📘 বিয়ে অর্ধেক দ্বীন > 📄 দ্বিতীয় বিয়ে?

📄 দ্বিতীয় বিয়ে?


Why 2nd Marriage?
একদিন হঠাৎ স্ত্রীকে স্বামী বলছে,
-শোনো, আমি দ্বিতীয় বিয়ে করতে চাই!
-কেনো! আমি কি দেখতে যথেষ্ট খারাপ! আমি কি ভালো নই?
-ব্যাপারটি তা নয়। যাকে বিয়ে করতে চাচ্ছি সে সদ্য তালাকপ্রাপ্তা ২ সন্তানের মা। খুব দুঃখ-কষ্টে দিন কাটছে তাদের। তাদের অবস্থা এতোটাই শোচনীয় যে, দুপুর হলে তার বাচ্চাদের জন্য কোথা থেকে খাবার আসবে সেটাও তার জানা নেই।
-(স্ত্রী) আমি বললাম, কেনো? ওদের বাবা কোথায়? সে কি নিজের বাচ্চাদের দেখাশোনা করতে পারছে না?
-তাদের তালাক হয়ে গেছে।
-তাহলে বিয়ে করতে হবে কেনো? নিশ্চয়ই তাকে সাহায্য করার আরও অনেক উপায় আছে। তুমি চাইলে তাকে আর্থিকভাবে সাহায্য করতে পারো।

বহুবিবাহ মেনে নেওয়ার ব্যাপারটা আমি কল্পনাও করতে পারি না!
আমার স্বামীকে আরেকজন নারীর সাথে ভাগাভাগি করতে হবে। তার ভালোবাসা, হাসি, রসিকতা এগুলো আমি ছাড়াও অন্য নারী উপভোগ করবে? সে আমাকে ছাড়াও আরেকজন নারীকে স্পর্শ করবে, আর তাকে ভালোবাসার কথা শোনাবে-এটা অসম্ভব!
এটা মেনে নেওয়া যায় না। চরম ক্ষোভ, দুঃখ আর অপমানের জ্বালায় আমি নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছিলাম। আমি ওর জন্যে কী না হইনি? একজন স্ত্রী, প্রেমিকা, গৃহিণী কত কিছু। কীভাবে পারলো ও আমাকে এতোটা অপমান করতে? মনে হচ্ছিলো-আমি হয়তো বেশি ভালো না বা বেশি সুন্দরী না কিংবা অল্পবয়সী না। কিংবা শুধু আমি ওর জন্য যথেষ্ট না-এজন্যই দ্বিতীয় বিয়ের কথা বলছে!
নাহ্! এটা মেনে নেওয়া যায় না। তখনই ওকে আমার সিদ্ধান্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিলাম। তীব্র কণ্ঠে বলে উঠলাম— 'যদি কোনো দ্বিতীয় স্ত্রী এই বাড়িতে ঢুকে, তাহলে আমি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাবো।'

কয়েকদিন পর স্ত্রীর মনের ভাবনা...
নিজেকে ভাগ্যবতী মনে হচ্ছে। সে দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে আর কোনো কথা বলেনি। আমার অনঢ় অবস্থান আর হুমকিতে সে পরাজিত হয়েছে। আমি জানিনা সেই মহিলা ও তার বাচ্চাগুলোর শেষ পর্যন্ত কী হয়েছিলো। বোধহয় ওরা সবাই অন্য কোন এক শহরে চলে গেছে। তার জন্য একটু কষ্ট ও মায়া হয়েছিলো বৈকি।
এরপর আমার স্বামী আর কখনোই দ্বিতীয় বিয়ে কথাটি উচ্চারণ করেননি, যার কারণে আমিও খুব খুশি। নিজের স্বামীকে ধরে রাখতে পেরেছি সেই আনন্দে আত্মহারা! কিন্তু তখনও জানতাম না আমাদের সময় খুব শীঘ্রই ফুরিয়ে আসছে...।
একদিন মাগরিবের সালাতের পর ও (স্বামী) বললো—ওর খুব মাথা ধরেছে, ইশার সালাত পর্যন্ত শুয়ে থাকবে। তিনি শুয়ে রইলেন।
কিন্তু হায়! তার আর সে রাতে ইশার সালাত আদায় করা হয়নি। কারণ ওর সে ঘুম আর ভাঙেনি। সে রাতেই উনি মারা যান। তার আচমকা মৃত্যুতে আমি পুরো হতবিহ্বল হয়ে পড়ি! যে মানুষটার সাথে সারাটা জীবন কাটিয়েছি, সে হঠাৎ করেই পরপারে চলে গেলো। এরপর কতকাল ধরে যে ওঁর জন্য কেঁদেছি তা কেউ জানেনা।

স্বামী মারা যাওয়ার কিছু দিন পর...
সেসময় কোনকিছু দেখাশোনা করে রাখার মতো অবস্থা আমার ছিল না। অযত্নে অবহেলাতে একে একে সব হারাতে শুরু করলাম। প্রথমে আমাদের গাড়ি, এরপর দোকান, এরপর বাড়ি। সব নিয়ে গেলো লোভি মানুষেরা।
শেষমেষ দুই সন্তানসহ আমি আমার ভাইয়ের বাড়িতে গিয়ে উঠলাম। হঠাৎ এতোগুলো মানুষের উপস্থিতিতে ওদের বাড়িটা গিজগিজ করতো। আমার ভাবীও দিনে দিনে অতীষ্ট হয়ে উঠছিলেন। খুব ইচ্ছে হতো ঐ বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাই। সেসময় আমার দরকার ছিল একটি চাকরি। কিন্তু আমার কোন দক্ষতা ছিল না।
কিন্তু মানুষের দয়ায় এভাবে কতদিন মাথা গুঁজে পড়ে থাকা যায়? নিজেদের জন্য একটি আলাদা বাসার প্রয়োজন খুব বেশি করে অনুভব করছিলাম।
যখন আমার স্বামী বেঁচে ছিলেন, আমরা কত আরামে ছিলাম। ঘরের বাইরে গিয়ে কাজ করার প্রয়োজনই ছিল না। কিন্তু উনি চলে যাওয়ার পরে জীবন এতো কঠিন হয়ে গিয়েছিলো। আমি প্রতিটা দিন উনার অভাব বোধ করতাম। হৃদয়ের প্রতিটা অংশ দিয়ে উনাকে খুঁজে ফিরতাম। কী করে মানুষের জীবন এতো ভয়ানকভাবে পাল্টে যায় তা ভুক্তভোগী ছাড়া কেউ জানে না!

হঠাৎ একদিন আমার ভাই আমাকে ডেকে তার পরিচিত এক ভাইয়ের কথা বললেন। সেই ভাই নাকি বিয়ের জন্য পাত্রী খুঁজছেন। ভালো মানুষ, চমৎকার আচার ব্যবহার, আর অনেক দ্বীনদার। উনি চান—আমি উনার দ্বিতীয় স্ত্রী হই। আমার জীবনে দ্বিতীয়বারের মতো দ্বিতীয় স্ত্রী কথাটি শুনলাম। কিন্তু এবারে পরিস্থিতি কতো ভিন্ন।
একদিন আমাদের দেখাদেখির ব্যবস্থা হলো। অবিশ্বাস্যভাবে আমার উনাকে খুব পছন্দ হয়ে গেলো। উনার প্রতিটা ব্যাপারই খুব ভালো লাগছিলো। উনি আমাকে বললেন—'তার প্রথম স্ত্রী জানেন যে তিনি দ্বিতীয় বিয়েতে আগ্রহী, তবে সে এর বিপক্ষে।' তিনি এটাও বললেন যে, দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে একজনকে খুঁজে পেয়েছেন জানলে উনার স্ত্রীর প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে সেটা তার জানা নেই; তবে উনার স্ত্রীর বহুবিবাহ মেনে নেওয়ার ওপরই এখন উনার চূড়ান্ত জবাব নির্ভর করছে।
সে রাতে আমি ইস্তিখারা সালাত আদায় করলাম। আমি পাগলের মতো চাচ্ছিলাম, যেন বিয়েটা ঠিকঠাক হয়ে যায়। আমার মনে পড়লো আরেকজন নারীর জীবনও ঠিক এরকম করেই আমার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছিলো। মনে পড়ে গেলো আমি কী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। হঠাৎ করে অনুতাপে পুড়ে যাওয়ার মতো একটা উপলব্ধি হলো। আমার মনে হচ্ছিলো, আমি আমার জীবনে আরেকজন নারীকে স্থান দেইনি, তাহলে আল্লাহ কেন আমাকে আরেকজন নারীর জীবনে স্থান নেওয়ার সুযোগ দেবেন? নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাকে শাস্তি দেবেন।
আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে থাকলাম। অবাক লাগছিলো! জীবনে একবারও আমার মনে হলো না যে, আমি যে কাজটি করছি তা কতটা ভুল? আমি সবসময় ভেবে এসেছি যে, এমন করাটাই সঠিক কাজ ছিল। এখন যখন আমার অবস্থান পাল্টে গেছে, প্রয়োজনটা যখন এবার আমার, তখন আমি বুঝতে পারলাম কতোটা ভুলের মধ্যে ছিলাম আমি! আমি আরেকজন নারীর স্বামী পাওয়ার অধিকারকে অস্বীকার করছিলাম।
আমি দুআ করতে থাকলাম-যেন উনার স্ত্রী আমাকে মেনে নেন..।
কয়েকদিন পর উনি আমাকে ফোন করলেন। বললেন, উনার স্ত্রীর এটা মেনে নিতে খুবই কষ্ট হচ্ছে, তবুও তিনি আমার সাথে দেখা করতে আগ্রহী।

বিবাহের পর
আজ উনার স্ত্রীর সাথে আমার সাক্ষাৎ হবে। আমি তার বাসায় ড্রইংরুমে বসে আছি। ভাবছি-দ্বিতীয় বিয়ে বিষয়টা কেমন! কয়েক বছর আগের কথা মনে পড়ে গেলো। আমার স্বামীর সাথে আমার বলা কথাগুলো বার বার মনে হচ্ছিলো- "কেনো তুমি ২য় বিবাহ করবে? কেনো? আমি কি খারাপ? আমি কি যথেষ্ট ভালো নই? না, না, না! আমি কখনোই দ্বিতীয় একজন স্ত্রীকে মেনে নিতে পারি না। যদি তুমি আরেকজন মহিলাকে বিয়ে করতে চাও, তো করো; কিন্তু মনে রেখো! ফিরে এসে তুমি আমাকে আর এখানে দেখতে পাবে না।”
অনেকক্ষণ বসে ছিলাম। খুব দুঃচিন্তা হচ্ছিলো। আল্লাহর কাছে অনেক দুআ করছিলাম,
হে আল্লাহ! আমাকে সাহায্য করুন, তার স্ত্রীর হৃদয়ে তুমি রহমত দান করো, সহিহ বুঝ দান করো, ইত্যাদি...।
তিনি রুমে এলেন। তাকে দেখলাম আমার মতই একজন নারী ও স্ত্রী, যে তার স্বামীকে খুব ভালোবাসে। যে তার স্বামীকে হারাতে ভয় পায়! তার চোখগুলো ছলছল করছিলো। সে আমার হাত দুটো ধরে বললো,
বোন আমার! আপনি যতই অসহায় হোন না কেনো, আমার জন্য এটা মেনে নেওয়া কী যে কঠিন! তারপরও দু'আ করি-যেন আমরা দু'জন আপন বোনের মতো থাকতে পারি।
আমি হুহু করে কেঁদে দিলাম। আমার এই কঠিন সময়ে শুধু এটুকুই লাগতো- একটি সখ্যতার হাত আমাকে বুকে টেনে নেবে। আমাকে আশা দেবে। বেঁচে থাকার ইচ্ছাটা ফিরিয়ে আনবে। উনার স্ত্রীর জন্য সেটুকু পেলাম।
উনার স্ত্রী আমার জীবনে এমন একজন নারীর দৃষ্টান্ত, যেমন নারী আমি নিজে কখনো হতে পারিনি। আমি উনার প্রতি চিরকৃতজ্ঞ থাকবো। একসময় ভাবতাম কেউ কারো স্বামীকে নিশ্চয়ই আমার মতো করে এতো বেশি ভালোবাসতে পারেনি। কিন্তু উনার স্ত্রীকে দেখে ধারণাটি বদলে গেলো। এই মানুষটির কাছ থেকেই শিখতে পারলাম নিঃস্বার্থ ভালোবাসার আসল পরিচয়।

টিকাঃ
১৪৮ ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত একটি ইংরেজি লিখার অনুবাদ। অনুবাদক: রাজোয়ানুল ইসলাম আলিফ। সম্পাদক: আবু আনাস।

Why 2nd Marriage?
একদিন হঠাৎ স্ত্রীকে স্বামী বলছে,
-শোনো, আমি দ্বিতীয় বিয়ে করতে চাই!
-কেনো! আমি কি দেখতে যথেষ্ট খারাপ! আমি কি ভালো নই?
-ব্যাপারটি তা নয়। যাকে বিয়ে করতে চাচ্ছি সে সদ্য তালাকপ্রাপ্তা ২ সন্তানের মা। খুব দুঃখ-কষ্টে দিন কাটছে তাদের। তাদের অবস্থা এতোটাই শোচনীয় যে, দুপুর হলে তার বাচ্চাদের জন্য কোথা থেকে খাবার আসবে সেটাও তার জানা নেই।
-(স্ত্রী) আমি বললাম, কেনো? ওদের বাবা কোথায়? সে কি নিজের বাচ্চাদের দেখাশোনা করতে পারছে না?
-তাদের তালাক হয়ে গেছে।
-তাহলে বিয়ে করতে হবে কেনো? নিশ্চয়ই তাকে সাহায্য করার আরও অনেক উপায় আছে। তুমি চাইলে তাকে আর্থিকভাবে সাহায্য করতে পারো।

বহুবিবাহ মেনে নেওয়ার ব্যাপারটা আমি কল্পনাও করতে পারি না!
আমার স্বামীকে আরেকজন নারীর সাথে ভাগাভাগি করতে হবে। তার ভালোবাসা, হাসি, রসিকতা এগুলো আমি ছাড়াও অন্য নারী উপভোগ করবে? সে আমাকে ছাড়াও আরেকজন নারীকে স্পর্শ করবে, আর তাকে ভালোবাসার কথা শোনাবে-এটা অসম্ভব!
এটা মেনে নেওয়া যায় না। চরম ক্ষোভ, দুঃখ আর অপমানের জ্বালায় আমি নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছিলাম। আমি ওর জন্যে কী না হইনি? একজন স্ত্রী, প্রেমিকা, গৃহিণী কত কিছু। কীভাবে পারলো ও আমাকে এতোটা অপমান করতে? মনে হচ্ছিলো-আমি হয়তো বেশি ভালো না বা বেশি সুন্দরী না কিংবা অল্পবয়সী না। কিংবা শুধু আমি ওর জন্য যথেষ্ট না-এজন্যই দ্বিতীয় বিয়ের কথা বলছে!
নাহ্! এটা মেনে নেওয়া যায় না। তখনই ওকে আমার সিদ্ধান্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিলাম। তীব্র কণ্ঠে বলে উঠলাম— 'যদি কোনো দ্বিতীয় স্ত্রী এই বাড়িতে ঢুকে, তাহলে আমি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাবো।'

কয়েকদিন পর স্ত্রীর মনের ভাবনা...
নিজেকে ভাগ্যবতী মনে হচ্ছে। সে দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে আর কোনো কথা বলেনি। আমার অনঢ় অবস্থান আর হুমকিতে সে পরাজিত হয়েছে। আমি জানিনা সেই মহিলা ও তার বাচ্চাগুলোর শেষ পর্যন্ত কী হয়েছিলো। বোধহয় ওরা সবাই অন্য কোন এক শহরে চলে গেছে। তার জন্য একটু কষ্ট ও মায়া হয়েছিলো বৈকি।
এরপর আমার স্বামী আর কখনোই দ্বিতীয় বিয়ে কথাটি উচ্চারণ করেননি, যার কারণে আমিও খুব খুশি। নিজের স্বামীকে ধরে রাখতে পেরেছি সেই আনন্দে আত্মহারা! কিন্তু তখনও জানতাম না আমাদের সময় খুব শীঘ্রই ফুরিয়ে আসছে...।
একদিন মাগরিবের সালাতের পর ও (স্বামী) বললো—ওর খুব মাথা ধরেছে, ইশার সালাত পর্যন্ত শুয়ে থাকবে। তিনি শুয়ে রইলেন।
কিন্তু হায়! তার আর সে রাতে ইশার সালাত আদায় করা হয়নি। কারণ ওর সে ঘুম আর ভাঙেনি। সে রাতেই উনি মারা যান। তার আচমকা মৃত্যুতে আমি পুরো হতবিহ্বল হয়ে পড়ি! যে মানুষটার সাথে সারাটা জীবন কাটিয়েছি, সে হঠাৎ করেই পরপারে চলে গেলো। এরপর কতকাল ধরে যে ওঁর জন্য কেঁদেছি তা কেউ জানেনা।

স্বামী মারা যাওয়ার কিছু দিন পর...
সেসময় কোনকিছু দেখাশোনা করে রাখার মতো অবস্থা আমার ছিল না। অযত্নে অবহেলাতে একে একে সব হারাতে শুরু করলাম। প্রথমে আমাদের গাড়ি, এরপর দোকান, এরপর বাড়ি। সব নিয়ে গেলো লোভি মানুষেরা।
শেষমেষ দুই সন্তানসহ আমি আমার ভাইয়ের বাড়িতে গিয়ে উঠলাম। হঠাৎ এতোগুলো মানুষের উপস্থিতিতে ওদের বাড়িটা গিজগিজ করতো। আমার ভাবীও দিনে দিনে অতীষ্ট হয়ে উঠছিলেন। খুব ইচ্ছে হতো ঐ বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাই। সেসময় আমার দরকার ছিল একটি চাকরি। কিন্তু আমার কোন দক্ষতা ছিল না।
কিন্তু মানুষের দয়ায় এভাবে কতদিন মাথা গুঁজে পড়ে থাকা যায়? নিজেদের জন্য একটি আলাদা বাসার প্রয়োজন খুব বেশি করে অনুভব করছিলাম।
যখন আমার স্বামী বেঁচে ছিলেন, আমরা কত আরামে ছিলাম। ঘরের বাইরে গিয়ে কাজ করার প্রয়োজনই ছিল না। কিন্তু উনি চলে যাওয়ার পরে জীবন এতো কঠিন হয়ে গিয়েছিলো। আমি প্রতিটা দিন উনার অভাব বোধ করতাম। হৃদয়ের প্রতিটা অংশ দিয়ে উনাকে খুঁজে ফিরতাম। কী করে মানুষের জীবন এতো ভয়ানকভাবে পাল্টে যায় তা ভুক্তভোগী ছাড়া কেউ জানে না!

হঠাৎ একদিন আমার ভাই আমাকে ডেকে তার পরিচিত এক ভাইয়ের কথা বললেন। সেই ভাই নাকি বিয়ের জন্য পাত্রী খুঁজছেন। ভালো মানুষ, চমৎকার আচার ব্যবহার, আর অনেক দ্বীনদার। উনি চান—আমি উনার দ্বিতীয় স্ত্রী হই। আমার জীবনে দ্বিতীয়বারের মতো দ্বিতীয় স্ত্রী কথাটি শুনলাম। কিন্তু এবারে পরিস্থিতি কতো ভিন্ন।
একদিন আমাদের দেখাদেখির ব্যবস্থা হলো। অবিশ্বাস্যভাবে আমার উনাকে খুব পছন্দ হয়ে গেলো। উনার প্রতিটা ব্যাপারই খুব ভালো লাগছিলো। উনি আমাকে বললেন—'তার প্রথম স্ত্রী জানেন যে তিনি দ্বিতীয় বিয়েতে আগ্রহী, তবে সে এর বিপক্ষে।' তিনি এটাও বললেন যে, দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে একজনকে খুঁজে পেয়েছেন জানলে উনার স্ত্রীর প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে সেটা তার জানা নেই; তবে উনার স্ত্রীর বহুবিবাহ মেনে নেওয়ার ওপরই এখন উনার চূড়ান্ত জবাব নির্ভর করছে।
সে রাতে আমি ইস্তিখারা সালাত আদায় করলাম। আমি পাগলের মতো চাচ্ছিলাম, যেন বিয়েটা ঠিকঠাক হয়ে যায়। আমার মনে পড়লো আরেকজন নারীর জীবনও ঠিক এরকম করেই আমার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছিলো। মনে পড়ে গেলো আমি কী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। হঠাৎ করে অনুতাপে পুড়ে যাওয়ার মতো একটা উপলব্ধি হলো। আমার মনে হচ্ছিলো, আমি আমার জীবনে আরেকজন নারীকে স্থান দেইনি, তাহলে আল্লাহ কেন আমাকে আরেকজন নারীর জীবনে স্থান নেওয়ার সুযোগ দেবেন? নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাকে শাস্তি দেবেন।
আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে থাকলাম। অবাক লাগছিলো! জীবনে একবারও আমার মনে হলো না যে, আমি যে কাজটি করছি তা কতটা ভুল? আমি সবসময় ভেবে এসেছি যে, এমন করাটাই সঠিক কাজ ছিল। এখন যখন আমার অবস্থান পাল্টে গেছে, প্রয়োজনটা যখন এবার আমার, তখন আমি বুঝতে পারলাম কতোটা ভুলের মধ্যে ছিলাম আমি! আমি আরেকজন নারীর স্বামী পাওয়ার অধিকারকে অস্বীকার করছিলাম।
আমি দুআ করতে থাকলাম-যেন উনার স্ত্রী আমাকে মেনে নেন..।
কয়েকদিন পর উনি আমাকে ফোন করলেন। বললেন, উনার স্ত্রীর এটা মেনে নিতে খুবই কষ্ট হচ্ছে, তবুও তিনি আমার সাথে দেখা করতে আগ্রহী।

বিবাহের পর
আজ উনার স্ত্রীর সাথে আমার সাক্ষাৎ হবে। আমি তার বাসায় ড্রইংরুমে বসে আছি। ভাবছি-দ্বিতীয় বিয়ে বিষয়টা কেমন! কয়েক বছর আগের কথা মনে পড়ে গেলো। আমার স্বামীর সাথে আমার বলা কথাগুলো বার বার মনে হচ্ছিলো- "কেনো তুমি ২য় বিবাহ করবে? কেনো? আমি কি খারাপ? আমি কি যথেষ্ট ভালো নই? না, না, না! আমি কখনোই দ্বিতীয় একজন স্ত্রীকে মেনে নিতে পারি না। যদি তুমি আরেকজন মহিলাকে বিয়ে করতে চাও, তো করো; কিন্তু মনে রেখো! ফিরে এসে তুমি আমাকে আর এখানে দেখতে পাবে না।”
অনেকক্ষণ বসে ছিলাম। খুব দুঃচিন্তা হচ্ছিলো। আল্লাহর কাছে অনেক দুআ করছিলাম,
হে আল্লাহ! আমাকে সাহায্য করুন, তার স্ত্রীর হৃদয়ে তুমি রহমত দান করো, সহিহ বুঝ দান করো, ইত্যাদি...।
তিনি রুমে এলেন। তাকে দেখলাম আমার মতই একজন নারী ও স্ত্রী, যে তার স্বামীকে খুব ভালোবাসে। যে তার স্বামীকে হারাতে ভয় পায়! তার চোখগুলো ছলছল করছিলো। সে আমার হাত দুটো ধরে বললো,
বোন আমার! আপনি যতই অসহায় হোন না কেনো, আমার জন্য এটা মেনে নেওয়া কী যে কঠিন! তারপরও দু'আ করি-যেন আমরা দু'জন আপন বোনের মতো থাকতে পারি।
আমি হুহু করে কেঁদে দিলাম। আমার এই কঠিন সময়ে শুধু এটুকুই লাগতো- একটি সখ্যতার হাত আমাকে বুকে টেনে নেবে। আমাকে আশা দেবে। বেঁচে থাকার ইচ্ছাটা ফিরিয়ে আনবে। উনার স্ত্রীর জন্য সেটুকু পেলাম।
উনার স্ত্রী আমার জীবনে এমন একজন নারীর দৃষ্টান্ত, যেমন নারী আমি নিজে কখনো হতে পারিনি। আমি উনার প্রতি চিরকৃতজ্ঞ থাকবো। একসময় ভাবতাম কেউ কারো স্বামীকে নিশ্চয়ই আমার মতো করে এতো বেশি ভালোবাসতে পারেনি। কিন্তু উনার স্ত্রীকে দেখে ধারণাটি বদলে গেলো। এই মানুষটির কাছ থেকেই শিখতে পারলাম নিঃস্বার্থ ভালোবাসার আসল পরিচয়।

টিকাঃ
১৪৮ ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত একটি ইংরেজি লিখার অনুবাদ। অনুবাদক: রাজোয়ানুল ইসলাম আলিফ। সম্পাদক: আবু আনাস।

📘 বিয়ে অর্ধেক দ্বীন > 📄 বিধবা বিবাহ : একটি সুন্নাহ!

📄 বিধবা বিবাহ : একটি সুন্নাহ!


আমরা একটা সুন্নাতকে আবার জাগাতে পারি!
বিধবা মা-বোনের সংখ্যা সমাজে কম নয়। সমাজ এদের আড়াল করে রাখে। এখন পুরুষের জন্য বিধবা বিয়ে লজ্জার বিষয়। তালাকপ্রাপ্ত ব্যক্তির সাথেও এমনি আচরণ করা হয়। যেকোনো কারণে বিয়ে ভেঙ্গে যেতে পারে—আল্লাহর ইচ্ছায়। আল্লাহ তায়ালা মানুষকে তো আর ফেরেশতা করে দুনিয়াতে পাঠায়নি। বিধবা বা তালাকপ্রাপ্ত বলে অনেক পুরুষ বিশাল হাদিয়া দাবী করে! এমন ভাব ধরে যেন সে অনেক বড় ইহসান করে ফেলেছে! আল্লাহ পানাহ।
আমার কাছে বিধবা বিয়েটা সম্মানের মনে হয়। কারণ, বিশেষ করে এখানে একজন নারীর আশ্রয়ের বিষয় জড়িত। বিধবার জীবন খুব কাছে থেকে দেখেছি। বিয়ের সময় বাড়িতে বিধবা বিয়ের আগ্রহের কথা জানালে খুব তিরস্কার করা হয় আমাকে। ছি! এতটা নিচে নেমে গেলি তুই? ঘর সংসার করা মেয়েকে তুই? এমন কথা কানে শুনতে হয়েছিল! পরে সে সুযোগ হয়নি আর।
আমরা বিধবা বিয়েকে ঘৃণা না করি। এটি একটি সুন্নাহ। উম্মুল মুমিনিন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা ছাড়া আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সকল স্ত্রীই বিধবা বা তালাকপ্রাপ্ত ছিলেন। সচেতনতা বাড়াই নিজেদের মধ্যে। এগিয়ে আসি।
আমরা কি পারি না, এই অসহায় মা-বোনগুলোর প্রতি একটু ভালবাসা আর মুহাব্বতের দৃষ্টি দিতে? আর বিধবা আশ্রিত মা-বাপ-ভাইদের চেহারায় হাসি দেখতে?

টিকাঃ
১৪৯ লিখেছেন: মাওলানা সারোয়ার সাহেল।

আমরা একটা সুন্নাতকে আবার জাগাতে পারি!
বিধবা মা-বোনের সংখ্যা সমাজে কম নয়। সমাজ এদের আড়াল করে রাখে। এখন পুরুষের জন্য বিধবা বিয়ে লজ্জার বিষয়। তালাকপ্রাপ্ত ব্যক্তির সাথেও এমনি আচরণ করা হয়। যেকোনো কারণে বিয়ে ভেঙ্গে যেতে পারে—আল্লাহর ইচ্ছায়। আল্লাহ তায়ালা মানুষকে তো আর ফেরেশতা করে দুনিয়াতে পাঠায়নি। বিধবা বা তালাকপ্রাপ্ত বলে অনেক পুরুষ বিশাল হাদিয়া দাবী করে! এমন ভাব ধরে যেন সে অনেক বড় ইহসান করে ফেলেছে! আল্লাহ পানাহ।
আমার কাছে বিধবা বিয়েটা সম্মানের মনে হয়। কারণ, বিশেষ করে এখানে একজন নারীর আশ্রয়ের বিষয় জড়িত। বিধবার জীবন খুব কাছে থেকে দেখেছি। বিয়ের সময় বাড়িতে বিধবা বিয়ের আগ্রহের কথা জানালে খুব তিরস্কার করা হয় আমাকে। ছি! এতটা নিচে নেমে গেলি তুই? ঘর সংসার করা মেয়েকে তুই? এমন কথা কানে শুনতে হয়েছিল! পরে সে সুযোগ হয়নি আর।
আমরা বিধবা বিয়েকে ঘৃণা না করি। এটি একটি সুন্নাহ। উম্মুল মুমিনিন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা ছাড়া আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সকল স্ত্রীই বিধবা বা তালাকপ্রাপ্ত ছিলেন। সচেতনতা বাড়াই নিজেদের মধ্যে। এগিয়ে আসি।
আমরা কি পারি না, এই অসহায় মা-বোনগুলোর প্রতি একটু ভালবাসা আর মুহাব্বতের দৃষ্টি দিতে? আর বিধবা আশ্রিত মা-বাপ-ভাইদের চেহারায় হাসি দেখতে?

টিকাঃ
১৪৯ লিখেছেন: মাওলানা সারোয়ার সাহেল।

📘 বিয়ে অর্ধেক দ্বীন > 📄 একজন বিধবা নারীর কান্না যে কত অসহনীয়!

📄 একজন বিধবা নারীর কান্না যে কত অসহনীয়!


এক দম্পত্তিদের সংসার চলছে খুব ধুমধামে, আমোদ-প্রমোদে, একদিন স্বামী স্ত্রীকে বলল-আমি দ্বিতীয় বিবাহ করতে চাই একজন বিধবা নারীকে, ঐ বিধবা নারীর স্বামীর আরো দুটি সন্তান রেখে ইন্তেকাল করার পরে তাদের দেখাশোনার কেউ নেই, যার কারণে ঐ বিধবা নারী অতি কষ্টে দিন-যাপন করছে, আমি তাকে বিবাহ করে তার সমস্যাগুলোর সমাধানে সাহায্য করতে চাই।
স্ত্রী বলল-কেনো বিবাহ করবেন, আমি কি আপনার জন্য যথেষ্ট নই? আপনার চাওয়া-পাওয়ার ব্যাপারে কি কোনো কমতি করছি? বা কোনো অন্যায় করেছি? দরকার হলে আপনি ঐ বিধবা মহিলাকে আর্থিক সাহায্য সহযোগীতা করুন, তবুও আপনাকে বিবাহ করতে দেয়া হবেনা।
যদি দ্বিতীয় বিবাহ করেন তাহলে আমি আপনার সংসারে থাকবোনা- এমনও হতে পারে আত্মহত্যা করব।
স্বামী বেচারা স্ত্রীর কথা শুনে কষ্ট পেল ও ভয় পেল এবং বলল যে, ঠিক আছে আমি দ্বিতীয় বিবাহ করবো না। এভাবে চলতে লাগলো তাদের আনন্দময় সুখের সংসার।
প্রায় দুবছর পর হঠাৎ স্বামী অসুস্থ হয়ে পড়লো, কিছুদিন হাসপাতালে চিকিৎসা হল-সুস্থ হলোনা, ডাক্তার বলল-বাড়িতে নিয়ে যান, যা খেতে চায় তা খাওয়ান, হয়তো আপনার স্বামী বেশি দিন বাঁচবেনা। একথা শুনে স্ত্রীর মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়লো, পায়ের নিচের মাটিটাও যেন সরে গেল। কি আর করার, স্বামীকে বাড়িতে নিয়ে এল আর দিনরাত কান্না করে আল্লাহর কাছে হায়াত বৃদ্ধির দুআ করতে লাগলো। একদিন রাতে সবাই ঘুমিয়ে পড়লো, স্বামী ও স্ত্রীর কথপোকথন শুরু হল-

স্বামী : আমি তোমার জন্য কিছুই করতে পারলামনা, হয়ত আর বেশিদিন তোমার কাছে আমাকে পাবেনা, কখন যেন ডাক পড়ে যায় চিরনিদ্রায় শায়ীত হবো, চলে যাব অচিনদেশে। যেখানে নেই কোন আপনজন-স্ত্রী কথাগুলো শুনছে আর অঝরধারায় কান্না করছে, কে থামাবে তার কান্না? এই যেন শুরু হবে তার জীবনের দুঃখ-কষ্টের অকুল নদীর শ্রোত।
স্বামী বলতেই লাগলো-হে আমার প্রাণপ্রিয় স্ত্রী! তোমাকে কিছু ওসিয়ত করছি মন দিয়ে শোনো-কোনো একদিন যদি মৃত্যু এসে যায়, কবরে চলে যাই। তুমি আমার কথাগুলো মেনে চলবে,
আমি মরে গেলে, তুমি আমার যে সন্তানগুলো আছে তাদেরকে দেখে রেখো। তাদের পড়াশুনা করিও এবং তুমি তোমার পছন্দমত একজন জীবনসাথীকে বিবাহ করে সংসার করিও এবং আমার সন্তানদের খোঁজখবর রেখো।
এভাবে বলতেছিল আর স্ত্রীর দুচোখ যেন সাগরের পানিতে বিনাশ হতে ছিল, একপর্যায়ে তারা ঘুমিয়ে পড়লো, সকালে ঘুম ভাঙ্গলো স্ত্রীর, স্বামীর দিকে নজর পড়তেই কান্না জুড়ে দিল, কারণ স্বামী আর তার সাথে উঠতে পারবেনা, চলে গেলেন চিরদিনের জন্য।
দাফন-কাফন সমাপ্তি হল, এরপর কিছুদিন এভাবেই চলতে লাগলো, সবার মন মরা, কারো মনে আগের মত সেই আনন্দ নাই।
স্বামী যে সম্পদ রেখে গেছে তা বিক্রি করতে করতে প্রায় শেষ, জমি বিক্রি করলো, গরু-ছাগল বিক্রি করলো, নিজে অন্যের বাড়িতে কাজ করবে তাও সে পারছেনা, কারণ, বয়স কম, যুবতী মহিলা। যে পুরুষই তাকে দেখে সেই খারাপ চরিতার্থের প্রস্তাব দেয়। কোথাও যেন বের হতেই পারেনা, কেউ বিবাহের জন্য প্রস্তাব দেয়না, পর-পুরুষগুলোও চায় অবৈধ সম্পর্ক করতে, তাই সে অন্য কোনো কাজও করতে পারেনা। এদিকে বাচ্চাদের খাবার জোগাড় করার কোনো ব্যবস্থা নাই। শেষমেষ সন্তানদের নিয়ে বাপের বাড়িতে চলে আসলো। বাবা-মা নেই, আছে ভাই-ভাবি। এখানে কিছুদিন থাকার পর ভাবিও দিনদিন বিভিন্ন ধরনের খোঁটা দিয়ে কথা বলে। বাবার বাড়িতে থাকাও যেন কষ্টকর হয়ে উঠেছে। তবুও কি করবে-যাওয়ার কোনো পথ নেই। এখন সে অনুভব করতে লাগলো-তার এখন দরকার আলাদা একটা ঘরের। যার কাছে মনের কষ্টগুলো বলতে পারে এরকম একজনকে দরকার। যে তার সমস্যাগুলো সমাধান করবে। কি করবে, কোথায় পাবে, কেউ তো তাকে বিবাহও করবেনা, বিবাহ করলেও তার সন্তানদের কি করবে ভেবে পাচ্ছেনা, তার সুখের জীবনটাই যেন যন্ত্রনার আগুনে দ্রোহ হচ্ছে আর দিনরাত কান্না করছে, কোনো লাভ হয়না। একজন বিধবা নারীর এরপর কি হতে পারে, পাঠক একটু চিন্তা করুন প্লিজ!

আপনি আমি কি চিন্তা করছি?
হে বোন! তুমি যেমন তোমার স্বামীকে একাই চাও, সে মরে গেলে তুমিও বিধবাই হবে, বোন! তোমাকেই বলছি, তুমি অন্য বিধবার প্রতি সহানুভূতিশীল হও, তোমার প্রতি আল্লাহ সদয় হবেন।
প্রিয় পাঠক! আল্লাহ পুরুষদেরকে বহুবিবাহের অনুমতি দিয়েছে, তার কারণও অনেক। চিন্তা করুন।
সমাপ্ত

টিকাঃ
১২০ লিখেছেন: Faisal R Mahbub

এক দম্পত্তিদের সংসার চলছে খুব ধুমধামে, আমোদ-প্রমোদে, একদিন স্বামী স্ত্রীকে বলল-আমি দ্বিতীয় বিবাহ করতে চাই একজন বিধবা নারীকে, ঐ বিধবা নারীর স্বামীর আরো দুটি সন্তান রেখে ইন্তেকাল করার পরে তাদের দেখাশোনার কেউ নেই, যার কারণে ঐ বিধবা নারী অতি কষ্টে দিন-যাপন করছে, আমি তাকে বিবাহ করে তার সমস্যাগুলোর সমাধানে সাহায্য করতে চাই।
স্ত্রী বলল-কেনো বিবাহ করবেন, আমি কি আপনার জন্য যথেষ্ট নই? আপনার চাওয়া-পাওয়ার ব্যাপারে কি কোনো কমতি করছি? বা কোনো অন্যায় করেছি? দরকার হলে আপনি ঐ বিধবা মহিলাকে আর্থিক সাহায্য সহযোগীতা করুন, তবুও আপনাকে বিবাহ করতে দেয়া হবেনা।
যদি দ্বিতীয় বিবাহ করেন তাহলে আমি আপনার সংসারে থাকবোনা- এমনও হতে পারে আত্মহত্যা করব।
স্বামী বেচারা স্ত্রীর কথা শুনে কষ্ট পেল ও ভয় পেল এবং বলল যে, ঠিক আছে আমি দ্বিতীয় বিবাহ করবো না। এভাবে চলতে লাগলো তাদের আনন্দময় সুখের সংসার।
প্রায় দুবছর পর হঠাৎ স্বামী অসুস্থ হয়ে পড়লো, কিছুদিন হাসপাতালে চিকিৎসা হল-সুস্থ হলোনা, ডাক্তার বলল-বাড়িতে নিয়ে যান, যা খেতে চায় তা খাওয়ান, হয়তো আপনার স্বামী বেশি দিন বাঁচবেনা। একথা শুনে স্ত্রীর মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়লো, পায়ের নিচের মাটিটাও যেন সরে গেল। কি আর করার, স্বামীকে বাড়িতে নিয়ে এল আর দিনরাত কান্না করে আল্লাহর কাছে হায়াত বৃদ্ধির দুআ করতে লাগলো। একদিন রাতে সবাই ঘুমিয়ে পড়লো, স্বামী ও স্ত্রীর কথপোকথন শুরু হল-

স্বামী : আমি তোমার জন্য কিছুই করতে পারলামনা, হয়ত আর বেশিদিন তোমার কাছে আমাকে পাবেনা, কখন যেন ডাক পড়ে যায় চিরনিদ্রায় শায়ীত হবো, চলে যাব অচিনদেশে। যেখানে নেই কোন আপনজন-স্ত্রী কথাগুলো শুনছে আর অঝরধারায় কান্না করছে, কে থামাবে তার কান্না? এই যেন শুরু হবে তার জীবনের দুঃখ-কষ্টের অকুল নদীর শ্রোত।
স্বামী বলতেই লাগলো-হে আমার প্রাণপ্রিয় স্ত্রী! তোমাকে কিছু ওসিয়ত করছি মন দিয়ে শোনো-কোনো একদিন যদি মৃত্যু এসে যায়, কবরে চলে যাই। তুমি আমার কথাগুলো মেনে চলবে,
আমি মরে গেলে, তুমি আমার যে সন্তানগুলো আছে তাদেরকে দেখে রেখো। তাদের পড়াশুনা করিও এবং তুমি তোমার পছন্দমত একজন জীবনসাথীকে বিবাহ করে সংসার করিও এবং আমার সন্তানদের খোঁজখবর রেখো।
এভাবে বলতেছিল আর স্ত্রীর দুচোখ যেন সাগরের পানিতে বিনাশ হতে ছিল, একপর্যায়ে তারা ঘুমিয়ে পড়লো, সকালে ঘুম ভাঙ্গলো স্ত্রীর, স্বামীর দিকে নজর পড়তেই কান্না জুড়ে দিল, কারণ স্বামী আর তার সাথে উঠতে পারবেনা, চলে গেলেন চিরদিনের জন্য।
দাফন-কাফন সমাপ্তি হল, এরপর কিছুদিন এভাবেই চলতে লাগলো, সবার মন মরা, কারো মনে আগের মত সেই আনন্দ নাই।
স্বামী যে সম্পদ রেখে গেছে তা বিক্রি করতে করতে প্রায় শেষ, জমি বিক্রি করলো, গরু-ছাগল বিক্রি করলো, নিজে অন্যের বাড়িতে কাজ করবে তাও সে পারছেনা, কারণ, বয়স কম, যুবতী মহিলা। যে পুরুষই তাকে দেখে সেই খারাপ চরিতার্থের প্রস্তাব দেয়। কোথাও যেন বের হতেই পারেনা, কেউ বিবাহের জন্য প্রস্তাব দেয়না, পর-পুরুষগুলোও চায় অবৈধ সম্পর্ক করতে, তাই সে অন্য কোনো কাজও করতে পারেনা। এদিকে বাচ্চাদের খাবার জোগাড় করার কোনো ব্যবস্থা নাই। শেষমেষ সন্তানদের নিয়ে বাপের বাড়িতে চলে আসলো। বাবা-মা নেই, আছে ভাই-ভাবি। এখানে কিছুদিন থাকার পর ভাবিও দিনদিন বিভিন্ন ধরনের খোঁটা দিয়ে কথা বলে। বাবার বাড়িতে থাকাও যেন কষ্টকর হয়ে উঠেছে। তবুও কি করবে-যাওয়ার কোনো পথ নেই। এখন সে অনুভব করতে লাগলো-তার এখন দরকার আলাদা একটা ঘরের। যার কাছে মনের কষ্টগুলো বলতে পারে এরকম একজনকে দরকার। যে তার সমস্যাগুলো সমাধান করবে। কি করবে, কোথায় পাবে, কেউ তো তাকে বিবাহও করবেনা, বিবাহ করলেও তার সন্তানদের কি করবে ভেবে পাচ্ছেনা, তার সুখের জীবনটাই যেন যন্ত্রনার আগুনে দ্রোহ হচ্ছে আর দিনরাত কান্না করছে, কোনো লাভ হয়না। একজন বিধবা নারীর এরপর কি হতে পারে, পাঠক একটু চিন্তা করুন প্লিজ!

আপনি আমি কি চিন্তা করছি?
হে বোন! তুমি যেমন তোমার স্বামীকে একাই চাও, সে মরে গেলে তুমিও বিধবাই হবে, বোন! তোমাকেই বলছি, তুমি অন্য বিধবার প্রতি সহানুভূতিশীল হও, তোমার প্রতি আল্লাহ সদয় হবেন।
প্রিয় পাঠক! আল্লাহ পুরুষদেরকে বহুবিবাহের অনুমতি দিয়েছে, তার কারণও অনেক। চিন্তা করুন।
সমাপ্ত

টিকাঃ
১২০ লিখেছেন: Faisal R Mahbub

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00