📄 বিয়ের জন্য ভাল ছেলের প্যারামিটার
কথা হচ্ছিল অমুক আন্টি তার মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার জন্য উপযুক্ত ছেলে খুঁজছেন।।
কথা প্রসঙ্গে আসবেই- “কেমন ছেলে খুঁজছেন?” উনার উত্তর ছিল-“ভাল ছেলে চাই।”
আমি বললাম-“ভাল ছেলে বলতে কী বুঝায়, তাতো একেকজনের জন্য একেক রকম। ছেলে কি ৫ ওয়াক্ত নামাযী চান?”
উনি বললেন-“শুধু নামায পড়লেই কি মানুষ ভাল হয় নাকি!”
আমি বললাম-"নামায না পড়লে কেউ ভালো মুসলমান হতে পারে না, সেটা পরিষ্কার।” (এ পর্যায়ে আমি বুঝলাম আমার উত্তরের কারণে পায়ের রক্তগুলো বোধহয় মাথায় চলে এসেছে, কারণ চেহারা রক্তবর্ণ ধারণ করেছে।)
আমি জিজ্ঞেস করলাম- “দাড়িওয়ালা ছেলে চাইছেন?"
উনি উত্তর বললেন - "দাড়িসহ ছেলে নিয়ে চিন্তা করি নাই।"
আমি বললাম-“দাড়ি ছাড়া চিন্তা করাটাও বোধহয় ঠিক হবে না।” [এপর্যায়ে উনি কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেলেন, বোধহয় সুবিধা করতে পারলেন না।]
আমি প্রশ্ন করলাম- "ব্যাংকে চাকরি করা ছেলের সাথে বিয়ে দিবেন?"
উনি উত্তরে বললেন-"হ্যাঁ। এই ফিল্ডে খুব দ্রুত ভাল পজিশনে যাওয়া যায় আর বেতনও ভাল।”
আমি বললাম-“মেয়েকে 'হারামখোর'-এর হাতে তুলে দিবেন?"
উনি উত্তরে বলল-“এসব ফতোয়াবাজি কোথায় শিখেছ?"
আমি বললাম-“এটা আমার ফতোয়া না। হানাফি, মালেকি, শাফিঈ-হাম্বলী ফিকহসহ সকল আলেম এই বিষয়ে একমত যে ব্যাংকে চাকরি করা হারাম। এখন যার রুজিতে হারাম তাকে হারামখোর বলতে আমার কোন আপত্তি নাই."
উনি আর থাকতে না পেরে বললেন- "এত কিছু মেনে আজকাল চলা যায় নাকি!"
আমার উত্তর ছিল-“ফরয নামায ত্যাগকারী, দাড়ির ওয়াজিব ত্যাগকারী এবং হারাম রুজি ভোগকারী যদি কারো মাপকাঠিতে 'ভাল ছেলে হয়', ইসলাম পালন করা তার জন্য মুশকিল হওয়াটাই স্বাভাবিক।”
পুনশ্চ: জ্বী আমি বেয়াদব ট্যাগ খেয়েছি।।
মন্তব্য: এই যদি হয় আজকাল মা'দের পছন্দের 'মাপকাঠি', তাহলে মেয়েদের 'পরহেযগার' ছেলে পছন্দ হবে এমনটা আশা করাও ঠিক না।
টিকাঃ
Written By Brother Maksudul Hakim
📄 বিয়ে করুন তাকে যে কুরআনকে ভালবাসে
কুরআন ছাড়া যার জীবনই চলে না, তোমাকে ছাড়াও হয়তো চলবে। যার দিন শেষ হয় কুরআনের সাথে, শুরুও হয় কুরআনের সাথে। যার কাছে কুরআন শুনতে শুনতে তুমি ঘুমে হারিয়ে যাবে, আবার কুরআনের তারতীলের মৃদু আওয়াজে ঘুম ভাঙবে। তোমার তিলাওয়াত শুনতে শুনতে যে ঘুমাবে, ঘুম থেকে উঠেও শুনবে। যেটুকু পড়বে সেটুকুই বাস্তবায়নের জন্য এভারেস্টে চড়ার মত আপ্রাণ লেগে থাকবে। যে কটা দিন তুমি কুরআনের সাথে থাকতে না পেরে ছটফট করবে, পাশে বসে কুরআন শুনিয়ে তোমার অতৃপ্ত আত্মাকে তৃপ্তি দেবে। তুমি তৃষ্ণার্তের মত অপেক্ষা করবে কখন শুনতে পাবো! যে একটু এগিয়ে গেলে তুমি হিংসায় জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যাবে, আর মনে মনে বলবে- "ওয়েট, কাল দেখিয়ে দিব!" দরকার হলে আজ রাতের ঘুম ২ঘন্টা বাদ! মাঝে মধ্যে আগুন হয়ে ঝাড়ি দিয়ে বলবে- "কি সমস্যা! আজকে পড়া কম কেন?”
📄 কেমন মেয়েকে বিয়ে করবেন?
বিয়ে করো সেই মেয়েটিকে-যার জীবনের প্রথম প্রেম ছিল ইসলামি বই। যে মেয়ে দামি জামা-জুতো না কিনে টাকা বাঁচিয়ে বই কিনে ঘর ভরিয়ে ফেলে। যার আলমারিতে বই রাখতে রাখতে কাপড় রাখার জায়গা হয় না। যার মাথায় সবসময় বইয়ের একটা তালিকা থাকে, সে তালিকা ক্রমশ বড় হতে থাকে। যে ছোট বয়স থেকেই লাইব্রেরীর সাথে যুক্ত। বইপ্রেমীদের প্রতি অনুরক্ত।
বিয়ে করো এমন এক মেয়েকে-কুরআন ছিল যার প্রথম পাঠ্যবই। আলিফ-বা-তা ছিল তার প্রথম অস্ফুট বোল। কুরআন তিলাওয়াত ছিল যার প্রথম প্রেম। পর্দাপুশিদা মেনে চলা ছিল যার আজীবন-প্রেম। কুরআন নিয়ে বেঁচে থাকা ছিল যার জীবনস্বপ্ন। প্রতি ভোরে তোমার শিয়রে বসে যে মিহিসুরে কুরআন তিলাওয়াত করবে। যার কোলে মাথা রেখে কুরআন তিলাওয়াতের মায়াকাড়া সুর শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়বে। গভীর রাতে তাহাজ্জুদে যার কান্নাভেজা তিলাওয়াত তোমার ঘুম ঘুম চোখকে খুলে দিবে।
এমন একটা মেয়ে খুঁজে বের করো—যে আসলেই পড়তে ভালবাসে। সাধারণ বইয়ের পাশাপাশি দ্বীনী বই পড়ার প্রতিও ব্যাপক আগ্রহবোধ করে। তুমি তাকে দেখলেই চিনতে পারবে। তার ব্যাগে বা হাতে সবসময়ই একটা আধপড়া বই থাকেই। তোমার সাথে বেড়াতে বের হলে বইয়ের দোকান দেখলেই সে আটকে যায়, পরম মমতায় চোখ বুলায় তাকে সাজানো বইগুলোর উপর, আর পছন্দের বইটা দেখতে পেলেই নিঃশব্দে চিৎকার করে উঠে। তোমার হাতে চাপ দিয়ে মিনতি জানায়। একটু চুঁ মেরে আসার কথা বলে!
এমন মেয়েকে বিয়ে করো—যে তোমার সন্তানকে পড়তে শিখাবে। কুরআনের গল্প পড়ে শুনাবে। নবীদের গল্প পড়ে শুনাবে। সাহাবিদের গল্প পড়ে শুনাবে। তাবেঈদের গল্প পড়ে শুনাবে। মুজাহিদদের গল্প পড়ে শুনাবে। ইলমসাধকদের গল্প পড়ে শুনাবে। সালেহিনদের গল্প পড়ে শুনাবে। বাচ্চাদের দেখাদেখি তুমিও গালে হাত দিয়ে কোন ফাঁকে গল্প শুনায় মগ্ন হয়ে গেছো টেরও পাবে না।
কখনও কোনো অদ্ভুত মেয়েকে দেখেছো কোন পুরনো বইয়ের দোকানে দাঁড়িয়ে বই হাতে গন্ধ শুঁকতে? এই সেই রাজপড়ুয়া। এরা কখনও বইয়ের পাতার গন্ধ না নিয়ে থাকতে পারে না, পাতাগুলো যদি হয় হলদেটে, তাহলে তো আরও না। তাকে দেখবে একহাতে কফির কাপে চামচ নাড়ছে, অন্য হাতে বই পড়ছে। যদি তার কফির মগে একটু উঁকি দাও, দেখবে সেখানে এখনও ক্রিম ভাসছে, কারণ সে এরই মধ্যে ডুবে গেছে তার বইয়ে, লেখকের তৈরি পৃথিবীতে হারিয়ে ফেলেছে নিজেকে। আলগোছে বসে পড়তে পারো তার পাশে, হয়ত তোমার দিকে একটু কঠিন চোখেই তাকাবে সে! জানো তো, পড়ার মাঝে বাধা পড়লে মোটেই পছন্দ করে না ওরা। তাকে প্রশ্ন করো বইটা তার কেমন লাগছে। তাকে বরং আরেক কাপ গরম কফি বানিয়ে দিও। সময় থাকলে তুমিও একটা বই নিয়ে বসে পড়ো।
এমন একটা মেয়ে খুঁজে বের করো, যে তার পাঠকে শুধু বইয়ের নিরস পাতাতেই সীমাবদ্ধ থাকতে দেয় না। জীবন আর জগৎও তার পাঠ্য তালিকায় থাকে। তোমার হাসিকেও যে পড়তে জানবে। তোমার কান্নাকেও যে পড়তে জানবে। তোমার আনন্দ ও বেদনাকেও যে পড়তে জানবে। তোমার চাওয়া-পাওয়াকেও যে পড়তে জানবে। প্রতি সন্ধ্যায় তোমার ক্লান্ত-শ্রান্ত মলিন বিষন্ন মুখ দেখেই যে সারাদিনকে গড়গড় করে পড়ে ফেলতে পারবে। তোমার সপ্তাহে বা মাসে বাড়ি ফেরার অবস্থা দেখেই যে পুরো মাসের আয়-ব্যয়ের হিসেব পড়ে ফেলতে পারবে।
এমন মেয়েকে বিয়ে করো-যাকে তুমি জানাতে পারো, ইবনুল কাইয়্যিম রাহিমাহুল্লাহর লেখা তোমার কেমন লাগে। ইমাম গাজালি রাহিমাহুল্লাহর বই তোমাকে কেমন নাড়া দেয়। আশরাফ আলি থানবি তোমাকে কেমন পরিশুদ্ধ হতে উদ্বুদ্ধ করে! আলি নদভী রাহিমাহুল্লাহকে নিয়ে তুমি আসলেই কি ভাবো, সেটা জানাও। তার কাছে জানতে চাও, জীবনের প্রথম মনে দাগ কাটা বই কোনটা? দেখবে, সে উচ্ছ্বসিত হয়ে হড়বড় করে কিছু বইয়ের নাম বলে দিবে। না বললেও সমস্যা নেই। প্রিয় বই থাকতেই হবে, এমন কোনও নিয়ম নেই।
পড়ুয়া মেয়েকে বিয়ে করে তার সাথে প্রেম করাই সবচে' সহজ। যেকোন উপলক্ষেই তাকে বই উপহার দিও। গানে, কবিতায় অথবা চিঠি লিখে কথার মালা উপহার দিও। তার সাথে মনখুলে কথা বলো। কথা মানেই যে ভালবাসা এটা সে ঠিকই বুঝবে। তোমাকে বুঝতে হবে, সে বই আর বাস্তবের জগতের পার্থক্য করতে জানে। তবে এটাও সত্যি-সে তার জীবনটাকে কিছুটা হলেও তার প্রিয় বইটার মত করে গড়ে নিতে চাইবে। চাইতেই পারে। এটা দোষের কিছু নয়। সে বইয়ে পড়া বীরদের মতো করে তার সন্তানদেরকে গড়ে তুলতে চাইবে, এতে বিচিত্র কিছু নেই একটুও। অন্তত কোনো না কোনোভাবে তাকে চেষ্টা তো করে দেখতে হবে। আর খেয়াল রাখবে, তার প্রিয় বই যেন একমাত্র কুরআনই হয়।
যদি একটা পড়ুয়া মেয়ে খুঁজে পাও, তাকে আপন করে নিও। রাত দুটোয় ঘুম ভেঙ্গে যদি হঠাৎ দেখ, সে একটা বই বুকে জড়িয়ে ধরে অঝোরে কাঁদছে, এক কাপ চা দিও তাকে, তারপর শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রেখো। কিছুক্ষণের জন্য সে হয়ত হারিয়ে যাবে, তোমার হয়ত মনে হবে-তোমার বুকে মাথা রাখলেও সে আসলে হেঁটে বেড়াচ্ছে অন্য কোন জগতে, ভয় পেও না, শেষ পর্যন্ত সে তোমার কাছেই ফিরে আসবে। সে এমনভাবে কথা বলবে, যেন বইয়ের সব চরিত্রগুলোই বাস্তব, কারণ কিছুক্ষণের জন্য তারা আসলেই তাই।
তোমরা তোমাদের জীবনের গল্প লিখবে। সুন্দর সুন্দর নামের ফুটফুটে সব বাচ্চা থাকবে তোমাদের, নামের চেয়েও বেশি সুন্দর হবে তাদের রুচিবোধ, ভালোলাগা, মন্দলাগা। তাকওয়া-পরহেযগারী। ইবাদত-বন্দেগী। আদব-আখলাক। বৃদ্ধ বয়সে শীতকালে যখন একসাথে হাঁটতে বের হবে তোমরা, সে নিচু গলায় কুরআন তিলাওয়াত করবে বা কবিতা আবৃত্তি করতে করতে হাঁটবে। বারান্দায় বসে থাকবে। বাগানের বড় শিউলি গাছটির ছায়ায় চেয়ার পেতে বসবে।
পড়ুয়া মেয়েটিকে বিয়ে করে তার সাথেই প্রেম করো, কারণ তুমি তারই যোগ্য। কল্পনায় যত রঙ ধরা দেয়, তার সবটুকু দিয়ে যে মেয়ে রাঙিয়ে দিতে পারবে তোমার জীবন, এমন মেয়েই তোমার পাওয়া উচিৎ। তবে একঘেঁয়েমি, সস্তা সময়, বোধহীন ভালবাসা অথবা আনাড়ি প্রস্তাব ছাড়া যদি আর কিছু তাকে তোমার দেয়ার না থাকে, তবে নিজেকে তৈরী করা পর্যন্ত তোমার একা থাকাই ভালো। তুমি যদি পৃথিবী এবং এর বাইরের অন্য সব পৃথিবীকে পেতে চাও, একই সাথে বাঁচতে চাও অনেকগুলো জগতে, উপভোগ করতে চাও অনেক রঙের সময়কে, তাহলে সেই মেয়েটিকে বিয়ে করো, যে পড়তে ভালবাসে। অথবা সবচে' ভাল হয়—যদি সেই মেয়েটিকে বিয়ে করো—যে লিখতে ভালবাসে।
মানছি, সচরাচর এমন মেয়ে পাওয়া দুষ্কর! ঠিকাছে কোনো সমস্যা নেই। অন্তত এমন একটা মেয়েকে খুঁজে পেলেও চলবে, যে জীবনে কোনোদিন বই ছুঁয়েও দেখেনি সত্য, কিন্তু অন্যকে পড়তে দেখলে পরম মমতামাখা দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে আর দীর্ঘশ্বাস ফেলে। যে মেয়ে নিজে না পড়লেও তোমার পড়ার ব্যাপারে সর্বান্তকরণে সহযোগিতা করবে। তোমার বইটা, কলমটা, খাতাটা এগিয়ে দিবে। গুছিয়ে দিবে। অফিসে যাওয়ার পথে, মাদরাসায় যাওয়ার পথে, সফরে বের হওয়ার পূর্বমুহূর্তে তোমার ব্যাগে কয়েকটা বইও নিজে বেছে বেছে দিয়ে দিবে।
এমন একটা মেয়েকে খুঁজে বের করো—যে কাজের ফাঁকে ফাঁকে মুখস্থ কুরআন তিলাওয়াত করাকেই সেরা 'বইপাঠ' মনে করে পরম পরিতৃপ্ত থাকবে। জাগতিক সমস্ত ঠুনকো বইকে পাশে ঠেলে কুরআনকে আঁকড়ে ধরে থাকবে। তোমার শতচেষ্টাতেও যে তথাকথিত সস্তাদরের লুতুপুতু প্রেম-পিরিত তো দূরের স্থান, 'বোরকা-দাড়িমাখা ছিঁচকাঁদুনে ইসলামি-প্রেমপূর্ণ' বই পড়তেও আগ্রহবোধ করবে না। এসব তার কাছে ছাঁইপাশ বলেই মনে হবে। তার কাছে ভাল লাগবে খাদিজার জীবনী পড়তে। আয়েশার জীবনী পড়তে। খাওলার জীবনী পড়তে। ফাতেমার জীবনী পড়তে। রাদিয়াল্লাহু আনহুন্না।
অন্তত এমন একটা মেয়ে খুঁজে দেখো—যে বই পড়ে না সত্য, তবে নামায পড়বে। বেশ আগ্রহ আর ভালোবাসা নিয়েই পড়বে। যে মেয়ে বোরকা পরবে। শুধু তাই নয়, তোমাকেও নামায পড়তে সাহায্য করবে। তোমাকে দ্বীন মানতে উদ্বুদ্ধ করবে। খবরদার! এমন মেয়েকে ভুলেও বিয়ে করো না, যে তোমার দিক থেকে শতভাগ ভালোবাসা পেয়েও তোমাকে সামান্যতম ভালোবাসা দিতে আগ্রহী নয়। সে তার 'পড়া' ও 'লেখালেখি' নিয়ে ব্যস্ত থাকে।
এমন মেয়েকে ভুলেও বিয়ে করো না, যে বইয়ের পোকা। যেকোনো বই পেলেই চিবিয়ে চিবিয়ে খেয়ে ফেলে। একনিঃশ্বাসে পড়ে ফেলে। এদিকে তোমার জীবন- লাইব্রেরীতে দাউদাউ করে আগুন লেগে গেলেও পড়া তো দূরের কথা, ভ্রুক্ষেপও করে না। সে তার আপন 'শিল্প-সাহিত্যচর্চা' নিয়েই আকণ্ঠ নিমজ্জিত থাকে! এরা আর যাই হোক, কারো ঘরনী হওয়ার যোগ্য নয়। এরা মাকাল ফল। দূর থেকে কল্পনার মানসী হিসেবেই মানায়! সংসারে নয়।
তুমি বেশি খোঁজাখুঁজি না করে নিতান্ত সাধারণ একটা মেয়ে পেলেও বিয়ে করে ফেলো। শুধু দেখো, সে পর্দা করে কি না। নামায পড়ে কি না। শুদ্ধ করে কুরআন তিলাওয়াত করতে পারে কি না। তবে যদি সম্ভব হয়, গোপনে খোঁজ নিও, মেয়েটার মা তার স্বামীর প্রতি শ্রদ্ধা ও দায়িত্বপূর্ণ আচরণ করতো কি না। তাহলেই তুমি মেয়ের 'স্বভাবধর্ম'-ও বের করে ফেলতে পারবে! এমন একটা মেয়ে পেলে তাকে বিয়ের পর নিয়মিত বইপত্র কিনে দিও। দু'জন মিলে মাঝেমধ্যে বই পড়তে বসো। মেঘলা দুপুরে বা জোসনা রাতে বসে তাকে বই পড়ে শুনিও! পড়ুয়া মেয়ে পাওনি তো কী হয়েছে, তুমি পড়ে শোনালে পরম ভালোবাসাপূর্ণ দৃষ্টিতে পাশে বসে তোমার পড়া পড়া শুনলেও চলবে।
আর কাগজের বই পড়াই কি একমাত্র পড়া! জীবনখাতা পড়তে পারাও কম যোগ্যতা নয়। স্বামী-সংসার-সন্তানের আদর-আবদার পড়তে পারাও কম কিছু নয়। বলা ভালো, এটাই সেরা পাঠাভ্যাস! এমন পড়ুয়া মেয়েকেই পারলে বিয়ে করো!
আরও ভাল হয়, যদি মেয়েটা সুরা আনফাল-তাওবা-মুহাম্মাদের আদর্শে বিশ্বাসী হয়। এককোষী প্রাণী এমিবার মতো মেরুদন্ডহীন না হয়। এমন একটা মেয়ে পাও কি না দেখো-যে তোমাকে সুরা আনফাল পড়ে শোনাবে। সুরা তাওবার তাফসির পড়ে শোনাবে। সুরা মুহাম্মাদ (কিতাল)-এর আয়াতগুলো দেখিয়ে তোমার মনকে দ্বীনের জন্যে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে উদ্বুদ্ধ করবে। পারলে একপ্রকার ঘর থেকে ঠেলেই 'মেহনতে' পাঠিয়ে দেবে।
টিকাঃ
** লিখেছেন: Kisholoy Kishore
৭৪ ** লিখেছেন: শাইখ আতীকুল্লাহ।
📄 আমার কেন আপনাকে বিয়ে করা উচিত?
বিবাহের ক্ষেত্রে এর জবাব জানা খুব জরুরি:
এক মা তার ছেলের জন্য বিয়ের ব্যাপারে এক ধার্মিক মেয়ের সাথে সাক্ষাতের আয়োজন করল।
ছেলে ও মেয়ে দুইজনই আলাদা একটি রুমে মাহরামসহ নিজেদের সাথে কথা বলার সুযোগ পেল।
ছেলে মেয়েটিকে প্রথমে প্রশ্ন করতে আশ্বস্ত করল।
মেয়েটি ছেলেকে অনেক প্রশ্নই জিজ্ঞেস করল।
সে তার দৈনন্দিন জীবন, শিক্ষাদীক্ষা, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন, স্বভাব, পছন্দের বিষয়, অবসর, অভিজ্ঞতা আরো অনেক কিছু সম্পর্কে জানতে চাইল।
ছেলেটি মেয়ের হাসিমুখে ভদ্রতার সাথে সকল প্রশ্নের উত্তর দিয়ে গেল।
এরপর মেয়ে জানতে চাইল, "আমার সম্পর্কে আপনার কোন প্রশ্ন আছে?"
"এটা ভালো একটি ব্যাপার, আমার মাত্র তিনটি প্রশ্ন আছে।"
ছেলেটি উত্তর করল।
মেয়েটি ভাবল, “ও, শুধু তিনটি প্রশ্ন!”
ছেলেটির প্রথম প্রশ্ন ছিল, "আপনি কাকে সবচে' বেশি ভালবাসেন, যার চাইতে বেশি ভালবাসা আর কাউকে সম্ভব না?"
সে বলল—“এটা তো খুব সহজ প্রশ্ন। অবশ্যই আমার মাকে সবচে' বেশি ভালবাসি।"
ছেলেটির দ্বিতীয় প্রশ্ন ছিল—“আপনি বলেছেন, আপনি কুরআন মাজিদ পড়েন। আপনি কি আমাকে আপনার পছন্দমত যেকোনো একটি সূরার অর্থ বলতে পারবেন?"
এটা শুনে মেয়েটি একটু বিব্রত হল এবং বলল-"আমি এখনো জানিনা। কিন্তু শীঘ্রই আমি শিখে ফেলব ইনশা আল্লাহ।”
ছেলেটির তৃতীয় প্রশ্ন ছিল- "বিয়ের ব্যাপারে আমি বেশ কয়েকজন মেয়ের সাথে কথা বলেছিলাম, যারা আপনার চেয়েও সুন্দরী ছিল। তো আপনি কি বলবেন, কেন আপনাকে আমার বিয়ে করা উচিত?”
এটা শুনে মেয়েটি ভীষণ ক্ষেপে গেল এবং রাগী গলায় তার পিতামাতাকে বলল-"আমি এই ছেলেকে মোটেই বিয়ে করবো না। সে আমাকে অপমান করেছে। আমার সৌন্দর্য নিয়ে খোঁটা দিয়েছে।"
ছেলের মা-বাবাও সেখানে উপস্থিত ছিল এবং বিয়ে নিয়ে আর কোনো কথাবার্তা না বলেই তারা প্রস্থান করল। এবারে ছেলের পিতামাতা সত্যিই ছেলের উপর ক্রুদ্ধ হল, বলল-“তুমি মেয়েটিকে কী বলেছো যে, মেয়েটি রেগে গেল? এই ফ্যামিলি অনেক ভাল, মর্যাদাপূর্ণ, তুমি যেরকম ধর্মীয় খুঁজছো, সেরকমই। কী বলেছ তাকে তুমি?"
ছেলে বলল-“প্রথমে তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম যে, সে সবচে' বেশি ভালবাসে কাকে। সে উত্তর দিল যে, তার মাকে।"
এটা শুনে তারা আশ্চর্য হলেন, বললেন-"তো এটাতে ভুল কোথায়?”
ছেলেটি বলল-“প্রকৃত বিশ্বাসী হচ্ছে সে, যে আল্লাহ ও তার রাসুলকে যেকোনো কিছুর চাইতে সবচে' বেশি ভালবাসে।"
যে স্ত্রীলোক আল্লাহ ও তার রাসুলকে সবচে' বেশি ভালবাসে, সে আমাকে ভালবাসবে এবং সম্মান করবে। তাদের ভালবাসার কারণে আমার সাথে সে বিশ্বস্ত থাকবে এবং এই ভালবাসার কারণে আমরাও নিজেদেরকে নিজেদের ভালবাসা শেয়ার করতে পারব, যে ভালবাসা লোভ, লালসা, সৌন্দর্য অথবা অন্য সকল জাগতিক বস্তুর ঊর্ধ্বে।”
ছেলেটি বলতে লাগল- “আমার দ্বিতীয় প্রশ্ন ছিল, আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, সে যেন তার পছন্দমত কোনো একটি সুরার অর্থ আমাকে শোনায়। সে বলতে পারেনি। কারণ তার এখনো সময় হয়ে উঠেনি। তখন আমার এই হাদিসটা মনে হয় যে-"সকল মানুষ মারা যায়, তবে তারা ব্যতীত, যাদের জ্ঞান আছে।” সে তো বিশ বছরেরও বেশি সময় পেয়েছে। অথচ তার এখনো জ্ঞান অর্জন করার সময় হয়নি! আমি কি করে এমন মেয়েকে বিয়ে করতে পারি, যে এখনো তার দায়িত্ব ও অধিকার সম্পর্কে জানেনা। সে বাচ্চাদেরকে কী শিক্ষা দিবে। একজন মা-ই তো তার বাচ্চাদের জন্য সর্বোত্তম শিক্ষক। সে এমন এক মেয়ে, যার আল্লাহকে দেয়ার মত সময় হয়না, স্বামী ও সন্তানদেরকে দেওয়ার মত সময় তার নাও হতে পারে।
আমার তৃতীয় প্রশ্ন ছিল-“বিয়ের ব্যাপারে আরো কিছু মেয়ের সাথে আমার সাক্ষাত হয়েছে যারা তার চেয়ে সুন্দরী ছিল। তো তাকে কেন আমার বিয়ে করা উচিত। মূলত এ কারণেই সে ক্রুদ্ধ হয়েছিল।”
ছেলের মা-বাবা এখানে আপত্তির সুরে মন্তব্য করল- “এভাবে বলাটা তো অপ্রীতিকর। তুমি কেন এটা বলতে গেলে?”
ছেলে বলল-“আমি এটা এ উদ্দেশ্যে বলেছিলাম যে, সে তার রাগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে কিনা। যখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল পূণ্যবান হওয়ার গুণ গুলো সম্পর্কে, তখন তিনি বলেছিলেন, “রাগান্বিত হয়োনা, রাগান্বিত হয়োনা, রাগান্বিত হয়োনা। কারণ রাগ শয়তান থেকে আসে।” যে মেয়ে কোন অপরিচিত ব্যক্তির সাথে নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনা, যার সাথে সে মাত্রই কথা বলেছে এবং তাদের সব কথাবার্তা তার পিতামাতাকে মুহূর্তেই বলে দিল, সে কী করে সারাজীবন ধরে তার স্বামীর সাথে এসব কিছু নিয়ন্ত্রণ করে থাকতে পারবে।”
হে আল্লাহ! আমাদের এমন সঙ্গী দান করুন, যে চক্ষুশীতল করবে এবং জান্নাতে যাওয়ার উত্তম মাধ্যম হবে। আমিন।