📘 বিয়ে অর্ধেক দ্বীন 📄 একজন বোনের কলম থেকে

📄 একজন বোনের কলম থেকে


আমার যখন বিয়ে হয়েছিল আমি জানতাম আমার উপর আমার শাশুড়ির খেদমত করা ফরজ নয়, এমনকি বলতে গেলে এটা আমার দায়িত্বও নয়। তারপরও আমি আমার সাধ্যমত তাঁদের খেদমত করেছি। শাশুড়ির পছন্দে রান্না করাসহ তাঁকে নিজহাতে গোসল করিয়ে দেয়া, তাঁর উকুন বেছে চুল আঁচড়ে দেয়া, নখ কেটে দেয়া, সবকিছুই করেছি আমার সাধ্যেরও বাইরে গিয়ে। শুধু শাশুড়িরই নয়, আমার ননদরাও বয়সে আমার মায়ের সমবয়সী ছিলেন, তাঁরা বেড়াতে এলে আমার সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে তাঁদের সেবা করার চেষ্টা করেছি। আজ সময়ের ব্যবধানে আমরা কেউ আর কাউকে একটি নজর দেখারও সুযোগ পাচ্ছি না। সে কষ্টের দিনগুলো (যেহেতু আমি বাবার বাসায় কোনো কাজ-ই করতামনা, তাই আমার জন্য ঐ দিনগুলো ছিলো খুবই কষ্টের!) হয়তো হারিয়ে গেছে কিন্তু যা রয়ে গেছে তা হচ্ছে দুআ ও ভালোবাসা।

আমার মনে আছে, একদিন আমি রান্নাঘর থেকে ফিরে দেখি আমার দুই ননদ কিছু একটা নিয়ে হাসছেন। আমি জিজ্ঞেস করতেই বড় আপা সরল উত্তর দিলেন- "শুনেছিলাম শিক্ষিত মেয়েরা বেয়াদব হয়, শশুর শাশুড়ির খেদমাত করেনা, বড়দের সম্মান করেনা। কিন্তু তুমি সেরকম না!"
আমি তো লা জবাব! কী বলবো!! যা বলবো তা বলতে গেলে যদি কোনো কষ্ট দিয়ে ফেলি?! শুধু বললাম- "সত্যিকারের শিক্ষা তো মানুষকে বেয়াদব করেনা, বরং আরো বেশি বিনয়ী করে..।"
আরেকদিনের ঘটনা। আমার বিয়ের পরপরই আমার হাজব্যান্ড আমার জন্য ঢাকা থেকে একটা গিফট নিয়েছিল (সম্ভবত স্কার্ফ), আমার শাশুড়ি তখন বাসায়। আমি অবাক হয়ে গেলাম যে, আমার জন্য একটা গিফট আনলো অথচ মায়ের জন্য আনলো না, (মানুষটাকে তো আমি তখনো চিনিনি, যে একেকবার একেকজনের জন্য এনে অন্যদেরকে- “স্যরি! তোমাদের জন্য এবার কিছু আনলাম না" বলাই ওর স্বভাব! এবং এখনো ও এরকমই!) এরকমটা আমার মামা/চাচা/বাবাদের বেলায় কল্পনাও করা যায় না! আমি ওকে বললাম, আমি এটা এখন পরবো না, আগে মায়ের জন্য আনো। আমার নিজেকে তখন অপরাধী মনে হচ্ছিলো। আমি জানিনা ঘটনাটা ওর মনে আছে কিনা, ওর অন্যদিকে ফিরে চোখ মোছাটা কিন্তু আমার দৃষ্টি এড়ায়নি!!

আমি বিয়ের পর যখন প্রথম স্কলারশীপের টাকা পাই, তখন সম্পূর্ণটাই শাশুড়ি ও অন্যদের জন্য খরচ করি। উনারা বললেন-"তোমার বাবা-মা তোমাকে পড়িয়েছেন, তাঁদের-ই তো হক বেশি। আমি বললাম- "উনাদেরকে তো আগেও দিয়েছি, আপনাদেরকে দেয়ার জন্য আর পাবো কিনা তা তো জানি না।"
সেই শাশুড়ি এখন বেঁচে নেই। আমার ননদেরও এখন আর আমার বাসায় আসার সময়/সুযোগ নেই। যেটা আছে, সেটা হচ্ছে ভালোবাসা, ভালো ধারনা! মাঝে মাঝে মনে হয় আমার শাশুড়িকে বোধহয় আমার মায়ের চেয়েও বেশি ভালোবাসি। আজো মুনাজাতে চোখের পানি ফেলে তাঁর জন্য দুআ করি। ঐ সামান্য খিদমতের বিনিময়ে যে ভালোবাসা পেয়েছি, তা-ই হয়তো এখনো আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছে। মনে আছে, যখন প্রথম বাচ্চাটার জন্য রাতে ঘুমাতে পারতাম না, আমার শাশুড়ি ভোরে চুপি চুপি আমার ভাগ্নিকে ডেকে তুলতেন নাস্তা বানানোর জন্য, আমি টের পেলেই উঠে যাবো, সেজন্য নিঃশব্দে কাজ করার আপ্রাণ চেষ্টা চালাতেন। এরকম ভালোবাসা দেয়ার মত শাশুড়ি আমাদের ঘরে ঘরেই আছেন, আমরা সে ভালোবাসাটা আদায় করে নিতে জানিনা শুধু!

আমরা বাইরের মানুষগুলোর কাছে নিজেকে ‘well mannered’ প্রমাণিত করার জন্য কত স্যাক্রিফাইস-ই না করি, কিন্তু এই একটা প্রসঙ্গ এলেই কেন জানি নানান প্রশ্ন তুলি, ভীষণ নারীবাদী ও অধিকার সচেতন হয়ে উঠি! ইসলামের কোথায় লিখা আছে—শশুর-শাশুড়ির খিদমত করা জরুরী নয় সে দলিল খুঁজি, অথচ আমাদের শাশুড়িরাও যে আমাদেরকে ভালোবেসেই, আমাদের সন্তানগুলোকে লালনপালনে সহযোগিতা করেন, আমাদের অনেকেই জব করি বা বাইরে সময় দিই, সেক্ষেত্রে তাঁরাই তো আমাদের সংসারটা সামলান। অন্তত দেখে রাখেন। কারো কারো ক্ষেত্রে হয়তো ব্যতিক্রমও থাকতে পারে, কিন্তু অধিকাংশ ঘরেই এখন এই দৃশ্যগুলোই চোখে পড়বে বেশি। তখন কিন্তু আর আমরা কুরআন হাদিসের দলিল খুঁজি না যে, কোথায় আছে শাশুড়ি বৌকে রান্না করে খাওয়াতে হবে, কোথায় আছে বৌয়ের কষ্ট হবে বলে শাশুড়ি আর কোথাও যেতে পারবেনা। এ বেলায় কিন্তু আমরা ঠিকই ‘মানুষের জন্য মানুষ’ বুঝি। এক্ষেত্রে আমরা ঠিকই বুঝি ‘শাশুড়ি বৌয়ের কষ্ট না বুঝলে তিনি কিসের শাশুড়ি, তিনি মানুষ না!’ অথচ মাস শেষে বেতনটা হাতে পেলে আবার অধিকারবোধ জেগে উঠে, ১০টাকার একটা চুলের ব্যান্ড কিনে দিতেও আমি রাজী না, কেন দিব শাশুড়িকে, ‘আমার বেতনে কি শাশুড়ির হক আছে?’ ...ইত্যাদি।
আসলে বর্তমান নীতি বিবর্জিত শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষালাভ করে আমরা যোগ্য হচ্ছি, মোটা বেতনে চাকরি করার সুবাধে জামাইর কাছ থেকে হয়তো বাড়তি সম্মান (!) পাচ্ছি, কিন্তু ‘সত্যিকারের মানুষ হতে আর পারছি না’!’

টিকাঃ
১৩৬ নিতান্ত প্রয়োজন না হলে নারীদের জব করা জায়েয নয়। প্রয়োজনের সময়েও অনেকগুলো শর্ত মানার পরই জব করা যাবে অন্যথায় নয়।- সম্পাদক।
১৩৭ লিখেছেন: Humaira Siddiqah

📘 বিয়ে অর্ধেক দ্বীন 📄 স্ত্রীর ভালবাসা!

📄 স্ত্রীর ভালবাসা!


ঘরে ঢুকেই অবাক হয়ে গেল স্বামী। স্ত্রী ব্যাগ গোছাচ্ছে।
স্বামী: কোথায় যাচ্ছ তুমি?
স্ত্রী: বাবার বাড়ি।
স্বামী: কেন?
স্ত্রী : থাকব না আমি তোমার সঙ্গে।
স্বামী: আশ্চর্য! কী অন্যায় আমার?
স্ত্রী : আমার বাবা একটা ভুল মানুষের কাছে আমাকে বিয়ে দিয়েছেন।
স্বামী: বুঝলাম, কিন্তু আমার ভুলটা কি বলবে তো?
স্ত্রী: তুমি একদিনও তাহাজ্জুদ পড়ো না। (স্বামী নিশ্চুপ)
স্ত্রী: কুরআন তিলাওয়াত তো ছেড়েই দিয়েছো! (স্বামী নিশ্চুপ)
স্ত্রী: কথা ছিল একই প্লেটে খাবার খাবো, কথা রেখেছো? (স্বামী নিশ্চুপ)
স্ত্রী: একটাও তো ঠিক মত হচ্ছে না। কেন থাকব আমি তোমার সঙ্গে?
স্ত্রী ব্যাগ হাতে বের হয়ে যেতে উদ্যত। স্বামী পিছন থেকে স্ত্রীর একটা হাত ধরল।
স্বামী: যেও না। একটা সুন্নাত তো মানছি এখনও!
স্ত্রী: কোনটা? কোনটা মানছো, বলো?
স্বামী : তোমাকে ভালোবাসি। নবিজি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে ভালোবাসতেন।
স্ত্রী ব্যাগটা হাত থেকে নামাল। হাসবে না ভেবেও ফিক করে হেসে ফেলল। চোখে গভীর ভালোবাসা এনে তাকাল স্বামীর দিকে।
স্ত্রী: তাহলে বাকিগুলো মানছো না কেনো?
স্বামী: ভালোবাসা দিও। আরও উৎসাহ দিও। এখন থেকে মানব-কথা দিলাম। ইনশাআল্লাহ।
আল্লাহ তায়ালা যেন এমন একটি সুন্দর মনের মানুষকে জীবনসঙ্গী হিসাবে সবাইকে দান করেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية