📘 বিয়ে অর্ধেক দ্বীন > 📄 মহিলাদের বর্জনীয় অভ্যাস

📄 মহিলাদের বর্জনীয় অভ্যাস


১. ঈমান-আকিদা ও তাওহিদ সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন, ইবাদত, সহিহশুদ্ধভাবে কুরআন তিলাওয়াত, পিতা-মাতা, স্বামীর হক ও সন্তানের হক সম্পর্কে ইলম হাসিল করে না, অথচ জরুরত পরিমাণ ইলম অর্জন করা ফরয।
২. সময়ের পাবন্দি করে না।
৩. দুই তিন জন একত্রিত হলে অন্যের দোষ চর্চায় লিপ্ত হয়।
৪. সালাম দেয়ার অভ্যাস খুবই কম।
৫. চোগলখুরি তথা একের কথা অন্যের কাছে লাগানো অনেক মেয়েদের একটা বদ অভ্যাস।
৬. সাধারণত মহিলাদের মধ্যে নিজেকে প্রদর্শনের মানসিকতা অধিক লক্ষ্য করা যায়।
৭. বর্তমান মহিলারা সাজ-সজ্জার নামে অনেক নাজায়িজ ও হারাম কাজ করে থাকে।
৮. মহিলাদের জন্য সমস্ত শরীর আবৃতকারী মোটা কাপড়ের এমন ঢিলেঢালা পোষাক পরা জরুরী, যাতে করে শরীরের রং, ভাঁজ ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আকার আকৃতি বোঝা না যায়।
৯. অনেক মহিলারা বাহিরে পর্দা করে বের হলেও পরিবারিক জীবনে পর্দার ধার ধারে না।
১০. অনেকে বোরকা পরিধান করে কিন্তু চেহারা খোলা রাখে অথচ চেহারা সকল সৌন্দর্যের সমষ্টি, চেহারা আবৃত করা জরুরী।
১১. কোথাও কোনো প্রয়োজনে যেতে হলে অযথা ঘোরাঘুরি করে যাত্রা বিলম্ব করে।
১২. হাতে টাকা থাকুক বা না থাকুক, কোনো কিছু পছন্দ হলে তা অপ্রয়োজনীয় হলেও কিনতে হবে।
১৩. কেউ কোন উপকার করলে তার শুকরিয়া আদায় করে না। বিশেষত: ঘরের বউ-ঝিরা প্রশংসার যোগ্য কোনো কাজ করলেও শাশুড়ি কিংবা ননদরা তার শুকরিয়া আদায় করে না।
১৪. শাশুড়িরা অনেক সময় পুত্রবধূদের কাজের মেয়ের মত মনে করে, কখনোই নিজের মেয়ের মত মনে করতে পারে না।
১৫. পুত্রবধূরাও শাশুড়িদেরকে নিজ মায়ের মত ভাবতে পারে না। শাশুড়িকে তার প্রাপ্য অধিকার ও সম্মান থেকে বঞ্চিত করে।
১৬. স্ত্রীরা স্বামীর ইহসান তথা দয়া ও অনুগ্রহ স্বীকার করতে চায় না।
১৭. স্বামীর স্ত্রীর জন্য পছন্দ করে কোনো জিনিস আনল, কিন্তু ঘটনাক্রমে স্ত্রীর তা পছন্দ হল না, তখন স্ত্রী স্বামীর মুখের উপর বলে দেয় আমার এটা পছন্দ হয়নি; আমি এটা পরবও না ছুঁইবও না।
১৮. অনেক সময় টাকা, গহনা ইত্যাদি মূল্যবান জিনিস বালিশের নিচে বা খোলা যায়গায় রেখে দেয়, পরে হারিয়ে গেলে পরিবারের নিরাপরাধ লোকদের দোষারোপ করতে থাকে। যা মারাত্মক গুনাহ।
১৯. মহিলাদের মধ্যে কর্মতৎপরতা ও দূরদর্শিতার বেশ অভাব রয়েছে; ব্যস্ততার সময়ে কোনো কাজ তারা ঝটপট করতে পারে না; গতিমন্থরতা যেন তাদের একটা অংশ।
২০. দুই ব্যক্তি কোন বিষয়ে আলাপ করতে থাকলে অনেক মহিলা অযাচিতভাবে সেই কথায় অংশগ্রহণ করে এবং পরামর্শ দিতে থাকে।
২১. কোনো কোনো মহিলা মহিলাদের মহল থেকে এসে অন্য মহিলাদের অলংকার, শারীরিক গঠন, রূপ, পোশাক ইত্যাদির বর্ণনা নিজ স্বামীর কাছে করে থাকে।
২২. কারো সাথে কথা বলার প্রয়োজন হলে সে যত জরুরী কথা বা কাজেই লিপ্ত থাকুক না কেন সেদিকে খেয়াল না করে সে নিজের কথা বলবেই, ঐ ব্যক্তির কাজ বা কথা শেষ হওয়ার অপেক্ষা করে না।
২৩. কেউ কিছু বললে পূর্ণ মনোযোগসহকারে কথাগুলো শোনে না; এর মাঝে অন্য কাজ করতে থাকে বা ফাঁকে ফাঁকে কারো কথার উত্তর দিতে থাকে।
২৪. নিজের ভুল-ত্রুটিতে মনোযোগ দিতে চায় না। বরং যথাসম্ভব কথার ফুলঝুরি দিয়ে দোষ চাপা দিতে চায়; চাই তার কথার মধ্যে যুক্তি থাক বা না থাক।
২৫. কোনো কথা বা সংবাদ বলতে গেলে অসম্পূর্ণ বলে থাকে, যদ্দরুন ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হয় এবং আসল কাজ ব্যাহত হয়।
২৬. অলসতাবশতঃ ফরয গোসল করতে দেরি করা মেয়েদের একটা চিরাচরিত অভ্যাস।
২৭. বর্তমান আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিতা মেয়েরা অযু গোসল সম্পর্কীয় মাসয়ালা মাসায়েলও জানে না।
২৮. অনেক বোকা মহিলা স্বামীর কর্মস্থান থেকে ফেরার সাথে সাথে তাকে শান্তি পৌঁছানোর পরিবর্তে তার কানে সংসারের কলহ বিবাদের কথা পৌঁছায়।
২৯. অনেক ননদ ভাইয়ের বৌ-দের সহ্য করতে পারে না, এমনিভাবে অনেক বৌ-রা ননদদের সহ্য করতে পারে না।
৩০. অনেক মহিলারা পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে উদাসীন থাকে।
৩১. কোন সন্তানকে হয়ত বেশী মহব্বত করে তার জন্য অনেক কিছু করে, এমনকি তার দোষ সহ্য করতে চায় না। অর্থাৎ সন্তানদের মধ্যে সমতা রক্ষা করে না।
৩২. অনেক মহিলা রোগ-শোক চাপা দিয়ে রাখে, কাউকে বলে না।
৩৩. অনেক শিক্ষিতা মহিলা স্বামীর ঘরে আল্লাহ প্রদত্ত দায়িত্ব পালন করার চেয়ে বাইরে গিয়ে চাকরি করাকে বেশি পছন্দ করে।

টিকাঃ
১০০ এখানে নারীদের কিছু বদভ্যাস আলোচনা করা হয়েছে। অনেক নারী এর ব্যতিক্রম রয়েছে কিন্তু অধিকাংশদের মধ্যে আলোচিত অভ্যাসগুলোর এক বা একাধিক দোষ পরিলক্ষিত হয়।- সম্পাদক।
১০১ মূল: শাইখুল হাদিস আল্লামা মুফতি মনসুরুল হক হাফিজাহুল্লাহ। মূল লেখাটি ঈষৎ পরিমার্জিত।

📘 বিয়ে অর্ধেক দ্বীন > 📄 মহিলাদের করণীয় কাজ

📄 মহিলাদের করণীয় কাজ


১. ঈমান-আকিদা ও তাওহিদ পরিশুদ্ধ করা।
২. ইবাদত-বন্দেগী সুন্নাত তরিকায় করা।
৩. স্বামীর খেদমত করা।
৪. স্বামীর বৈধ হুকুম মান্য করা।
৫. স্বামীর মালের হেফাযত করা।
৬. নিজেকে পরিপূর্ণভাবে পর্দায় রাখা।
৭. সন্তান লালন-পালন ও দ্বীনী শিক্ষা-দীক্ষা দেওয়া।
৮. মহিলাদের মধ্যে দ্বীনী দাওয়াত পেশ করা ও দ্বীনের জরুরী কথার তালিম করা ইত্যাদি ইত্যাদি।

টিকাঃ
১৩২ মূল: শাইখুল হাদিস আল্লামা মুফতি মনসুরুল হক হাফিজাহুল্লাহ। মূল লেখাটি ঈষৎ পরিমার্জিত।

📘 বিয়ে অর্ধেক দ্বীন > 📄 পুরুষদের দায়িত্ব-কর্তব্য ও করণীয়

📄 পুরুষদের দায়িত্ব-কর্তব্য ও করণীয়


এতক্ষণতো মহিলাদের কি করণীয় আলোচনা করলাম তাই বলে পুরুষদেরও দায়িত্ব ও কর্তব্য আছে সেটা ভুলে গেলে চলবে না।
১. আল্লাহ তায়ালাকে পাওয়া এবং হেদায়েতের উপর কায়েম থাকার জন্য আল্লাহওয়ালাদের সোহবত, মহব্বত ও শ্রদ্ধা রাখা জরুরী।
২. দ্বীনের খেদমতে নিয়োজিত উলামায়ে কেরামের সমালোচনা না করা।
৩. ঈমানী বিষয়ের তালিমের মাধ্যমে নিজের ঈমান ও আকিদা-তাওহিদি বিশ্বাসকে সঠিক করা।
৪. ইবাদত তথা নামায, রোযা, কুরআনে কারিমের তিলাওয়াত, যাকাত, হজ্জ ইত্যাদি ইবাদতসমূহ সুন্নাত মোতাবেক সুন্দরভাবে করা।
৫. হালাল রিযিকের সন্ধান করা ও হারাম উপার্জন থেকে দূরে থাকা।
৬. মুআশারাত তথা বান্দার হক বিশেষ করে পিতা-মাতা বিবি-বাচ্চা ও অন্যান্যদের হক উলামায়ে কেরাম থেকে জেনে নিয়ে তা পরিপূর্ণভাবে আদায় করা।
৭. তাযকিয়া তথা আত্মশুদ্ধির চেষ্টা করা।
৮. জামাআতের সাথে ফরয সালাত আদায় করা।
৯. শিরক, বিদআত ও গুনাহ থেকে কঠোরভাবে বেঁচে থাকা।
১০. প্রতিটি কাজে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাত অনুযায়ী করার জন্য সুন্নত শিখতে থাকা, সুন্নাতের প্রশিক্ষণ নেয়া, ৩টি গুরুত্বপূর্ণ সহজ সুন্নাতকে আমলে আনা।
১১. কুরআন কারিম নিয়মিত তিলাওয়াত করা।
১২. আল্লাহ তায়ালার জিকির করা।
১৩. দৈনন্দিন সকাল-সন্ধ্যার দুআ পড়া。

📘 বিয়ে অর্ধেক দ্বীন > 📄 ইসলামে স্বামীর প্রতি স্ত্রীর কর্তব্য

📄 ইসলামে স্বামীর প্রতি স্ত্রীর কর্তব্য


১. যথাযথভাবে স্বামীর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা। নিজের আদব-আখলাক ও সেবার মাধ্যমে স্বামীর মন জয় করা এবং তার সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা। তবে শরিআত বিরোধী কোন কাজ হলে তাতে অপারগতা প্রকাশ করা।
২. স্বামীর সামর্থের অতিরিক্ত কোনো চাপ সৃষ্টি না করা।
৩. অনুমতি ছাড়া স্বামীর সম্পদ ব্যয় না করা।
৪. স্বামীর অনুমতি ছাড়া বাড়ির বাইরে না যাওয়া।
৫. স্বামীর অনুমতি ছাড়া কাউকে স্বামীর ঘরে আসতে না দেয়া।
৬. স্বামীর অনুমতি ছাড়া নফল রোযা না রাখা, তেমনিভাবে স্বামীর উপস্থিতিতে লম্বা সময় ধরে নফল নামায পড়তে হলে তার অনুমতি নিয়ে পড়া।
৭. স্বামী সহবাসের জন্য আহবান করলে শরঈ কোনো বাধা না থাকলে তার আহবানে সাড়া দেয়া।
৮. স্বামীর অসচ্ছলতা বা অসুন্দর আকৃতির জন্য তাকে তুচ্ছ না ভাবা।
৯. স্বামীর থেকে শরিয়ত বিরোধী কোন কাজ প্রকাশ পেলে আদবের সাথে তা বুঝিয়ে বলা।
১০. স্বামীকে মুরব্বী হিসেবে মান্য করা এবং তার নাম ধরে না ডাকা। তার সামনে রাগের সাথে বা বদ মেজাজের সাথে তর্ক না করা।
১১. কারো সামনে স্বামীর বদনাম বা সমালোচনা না করা।
১২. স্বামীর আত্মীয় ও আপনজনদের সাথে এমন ব্যবহার না করা যাতে তার মনে কষ্ট হয়। বিশেষতঃ নিজের পক্ষ থেকে স্বামীর পিতা-মাতাকে সেবার পাত্র মনে করে যথাসম্ভব শ্রদ্ধা প্রদর্শন ও খিদমত করা।
১৩. সন্তানদেরকে মায়া-মমতার সাথে লালন-পালন করা এবং তাদের খানা-পিনা, অযু-গোসল, পেশাব-পায়খানা, নামায-কালাম ইত্যাদির সুন্নাত তরিকা শিক্ষা দেয়া।

টিকাঃ
১০০ মূল: শাইখুল হাদিস আল্লামা মুফতি মনসুরুল হক হাফিজাহুল্লাহ। মূল লেখাটি ঈষৎ পরিমার্জিত।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00