📘 বিয়ে অর্ধেক দ্বীন > 📄 স্বামীর ভালবাসা ও প্রীতি অর্জন করার জন্য মুসলিম নারীদেরকে কিছু মূল্যবান উপদেশ

📄 স্বামীর ভালবাসা ও প্রীতি অর্জন করার জন্য মুসলিম নারীদেরকে কিছু মূল্যবান উপদেশ


(১) বিভিন্ন উপলক্ষে স্বামীর হাতে, কপালে চুম্বন করা।
(২) স্বামী বাইরে থেকে এলে সাথে সাথে স্বাগতম জানানোর জন্য দরজায় এগিয়ে আসা। তার হাতে কোনো বস্তু থাকলে তা নিজের হাতে নেয়ার চেষ্টা করা।
(৩) সময় ও মেজাজ বুঝে স্বামীর সামনে প্রেম-ভালবাসা মিশ্রিত বাক্যালাপ করা। তার সামনে তার প্রশংসা করা। সম্মান ও শ্রদ্ধামূলক আচরণ করা।
(৪) স্বামীর পোশাক-আশাকের পরিচ্ছন্নতার প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখা। (পরিচ্ছন্ন পুরুষ মানেই তার স্ত্রী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন)। রান্নার ক্ষেত্রে স্বামী যা পছন্দ করেন তা নিজ হাতে প্রস্তুত করতে সচেষ্ট থাকা।
(৫) সর্বদা স্বামীর সামনে হাসি মুখে থাকা।
(৬) স্বামীর জন্য নিজেকে সুসজ্জিত রাখা। শরীরে দুর্গন্ধ থাকলে বা রান্না ঘরের পোষাকে তার সম্মুখে না যাওয়া। মাসিক ঋতুর সময়ও সুসজ্জিত অবস্থায় থাকা।
(৭) স্বামীর সামনে কখনই নিজের কণ্ঠকে উঁচু না করা। নারীর সৌন্দর্য তার নম্র কন্ঠে।
(৮) সন্তানদের সামনে স্বামীর প্রশংসা ও গুণগান করা।
(৯) নিজের এবং স্বামীর পিতা-মাতা, ভাই-বোন ও আত্মীয়-স্বজনদের সামনে আল্লাহর কৃতজ্ঞতার সাথে সাথে স্বামীর প্রশংসা করা ও তার শ্রেষ্ঠত্ব তুলে ধরা। কখনই তার বিরুদ্ধে তাদের নিকট অভিযোগ না করা।
(১০) সুযোগ বুঝে স্বামীকে নিজ হাতে লোকমা তুলে খাওয়ানো।
(১১) কখনো স্বামীর আভ্যন্তরীন গোপন বিষয় অনুসন্ধান না করা।
কেননা পবিত্র কুরআনের ৪৯নং সুরা হুজুরাতের ১২নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন-"তোমরা কারো গোপন বিষয় অনুসন্ধান করো না।"
আর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা কারো প্রতি কুধারণা থেকে বেঁচে থাক। কেননা ধারণা হলো বড় মিথ্যা।
(১২) স্বামী কখনো রাগান্বিত হলে চুপ থাকার চেষ্টা করা। সম্ভব হলে তার রাগ থামানোর চেষ্টা করা। যদি সে রেগে থাকে, তবে অন্য সময় তার মেজাজ বুঝে সমঝোতার ব্যবস্থা করা।
(১৩) স্বামীর মাতাকে নিজের পক্ষ থেকে (সাধ্যানুযায়ী) কিছু উপহার প্রদান করা।
(১৪) সম্পদশালী হয়ে থাকলে স্বামীর অভাব অনটনের সময় তাকে সহযোগিতা করা।
(১৫) স্বামীর অনুমতি ছাড়া কখনই নিজ গৃহ থেকে বের না হওয়া ও কাউকে কিছু না দেয়া।
(১৬) স্বামীর নির্দেশ পালন, তার এবং তার সংসারের খেদমত প্রভৃতির মাধ্যমে আল্লাহর কাছে প্রতিদানের আশা করা।
আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ আমাদের সকল মুসলিম মেয়েদেরকে মূল্যবান এই নসিহতগুলো মেনে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।

📘 বিয়ে অর্ধেক দ্বীন > 📄 হে বোন! শিক্ষা যেন তোমাকে বোকা না বানায়!

📄 হে বোন! শিক্ষা যেন তোমাকে বোকা না বানায়!


[নিচের কথাগুলো সম্পূর্ণ সঠিক নয়, কারণ অনেক বোনের ভাগ্যের কারণে বিয়ে নাও হতে পারে। আবার অনেকে সঠিক দ্বীনদার পাত্রের খোঁজে বিয়েতে সময় নিতে পারেন। সঠিক কারণ আল্লাহ তায়ালাই ভালো জানেন। এই লেখাগুলো দ্বীনি বোনেদের/তাদের ভাইদের ও অভিভাবকদের শুধুমাত্র সতর্ক করার জন্য দেয়া। কেউ কষ্ট পেলে আন্তরিক ক্ষমা প্রার্থনা করছি।]

উঠতি বয়সে প্রায় সব মেয়েদেরই প্রচন্ড বিয়ের মোহ থাকে। সারাক্ষণ দু'চোখ দিয়ে চারপাশে শুধু সুন্দর ছেলে খুঁজে বেড়ায়। এ বয়সে মেয়েরা প্রেমে পড়লেই বিয়ের জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠে। এমনকি পালিয়ে বিয়ে করতেও এক পায়ে প্রস্তুত থাকে তারা।
কিন্তু যদি না কারো সাথে দীর্ঘ ও গভীর কোন এফেয়ার থাকে, বয়স বাড়লে, শিক্ষিত হলে, বিয়ের প্রতি তাদের অধিকাংশেরই একটা অনীহা জন্ম নেয়। বাবা মা তাদের জন্য বিয়ের সম্বন্ধ আনলে তারা প্রতিবাদে নাকের জল চোখের জল এক করে ছাড়ে। জগতটাকে দেখবার, বয়সটাকে উপভোগ করবার, অভিজ্ঞতাটাকে সমৃদ্ধ করবার, পড়ালেখা করে ক্যারিয়ার গড়বার এক দুরন্ত জেদ চেপে বসে তাদের মনে। সে সময়ে অনেক ছেলেকে ভালো লাগলেও পছন্দ করবার মতো যোগ্য ছেলেটিকে তারা তখন আর খুঁজে পায় না কিংবা খোঁজার গরজও বোধ করে না।

ইউনিভার্সিটি পাশ করতে করতে বয়স পঁচিশ ছাব্বিশ পার হয়। বিসিএস কিংবা অন্য কোন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পুরুষদের পাশাপাশি যোগ্যতার প্রমাণ দেয়ার প্রচন্ড নেশা চাপে তাদের। সে পরীক্ষায় অনেকে সাফল্যও পায়। তারপর চলে নিজের পায়ে দাঁড়াবার, স্বাবলম্বী হওয়ার সংগ্রাম, নিজেকে গুছিয়ে নেয়ার সংগ্রাম। কিন্তু ততদিনে পদ্মা, মেঘনা, যমুনার জল গড়িয়ে যায় অনেক। মেঘে মেঘে হয়ে যায় অনেক বেলা। খরচ হয়ে যায় আয়ুর সোনালী যৌবন অধ্যায়।
বিয়ের বাজারে নিজের চাইতে যোগ্য ছেলে খুঁজে পাওয়া তখন দুস্কর হয়ে দাঁড়ায় তাদের জন্য। প্রচন্ড মেধাবী যে মেয়েটি অনার্স মাস্টার্স পাশ করে এমফিলও শেষ করে ফেলে, কিংবা হয়ে যায় বিসিএস ক্যাডার, বিয়ের বাজারে তারচে' অধিক যোগ্যতাসম্পন্ন পাত্রের খোঁজ করতে গিয়ে এক বিশাল ধাক্কা খায় সে, তিরিশ প্লাস।

যোগ্য পাত্রগুলো তার ত্রিশ প্লাস বয়সটার দিকে আড়চোখে তাকিয়ে মুখ ঘুরিয়ে নেয়। পাত্রের স্বজনরা তাকে আধুনিক হৈমন্তী'র মর্যাদা দিয়ে বসে। একুশ বাইশ বয়সের যুবতীর বর্ণিল স্বপ্নগুলো ত্রিশ পেরিয়ে বিবর্ণ হয়ে পড়ে। একদা তার উপচে পড়া চকচকে যৌবনের কোথাও কোথাও আড়ালে গোপন মরিচা পড়ে। তার বিশাল আর আলো ঝলমলে পৃথিবীতে রাত নামতে থাকে। পুরুষতান্ত্রিক এই পৃথিবীতে একটা নিরাপদ আশ্রয় আর অবলম্বন ছাড়া যে সে ভীষন অসহায়— এতদিন পর এই নির্মম সত্য অনুধাবন করে সে কাঁপতে থাকে ভয়ে আর অনিশ্চয়তায়। স্বামী সন্তান নিয়ে একটা ছোট্ট সংসারের জন্য সে সারা জীবনের কষ্টার্জিত সকল ডিগ্রী ও যোগ্যতা বিসর্জন দিতেও প্রস্তুত হয়ে পড়ে।
পাত্রী খোঁজার সময় আমি নিজে এ ধরনের দুর্ভাগা কিছু নারীর দেখা পেয়েছি।
হে আল্লাহ! সকল দ্বীনি বোনদের প্রত্যেককে আপনার প্রিয় একজনকে স্বামী হিসাবে দান করুন। আমিন।

টিকাঃ
১২২ এধরনের লেখাগুলো তাদের জন্য, যারা নিজ ইচ্ছায় নিজের জীবন ধ্বংস করে। বিভিন্ন অজুহাতে বিলম্বে বিবাহ করে। পারফেক্ট খুঁজতে গিয়ে পরে এভারেজও খুঁজে পায় না তখন। অন্যথায় ঐ সকল দ্বীনী নারীদের কথা ভিন্ন, যারা সকল প্রচেষ্টা করার পরও জলদি বিয়ে করতে পারেন না।- সম্পাদক।
১২৮ লিখেছেন: Mohammad Khorsed

📘 বিয়ে অর্ধেক দ্বীন > 📄 আমাদেরকে সর্বাবস্থায় স্বামী/স্ত্রী বা বন্ধু নির্ধারণের ক্ষেত্রে চারিত্রিক পবিত্রতাকে প্রাধান্য দিতে হবে

📄 আমাদেরকে সর্বাবস্থায় স্বামী/স্ত্রী বা বন্ধু নির্ধারণের ক্ষেত্রে চারিত্রিক পবিত্রতাকে প্রাধান্য দিতে হবে


আমরা যেন সচ্চরিত্র লোক থেকে দূরে না সরে যাই এবং চরিত্রহীন লোকদের সঙ্গী না বানাই। চরিত্রবান জীবনসঙ্গী পেতে হলে কী করতে হবে? অবশ্যই নিজেকে চরিত্রবান হতে হবে। না শুধু চরিত্রবান না, সচ্চরিত্রবান হতে হবে।

মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন,
চরিত্রহীনা নারী চরিত্রহীন পুরুষদের জন্য, আর চরিত্রহীন পুরুষ চরিত্রহীনা নারীদের জন্য, চরিত্রবতী নারী চরিত্রবান পুরুষের জন্য, আর চরিত্রবান পুরুষ চরিত্রবতী নারীর জন্য। লোকেরা যা বলে তা থেকে তারা পবিত্র। তাদের জন্য আছে ক্ষমা ও সম্মানজনক জীবিকা।

মনে রাখবেন, আজকে পথে-ঘাটে যার রূপ-লাবণ্য, বাহ্যিক পোশাক-পরিচ্ছদ, স্মার্টনেস দেখে বিমোহিত হচ্ছেন, সে কিন্তু আল্লাহর বিধানই ঠিকমত পালন করে না। চরিত্রবান হলে আপনি তার রূপ-লাবণ্য দেখতে পারতেন? না পারতেন না। সে নিজেকে লোকচক্ষু থেকে হেফাজত করত মহান রবের বিধান দ্বারা। তাহলে কি এটা ভাল চরিত্র হতে পারে! না পারে না।
তাই তাদের পিছনে না ছুটে, সময় নষ্ট না করে মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করুন। তিনিই সবকিছুর একমাত্র দাতা। চাওয়ার সাথে সাথে পেয়ে গেলে আলহামদুলিল্লাহ্। আর দেরী হলে তাওয়াক্কুল করুন। লা তাহযান, হতাশ হবেন না।

মহান রবের কাছে নেককার স্ত্রীর প্রার্থনা করুন। এর সাথে সাথে চক্ষুশীতলকারী সন্তান-সন্ততিও চান তার কাছে। চাওয়ার মত চেয়ে দেখুন, ইনশাআল্লাহ তিনি আপনার দুআ কবুল করবেন। হয় আজকে আর না হয় দুইদিন পর।
কিভাবে চাইতে হবে তা আল্লাহ তায়ালাই আমাদেরকে শিখিয়ে দিয়েছেন পবিত্র কুরআনে তার প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে।
رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إمَامًا.
হে আমাদের রব! আপনি আমাদেরকে এমন স্ত্রী ও সন্তানাদি দান করুন, যারা আমাদের চক্ষু শীতল করবে। আর আপনি আমাদেরকে মুত্তাকিদের নেতা বানিয়ে দিন।

পবিত্র কুরআনে আরো আছে, رَبِّ هَبْ لِي مِنْ لَدُنْكَ ذُرِّيَّةً طَيِّبَةً إِنَّكَ سَمِيعُ الدُّعَاءِ.
অর্থাৎ, হে আমার রব! আমাকে আপনার পক্ষ থেকে উত্তম সন্তান দান করুন। নিশ্চয় আপনি প্রার্থনা শ্রবণকারী। (সুরা আলে ইমরান: ৩৮)
এবং আরো আছে, رَبِّ هَبْ لِي مِنَ الصَّالِحِينَ.
অর্থাৎ, হে আমার রব! আমাকে সৎকর্মশীল সন্তান দান করুন।

এছাড়া আরেকটা বিষয় লক্ষণীয়। আর তা হচ্ছে—যেকোনো মানুষের ভবিষ্যত প্রজন্মের চরিত্রবান হওয়ার বিষয়টি তার জীবনসঙ্গীর চরিত্রবান হওয়ার ওপর নির্ভর করে। এছাড়া সচ্চরিত্রবান দম্পতির উচিত তাদের সন্তানদের চরিত্র গঠনের জন্য প্রতিনিয়ত চেষ্টা করা এবং মহান রবের কাছে প্রার্থনা করা।
আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে বুঝার, মানার এবং আমল করার তাওফিক দিন।

টিকাঃ
১২৭ সুরা নূর: ২৪, ২৬।
১২৮ সুরা ফুরকান: ৭৪।
১২৯ সুরা সাফফাত: ১০০।

📘 বিয়ে অর্ধেক দ্বীন > 📄 মহিলাদের বর্জনীয় অভ্যাস

📄 মহিলাদের বর্জনীয় অভ্যাস


১. ঈমান-আকিদা ও তাওহিদ সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন, ইবাদত, সহিহশুদ্ধভাবে কুরআন তিলাওয়াত, পিতা-মাতা, স্বামীর হক ও সন্তানের হক সম্পর্কে ইলম হাসিল করে না, অথচ জরুরত পরিমাণ ইলম অর্জন করা ফরয।
২. সময়ের পাবন্দি করে না।
৩. দুই তিন জন একত্রিত হলে অন্যের দোষ চর্চায় লিপ্ত হয়।
৪. সালাম দেয়ার অভ্যাস খুবই কম।
৫. চোগলখুরি তথা একের কথা অন্যের কাছে লাগানো অনেক মেয়েদের একটা বদ অভ্যাস।
৬. সাধারণত মহিলাদের মধ্যে নিজেকে প্রদর্শনের মানসিকতা অধিক লক্ষ্য করা যায়।
৭. বর্তমান মহিলারা সাজ-সজ্জার নামে অনেক নাজায়িজ ও হারাম কাজ করে থাকে।
৮. মহিলাদের জন্য সমস্ত শরীর আবৃতকারী মোটা কাপড়ের এমন ঢিলেঢালা পোষাক পরা জরুরী, যাতে করে শরীরের রং, ভাঁজ ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আকার আকৃতি বোঝা না যায়।
৯. অনেক মহিলারা বাহিরে পর্দা করে বের হলেও পরিবারিক জীবনে পর্দার ধার ধারে না।
১০. অনেকে বোরকা পরিধান করে কিন্তু চেহারা খোলা রাখে অথচ চেহারা সকল সৌন্দর্যের সমষ্টি, চেহারা আবৃত করা জরুরী।
১১. কোথাও কোনো প্রয়োজনে যেতে হলে অযথা ঘোরাঘুরি করে যাত্রা বিলম্ব করে।
১২. হাতে টাকা থাকুক বা না থাকুক, কোনো কিছু পছন্দ হলে তা অপ্রয়োজনীয় হলেও কিনতে হবে।
১৩. কেউ কোন উপকার করলে তার শুকরিয়া আদায় করে না। বিশেষত: ঘরের বউ-ঝিরা প্রশংসার যোগ্য কোনো কাজ করলেও শাশুড়ি কিংবা ননদরা তার শুকরিয়া আদায় করে না।
১৪. শাশুড়িরা অনেক সময় পুত্রবধূদের কাজের মেয়ের মত মনে করে, কখনোই নিজের মেয়ের মত মনে করতে পারে না।
১৫. পুত্রবধূরাও শাশুড়িদেরকে নিজ মায়ের মত ভাবতে পারে না। শাশুড়িকে তার প্রাপ্য অধিকার ও সম্মান থেকে বঞ্চিত করে।
১৬. স্ত্রীরা স্বামীর ইহসান তথা দয়া ও অনুগ্রহ স্বীকার করতে চায় না।
১৭. স্বামীর স্ত্রীর জন্য পছন্দ করে কোনো জিনিস আনল, কিন্তু ঘটনাক্রমে স্ত্রীর তা পছন্দ হল না, তখন স্ত্রী স্বামীর মুখের উপর বলে দেয় আমার এটা পছন্দ হয়নি; আমি এটা পরবও না ছুঁইবও না।
১৮. অনেক সময় টাকা, গহনা ইত্যাদি মূল্যবান জিনিস বালিশের নিচে বা খোলা যায়গায় রেখে দেয়, পরে হারিয়ে গেলে পরিবারের নিরাপরাধ লোকদের দোষারোপ করতে থাকে। যা মারাত্মক গুনাহ।
১৯. মহিলাদের মধ্যে কর্মতৎপরতা ও দূরদর্শিতার বেশ অভাব রয়েছে; ব্যস্ততার সময়ে কোনো কাজ তারা ঝটপট করতে পারে না; গতিমন্থরতা যেন তাদের একটা অংশ।
২০. দুই ব্যক্তি কোন বিষয়ে আলাপ করতে থাকলে অনেক মহিলা অযাচিতভাবে সেই কথায় অংশগ্রহণ করে এবং পরামর্শ দিতে থাকে।
২১. কোনো কোনো মহিলা মহিলাদের মহল থেকে এসে অন্য মহিলাদের অলংকার, শারীরিক গঠন, রূপ, পোশাক ইত্যাদির বর্ণনা নিজ স্বামীর কাছে করে থাকে।
২২. কারো সাথে কথা বলার প্রয়োজন হলে সে যত জরুরী কথা বা কাজেই লিপ্ত থাকুক না কেন সেদিকে খেয়াল না করে সে নিজের কথা বলবেই, ঐ ব্যক্তির কাজ বা কথা শেষ হওয়ার অপেক্ষা করে না।
২৩. কেউ কিছু বললে পূর্ণ মনোযোগসহকারে কথাগুলো শোনে না; এর মাঝে অন্য কাজ করতে থাকে বা ফাঁকে ফাঁকে কারো কথার উত্তর দিতে থাকে।
২৪. নিজের ভুল-ত্রুটিতে মনোযোগ দিতে চায় না। বরং যথাসম্ভব কথার ফুলঝুরি দিয়ে দোষ চাপা দিতে চায়; চাই তার কথার মধ্যে যুক্তি থাক বা না থাক।
২৫. কোনো কথা বা সংবাদ বলতে গেলে অসম্পূর্ণ বলে থাকে, যদ্দরুন ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হয় এবং আসল কাজ ব্যাহত হয়।
২৬. অলসতাবশতঃ ফরয গোসল করতে দেরি করা মেয়েদের একটা চিরাচরিত অভ্যাস।
২৭. বর্তমান আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিতা মেয়েরা অযু গোসল সম্পর্কীয় মাসয়ালা মাসায়েলও জানে না।
২৮. অনেক বোকা মহিলা স্বামীর কর্মস্থান থেকে ফেরার সাথে সাথে তাকে শান্তি পৌঁছানোর পরিবর্তে তার কানে সংসারের কলহ বিবাদের কথা পৌঁছায়।
২৯. অনেক ননদ ভাইয়ের বৌ-দের সহ্য করতে পারে না, এমনিভাবে অনেক বৌ-রা ননদদের সহ্য করতে পারে না।
৩০. অনেক মহিলারা পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে উদাসীন থাকে।
৩১. কোন সন্তানকে হয়ত বেশী মহব্বত করে তার জন্য অনেক কিছু করে, এমনকি তার দোষ সহ্য করতে চায় না। অর্থাৎ সন্তানদের মধ্যে সমতা রক্ষা করে না।
৩২. অনেক মহিলা রোগ-শোক চাপা দিয়ে রাখে, কাউকে বলে না।
৩৩. অনেক শিক্ষিতা মহিলা স্বামীর ঘরে আল্লাহ প্রদত্ত দায়িত্ব পালন করার চেয়ে বাইরে গিয়ে চাকরি করাকে বেশি পছন্দ করে।

টিকাঃ
১০০ এখানে নারীদের কিছু বদভ্যাস আলোচনা করা হয়েছে। অনেক নারী এর ব্যতিক্রম রয়েছে কিন্তু অধিকাংশদের মধ্যে আলোচিত অভ্যাসগুলোর এক বা একাধিক দোষ পরিলক্ষিত হয়।- সম্পাদক।
১০১ মূল: শাইখুল হাদিস আল্লামা মুফতি মনসুরুল হক হাফিজাহুল্লাহ। মূল লেখাটি ঈষৎ পরিমার্জিত।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00