📄 সুন্নাহ অনুযায়ী বিয়ে!
সুন্নাহ অনুসরন করে বিয়ে করা মুসলিম যুবকের অহংকার!
যেসব মুসলিম ভাইয়েরা বিবাহের নিয়ম নিয়ে ভাবছেন এবং যেসব অভিভাবক সন্তানদের বিয়ে দেবেন তার আগে জেনে নিন এই গুরুত্বপূর্ণ ইবাদাতটি কিভাবে সম্পাদন করা উচিৎ। একজন আদর্শবান মুসলিম যুবক বা অভিভাবক তার প্রাণপ্রিয় রাসুলের তরিকা মতো বিবাহ সম্পাদন করাকে আনন্দ ও গর্ববোধ মনে করেন।
তাই আসুন জেনে নিই বিবাহের কতিপয় সুন্নতসমূহ, যা হাদিস দ্বারা প্রমাণিত—
(১) সুন্নাহ অনুযায়ী বিবাহ সাদাসিধে ও অনাড়ম্বর হবে, যা অপচয়, অপব্যয়, বেপর্দা ও বিজাতীয় সংস্কৃতি মুক্ত হবে এবং তাতে যৌতুকের শর্ত বা সামর্থের অধিক মোহরানার শর্ত থাকবেনা।
(২) সৎ ও খোদাভীরু পাত্র-পাত্রীর সন্ধান করে বিবাহের পূর্বে পয়গাম পাঠানো। কোনো বাহানা বা সুযোগে পাত্রী দেখা সম্ভব হলে দেখে নেয়া মুস্তাহাব। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে ঘটা করে পাত্রী দেখানোর যে প্রথা আমাদের সমাজে প্রচলিত, তা সুন্নতের পরিপন্থী ও পরিত্যাজ্য।
(৩) শাউয়াল মাসে এবং জুমুয়ার দিনে মসজিদে বিবাহ সম্পাদন করা। উল্লেখ্য, সকল মাসের যেকোনো দিন বিবাহ করা জায়িজ আছে।
(৪) বিবাহের খবর ব্যাপকভাবে প্রচার করে বিবাহ করা এবং বিবাহের পরে আব্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত লোকদের মাঝে খেজুর বন্টন করা।
(৫) সামর্থানুযায়ী মোহর ধার্য করা। মোহরানা ধার্যে বরপক্ষকে চাপাচাপি করা বা এমন বোঝা বরের মাথার উপর তুলে দেয়া, যে বোঝা বহন করা বরের সামর্থ নেই। নিশ্চয়ই তা গোনাহের কাজ, যথাসম্ভব মোহরানা নগদ আদায় করাটাই উত্তম, যা একজন বরের অনেক বড় কর্তব্য। মোহরানার টাকা বিয়ের আগে থেকে জমা না করলে কনেপক্ষের নিকট নিচু হওয়া লাগে।
(৬) বাসর রাতে স্ত্রীর কপালের উপরের চুল হাতে নিয়ে এই দুআ পড়া- اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَهَا وَخَيْرَ مَا جَبَلْتَهَا عَلَيْهِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا وَمِنْ شَرِّ مَا جَبَلْتَهَا عَلَيْهِ. হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে এর মধ্যকার কল্যাণ এবং এর মাধ্যমে কল্যাণ চাই এবং তার মধ্যে নিহিত অকল্যাণ ও তার মাধ্যমে অকল্যাণ থেকে আপনার নিকট আশ্রয় চাই।
(৭) স্ত্রীর সঙ্গে প্রথমে অন্তরঙ্গতা সৃষ্টি করবে, তারপর যখনই সহবাসের ইচ্ছা হয়, তখন প্রথমে নিম্নোক্ত দুআ পড়ে নিবে- بِاسْمِ اللَّهِ اللَّهُمَّ جَنَّبْنَا الشَّيْطَانَ، وَجَنَّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا. আল্লাহর নামে, হে আল্লাহ! আপনি আমাদের শয়তান থেকে দূরে রাখুন এবং আপনি আমাদেরকে যা দান করেন তা থেকে শয়তানকে দূরে রাখুন।
(উপরোক্ত দুআ না পড়লে শয়তানের তাছিরে বাচ্চার উপর কু-প্রভাব পড়ে। অতঃপর সন্তান বড় হলে তার মধ্যে ধীরে ধীরে তা প্রকাশ পেতে থাকে এবং বাচ্চা নাফরমান ও অবাধ্য হয়। সুতরাং পিতা-মাতাকে খুবই সতর্ক থাকা জরুরী।)
(৮) বাসর রাতের পর স্বীয় আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, শুভাকাঙ্খী এবং গরীব মিসকিনদের তাউফিক অনুযায়ী ওলিমা খাওয়ানোর আয়োজন করা সুন্নাত। ওলিমার খাওয়ানো বরের দ্বায়িত্ব।
বর্তমানে কিছু সংখ্যক আলেম-ওলামা ব্যতিত কাউকে ওলিমা খাওয়াতে দেখা যায়না। সবাই কনের বাড়ির জুলুমীখানার পাগল, খানার আইটেমে কমতি হলে তো কথাই নেই, সারা বছর স্ত্রীকে মাথা নিচু করে থাকতে হয়, যা ইসলামে একটি ঘৃণিত কাজ।
ইদানিং কেউ কেউ বিয়ের আগের রাত বরের বাড়িতে মেহেদী অনুষ্ঠান বা ইসলামি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকেন, যা একটি বিদআত। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বা সাহাবায়ে কেরামগণ বিয়েপূর্ব রাতে এসব কোনো অনুষ্ঠান করেননি। পুরুষের জন্য মেহেদী লাগানো হারাম। হ্যাঁ, বরের বাড়িতে বৌ এনে বাসর রাতের পরদিন ওলিমা অনুষ্ঠান করাটাই হচ্ছে সুন্নাহ এবং এদিন বর-কনেকে আনন্দ দেয়ার জন্য ইসলামি গজল অনুষ্ঠানও করা জায়েজ।
(৯) কোনো পক্ষ যেওরের শর্ত করা নিষেধ এবং ছেলের পক্ষ থেকে যৌতুক চাওয়া হারাম। কনের ইযন-এর জন্য সাক্ষীর কোনো প্রয়োজন নাই।
সুতরাং ছেলের পক্ষের লোক ইযন শুনতে যাওয়া অনর্থক এবং বেপর্দা। সুতরাং তা নিষেধ। মেয়ের কোন মাহরাম বিবাহের উকিল হয়ে অনুমতি নিবে। শর্তারোপ করে বর যাত্রীর নামে বরের সাথে অধিক সংখ্যক লোকজন নিয়ে যাওয়া এবং কনের বাড়িতে মেহমান হয়ে কনের পিতার উপর বোঝা সৃষ্টি করা আজকের সমাজের একটি জঘণ্য কুপ্রথা, যা সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাগ করা আবশ্যক। কনে পক্ষ হতে জোরপূর্বক রাজকীয় খানা আদায় করে খাওয়াটা হারাম।
ওলিমায় অতিরিক্ত ব্যয় করা কিংবা খুব উঁচুমানের খানার ব্যবস্থা করা জরুরী নয়। বরং সামর্থানুযায়ী খরচ করাই সুন্নত আদায়ের জন্য যথেষ্ট। যে ওলিমায় শুধু ধনী ও দুনিয়াদার লোকদের দাওয়াত দেওয়া হয়, দ্বীনদার ও গরীব-মিসকিনদের দাওয়াত দেওয়া হয়না, সে ওলিমাকে হাদিসে নিকৃষ্টতম ওলিমা বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। সুতরাং এ ধরনের ওলিমা আয়োজন থেকে বিরত থাকা উচিত।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে সুন্নাহ মোতাবেক বিবাহ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
টিকাঃ
তাবারানী আউসাত: ৩৬১২। সহিহ বুখারি: ৫০৯০। ইমদাদুল ফতোয়া: ৪/২০০। * সহিহ মুসলিম: ১৪২৩। বাইহাকি : ১৪৬৯৯। 'সহিহ বুখারি: ৫১৪৭।
সুনানু আবু দাউদ: ২১০৬। সুনানু আবু দাউদ: ২১০৬। সহিহ বুখারি : ৬৩৮৮; সহিহ মুসলিম: ১৪৩৪। সহিহ মুসলিম: ১৪২৭।
আহসানুল ফতোয়া: ৫/১৩। সহিহ মুসলিম: ১৪২১। মুসনাদে আহমাদ: ২০৭২২। সুনানু আবু দাউদ: ৩৭৫৪। লিখেছেন: ছাঈদ কোদালাভী।
📄 হালাল সম্পর্ক (বিয়ে) হালাল রিজিক ও নেক স্ত্রী সন্তান লাভের দোয়া
উত্তম ও প্রয়োজনীয় দোয়াগুলো নিচে দেওয়া হলো:
১) শীঘ্রই হালাল রিজিক লাভ ও বিবাহ হওয়ার জন্য দোয়া
رَبِّ إِنِّي لِمَا أَنزَلْتَ إِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ.
হে আমার রব! নিশ্চয় আপনি আমার প্রতি যে অনুগ্রহই নাযিল করবেন, আমি তার মুখাপেক্ষী।
২) পবিত্র রিজিক প্রার্থনার দোয়া
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ عِلْماً نافعاً، وَرِزْقاً طَيِّباً، وَعَمَلاً مُتَقَبَّلاً.
হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট উপকারী জ্ঞান, পবিত্র রিযিক এবং কবুলযোগ্য আমল প্রার্থনা করি।
এটি ফজর নামাযের সালাম ফিরানোর পর পড়বে।
৩) চক্ষু শীতলকারী স্ত্রী ও সন্তানাদি লাভ আর মুত্তাকীদের নেতা হতে প্রার্থনা
رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إمامًا.
হে আমাদের রব! আপনি আমাদেরকে এমন স্ত্রী ও সন্তানাদি দান করুন, যারা আমাদের চক্ষু শীতল করবে। আর আপনি আমাদেরকে মুত্তাকিদের নেতা বানিয়ে দিন।
৪) সুসন্তান লাভের জন্য
رَبِّ هَبْ لِي مِنْ لَدُنْكَ ذُرِّيَّةً طَيِّبَةً إِنَّكَ سَمِيعُ الدُّعَاءِ.
হে আমার রব! আমাকে আপনার পক্ষ থেকে উত্তম সন্তান দান করুন। নিশ্চয় আপনি প্রার্থনা শ্রবণকারী।
৫) শুকরিয়া জ্ঞাপন, কবুল আমল এবং সুসন্তান প্রার্থনা
رَبِّ أَوْزِعْنِي أَنْ أَشْكُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِي أَنْعَمْتَ عَلَيَّ وَعَلَى وَالِدَيَّ وَأَنْ أَعْمَلَ صَالِحًا تَرْضَاهُ وَأَصْلِحْ لِي فِي ذُرِّيَّتِي إِنِّي تُبْتُ إِلَيْكَ وَإِنِّي مِنَ الْمُسْلِمِينَ.
হে আমার রব! আমাকে সামর্থ দাও, তুমি আমার উপর ও আমার মাতা- পিতার উপর যে নিয়ামত দান করেছ, তোমার সে নিয়ামতের যেন আমি শোকর আদায় করতে পারি এবং আমি যেন সৎকর্ম করতে পারি, যা তুমি পছন্দ কর। আর আমার জন্য তুমি আমার বংশধরদের মধ্যে সংশোধন করে দাও। নিশ্চয়ই আমি তোমার কাছে তাওবা করলাম এবং নিশ্চয়ই আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত।
টিকাঃ
১০ সুরা কাসাস: ২৪।
১১ সুনানু ইবনু মাজাহ : ৯২৫। ইমাম নাসাঈ, আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ : ১০২। মাজমাউয যাওয়াইদ: ১০/১১১।
১২ সুরা ফুরকান: ৭৪।
৯৩ সুরা আলে ইমরান: ৩৮।
৯৪ সুরা আল আহকাফ: ১৫।
📄 স্বামী স্ত্রীর মাঝে ভালোবাসা সৃষ্টি করে দেন আল্লাহ আর প্রেমিক প্রেমিকার মাঝে ভালোবাসা সৃষ্টি করে শয়তান
শয়তান মানুষের মনে মিথ্যা আশা-বাসনা সৃষ্টি করে يَعِدُهُمْ وَيُمَنِّيهِمْ وَمَا يَعِدُهُمُ الشَّيْطَنُ إِلَّا غُرُورًا
শয়তান প্রতিশ্রুতি দেয় এবং মানুষের মনে মিথ্যা বাসনার সৃষ্টি করে। আসলে শয়তান তাদের যে ওয়াদা দেয়, তা প্রতারণা ছাড়া আর কিছুইনা।
শয়তান নারী ও পুরুষকে কাছে এনে তাদের মাঝে যোগাযোগ ও আকর্ষণ সৃষ্টি করে দেয়। যার ফলে তারা অবৈধভাবে একজন আরেকজনকে কামনা করতে থাকে আর মনে করে, তাকে পেলেই সে সুখী হতে পারবে। এইভাবে পুরুষদেরকে নারীদের দিয়ে এবং নারীদেরকে পুরুষদের দিয়ে শয়তান আদম সন্তানদের ধোঁকা দিয়ে পাপাচারে লিপ্ত করে।
শয়তান মানুষের মন্দ কাজকে তাদের কাছে শোভনীয় ও মোহনীয় করে তোলে وَزَيَّنَ لَهُمُ الشَّيْطَنُ أَعْمَلَهُمْ فَصَدَّهُمْ عَنِ السَّبِيلِ وَكَانُوا مُسْتَبْصِرِينَ
শয়তান তাদের কাজকে তাদের দৃষ্টিতে সুশোভিত করেছিল এবং তাদেরকে সৎপথ অবলম্বনে বাধা দিয়েছিল, যদিও তারা ছিল বিচক্ষণ।
অবৈধ সম্পর্কে লিপ্ত নারী পুরুষের কামনা (অন্তরের যিনা), হারাম দৃষ্টিপাত (চোখের যিনা), স্পর্শ করা (হাতের যিনা), অশ্লীল কথা বলা (কথার যিনা), বিভিন্ন প্রকার নোংরামি ও অশ্লীলতা, এমনকি সর্বশেষ যিনা-ব্যভিচার, পরকিয়াতে লিপ্ত করে। এতো জঘণ্য কাজে লিপ্ত থেকেও তারা এগুলোতে জড়িত থাকে, কারণ শয়তান এই পাপগুলোকে তাদের কাছে এতো সুন্দরভাবে উপস্থাপন করে যে, তারা এগুলোর মোহ থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনা।
শয়তান মানুষকে অশ্লীল ও মন্দ কর্মে প্রলুব্ধ করে
بِسْمِ আল্লাহِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
يَأَيُّهَا الَّذِينَ ءَامَنُوا لَا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَنِ وَمَن يَتَّبِعْ خُطُوَاتِ الشَّيْطَنِ فَإِنَّهُ يَأْمُرُ بِالْفَحْشَاءِ وَالْمُنكَرِ
হে মুমিনগণ! তোমরা শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করোনা, শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করলে শয়তানতো অশ্লীলতা ও মন্দ কাজের নির্দেশ দেয়।
শয়তান সবার প্রথম আদম ও হাওয়া আলাইহিস সালামকে আল্লাহর নিষেধের কাজে কুমন্ত্রনা দিয়ে তাদের লজ্জাস্থান প্রকাশ করে দিয়েছিল। এজন্য আজ পর্যন্ত শয়তানের এক নাম্বার চাল হচ্ছে অশ্লীলতা ও নগ্নতা। ইসলাম এজন্য নারীদেরকে সম্পূর্ণ কভার করতে আদেশ করেছে, যাতে করে পুরুষদের জন্য কোনো প্রকার ফিতনা না থাকে।
যারা হিদায়াতের পথ দেখতে পেয়েও তা পরিত্যাগ করে, শয়তান তাদের কাজকে শোভন করে দেখায় এবং তাদেরকে মিথ্যা আশা দেয়।
إِنَّ الَّذِينَ ارْتَدُّوا عَلَى أَدْبُرِهِم مِّنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمُ الْهُدَى الشَّيْطَنُ سَوَّلَ لَهُمْ وَأَمْلَى لَهُمْ
যাদের কাছে সঠিক পথ সুস্পষ্ট হওয়ার পর তারা পিছনে ফিরে যায়, শয়তান তাদের জন্য তাদের কাজকে সুন্দর করে দেখায়, আর তাদেরকে দেয় মিথ্যা আশা।
প্রেম-ভালোবাসায় লিপ্ত থেকে বহু ছেলে সময়, পড়াশোনা ও জীবন নষ্ট করে, বহু মেয়ে প্রেমিকের মন রক্ষা করতে গিয়ে সতীত্ব নষ্ট করে গর্ভবতী হয়, এভরোশন করে সন্তান, নিজের স্বাস্থ্য ও জীবন নষ্ট করে। বছরের পর বছর অনিশ্চিত ঝুলে থাকে এই আশায় যে, কবে বিয়ে হবে। দিনশেষে বিয়ে হয়না। এ সবই হচ্ছে আল্লাহর আদেশ (হেদায়েত) লঙ্গন করে পাপাচারে লিপ্ত হওয়ার দুনিয়াবী সামান্য প্রতিদান, আর পরকালের শাস্তি আরো কঠিন।
টিকাঃ
সুরা নিসা: ১২০।
সুরা আনকাবুত: ৩৮।
৯৭ সুরা আন নুর: ২১।
৯৮ সুরা মুহাম্মদ: ২৫।
৯৯ লিখেছেন: Najnin Akter Happy
📄 যেসকল সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিয়ে নিষিদ্ধ!
মাহরাম
রক্তসম্পর্কের ভিত্তিতে নিষেধাজ্ঞা নয়টি। যথা- মা, বোন, মেয়ে, দাদি, নানি, খালা, ফুফু, ভাতিজী, ভাগ্নী।
দুগ্ধপানের ভিত্তিতে নিষেধাজ্ঞা
কোনো ছেলেসন্তান জন্মের প্রথম দু'বছরের মধ্যে আপন মা ছাড়া রক্তসম্পর্কের বাইরে যদি কোন মহিলার স্তন্যদুগ্ধ পান করে থাকে, তবে তাকে ঐ সন্তানের দুধমাতা বলা হয়। বিবাহের ক্ষেত্রে আপন মায়ের মত ঐ মহিলার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। তাই একজন পুরুষের জন্য তার দুধমাতার সঙ্গে এবং দুধমাতার বোন ও মেয়ের সঙ্গে বিবাহ নিষিদ্ধ।
বিবাহের ভিত্তিতে নিষেধাজ্ঞা
১. সৎ-মা, সৎ-দাদি, সৎ-নানি।
২. কোনো না কোনো সময় সহবাস করেছে এমন স্ত্রীর কন্যা।
৩. শাশুড়ি, নানি-শাশুড়ি, দাদি-শাশুড়ি।
৪. ছেলের বউ, নাতির বউ।
৫. স্ত্রীর সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক বিদ্যমান থাকা অবস্থায় তার বোন, খালা, ফুফু, স্ত্রীর ভাইয়ের অথবা বোনের কন্যা।
ধর্মের ভিত্তিতে নিষেধাজ্ঞা
একজন মুসলিম পুরুষ কোনো মুশরিক (মূর্তিপূজারী) বা কাফির (অবিশ্বাসী) নারীকে বিয়ে করতে পারবে না, শুধুমাত্র কোনো মুসলিম নারী এবং পাশাপাশি কোনো ইহুদি বা খ্রিষ্টান নারীকেও বিয়ে করতে পারবে। অপরদিকে একজন মুসলিম নারী শুধুমাত্র একজন মুসলিম পুরুষকেই বিয়ে করতে পারবে, কোনো ইহুদি-খ্রিষ্টান পুরুষকে বিয়ে করতে পারবে না।
যাদের সাথে বিয়ে নিষিদ্ধ পুরুষের জন্য
১. মা।
২. সৎমা।
৩. বোন।
৪. সৎবোন।
৫. দাদি, বড়দাদি এবং তাদের মাতৃসম্পর্কের পূর্বসূরী নারীগণ।
৬. নানি, বড়নানী এবং তাদের মাতৃসম্পর্কের পূর্বসূরীগণ।
৭. কন্যা সন্তান।
৮. নাতনী।
৯. নাতনীর কন্যাসন্তান এবং জন্মসূত্রে পরবর্তী প্রজন্মসমূহের নারীগণ (যেমন : নাতনীর কন্যার কন্যা ও তার কন্যা ইত্যাদি।)
১০. ফুফু।
১১. খালা।
১২. সৎমেয়ে।
১৩. ভাইয়ের মেয়ে।
১৪. বোনের মেয়ে।
১৫. দুধমা।
১৬. দুধবোন।
১৭. দুধমায়ের বোন।
১৮. আপন পুত্রের স্ত্রী।
১৯. শাশুড়ি।
২০. সমলিঙ্গের সকল ব্যক্তি অর্থাৎ সকল পুরুষ এবং জৈবিকভাবে নারী ব্যতীত অন্য যেকোন লিঙ্গের ব্যক্তি।
২১. মূর্তিপূজারী বা মুশরিক বা বহুঈশ্বরবাদে বিশ্বাসী নারী (নারীদের জন্য সকল অমুসলিম পুরুষ।)
২২. আপন দুই বোনকে একসাথে বিয়ে করা, (নিজ স্ত্রীর সাথে বিবাহবিচ্ছেদের পর অথবা তাঁর মৃত্যুর পর অপর বোনকে বিয়ে করতে পারবে। ইসলামে নারীদের জন্য বহুবিবাহ অর্থাৎ একই সময়ে একের অধিক পুরুষের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ থাকার অনুমতি না থাকায় বিপরীতভাবে নারীদের জন্য এই নিয়মটি প্রযোজ্য হবে না। আর এটা অযৌক্তিকও বটে। নারীর জন্যেও লিঙ্গীয় বিবেচনায় বিপরীতভাবে উপরিউক্ত নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
টিকাঃ
১০০ ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহীত।