📄 জন্মানিয়ন্ত্রণের কুফলেই সন্তান জন্মদানে অক্ষমতা বাড়ায়
জন্মনয়িন্ত্রণ বা পরবিার পরকিল্পনা সাধারণ অবস্থায় হারাম এবং নাজায়জে। জন্মনিয়ন্ত্রণ আমাদের সমাজে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অভাব-অনটনের ভয়ে এবং ছোট ও সুখী পরিবার গড়ার লক্ষ্যইে হয়ে থাকে, যা কুরআন হাদিসের সরাসরি বিরোধিতা এবং 'আল্লাহ সমস্ত মাখলুকের রিযিকদাতা'-এ বিশ্বাসের চরম পরিপন্থী, কুফর বা ঈমান বিধ্বংসী। তাই এই উদ্দেশ্যে কোনো প্রকার জন্মনিয়ন্ত্রণ করা সম্পূর্ণ হারাম। কিন্তু ইসলামিক শরিয়তে বৈধ হলো-নির্দিষ্ট উষর থাকলে স্থায়ী এবং অস্থায়ী উভয় প্রকার জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করার সুযোগ রয়েছে।
জন্মন্মনিয়ন্ত্রণের কুফলেই সন্তান জন্মদানে অক্ষমতা বাড়ায়
বাংলাদেশে বর্তমান নিঃসন্তান দম্পতির সংখ্যা প্রায় ৩০ লক্ষ। সত্যিই অবাক হওয়ার মত। আবার এই রেট ক্রমেই বাড়ছে। ইনফার্টিলিটি ট্রিটমেন্ট সেন্টারগুলোতে গেলেই বুঝা যায়-কি হারে বাড়ছে এই হার। আর নিঃসন্তান দম্পতির দীর্ঘশ্বাস সত্যিই খুব করুণ।
একটা প্রশ্ন সহজেই মাথায় আসে, আজ থেকে মাত্র ১০০ বছর আগেও অর্থাৎ আমাদের নানা দাদাদের সময় এরকম শোনা যায়নি। বরং বর্তমানে অনেকেই বলতে লজ্জা পায় আমরা ১১ ভাই ৯ বোন।
কেনো এই সামান্য সময়ে এত পরিবর্তন?
কারণগুলোর ভিতর আমার কাছে মনে হয়- প্রথমত বিয়ের পর পর আল্লাহর নেয়ামতকে অস্বীকার কর।। সন্তান আল্লাহর অনেক বড় নেয়ামত।
অনেকেই মনে করেন সবেমাত্র বিয়ে হল আরও ২-৪ বছর ইনজয় করি, ক্যারিয়ার গড়ি, তারপর বাচ্চা নেওয়ার চিন্তা করব। এরপর পিল খাওয়া শুরু হয়। হ্যাঁ, সব ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি এড দেয় সম্পূর্ণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া মুক্ত আমাদের এই পিল।
একটা জিনিস সহজে বোঝা যায়—সিগারেট কোম্পানীগুলো কখনও সিগারেটের বদনাম করবেনা। যেটুকু করে সরকার বাধ্য করে তাই করে।
একটা জিনিস চিন্তা করুন, প্রতি মাসে একজন মহিলা ১০-১৫ টা পিল খাচ্ছেন। যেটা প্রতি পিরিওড চলাকালে হরমোনাল চেঞ্জ নিয়ে আসছে, যেটা স্পার্ম এবং ওভামকে উর্বর করতে দিচ্ছে না।
এভাবে ৩ বছর চলার পর স্বাভাবিক হরমোনাল কন্ডিশন অনেক ক্ষেত্রেই ফিরে আসে না।
বিজ্ঞানের আরেক আবিষ্কার ইমারজেন্সি পিল। এটা এক্সিডেন্টাল প্রেগন্যান্সি এড়াতে ব্যবহার হয়। একটোপিক প্রেগন্যান্সির সবচে' বড় কারণ এই ইমারজেন্সি পিল। একটোপিক প্রেগন্যান্সি ভয়াবহ জিনিস। যেটা সংক্ষেপে বাচ্চা হবে, কিন্তু বাচ্চা ইউট্রাসে না হয়ে অন্য কোন যায়গায় হবে এবং বাচ্চা বড় হয়ে যাওয়ার পর আল্ট্রাসোনোগ্রাফিতে ধরা পড়লে ইউট্রাস কাটা ছাড়া আর উপায় থাকে না।
হ্যাঁ, বাচ্চা কন্সিভ হয়ে গেছে, এরপর আরেক আবিস্কার এমএম কিট। যেটা ইউট্রাস থেকে বাচ্চা সদৃশ বস্তুকে ছুঁড়ে ফেলে দেয়। প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়।
একটা মায়ের উপর এতগুলো ধকল চালানোর পর যখন ৩-৪ বছর পার হয়, তখন চিন্তা করে এবার একটা বাচ্চা চাই। আল্লাহ ততদিনে অসন্তুষ্ট হয়ে নেয়ামতকে উঠিয়ে নেন। এবার দৌড় শুরু হয় ইনফার্টিলিটি সেন্টারে।
মহিলাদের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে কয়েকটি—
অতিরিক্ত চাপে থাকা। বিশেষ করে চাকরিজীবি মহিলাদের ক্ষেত্রে। ঘরেও চাপ অফিসেও চাপ। আবার থাকে বসদের যৌনহয়রানী। এজন্যই দেখা যায়, গৃহীনি মহিলা থেকে চাকরিজীবি মহিলাদের ইনফার্টিলিটি রেট বেশি।
আর সবচে' গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো অধিক সময় জন্মনিয়ন্ত্রন করা। অন্যদিকে পুরুষের প্রধানত কোনো ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট এককে যদি স্পার্ম সংখ্যা ২০ মিলিয়নের কম হয়ে যায়, তখন ইনফার্টিলিটিতে চলে যায়।
এর অনেকগুলো কারণের মধ্যে বড় একটা কারণ ধুমপান, ড্রাগস বা যেকোনো ধরনের নেশা। এছাড়া পরিবেশ দূষণও একটা বড় কারণ।
অতিরিক্ত তাপমাত্রা বা শব্দে যারা লম্বা সময় কাজ করে এটাও একটা কারণ। আর একটা উল্লেখযোগ্য কারণ হল টাইট পোষাক। স্কিন টাইট জিন্স। যেটা পরলে অতিরিক্ত চাপের কারণে স্পার্ম সংখ্যা হ্রাস পেতে পারে।
ক্যারিয়ার ক্যারিয়ার করে পারিবারিক ক্যারিয়ার ধ্বংস না করি। বিয়ের পরপর প্রথমবার আল্লাহ দিলেই বাচ্চা নিয়ে নেওয়া। তা না হলে বিয়ের পরের রোমান্স—দুই চার বছর পর সন্তান না হলে জানালা দিয়ে পালাবে।
সন্তানই হল পারিবারিক বন্ধনের প্রধান হাতিয়ার। বুঝতে পারলেন তো এবার?
টিকাঃ
১৩৮ ফতোয়ায়ে শামি: ৩/১৭১; ফতোয়ায়ে রহিমিয়া: ২/২৩৪; ফতোয়ায়ে রাহমানিয়া : ২/১২৫।
১৩৯ সম্পাদক কর্তৃক সংযোজিত।
১৪০ সংগৃহীত।
📄 নি:সন্তান ফারিয়ার গল্প
বিয়ের প্রতি ফারিয়ার আগ্রহ কম-ই ছিল বরাবর। পড়াশোনা শেষ করে ভাল চাকরি করে নিজেকে সমাজে তথাকথিত প্রতিষ্ঠিত করাই ছিল তার টার্গেট। একটা সময়ে এসে বাস্তবতার কাছে হার মানতেই হল তার। সামাজিক, পারিবারিক চাপের মুখে বিয়ে শেষমেষ করাই লাগল তার। বিয়ের পরেও আগের টার্গেটেই চলছিল সে, বাচ্চার কথা চিন্তাও করেনি এত তাড়াতাড়ি।
বিয়ে করতে বয়স ২৬/২৭ তার। কিন্তু এরপরে উচ্চশিক্ষা, চাকরি, এসবের জন্য ব্যস্ত থাকায় সন্তান এই টাইমে না নেয়াই তার ইচ্ছা ছিল।
এভাবে বয়স তার ৩০ পার হল, অনিচ্ছাসত্ত্বেও হঠাৎই এবার কন্সিভ করে ফেলল সে, কিন্তু সে সময়ে পিএইচডি-এর ফাইনাল দোরগোড়ায়, তাই সে আর তার হাজব্যান্ড যুক্তি করে এবরোশন করে ফেলল। ডাক্তার অবশ্য খুব নিষেধ করে বলেছিল—“ত্রিশ বছরের পরেও বাচ্চা নেননি আপনারা? এরপরে প্রব্লেম হতে পারে।” তবে ফারিয়া ভাবল—আর তো কয়দিন মাত্র, সামনের বছরেই ফাইনালের পরে বাচ্চা নিয়ে নিবে, এক বছর আর কী এমন দেরী!
কিন্তু এই ডিসিশানের জন্য যে এত পস্তাতে হবে তা ফারিয়া টের পেল, তবে আরো পরে!
গত দু'বছর ধরে ট্রাই করেছে, কিন্তু তার 'বাচ্চা নেয়া' আর হচ্ছে না! একবার কন্সিভ করেও মিস্ক্যারেজ হয়ে গেল কয়েক মাসের মাথায়। বাচ্চা নেয়াটা যে শুধুই নিজের হাতে না বরং স্রষ্টার হাতেই, তা যেন এবার হাড়ে হাড়ে টের পেল ফারিয়া। নিজের অতীতের সেই বাণীগুলো এখন মনে পড়লেই বুকের ভেতরে ছ্যাঁৎ করে উঠে—'আমি নিজের লাইফ সেটেল করি, এরপরে বাচ্চা নিয়ে তার লাইফ সেটেল করব।'—এই ডায়ালগ তার একটা কমন ডায়ালগ এবং মনের মধ্যে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা ধারণা ছিল। কিন্তু এখন সে বুঝছে লাইফ সেটেল করা, বাচ্চা নেয়া—এগুলোর জন্য মানুষ শুধু চেষ্টাই করতে পারে, আসল সেটেল করবেন তো আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা।
নামাযটা আগে সিরিয়াসলি পড়া না হলেও এখন এদিকে মন আসছে ফারিয়ার। আল্লাহর কাছে একটা সন্তানের জন্য অনেক কান্না করে। হয়তো তার হাজব্যান্ড কিছুটা বুঝে—যখন তাকে সিজদাহতে কাঁদতে দেখে।
এরপরেও কয়েক বছর গড়িয়ে গেল, সন্তানের মুখ এখনো দেখা হয়নি ফারিয়ার। কিন্তু তার মধ্যে একটা বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে!
একটা সময়ে নিজের এই দুর্বলতা, কষ্টকে অনেক বড় হাতিয়ার হিসেবে কাজে লাগায় ফারিয়া। বয়স আটত্রিশ, এখনো সন্তানের আশা ছাড়েনি ফারিয়া। তবে আগের মত হতাশায় আর থাকে না সে। এই না পাওয়াটাকেই এখন জীবনের সবচে' বড় পাওয়া মনে হয় ফারিয়ার!
কেনো?
কারণ, এই না পাওয়ার মাধ্যমেই জীবনের সবচে' বড় সত্যকে চিনতে পেরেছে সে। নিজের রবকে চিনেছে। রবের সাথে সম্পর্ক গভীর হয়েছে। আল্লাহ তায়ালাকে সবচে' কাছের বন্ধু হিসেবে পেয়ে, তার কাছে মনের সব কষ্ট শেয়ার করা কী যে আনন্দ তা ফারিয়া আগে চিন্তাও করেনি!
আগেও ফারিয়া নামায পড়ত, যদিও নিয়মিত না। রোজা রাখত। কুরআন পড়তো। ধর্মীয় বইও পড়ার চেষ্টা করতো। কিন্তু সেই ইসলাম আর তার অন্তরে প্রবেশ করা বর্তমান এই ইসলাম আকাশ পাতাল ব্যবধান-তা সে এখন বুঝে।
সাইন্স পড়া ফারিয়ার ছোট থেকেই ম্যাথ খুব পছন্দ ছিল। সেই ভালবাসার ফসলই তাকে পিএইচডি পর্যন্ত নিয়ে গেছিল। ঘন্টার পর ঘন্টা ম্যাথ-ফিজিক্সের জটিল সব বিষয় নিয়ে পড়ে থাকতে অপার্থিব আনন্দ পেত ফারিয়া।
এখনো সে এই আনন্দ পায়, বরং আরো বহুগুণে বেশিই পায়, তবে ইন্টারেস্টের সেক্টরটা জাস্ট চেইঞ্জ হয়ে গেছে। এখন অপার্থিব সেই আনন্দ পায় আল্লাহর সামনে সালাতে (নামায) দাঁড়িয়ে, কুরআন-হাদিস, ইসলামি বই পড়ে, ইসলাম শিখার চেষ্টা করে, আশেপাশের মানুষকে দাওয়াহ (ইসলাম শিখানোর চেষ্টা) দিয়ে। ফারিয়া ইসলামের কাজগুলো 'করতে হবে/করা উচিত' এই হিসেবে করতো, কখনো ইচ্ছায় কখনো অনিচ্ছায়; আর এখন ইনজয় করে, সেই ম্যাথের মত বরং তার থেকেও বেশি। ভালবাসার কাজ তাই আর গাফলতি আসে না আগের মত।
আগে বেশ ফ্যাশন করত ফারিয়া, ড্রেস-অরনামেন্টস-ব্যাগ সব ম্যাচ করে বেড়াতে যাওয়া লাগত তার। কিছুদিন পর পর কতগুলো নতুন ড্রেস না নিলে ভালই লাগত না। এখন এই বাহুল্যতা সে ত্যাগ করেছে। ইসলামের ছায়াতলে এসে বুঝতে শিখেছে, নিজের অপ্রয়োজনে কিছু ড্রেস কেনার থেকে অভাবি কাউকে সেটা কিনে দেয়াতে অনেক বেশি আনন্দ এবং লাভ। লাভ হওয়ার কারণ হলো-আল্লাহ তায়ালার সাথে ব্যবসা। আল্লাহর সাথে সে ঠিক নিয়তে ব্যবসা করবে, আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই তাকে ইহকাল এবং পরকালে পরম শান্তি এবং সাফল্য দিয়ে ভরিয়ে দিবেন।
এখন ফারিয়া বাহুল্য ত্যাগ করেছে, বাইরে বের হওয়ার জন্য কালো বোরকায় নিজেকে আবৃত করে নিয়েছে আপাদমস্তক। এখন ফ্যাশন মেইন্টেইন করা লাইফটাকে খুব জটিল মনে হয় তার, তবে হাজব্যান্ডের সামনে, নিজের রবের সামনে সালাতে দাঁড়াতে পরিপাটি থাকার চেষ্টা করতে সে আনন্দ পায়।
সন্তান না পেলেও মানসিক শান্তি সে পাওয়া আরম্ভ করেছে আগের থেকে বহুগুণে। বাইরে থেকে মানুষ দেখে হয়ত ভাবে-আহারে! কষ্টে মেয়েটা নিজের সব সাধ আহ্লাদ বাদ দিয়েছে। কিন্তু বাস্তব হলো-সে এখন রবের সাথে তার কমিটমেন্ট পুরা করার ইচ্ছাতেই তৃপ্তি, শান্তি। আনন্দের সাথে দুনিয়াবি অনেক কাজ, অনেক এট্রাকশন বাদ দিয়েছে। ড্রেস-অরনামেন্টস ম্যাচ করে বাইরে যাওয়া একটা মেয়ে এখন বোরকাতে আবৃত হয়ে প্রশান্তি পায়। সালাত (নামায) না পড়া একজন মানুষ কখনোই বুঝবে না সিজদাহতে রবের সান্নিধ্যে যাওয়া কত প্রশান্তির।
সবশেষে...
সন্তানের ট্রাই করতে করতে কম ডাক্তার আর ওয়েব, বই ঘাটাঘাটি করেনি ফারিয়া। কিছু জিনিস বুঝল এক সময় সে। আর তা হল-
বছরের পর বছর ধরে বার্থ কন্ট্রোল পিল খেতে খেতে এবং বার্থ কন্ট্রোলের বিভিন্ন সিস্টেম-যার মাধ্যমে শরীরের কিছু পরিবর্তন আনা হয় সেগুলা করে সে নিজ হাতে তার শরীরের অনেক ক্ষতি করে ফেলেছে। শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যহত করেছে। আর তাই হয়ত এখন স্বাভাবিকভাবে কন্সিভ করা তার হচ্ছে না।
প্রথম বাচ্চা নিতে দেরি হলে এরপরে বয়সের সাথে সাথে রিস্ক না হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বাড়ে।
কোনো এবরোশন করা হলে সেটাও শরীরের স্বাভাবিক সিস্টেমের বিরুদ্ধে যায়, মা এবং পরবর্তী বাচ্চা আসা দুজনের জন্যই সমস্যার কারণ হতে পারে।
আর সে যে এবরোশনটা করালো, সে বাচ্চার কথা মনে পড়লে দু'চোখ পানিতে ভরে যায়। আমি একজন বড় খুনী-ভাবে ফারিয়া। সমাজে অনেক খুনীর বিচার হয় কিন্তু এই গোপন খুনীগুলার বিচার নাই! নিজে মা হয়ে নিজের বাচ্চাকে আমি কিভাবে মারতে পারলাম! এতো পাষন্ড আমি?!
মাঝে মাঝে কাছের মানুষগুলোর উপরে রাগ লাগে-এই বাস্তবতা কেনো কেউ আমাকে বলেনি, বোঝায়নি!
বিয়ে করতে না চাওয়া, বাচ্চা না নিতে চাওয়া, এবরোশন করানো-এগুলো সব নিজের ভুল হিসেবেই বুঝে ফারিয়া, তাই অন্য মেয়েদেরকে এই ব্যাপারগুলি বোঝায়। সাথে এটাও বুঝায় যে-বিয়ে-সন্তান এগুলো তাকদিরের (ভাগ্যের) ব্যাপার। আল্লাহ যেভাবে দিবেন সেভাবেই হবে। তবে মানুষের চেষ্টার জন্য আল্লাহ অনেক কিছুই দিতে পারেন।
সন্তান দেয়া না দেয়ার ব্যাপারটাতে ফারিয়া একটা উদাহরণ সবসময় দেয়, তা হলো—আমাদের দুই উম্মুল মুমিনীন খাদিজা আর আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহুন্নার কথা।
খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহা দুইবার বিয়ের পর বিধবা হয়ে চল্লিশ বছরে এসে আল্লাহর রাসুলের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেও এই বয়সের পরেই আল্লাহর রাসুলের ঘরে অনেক সন্তানের জন্ম দেন।
অপরদিকে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একমাত্র কুমারী স্ত্রী ছিলেন (আগে কোনো বিয়ে হয়নি এমন একমাত্র স্ত্রী)। যৌবনের প্রথম সময়ই ছিলেন আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঘরে, তবুও কোনো সন্তানের মুখ দেখতে পাননি।
সন্তান না পাওয়া মেয়েদেরকে তাই ফারিয়া অনুপ্রাণিত করে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার জীবন থেকে শিক্ষা নিতে, নিজেও তা-ই করে। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা ছিলেন অনেক বড় মুহাদ্দিস, তার মতো কিছুটা হলেও তো আমরা হওয়ার চেষ্টা করতে পারি—বলে ফারিয়া।
ফারিয়া আরো বলে—নিঃসন্তান হওয়ার পাশাপাশি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বিধবাও হন তারুণ্যেই এবং আর কোন বিয়ে করারও তার রাস্তা ছিল না (আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীগণকে আল্লাহ তায়ালা মুমিনদের মা তথা উম্মুল মুমিনীন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, তাই আল্লাহর রাসুলের মৃত্যুর পরে তার স্ত্রীদের আর বিয়ে করা জায়েজ ছিল না।), আমরা যারা নিঃসন্তান, তাদের পরীক্ষা তো এত কঠিন না, আমাদের স্বামী আছে বা গ্রহণ করার সুযোগ আছে আর তাই সন্তান হওয়ারও সুযোগ আছে, কারণ আল্লাহর রহমত থেকে আমরা কখনো নিরাশ হই না।
ফারিয়া তাই নিজে দুআ করা বন্ধ করেনি, সন্তান চাওয়ার ক্ষেত্রে অন্যদেরকেও করতে উৎসাহ দেয় এভাবে— "এতে আমার জন্য কল্যাণ থাকলে আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই দিবেন। আল্লাহ তায়ালা চাইলে যে কাউকে যা ইচ্ছা তাই দিয়ে ভরিয়ে দিতে পারেন, তবে আমাদের চাইতে হবে, চাওয়ার মত আস্থা রাখতে হবে, ভরসা করতে হবে তার ক্ষমতার উপর, তাঁর জ্ঞানের উপর (আমাদের জন্য কি ভাল, কি মন্দ তা অবশ্যই তিনি ছাড়া আর কেউ জানে না।)
টিকাঃ
১৪১ সন্তান নেবার ক্ষেত্রে বা পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে আমাদের আধুনিক প্রজন্মরা এমন ভাব নেয় যেন মনে হয় সন্তান নেয়া না-নেয়া তাদের ইচ্ছাধীন। কয়টা নিবে, কত বছর পর পর নিবে, একদম সুন্দর পরিকল্পনা তারা এঁটে ফেলে। এই রকম বিশ্বাস শিরক। বান্দা হাজারো চেষ্টা করলেও মহান আল্লাহ না চাইলে সন্তান নিতে পারবে না। এটা কেবল আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছাধীন।-সম্পাদক।
১৪২ বি. দ্র: সন্তান চাওয়ার কিছু দুআ এবং আমল সংযোজিত করা হলো নিচে:
* Duas for infertile couples--https://islamqa.info/en/২৯১০
*ছোট্ট একটি আমলে জীবনের ৮টি প্রধান সমস্যার সমাধান ও একটি সারপ্রাইজ পুরষ্কার: https://www.youtube.com/watch?v=9Vm