📄 আমার কেন আপনাকে বিয়ে করা উচিত?
বিবাহের ক্ষেত্রে এর জবাব জানা খুব জরুরি:
এক মা তার ছেলের জন্য বিয়ের ব্যাপারে এক ধার্মিক মেয়ের সাথে সাক্ষাতের আয়োজন করল।
ছেলে ও মেয়ে দুইজনই আলাদা একটি রুমে মাহরামসহ নিজেদের সাথে কথা বলার সুযোগ পেল।
ছেলে মেয়েটিকে প্রথমে প্রশ্ন করতে আশ্বস্ত করল।
মেয়েটি ছেলেকে অনেক প্রশ্নই জিজ্ঞেস করল।
সে তার দৈনন্দিন জীবন, শিক্ষাদীক্ষা, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন, স্বভাব, পছন্দের বিষয়, অবসর, অভিজ্ঞতা আরো অনেক কিছু সম্পর্কে জানতে চাইল।
ছেলেটি মেয়ের হাসিমুখে ভদ্রতার সাথে সকল প্রশ্নের উত্তর দিয়ে গেল।
এরপর মেয়ে জানতে চাইল, "আমার সম্পর্কে আপনার কোন প্রশ্ন আছে?"
"এটা ভালো একটি ব্যাপার, আমার মাত্র তিনটি প্রশ্ন আছে।"
ছেলেটি উত্তর করল।
মেয়েটি ভাবল, “ও, শুধু তিনটি প্রশ্ন!”
ছেলেটির প্রথম প্রশ্ন ছিল, "আপনি কাকে সবচে' বেশি ভালবাসেন, যার চাইতে বেশি ভালবাসা আর কাউকে সম্ভব না?"
সে বলল—“এটা তো খুব সহজ প্রশ্ন। অবশ্যই আমার মাকে সবচে' বেশি ভালবাসি।"
ছেলেটির দ্বিতীয় প্রশ্ন ছিল—“আপনি বলেছেন, আপনি কুরআন মাজিদ পড়েন। আপনি কি আমাকে আপনার পছন্দমত যেকোনো একটি সূরার অর্থ বলতে পারবেন?"
এটা শুনে মেয়েটি একটু বিব্রত হল এবং বলল-"আমি এখনো জানিনা। কিন্তু শীঘ্রই আমি শিখে ফেলব ইনশা আল্লাহ।”
ছেলেটির তৃতীয় প্রশ্ন ছিল- "বিয়ের ব্যাপারে আমি বেশ কয়েকজন মেয়ের সাথে কথা বলেছিলাম, যারা আপনার চেয়েও সুন্দরী ছিল। তো আপনি কি বলবেন, কেন আপনাকে আমার বিয়ে করা উচিত?”
এটা শুনে মেয়েটি ভীষণ ক্ষেপে গেল এবং রাগী গলায় তার পিতামাতাকে বলল-"আমি এই ছেলেকে মোটেই বিয়ে করবো না। সে আমাকে অপমান করেছে। আমার সৌন্দর্য নিয়ে খোঁটা দিয়েছে।"
ছেলের মা-বাবাও সেখানে উপস্থিত ছিল এবং বিয়ে নিয়ে আর কোনো কথাবার্তা না বলেই তারা প্রস্থান করল। এবারে ছেলের পিতামাতা সত্যিই ছেলের উপর ক্রুদ্ধ হল, বলল-“তুমি মেয়েটিকে কী বলেছো যে, মেয়েটি রেগে গেল? এই ফ্যামিলি অনেক ভাল, মর্যাদাপূর্ণ, তুমি যেরকম ধর্মীয় খুঁজছো, সেরকমই। কী বলেছ তাকে তুমি?"
ছেলে বলল-“প্রথমে তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম যে, সে সবচে' বেশি ভালবাসে কাকে। সে উত্তর দিল যে, তার মাকে।"
এটা শুনে তারা আশ্চর্য হলেন, বললেন-"তো এটাতে ভুল কোথায়?”
ছেলেটি বলল-“প্রকৃত বিশ্বাসী হচ্ছে সে, যে আল্লাহ ও তার রাসুলকে যেকোনো কিছুর চাইতে সবচে' বেশি ভালবাসে।"
যে স্ত্রীলোক আল্লাহ ও তার রাসুলকে সবচে' বেশি ভালবাসে, সে আমাকে ভালবাসবে এবং সম্মান করবে। তাদের ভালবাসার কারণে আমার সাথে সে বিশ্বস্ত থাকবে এবং এই ভালবাসার কারণে আমরাও নিজেদেরকে নিজেদের ভালবাসা শেয়ার করতে পারব, যে ভালবাসা লোভ, লালসা, সৌন্দর্য অথবা অন্য সকল জাগতিক বস্তুর ঊর্ধ্বে।”
ছেলেটি বলতে লাগল- “আমার দ্বিতীয় প্রশ্ন ছিল, আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, সে যেন তার পছন্দমত কোনো একটি সুরার অর্থ আমাকে শোনায়। সে বলতে পারেনি। কারণ তার এখনো সময় হয়ে উঠেনি। তখন আমার এই হাদিসটা মনে হয় যে-"সকল মানুষ মারা যায়, তবে তারা ব্যতীত, যাদের জ্ঞান আছে।” সে তো বিশ বছরেরও বেশি সময় পেয়েছে। অথচ তার এখনো জ্ঞান অর্জন করার সময় হয়নি! আমি কি করে এমন মেয়েকে বিয়ে করতে পারি, যে এখনো তার দায়িত্ব ও অধিকার সম্পর্কে জানেনা। সে বাচ্চাদেরকে কী শিক্ষা দিবে। একজন মা-ই তো তার বাচ্চাদের জন্য সর্বোত্তম শিক্ষক। সে এমন এক মেয়ে, যার আল্লাহকে দেয়ার মত সময় হয়না, স্বামী ও সন্তানদেরকে দেওয়ার মত সময় তার নাও হতে পারে।
আমার তৃতীয় প্রশ্ন ছিল-“বিয়ের ব্যাপারে আরো কিছু মেয়ের সাথে আমার সাক্ষাত হয়েছে যারা তার চেয়ে সুন্দরী ছিল। তো তাকে কেন আমার বিয়ে করা উচিত। মূলত এ কারণেই সে ক্রুদ্ধ হয়েছিল।”
ছেলের মা-বাবা এখানে আপত্তির সুরে মন্তব্য করল- “এভাবে বলাটা তো অপ্রীতিকর। তুমি কেন এটা বলতে গেলে?”
ছেলে বলল-“আমি এটা এ উদ্দেশ্যে বলেছিলাম যে, সে তার রাগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে কিনা। যখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল পূণ্যবান হওয়ার গুণ গুলো সম্পর্কে, তখন তিনি বলেছিলেন, “রাগান্বিত হয়োনা, রাগান্বিত হয়োনা, রাগান্বিত হয়োনা। কারণ রাগ শয়তান থেকে আসে।” যে মেয়ে কোন অপরিচিত ব্যক্তির সাথে নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনা, যার সাথে সে মাত্রই কথা বলেছে এবং তাদের সব কথাবার্তা তার পিতামাতাকে মুহূর্তেই বলে দিল, সে কী করে সারাজীবন ধরে তার স্বামীর সাথে এসব কিছু নিয়ন্ত্রণ করে থাকতে পারবে।”
হে আল্লাহ! আমাদের এমন সঙ্গী দান করুন, যে চক্ষুশীতল করবে এবং জান্নাতে যাওয়ার উত্তম মাধ্যম হবে। আমিন।
📄 পাত্র-পাত্রি নিয়ে কথোপকথন
কথোপকথন: ০১
-মেয়ের বিয়ে নিয়ে ভাবছো শুনলাম? তা কেমন পাত্র চাও?
-তুমি তো জানোই, একটা ধার্মিক ছেলে পেলেই সম্বন্ধ করে ফেলব! অবশ্য গতকাল একটা প্রস্তাব এসেছিল।
-ছেলে কেমন? কী করে?
-ছেলে অত্যন্ত ধার্মিক। কিন্তু খুবই গরীব! তাই প্রস্তাবটা আমরা গ্রহণ করতে পারিনি! ভদ্রভাবে পাশ কাটিয়ে গেছি!
-আজ আরেক পক্ষকে দেখলাম মনে হয়?
-হ্যাঁ, ঘটক একটা সম্বন্ধ নিয়ে এসেছিল!
-পাত্র?
-বেশ মোটা বেতনে চাকরি করে। বিদেশী এক সংস্থায়। সবাই এককথায় পছন্দ করে ফেলল। তবে আম্মার পছন্দ হয়নি! তার পছন্দ ছিল প্রথম প্রস্তাবটা!
-কেনো?
-তিনি চাচ্ছিলেন, তার নাতনী একজন ধার্মিক মানুষের ঘরনী হোক!
-তাহলে এটাকেও ফিরিয়ে দিলে?
-নাহ! ফিরিয়ে দেবো কেন! সবাই মিলে দুআ করে দিলাম, আল্লাহ যেন পাত্রকে ধার্মিক বানিয়ে দেন!
-এত সহজেই সমাধান করে ফেললে? ধার্মিক পাত্রই যদি চাইবে, তাহলে প্রথম জনের প্রস্তাব গ্রহণ করে কেনো দুআ করলে না, আল্লাহ তাকে স্বচ্ছল করে দিন?
-চুপ। নিরবতা।
কথোপকথন : ০২
-তো বাবা, ঢাকায় কি তোমার নিজের ফ্ল্যাট আছে?
-জি আন্টি, আছে।
-আলহামদুলিল্লাহ! বাবা, যদি কিছু মনে না কর তোমার ফ্ল্যাটটি কত স্কয়ার ফিট?
-মনে করার কিছু নেই আন্টি, দুই হাজার স্কয়ার ফিট।
মাশাআল্লাহ মাশাআল্লাহ! আমার মেয়ের এই একটাই চাওয়া ছিল। তো বাবা, আরেকটা প্রশ্ন করি?
-জি আন্টি, প্রশ্ন করেন।
বিয়ের জন্য তুমি ধনী পরিবারের কালো মেয়ে খুঁজছো কেন?
-আসলে আন্টি আমার ফ্ল্যাটটি ব্যাংক লোনে কেনা তো, ৩০ বছরের কিস্তিতে তাই।
এই হল বর্তমান সমাজের অবস্থা।
টিকাঃ
৭৬ লিখেছেন: আতিক উল্লাহ।