📄 মহিলাদের করণীয় কাজ
১. ঈমান-আকিদা ও তাওহিদ পরিশুদ্ধ করা।
২. ইবাদত-বন্দেগী সুন্নাত তরিকায় করা।
৩. স্বামীর খেদমত করা।
৪. স্বামীর বৈধ হুকুম মান্য করা।
৫. স্বামীর মালের হেফাযত করা।
৬. নিজেকে পরিপূর্ণভাবে পর্দায় রাখা।
৭. সন্তান লালন-পালন ও দ্বীনী শিক্ষা-দীক্ষা দেওয়া।
৮. মহিলাদের মধ্যে দ্বীনী দাওয়াত পেশ করা ও দ্বীনের জরুরী কথার তালিম করা ইত্যাদি ইত্যাদি।
টিকাঃ
১৩২ মূল: শাইখুল হাদিস আল্লামা মুফতি মনসুরুল হক হাফিজাহুল্লাহ। মূল লেখাটি ঈষৎ পরিমার্জিত।
📄 পুরুষদের দায়িত্ব-কর্তব্য ও করণীয়
এতক্ষণতো মহিলাদের কি করণীয় আলোচনা করলাম তাই বলে পুরুষদেরও দায়িত্ব ও কর্তব্য আছে সেটা ভুলে গেলে চলবে না।
১. আল্লাহ তায়ালাকে পাওয়া এবং হেদায়েতের উপর কায়েম থাকার জন্য আল্লাহওয়ালাদের সোহবত, মহব্বত ও শ্রদ্ধা রাখা জরুরী।
২. দ্বীনের খেদমতে নিয়োজিত উলামায়ে কেরামের সমালোচনা না করা।
৩. ঈমানী বিষয়ের তালিমের মাধ্যমে নিজের ঈমান ও আকিদা-তাওহিদি বিশ্বাসকে সঠিক করা।
৪. ইবাদত তথা নামায, রোযা, কুরআনে কারিমের তিলাওয়াত, যাকাত, হজ্জ ইত্যাদি ইবাদতসমূহ সুন্নাত মোতাবেক সুন্দরভাবে করা।
৫. হালাল রিযিকের সন্ধান করা ও হারাম উপার্জন থেকে দূরে থাকা।
৬. মুআশারাত তথা বান্দার হক বিশেষ করে পিতা-মাতা বিবি-বাচ্চা ও অন্যান্যদের হক উলামায়ে কেরাম থেকে জেনে নিয়ে তা পরিপূর্ণভাবে আদায় করা।
৭. তাযকিয়া তথা আত্মশুদ্ধির চেষ্টা করা।
৮. জামাআতের সাথে ফরয সালাত আদায় করা।
৯. শিরক, বিদআত ও গুনাহ থেকে কঠোরভাবে বেঁচে থাকা।
১০. প্রতিটি কাজে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাত অনুযায়ী করার জন্য সুন্নত শিখতে থাকা, সুন্নাতের প্রশিক্ষণ নেয়া, ৩টি গুরুত্বপূর্ণ সহজ সুন্নাতকে আমলে আনা।
১১. কুরআন কারিম নিয়মিত তিলাওয়াত করা।
১২. আল্লাহ তায়ালার জিকির করা।
১৩. দৈনন্দিন সকাল-সন্ধ্যার দুআ পড়া。
📄 ইসলামে স্বামীর প্রতি স্ত্রীর কর্তব্য
১. যথাযথভাবে স্বামীর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা। নিজের আদব-আখলাক ও সেবার মাধ্যমে স্বামীর মন জয় করা এবং তার সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা। তবে শরিআত বিরোধী কোন কাজ হলে তাতে অপারগতা প্রকাশ করা।
২. স্বামীর সামর্থের অতিরিক্ত কোনো চাপ সৃষ্টি না করা।
৩. অনুমতি ছাড়া স্বামীর সম্পদ ব্যয় না করা।
৪. স্বামীর অনুমতি ছাড়া বাড়ির বাইরে না যাওয়া।
৫. স্বামীর অনুমতি ছাড়া কাউকে স্বামীর ঘরে আসতে না দেয়া।
৬. স্বামীর অনুমতি ছাড়া নফল রোযা না রাখা, তেমনিভাবে স্বামীর উপস্থিতিতে লম্বা সময় ধরে নফল নামায পড়তে হলে তার অনুমতি নিয়ে পড়া।
৭. স্বামী সহবাসের জন্য আহবান করলে শরঈ কোনো বাধা না থাকলে তার আহবানে সাড়া দেয়া।
৮. স্বামীর অসচ্ছলতা বা অসুন্দর আকৃতির জন্য তাকে তুচ্ছ না ভাবা।
৯. স্বামীর থেকে শরিয়ত বিরোধী কোন কাজ প্রকাশ পেলে আদবের সাথে তা বুঝিয়ে বলা।
১০. স্বামীকে মুরব্বী হিসেবে মান্য করা এবং তার নাম ধরে না ডাকা। তার সামনে রাগের সাথে বা বদ মেজাজের সাথে তর্ক না করা।
১১. কারো সামনে স্বামীর বদনাম বা সমালোচনা না করা।
১২. স্বামীর আত্মীয় ও আপনজনদের সাথে এমন ব্যবহার না করা যাতে তার মনে কষ্ট হয়। বিশেষতঃ নিজের পক্ষ থেকে স্বামীর পিতা-মাতাকে সেবার পাত্র মনে করে যথাসম্ভব শ্রদ্ধা প্রদর্শন ও খিদমত করা।
১৩. সন্তানদেরকে মায়া-মমতার সাথে লালন-পালন করা এবং তাদের খানা-পিনা, অযু-গোসল, পেশাব-পায়খানা, নামায-কালাম ইত্যাদির সুন্নাত তরিকা শিক্ষা দেয়া।
টিকাঃ
১০০ মূল: শাইখুল হাদিস আল্লামা মুফতি মনসুরুল হক হাফিজাহুল্লাহ। মূল লেখাটি ঈষৎ পরিমার্জিত।
📄 সংসার জীবনে সফল জনৈক বৃদ্ধার দুর্লভ সাক্ষাৎকার
বৃদ্ধা বলল- সাংসারিক জীবনে সুখ লাভ করার মূল চাবিকাঠি স্ত্রীর হাতে। একজন স্ত্রীই পারে তার বাড়িটিকে জান্নাত বানাতে। আবার স্ত্রীর অবহেলাতেই একটি ঘরে জাহান্নামের আগুন জ্বলে ওঠে। আপনি সম্পদের কথা বলছেন! সম্পদ দ্বারা কখনো পরিবারের শান্তি আসে না। অনেক ধনী নারীদের দেখছি চরম অস্থিরতায় দিনগুজরান করছে। কেউ কেউ এমনও আছে যে দশ সন্তানের জন্মদান করেছে অথচ সেও স্বামীর চোখে কাঁটার মতো। অনেক স্ত্রী রান্নার কাজে অসাধারণ। সারাদিন রাঁধে। কোনো ক্লান্তি নেই তার। তবুও স্বামী তার প্রতি অসন্তুষ্ট। এরকম অনেক মহিলাই আমার কাছে অভিযোগ নিয়ে আসে।
রিপোর্টার: তাহলে সাংসারিক সুখের মূলমন্ত্র কী? আপনি কোন শক্তিবলে সারাটা জীবন জান্নাতের শান্তিতে সংসার করেছেন?
বৃদ্ধা: আমার স্বামী যখন রেগে যেতেন তখন আমি নিশ্চুপ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতাম। অনুতপ্ততা প্রকাশ করার জন্য মাথা নিচু করে থাকতাম। কিন্তু সে চাহনি কখনো ঠাট্টার চাহনি ছিল না। কারণ তারও তো বুঝ-বুদ্ধি আছে। আপনি কীভাবে তাকাচ্ছেন তিনি কিন্তু সহজেই ধরে ফেলবেন।
রিপোর্টার: আচ্ছা আপনি তখন ঘর থেকে বের হয়ে যেতেন না কেন?
বৃদ্ধা: সর্বনাশ! বলে কী! তাহলে তো আমার স্বামী মনে করবে আমি পালাচ্ছি। আমি তার কথা শুনতে আগ্রহী নয়। ফলে তার রাগ আরো বেড়ে যাবে। আপনাকে সে সময় চুপ করে অনুতপ্ত মনে সব শুনে যেতে হবে। এভাবে আমার স্বামী যখন বকাঝকা শেষ করতো তখন বলতাম শেষ হয়েছে কি না? এরপর আমি ঘর থেকে বের হয়ে যেতাম। সে ক্লান্ত হয়ে চুপ করে বসে থাকতো। বের হয়ে আমি ঘরের কাজে মনযোগী হতাম। সন্তানদের লক্ষ্য করতাম।
রিপোর্টার: এরপর কী হতো! আপনি কি আপনার স্বামীর সাথে এক সপ্তাহ বা এক মাসের জন্য কথাবার্তা বন্ধ করে দিতেন?
বৃদ্ধা: আল্লাহ হেফাজত করুন। বলেন কি আপনি! এর দ্বারা কি সমাধান হবে! মনে রাখবেন স্বামীর সাথে কথা বন্ধ করা দোধারী তরবারির মতো। দুদিকেই কাটে। তার সাথে কথা বন্ধ রাখলে তার মন মেজাজ আরো বিগড়ে যাবে। কারণ, হয়তো সে চাচ্ছে আমার সাথে আপোশ করতে অথচ আমি সে সুযোগ দিচ্ছি না। আর মনে রাখতে হবে-ক্রোধ সীমা ছাড়িয়ে গেলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে মানুষ। তখন সে কোনো ভয়ংকর সীদ্ধান্ত নিয়ে নিতে পারে। যা সারাজীবন আমার জন্য আফসোসের কারণ হতে পারে। আরেকটি বিষয়ও মনে রাখবেন, স্বামীর রাগ স্থায়ী নয়।
রিপোর্টার: তাহলে আপনি তখন কী করতেন?
বৃদ্ধা: কিছুক্ষণ পর আমি এককাপ কফি বানাতাম বা এক গ্লাস জুস তৈরী করতাম। এরপর বিনয়ের সাথে বলতাম—আসো, এককাপ কফি খাই বা এক গ্লাস জুস খাই। কারণ, আমি জানি চিল্লাচিল্লি করে তার গলাটা এখন শুষ্ক হয়ে আছে। চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে সে আমাকে তখন বলত—রাগ করেছো? আমি তাকে বলতে দিতাম। সে তখন বিভিন্নভাবে ওযরখাহি করতো। নিজের ভুল স্বীকার করতো। আমাকে খুশী করার জন্য বিভিন্ন কথা বলতো।
রিপোর্টার: আপনি তার কথা বিশ্বাস করতেন? এতকিছু ঘটে যাবার পরও?
বৃদ্ধা: আপনি যে কী বলেন! সে যখন ক্রুদ্ধ তখনও তার কথা অবিশ্বাস করিনি। কোনো প্রতিবাদ করিনি। এখন তিনি শান্ত স্থির হয়ে আমার সাথে মীমাংসা করতে চাচ্ছে এখন তাকে অবিশ্বাস করবো কেনো! তার কথার প্রত্যুত্তর করবো কেনো! আমি কি এতোই বোকা!
রিপোর্টার মুগ্ধ হয়ে বলল, আসলেও আপনি মহৎ। আপনার চিন্তা-ভাবনা অনেক নিখুঁত ও সুদূর কল্যাণ-প্রসূত।
বৃদ্ধা: দেখুন, আমার জীবনের পরম চাহিদা হলো আল্লাহর পরে আমার স্বামীর সন্তুষ্টি। আমাদের সংসারের সুখ। আমি জানি একে অক্ষুন্ন রাখতে হলে আমাকেই তৎপর হতে হবে। ধন্যবাদ আপনাকে আমার সাক্ষাৎকার গ্রহণ করার জন্য। তবে আমি আশা করবো আমার কথাগুলো বিবাহিত সকল বোনের কাছে পৌঁছে দিবেন।
টিকাঃ
১৩৪ সাক্ষাতকারটি একটি আরবি পেজ থেকে সংগৃহিত ও অনূদিত।