📘 বিয়ে অর্ধেক দ্বীন > 📄 স্বামী স্ত্রী একে অপরের পোশাক

📄 স্বামী স্ত্রী একে অপরের পোশাক


আল্লাহ তায়ালা বলেন,
هُنَّ لِبَاسٌ لَّكُمْ وَأَنتُمْ لِبَاسٌ لَّهُنَّ.
তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের পোশাক, আর তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের পোশাক।
যাকে আল্লাহ আমার পোশাক বলেছেন তার মর্যাদা সম্পর্কে জানতে হলে আগে বুঝতে হবে সে কে? বিয়ের পর মেয়েরা সারাজীবন যাদের সাথে ছিল। যে পরিবারে ছিল। যে বাসায় ছিল। সব ছেড়ে সম্পূর্ণ নতুন এক পরিবেশে, নতুন কতগুলো চেহারার মানুষের সাথে বাস করতে আসে, এই পরিস্থিতিতে আপনি স্বামীই যদি তার দিকে বন্ধুত্বের হাত না বাড়িয়ে দেন, তার মনের অবস্থাটা ভেবে দেখুন একবার!!
আপনি এতদিন যাদের সাথে ছিলেন, যে বাসায় ছিলেন, সবই আগের মতই আছে, উলটো বোনাস হিসেবে মেয়েটি তার চিরচেনা সব ছেড়ে আপনার ঘরে এসেছে—অবশ্যই এ অনুভূতি আপনার থাকা উচিত।

একটি সুন্দর সম্পর্ক চাইলে শুরু থেকে আপনাকেই মূল দায়িত্ব পালন করতে হবে। আমি সংক্ষিপ্তভাবে মূল ব্যাপারগুলো বলছি—
মহব্বত তরবারির চেয়ে কার্যকর
এটা ভাল করে বুঝে নিন—যেটা আপনি আদেশ কিংবা জিদের মাধ্যমে আদায় করতে পারবেন না, সেটা একটু মহব্বত দিয়ে, সুন্দর করে বললেই আদায় করতে পারবেন। ভালবাসা দ্বারা স্ত্রীর হৃদয় যদি জয় করতে না পারেন, হুমকি-ধমকি দিয়ে অসম্ভব।

প্রশংসা করুন
আমি তোশামোদ করার কথা বলছিনা। প্রশংসা করার কথা বলছি। দুটোর মাঝে বাহ্যিকভাবে পার্থক্য না থাকলেও আন্তরিকতার মাঝে পার্থক্য আছে। প্রশংসাবাণী সত্য, এটি নিঃসৃত হয় হৃদয় থেকে, আর তোষামোদ বাণী মিথ্যা, এটা আসে মুখ থেকে। সুতরাং, তার ভাল কাজের স্বীকৃতি এবং মূল্যায়ন করুন প্রশংসা দ্বারা।

সমালোচনা করবেন না
সমালোচনা দ্বারা কখনই ভালো কিছু আশা করা যায়না। তাকে যদি কিছু বলতে চান, একান্ত গোপনে প্রাইভেসি মেইনটেইন করে বলুন। তার সাথে আলোচনা করুন আন্তরিকভাবে। ভুলেও আপনার পরিবারের সামনে তার দোষ ত্রুটি নিয়ে আলোচনা করবেন না। সমালোচনা না করে নসিহতমূলক কথা বলুন, যাতে সে তার ভুল বুঝতে পারে এবং নিজেকে সংশোধন করে।

সেতুবন্ধন
আপনার পরিবারের সাথে আপনার স্ত্রীর সম্পর্ক কেমন হবে এটা সম্পূর্ণ নির্ভর করে আপনার উপর। আপনাকে হতে হবে তাদের মধ্যকার সেতুবন্ধন। বিভিন্ন প্রেক্ষাপট আসবে। কিন্তু আপনাকে হিকমতের সাথে পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে। এমন যেন না হয়ে যায়- পরিবারকে খুশি করতে গিয়ে স্ত্রীর উপর অন্যায় করে বসেন, আবার এমনও যেন না হয়- স্ত্রীর মহব্বতে পরিবারের সাথে খারাপ আচরন করেন। উভয় পক্ষকে যার যার জায়গায় রেখে, ইনসাফের সাথে, মহব্বতের সাথে, হিকমতের সাথে মেইনটেইন করতে হবে।

ক্ষমাশীল হোন
দুজনকেই একে অপরের প্রতি ক্ষমাশীল হতে হবে। স্বামীকে চিন্তা করতে হবে- আমার স্ত্রী আমার জন্য জীবন-যৌবন সব কুরবান করছে, সবাইকে ছেড়ে আমাকে আপন করে আমার দেখভাল করছে। ক্ষমা পাওয়া তার অধিকার। স্বামী যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ক্ষমা করে, আল্লাহ তাদের মাঝে বরকতময় সম্পর্ক করে দিবেন ইনশা আল্লাহ। বর্তমানে স্বামীরা স্ত্রীদের ছোট-খাট ভুলগুলো ক্ষমা করতে ইচ্ছুক নয়, এটা একদম অনুচিত।
আমার ভাইয়েরা! আমরা যদি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মত চরিত্রমন্ডিত হবার চেষ্টা না করি তাহলে আমাদের দীনদারিত্ব দিয়ে কি হবে! আল্লাহর রাসুলের আচরন কেমন ছিল স্ত্রীদের সাথে, তা জেনে নিজ জীবনে প্রতিফলন করতে হবে।

টিকাঃ
সূরা বাকারা: ১৮৭।

📘 বিয়ে অর্ধেক দ্বীন > 📄 যে বিয়ের মোহর কুরআন শিখানো

📄 যে বিয়ের মোহর কুরআন শিখানো


প্রশ্ন: বিয়েতে অর্থ-সম্পদ দ্বারা মোহর দেয়ার সামর্থ থাকা সত্ত্বেও তা না দিয়ে কেবল কুরআন শিখানোকে মোহর হিসেবে গণ্য করা যাবে কি? অথবা আর্থিক মোহর দেয়ার পাশাপাশি কুরআন শিখানোকে মোহর হিসেবে ধরা জায়েজ আছে কি?
উত্তর: মোহর স্ত্রীর অধিকার বা পাওনা। এটা আল্লাহর নির্দেশ। আল্লাহ তায়ালা বলেন,
আর তোমরা স্ত্রীদেরকে তাদের মোহর দিয়ে দাও খুশি মনে। তারা যদি খুশি হয়ে তা থেকে কিছু অংশ ছেড়ে দেয় তবে তোমরা তা স্বাচ্ছন্দ্যে ভোগ কর।

টিকাঃ
১১৮ সুরা নিসা: ৪।

📘 বিয়ে অর্ধেক দ্বীন > 📄 কী জিনিস দ্বারা মোহর দিতে হবে?

📄 কী জিনিস দ্বারা মোহর দিতে হবে?


এ ব্যাপারে ফকিহগণ বলেছেন-মোহর হওয়ার জন্য শর্ত হল:
১। সেটি হয় এমন জিনিস হতে হবে যার অর্থমূল্য রয়েছে। যেমন, টাকা-পয়সা, স্বর্ণ-রৌপ্যের অলংকার, জায়গা-জমি, আসবাবপত্র ইত্যাদি।
২। অথবা এমন কোনো কাজ বা সেবা হতে হবে, যার বিনিময় মূল্য রয়েছে। যেমন কুরআন শিখানো। বিয়ের পূর্বে এ মর্মে চুক্তি হবে যে, মোহর হিসেবে স্বামী তার স্ত্রীকে কুরআন শিখাবে। অথবা এ মর্মে চুক্তি হবে যে, সে তাকে পড়ালেখা শেখাবে অথবা স্বামী স্ত্রীর পক্ষ থেকে বিশেষ কোনো কর্ম সম্পাদন করবে।
বিয়ের সময় যদি এ ধরণের কাজ বা সেবা দানের শর্তে উভয়পক্ষ সম্মত হয় তাহলেও তা মোহর হিসেবে পরিগণিত হবে। কারণ এগুলোর বিনিময় মূল্য রয়েছে।

সহিহ বুখারিতে বর্ণিত হয়েছে-রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিবাহ প্রার্থী এক দরিদ্র সাহাবিকে বললেন,
اذْهَبْ فَالْتَمِسُ وَلَوْ خَاتَمًا مِنْ حَدِيدٍ.
যাও, তালাশ কর, একটি লোহার আংটি হলেও।
লোকটি চলে গেল এবং খুঁজে দেখল। এরপর এসে বলল, আমি কিছুই পেলাম না; এমনকি একটি লোহার আংটিও না। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার কুরআন জানা আছে? সে বলল, অমুক অমুক সুরা আমার জানা আছে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার নিকট যে পরিমাণ কুরআন আছে তার বিনিময়ে এ মহিলাকে তোমার সাথে বিয়ে দিলাম।
উক্ত হাদিস থেকে ইমাম শাফেঈ রাহিমাহুল্লাহ এবং ইমাম আহমদ রাহিমাহুল্লাহ (একটি বর্ণনা মোতাবেক) কুরআন শিখানোকে মোহর হিসেবে গণ্য করেছেন। বরং কুরআন শিখানোকে মোহর হিসেবে গণ্য করার ব্যাপারে অধিকাংশ আলেম একমত। কিন্তু যদি শুধু কুরআনের সুরা বা আয়াতকে মোহর ধরা হয় অর্থাৎ বর নিজে নিজে কুরআন পড়বে অথবা কুরআন মুখস্থ করবে-এটাই মোহর। তবে এ বিষয়ে সঠিক কথা হল, এটা মোহর হিসেবে গণ্য হবে না। বরং কুরআন তিলাওয়াত শিখানো বা বিশেষ কোনো কাজ করে দেয়ার শর্ত থাকলে তা মোহর হিসেবে পরিগণিত হতে পারে।

অর্থ-সম্পদ থাকার পরও শুধু কুরআন শিখানোকে মোহর হিসেবে গণ্য করা বৈধ নয়:
অর্থ-সম্পদ থাকার পরও শুধু কুরআন শিখানোকে মোহর হিসেবে গণ্য করা বৈধ হবে না। কেননা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি লোহার আংটি হলেও খোঁজার কথা বলেছেন। সুতরাং আর্থিক মোহর দেয়ার সামর্থ থাকলে তাই প্রদান করতে হবে। অর্থ-সম্পদ না থাকলে তখন তার জন্য উক্ত বিকল্প পথ। কিন্তু অর্থ-সম্পদ একেবারে না দিয়ে শুধু কুরআন শিখানোকে মোহর হিসেবে ধার্য করা বৈধ হবে না। তবে যদি আর্থিক মোহরের পাশাপাশি এটাও বলা হয় যে, স্বামী স্ত্রীকে কুরআন শেখাবে অর্থাৎ আর্থিক মোহর তো থাকলই, পাশাপাশি কুরআনও শিখাতে হলো, তাহলে তাতে কোনো সমস্যা নেই। এটিও মোহর হিসেবে পরিগণিত হবে ইনশা আল্লাহ।

টিকাঃ
১১৯ সহিহ বুখারি: ৫৫৩৩।
১২০ উত্তর প্রদানে: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল; জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00