📘 বিয়ে অর্ধেক দ্বীন > 📄 বিয়ের প্রস্তাব : করণীয় ও বর্জনীয়

📄 বিয়ের প্রস্তাব : করণীয় ও বর্জনীয়


শরীয়তে বিবাহ বলতে কী বুঝায়
নারী-পুরুষ একে অপর থেকে উপকৃত হওয়া এবং আদর্শ ইসলামি পরিবার ও নিরাপদ সমাজ গড়ার উদ্দেশ্যে পরস্পর চুক্তিবদ্ধ হওয়া। এ সংজ্ঞা থেকে আমরা অনুধাবন করতে পারি, বিবাহের উদ্দেশ্য কেবল ভোগ নয়; বরং এর সঙ্গে ইসলামের আলোকে আদর্শ পরিবার ও আলোকিত সমাজ গড়ার অভিপ্রায়ও জড়িত।

বিয়ের তাৎপর্য
বিবাহ একটি বৈধ ও প্রশংসনীয় কাজ। প্রত্যেক সামর্থবান ব্যক্তির ক্ষেত্রেই যার গুরুত্ব অপরিসীম। বিয়ে করা নবি-রাসুলদের (আলাইহিমুস সালাম) সুন্নাত। আল্লাহ তায়ালা বলেন,
لَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلًا مِّن قَبْلِكَ وَجَعَلْنَا لَهُمْ أَزْوَاجًا وَذُرِّيَّةً.
আর অবশ্যই তোমার পূর্বে আমি রাসুলদের প্রেরণ করেছি এবং তাদেরকে দিয়েছি স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে বিবাহ করেছেন এবং এর প্রতি উদ্বুদ্ধ করতে বলেছেন,
وَأَتَزَوَّجُ النِّسَاءَ، فَمَنْ رَغِبَ عَنْ سُنَّتِي فَلَيْسَ مِنِّي.
আমি নারীকে বিবাহ করি (তাই বিবাহ আমার সুন্নত।) অতএব, যে আমার সুন্নত থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে, সে আমার দলভুক্ত নয়।
এজন্যই আলিমগণ বলেছেন, সাগ্রহে বিবাহ করা নফল ইবাদতের চেয়ে উত্তম। কারণ, এর মধ্য দিয়ে অনেক মহৎ গুণের বিকাশ ঘটে এবং অবর্ণনীয় কল্যাণ প্রকাশ পায়।
কারও কারও ক্ষেত্রে বিবাহ করা ওয়াজিব হয়ে পড়ে। যেমন-যদি কেউ বিবাহ না করলে হারাম কাজে লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কা করে। তখন নিজেকে পবিত্র রাখতে এবং হারাম কাজ থেকে বাঁচতে তার জন্য বিয়ে করা ওয়াজিব হয়ে দাঁড়ায়। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
হে যুব সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহের সামর্থ রাখে, সে যেন বিয়ে করে। কেননা তা চক্ষুকে অবনত করে এবং লজ্জাস্থানকে হেফাযত করে। আর যে এর সামর্থ রাখে না, তার কর্তব্য রোযা রাখা। কেননা তা যৌন উত্তেজনার প্রশমন ঘটায়।

কেমন পাত্র বা পাত্রী উত্তম?
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: تُنْكَحُ الْمَرْأَةُ [ص: 8] لِأَرْبَعِ: لِمَالِهَا وَلِحَسَبِهَا وَجَمَالِهَا وَلِدِينِهَا، فَاظْفَرُ بِذَاتِ الدِّينِ، تَرِبَتْ يَدَاكَ.
চারটি জিনিসের ভিত্তিতে মেয়েদের বিয়ে হয়ে থাকে। তার সম্পদের জন্যে। বংশ মর্যাদার জন্যে। রূপের জন্যে ও দ্বীনদারীর জন্যে। অতএব তোমরা দ্বীনদার নারী বিয়ে করো। তাহলে তোমাদের কল্যাণ হবে।
হাদিসের মর্মার্থ হলো-বিয়ে করার সময় সাধারণত কোনো মেয়ের এ চারটি জিনিসই বিবেচনা করা হয়ে থাকে। কেউ সম্পদের আশায় বিয়ে করে। আবার কেউ স্ত্রীর বংশ মর্যাদার প্রতি লক্ষ্য করে বিয়ে করে। কেউ আবার বিয়ে করার সময় মেয়েদের দ্বীনদারীকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে। কিন্তু রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলমানদেরকে স্ত্রী নির্বাচনের বেলায় তার দ্বীনদারী ও তাকওয়াকেই অগ্রাধিকার দানের জন্যে উপদেশ দিয়েছেন। যদি দ্বীনদারীর সঙ্গে অন্য বৈশিষ্ট্যগুলোও বিদ্যমান থাকে, তবে তো খুবই ভাল। পাত্রীর দ্বীনী বৈশিষ্ট্যের প্রতি লক্ষ্য না করে শুধুমাত্র রূপ-লাবণ্য ও ধন-সম্পদের কারণে বিয়ে মুসলমানের জন্য সঙ্গত নয়। পাত্র নির্বাচনেও একই নিয়ম।

বিয়ের প্রস্তাব এবং তার নিয়ম
কেউ যখন কোনো নারীকে বিবাহ করতে আগ্রহী হয় তার জন্য সমীচীন হলো ওই মেয়ের অভিভাবকের মাধ্যমে তাকে পেতে চেষ্টা করা। এর জন্য রয়েছে কিছু মুস্তাহাব ও ওয়াজিব কাজ, যা উভয়পক্ষের আমলে নেওয়া উচিত:
১. শরীয়তে বিয়ের প্রস্তাব বলতে কী বুঝায়
এমন ব্যক্তির পক্ষ থেকে বিয়ে করতে চাওয়া, যার কাছ থেকে এমন প্রস্তাব গ্রহণ হতে পারে। এটা বিবাহপর্ব সূচনাকারীদের প্রাথমিক চুক্তি। এটা বিবাহের ওয়াদা এবং বিবাহের প্রথম পদক্ষেপ।

২. ইস্তিখারা করা
মুসলিম নর-নারীর জীবনে বিবাহ একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। তাই যখন তারা বিবাহের সিদ্ধান্ত নেবেন তাদের জন্য কর্তব্য হলো ইস্তিখারা তথা আল্লাহর কাছে কল্যাণ কামনা করা। জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
যখন তোমাদের কেউ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে চায়, সে যেন দু'রাকাত নফল নামাজ পড়ে, অতঃপর বলে,
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَخِيرُكَ بِعِلْمِكَ وَأَسْتَقْدِرُكَ بِقُدْرَتِكَ وَأَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ الْعَظِيمِ فَإِنَّكَ تَقْدِرُ ، وَلَا أَقْدِرُ وَتَعْلَمُ ، وَلَا أَعْلَمُ وَأَنْتَ عَلامُ الْغُيُوبِ اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنْ هَذَا الْأَمْرَ خَيْرُ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي ، أَوْ قَالَ عَاجِلِ أَمْرِي وَآجِلِهِ - فَاقْدُرْهُ لِي وَيَسِّرْهُ لِي ثُمَّ بَارِكْ لِي فِيهِ وَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنْ هَذَا الْأَمْرَ شَرَّ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي ، أَوْ قَالَ فِي عَاجِلِ أَمْرِي وَآجِلِهِ - فَاصْرِفْهُ عَنِّي وَاصْرِفْنِي عَنْهُ وَاقْدُرْ لِي الْخَيْرَ حَيْثُ كَانَ ثُمَّ أَرْضِنِي.
হে আল্লাহ! আমি আপনার ইলমের মাধ্যমে আপনার নিকট কল্যাণ কামনা করছি। আপনার কুদরতের মাধ্যমে আপনার নিকট শক্তি কামনা করছি এবং আপনার মহা অনুগ্রহ কামনা করছি। কেননা আপনি শক্তিধর, আমি শক্তিহীন, আপনি জ্ঞানবান, আমি জ্ঞানহীন এবং আপনি অদৃশ্য বিষয় সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞানী। হে আল্লাহ! এই কাজটি (এখানে উদ্দিষ্ট কাজ বা বিষয়টি উল্লেখ করবেন) আপনার জ্ঞান মোতাবেক যদি আমার দীন, আমার জীবিকা এবং আমার পরিণতির ক্ষেত্রে অথবা ইহলোক ও পরলোকে কল্যাণকর হয়, তবে তাতে আমাকে সামর্থ দিন। পক্ষান্তরে এই কাজটি আপনার জ্ঞান মোতাবেক যদি আমার দীন, জীবিকা ও পরিণতির দিক দিয়ে অথবা ইহকাল ও পরকালে ক্ষতিকর হয়, তবে আপনি তা আমার থেকে দূরে সরিয়ে রাখুন এবং আমাকেও তা থেকে দূরে সরিয়ে রাখুন এবং কল্যাণ যেখানেই থাকুক, আমার জন্য তা নির্ধারিত করে দিন। অতঃপর তাতেই আমাকে পরিতুষ্ট রাখুন।

৩. পরামর্শ করা
বিবাহ করতে চাইলে আরেকটি করণীয় হলো-বিয়ে ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ, পাত্রী ও তার পরিবার সম্পর্কে ভালো জানাশুনা রয়েছে এমন ব্যক্তির সঙ্গে পরামর্শ করা। এ ব্যাপারে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবিদের সঙ্গে অধিক পরিমাণে পরামর্শ করতেন।
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত-তিনি বলেন, আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেয়ে অন্য কাউকে আপন সাথীদের সঙ্গে বেশি পরামর্শ করতে দেখিনি।
হাসান বসরি রাহিমাহুল্লাহ বলেন,
মানুষের মধ্যে তিন ধরনের ব্যক্তিত্ব রয়েছে-কিছু ব্যক্তি পূর্ণ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন, কিছু ব্যক্তি অর্ধেক ব্যক্তিত্বসম্পন্ন এবং কিছু ব্যক্তি একেবারে ব্যক্তিত্বহীন। পূর্ণ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ব্যক্তি সেই, যিনি সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এবং পরামর্শও করেন। অর্ধেক ব্যক্তিত্বসম্পন্ন সেই, যিনি সিদ্ধান্ত নিতে পারেন তবে পরামর্শ করেন না। আর ব্যক্তিত্বহীন ব্যক্তি তিনিই, যিনি সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না আবার কারো সঙ্গে পরামর্শও করেন না।
এদিকে পরামর্শদাতার কর্তব্য বিশ্বস্ততা রক্ষা করা। তিনি যেমন তার জানা কোনো দোষ লুকাবেন না, তেমনি অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যক্তির কোনো দোষের কথা বানিয়েও বলবেন না। আর অবশ্যই এ পরামর্শের কথা কাউকে বলবেন না।

৪. পাত্রী দেখা
জাবের ইবনু আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত—তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ যখন নারীকে বিবাহের প্রস্তাব দেয়, অতঃপর তার পক্ষে যদি ওই নারীর এতটুকু সৌন্দর্য দেখা সম্ভব হয়, যা তাকে মুগ্ধ করে এবং মেয়েটিকে (বিবাহ করতে) উদ্বুদ্ধ করে, সে যেন তা দেখে নেয়।
অপর এক হাদিসে রয়েছে,
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত—তিনি বলেন, আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে ছিলাম। এমতাবস্থায় তাঁর কাছে এক ব্যক্তি এসে জানাল যে, সে একজন আনসারী মেয়েকে বিয়ে করেছে। তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেন, 'তুমি কি তাকে দেখেছো?' সে বললো, না। তিনি বললেন, যাও, তুমি গিয়ে তাকে দেখে নাও। কারণ, আনসারীদের চোখে (সমস্যা) কিছু একটা রয়েছে।'
ইমাম নববি রাহিমাহুল্লাহ বলেন—এ হাদিস থেকে জানা যায়, যাকে বিবাহ করতে ইচ্ছুক তাকে দেখে নেয়া মুস্তাহাব।

৫. ছবি বা ফটো বিনিময়
নারী-পুরুষ কারো জন্য কোনোভাবে কোনো ছবি বা ফটো বিনিময় বৈধ নয়। কারণ, প্রথমত: এ ছবি অন্যরাও দেখার সম্ভাবনা রয়েছে, যাদের জন্য তা দেখার অনুমতি নেই। দ্বিতীয়ত: ছবি কখনো পূর্ণ সত্য তুলে ধরে না। প্রায়শই এমন দেখা যায়, কাউকে ছবিতে দেখে বাস্তবে দেখলে মনে হয় তিনি একেবারে ভিন্ন কেউ। তৃতীয়ত: কখনো এমন হতে পারে যে প্রস্তাব ফিরিয়ে নেয়া হয় বা প্রত্যাখ্যাত হয় অথচ ছবি সেখানে রয়েই যায়। ছবিটিকে তারা যাচ্ছে তাই করতে পারে।

৬. বিবাহের আগে প্রস্তাবদানকারীর সঙ্গে বাইরে বের হওয়া বা নির্জনে অবস্থান করা
বিয়ের আগে প্রস্তাব দেয়া নারীর সঙ্গে নির্জন অবস্থান বা তার সঙ্গে ঘুরতে যাওয়া বৈধ নয়। কেননা, এখনো সে বেগানা নারীই রয়েছে। পরিতাপের বিষয়, আজ অনেক মুসলমানই তার মেয়েকে লাগামহীন ছেড়ে দিয়েছেন। ফলে তারা প্রস্তাবদানকারী পুরুষের সঙ্গে ঘরের বাইরে যায়! উপরন্তু তার সঙ্গে সফরও করে! ভাবখানা এমন যে মেয়েটি যেন তার স্ত্রী হয়ে গেছে।

৭. বর-কনের পারস্পরিক যোগাযোগ করা
প্রস্তাব দেয়া নারীর সঙ্গে ফোন বা মোবাইলে এবং চিঠি ও মেইলের মাধ্যমে শুধু বিবাহের চুক্তি ও শর্তাদি বোঝাপড়ার জন্য যোগাযোগের অনুমতি রয়েছে। তবে এ যোগাযোগ হতে হবে ভাব ও আবেগবিবর্জিত ভাষায়, যা একজন বেগানা নারী-পুরুষের জন্য বৈধ ভাবা হয় না। আর বলাবাহুল্য, বিবাহের প্রস্তাব প্রেরণকারী কনের কেউ নন, যাবৎ না তারা বিবাহের বন্ধনে আবদ্ধ হয়। উল্লেখ্য, এ যোগাযোগ উভয়ের পিতার সম্মতিতে হওয়া শ্রেয়।

৮. একজনের প্রস্তাবের ওপর অন্যজনের প্রস্তাব না দেয়া
যে নারীর কোথাও বিয়ের কথাবার্তা চলছে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়া বৈধ নয়।
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত-রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কেউ তার ভাইয়ের প্রস্তাবের ওপর যেন প্রস্তাব না দেয়, যাবৎ না সে তাকে বিবাহ করে অথবা প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নেয়।
হ্যাঁ, দ্বিতীয় প্রস্তাবদাতা যদি প্রথম প্রস্তাবদাতার কথা না জানেন, তবে তা বৈধ। এক্ষেত্রে ওই নারী যদি প্রথমজনকে কথা না দিয়ে থাকেন, তবে দু'জনের মধ্যে যে কাউকে গ্রহণ করতে পারবেন।

৯. ইদ্দতে থাকা নারীকে প্রস্তাব দেয়া
বায়ান তালাক বা স্বামীর মৃত্যুতে ইদ্দত পালনকারী নারীকে সুস্পষ্ট প্রস্তাব দেয়া হারাম। ইঙ্গিতে প্রস্তাব দেয়া বৈধ। কেননা আল্লাহ তায়ালা বলেন,
আর এতে তোমাদের কোন পাপ নেই যে, তোমরা নারীদেরকে ইশারায় যে প্রস্তাব করবে কিংবা মনে গোপন করে রাখবে।
তবে 'রজঈ' তালাকপ্রাপ্তা নারীকে সুস্পষ্টভাবে তো দূরের কথা, আকার-ইঙ্গিতে প্রস্তাব দেয়াও হারাম। তেমনি এ নারীর পক্ষে তালাকদাতা ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারও প্রস্তাবে সাড়া দেয়াও হারাম। কেননা এখনো সে তার স্ত্রী হিসেবেই রয়েছে।
সুস্পষ্ট প্রস্তাব: যেমন এ কথা বলা, আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই।
অস্পষ্ট প্রস্তাব: যেমন এ কথা বলা, আমি তোমার মতো মেয়েই খুঁজছি ইত্যাদি বাক্য।

১০. এ্যাংগেজমেন্ট করা
ইদানীং পাশ্চাত্য সভ্যতার অনুকরণে বিয়েতে এ্যাংগেজমেন্ট করার রেওয়াজ ব্যাপকতা পেয়েছে। এই আংটি পরানোতে যদি এমন ধরে নেওয়া হয় যে, এর মাধ্যমে বিবাহের কথা পাকাপোক্ত হয়ে গেল তবে তা শরীয়তের দৃষ্টিতে হারাম। কেননা, মুসলিম সমাজ বা শরীয়তে এর কোনো ভিত্তি নেই। আরও নিন্দনীয় ব্যাপার হলো, এ আংটি প্রস্তাবদানকারী পুরুষ নিজ হাতে কনেকে পরিয়ে দেয়। কারণ, এ পুরুষ এখনো তার জন্য বেগানা। এখনো সে মেয়েটির স্বামী হয়নি। কেননা, কেবল বিবাহ চুক্তি সম্পাদিত হবার পরেই তারা স্বামী-স্ত্রী বলে গণ্য হবেন।

১১. উপযুক্ত পাত্রের প্রস্তাব প্রত্যাখান করা উচিত নয়
উপযুক্ত পাত্র পেলে তার প্রস্তাব নাকচ করা উচিত নয়।
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত—তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যদি এমন কেউ তোমাদের বিয়ের প্রস্তাব দেয় যার ধার্মিকতা ও চরিত্রে তোমরা সন্তুষ্ট, তবে তোমরা তার সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দিবে। যদি তা না করো, তবে পৃথিবীতে ব্যাপক অরাজকতা সৃষ্টি হবে।

প্রিয় পাঠক-পাঠিকা! আজ আমাদের ভেবে দেখা দরকার, ইসলামের আদর্শ কোথায় আর আমরা কোথায়। ইসলাম কী বলে আর আমরা কী করি। আমরা কি অস্বীকার করতে পারি যে, এসব আদর্শ আজ আমাদের আমলের বাইরে চলে গেছে। আমাদের যাপিত জীবনে ইসলামের বিমল রঙ ফিকে হয়ে এসেছে। সত্যিকথা বলতে গেলে আমরা বরং বর্জনীয় কাজগুলো করি আর করণীয়গুলো ভুলে থাকি। আল্লাহ মাফ করুন। এ কারণেই আমাদের বিয়ে-শাদীতে বরকত নেই। বিবাহিত জীবনে সুখ নেই। দাম্পত্য জীবনের সুখ আজ সোনার হরিণে পরিণত হয়েছে। প্রকৃত সুখের পরশ পেতে হলে, সুখ পাখির ডানা ছুঁতে হলে আমাদেরকে ইসলামের কাছেই ফিরতে হবে। ইসলামের আদর্শকেই আঁকড়ে ধরতে হবে। শুধু কনে দেখা আর বিয়ে-শাদীতেই নয়; জীবনের প্রতিটি কর্মে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। মুখে নয়, কাজে পরিণত করতে হবে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে তাঁর যাবতীয় আদেশ এবং তাঁর রাসুলের সকল আদর্শ মেনে চলার তাওফিক দিন। আমিন।

টিকাঃ
১০১ সুরা রাদ: ৩৮।
১০২ সহিহ বুখারি।
১০০ সহিহ বুখারি: ৫০৬৬। সহিহ মুসলিম: ৩৪৬৪।
১০৪ সহিহ বুখারি।
১০১ সহিহ বুখারি: ১১৬৬; সুনানু আবু দাউদ: ১৫৪০।
১০২ সুনানু তিরমিযি: ১৭১৪; সুনানু বাইহাকি: ১৯২৮০।
১০৭ আল মুসতাতরিফ ফী কুল্লি মুসতাযরিফ: ১/১৬৬।
১০৮ সুনানু কুবরা: ১৩৮৬৯।
১০৯ সহিহ মুসলিম: ৩৫৫০।
১১০ ইমাম নববি, শারহু মুসলিম: ৯/১৭৯।
১১১ সহিহ বুখারি : ৫১৪৪; সুনানু নাসাঈ : ৩২৪১।
১১২ সুরা বাকারা: ২৩৫।
১১৩ ফতোয়া জামেয়া লিল-মারআতিল মুসলিমা।
১১৪ সুনানু তিরমিযি: ১০৮৪।
১১৫ উৎস: আলী হাসান তৈয়বের প্রবন্ধ。

📘 বিয়ে অর্ধেক দ্বীন > 📄 বেটে খাটো বলে বিয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয় নি যেই মেয়েটি!

📄 বেটে খাটো বলে বিয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয় নি যেই মেয়েটি!


সোনালি দিনের একজন অচেনা সাহাবি। তার নাম ছিল জুলাইবিব রাদিয়াল্লাহু আনহু। জুলাইবিব নামের অর্থ ক্ষুদ্র পূর্ণতাপ্রাপ্ত। আসলে তিনি ছিলেন বামন প্রকৃতির, এজন্যই এই নামে ডাকা হতো। তাঁর আরো একটি নাম ছিল "দামিম” যার অর্থ কুশ্রী, বিকৃত, অথবা দেখতে বিরক্তিকর। তিনি যে সমাজে বাস করতেন সেখানে কেউ তার বংশ পরিচয় জানত না। এমনকি তিনি যে গোত্রের ছিলেন তাও সবার অজানা ছিল, আর তখনকার সময় এটা ছিল চরম অসম্মানের বিষয়। তিনি তার বিপদের সময় কারো কাছে সাহায্যও চাইতে পারত না, কারণ তখনকার সময় সাহায্য করা হতো মূলত গোত্রের মাধ্যমে।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুয়তের শুরুর দিকের আনসার ছিলেন তিনি। যার একমাত্র পরিচয়ই ছিল তিনি একজন আরব। সেই সমাজে প্রায় সবাই তাঁকে নিয়ে হাসি, তামাসা, ঠাট্টা করতো। এমনকি আসলাম গোত্রের আবু বারজাহ নামক এক ব্যক্তি তাঁকে তার বাড়িতে প্রবেশ পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছিলেন। কোনো মেয়ে তাঁকে বিয়ে করার কথা দূরের কথা তার কথা চিন্তাও করতে পারত না।

সুবহানাল্লাহ! কিন্তু ইসলাম গ্রহণ করার কারণে তার মর্যাদা ছিল অনেক উপরে। রহমতের নবি তাঁর কথা চিন্তা করে একদিন এক সাহাবির কাছে গিয়ে বললেন, আমি তোমার মেয়েকে বিয়ে দিতে চাই। সাহাবি খুশিতে বলে উঠলেন, ইয়া রাসুল! এ তো খুবই বিস্ময়কর ব্যাপার! রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি তোমার মেয়েকে জুলাইবিবের সাথে বিয়ে দিতে চাচ্ছি।
সাহাবি বড় রকমের একটা ধাক্কা খেয়ে খুবই হতাশ হয়ে বললেন, আমি আমার স্ত্রীর সাথে পরামর্শ করে আপনাকে জানাচ্ছি। সাহাবি তার স্ত্রীর কাছে সব খুলে বলার পর তার স্ত্রীও তার মতো স্তব্ধ হয়ে গেলেন শুরুতে। তারপর বললেন, জুলাইবিবের সাথে আমার মেয়ের বিয়ে কখনোই না! আমরা তাঁকে জুলাইবিবের সাথে বিবাহ দেবো না! আল্লাহর শপথ, এ হতেই পারে না। আনসার সাহাবি তাঁর স্ত্রীর মতামত নিয়ে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে যেতে উদ্যত হলেন, কিন্তু তাঁদের মেয়ে দরজার আড়াল থেকে সব শুনছিলেন। সে বলল, তোমাদেরকে আমাকে জুলাইবিবের সাথে বিয়ে দিতে বলছে কে? উত্তরে তার মা বলল-রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, যখন সে দেখল তার মা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করছেন, সে বলল-আমাকে তাঁর কাছে নিয়ে যাও, তিনি নিশ্চয় আমার জন্য ধংস ডেকে আনবেন না।

আল্লাহু আকবার! ইসলামের সত্যিকার জ্ঞানের কারণে তাঁর হৃদয় ছিল ঝলমল, সে বুঝতে পেরেছিল, একজন মুসলিম হিসেবে তার কি করা উচিত।
وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَن يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ وَمَن يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ ضَلَّ ضَلُلًا مُّبِينًا.
অতঃপর সে তার মা-বাবাকে কুরআনের এই আয়াতটা শুনালো- আল্লাহ ও তাঁর রাসুল কোনো বিষয়ে নির্দেশ দিলে কোন মুমিন পুরুষ কিংবা মুমিনা নারীর সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তের অধিকার থাকবেনা। কেহ আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলকে অমান্য করলে সে তো স্পষ্টই পথভ্রষ্ট।
সে আরও বলতে থাকে, আমি খুশি মনেই নিজেকে নিবেদন করবো, যাতে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার জন্য ভালো মনে করেন। আল্লাহর রাসুল মেয়েটির মতামত শুনে তার জন্য সহজ এবং সুন্দর জীবনের জন্য দুআ করলেন। এর মাঝে জিহাদের ডাক এসে যায়। জুলাইবিব রাদিয়াল্লাহু আনহু ছুটে গেলেন জিহাদের ময়দানে। জিহাদ শেষে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুলাইবিবের খোঁজ নিতে বললেন। খুঁজে দেখা গেল সে একাই ৭জন কাফিরকে হত্যা করে নিজে শহিদ হয়ে গেছেন। বর্ণনায় আছে-রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের হাতে (এরচেয়ে বরকতময় হাত আর কার হতে পারে?) তাঁকে তুলে নিয়েছিলেন, অতঃপর তাঁর নিজের হাতে জুলাইবিবকে সমাহিত করেছিলেন।
সুবহানাল্লাহ! জুলাইবিবের স্ত্রীর মর্যাদা এতো বেড়ে গিয়েছিল যে, অনেক বড় বড় সাহাবিরা তার জন্য বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে গিয়েছিলেন। এটাই ইসলাম। এখানেই ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব। জুলাইবিবের মত নাম গোত্রহীন যুবক ইসলামের কারণে পেয়েছিলেন অপার সম্মান। আর তার স্ত্রী পেয়েছিল রাসুলের কথা মান্য করার জন্য দুর্লভ সম্মান। আল্লাহ আমাদের বুঝার তাওফিক দান করুন। আমিন।

টিকাঃ
১১৬ সুরা আহযাব: ৩৬।

📘 বিয়ে অর্ধেক দ্বীন > 📄 স্বামী স্ত্রী একে অপরের পোশাক

📄 স্বামী স্ত্রী একে অপরের পোশাক


আল্লাহ তায়ালা বলেন,
هُنَّ لِبَاسٌ لَّكُمْ وَأَنتُمْ لِبَاسٌ لَّهُنَّ.
তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের পোশাক, আর তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের পোশাক।
যাকে আল্লাহ আমার পোশাক বলেছেন তার মর্যাদা সম্পর্কে জানতে হলে আগে বুঝতে হবে সে কে? বিয়ের পর মেয়েরা সারাজীবন যাদের সাথে ছিল। যে পরিবারে ছিল। যে বাসায় ছিল। সব ছেড়ে সম্পূর্ণ নতুন এক পরিবেশে, নতুন কতগুলো চেহারার মানুষের সাথে বাস করতে আসে, এই পরিস্থিতিতে আপনি স্বামীই যদি তার দিকে বন্ধুত্বের হাত না বাড়িয়ে দেন, তার মনের অবস্থাটা ভেবে দেখুন একবার!!
আপনি এতদিন যাদের সাথে ছিলেন, যে বাসায় ছিলেন, সবই আগের মতই আছে, উলটো বোনাস হিসেবে মেয়েটি তার চিরচেনা সব ছেড়ে আপনার ঘরে এসেছে—অবশ্যই এ অনুভূতি আপনার থাকা উচিত।

একটি সুন্দর সম্পর্ক চাইলে শুরু থেকে আপনাকেই মূল দায়িত্ব পালন করতে হবে। আমি সংক্ষিপ্তভাবে মূল ব্যাপারগুলো বলছি—
মহব্বত তরবারির চেয়ে কার্যকর
এটা ভাল করে বুঝে নিন—যেটা আপনি আদেশ কিংবা জিদের মাধ্যমে আদায় করতে পারবেন না, সেটা একটু মহব্বত দিয়ে, সুন্দর করে বললেই আদায় করতে পারবেন। ভালবাসা দ্বারা স্ত্রীর হৃদয় যদি জয় করতে না পারেন, হুমকি-ধমকি দিয়ে অসম্ভব।

প্রশংসা করুন
আমি তোশামোদ করার কথা বলছিনা। প্রশংসা করার কথা বলছি। দুটোর মাঝে বাহ্যিকভাবে পার্থক্য না থাকলেও আন্তরিকতার মাঝে পার্থক্য আছে। প্রশংসাবাণী সত্য, এটি নিঃসৃত হয় হৃদয় থেকে, আর তোষামোদ বাণী মিথ্যা, এটা আসে মুখ থেকে। সুতরাং, তার ভাল কাজের স্বীকৃতি এবং মূল্যায়ন করুন প্রশংসা দ্বারা।

সমালোচনা করবেন না
সমালোচনা দ্বারা কখনই ভালো কিছু আশা করা যায়না। তাকে যদি কিছু বলতে চান, একান্ত গোপনে প্রাইভেসি মেইনটেইন করে বলুন। তার সাথে আলোচনা করুন আন্তরিকভাবে। ভুলেও আপনার পরিবারের সামনে তার দোষ ত্রুটি নিয়ে আলোচনা করবেন না। সমালোচনা না করে নসিহতমূলক কথা বলুন, যাতে সে তার ভুল বুঝতে পারে এবং নিজেকে সংশোধন করে।

সেতুবন্ধন
আপনার পরিবারের সাথে আপনার স্ত্রীর সম্পর্ক কেমন হবে এটা সম্পূর্ণ নির্ভর করে আপনার উপর। আপনাকে হতে হবে তাদের মধ্যকার সেতুবন্ধন। বিভিন্ন প্রেক্ষাপট আসবে। কিন্তু আপনাকে হিকমতের সাথে পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে। এমন যেন না হয়ে যায়- পরিবারকে খুশি করতে গিয়ে স্ত্রীর উপর অন্যায় করে বসেন, আবার এমনও যেন না হয়- স্ত্রীর মহব্বতে পরিবারের সাথে খারাপ আচরন করেন। উভয় পক্ষকে যার যার জায়গায় রেখে, ইনসাফের সাথে, মহব্বতের সাথে, হিকমতের সাথে মেইনটেইন করতে হবে।

ক্ষমাশীল হোন
দুজনকেই একে অপরের প্রতি ক্ষমাশীল হতে হবে। স্বামীকে চিন্তা করতে হবে- আমার স্ত্রী আমার জন্য জীবন-যৌবন সব কুরবান করছে, সবাইকে ছেড়ে আমাকে আপন করে আমার দেখভাল করছে। ক্ষমা পাওয়া তার অধিকার। স্বামী যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ক্ষমা করে, আল্লাহ তাদের মাঝে বরকতময় সম্পর্ক করে দিবেন ইনশা আল্লাহ। বর্তমানে স্বামীরা স্ত্রীদের ছোট-খাট ভুলগুলো ক্ষমা করতে ইচ্ছুক নয়, এটা একদম অনুচিত।
আমার ভাইয়েরা! আমরা যদি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মত চরিত্রমন্ডিত হবার চেষ্টা না করি তাহলে আমাদের দীনদারিত্ব দিয়ে কি হবে! আল্লাহর রাসুলের আচরন কেমন ছিল স্ত্রীদের সাথে, তা জেনে নিজ জীবনে প্রতিফলন করতে হবে।

টিকাঃ
সূরা বাকারা: ১৮৭।

📘 বিয়ে অর্ধেক দ্বীন > 📄 যে বিয়ের মোহর কুরআন শিখানো

📄 যে বিয়ের মোহর কুরআন শিখানো


প্রশ্ন: বিয়েতে অর্থ-সম্পদ দ্বারা মোহর দেয়ার সামর্থ থাকা সত্ত্বেও তা না দিয়ে কেবল কুরআন শিখানোকে মোহর হিসেবে গণ্য করা যাবে কি? অথবা আর্থিক মোহর দেয়ার পাশাপাশি কুরআন শিখানোকে মোহর হিসেবে ধরা জায়েজ আছে কি?
উত্তর: মোহর স্ত্রীর অধিকার বা পাওনা। এটা আল্লাহর নির্দেশ। আল্লাহ তায়ালা বলেন,
আর তোমরা স্ত্রীদেরকে তাদের মোহর দিয়ে দাও খুশি মনে। তারা যদি খুশি হয়ে তা থেকে কিছু অংশ ছেড়ে দেয় তবে তোমরা তা স্বাচ্ছন্দ্যে ভোগ কর।

টিকাঃ
১১৮ সুরা নিসা: ৪।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00