📄 সুখী দাম্পত্য জীবনের জন্য
وَمِنْ اٰيٰتِهٖٓ اَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِّنْ اَنْفُسِكُمْ اَزْوَاجًا لِّتَسْكُنُوْٓا اِلَيْهَا وَ جَعَلَ بَيْنَكُمْ مَّوَدَّةً وَّرَحْمَةً ۗ اِنَّ فِيْ ذٰلِكَ لَاٰيٰتٍ لِّقَوْمٍ يَّتَفَكَّرُوْنَ
‘তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে আরেকটি হলো : তোমাদের জন্য তোমাদের নিজেদের থেকেই সৃষ্টি করেছেন, যাতে তাদের মাঝে তোমরা শান্তি খুঁজে পাও এবং তিনি তোমাদের পরস্পরের মাঝে তৈরি করেছেন সম্প্রীতি ও দয়া। চিন্তাশীল লোকদের জন্য অবশ্যই এর মাঝে নিদর্শন আছে।’ সূরা আর-রুম : ২১
কুরআনের সবগুলো আয়াতই সুন্দর। তবে এটা যেন এক কাঠি বেশিই সুন্দর। বিবাহিতরা এই আয়াতের প্রয়োগ খুব বেশি করে খুঁজে পাবেন।
আল্লাহ তায়ালা বললেন, তিনি আপনাদের মধ্যে অর্থাৎ স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ‘মাওয়াদা’ তথা প্রগাঢ় ভালোবাসা এবং ‘ওয়া রাহমা’ তথা দয়া-মায়া দান করেছেন। কারণ, বিয়ের প্রথম দিকে ভালোবাসা প্রগাঢ় থাকে। আপনি আপনার স্ত্রীকে নিয়ে মুগ্ধ থাকেন। তখন আপনি অন্য কিছুর কথা আর চিন্তা করতে পারেন না। আপনার বন্ধুরা যখন আপনাকে কল দেয়, তারা সরাসরি ভয়েস মেইল-এ যায়। আপনি সদ্য বিবাহিত। ছ মাস ধরে আপনাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না!
বিয়ের বয়স যত বাড়ে, আপনাদের বিবাহিত জীবন তখন কীসে চাঙা রাখে? এটা কি আগের মতো থাকে? না; বরং তখন অন্যান্য দায়িত্ব নিতে হয়, বাচ্চা হয়। কাজের ব্যস্ততার কারণে সম্পর্ক আর মধুর থাকে না। তাহলে কীভাবে আপনার দাম্পত্য জীবন বজায় রাখবেন? দুজনের প্রতি দুজনার অনুগ্রহ থাকতে হবে। একে অপরকে সম্মান প্রদর্শন করতে হবে।
একবার উমর (রা.)-এর কাছে এক লোক এলো। সে বলল, 'আমি আমার স্ত্রীকে তালাক দিতে চাই।'
তিনি বললেন, 'তুমি তোমার স্ত্রীকে তালাক দিতে চাও কেন?'
কারণ, 'তাকে আর আকর্ষিত মনে হয় না, তাই আমি আর তাকে ভালোবাসি না।' উমর (রা.) বললেন, 'সৌজন্যতার কী অবস্থা তোমার? স্ত্রীর প্রতি উদারতার কী হলো? সে কি তোমার সন্তানদের রক্ষণাবেক্ষণ করছে না? সে কি তোমার দেখভাল করছে না?'
কোনো কিছু দেখাশোনার বেলায় আমরা পুরুষরা খুবই কঠিন প্রাণী। আমাদের স্ত্রীরা সব সময়ই আমাদের দেখাশোনা করে। যদিও তারা মাঝে মাঝে কিছু কথা শোনায়, কিন্তু দিন শেষে তারাই আমাদের দেখাশোনা করে। ঠিক তাই স্ত্রীদের যখন আমাদের কাছে আর খুব ভালো না লাগে, তখন আমরা এটা বলতে পারি না যে, সে তো আর আগের মতো নেই।
আগে যখন আমি আমার দৃষ্টি নিয়ন্ত্রণ করতাম না এবং প্রচুর টিভি দেখতাম, তাই টিভির মেয়েদের মতো কিছু আশা করছিলাম। যদি এমনটা হয়ে থাকে তবে এটা কোনোভাবেই সুস্থ আচরণ হতে পারে না। যদি বিশ্বাসীরা তাদের দৃষ্টি নিয়ন্ত্রণ করে, কুকর্মে প্ররোচনা নিয়ন্ত্রণ করে এবং তাদের স্ত্রীদের সাথে যথাসাধ্য সদ্ব্যবহার করে, তাহলে তারা সবচেয়ে বেশি পরিতৃপ্ত হবে। আর তারা বাইরের কোনো প্ররোচনায় লিপ্ত হবে না।
সাথে সাথে বোনদেরকেও এটা বুঝতে হবে যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা পুরুষ এবং নারীদেরকে আলাদাভাবে সৃষ্টি করেছেন। পুরুষদের বড়ো দুর্বলতা হচ্ছে নারী। তারা ধনী হতে পারে, গরিব হতে পারে, স্বাস্থ্যবান হতে পারে, হতে পারে হাড্ডিসার, মোটা অথবা লম্বা, যেকোনো সংস্কৃতি বা ভাষাভাষী হোক না কেন, সবার ভেতরে একই ধরনের দুর্বলতা কাজ করে।
আর তা হলো নারীদের প্রতি দুর্বলতা। আল্লাহ তায়ালা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই পুরুষদের এই দুর্বলতার ব্যাপারে নারীদেরকে অন্যমনস্ক করেছেন। তারা বুঝতে পারে না এটা কত নিকৃষ্ট। কাজেই যখন মহিলারা দৃষ্টি নত রাখার আয়াতটি পড়ে, তখন তারা অনায়াসেই বলে- 'ও এটা আমি সহজেই করতে পারব, আর তারা বুঝতে পারে না, পুরুষরা কেন সহজে তাদের দৃষ্টি নত রাখতে পারে না! তারা বলে- 'আমি বুঝি না! তোমারও চোখ আছে আমারও আছে, তাদেরও রেটিনা আছে, কাজেই সমস্যাটা কোথায়?' তারা ঠিক ধরতে পারে না।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আমাদের ভেতরে যে আকুল আকাঙ্ক্ষার ক্ষমতা দিয়েছেন এবং এক নম্বর আকাঙ্ক্ষা হিসেবে উল্লেখ করেছেন তা হলো- 'মানুষের কাছে সুশোভিত করা হয়েছে নারী।' সূরা আল-ইমরান: ১৪
প্রবৃত্তির মধ্যে এটা প্রথম। পুরুষদের জন্য অলংকৃত করা হয়েছে নারীদের কামনাকে। নারীদের ব্যাপারে নবিজি এক নম্বর ফিতনা হিসেবে তাঁর উম্মতদের ব্যাপারে ভয় করেছেন। কারণ, এটি একটি জটিল সমস্যা। স্ত্রীরা এটি বুঝলে স্বামীদেরকে নিন্দা করার বদলে তারা গ্রহণ করে নেবে যে, এভাবেই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন।
কোনো কোনো ক্ষেত্রে স্বামীদেরকে 'লাইনে' রাখতে স্ত্রী চমৎকার ভূমিকা পালন করতে পারেন। তারা বকুনি না দিয়ে বাইরে স্বামীদের কুকর্মে প্ররোচনা দমন করতে পারেন। স্বামী অফিসে যায় অথবা ট্রেনে যায়। ওসব জায়গায় কিছু মেয়ে থাকে যাদের জামাকাপড় অপ্রীতিকর। এরা এভাবেই নিজেদের সম্মানিত মনে করে। তারা তাদের বুদ্ধিবৃত্তির জন্য সম্মানিত হন না, তাদের মতামতের জন্য সম্মানিত হন না। তারা মনে করেন, যদি পুরুষরা আমাদের শরীর বেশি দেখে, তাহলে আমরা বেশি সম্মানিত হব! তাই তারা অশ্লীল জামাকাপড় পরে ফ্যাশন করে। যখন কোনো পুরুষ তাদের দেখে, তারা এক ধরনের আত্মমর্যাদা অনুভব করে যে, আমার মূল্য অনেক। মানুষ আমার দিকে তাকিয়ে থাকে। এটা ভয়ংকর ও দুঃখজনক।
যখন আপনি অফিসে যান, আপনার সেক্রেটারি আপনার দিকে তাকিয়ে হাসি দেয়। আপনি জিজ্ঞেস করেন, কেমন আছেন আপনি? দিনটি কেমন কাটছে? দুপুরে লাঞ্চ কী খাচ্ছেন? অথবা আপনি কি রোজা? ও, খুব ভালো।
তারা আপনার দিকে তাকিয়ে হাসি দেয়। ঠিক বিজ্ঞাপনের নারীদের মতো। কাজ শেষে আপনি বাড়ি যান। দরজা খুলেই স্ত্রী জেরা শুরু করে!
'কোথায় ছিলে?' 'বাস দেরি করেছে!' 'প্রতিদিনই কি বাস দেরি করে? ও বুঝতে পেরেছি!'
এভাবে প্রতিদিনই এ রকম ভ্রুকুটি চলতে থাকে। প্রথম দিন এটা ঠিক আছে, দ্বিতীয় দিনও ঠিক আছে কিন্তু এ রকম দশ বছর, বারো বছর চলতে থাকলে কী হবে?
মুখে হয়তো বলছে না, কিন্তু স্ত্রীর ওপর স্বামীর বিরক্তিভাব চলে আসে। তার ভেতরে খিটখিটে ভাব তৈরি হতে থাকে। ইসলাম এ ব্যাপারে সহজ সমাধান দিয়েছে। যখন স্বামী ঘরে ঢুকে, তখন যেন স্ত্রী তার দিকে তাকিয়ে হাসি দেয়। এটা অনেক বিশাল কিছু। অবহেলা করার ব্যাপার না।
স্বামী ঘরে ঢুকল, কিন্তু স্ত্রী তার প্রতি কোনো খেয়ালই করল না! স্বামীর জন্য এ যেন ছুরিকাঘাতের মতো। স্বামী খুবই বিক্ষুব্ধ হয়, সে হয়তো মুখে কিছুই বলে না। কিন্তু এটা সত্যি সত্যিই স্বামীদের অনেক কষ্ট দেয়। সম্পর্কের ক্ষতি করে। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা নিয়ে আসে। তারা বিপর্যস্ত হয়ে রাতের খাবার খেতে বসে বলে, ঠিকমতো লবণ হয়নি। কী যেন ঠিকমতো হয়নি! সন্তানদের প্রতি মাত্রাতিরিক্ত রাগ দেখাচ্ছে। তারা হতাশ।
কিন্তু একই পরিস্থিতিতে যদি স্ত্রী দরজা খুলে তার স্বামীকে শুধু একটু হাসি দিয়ে অভ্যর্থনা জানায়, শুধু একটু হাসি, এটা দামি কিছু না! তাতে কী হবে? বাকি রাত খুব সুন্দরভাবে পার হবে। স্বামী খুব ফুরফুরে মেজাজে থাকবে। সুন্দরভাবে স্ত্রীর সাথে কথা বলবে। সে এটা বলবে না, 'আমি এখন কথা বলতে পারব না! আমার মাথা ধরেছে!' সে কি এটা বলবে? কোথা থেকে এই ভালো কিছু শুরু হয়? শুধু স্ত্রীর ছোট্ট একটা কাজ, একটু হাসি। এগুলো সহজ সমাধান, কিন্তু অত্যন্ত কার্যকর সমাধান।
যদি আপনি এই সমাধানগুলোর প্রতি যত্নবান না হন, একসময় ক্ষোভ জমা হতে হতে আপনি ওই অবস্থায় চলে যান, যখন স্বামী আর স্ত্রীর দিকে তাকিয়েও দেখে না। তাকে শুধুই বিরক্তিকর মনে হয়। সে শুধুই এ রকম, ও রকম। কাজেই দুজনকেই বুঝতে হবে যে, তাদেরকে একে অপরের প্রতি যত্নবান হতে হবে। অপরজনের কাছ থেকে শুধু আশা করে যাবেন না। তাদের জন্যও আপনি কিছু করুন, যত্নবান হোন।
আমি ব্যক্তিগতভাবে অনুভব করি না যে, মুসলিম পরিবারগুলো যথেষ্ট পরিণত। সাধারণত, তারা ইসলামের বাণীগুলোকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে। স্বামী হয়তো বলে- 'তুমি জানো, যারা রাতের বেলা স্বামীর চাহিদার প্রতি লক্ষ্য করে না, মহানবি ওই স্ত্রীদের সম্পর্কে কি বলেছেন? তিনি বলেছেন, ... তোমার নিজের প্রতি লজ্জা হওয়া উচিত।' আপনি কি মনে করেন, সে এখন সত্যিই আপনার চাহিদার প্রতি লক্ষ্য রাখবে? এটা কোনো প্রতিযোগিতা নয়! স্বামী হয়তো বলে, 'তোমার সাহাবিদের মতো হওয়া উচিত।' তখন স্ত্রীও বলবে, 'তুমি নিজেও তো সাহাবি নও!' এ রকম পরিস্থিতি হতে পারে! তাই আপনি যদি এটি নিয়ে প্রতিযোগিতা তৈরি করেন, আপনি নারীদের কখনো হারাতে পারবেন না। আপনার মা, বোন, স্ত্রী কাউকেই যুক্তিতর্কে হারাতে পারবেন না। কারণ, তারা এমন কিছু আপনার সামনে নিয়ে আসবে যা আপনি চিন্তাই করতে পারেন না! আল্লাহ তাদের মধ্যে এটি দিয়েছেন। তাদের কথা বলার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, মনস্তাত্ত্বিক কথা, যুক্তিতে কার্যকর বক্তব্য। কাজেই আপনাকে এসব পরিচালনা করতে শিখতে হবে।
স্বামী এবং স্ত্রীর মধ্যে মধুর সম্পর্কের জন্য আরেকটি উপদেশ হচ্ছে, যুক্তিপ্রদর্শন। পুরুষরা মনে করে, সবকিছুই যুক্তিপ্রদর্শন এবং যৌক্তিক প্রমাণের মাধ্যমে সমাধান করা যায়। ঠিক? তারা ভুলে যান যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা নারীদেরকে সহজ সাদা-সিধে ফ্যাশনে তৈরি করেননি। নারীরা জটিল সৃষ্টি। যখন আপনি বিয়ে করেন, আপনি হয়তো কোনো একদিন দেখবেন, আপনার স্ত্রী কাঁদছে। আপনি তাঁকে জিজ্ঞেস করবেন, তুমি কাঁদছ কেন? সে বলবে, 'আমি জানি না। আমি তোমার সাথে পরে এটি নিয়ে কথা বলব'। মাঝে মাঝে তারা আসলেই কিছু জানে না। আর যদি তারা সেটা জানেও, তাহলে আপনার জন্য সেটা বোঝা অত্যন্ত জটিল হবে। তাই তারা বলে, 'তুমি বুঝবে না!' ঠিক বলেছি কি?
আপনি তাদেরকে যুক্তি দেখাবেন, কারণ দেখাবেন- যে কাজের জন্য তারা অসন্তুষ্ট হয়েছে সে কাজটি কেন করেছেন। তারা বলবে- 'ঠিক আছে! তাহলে তুমি আমার চেয়ে বেশি বোঝো। পরেরবার আমি তোমার সাথে তর্ক করব না। কারণ, তুমি খুবই যুক্তিবাদী, ঠিক?' তাদের অনুভূতিতে আঘাত পাবে। যুক্তিতর্কে কে হারল? আপনি হেরেছেন। কেননা, আপনি তাদেরকে কারণ দেখিয়েছেন। আপনার স্ত্রী ও মায়ের কাছে কোনো বিষয়
তুলে ধরার সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে, আমাদের মহানবি -এর সুন্নাহ। এক. অনুগ্রহ। দুই. নীরবতা।
একজন বিশ্বাসী ভালো স্ত্রীর জন্য নীরবতা অসম্ভব কার্যকর! যদি স্বামী নীরব থাকে- সে জিজ্ঞেস করবে, কী ব্যাপার আমি কি কিছু করেছি? আর যদি স্বামী কিছু বলে, তাহলে আপনার চেয়ে আপনার স্ত্রী অনেক ভালো বলতে পারেন। সে আরও ভালো ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে আসবে, যেটা আপনি হয়তো কল্পনাও করতে পারেননি। পক্ষান্তরে, আপনি যদি নীরব থাকেন আর যদি এক আউন্স পরিমাণ ভালো কিছু তার মধ্যে থেকে থাকে, সে আপনার কাছে আসবে। বলবে, যদিও আমি মনে করি এটা আমার দোষ না, তারপরেও বলছি এটা আমার দোষ। আমি দুঃখিত।
কিন্তু স্বামীকে এই নীরব থাকার কৌশল শিখতে হবে। ভ্রুকুটিপূর্ণ নীরবতা নয়, যেটা আপনার স্ত্রীকে দূরে ঠেলে দেয়। শুধু একটু বেশি দুঃখভারাক্রান্ত নিষ্পাপ চাহনি, এখানে-সেখানে। এভাবে দেখুন আপনার মায়ের সাথে কাজ হচ্ছে কি না। তারপর ইনশাআল্লাহ আপনার স্ত্রীর সাথেও কাজ করবে।
রাসূল তাঁর স্ত্রীদের সাথে চিৎকার-চেঁচামেচি করতে পারতেন। তিনি কঠোর কথা বলতে পারতেন। কিন্তু তিনি বলেননি। কারণ, এই সম্পর্কগুলো এত নাজুক যে, শয়তান এই সম্পর্কগুলো নষ্ট করে দেওয়ার জন্য প্রত্যেকটি সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করে। যখনই শয়তান এই সম্পর্কগুলো ভেঙে দিতে সমর্থ হয়, তখনই মুসলিম সমাজে অধঃপতন শুরু হয়। পুরুষরা আর তাদের দৃষ্টি নত রাখে না। একের পর এক অন্যান্য খারাপ জিনিস হতে থাকে। স্ক্যান্ডাল বিস্তার করতে থাকে। খারাপ দাম্পত্য জীবন থেকে এগুলো এভাবেই বিস্তার লাভ করে। মুসলিম সমাজে যত বড়ো বড়ো দুঃখজনক ঘটনা ঘটে, সেগুলো নিয়ে মানুষ কথা বলতে চায় না। কারণ, সেগুলো শুনতে ন্যক্কারজনক। এগুলো কোথা থেকে শুরু হয়? স্বামী-স্ত্রীর খেয়াল রাখে না, আর স্ত্রী স্বামীর খেয়াল রাখে না- এখান থেকেই শুরু হয়।
তাই একজন বিশ্বাসী হিসেবে আমাদের হৃদয় এবং আমাদের ঈমানকে দৃঢ় করতে স্বামী-স্ত্রী একে অপরের প্রতি যত্নবান হতে হবে।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আমাদের শ্রেষ্ঠ স্বামী, শ্রেষ্ঠ স্ত্রী বানিয়ে দিন।
📄 সবার আগে পরিবার
নবিজি-কে সূরা আশ শুআরার শেষে বলা হয়েছিল- وَانْذِرُ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ ، وَاخْفِضْ جَنَاحَكَ لِمَنِ اتَّبَعَكَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ. '(ও মুহাম্মদ) আপনার সবচেয়ে কাছের পরিবারের সদস্যদের সতর্ক করে দিন। এবং মুমিনদের মধ্য হতে যারা আপনার অনুসরণ করে তাদের প্রতি সদয় হোন।' সূরা শুআরা: ২১৫
মহানবি-এর পরিবারের জন্য অনেক উদ্বেগ এবং অগ্রাধিকার ছিল। আর তিনি নিশ্চয়তা প্রদান করতেন, যাতে করে তারা ইসলামের বার্তা ঠিকমতো পান। এখন পরিবারে ইসলামের বার্তা পৌঁছানোর কথা বলার আগে, আমাদেরকে পরিবারের সদস্যদের সাথে সুসম্পর্কের কথা বলতে হবে। অনেক সময় আমাদের পরিবারের মধ্যে যোগাযোগের অবস্থা খুবই খারাপ থাকে। আমরা ভালো শ্রোতা নই। তাদের অবস্থান থেকে তাদের কথা বোঝার মতো সংবেদনশীলতা আমাদের থাকে না। এটা স্বামী-স্ত্রীর ক্ষেত্রে ঘটতে পারে, পিতা-মাতা সন্তানের মধ্যে, সন্তানদের মধ্যেও হতে পারে। অনেক সময় আমরা একে অপরকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কথা বলি। কারণ, আমরা একটি পরিবার। আমাদের যেভাবেই হোক এটা করতে হয়। কারণ, আমরা একে অপরকে ভালোভাবে চিনি। এত ভালোভাবে চিনি যে, অনেক সময় একে অপরকে পীড়াদায়ক কথা বলে থাকি এবং আস্তে আস্তে এটাই নিয়ম হয়ে যায়।
তাই যখন কেউ পীড়াদায়ক কথা বলে, তখন আমরাও এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে একই রকম অথবা এর চেয়েও বেশি জঘন্য কথা বলে থাকি। সময়ের সাথে সাথে পরিবারের মানুষদের মধ্যে, এগুলো খুবই কুৎসিত সম্পর্ক তৈরি করে। এমনটা হতে পারে ভাই-বোনদের মাঝে পিতা-মাতা-সন্তানের মাঝে এবং স্বামী-স্ত্রীর মাঝে। তাই মাঝে মাঝে আমাদের পর্যালোচনা ও চিন্তা করতে হবে যে, আমাদের জীবনে সবচেয়ে অগ্রাধিকার কোন জিনিসটি এবং আপনি কেমন মানুষ সেটা নির্ভর করবে আপনার সাথে আপনার পরিবারের সম্পর্ক কেমন, কাছের মানুষগুলোর সাথে সম্পর্ক কেমন তার ওপর। আপনি জানেন, আপনার এবং আমার সাথে আমাদের নিয়োগকর্তার, বন্ধু এবং সমাজের মানুষদের সম্পর্ক রয়েছে। আমরা পেশাগত কারণে এবং সামাজিক কারণে মানুষদের চিনি। কিন্তু তারা আমাদের সম্পর্কে খুব কমই জানেন। তারাই আমাদের সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জানেন, যাদের সাথে আমরা সবচেয়ে বেশি সময় ব্যয় করি। তারা আমাদের জীবনে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত। আর তারা হচ্ছে আমাদের 'পরিবার'।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে এটাই হচ্ছে আমাদের সবচেয়ে কুৎসিত দিক। এটা আমাদের সবচেয়ে হীনমন্যতা, সবচেয়ে অসংবেদনশীল, সবচেয়ে অবজ্ঞাপূর্ণ এবং সবচেয়ে নীচু দিক। আর তাই যদি এক পা পিছিয়ে যান এবং নিজেকে প্রশ্ন করেন, আমি কী হয়েছি, আমি কেমন ধরনের মানুষ, যে কারণে আমার মায়ের সাথে আমার সুসম্পর্ক নেই! আমার বাবার সাথে আমি স্বাভাবিক কথোপকথন চালাতে পারি না! আমি আমার স্ত্রীর সাথে কথা বলি না। আর যদিও বলি, শুধু জিজ্ঞেস করি, চাবি কোথায়, মোবাইলটা কোথায়, ওই চিঠিটা কোথায় পাঠিয়েছ ঠিক এমন ধরনের ভাসাভাসা কথোপকথন। আর যখন সে কথা বলে, আপনি হয়তো তার কথাই শোনেন না! আপনি শুধু বলেন, 'ও, হ্যাঁ, অবশ্যই, আচ্ছা এসব কথা। যেন অবজ্ঞা করছেন! আর এটা সে জানে। যখন সে সব সময় তার বন্ধুদের সাথে কথা বলে, তখন আপনি আশ্চর্য হন। বলেন, সে আপনার সাথে কখনো কথাই বলে না! এরপর আপনি যখন কথা বলেন, তখন হয়তো সে এর কোনো উত্তর দেয় না। কারণ, সে জানে আপনি তার কথা শুনছেন না এবং বুঝতেও চেষ্টা করছেন না। আর এটা আস্তে আস্তে দুপক্ষ থেকেই শুরু হয়। স্বামী স্ত্রীর সাথে, স্ত্রী স্বামীর সাথে এ রকম করে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য দুজনের মধ্যে কোনো একজনকে অবশ্যই এগিয়ে আসতে হবে। খুব ভালোভাবে চিন্তা করতে হবে যে, আমরা দুজনেই কেমন যেন হয়ে গেছি!
আর এইটা শুধু অধার্মিক লোকদের ক্ষেত্রেই হচ্ছে না, সবার ক্ষেত্রেই হচ্ছে। যখন পরিবারের মাঝে এসব সম্পর্ক বিরাজ করে, তখন আমাদের কাছে ধর্ম কোনো ব্যাপারই না; শুধুই একটি ব্যক্তিগত ব্যাপার। পুরুষদের সম্পর্কে একটু বলি! আমরা বিশেষ করে পুরুষরা প্রকৃতিগতভাবেই আবেগগুলোকে অসম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করি। আমাদের পরিবারের মহিলাদের মতো আমরা প্রকৃতিগতভাবেই সংবেদনশীল নই। আমরা (পুরুষরা) মনে করি, আমরা যা করি তা বাসায় কোনো আবেগপূর্ণ প্রভাব ফেলবে না। আপনি বাসায় যান আর ইউটিউব দেখা শুরু করেন। খবর দেখা শুরু করেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা কম্পিউটারের সামনে বসে থাকেন অথবা বন্ধু বা অন্য কারও সাথে ফোনে কথা বলেন। আপনি এর মধ্যে কোনো ভুলই খুঁজে পান না! আপনার পরিবার মনে করছে আপনি তাদের অবজ্ঞা করছেন। আপনি তাদের প্রতি যত্নবান হচ্ছেন না! আপনি শুধু আপনার কাজই করে যাচ্ছেন। আপনি তাদের কোনো সময়ই দেন না! নিজেকে পরিবর্তন করতে হলে অবশ্যই অন্যের দিকটা ভাবতে হবে। আপনার স্ত্রীর দিক, ছেলেমেয়ের দিক এবং মাতা-পিতার দিকটা ভাবতে হবে। আপনাকে তাদের অবস্থান থেকে সবকিছু দেখার চেষ্টা করতে হবে, যা প্রকৃতিগতভাবে আসে না এবং যা আমাদের জন্য সহজ নয়। আর তারপর আপনার পরিবারের কাছে আপনাকে ক্ষমা চাইতে হবে এই বলে যে, 'আমি কিছু একটা ভুল করেছি।' আমি জানি, আপনি তাদের হাজারটা ভুলের কথা বলতে পারেন। কিন্তু এটি আপনাকেই শুরু করতে হবে কারণ, আপনি বাড়ির কর্তা। আর এই কাজটি অনেক কঠিন। যখন আপনি এসব জিনিস সামনে নিয়ে আসবেন আর বলবেন, 'দেখ! আমি জানি, আমি তোমাদের এড়িয়ে চলেছি। অবজ্ঞা করেছি। আর এটা করা আমার একদমই উচিত হয়নি। আমি একজন ভালো শ্রোতা হওয়ার চেষ্টা করব।' এর ফলে আপনি অনেক সমাদরপূর্ণ কথা এবং উত্তর পাবেন। কারণ, তারা কখনোই আশা করেনি তাদেরকে আপনি এসব কথা বলবেন। আর তারা বলবে, 'যাক শেষ পর্যন্ত স্বীকার করেছ তাহলে! তোমার কোনো ধারণাই নেই তুমি কত খারাপ।'
যখন আপনি এ রকম আত্মরক্ষামূলক হবেন, প্রথম যে জিনিসটা ঘটে, আপনি প্রকৃতিগতভাবেই আত্মরক্ষামূলক হয়ে যাবেন। আর এটাই সে সময়, যে সময় আপনি আত্মরক্ষামূলক হওয়ার জন্য অনুমোদিত নন। আর এটাই আপনি সব সময় করে আসছেন। আত্মরক্ষামূলক হবেন না। শুধু সমস্যাটা ধরুন এবং তা সমাধান করুন। আপনি চেষ্টা করবেন, তর্ক করা বা জেতা আপনার কাজ নয়।
দিন শেষে ওপরের দিকে থাকা আপনার কাজ নয়। আপনার কাজ হচ্ছে একটি ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলা। আপনার স্ত্রীর সঙ্গে একটি ভালো বন্ধুত্ব গড়ে তোলা। পিতা-মাতার সাথে একটা সত্যিকারের অর্থবহ সম্পর্ক গড়ে তোলা। ছেলেমেয়ের সাথে একটা সুস্থ সম্পর্ক গড়ে তোলা। এটাই প্রথম কাজ। মাঝে মাঝে আপনি জানেন, আপনাদের মধ্যে কেউ কেউ, যারা ধার্মিকভাবে মনোভাব পরিবর্তনের কারণে বা যারা অন্য ধরনের মানুষ ছিল এবং পরে ধার্মিক হয়েছে। কিন্তু তাদের পরিবার ওইরকম ধার্মিক নয় বলে তারা তাদের সাথে পীড়াদায়ক কথোপকথন করেছে। তাদের গলার ওপর জোরপূর্বক ইসলাম চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে।
মহানবি তাঁর পরিবারকে ইসলামে আনতে পেরেছিলেন। কারণ, তাঁকে স্বয়ং আল্লাহ তায়ালাই হুকুম করেছিলেন। তা ছাড়াও সম্ভব হয়েছিল কেননা, তিনি তাঁর পরিবারের কাছে সর্বোত্তম ছিলেন। তাঁর সাথে পরিবারের সেই সম্পর্ক ছিল, যাতে তিনি তাঁদের গড়তে পারেন এবং সাবধান করতে পারেন। যদি আপনার সাথে পরিবারের এ রকম সম্পর্ক না থাকে, যদি পরিবারের সাথে আপনার সুস্থ সম্পর্ক না, থাকে তাহলে আপনি যা বলবেন সেটি হতে পারে ইসলামের কোনো বার্তা; তাঁর কোনো ওজনই থাকবে না। আপনি যাই বলবেন, অন্যান্য জিনিসের মতো ইসলামের বার্তাকেও তারা অবহেলা করবে। তাই খুব ভালোভাবে এবং গভীরভাবে চিন্তা করে দেখুন- এসব লেকচার, কথা যা কিছু আপনি শুনছেন, উপদেশ নিচ্ছেন- এগুলো কীভাবে আমাকে মানুষ হিসেবে পরিবর্তন করছে।
সেইসাথে আপনাকে পরিবর্তনের সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে, কীভাবে আপনি আপনার কাছের সম্পর্কগুলো পরিবর্তন করছেন। আপনি আপনার কাছের মানুষগুলোর প্রতি কতটা সংবেদনশীল। কারণ, আপনি মানুষ হিসেবে কেমন, দিন শেষে এটিই হচ্ছে বেশ ভালো একটি প্রতিফলন এবং খুব ভালো একটি চিহ্ন, আপনি কোথায় দাঁড়িয়ে আছেন! আপনি জানেন, ক্যামেরার সামনে অচেনা লোকদের সাথে কথা বলা সহজ। এটি সহজ কাজ। কঠিন কাজ হচ্ছে, ক্যামেরা বন্ধ থাকলে মানুষের সাথে ভালোভাবে কথা বলা। আপনার ওপর যখন আপনার আশেপাশের মানুষদের কিছু আশা থাকে, আর তাদের প্রতি আপনারও কিছু আশা থাকে, তখন আপনাকে তাদের সাথে খুব কাছ থেকে ও ঘনিষ্ঠভাবে লেনদেন করতে হয়।
তাই আমি দুআ করছি, যাতে আমরা আমাদের কাছের মানুষগুলোর সাথে পারস্পরিক উন্মুক্ত এবং সম্মান নিয়ে কথা বলে, পারস্পরিক সহনীয় ও একে অপরের সাথে সুন্দরভাবে কথা বলে, একে অপরের প্রশংসা করে এবং সুস্থ, স্বাভাবিক ও সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে পারি।
আমি এই আলোচনায় ওই প্রশংসা করার কথা বলছি না। আমি শুধু বলছি, সুস্থ কথোপকথনের অংশ হচ্ছে, অন্যের কথা ভুল হলে অভিযোগ না করা, যা তাঁর অনুভূতিতে আঘাত হানে। অন্যরা যা ভালো কিছু করেছে তা তুলে ধরা। কেউ একজন সঠিক কিছু করেছে তাঁর প্রশংসা করা। আপনি আসলেই তাঁর কাজটা উপভোগ করেছেন, পছন্দ করেছেন অথবা তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ হয়েছেন। এসব জিনিসের প্রশংসা করলে আপনার পরিবারের নিয়ম ভঙ্গ হবে না।
আপনার অনুভূতি কেমন হচ্ছে এটা কেউ জানছে না। তারা জানছে না আপনার অনুভূতি, তাদের অনুভূতি কেমন হচ্ছে এটাও আপনি জানছেন না! আমাদেরই কথা বলতে হবে। আমাদের এই অনুভূতিগুলো প্রকাশ করতে পারার মতো মানুষ হতে হবে। পরিশেষে আমি আপনাদের বলি, আমাদের মধ্যে অনেকেই এশিয়ান, আরব, আফ্রিকান পারিপার্শ্বিক অবস্থা থেকে এসেছি। যেখানে পরিবার কাঠামোর কিছু আনুষ্ঠানিকতা থাকে। তাই উন্মুক্তভাবে এবং আবেগীয় দিক থেকে নিজেদের প্রকাশ করা খুব কঠিন। কারণ, আমাদের মাঝে এই ধরনের কিছু আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক বিরাজ করে। এসব সুসম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আপনাকে এই প্রাচীর অতিক্রম করতে হবে। সীমা অতিক্রম করতে হবে। আপনাকে উন্মুক্তভাবে যোগাযোগ করতে হবে এবং সম্মানের সাথে সর্বোপরি খোলামেলাভাবে কথোপকথন করতে হবে। কখনোই বা কোনোভাবেই মনে করবেন না যে, অন্যের অনুভূতি কেমন হচ্ছে আপনি তা জানেন! তাদেরকে তাদের মনের আবেগ প্রকাশ করতে দিন। ইনশাআল্লাহ; আমরা সবাই এই ধরনের পরিবেশ তৈরি করতে পারব, যাতে আমাদের বাড়িতে সবাই আরামদায়কভাবে কথা বলতে পারে।
আমি ইয়াকুব (আ.)-এর কথা মনে করিয়ে দিতে চাই, কীভাবে তিনি ইউসুফ (আ.)-কে তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করতে সহজ করে দিয়েছেন, যাতে তিনি তাঁকে তাঁর স্বপ্নের কথাও বলতে পারে। কোন বাচ্চাটি চিন্তা করবে যে, আমার স্বপ্নের কথা আমার বাবাকে বলব। খেলার মাঠে কিছু একটা হয়েছে, যেটা আমি আমার বাবাকে বলব! আসলে আমি আমার বাবাকে বলব না, প্রথমে আমি আমার মাকে বলব। তিনি কী মহৎ বাবা!
তিনি তাঁর বাচ্চাকে অনুভূতি প্রকাশের জন্য এতই সহজ করে দিয়েছেন যে, ছেলেটা একটা অপছন্দের স্বপ্ন দেখেছে এবং সে সেই স্বপ্নের কথাও তাঁর বাবাকে বলছে। আর তাঁর বাবা ছেলেকে বলছে, 'আহ! তুমি কাল রাতে খারাপ খাবার খেয়েছ। এটা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ো না।' বাবা তাঁর ছেলেকে আশ্বস্ত করল।
অথবা সে ভালো কোনো মন্তব্য করল যে, এটা অবিশ্বাস্য! তোমার সামনে অনেক সুন্দর একটি ভবিষ্যৎ আছে। একটি স্বপ্ন দেখার পর আপনি কেন আপনার বাচ্চাকে বলবেন, তোমার সামনে একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ, আল্লাহ যেন তোমাকে সাহায্য করেন। কারণ, একজন সংবেদনশীল বাবা হিসেবে তিনি জানেন, একটা বাচ্চার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে, নিশ্চিন্ত হওয়া। তিনি তাঁর ছেলেকে নিশ্চয়তা দিয়েছেন। কুরআনে আল্লাহ তায়ালা এটি বর্ণনা করেছেন, যাতে আমরা জানতে পারি। আমাদের সংবেদনশীল পরিবারের সদস্য হওয়া উচিত, সংবেদনশীল নেতা হওয়া উচিত। আমাদের ভালো শ্রোতা হওয়া উচিত। সংবেদনশীল মানেই একজন ভালো শ্রোতা। আমাদের ভালো শ্রোতা হতে হবে এবং আমরা যে শুনছি তার চিহ্ন হিসেবে উত্তর দিতে হবে। সবশেষে তিনি তাঁর ছেলেকে বলেছিলেন, তাঁর ভাইদেরকে স্বপ্নের কথা না বলতে। তুমি এটা নিজের কাছেই রাখো। সুবহানাল্লাহ! এটা সত্যিই অনেক সুন্দর। তাই আমাদেরকে এমন মানুষ হওয়া উচিত যাতে, আল্লাহ তায়ালা নবি-রাসূলদের চরিত্র দেখে শিক্ষা গ্রহণ করার ব্যাপারে আমাদেরকে রহমত দেন। নবিজি ﷺ বলেছেন-
'তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি সর্বোত্তম, যে তাঁর পরিবারের কাছে সর্বোত্তম এবং তোমাদের মধ্যে আমিই আমার নিজ পরিবারের জন্য সর্বোত্তম।' সুনানে তিরমিজি: ৩৮৯৫
তাই আল্লাহ আমাদের সাহায্য করুন, যাতে আমরা আমাদের পারিবারিক জীবনে মহানবি ﷺ-এর অনুকরণ করতে পারি।
📄 সন্তান প্রতিপালন
টিনেজারদের মা-বাবারা প্রায় সময়ই আমার কাছে এসে বলেন, 'জানেন, আমার ছেলেটা না, আজকাল আমার কথা শোনেই না। আপনি ওর সাথে একটু কথা বলবেন?' তারা এমনভাবে বলেন, যেন আমি কোনো মহৌষধ সাথে নিয়ে ঘুরি! যেন সেই ছেলেটা আমার কাছে আসলে আমি ওর গায়ে ফুঁ দিয়ে দেবো, আর সাথে সাথেই সে দারুণ ভদ্র ছেলে হয়ে যাবে! না; বরং আপনি আপনার ছেলের সাথে কেন কথা বলছেন না? যখন তার সাথে কথা বলার প্রকৃত সময় ছিল তখন আপনি কোথায় ছিলেন?
আজকে আমি আপনাদের সাথে মা-বাবাদের নিয়ে একটু কথা বলব, তারপর বলব, স্বামী-স্ত্রীদের নিয়ে। খুবই মৌলিক দুটো সম্পর্ক। এটা আপনার সন্তানদের সাথে, আরেকটা আপনার জীবনসঙ্গীর সাথে। এই দুটো সম্পর্কের ব্যাপারেই আমরা খুব বেসিক কিছু ব্যাপার নিয়ে আলোচনা করব।
আপনার সন্তান যখন খুব ছোটো, ধরুন- যখন তাদের বয়স পাঁচ, ছয়, সাত কিংবা দুই, তিন, চার। তখন তাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোন জিনিসটা বলুন তো? আমার নিজের পাঁচটা বাচ্চা আছে। তাই এ ব্যাপারে আমি খুব ভালো বলতে পারব। তাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আপনার সমর্থন। তারা আপনাকে গর্বিত করতে চায়। তারা যা যা করেছে সব আপনাকে দেখাতে চায়।
ধরুন, ফোনে আমি জরুরি কোনো কাজের আলাপ করছি। জরুরি একটা ফোন, আর এ সময় আমার দুই বছরের ছেলে এসে বলবে, 'আব্বা, আব্বা, আব্বা, আব্বা, আব্বা।'
'ভাই, একটু লাইনে থাকেন।'
'কী হয়েছে বাবা?'
'হে হে হে।'
ব্যস! আমি আবার ফোনালাপে ফিরে গেলাম, সে আবার আমাকে ডাকা শুরু করল। আমি বললাম, 'আচ্ছা ঠিক আছে, কী হয়েছে বলো।'
'আমি তোমাকে একটা জিনিস দেখাব।'
'কী দেখাতে চাও বাবা?'
'আচ্ছা, ঠিক আছে।' ব্যস এতটুকু বলেই সে চুপ।
কিন্তু আমার এ ক্ষেত্রে কী করা উচিত বলুন তো? 'মাশাআল্লাহ! দারুণ তো! আবার করো দেখি। ভাই, আমি আপনাকে পরে ফোন দিচ্ছি।'
আপনার সন্তানরা যা করে আপনার উচিত তার কদর করা। এটা তাদের পরম আরাধ্য। অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে বেশি তারা এটাই চায় আপনার কাছে।
আমার তিনটি মেয়ে আছে। ছেলে আর মেয়েদের মধ্যে পার্থক্য কি জানেন? ছেলেরা এক জায়গায় বসে থাকতে পারে না, আর মেয়েরা কথা বলা থামাতে পারে না। তো আমি আমার মেয়েদের স্কুল থেকে যখন নিয়ে আসি, একজন ক্লাস ওয়ানে আরেকজন ক্লাস থ্রিতে পড়ে। আমি ওদের স্কুল থেকে ২৫ মিনিট গাড়ি চালিয়ে বাসায় নিয়ে আসি। আর এই পুরোটা সময় তারা কি করে জানেন? 'জানো আজকে ক্লাসে কি হয়েছে? আমরা একটা ডাইনোসর রং করেছি। এটা করেছি, ওটা করেছি। প্রথমে আমি বেগুনি রং করলাম, তারপর ভাবলাম একটু সবুজ রং-ও দিই।' সে এভাবে বলতে থাকল তো বলতেই থাকল। থামার কোনো নামই নেই। ওদের পক্ষে থামা সম্ভবই না। আর আমাকেও মনোযোগ দিয়ে অবশ্যই সেটা শুনতে হবে। আমি বললাম, 'ও তাই! নীল রং দাওনি?'
'না অল্প একটু নীল দিয়েছি।'
আমাকে মনোযোগ দিতে হবে। আর আমি এগুলো কেন বলছি জানেন? আচ্ছা সেটা বলার আগে অন্য একটা গল্প বলে নিই। তাতে আপনাদের বিরক্তিটা একটু কাটবে।
এই গল্পটা আমি প্রায়ই বলি। আমার বড়ো মেয়েটা হুসনা, যখন ছোটো ছিল তখন আঙুল দিয়ে ছবি আঁকতে খুব পছন্দ করত। সে তার আঙুলগুলো রঙের মধ্যে চুবিয়ে তারপর সেগুলো দিয়ে হাবিজাবি আঁকত। সে একদিন বিশাল এক কার্ডবোর্ড নিয়ে আমার কাছে হাজির! সেখানে নীল রং দিয়ে বিশাল কী যেন আঁকা, আগামাথা কিছুই বুঝলাম না। সে বলল, 'আব্বা, দেখো আমি কী এঁকেছি।'
'বাহ, দারুণ! একটা পাহাড়!'
'না, এটা তো আম্মু!'
'হ্যাঁ?'
'আম্মুকে এই কথা বলো না কিন্তু!'
যে কথাটা আমি বলতে চাচ্ছি তা হলো, ওরা আপনার সমর্থন পাওয়ার জন্য ব্যাকুল। কিন্তু আপনাদের যাদের সন্তানরা টিনেজার, তাদের যখন স্কুল থেকে আনতে যান, তারা কি এমন কলকল করে কথা বলে যায়? তারা কি বলে, 'জানো আজকে স্কুলে কি হয়েছে? টিচার এটা বলেছে, ওটা করেছে, পরীক্ষায় “এ” পেয়েছি।'
না! তারা একদম চুপ করে থাকে!
তাহলে বরং আপনিই বলার চেষ্টা করবেন, 'কেমন গেল দিন?'
'মোটামুটি।'
'কী করলে সারা দিন?'
'কিছু একটা।'
'আজকে কোথায় যাবে?'
'যাব কোথাও।'
তারা কথাই বলে না! তাদের কথা বলানো অনেকটা পুলিশের আসামিকে জেরা করার মতো ব্যাপার। আপনাকে তারা কিছুই বলে না। আর যখন আপনি তাকে প্রশ্ন করছেন, তখন হয়তো সে তার বন্ধুকে এসএমএস পাঠাচ্ছে: 'আব্বা আজকে বেশি প্রশ্ন করছে! ঘটনা কী? তুমি ওনাকে কিছু বলেছ নাকি?'
ছোটো বয়সে আপনার বাচ্চারা আপনার মনোযোগ পাওয়ার জন্য পাগল থাকে। আর যখন তারা বড়ো হবে, আপনি তাদের মনোযোগ পাওয়ার জন্য পাগল হবেন।
কিন্তু তারা যখন ছোটো থাকে তখন যদি আপনি তাদের মনোযোগ না দেন, তাহলে ওরা বড়ো হতে হতে সম্পর্কটা শীতল হয়ে যাবে। তারা খেলনা নিয়ে আপনার কাছে এলো আর আপনি বললেন, 'ঘরে যাও! আমি সংবাদ দেখছি, এই, তুমি ওকে একটু সরাও তো! সারা দিন অনেক কাজ করেছি, এখন ওকে সামলাতে পারব না। বাসায় আমার বন্ধুরা এসেছে, কী বলবে ওরা? যাও ঘুমাতে যাও। যাও এখান থেকে।' আপনি যখন ওদের সাথে এমন আচরণ করবেন, তারাও পরে আপনার সাথে এ রকম আচরণ করবে। আপনার কাজ কি চাকরি করা, আর বাসায় এসেছেন শুধু বিশ্রাম নিতে? না রে ভাই! আপনার কাজ শুরু হয়েছে তখনই, যখন আপনি ঘরে ফিরেছেন। সেটাই আপনার আসল কাজ। চাকরিতে যে কাজ করেছেন সেটা শুধু এজন্য যেন, ঘরের আসল কাজটা ঠিকমতো করতে পারেন।
একজন প্রকৃত বাবা হোন। পুরুষ পাঠকদের বলছি- একজন প্রকৃত বাবা হোন। আপনার সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটান। তারা শুধু এজন্য নেই যে আপনি তাদের স্কুলে রেখে আসবেন, আর অফিস বাসায় ফিরে ঘুমাতে যাবেন। কোনো ঝামেলায় যাবেন না, তাদের সাথে কথা বলবেন না। তাদের সঙ্গে কথা না বলার সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে তাদের হাতে একটা আইপড টাচ অথবা আইফোন ধরিয়ে দেওয়া। তাদের নিজস্ব রুমে হাই-স্পিড ইন্টারনেটসহ একটা কম্পিউটার বা ল্যাপটপ দিয়ে দেওয়া।
এমন হলে আপনাকে তাদের চেহারাও দেখা লাগবে না। তারা সারা দিন তাদের ঘরে থেকেই ফেসবুকিং করতে থাকবে, নাহয় অনলাইনেই নিজেদের জন্য নতুন বাবা-মা খুঁজে নেবে। কিন্তু না, এমনটা কখনোই করবেন না।
সিরিয়াসলি বলছি। প্রকৃত বাবা হোন। প্রকৃত মা হোন। আপনার মাতৃত্ব বা পিতৃত্বের বদলি হিসেবে এইসব জিনিসকে আসতে দেবেন না। কারণ, যদি দেন, তাহলে ওরা যখন স্বাবলম্বী হয়ে যাবে, তখন বেশির ভাগ বাবা-মায়ের কি হয় জানেন? আপনাদের বেশির ভাগের ছেলেমেয়েরা আপনাদেরকে কতগুলো টাকার মেশিন হিসেবে দেখে। শুধু কখন তারা আপনাদের কাছে আসে? 'বাবা, আমাকে ৫০ টাকা দাও তো।' জানি আজ-কাল কেউ আর ৫০ টাকা চায় না। কমপক্ষে ২০০ টাকা। কিছু বাচ্চাদের চিনি যারা এত কম টাকা দেখেইনি। ৫০ টাকার নোট চেনেই না তারা। 'আমাকে ৫০০টাকা দাও তো।' 'শপিংমলে যেতে চাই, আমাকে একটু পৌছে দাও তো।' 'বন্ধুদের বাসায় যাই।' 'এটা কিনতে পারি।' 'ওটা কিনতে পারি।'
যখন তাদের কোনো কিছুর দরকার তখন তারা আপনার কাছে আসে। এর বাইরে আপনি তাদের খুঁজে পাবেন না। আর যখন তারা বড়ো হবে, নিজেরাই একটু-আধটু কামাই করতে পারবে, তখন কী হবে? আর তাদের দেখাই পাবেন না। কারণ, আপনার টাকার মেশিনও এখন আর দরকার নেই। এর প্রয়োজন শেষ। আপনি যদি এই ধরনের সম্পর্ক তৈরি করেন, তাহলে নিশ্চিত বিপর্যয়ের দিকে এগোচ্ছেন। আপনাকে এখনই পরিবর্তন আনতে হবে। আর পরিবর্তনের উপায় হলো, জানি এটা অনেকের জন্যই করাটা কঠিন হবে, আমাদেরকে আমাদের সন্তানদের সাথে বন্ধুত্ব করতে হবে। আমাদের সাথে সময় কাটানোটা তাদের কাছে উপভোগ্য হতে হবে। আমাদেরকে হতে হবে তাদের কাছের মানুষ।
📄 জোর করে বিয়ে
আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনুল কারিমে বলেন- وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ.
'যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে চাও, তার ব্যাপারে সচেতন হও।' সূরা নিসা : ৪
এরপর তিনি আরও বললেন, وَالْاَرْحَامَ -এর মানে সতর্ক হও, সচেতন হও। গর্ভের সম্পর্কের মানুষদের ব্যাপারে ঋণী থাকার বোধ জাগাও।
পুরো অর্থটা তাহলে এই দাঁড়াল যে, গর্ভের সাথে যুক্ত যেকোনো বিষয়কে আমাদের কদর করতে হবে। যে কারণে অন্যান্য পারিবারিক সম্পর্কগুলোর চেয়ে ইসলাম আমাদের মায়েদের অনেক সম্মান দেয়। তবে গর্ভের সাথে যুক্ত সম্পর্ক শুরু হয় বিয়ের মাধ্যমে। সেজন্য এই আয়াত শুরু হয়েছে এভাবে- يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوْا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِّنْ نَّفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا.
'হে লোকসকল, তোমাদের সেই প্রভুর ব্যাপারে সতর্ক থাকো, যিনি এক আত্মা থেকে তোমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং সেখান থেকে তার সঙ্গীকে সৃষ্টি করেছেন।' সূরা নিসা: ০১
এই আয়াতটি শুরু হয়েছে বিয়ের কথা বলে। আর তাই নবিজি বিয়ের অনুষ্ঠানে এই আয়াত দিয়ে খুতবা শুরু করতেন। মোটামুটি যেকোনো বিয়েতে উপস্থিত থাকলে আপনারা এই আয়াতটি শুনে থাকবেন।
স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক অনেক পবিত্র একটি সম্পর্ক। একান্ত নিবিড় একটি সম্পর্ক। আল্লাহ কী বলছেন শুনুন- وَأَخَذْنَ مِنْكُمْ مِيْثَاقًا غَلِيظًا. যার অর্থ হলো- 'এই নারীরা তোমাদের থেকে এক পাকা কথা নিয়েছে।' সূরা নিসা: ২১ আল্লাহ তায়ালা অনেক জোরাল ভাষায় এটি বলেছেন।
আমরা পুরুষরা ভাবি- বিয়ের সব নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে, তাই না? অথচ এই আয়াতটার প্রকাশভঙ্গি অদ্ভুত। এখানে বলা হচ্ছে, 'আখাজনা', কিন্তু 'আখাজতুম মিনহুন্না' নয়। মানে তোমরা তাদের থেকে কথা নাওনি; বরং তারাই তোমাদের থেকে কথা নিয়েছে। তারা তোমাদের দায়বদ্ধ করেছে। অর্থাৎ সিদ্ধান্তটা তারাই নিয়েছে।
এই বিষয়টি সামনে নিয়ে এলাম। কারণ, দুঃখজনকভাবে বেশির ভাগ মুসলিম সমাজে মেয়েদের নিজেদের পছন্দমতো বিয়ে করার সুযোগটা ছিনতাই করে নেওয়া হয়েছে। মা-বাবারা মনে করেন- তারাই সব ভালো বোঝেন। তাদের ছেলেমেয়েরা কিছু বোঝে না। সুতরাং, আমি আমার মেয়েকে যার সাথে ইচ্ছা, তার সাথে বিয়ে দেবো। যাকে যোগ্য মনে করি, তার সাথেই দেবো। তাকে সে পছন্দ করুক বা নাই করুক- এতে কিছু যায় আসে না। রাজি না থাকলে মেয়েটি বোকামি করছে। আমি যদি কিছুক্ষণ তার সাথে চেঁচামেচি করি, জোর গলায় কথা বলি, তাকে যথেষ্ট লজ্জিত করি, তাহলে একসময় তাকে মেনে নিতেই হবে। কারণ, সে তো আসলে কিছুই বোঝে না।
আমরা মেয়েদেরকে নিজেদের মতো সিদ্ধান্ত নিতে দিই না। নিদেনপক্ষে তাদেরকে ভাবারও অবকাশ দিই না। নির্মমভাবে তাদেরকে মানসিক চাপে ফেলে দিই।