📄 নারী তুমি সুন্দর; নিজ ঘরে নিজ আলোয়!
যে নারী নিজ ঘরে সুন্দর সেই নারীকে পণ্য বানিয়ে বাহিরে এনে পুতুলের মতো ব্যবহার করা হচ্ছে। যেমন-
* কাস্টমার কেয়ারে তথা হেল্পলাইনে কল করলে নারী! কল আসলেও নারী।
* দুঃখিত এই মুহুর্তে সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না-সেখানেও নারী!
* আপনি যে নাম্বারে কল করেছেন তা এই মুহুর্তে ব্যস্ত আছে-সেখানেও নারী!
* আপনি যে নাম্বারে কল করেছেন তা ওয়েটিংয়ে আছে-সেখানেও নারী।
* আচমকা চার ডিজিটের নাম্বার থেকে ফোন; "হাই! আমি জুলেখা বলছি; আমার সাথে দেখা করতে চাও.. আড্ডা দিতে চাও?"-এখানেও নারী।
* স্পেশাল নাম্বার থেকে কল-আর-রীবা ব্যাংক থেকে বলছি স্যার! আমরা প্রাইভেট কারের জন্য লোন দিচ্ছি স্পেশাল রেটে-সেখানও ভেসে এল নারী!
* টিভি নিউজ ব্রডকাস্টিং- সেখানেও মাইন্ডকাস্টিং নারী।
* রেডিওতে জ্যামের আপডেট নিবেন সেখানেও অপ্রত্যাশিতভাবে নারী।
* আকাশের দিকে তাকাবেন? বিলবোর্ডে, রিকশার বেয়ারিংয়ের এ্যাডেও নারী। সামনের দিকে তাকাবেন-ওয়ালে, দেয়ালে বিমূর্ত নারী। ডানে, বামে, সামনে, পিছনে, উপরে, নিচে সব জায়গায় শুধু নারীদের অশালীন ছবি পণ্য হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। নিচের দিকে তাকাবেন, রাস্তায় পড়ে থাকা পুরাতন পেপারের জরাজীর্ণ মোড়কেও নারী। এক টাকার সানসিল্ক শেম্পুতেও নারীর ছবি। নারী হয়ে গেছে পণ্য। সে নিজে হয় নাই ধন্য।
* গাড়ী কিনতে যাবেন? নারী মডেল দাঁড়িয়ে থাকবে? গাড়ী কিনবেন না নারী মডেলকে কিনবেন?
* মার্কেটে যাবেন, সেলস গার্ল নারী! সুন্দর করে কথা বলবে আপনার সাথে।
* মোবাইল ফোন কিনবেন? রাস্তার পাশের মার্কেটগুলোর আউটলেটগুলোতেও সেলস-টীমে নারী।
* সীম রিপ্লেস করতে গেছেন? কোনদিক থেকে হঠ্যাৎ ভেসে এলো নারী কণ্ঠ "সামালিকুম! কিভাবে সাহায্য করতে পারি স্যার?"
* একটু আকাশে উড়বেন? সেখানেও বিমান বালা নারী—মুছিবতের শেষ নাই।
* ইন্টারভিউ দিতে গেছেন জাতিক বা বহুজাতিক কোম্পানীতে? ফ্রন্টডেস্কেও সেই একই হাল!
* অনলাইনে পেপার পড়বেন? নানা রকম চটকদার খবরে নারী।
ওহ ভাই! আর কি বাদ গেল কিছু?
এই অবস্থার পরও কিভাবে রোধ করতে পারি 'ধর্ষণ' আর 'নির্যাতন'। কিভাবে আশা করি এগুলো কমবে? যখন নারীরা আবেদনময়ী হয়ে ব্রান্ডের সস্তা বিজ্ঞাপনের পণ্য হয়ে থাকে। রাতভর মুরগীর ঘরের দরজা খুলে দিয়ে বলছি 'শিয়াল সাবধান'; রসগোল্লার হাঁড়ির মুখ খুলে দিয়ে বলছি 'মাছি বসো না'; যিনার দরজা খোলা রেখেই বলছি, এখানে এসো না।
দুর্বোধ্য ফিজিক্সের তড়িৎ চৌম্বকীয় অধ্যায়ে একটা সহজ সাবলীল সূত্র ছিল— 'সমধর্মী চার্জ পরস্পরকে বিকর্ষিত করে আর বিপরীতধর্মী চার্জ পরস্পরকে আকর্ষণ করে;' আমার মত এভারেজ স্টুডেন্ট এইটা বুঝি আর যারা আইন-বানায়, আইন-টাংগায় তারাই কেনো জানি বুঝে না।
আরে! বন্যেরা বনে সুন্দর; নারীরা ঘরে সুন্দরী, বাহিরে গেলে ঝিনুকের মধ্যে মুক্তা যেরকম থাকে সেভাবে থাকবে!!
মানবরচিত ফিজিক্স-কেমিস্ট্রি আর বাংলা ব্যকরণ বাদ দিলাম; এই আসমান ও জমিনের মালিক তিনি কি বলছেন শুনুন-
মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন,
وَقُل لِّلْمُؤْمِنَتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصُرِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَى جُيُوبِهِنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا لِبُعُولَتِهِنَّ أَوْ ءَابَائِهِنَّ أَوْ ءَابَاءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوْ أَبْنَائِهِنَّ أَوْ أَبْنَاءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوْ إِخْونِهِنَّ أَوْ بَنِي إِخْونِهِنَّ أَوْ بَنِي أَخَوَتِهِنَّ أَوْ نِسَائِهِنَّ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَنُهُنَّ أَوِ التَّبِعِينَ غَيْرِ أُولِي الْإِرْبَةِ مِنَ الرِّجَالِ أَوِ الطَّفْلِ الَّذِينَ لَمْ يَظْهَرُوا عَلَى عَوْرَتِ النِّسَاءِ وَلَا يَضْرِبْنَ بِأَرْجُلِهِنَّ لِيُعْلَمَ مَا يُخْفِينَ مِن زِينَتِهِنَّ وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَ الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ.
আর ঈমানদার নারীদেরকে বলে দাও, তাদের দৃষ্টি অবনমিত করতে আর তাদের লজ্জাস্থান সংরক্ষণ করতে, আর তাদের শোভা সৌন্দর্য প্রকাশ না করতে, যা এমনিতেই প্রকাশিত হয় তা ব্যতীত। তাদের ঘাড় ও বুক যেন মাথার কাপড় দিয়ে ঢেকে দেয়। তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভাই, ভাইয়ের ছেলে, বোনের ছেলে, নিজেদের মহিলাগণ, স্বীয় মালিকানাধীন দাসী, পুরুষদের মধ্যে যৌন কামনামুক্ত পুরুষ আর নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ বালক ছাড়া অন্যের কাছে নিজেদের শোভা সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। আর তারা যেন নিজেদের গোপন শোভা সৌন্দর্য প্রকাশ করার জন্য সজোরে পদচারণা না করে। হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর নিকট তাওবাহ কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।”
আয়াতটা যেমন বড়, এর তাৎপর্য আরো বড়; অথচ আমরা এ হুকুমকে এড়িয়ে চলতেছি, সফলতা আসবে কিভাবে?
আচ্ছা! কেউ কেউ তো এদের অভিভাবক, বাবা-মা! এদের ভূমিকাই বা কী? লেলিয়ে দিচ্ছে নিজ সন্তানদের আগুনের মুখে; নিজেরাও ডুবছে, তাদেরকেও ডুবাচ্ছে। দুনিয়ায় লাঞ্চনা; আর পরকালে কঠিন শাস্তি। এই রকম পিতা-মাতা ও অভিভাবককে ইসলামে দাইয়্যুস বলা হয়। আল্লাহ দাইয়্যুসদের উপর জান্নাত হারাম করেছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন,
وَمَن يُشَاقِقِ الرَّسُولَ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدًى وَيَتَّبِعُ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ مَا تَوَلَّى وَنُصْلِهِ جَهَنَّمَ وَسَاءَتْ مَصِيرًا.
আর যে রাসুলের বিরুদ্ধাচরণ করে তার জন্য হিদায়াত প্রকাশ পাওয়ার পর এবং মুমিনদের পথের বিপরীত পথ অনুসরণ করে, আমি তাকে ফেরাবো যেদিকে সে ফিরে এবং তাকে প্রবেশ করাব জাহান্নামে। আর আবাস হিসেবে তা (জাহান্নাম) খুবই মন্দ!
অপর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَهِلِيَّةِ الْأُولى.
আর তোমরা নিজ গৃহে অবস্থান করবে এবং প্রাক-জাহেলী যুগের মত সৌন্দর্য প্রদর্শন করো না।
টিকাঃ
১২১ সুরা নূর: ৩১।
১২২ সুরা নিসা: ১১৫।
১২৩ সুরা আহযাব: ৩৩।
১২৪ লিখেছেন: Umme Habiba
📄 স্বামীর ভালবাসা ও প্রীতি অর্জন করার জন্য মুসলিম নারীদেরকে কিছু মূল্যবান উপদেশ
(১) বিভিন্ন উপলক্ষে স্বামীর হাতে, কপালে চুম্বন করা।
(২) স্বামী বাইরে থেকে এলে সাথে সাথে স্বাগতম জানানোর জন্য দরজায় এগিয়ে আসা। তার হাতে কোনো বস্তু থাকলে তা নিজের হাতে নেয়ার চেষ্টা করা।
(৩) সময় ও মেজাজ বুঝে স্বামীর সামনে প্রেম-ভালবাসা মিশ্রিত বাক্যালাপ করা। তার সামনে তার প্রশংসা করা। সম্মান ও শ্রদ্ধামূলক আচরণ করা।
(৪) স্বামীর পোশাক-আশাকের পরিচ্ছন্নতার প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখা। (পরিচ্ছন্ন পুরুষ মানেই তার স্ত্রী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন)। রান্নার ক্ষেত্রে স্বামী যা পছন্দ করেন তা নিজ হাতে প্রস্তুত করতে সচেষ্ট থাকা।
(৫) সর্বদা স্বামীর সামনে হাসি মুখে থাকা।
(৬) স্বামীর জন্য নিজেকে সুসজ্জিত রাখা। শরীরে দুর্গন্ধ থাকলে বা রান্না ঘরের পোষাকে তার সম্মুখে না যাওয়া। মাসিক ঋতুর সময়ও সুসজ্জিত অবস্থায় থাকা।
(৭) স্বামীর সামনে কখনই নিজের কণ্ঠকে উঁচু না করা। নারীর সৌন্দর্য তার নম্র কন্ঠে।
(৮) সন্তানদের সামনে স্বামীর প্রশংসা ও গুণগান করা।
(৯) নিজের এবং স্বামীর পিতা-মাতা, ভাই-বোন ও আত্মীয়-স্বজনদের সামনে আল্লাহর কৃতজ্ঞতার সাথে সাথে স্বামীর প্রশংসা করা ও তার শ্রেষ্ঠত্ব তুলে ধরা। কখনই তার বিরুদ্ধে তাদের নিকট অভিযোগ না করা।
(১০) সুযোগ বুঝে স্বামীকে নিজ হাতে লোকমা তুলে খাওয়ানো।
(১১) কখনো স্বামীর আভ্যন্তরীন গোপন বিষয় অনুসন্ধান না করা।
কেননা পবিত্র কুরআনের ৪৯নং সুরা হুজুরাতের ১২নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন-"তোমরা কারো গোপন বিষয় অনুসন্ধান করো না।"
আর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা কারো প্রতি কুধারণা থেকে বেঁচে থাক। কেননা ধারণা হলো বড় মিথ্যা।
(১২) স্বামী কখনো রাগান্বিত হলে চুপ থাকার চেষ্টা করা। সম্ভব হলে তার রাগ থামানোর চেষ্টা করা। যদি সে রেগে থাকে, তবে অন্য সময় তার মেজাজ বুঝে সমঝোতার ব্যবস্থা করা।
(১৩) স্বামীর মাতাকে নিজের পক্ষ থেকে (সাধ্যানুযায়ী) কিছু উপহার প্রদান করা।
(১৪) সম্পদশালী হয়ে থাকলে স্বামীর অভাব অনটনের সময় তাকে সহযোগিতা করা।
(১৫) স্বামীর অনুমতি ছাড়া কখনই নিজ গৃহ থেকে বের না হওয়া ও কাউকে কিছু না দেয়া।
(১৬) স্বামীর নির্দেশ পালন, তার এবং তার সংসারের খেদমত প্রভৃতির মাধ্যমে আল্লাহর কাছে প্রতিদানের আশা করা।
আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ আমাদের সকল মুসলিম মেয়েদেরকে মূল্যবান এই নসিহতগুলো মেনে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।
📄 হে বোন! শিক্ষা যেন তোমাকে বোকা না বানায়!
[নিচের কথাগুলো সম্পূর্ণ সঠিক নয়, কারণ অনেক বোনের ভাগ্যের কারণে বিয়ে নাও হতে পারে। আবার অনেকে সঠিক দ্বীনদার পাত্রের খোঁজে বিয়েতে সময় নিতে পারেন। সঠিক কারণ আল্লাহ তায়ালাই ভালো জানেন। এই লেখাগুলো দ্বীনি বোনেদের/তাদের ভাইদের ও অভিভাবকদের শুধুমাত্র সতর্ক করার জন্য দেয়া। কেউ কষ্ট পেলে আন্তরিক ক্ষমা প্রার্থনা করছি।]
উঠতি বয়সে প্রায় সব মেয়েদেরই প্রচন্ড বিয়ের মোহ থাকে। সারাক্ষণ দু'চোখ দিয়ে চারপাশে শুধু সুন্দর ছেলে খুঁজে বেড়ায়। এ বয়সে মেয়েরা প্রেমে পড়লেই বিয়ের জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠে। এমনকি পালিয়ে বিয়ে করতেও এক পায়ে প্রস্তুত থাকে তারা।
কিন্তু যদি না কারো সাথে দীর্ঘ ও গভীর কোন এফেয়ার থাকে, বয়স বাড়লে, শিক্ষিত হলে, বিয়ের প্রতি তাদের অধিকাংশেরই একটা অনীহা জন্ম নেয়। বাবা মা তাদের জন্য বিয়ের সম্বন্ধ আনলে তারা প্রতিবাদে নাকের জল চোখের জল এক করে ছাড়ে। জগতটাকে দেখবার, বয়সটাকে উপভোগ করবার, অভিজ্ঞতাটাকে সমৃদ্ধ করবার, পড়ালেখা করে ক্যারিয়ার গড়বার এক দুরন্ত জেদ চেপে বসে তাদের মনে। সে সময়ে অনেক ছেলেকে ভালো লাগলেও পছন্দ করবার মতো যোগ্য ছেলেটিকে তারা তখন আর খুঁজে পায় না কিংবা খোঁজার গরজও বোধ করে না।
ইউনিভার্সিটি পাশ করতে করতে বয়স পঁচিশ ছাব্বিশ পার হয়। বিসিএস কিংবা অন্য কোন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পুরুষদের পাশাপাশি যোগ্যতার প্রমাণ দেয়ার প্রচন্ড নেশা চাপে তাদের। সে পরীক্ষায় অনেকে সাফল্যও পায়। তারপর চলে নিজের পায়ে দাঁড়াবার, স্বাবলম্বী হওয়ার সংগ্রাম, নিজেকে গুছিয়ে নেয়ার সংগ্রাম। কিন্তু ততদিনে পদ্মা, মেঘনা, যমুনার জল গড়িয়ে যায় অনেক। মেঘে মেঘে হয়ে যায় অনেক বেলা। খরচ হয়ে যায় আয়ুর সোনালী যৌবন অধ্যায়।
বিয়ের বাজারে নিজের চাইতে যোগ্য ছেলে খুঁজে পাওয়া তখন দুস্কর হয়ে দাঁড়ায় তাদের জন্য। প্রচন্ড মেধাবী যে মেয়েটি অনার্স মাস্টার্স পাশ করে এমফিলও শেষ করে ফেলে, কিংবা হয়ে যায় বিসিএস ক্যাডার, বিয়ের বাজারে তারচে' অধিক যোগ্যতাসম্পন্ন পাত্রের খোঁজ করতে গিয়ে এক বিশাল ধাক্কা খায় সে, তিরিশ প্লাস।
যোগ্য পাত্রগুলো তার ত্রিশ প্লাস বয়সটার দিকে আড়চোখে তাকিয়ে মুখ ঘুরিয়ে নেয়। পাত্রের স্বজনরা তাকে আধুনিক হৈমন্তী'র মর্যাদা দিয়ে বসে। একুশ বাইশ বয়সের যুবতীর বর্ণিল স্বপ্নগুলো ত্রিশ পেরিয়ে বিবর্ণ হয়ে পড়ে। একদা তার উপচে পড়া চকচকে যৌবনের কোথাও কোথাও আড়ালে গোপন মরিচা পড়ে। তার বিশাল আর আলো ঝলমলে পৃথিবীতে রাত নামতে থাকে। পুরুষতান্ত্রিক এই পৃথিবীতে একটা নিরাপদ আশ্রয় আর অবলম্বন ছাড়া যে সে ভীষন অসহায়— এতদিন পর এই নির্মম সত্য অনুধাবন করে সে কাঁপতে থাকে ভয়ে আর অনিশ্চয়তায়। স্বামী সন্তান নিয়ে একটা ছোট্ট সংসারের জন্য সে সারা জীবনের কষ্টার্জিত সকল ডিগ্রী ও যোগ্যতা বিসর্জন দিতেও প্রস্তুত হয়ে পড়ে।
পাত্রী খোঁজার সময় আমি নিজে এ ধরনের দুর্ভাগা কিছু নারীর দেখা পেয়েছি।
হে আল্লাহ! সকল দ্বীনি বোনদের প্রত্যেককে আপনার প্রিয় একজনকে স্বামী হিসাবে দান করুন। আমিন।
টিকাঃ
১২২ এধরনের লেখাগুলো তাদের জন্য, যারা নিজ ইচ্ছায় নিজের জীবন ধ্বংস করে। বিভিন্ন অজুহাতে বিলম্বে বিবাহ করে। পারফেক্ট খুঁজতে গিয়ে পরে এভারেজও খুঁজে পায় না তখন। অন্যথায় ঐ সকল দ্বীনী নারীদের কথা ভিন্ন, যারা সকল প্রচেষ্টা করার পরও জলদি বিয়ে করতে পারেন না।- সম্পাদক।
১২৮ লিখেছেন: Mohammad Khorsed
📄 আমাদেরকে সর্বাবস্থায় স্বামী/স্ত্রী বা বন্ধু নির্ধারণের ক্ষেত্রে চারিত্রিক পবিত্রতাকে প্রাধান্য দিতে হবে
আমরা যেন সচ্চরিত্র লোক থেকে দূরে না সরে যাই এবং চরিত্রহীন লোকদের সঙ্গী না বানাই। চরিত্রবান জীবনসঙ্গী পেতে হলে কী করতে হবে? অবশ্যই নিজেকে চরিত্রবান হতে হবে। না শুধু চরিত্রবান না, সচ্চরিত্রবান হতে হবে।
মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন,
চরিত্রহীনা নারী চরিত্রহীন পুরুষদের জন্য, আর চরিত্রহীন পুরুষ চরিত্রহীনা নারীদের জন্য, চরিত্রবতী নারী চরিত্রবান পুরুষের জন্য, আর চরিত্রবান পুরুষ চরিত্রবতী নারীর জন্য। লোকেরা যা বলে তা থেকে তারা পবিত্র। তাদের জন্য আছে ক্ষমা ও সম্মানজনক জীবিকা।
মনে রাখবেন, আজকে পথে-ঘাটে যার রূপ-লাবণ্য, বাহ্যিক পোশাক-পরিচ্ছদ, স্মার্টনেস দেখে বিমোহিত হচ্ছেন, সে কিন্তু আল্লাহর বিধানই ঠিকমত পালন করে না। চরিত্রবান হলে আপনি তার রূপ-লাবণ্য দেখতে পারতেন? না পারতেন না। সে নিজেকে লোকচক্ষু থেকে হেফাজত করত মহান রবের বিধান দ্বারা। তাহলে কি এটা ভাল চরিত্র হতে পারে! না পারে না।
তাই তাদের পিছনে না ছুটে, সময় নষ্ট না করে মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করুন। তিনিই সবকিছুর একমাত্র দাতা। চাওয়ার সাথে সাথে পেয়ে গেলে আলহামদুলিল্লাহ্। আর দেরী হলে তাওয়াক্কুল করুন। লা তাহযান, হতাশ হবেন না।
মহান রবের কাছে নেককার স্ত্রীর প্রার্থনা করুন। এর সাথে সাথে চক্ষুশীতলকারী সন্তান-সন্ততিও চান তার কাছে। চাওয়ার মত চেয়ে দেখুন, ইনশাআল্লাহ তিনি আপনার দুআ কবুল করবেন। হয় আজকে আর না হয় দুইদিন পর।
কিভাবে চাইতে হবে তা আল্লাহ তায়ালাই আমাদেরকে শিখিয়ে দিয়েছেন পবিত্র কুরআনে তার প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে।
رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إمَامًا.
হে আমাদের রব! আপনি আমাদেরকে এমন স্ত্রী ও সন্তানাদি দান করুন, যারা আমাদের চক্ষু শীতল করবে। আর আপনি আমাদেরকে মুত্তাকিদের নেতা বানিয়ে দিন।
পবিত্র কুরআনে আরো আছে, رَبِّ هَبْ لِي مِنْ لَدُنْكَ ذُرِّيَّةً طَيِّبَةً إِنَّكَ سَمِيعُ الدُّعَاءِ.
অর্থাৎ, হে আমার রব! আমাকে আপনার পক্ষ থেকে উত্তম সন্তান দান করুন। নিশ্চয় আপনি প্রার্থনা শ্রবণকারী। (সুরা আলে ইমরান: ৩৮)
এবং আরো আছে, رَبِّ هَبْ لِي مِنَ الصَّالِحِينَ.
অর্থাৎ, হে আমার রব! আমাকে সৎকর্মশীল সন্তান দান করুন।
এছাড়া আরেকটা বিষয় লক্ষণীয়। আর তা হচ্ছে—যেকোনো মানুষের ভবিষ্যত প্রজন্মের চরিত্রবান হওয়ার বিষয়টি তার জীবনসঙ্গীর চরিত্রবান হওয়ার ওপর নির্ভর করে। এছাড়া সচ্চরিত্রবান দম্পতির উচিত তাদের সন্তানদের চরিত্র গঠনের জন্য প্রতিনিয়ত চেষ্টা করা এবং মহান রবের কাছে প্রার্থনা করা।
আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে বুঝার, মানার এবং আমল করার তাওফিক দিন।
টিকাঃ
১২৭ সুরা নূর: ২৪, ২৬।
১২৮ সুরা ফুরকান: ৭৪।
১২৯ সুরা সাফফাত: ১০০।