📄 বেটে খাটো বলে বিয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয় নি যেই মেয়েটি!
সোনালি দিনের একজন অচেনা সাহাবি। তার নাম ছিল জুলাইবিব রাদিয়াল্লাহু আনহু। জুলাইবিব নামের অর্থ ক্ষুদ্র পূর্ণতাপ্রাপ্ত। আসলে তিনি ছিলেন বামন প্রকৃতির, এজন্যই এই নামে ডাকা হতো। তাঁর আরো একটি নাম ছিল "দামিম” যার অর্থ কুশ্রী, বিকৃত, অথবা দেখতে বিরক্তিকর। তিনি যে সমাজে বাস করতেন সেখানে কেউ তার বংশ পরিচয় জানত না। এমনকি তিনি যে গোত্রের ছিলেন তাও সবার অজানা ছিল, আর তখনকার সময় এটা ছিল চরম অসম্মানের বিষয়। তিনি তার বিপদের সময় কারো কাছে সাহায্যও চাইতে পারত না, কারণ তখনকার সময় সাহায্য করা হতো মূলত গোত্রের মাধ্যমে।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুয়তের শুরুর দিকের আনসার ছিলেন তিনি। যার একমাত্র পরিচয়ই ছিল তিনি একজন আরব। সেই সমাজে প্রায় সবাই তাঁকে নিয়ে হাসি, তামাসা, ঠাট্টা করতো। এমনকি আসলাম গোত্রের আবু বারজাহ নামক এক ব্যক্তি তাঁকে তার বাড়িতে প্রবেশ পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছিলেন। কোনো মেয়ে তাঁকে বিয়ে করার কথা দূরের কথা তার কথা চিন্তাও করতে পারত না।
সুবহানাল্লাহ! কিন্তু ইসলাম গ্রহণ করার কারণে তার মর্যাদা ছিল অনেক উপরে। রহমতের নবি তাঁর কথা চিন্তা করে একদিন এক সাহাবির কাছে গিয়ে বললেন, আমি তোমার মেয়েকে বিয়ে দিতে চাই। সাহাবি খুশিতে বলে উঠলেন, ইয়া রাসুল! এ তো খুবই বিস্ময়কর ব্যাপার! রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি তোমার মেয়েকে জুলাইবিবের সাথে বিয়ে দিতে চাচ্ছি।
সাহাবি বড় রকমের একটা ধাক্কা খেয়ে খুবই হতাশ হয়ে বললেন, আমি আমার স্ত্রীর সাথে পরামর্শ করে আপনাকে জানাচ্ছি। সাহাবি তার স্ত্রীর কাছে সব খুলে বলার পর তার স্ত্রীও তার মতো স্তব্ধ হয়ে গেলেন শুরুতে। তারপর বললেন, জুলাইবিবের সাথে আমার মেয়ের বিয়ে কখনোই না! আমরা তাঁকে জুলাইবিবের সাথে বিবাহ দেবো না! আল্লাহর শপথ, এ হতেই পারে না। আনসার সাহাবি তাঁর স্ত্রীর মতামত নিয়ে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে যেতে উদ্যত হলেন, কিন্তু তাঁদের মেয়ে দরজার আড়াল থেকে সব শুনছিলেন। সে বলল, তোমাদেরকে আমাকে জুলাইবিবের সাথে বিয়ে দিতে বলছে কে? উত্তরে তার মা বলল-রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, যখন সে দেখল তার মা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করছেন, সে বলল-আমাকে তাঁর কাছে নিয়ে যাও, তিনি নিশ্চয় আমার জন্য ধংস ডেকে আনবেন না।
আল্লাহু আকবার! ইসলামের সত্যিকার জ্ঞানের কারণে তাঁর হৃদয় ছিল ঝলমল, সে বুঝতে পেরেছিল, একজন মুসলিম হিসেবে তার কি করা উচিত।
وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَن يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ وَمَن يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ ضَلَّ ضَلُلًا مُّبِينًا.
অতঃপর সে তার মা-বাবাকে কুরআনের এই আয়াতটা শুনালো- আল্লাহ ও তাঁর রাসুল কোনো বিষয়ে নির্দেশ দিলে কোন মুমিন পুরুষ কিংবা মুমিনা নারীর সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তের অধিকার থাকবেনা। কেহ আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলকে অমান্য করলে সে তো স্পষ্টই পথভ্রষ্ট।
সে আরও বলতে থাকে, আমি খুশি মনেই নিজেকে নিবেদন করবো, যাতে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার জন্য ভালো মনে করেন। আল্লাহর রাসুল মেয়েটির মতামত শুনে তার জন্য সহজ এবং সুন্দর জীবনের জন্য দুআ করলেন। এর মাঝে জিহাদের ডাক এসে যায়। জুলাইবিব রাদিয়াল্লাহু আনহু ছুটে গেলেন জিহাদের ময়দানে। জিহাদ শেষে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুলাইবিবের খোঁজ নিতে বললেন। খুঁজে দেখা গেল সে একাই ৭জন কাফিরকে হত্যা করে নিজে শহিদ হয়ে গেছেন। বর্ণনায় আছে-রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের হাতে (এরচেয়ে বরকতময় হাত আর কার হতে পারে?) তাঁকে তুলে নিয়েছিলেন, অতঃপর তাঁর নিজের হাতে জুলাইবিবকে সমাহিত করেছিলেন।
সুবহানাল্লাহ! জুলাইবিবের স্ত্রীর মর্যাদা এতো বেড়ে গিয়েছিল যে, অনেক বড় বড় সাহাবিরা তার জন্য বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে গিয়েছিলেন। এটাই ইসলাম। এখানেই ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব। জুলাইবিবের মত নাম গোত্রহীন যুবক ইসলামের কারণে পেয়েছিলেন অপার সম্মান। আর তার স্ত্রী পেয়েছিল রাসুলের কথা মান্য করার জন্য দুর্লভ সম্মান। আল্লাহ আমাদের বুঝার তাওফিক দান করুন। আমিন।
টিকাঃ
১১৬ সুরা আহযাব: ৩৬।
📄 স্বামী স্ত্রী একে অপরের পোশাক
আল্লাহ তায়ালা বলেন,
هُنَّ لِبَاسٌ لَّكُمْ وَأَنتُمْ لِبَاسٌ لَّهُنَّ.
তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের পোশাক, আর তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের পোশাক।
যাকে আল্লাহ আমার পোশাক বলেছেন তার মর্যাদা সম্পর্কে জানতে হলে আগে বুঝতে হবে সে কে? বিয়ের পর মেয়েরা সারাজীবন যাদের সাথে ছিল। যে পরিবারে ছিল। যে বাসায় ছিল। সব ছেড়ে সম্পূর্ণ নতুন এক পরিবেশে, নতুন কতগুলো চেহারার মানুষের সাথে বাস করতে আসে, এই পরিস্থিতিতে আপনি স্বামীই যদি তার দিকে বন্ধুত্বের হাত না বাড়িয়ে দেন, তার মনের অবস্থাটা ভেবে দেখুন একবার!!
আপনি এতদিন যাদের সাথে ছিলেন, যে বাসায় ছিলেন, সবই আগের মতই আছে, উলটো বোনাস হিসেবে মেয়েটি তার চিরচেনা সব ছেড়ে আপনার ঘরে এসেছে—অবশ্যই এ অনুভূতি আপনার থাকা উচিত।
একটি সুন্দর সম্পর্ক চাইলে শুরু থেকে আপনাকেই মূল দায়িত্ব পালন করতে হবে। আমি সংক্ষিপ্তভাবে মূল ব্যাপারগুলো বলছি—
মহব্বত তরবারির চেয়ে কার্যকর
এটা ভাল করে বুঝে নিন—যেটা আপনি আদেশ কিংবা জিদের মাধ্যমে আদায় করতে পারবেন না, সেটা একটু মহব্বত দিয়ে, সুন্দর করে বললেই আদায় করতে পারবেন। ভালবাসা দ্বারা স্ত্রীর হৃদয় যদি জয় করতে না পারেন, হুমকি-ধমকি দিয়ে অসম্ভব।
প্রশংসা করুন
আমি তোশামোদ করার কথা বলছিনা। প্রশংসা করার কথা বলছি। দুটোর মাঝে বাহ্যিকভাবে পার্থক্য না থাকলেও আন্তরিকতার মাঝে পার্থক্য আছে। প্রশংসাবাণী সত্য, এটি নিঃসৃত হয় হৃদয় থেকে, আর তোষামোদ বাণী মিথ্যা, এটা আসে মুখ থেকে। সুতরাং, তার ভাল কাজের স্বীকৃতি এবং মূল্যায়ন করুন প্রশংসা দ্বারা।
সমালোচনা করবেন না
সমালোচনা দ্বারা কখনই ভালো কিছু আশা করা যায়না। তাকে যদি কিছু বলতে চান, একান্ত গোপনে প্রাইভেসি মেইনটেইন করে বলুন। তার সাথে আলোচনা করুন আন্তরিকভাবে। ভুলেও আপনার পরিবারের সামনে তার দোষ ত্রুটি নিয়ে আলোচনা করবেন না। সমালোচনা না করে নসিহতমূলক কথা বলুন, যাতে সে তার ভুল বুঝতে পারে এবং নিজেকে সংশোধন করে।
সেতুবন্ধন
আপনার পরিবারের সাথে আপনার স্ত্রীর সম্পর্ক কেমন হবে এটা সম্পূর্ণ নির্ভর করে আপনার উপর। আপনাকে হতে হবে তাদের মধ্যকার সেতুবন্ধন। বিভিন্ন প্রেক্ষাপট আসবে। কিন্তু আপনাকে হিকমতের সাথে পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে। এমন যেন না হয়ে যায়- পরিবারকে খুশি করতে গিয়ে স্ত্রীর উপর অন্যায় করে বসেন, আবার এমনও যেন না হয়- স্ত্রীর মহব্বতে পরিবারের সাথে খারাপ আচরন করেন। উভয় পক্ষকে যার যার জায়গায় রেখে, ইনসাফের সাথে, মহব্বতের সাথে, হিকমতের সাথে মেইনটেইন করতে হবে।
ক্ষমাশীল হোন
দুজনকেই একে অপরের প্রতি ক্ষমাশীল হতে হবে। স্বামীকে চিন্তা করতে হবে- আমার স্ত্রী আমার জন্য জীবন-যৌবন সব কুরবান করছে, সবাইকে ছেড়ে আমাকে আপন করে আমার দেখভাল করছে। ক্ষমা পাওয়া তার অধিকার। স্বামী যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ক্ষমা করে, আল্লাহ তাদের মাঝে বরকতময় সম্পর্ক করে দিবেন ইনশা আল্লাহ। বর্তমানে স্বামীরা স্ত্রীদের ছোট-খাট ভুলগুলো ক্ষমা করতে ইচ্ছুক নয়, এটা একদম অনুচিত।
আমার ভাইয়েরা! আমরা যদি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মত চরিত্রমন্ডিত হবার চেষ্টা না করি তাহলে আমাদের দীনদারিত্ব দিয়ে কি হবে! আল্লাহর রাসুলের আচরন কেমন ছিল স্ত্রীদের সাথে, তা জেনে নিজ জীবনে প্রতিফলন করতে হবে।
টিকাঃ
সূরা বাকারা: ১৮৭।
📄 যে বিয়ের মোহর কুরআন শিখানো
প্রশ্ন: বিয়েতে অর্থ-সম্পদ দ্বারা মোহর দেয়ার সামর্থ থাকা সত্ত্বেও তা না দিয়ে কেবল কুরআন শিখানোকে মোহর হিসেবে গণ্য করা যাবে কি? অথবা আর্থিক মোহর দেয়ার পাশাপাশি কুরআন শিখানোকে মোহর হিসেবে ধরা জায়েজ আছে কি?
উত্তর: মোহর স্ত্রীর অধিকার বা পাওনা। এটা আল্লাহর নির্দেশ। আল্লাহ তায়ালা বলেন,
আর তোমরা স্ত্রীদেরকে তাদের মোহর দিয়ে দাও খুশি মনে। তারা যদি খুশি হয়ে তা থেকে কিছু অংশ ছেড়ে দেয় তবে তোমরা তা স্বাচ্ছন্দ্যে ভোগ কর।
টিকাঃ
১১৮ সুরা নিসা: ৪।
📄 কী জিনিস দ্বারা মোহর দিতে হবে?
এ ব্যাপারে ফকিহগণ বলেছেন-মোহর হওয়ার জন্য শর্ত হল:
১। সেটি হয় এমন জিনিস হতে হবে যার অর্থমূল্য রয়েছে। যেমন, টাকা-পয়সা, স্বর্ণ-রৌপ্যের অলংকার, জায়গা-জমি, আসবাবপত্র ইত্যাদি।
২। অথবা এমন কোনো কাজ বা সেবা হতে হবে, যার বিনিময় মূল্য রয়েছে। যেমন কুরআন শিখানো। বিয়ের পূর্বে এ মর্মে চুক্তি হবে যে, মোহর হিসেবে স্বামী তার স্ত্রীকে কুরআন শিখাবে। অথবা এ মর্মে চুক্তি হবে যে, সে তাকে পড়ালেখা শেখাবে অথবা স্বামী স্ত্রীর পক্ষ থেকে বিশেষ কোনো কর্ম সম্পাদন করবে।
বিয়ের সময় যদি এ ধরণের কাজ বা সেবা দানের শর্তে উভয়পক্ষ সম্মত হয় তাহলেও তা মোহর হিসেবে পরিগণিত হবে। কারণ এগুলোর বিনিময় মূল্য রয়েছে।
সহিহ বুখারিতে বর্ণিত হয়েছে-রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিবাহ প্রার্থী এক দরিদ্র সাহাবিকে বললেন,
اذْهَبْ فَالْتَمِسُ وَلَوْ خَاتَمًا مِنْ حَدِيدٍ.
যাও, তালাশ কর, একটি লোহার আংটি হলেও।
লোকটি চলে গেল এবং খুঁজে দেখল। এরপর এসে বলল, আমি কিছুই পেলাম না; এমনকি একটি লোহার আংটিও না। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার কুরআন জানা আছে? সে বলল, অমুক অমুক সুরা আমার জানা আছে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার নিকট যে পরিমাণ কুরআন আছে তার বিনিময়ে এ মহিলাকে তোমার সাথে বিয়ে দিলাম।
উক্ত হাদিস থেকে ইমাম শাফেঈ রাহিমাহুল্লাহ এবং ইমাম আহমদ রাহিমাহুল্লাহ (একটি বর্ণনা মোতাবেক) কুরআন শিখানোকে মোহর হিসেবে গণ্য করেছেন। বরং কুরআন শিখানোকে মোহর হিসেবে গণ্য করার ব্যাপারে অধিকাংশ আলেম একমত। কিন্তু যদি শুধু কুরআনের সুরা বা আয়াতকে মোহর ধরা হয় অর্থাৎ বর নিজে নিজে কুরআন পড়বে অথবা কুরআন মুখস্থ করবে-এটাই মোহর। তবে এ বিষয়ে সঠিক কথা হল, এটা মোহর হিসেবে গণ্য হবে না। বরং কুরআন তিলাওয়াত শিখানো বা বিশেষ কোনো কাজ করে দেয়ার শর্ত থাকলে তা মোহর হিসেবে পরিগণিত হতে পারে।
অর্থ-সম্পদ থাকার পরও শুধু কুরআন শিখানোকে মোহর হিসেবে গণ্য করা বৈধ নয়:
অর্থ-সম্পদ থাকার পরও শুধু কুরআন শিখানোকে মোহর হিসেবে গণ্য করা বৈধ হবে না। কেননা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি লোহার আংটি হলেও খোঁজার কথা বলেছেন। সুতরাং আর্থিক মোহর দেয়ার সামর্থ থাকলে তাই প্রদান করতে হবে। অর্থ-সম্পদ না থাকলে তখন তার জন্য উক্ত বিকল্প পথ। কিন্তু অর্থ-সম্পদ একেবারে না দিয়ে শুধু কুরআন শিখানোকে মোহর হিসেবে ধার্য করা বৈধ হবে না। তবে যদি আর্থিক মোহরের পাশাপাশি এটাও বলা হয় যে, স্বামী স্ত্রীকে কুরআন শেখাবে অর্থাৎ আর্থিক মোহর তো থাকলই, পাশাপাশি কুরআনও শিখাতে হলো, তাহলে তাতে কোনো সমস্যা নেই। এটিও মোহর হিসেবে পরিগণিত হবে ইনশা আল্লাহ।
টিকাঃ
১১৯ সহিহ বুখারি: ৫৫৩৩।
১২০ উত্তর প্রদানে: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল; জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।