোমলতা ও বিনয়ের ডানা অবনত করো।' সূরা বনি ইসরাইল: ২৪ আরবিতে ডানা নত করার অর্থ হলো, আপনার পাখির মতো উড়ে যাওয়ার ক্ষমতা আছে। কিন্তু তারপরেও আপনি নিচে যেকোনো জায়গায় নেমে আসেন। আপনার চলে যাওয়ার ক্ষমতা আছে; তাদের মুখের সামনে জোরে দরজা লাগিয়ে দিতে পারেন কিংবা ফোন কেটে দিতে পারেন। তবুও এগুলো সহ্য করেন, তাদের বকবকানি মেনে নেন।

আপনি হয়তো আমাকে বলেন বা ফেসবুক পেজে লিখবেন, 'নোমান ভাই, আপনি বুঝতে পারছেন না। আমার মাতা-পিতার মাথা পুরো নষ্ট হয়ে গেছে' অথবা 'আমার ব্যাপারটা পুরো আলাদা...'

কী মনে হচ্ছে? প্রত্যেকেই ভাবে যে, তাদের অবস্থাটা অন্যদের থেকে আলাদা। কেউ ভাবে না যে, এগুলো তাদের ক্ষেত্রে খাটে। সবাই মনে করে, এই কথাগুলো পাশের কাউকে উদ্দেশ্য করে বলা হচ্ছে।

আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির ব্যাপারে খুব ভালো করেই জানেন। তিনি আমাদের অবস্থা সম্পর্কে অবগত থেকেই এ কথাগুলো বলেছেন। তাই তাদের প্রতি বিনয়ের ডানা অবনত করুন।

আমার শেষ মন্তব্য আয়াতের শেষ অংশকে নিয়ে। যেখানে বলা হয়েছে, 'মিনার রহমাহ' অর্থাৎ দয়া পরবশ হয়ে। এটি অন্তত তিনটি দিক বোঝায়।

প্রথমত, আপনি তাদের প্রতি বিনয়ী হবেন, যদিও তার বিপরীত হওয়ার ক্ষমতা আপনার আছে। আপনি তা করবেন কারণ, তারা এমন বয়সে উপনীত হয়েছে, যখন আপনার দয়া তাদের খুব প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, আপনি ছোটো থাকা অবস্থায় তারা আপনার প্রতি দয়া করেছিল। আর তারা কিন্তু এসব কিছু রেকর্ডে লিখে রেখে বিল বানিয়ে আপনাকে দিয়ে বলেনি, 'দেখ, আমরা তোমার এত সেবা-যত্ন করেছি, এত ঘণ্টা তোমার পেছনে শ্রম দিয়েছি। এখন এর মূল্য পরিশোধ করো।'

না, তারা আপনাকে দয়া দেখিয়েছে; এখন আপনারও তাদের প্রতি দয়া করার সময় এসেছে।

তৃতীয় এবং সর্বশেষ পয়েন্ট হলো, আপনি যদি চান আল্লাহ আপনার প্রতি দয়া করুক, আপনি তাদের প্রতি দয়া দেখান।

আল্লাহ আমাদেরকে মাতা-পিতার সাথে সর্বোত্তম বানিয়ে দিন। আর তিনি যেন আমাদের এই আয়াতগুলো উপলব্ধি ও তদানুযায়ী জীবনযাপন করার তাওফিক দান করেন। বারাকাল্লাহু লি ওয়ালাকুম ফিল কুরআনিল হাকিম।

📘 বন্ধন পারিবারিক জীবনে আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য > 📄 বিধবা বিয়ে : ভুলে যাওয়া সুন্নাহ

📄 বিধবা বিয়ে : ভুলে যাওয়া সুন্নাহ


সূরা নুরের দুটো আয়াত নিয়ে কথা বলব এখন। আমরা শুধু বিয়ে নামক ব্যবস্থাটিকে না; সমাজে মানুষকে কীভাবে বিয়ে দেওয়া যায় সেটাও বুঝব।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার চেয়ে অলংকারময় ভাষায় আর কেউ, কখনো কথা বলেনি। অল্প কথায়, সহজভাবে তিনি বিভিন্ন বিষয় চমৎকারভাবে তুলে ধরেছেন। যে আয়াতটা নিয়ে কথা বলব, সেখানে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, কীভাবে একটা মুসলিম সমাজ ও মুসলিম পরিবার তাদের ছেলেমেয়েদের বিয়ের ব্যাপারটি নিয়ে চিন্তা করবে। বিষয়টা শুধু আপনার নিজের ছেলেমেয়েদের বিয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।

এই আয়াতগুলো যখন অবতীর্ণ হয়, তখন বহু মানুষ সবেমাত্র ইসলামে এসেছে। যে কারণে তাদের অনেকের কোনো মুসলিম পরিবার ছিল না। অনেক মেয়েদের মা-বাবা মুসলিম ছিলেন না। তারা তাকে কোনো ধরনের সহায়তা করছিলেন না। এই মানুষগুলো এখন সাহাবি। অবিবাহিত। আবার অনেকে ছিলেন যাদের বিয়ে ভেঙে গেছে। বাচ্চাকাচ্চা আছে অনেক।

সাধারণত পরিবারগুলোতে কী হয়? বাচ্চাকাচ্চা থাকে। এরা বড়ো হয়। বিয়ের বয়স হয়। তখন মা-বাবারা ছেলেমেয়ের বিয়ের কথা চিন্তা করেন।

কিন্তু একটু বড়ো পরিসরে চিন্তা করলে গোটা মুসলিম উম্মাহ একটা পরিবার।

আল্লাহর রাসূল সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে একই দেহের সাথে তুলনা করেছেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা একে নাম দিয়েছেন 'ইখওয়া'। অর্থাৎ প্রায় রক্ত সম্পর্কে ভ্রাতৃত্ব। আমরা একে অপরের ভাই। আমরা সবাই মিলে বড়ো একটা পরিবারের মতো। এজন্য আমাদের সমাজে যখন কেউ বিয়েশাদি করতে সমস্যায় পড়ে, সেটা আসলে আমাদেরই সমস্যা। এর দায়ভার সামগ্রিকভাবে আমাদের সকলের কাঁধেই বর্তায়।

যে আয়াতটা নিয়ে কথা বলছি সেটা হচ্ছে-

وَأَنْكِحُوا الْأَيَامَى مِنْكُمْ .

'তোমাদের মধ্যে অবিবাহিতদের বিয়ে দিয়ে দাও।' সূরা নূর: ৩২

আল্লাহ এভাবেই শুরু করেছেন। আরবিতে 'আয়ামা' শব্দটি নর-নারী উভয়ের জন্য প্রযোজ্য। তবে বেশির ভাগ সময় নারীদের জন্য ব্যবহৃত হয়, আর কম সময় পুরুষদের জন্য। আরবীয় সমাজে শব্দটির ব্যবহার থেকে বোঝা যায়, যেসব পুরুষেরা বিয়ের জন্য সহজে বউ পাচ্ছে না, আরবরা 'আয়ামা' শব্দটি তাদের জন্য ব্যবহার করত। কিংবা যেসব পুরুষ যেকোনো কারণেই হোক বিয়েতে রাজি হচ্ছে না, তাদের উৎসাহ দেওয়ার জন্য এই শব্দটি তারা বলত।

তবে এই শব্দটি নারীদের বেলাতেই বেশি বলা হতো। যেসব নারীদের তালাক হয়েছে, কিন্তু এখনো বিয়ে হয়নি এবং অমুসলিম পরিবার থেকে আসা মুসলিম নারীকেই 'আয়ামা' বলা হতো।

এখানে মজার একটা ব্যাপার আছে। খেয়াল করে শুনুন। আল্লাহ কিন্তু এখানে সবার আগে তালাকপ্রাপ্ত নারীদের কথা উল্লেখ করেছেন। তাদের দিকে প্রথমে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। খেয়াল করলে অবাক হয়ে যাবেন, আল্লাহর রাসূলের বেশির ভাগ স্ত্রী ছিলেন তালাকপ্রাপ্ত বা বিধবা।

অথচ মানুষ এখন এটাকেই বাঁকা চোখে দেখে। কেউ তালাকপ্রাপ্ত বা বিধবা মেয়েকে বিয়ে করার কথা বললে লোকে তাকে বলে, 'পাগল নাকি তুমি'? কী আশ্চর্য, এটাই কিন্তু আমাদের নবিজি -এর সুন্নাহ!

সূরা তাহরিমের এক জায়গায় আল্লাহ নবিপত্নীদের হুঁশিয়ার করে বলেছেন, তিনি নবিজি ﷺ-কে তাদের বদলে নতুন স্ত্রী দেবেন। সেই আয়াতে আল্লাহ প্রথমে বলেছেন, 'সায়্যিবাত', পরে 'আবকার'। 'সায়্যিবাত' মানে তালাকপ্রাপ্ত ও বিধবা অকুমারী নারী। আর 'আবকার' মানে কুমারী নারী; যাদের আগে কখনো বিয়ে হয়নি।

কুরআনে আল্লাহ যে এত চমৎকারভাবে শব্দ সাজিয়েছেন, সেটা কুরআনের মুফাসসিরগণ বেশ গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেছেন। তারা বলেছেন, যাদের আগেও এক বা একাধিকবার বিয়ে হয়েছিল, আল্লাহ এখানে তাদেরকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। কারণ, সমাজের মানুষ এদের সহজেই ভুলে যায়। পেছনে ফেলে রাখে। কিন্তু আমাদের উম্মাহতে আমরা কাউকে ছুড়ে ফেলে রাখি না।

📘 বন্ধন পারিবারিক জীবনে আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য > 📄 কীভাবে সন্তানদের নামাজের জন্য উৎসাহিত করবেন

📄 কীভাবে সন্তানদের নামাজের জন্য উৎসাহিত করবেন


আল্লাহর রাসূল দশ বছর থেকে ছেলেমেয়েদের নামাজ পড়ার জন্য শাসন করতে বলেছেন। আর সাত বছর থেকে নামাজ পড়ার অভ্যাস করাতে বলেছেন।

নয় বছর বয়স বাচ্চাদের নামাজ শুরু করার জন্য ভালো সময়। সাত বা আট বছরে হলে তো আরও ভালো। তবে বাচ্চাদের নামাজ পড়ানোর জন্য কখনো রূঢ় আচরণ করতে যাবেন না, প্লিজ।

আমার বাচ্চাগুলোর মধ্যে কেউ কেউ বেশ ভালোই নামাজ পড়ে। আবার দু-একজন একটু আলসেমি দেখায়। সে যাহোক, আমরা সবাই একসাথেই নামাজ আদায় করি। ওদের কেউ আমাকে নামাজে দাঁড়ানো দেখলেও, লেগো নিয়েই খেলতে থাকে। কিন্তু সেজন্য আমি ওদের ধমকাই না। বলি না, 'অ্যাই, এদিকে আসো। নামাজ পড়ো।' আগে এমনটা করতাম।

বিষয়টা নিয়ে আমার স্ত্রী আমাকে একবার বলল, 'তুমি কেন ওদের সাথে এমন করো?' ওর কথা শুনে ভাবলাম, অন্যভাবে বিষয়টা নিয়ে বাচ্চাদের সাথে কাজ করলে কেমন হয়।

এখন আমি ওদের সাথে লেগো নিয়ে খেলি। কথায় কথায় বলি, 'তুমি যে নামাজে ছিলে না, আমার খুব মন খারাপ লেগেছে। পরেরবার তুমি আমার সাথে নামাজ পড়বে, ঠিক আছে?' ওরা তখন বলে, 'ঠিক আছে বাবা। পরেরবার তোমার সাথে থাকব।'

দেখা যায়, পরেরবার নামাজের সময় হলে, সে নিজেই দৌড়ে এসে আমার পাশে দাঁড়ায়। উৎসাহভরে বলে, 'বাবা, আমি কিন্তু এখন তোমার পাশেই।' আমি চোখে- মুখে আনন্দ নিয়ে বলি, 'ইয়ে! চলো, এবার একসাথে নামাজ আদায় করি।'

এটি খুব আদর-ভালোবাসাময় একটি কাজ হবে। তবে এজন্য বাচ্চাদের সাথে ধৈর্য নিয়ে কাজ করতে হবে।

এমন কোনো নীতি নেই যে, বাচ্চাকাচ্চাকে ধামকি দিয়ে বলবেন, 'অ্যাই, এখন নামাজের সময়। তোমরা সব কই?' এ রকম করতে থাকলে দেখা যাবে, বাচ্চারা নামাজের সময় হলেই সোফার নিচে লুকোচ্ছে।

'বাবার জন্য দু-রাকাত নামাজ পড়ছি।' আমি চাই না বাচ্চাদের মধ্যে এমন মনমানসিকতা গড়ে উঠুক। আপনিও চাইবেন না নিশ্চই।

বাচ্চাকাচ্চাদের ভালোবাসতে হবে। উৎসাহ দিয়ে যেতে হবে। ধৈর্য ধরে রাখতে হবে। ওরা যদি কখনো না পড়ে, আলসেমি দেখায় বা তাদের মনে না চায়, তাহলে এটা স্বাভাবিক। ওরা এখনও বাচ্চা। কিশোর না। ওদেরকে সময় দিয়ে বোঝালে, ইনশাআল্লাহ একটা সময় ওদের মধ্যে নামাজের প্রতি ভালোবাসা তৈরি হবে।

নামাজ তো আসলে আল্লাহর সাথে আমাদের সম্পর্ক মজবুত করার জন্য। সম্পর্ক ভালোবেসে হয়। ভয়ে ভয়ে নয়।

আমি দুআ করি, আপনারা যেন ধৈর্যশীল বাবা-মা হন।

বাচ্চাদের কাছ থেকে আমরা নিখুঁত আচরণ আশা করতে পারি না। কীভাবে আশা করব। আমরা নিজেরাই তো নিখুঁত নই!

📘 বন্ধন পারিবারিক জীবনে আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য > 📄 স্ত্রী এবং শ্বশুর-শাশুড়ি

📄 স্ত্রী এবং শ্বশুর-শাশুড়ি


এক

কোনো এক প্রোগ্রাম শেষে একজন মহিলা আমাকে এক পাশে ডেকে নিয়ে গিয়ে তার স্বামী নিয়ে কথা বলা শুরু করল। এটি আমার শোনা সবচেয়ে খারাপ ঘটনা নয়, কিন্তু যথেষ্ট জগঝাঁপিচুড়ি পাকানো একটি ঘটনা।

সে বলেছিল, আমার স্বামী যথেষ্ট ধার্মিক। সে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে। সব সময় মসজিদে যায়। ইত্যাদি, ইত্যাদি। কিন্তু একই সাথে, সে আমাকে আমার পরিবারের সাথে দেখা করতে নিষেধ করে। আমি যখন তাদের কল করি, যখন তাদের সাথে দেখা করতে যাই, সে এটা পছন্দ করে না। আমাকে খুব কষ্ট করে লুকিয়ে লুকিয়ে আমার মাকে কল করতে হয়, দেখা করতে হয়। যদি আমার স্বামীকে না বলি যে, আমি আমার মায়ের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করি, তাহলে কি আমি গুনাহগার হব? কারণ, আমাকে তো আমার স্বামীর কথা মেনে চলতে হবে।

আমার স্বামী আমাকে বলে, স্ত্রীদের ওপর পুরুষের কর্তৃত্ব রয়েছে। তাই সে যা বলে, আমাকে তা-ই করতে হবে। সে হচ্ছে ঘরবাড়ির আমির। সে বলে, আল্লাহ ও তাঁর দ্বীন মতে, সুন্নাহ ও শরিয়া মতে, তোমাকে আমার কথা মেনে চলতে হবে; যেহেতু তুমি আমার ঘরে বাস করো। তুমি তোমার পরিবারের সাথে,

ভাই-বোনদের সাথে যোগাযোগ রাখতে পারবে না। এ ছাড়াও এগুলোর সাথে সে তার ওপর আরও শর্ত আরোপ করে, আমি চাই না তুমি ঘর থেকে বের হও। বাড়িতে থাকো এবং কোথাও যাবে না, যতক্ষণ না আমি নিজে তোমাকে নিয়ে যাই।

ঘটনাটি এ রকমই ছিল। কাজেই মহিলাটি জিজ্ঞেস করেছিল, 'আমি কি এই কারণে গুনাহগার হব?' একবার সে বাড়ির পেছনে গিয়েছিল, তার জন্যও নাকি তাকে অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়েছিল! সে হতাশ হয়ে পড়েছে। তার স্বামী সেখানেই ছিল, সে বাথরুমে বা অন্য কোথাও ছিল। আর সেই সুযোগে মহিলাটি আমাকে প্রশ্ন করতে পেরেছিল। কী অদ্ভুত!

দুই অনেক সময় মানুষ অনেক কিছুই ইসলামের নামে করে। তারা কুরআন-সুন্নাহ, শরিয়ার উদ্ধৃতি দেয়। অথচ আমলের দিক দিয়ে বিষয়টা হয় উলটো। আমার স্ত্রীর সাথে আমার যেমন সম্পর্ক আছে, আমার স্ত্রীর সাথেও তেমন তার বাবা-মায়ের, ভাই-বোনের, বান্ধবীর সম্পর্ক আছে। একটা সম্পর্কের অন্য সম্পর্কগুলো ভেঙে দেওয়ার কোনো অধিকার আমার নেই।

প্রত্যেকেরই তার নিজস্ব একটি দুনিয়া থাকে। আমরা কোনো মানুষের দাস নই। কোনো মানুষই আসলে অন্য কোনো মানুষের দাস হতে পারে না। আমরা সবাই একমাত্র আল্লাহর দাস।

আমি আমার মায়ের কাছে কিছু জিনিসের জন্য ঋণী। আমার মা আমার স্ত্রীর বিরুদ্ধে কিছু করার জন্য বলতে পারেন না। আমার স্ত্রীও আমার মায়ের বিরুদ্ধে কিছু করার জন্য বলতে পারে না! আবার আমি আমার স্ত্রীকে এমন কিছু করতে বলতে পারি না, যেটি তার বাবা-মায়ের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করবে।

সে কি আমার বাড়িঘর ছেড়ে তাদের সাথে চলে যাচ্ছে? সে তো শুধু একটি কল দিয়েছে! আমি তাকে এটি না করতে বলতে পারি না। কারণ, সে তার বাবা-মায়ের কাছে ঋণী। আর মা-বাবার খোঁজ নেওয়াটা তো আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্দেশ। এটি এমন কিছু না, যা সে নিজে থেকে করছে। এটি আল্লাহর হুকুম। তিনি বলেছেন-

بِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا. 'তোমরা মাতা-পিতার সাথে সদাচার করো।' সূরা বনি ইসরাইল: ২৩

এখানে পুরুষ ও মহিলা উভয়ের জন্য এই আদেশ। তিনি কিন্তু এটি বলেননি, পুরুষরা! সব সময় মাতা-পিতার সাথে সর্বোত্তম আচরণ করো, আর 'মহিলারা' বিয়ে পর্যন্তই। জীবনের বাকি সময় মা-বাবা শুধুই ইতিহাস। মাঝে মাঝে খোঁজ খবর নিলেই হবে। যেমন, শুধু প্রতি ঈদে! আল্লাহ আমাদের এমনটি করতে বলেননি।

অন্যভাবে বলা যায়- আপনি অন্যকে দায়দায়িত্ব পালনে নিষেধ করতে পারেন না এবং অন্যের অধিকার থেকেও তাকে বঞ্চিত করতে পারেন না। প্রত্যেকের বিশুদ্ধ বাতাসের অধিকার রয়েছে। আবার কোনো মহিলারা ব্যাপারটিকে উগ্রভাবে গ্রহণ করতে পারে। কোনো মহিলা বলতে পারে, 'দেখুন আমি উমর (রা.)-এর একটা গল্প শুনেছি। উনি রাস্তায় ঘুরতেন, তাই আমিও রাস্তায় ঘুরে বেড়াতে যাচ্ছি! আমি ক্যালিফোর্নিয়া যাচ্ছি। ওহে, স্বামী! পরে দেখা হবে!' অনেকেই এটি করতে পারেন। তাহলে এটি সম্পূর্ণই তাদের সমস্যা। এটি আরেক ধরনের মানসিক সমস্যা। আমাদের দ্বীন এমন নয়। যেমন কেউ বলল, 'আমি শুধুই বিদ্রোহী হব। কারণ, এটা হওয়ার অধিকার আমার আছে।'

পরিবার মানে এটি নয় যে, একে অন্যের কাঁধে শুধু নিয়মকানুন চাপাবেন এবং সব সময় একটি হাদিসের উদ্ধৃতি কিংবা আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে কোনো কাজ করাবেন। তাহলে কুরআন এবং সুন্নাহর বিষয়ের চেয়েও আপনার নিজের আরও গভীর সমস্যা আছে! আমাদের বৈবাহিক সম্পর্কগুলো তখন আর সুস্থ থাকে না! বিয়ে মানে হচ্ছে আলোচনা, একে অন্যকে ছাড় দেওয়া, আমার সঙ্গী সুখী কি না সেটা সব সময় খেয়াল রাখা। আর যখনই আপনার সঙ্গীকে দিয়ে কিছু করানোর জন্য রীতিমতো দ্বীনকে ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল করতে হয়, তাহলে এটা চূড়ান্ত পর্যায়ের নোংরামি। একটি সম্পর্কের ক্ষেত্রে এর চেয়ে বেশি জগাখিচুড়ি আর কিছুই চিন্তা করতে পারি না। অন্যের ওপরে জোর করে নিজের হুকুম চালানোর জন্য কুরআন এবং হাদিসের উদ্ধৃতি দেওয়া, যদিও সেটা সেখানে খাপ খায় না।

সুবহানাল্লাহ, আমার যতটুকু বলার ছিল তাকে বলেছিলাম। কিন্তু দিন শেষে সে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করবে। আমি অথবা কেউই ওই পরিস্থিতিতে সাহায্য করতে পারব না। দিন শেষে তাকেই তার স্বামীর সাথে সরাসরি এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। হতে পারে আমার কথাগুলো কাজে লেগেছে। কমপক্ষে আমি মনে করি খোলাখুলি আলাপ-আলোচনা হওয়া জরুরি। আর যখন মানুষ ধর্মের অপব্যবহার করে, তাহলে সেটা তুলে ধরা উচিত। আপনারা জানেন, এ রকম ঘটনা দেখে আমার দুঃখ হয়। কিন্তু ইনশাআল্লাহ, দিন দিন পরিস্থিতি ভালো হচ্ছে। কমপক্ষে মানুষ আমার কাছে আসার মতো সাহস পাচ্ছে। আমি এই সাহসের তারিফ করছি। বাড়ির সমস্যা নিয়ে আসা এবং কথা বলা একটি অনেক বড়ো সাহসের ব্যাপার।

আমি দুআ করি, সবাই যেন এটা থেকে উপকৃত হয়। কারণ, তার যথেষ্ট সাহস ছিল আমার কাছে আসার এবং প্রশ্ন জিজ্ঞেস করার। পরবর্তী সময়ে আবার দেখা হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00