📘 বিয়ে অর্ধেক দ্বীন > 📄 বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন?

📄 বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন?


অনেক দিন জল্পনা-কল্পনার পর পাত্র পাত্রীর সাথে কথা বলতে যাবেন। কী বলবেন? কোন দিকে গুরুত্ব দেয়া উচিত? এ নিয়ে নিজে ভেবেই হয়ত অনেক কিছু তৈরি করে ফেলেছেন। কিন্তু লক্ষ্য যেখানে একটি সুন্দর দাম্পত্য ও আদর্শ পরিবার গঠন, সেখানে এ বিষয়ে 'নিজে কিছু ভেবেই' সিদ্ধান্ত নেয়াটা বোকামী। এজন্য আপনার উচিত কিছু বিষয় জেনে নেয়া। কিছু বিষয়ে অভিজ্ঞ ও হিতাকাঙ্খিদের পরামর্শে কাজ করা। প্রথমেই আমি আপনাদের যার পরামর্শ গ্রহণ করতে বলবো-তিনি আমাদের একান্ত বিশ্বস্ত ও ভালবাসার পাত্র, দুনিয়ার বুকে যাকে আল্লাহর পরে সবচে' বেশি ভালবাসি সেই একান্ত শুভাকাঙ্খি, যিনি তার অনুসারীদের দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণার্থে সর্বদা সচেষ্ট ছিলেন, তাদের জন্য অশ্রুসিক্ত নয়নে যিনি সবসময় কাঁদতেন সেই মহান নেতা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের। তিনি আমাদের বলেছেন, চারটি জিনিস দেখে একজন নারীকে বিয়ে করা হয়-তার সম্পদ, বংশমর্যাদা, রূপসৌন্দর্য ও দ্বীনদারীতা। তোমরা বিয়ের সময় দ্বীনদার নারীদের অগ্রাধিকার দাও।

লক্ষ্য করুন-এখানে বলা হয়েছে, সাধারণত মানুষেরা এ চারটি দিক দেখে কিন্তু তোমরা একমাত্র দ্বীনদারীতাকেই প্রাধান্য দিবে। এটা বোঝানো হয়নি যে, চারটি বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হবে। তো আমরা কিভাবে দ্বীনদারীতা দেখবো অথবা বিয়ের ক্ষেত্রে আমাদের কী কী বিষয় দেখে দ্বীনদারীতা বুঝতে হবে বা এগুতে হবে তা জেনে নেয়াটা আবশ্যক। আসুন তা সংক্ষেপে জেনে নেই। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরামর্শ পালনার্থে আপনাকে সাতটি বিষয় খুব খেয়াল করা প্রয়োজন। এখানে যেসব বিষয় আলেচিত হচ্ছে তা পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্য প্রযোজ্য।

প্রথমত-ইসলাম
প্রথমেই আপনাকে জেনে নিতে হবে যে-আপনার সম্ভাব্য জীবনসঙ্গী ইসলামের ন্যূনতম মৌলিক বিধি-নিষেধগুলো পালন করে কি না। ব্যাপারগুলো যাচাই করতে যা যা করতে পারেন-
১. প্রথমেই জেনে নিতে পারেন, তিনি তাওহিদ ও শিরক বিষয় স্ববিস্তারে জানেন কিনা। এ বিষয় সতর্ক কিনা, যেহেতু তা কালিমার শর্ত। জেনে নিন-তিনি নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করেন কিনা। করলে সেটার ধরণ কিরকম। ফজরের সালাত নিয়মিত পড়ে কিনা। জামাআতে সালাতকে গুরুত্ব দেয় কিনা। বাসায় বা পরিচিত মহলে ছোটদের নিয়ে সালাত আদায় করতে চেষ্টা করে কিনা। সাওম (রোজা), যাকাত, পর্দা, মাহরাম-নন মাহরাম মেনে চলার বিষয়ে সচেষ্ট কিনা।
২. স্বাচ্ছন্দে কুরআন তিলাওয়াত করতে পারে কিনা। কেননা, যেসব নারীপুরুষরা বিয়ে করার মতো পরিণত বয়সে উপনীত হয়েও শুদ্ধভাবে কুরআন পড়তে পারে না-বিষয়টা মুসলিম হিসেবে খুবই লজ্জাকর একটি বিষয়।
৩. এরপর চারিত্রিক বিষয় জেনে নিতে পারেন-আচার-আচরণ, সাহসীকতা, ধৈর্যশীলতা, আত্মসম্মানবোধ, আত্মবিশ্বাস, বিভিন্ন প্রকৃতির মানুষের সাথে তার ব্যবহার, নম্রতা, বিনয়ীতা, স্বভাব ধীরস্থীর কিনা, পুরুষের পৌরুষদীপ্ততা, নারীর লজ্জাশীলতা, যেকোনো পরিস্থিতিতে মাথা ঠান্ডা রাখতে পারা, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, নীরবতায় স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করা, বাচাল প্রকৃতির না হওয়া, চিন্তার গভীরতা, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা, বন্ধু-বান্ধবের অবস্থা ইত্যাদি।
৪. বাহ্যিক দিক, মেয়েদের ক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখুন-সে পরিপূর্ণ পর্দা করে কিনা, আর ছেলেদের ক্ষেত্রে দাড়ি। রুচিশীল ও বুদ্ধিমতি কোনো মেয়ে নিশ্চয়ই এমন একজন পৌরুষহীন পুরুষকে বিয়ে করতে চাইবে না, যাকে দেখতে মেয়েদের মতো লাগে! এছাড়া একমাত্র আল্লাহভীরু যুবকই পারে দাড়িকে সুন্নাহ অনুযায়ী রাখতে। বাকিরা হয়ত জাহেলদের অনুকরণে স্মার্ট! ভাবে দাড়ি না রেখে বা স্টাইল করে দাড়ি রাখে। অপরদিকে পর্দা, লজ্জাশীলতা ও আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের বহিঃপ্রকাশ। এটা হতে হবে পরিপূর্ণ পর্দা। যারা মাহরাম-ননমাহরাম বেছে চলে। সাধারণভাবে তো অনেককেই পর্দানশীল মনে হতে পারে, কিন্তু হয়ত তারা অনেকেই মাহরাম নন-মাহরামের বিষয়গুলো জানেই না। মনে রাখবেন-যে আল্লাহর কথাই গুরুত্ব দেয়না, সে একসময় আপনার কথাকেও পাত্তা দেবে না। যেকোনো বিরোধ মীমাংসায় আপনাদের উভয়ের শেষ আশ্রয় হতে হবে কুরআন ও সুন্নাহ। হতে পারে বিয়ের কয়েকমাস পরেই আপনাদের বাহ্যিক রূপলাবন্য বা স্মার্টনেসের আকর্ষণ হারিয়ে যাবে, তখন যেটা গুরুত্বপূর্ণ হবে তা হচ্ছে আপনাদের দ্বীনদারীতা, সচেতনতা। তাই যে আপনার সন্তানের পিতা/মাতা হবে, তাকে নির্বাচনে দ্বীনকে ছাড় দিলেন তো দুনিয়া-আখিরাত উভয়েই ডোবালেন!

দ্বিতীয়ত মনে রাখুন-প্রেমে পড়া থেকে বাঁচুন
আপনি বিশ্বাস করুন আর নাই করুন, প্রেম হচ্ছে শারীরিক আকর্ষণের অন্য নামমাত্র। সচরাচর এটা খুবই ক্ষণস্থায়ী হয়। আপনি আপনার দাম্পত্যকে দীর্ঘস্থায়ী করতে চাইলে সম্মানবোধকে গুরুত্ব দিতে হবে। আর যদি নিজেকে তৈরী করে নিতে পারেন তাহলে আপনার সঙ্গী যেই হউক সম্মানবোধ আপনার প্রতি তার থাকবে আর সেটাই একসময় দীর্ঘস্থায়ী ভালবাসার সৃষ্টি করবে। আর সে ভালবাসা যুগান্তরে ছড়িয়ে যাবে তাও শেষ হবে না। তাই আগেই প্রেমে পড়ে যাওয়া থেকে বেঁচে থাকুন। বরং নিজেকে তৈরি করুন। এমনকি অনেকে পাত্র/পাত্রী দেখার সময়ও প্রেমে পড়ে যান আর বিয়ের মত এত গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিতে যেসকল দিককে অবশ্যই গুরুত্ব দেয়া উচিত তাকেও উপেক্ষা করে বসে অথবা ভুলে বসে। এটা উভয়ের জন্য পরবর্তীতে মারাত্মক হয়।

তৃতীয়ত দেখুন-আচার আচরণ
অনেকেই যে ভুলটা করে সেটা হচ্ছে-এটা ভাবা যে, কেউ দ্বীনদার হলেই তার চরিত্র, আচার-আচরণ তো ভালোই হবে। কিন্তু দ্বীন পালনের দিক থেকে ভালো হওয়া সত্ত্বেও সবার আচার-আচরণ ভালো না-ও হতে পারে। কিন্তু এটা আপনাদের দাম্পত্যের জন্য খুবই জরুরি একটি বিষয়। তাই কেমন আচরণ পেতে যাচ্ছেন তা আগেই বুঝে নিন। আর মনে রাখুন, আচরণই ঘরকে জান্নাত করে- বাহ্যিকভাবে সে যতই নামাজ, রোজা, ইলমসম্পন্ন বা ইবাদাতগুজার হউক না কেন অথবা সৌন্দর্য্যে যতই আকৃষ্ট হউক না কেন আচরণ খারাপ হলে সে ঘর জাহান্নামে পরিণত হয়।

চতুর্থত—কথোপকথনকে গুরুত্ব দিন
তার সাথে কথা বলুন। তাকে কথা বলতে দিন। তার জ্ঞানের গভীরতা, গঠনমূলক চিন্তাভাবনা, কোনো পরিস্থিতির ব্যাপারে তার সামগ্রিক বিবেচনা সম্পর্কে জানার চেষ্টা করুন। তার পছন্দ-অপছন্দ জেনে নিন। সে কী ধরণের বই পড়তে ভালবাসে, কাদের বই পড়ে তা জানার চেষ্টা করুন। সে সমালোচনা করতে পছন্দ করে নাকি ভুলত্রুটিকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখে তা বোঝার চেষ্টা করুন। সে কি অন্যের ভুল নিয়ে কথা বলে নাকি ভুলের কারণ খুঁজতে চেষ্টা করে তা খেয়াল করুন। মতবিরোধপূর্ণ বিষয়ে তার অবস্থান আপনার সাথে মিলে কিনা তা যাচাই করে নিন। মনে রাখবেন, দাম্পত্য পারস্পরিক কথোপকথনই এর জীবনীশক্তি। সাচ্ছন্দ্যে যার সাথে কথা বলতে পারেন তাকে নিয়েই সুখি দাম্পত্য গড়ে তোলা সহজ।

পঞ্চমত—অভিন্ন লক্ষ্য
দুজনের জীবনে কিছু অভিন্ন লক্ষ্য থাকা চাই। তাহলে অন্তত এই অভিন্ন লক্ষ্যে উভয়ের এগিয়ে চলায় একে অপরের সহায়ক শক্তি হতে পারবেন আপনারা। মনে রাখুন, দীর্ঘকালীন পরিকল্পনাগুলোকে গুরুত্ব সহকারে নেওয়ার মাঝেই লুকিয়ে আছে দাম্পত্য জীবনের গোপন রহস্য।

ষষ্ঠ—পারিবারিক পরিবেশ বিষয় সচেতনতা
সম্ভাব্য জীবনসঙ্গীর পরিবারের দিকে খেয়াল করুন। তাদের আকিদা, সংস্কৃতি, আচার, রীতি ইত্যাদি প্রতিটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিছু আদর্শ, পরিবেশ ও আকিদাগত বিষয় আছে এমন, যে বিষয়ে আপোষ চলে না, সেসব বিষয় গুরুত্ব নিয়ে দেখুন। একক ও যৌথপরিবারের সুবিধা-অসুবিধা ও মানসিক নানা বিষয় আপনার নিজের জানা উচিত। সেসব দিক বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নিন।

সপ্তম-ইস্তেখারা
বিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের বিষয়। আর মুসলিমরা যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে আল্লাহর সাহায্য গ্রহণ করে। তাই বেশি বেশি দুআ করুন, বলুন-হে আল্লাহ! এটা আমার জন্য কল্যাণকর হলে আমার পথ চলা সহজ করে দিন। ইস্তেখারার দুটি পর্যায়-একটি হচ্ছে দুআ করা অপরটি হচ্ছে পরামর্শ গ্রহণ। তাই দুআর পাশাপাশি অভিজ্ঞ কোনো আলেম বা পরামর্শক, যিনি দ্বীনের জ্ঞান রাখেন, আল্লাহকে ভয় করেন ও আপনার হিতাকাঙ্ক্ষী, তার সাথে সামগ্রিক বিষয় পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নিন। সাথে সাথে ইস্তেখারা চালিয়ে যান।

পরিশেষে বলতে চাই-হিদায়াত আল্লাহর হাতে। 'গড়ে নিবো', 'বদলে ফেলবো' ইত্যাদি টাইপের কথা বলা থেকে বিরত থাকুন। আপনি যদি এমন মানুষকে বিয়ে করতে চান, যার পরিবর্তন প্রয়োজন, তাহলে সে কাজটি আপনি তাকেই করতে দিন। আপনি কি জানেন যে, পৃথিবীর ৯৯.৯৯% মানুষই এই ধারণা রাখে যে, সে মানুষকে বদলাতে পারে! তাই এ ভুল করবেন না বরং এমন কাউকে খুঁজে বের করুন, যাকে দেখে আপনি মুগ্ধ হবেন।

আর মনে রাখুন- "অন্যের মাঝে যে জিনিসগুলো খুঁজছি, আমার মধ্যে সেগুলো কতটুকু আছে? আমি নিজে কতগুলো শর্ত পূরণ করতে পেরেছি? যাকে বিয়ে করতে যাচ্ছি আমি কি তার একজন ভালো জীবনসঙ্গী হতে পারবো? আমি যেমন ভুল-ত্রুটি নিয়ে মানুষ, তেমনি আমার সঙ্গীরও ভুল-ত্রুটি থাকতে পারে। আমাকেই বুঝে নিতে হবে আদর্শ দাম্পত্যের জন্য কোন বিষয়কে আমি গুরুত্ব দিবো আর কোন বিষয়কে উপেক্ষা করব।”

টিকাঃ
৬১. সহিহ বুখারি: ৫০৯০।
* বিয়ের পূর্বে পাত্র-পাত্রী ইসলামি সকল বিধান মেনে একে অপরের সাথে কিছু কথা বলতে পারে, এর অনুমোদন রয়েছে। তবে এর মানে এই নয় যে ইচ্ছামত কথা বলবে বা আড্ডা দিবে। জরুরি কিছু বিষয় একে অপরের নিকট জিজ্ঞেস করা যাবে। কিন্তু তা হতে হবে মাহরামের উপস্থিতিতে। এখানে উল্লেখিত বিষয়ে গুলো সাময়িক সাক্ষাতে জানা বা জিজ্ঞেস করা সম্ভব নয়। তাই উত্তম হবে বায়োডাটার মাধ্যমে জেনে নেয়া। -সম্পাদক।
** আমাদের লক্ষ্য দুনিয়া কেন্দ্রিক হতে পারে কিংবা আখিরাত কেন্দ্রিক। নিশ্চয় একজন প্রকৃত মুসলিমের লক্ষ্য হবে ইহকাল ও পরকাল উভয় জগতের জন্য। আমাদের উদ্দেশ্য হবে দুনিয়াতে এক সুখী সুন্দর শান্তির জান্নাতি নিবাস তৈরি করা যেখানে সন্তানের সুন্দর প্রতিপালন নিশ্চিত হবে। পারস্পরিক এমন ভালোবাসা তৈরি করা যা শুধু ইহকালে ক্ষণস্থায়ী ভালোবাসা হিসেবে টিকে রবে না বরং যা মৃত্যুরপরও জান্নাতে স্বামী-স্ত্রীকে চিরস্থায়ী ভালোবাসায় মিলিত রাখবে। -সম্পাদক।
৬৩. সংগৃহীত।

📘 বিয়ে অর্ধেক দ্বীন > 📄 পাত্র-পাত্রী খোঁজা

📄 পাত্র-পাত্রী খোঁজা


পাত্র-পাত্রী খুঁজে বয়স শেষ করে কিছু উপলব্ধির কথা শুনুন
১. ফ্রেন্ড লিস্টের একজন নারী বিসিএস কর্মকর্তা আছেন, যিনি ৩৪ বছর বয়সে এসে ‘যোগ্য’ পাত্র খোঁজা বন্ধ করে এখন ‘মোটামুটি’ মার্কা পাত্র খুঁজছেন।
২. ফ্রেন্ড লিস্টের একজনের বড় বোন ডাক্তার। ৬ বছর ধরে ‘যোগ্য’ পাত্র খুঁজতে খুঁজতে তিনি নিজেই অযোগ্য হবার যোগাড় হয়েছেন। বয়স ৩৫ চলছে। ওনার পরিবারের প্রথম টার্গেট ছিল ডাক্তার পাত্র ছাড়া বিয়ে দিবে না। ২৯ বছর বয়সে যখন বিয়ের সিদ্ধান্ত নিল তখন কিছু সিনিয়র অবিবাহিত ডাক্তার পাত্র পাওয়া যাচ্ছিল, কিন্তু সেগুলো তাদের পছন্দ হচ্ছিল না। পাত্র খুঁজতে খুঁজতে বয়স এখন ৩৫। এখন আর ডাক্তার পাত্র পাচ্ছে না। মনে হয় আর পাবেনও না। এখন ‘অডাক্তার’ ছেলে পেলেও চলবে। ইভেন জুনিয়র কোনো ব্যাপার না।
৩. আরেকজন আপু উচ্চ শিক্ষিত। বিদেশে উচ্চতর ডিগ্রী নিতে গিয়ে বিয়ের বয়স পার হয়ে গেছে। ওনার জীবনের লক্ষ্যই ছিল উচ্চতর ডিগ্রী নেয়া। সেই লক্ষ্য পূরণ হয়েছে, কিন্তু ততক্ষণে বিয়ের বয়স পার হয়ে গেছে। এখন এত এত ডিগ্রী সত্বেও পাত্র পাচ্ছেন না। ওনার বয়স এখন ৩৯।
৪. ফ্রেন্ড লিস্টের আরেক আপু আমাকে ধরেছেন ওনার ঘটকালী করার জন্য। বয়স ৩৮ চলছে। পারিবারিক কী এক ঝামেলার কারণে এখনো বিয়ে করতে পারেননি। সেই সামু ব্লগ থেকে আপুর সাথে ভার্চুয়াল পরিচয়।

আসলে সময়ের কাজ সময় থাকতে করতে হয়। লেখাপড়া, ক্যারিয়ার ইত্যাদির জন্য অনেক মেয়ে বিয়ের ব্যাপারে উদাসীন থাকেন। কিন্তু যত বড় ক্যারিয়ার থাকুক না কেনো, ছেলেরা চাইবে তার চাইতে মিনিমাম ৫/৬ বছর জুনিয়র মেয়েকে বিয়ে করতে। সেই হিসেবে শিক্ষিত সমাজে সবচেয়ে বেশি ডিমান্ডের মেয়েরা হয় ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী। ইদানীং ছেলে মেয়েদের অবৈধ সম্পর্ক বেড়ে যাওয়ার কারণে ছেলেরা ১৮ বছরের কম বয়সী মেয়েদের স্ত্রী হিসেবে চায়। একই কথা খাটে ছেলেদের ক্ষেত্রে। বিলম্বে বিয়ে কারোর জন্যই সুখকর নয়। এতে সমাজ এবং পারিবারিক ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ে। বয়সের কারণে মানুষের স্বভাব ভালোলাগায় পরিবর্তন আসে। অভ্যাসের পরিবর্তন হয়। যে ছেলে বা মেয়ে ঘোরাফেরা পছন্দ করে, দেখা যায় বয়স বাড়ার পর তা কমে আসে, তখন সে অবসর সময় ঘরে বসে কাটাতে চায়। একইভাবে রূপসৌন্দর্যও কমতে থাকে। এছাড়াও বয়সের সাথে সাথে পরিবর্তন হয় আমাদের শারীরিক-মানসিক অবস্থা।

মনে রাখতে হবে, উচ্চশিক্ষা, ভালো ক্যারিয়ার সাপ্লিমেন্টরি বিষয়, এটা না হলেও চলে কিন্তু বিবাহ ও সুন্দর পরিবার নির্মাণ আমাদের জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যা প্রত্যেকের জীবনে অত্যাবশ্যক। তাই মূল অংশকে দূরে ঠেলে বা বিলম্বে রেখে সহায়ক বিষয়ে উচ্চশিক্ষাকে বেশি প্রাধান্য দিলে জীবনে দুঃখ ও হাহাকার নেমে আসবে। বাকি জীবন আফসোস করে কাটাতে হবে। বাকি থাকে পারফেক্ট পাত্রপাত্রী খোঁজার কথা, মনে রাখুন সারা জীবন খুঁজলেও আপনি পারফেক্ট বা মনমত জীবনসঙ্গী খুঁজে পাবেন না। ত্রুটি-বিচ্যুতি প্রত্যেকে মানুষের মধ্যে রয়েছে। আপনার কাঙ্খিত সকল কিছু তার মধ্যে না খুঁজে পায়, যা নাহ্ লেই নয়, সেটা তার সাথে মিলিয়ে দেখুন। যদি তা পান, আপনার মন প্রশান্তি বোধ করে তবে সময় নষ্ট না করে বিবাহের বন্ধনে আবদ্ধ হোন। আর মহান আল্লাহর নিকট কল্যাণের দু'আ করতে থাকুন।

টিকাঃ
** লিখেছেন: ফখরুল ইসলাম।

📘 বিয়ে অর্ধেক দ্বীন > 📄 এমন কাউকে বিয়ে করুন যে আপনাকে আল্লাহর জন্য ভালবাসবে!

📄 এমন কাউকে বিয়ে করুন যে আপনাকে আল্লাহর জন্য ভালবাসবে!


এক.
বর্তমান সমাজে অহরহ পরকিয়া, ডিভোর্স, দাম্পত্য জীবনে অশান্তির মূল কারণ পরিবারের মধ্যে ইসলাম না থাকা। আর যে পরিবারে ইসলাম থাকবে না সে পরিবারে থাকবেনা আল্লাহভীতি এবং নিজ কর্মের জবাবদিহিতা। আল্লাহভীতি তো সেটাই, যা স্বামী-স্ত্রী পরস্পর আল্লাহর জন্য নিজেদের চোখ ও অন্তরকে হেফাজত করে এবং আল্লাহর জন্য একে অপরকে গভীরভাবে ভালবাসে, যে ভালবাসা বিয়ের দিন যেমন থাকে, বিয়ের ৩০ বছর পরেও একই রকম থাকে। আর এটা হচ্ছে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের জন্য রহমত। তারা আল্লাহর জন্য নিজেদের চরিত্র হেফাজত করেছেন বলে আল্লাহ তাদের দু'জনের মধ্যে এমন গভীর ভালবাসা স্থাপন করে দিয়েছেন। ইসলামের বিপরীত স্রোতের মানুষগুলোর জন্য যা শুধু কল্পনা!

আমাদের সমাজে তথাকথিত অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের বিয়ে দেয়ার সময় তাকওয়া দেখে বিয়ে দিতে চায় না। তারা দেখে—ছেলে কত টাকার মালিক, কত উচ্চ তার বংশ, কতগুলো ডিগ্রী আছে ছেলের বাস্কেটে। অথচ, একবারের জন্য ভাবতে চায় না—যে ছেলের কাছে সারা জীবনের জন্য তার মেয়েকে দিচ্ছে, সে ছেলের চরিত্র ঠিক কিনা বা ছেলেটির পরিচালিত জীবনে আল্লাহভীরুতা আছে কিনা!
একইভাবে দেখা যায় ছেলেদের ক্ষেত্রে। সুন্দরী স্ত্রী খুঁজতে গিয়ে তারা তাকওয়াবান স্ত্রীর কথা ভুলে যায়। একসময় দেখা যায়, সেই সুন্দরী স্ত্রী তাকে ফেলে চলে যায় বা পরকিয়ায় পতিত হয় বা তার নিজের রুপের অহংকারে সংসারে সবসময় অশান্তি লেগেই থাকে। অথচ, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন— “দুনিয়ার যত সম্পদ আছে, তার মধ্যে উত্তম সম্পদ হচ্ছে একজন নেককার স্ত্রী।”
আমাদের মা-বাবাদের উচিত তাদের কন্যাদের সু-পাত্রস্থ করতে চাইলে দ্বীনদার, পরহেজগার, তাকওয়াবান যুবকদের সাথে বিয়ে দেয়া। এতে করে কন্যাও সুখী হল এবং সমাজেও পরকিয়া, ডিভোর্সের মত ঘটনা অনেকাংশে কমে যাবে।
এই ব্যাপারে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশনা হল—
"যার দ্বীনদারী ও আখলাক-চরিত্রে তোমরা সন্তুষ্ট, এমন কেউ প্রস্তাব দিলে তার সাথে তোমরা বিবাহ সম্পন্ন কর। তা না করলে পৃথিবীতে ফিতনা দেখা দেবে ও ব্যাপক ফ্যাসাদ ছড়িয়ে পড়বে।"

দুই.
আমরা সবাই চাই, আমাদের জীবনসঙ্গী যেন খুব ভাল হয়, চরিত্রবান হয়, স্যাক্রিফাইস মাইন্ডের হয়। আপনি যদি আসলেই আপনার দাম্পত্য জীবনকে সুন্দর ও সুখী দেখতে চান, তাহলে আপনার থেকে অবশ্যই ইসলামের হুকুম-আহকামের দিকে আসতে হবে। মনে রাখবেন, একজন তাকওয়াবানের পক্ষেই সম্ভব নিজেকে সৎ, চরিত্রবান করে গড়ে তোলা। কারণ, আল্লাহভীরুতার কারণে সে সৎ হয়, চোখ ও অন্তরের হেফাজতকারী হয়, সর্বোপরি দাম্পত্য জীবনের জন্য একজন উত্তম জীবনসঙ্গী হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে সমর্থ হয়। সে জানে, সে যদি তার জীবনসঙ্গীর হক ঠিকমত আদায় না করে, তাহলে কাল হাশরের ময়দানে তাকে আল্লাহর দরবারে কঠিনভাবে জবাবদিহি দিতে হবে।
ইসলামের সাথে কোনো সম্পর্ক নাই এমন কাউকে যদি আপনি বিয়ে করেন, তাহলে আপনি অবশ্যই ঐ জীবনসঙ্গী নিয়ে চিন্তিত থাকবেন, কারণ সে যেকোনো সময় শয়তানের ধোঁকায় পড়তে পারে। আর এমন পরকিয়া দাম্পত্য জীবনে কলহের নজির আমাদের সমাজে অনেক আছে।
তাই বিয়ে করলে এমন একজনকে বিয়ে করুন যে—
* আপনাকে চিন্তা মুক্ত রাখবে। * আপনার সাথে সদাচরণ করবে। * আপনার হক ঠিক মত আদায় করবে। * আপনাকে আল্লাহর জন্য অন্তর থেকে ভালবাসবে। * আপনার বিপদ-আপদে সাহায্য করবে, ধৈর্যধারণ করার শক্তি যোগাবে এবং সঠিক পরামর্শ দিবে। * যার সঙ্গতায় আপনার ঈমান বৃদ্ধি পাবে। * যে আপনাকে তাহাজ্জুদ ও ফজরের সময় জাগ্রত করবে।
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত—তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
আল্লাহ সেই ব্যক্তির প্রতি দয়া করুন, যে রাতে উঠে নামায পড়ে এবং নিজ স্ত্রীকেও জাগায়। অতঃপর যদি সে (জাগ্রত হওয়ার) অস্বীকার করে, তাহলে তার মুখে পানির ছিটা মারে। অনুরূপ আল্লাহ সেই মহিলার প্রতি দয়া করুন, যে রাতে উঠে নামায পড়ে এবং নিজ স্বামীকেও জাগায়। অতঃপর যদি সে (জাগ্রত হওয়ার) অস্বীকার করে, তাহলে সে তার মুখে পানির ছিটা মারে।”
তখন স্বামী-স্ত্রী আখেরাতেও একসাথে থাকার জন্য দুনিয়াতে নেক আমল করতে পরস্পরকে সাহায্য করবে এবং উৎসাহ যোগাবে ইনশা আল্লাহ।
তাই বিয়ে করার ক্ষেত্রে এমন কাওকে বিয়ে করুন যে আপনাকে আল্লাহর জন্য ভালবাসবে এবং আপনিও তাকে আল্লাহর জন্য ভালবাসবেন। কারণ হাদিসে আছে,
আল্লাহ তায়ালা কিয়ামতের দিন বলবেন, আমার মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্বের পরস্পরকে যারা ভালবেসেছিল তারা কোথায়? আজকের দিনে আমি তাদেরকে আমার ছায়ায় আশ্রয় দিব, যেদিন আমার (আরশের) ছায়া ছাড়া অন্য কোনো ছায়া নেই।”

তিন.
একজন দ্বীনহীন মানুষকে বিয়ে করার আগে আপনি যদি ভাবেন—বিয়ের পর বুঝিয়ে মানিয়ে ঠিক করে নিবো, তবে এটা ভুল। আপনি যদি ভাবেন, স্বামী স্ত্রীর সম্পর্কতো মাটির মত, ইচ্ছে হলেই দাওয়াত দিয়েই সঠিক পথে নিয়ে আসতে পারব। এটা ভাবাও ভুল। আপনি যাকে চাইবেন তাকেই সঠিক পথে আনতে পারবেন না যদি আল্লাহ তাকে হেদায়াতের পথ না দেখান।
অনেকে বলে কৌশল খাটিয়েই তো স্বামী স্ত্রীকে, অথবা স্ত্রী স্বামীকে পথে নিয়ে আসতে পারে। যত কৌশলই অবলম্বন করুক—এটা হয়না, অনেক কিছুই এত সহজে হয়না। ঐ মানুষটিকে কিভাবে এত সহজে ঐ লেভেল থেকে সরিয়ে নিয়ে আসা যায়, যাকে তার বাবা ইসলামের সাথে পরিচিত করিয়ে দেয়নি? যারা নামকা ওয়াস্তে মুসলিম, আল্লাহর হুকুম পালনের ধারে কাছেও যায়না, তাদেরকে কিভাবে এত সহজে ঠিক করা যায়? সুরা নূরের এই আয়াতটির সঠিক ব্যাখ্যাটা জানতে মন চায়, যেখানে বলা হয়েছে—
“দুশ্চরিত্রা নারী দুশ্চরিত্র পুরুষের জন্য; দুশ্চরিত্র পুরুষ দুশ্চরিত্রা নারীর জন্য; সচ্চরিত্রা নারী সচ্চরিত্র পুরুষের জন্য এবং সচ্চরিত্র পুরুষ সচ্চরিত্রা নারীর জন্য।”
বিন্দু পরিমাণ ইসলাম মেনে চলতে চান তাদের প্রতি অনুরোধ-নেককার পুরুষ অথবা নারীকে বিয়ে করুন। যাকে বিয়ে করে আপনার আমল অনেক ভালো হবে। ইসলামের উপর চলা সহজ হবে। এমন যেনো না হয়, কাউকে হেদায়াতের সঠিক পথ দেখাতে বিয়ে করে নিজেই অন্ধকারে হারিয়ে যান।

চার.
"দাম্পত্য জীবনে রোমান্টিক টিপস।"
স্বামী-স্ত্রী পরস্পরকে ওয়াক্ত হওয়ার সাথে সাথে সালাত আদায়ের ব্যাপারে সিরিয়াসলি তাগিদ দিন। স্বামী ঘরের বাইরে থাকলে ফোন করে স্ত্রীর খবর নিন, তদ্রুপ স্ত্রীও স্বামীকে ফোন করে খোঁজ-খবর নিন। এতে সম্পর্ক মজবুত হয়, পরস্পরের প্রতি ভালবাসা বৃদ্ধি পায়।
প্রিয় ভাই!
আপনি যখন শেষ রাতে সালাত (তাহাজ্জুদ) আদায় করতে আপনার সঙ্গিনীকে জাগিয়ে দিবেন এবং পরস্পর সালাত আদায় করবেন, তখন সালাত শেষে তাসবিহ পাঠে আপনার সঙ্গিনীর হাতের আঙুল (গিরা) গুলো ব্যবহার করুন এজন্য যে, সওয়াবের ভাগিদার যেন আপনার স্ত্রীও হয়। আর দুআ করুন, আল্লাহ যেন জান্নাতেও আপনাদের দু'জনকে এভাবে একত্রিত থাকার তাওফিক দান করেন। ইনশা আল্লাহ।

টিকাঃ
৬৬. সহিহ মুসলিম: ১৪৬৭; সুনানু নাসাঈ: ৩২৩২; সুনানু ইবনু মাজাহ: ১৮৫৫; মুসনাদে আহমাদ: ৬৫৩১; রিয়াযুস সালিহিন: ২৮৫।
৬৭. সুনানু তিরমিযি : ১০৮৪; সহিহাহ: ১০২২। হাসান সহিহ।
৬৮. সুনানু আবু দাউদ: ১৩০৮; সুনানু নাসাঈ: ১৬১০; সুনানু ইবনু মাজাহ: ১৩৩৬; মুসনাদে আহমাদ: ৭৩৬২; রিয়াযুস সালিহীন: ১১৯১। সহিহ।
*. সহিহ মুসলিম: ২৫৬৬; মুসনাদে আহমাদ: ৭১৯০, ৮২৫০।
৭০. সুরা নুর: ২৬।
*. লিখেছেন: আব্দুল্লাহ।

📘 বিয়ে অর্ধেক দ্বীন > 📄 বিয়ের জন্য ভাল ছেলের প্যারামিটার

📄 বিয়ের জন্য ভাল ছেলের প্যারামিটার


কথা হচ্ছিল অমুক আন্টি তার মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার জন্য উপযুক্ত ছেলে খুঁজছেন।।
কথা প্রসঙ্গে আসবেই- “কেমন ছেলে খুঁজছেন?” উনার উত্তর ছিল-“ভাল ছেলে চাই।”
আমি বললাম-“ভাল ছেলে বলতে কী বুঝায়, তাতো একেকজনের জন্য একেক রকম। ছেলে কি ৫ ওয়াক্ত নামাযী চান?”
উনি বললেন-“শুধু নামায পড়লেই কি মানুষ ভাল হয় নাকি!”
আমি বললাম-"নামায না পড়লে কেউ ভালো মুসলমান হতে পারে না, সেটা পরিষ্কার।” (এ পর্যায়ে আমি বুঝলাম আমার উত্তরের কারণে পায়ের রক্তগুলো বোধহয় মাথায় চলে এসেছে, কারণ চেহারা রক্তবর্ণ ধারণ করেছে।)
আমি জিজ্ঞেস করলাম- “দাড়িওয়ালা ছেলে চাইছেন?"
উনি উত্তর বললেন - "দাড়িসহ ছেলে নিয়ে চিন্তা করি নাই।"
আমি বললাম-“দাড়ি ছাড়া চিন্তা করাটাও বোধহয় ঠিক হবে না।” [এপর্যায়ে উনি কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেলেন, বোধহয় সুবিধা করতে পারলেন না।]
আমি প্রশ্ন করলাম- "ব্যাংকে চাকরি করা ছেলের সাথে বিয়ে দিবেন?"
উনি উত্তরে বললেন-"হ্যাঁ। এই ফিল্ডে খুব দ্রুত ভাল পজিশনে যাওয়া যায় আর বেতনও ভাল।”
আমি বললাম-“মেয়েকে 'হারামখোর'-এর হাতে তুলে দিবেন?"
উনি উত্তরে বলল-“এসব ফতোয়াবাজি কোথায় শিখেছ?"
আমি বললাম-“এটা আমার ফতোয়া না। হানাফি, মালেকি, শাফিঈ-হাম্বলী ফিকহসহ সকল আলেম এই বিষয়ে একমত যে ব্যাংকে চাকরি করা হারাম। এখন যার রুজিতে হারাম তাকে হারামখোর বলতে আমার কোন আপত্তি নাই."
উনি আর থাকতে না পেরে বললেন- "এত কিছু মেনে আজকাল চলা যায় নাকি!"
আমার উত্তর ছিল-“ফরয নামায ত্যাগকারী, দাড়ির ওয়াজিব ত্যাগকারী এবং হারাম রুজি ভোগকারী যদি কারো মাপকাঠিতে 'ভাল ছেলে হয়', ইসলাম পালন করা তার জন্য মুশকিল হওয়াটাই স্বাভাবিক।”

পুনশ্চ: জ্বী আমি বেয়াদব ট্যাগ খেয়েছি।।
মন্তব্য: এই যদি হয় আজকাল মা'দের পছন্দের 'মাপকাঠি', তাহলে মেয়েদের 'পরহেযগার' ছেলে পছন্দ হবে এমনটা আশা করাও ঠিক না।

টিকাঃ
Written By Brother Maksudul Hakim

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00